
রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান বাঙালির হৃদয়ে আজও জীবন্ত : বিদ্যুৎমন্ত্রী টুকু
- নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৮:০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান বাঙালির হৃদয়ে আজও জীবন্ত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই আয়োজন।’
শুক্রবার (৮ মে, ২৫ বৈশাখ) সকালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে একথা বলেন।
বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান স্মরণ করে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আরও বলেন, কবি এখানে (শাহজাদপুর) বসেই বহু গান, কবিতা ও গল্প রচনা করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের গুরু। তাই এই দিনে আমরা বাংলা সাহিত্য ও রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করি।
সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শাহজাদপুরের রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ২৫-২৭ বৈশাখ তিন দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে কাছারিবাড়ি ও অডিটোরিয়ামে সংস্কার, আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জা করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, একসময় শাহজাদপুর ছিল রানী ভবানীর জমিদারির অংশ। ১৮৪০ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর মাত্র ১৩ টাকা ১০ আনায় এই জমিদারি ক্রয় করেন। পরে ১৮৯০ থেকে ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত জমিদারি তদারকির জন্য রবীন্দ্রনাথ নিয়মিত শাহজাদপুরে আসতেন ও এখানে অবস্থান করতেন। এই কাছারিবাড়িতে বসেই তিনি ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘চৈতালী’, ‘কল্পনা’র মতো কাব্যগ্রন্থ এবং ‘পোস্টমাস্টার’, ‘ছুটি’, ‘সমাপ্তি’, ‘অতিথি’, ‘ক্ষুধিত পাষাণ’-এর মতো বিখ্যাত ছোটগল্প রচনা করেন। পাশাপাশি ‘ছিন্নপত্রাবলী’র বিভিন্ন অংশ ও ‘বিসর্জন’ নাটকেরও কিছু অংশ এখানে রচিত হয়।
রবীন্দ্র কাছারিবাড়ির কাস্টডিয়ান শাউলি তালুকদার বলেন, জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অডিটোরিয়াম ও মিউজিয়ামে সংস্কার ও আলোকসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য সবকিছু উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার পাশাপাশি রবীন্দ্র মেলারও আয়োজন করা হয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থীদের কথা বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে ও সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
হিলিতে পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়িসহ গ্রেপ্তার ৭
- মো. হাসান আলী, দিনাজপুর দক্ষিণ প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৭:০৯:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
ঢাকা এবং রবীন্দ্রনাথ
- রিপোর্টার:
- আপডেট টাইম : ০১:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
আসাদ জামান
রবীন্দ্রসাহিত্য সবচেয়ে বেশি চর্চা হয় কোথায়? ঢাকা, না কলকাতায়? বাংলাদেশ, নাকি পশ্চিমবঙ্গে? দুই বাংলার মানুষের মধ্যে এমন নিরুত্তাপ ঝগড়া মাঝেমধ্যেই লক্ষ করা যায়। কাঁটাতারে বিভক্ত দুই বাংলার মানুষই চায়, রবীন্দ্রনাথের ভাগ তাদের অংশে একটু বেশি থাক। কিন্তু প্রকৃতি সেটা চায়নি। প্রকৃতি চেয়েছে, রবীন্দ্রনাথের ভাগ দুই বাংলায় সমান থাক। সে কারণেই হয়তো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কবিতাটি প্রকাশিত হয় কলকাতায় এবং দ্বিতীয়টি প্রকাশিত হয় ঢাকায়।
আমরা জানি, খুব অল্প বয়সেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্য প্রতিভার বিকাশ ঘটে। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আর ১২৮১ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে তার লেখা প্রথম কবিতা ‘অভিলাষ’ প্রকাশিত হয় কলকাতার ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’য়। তখন তার বয়স ছিল তেরো বছর সাত মাস। এর এক মাস পর ১২৮১ বঙ্গাব্দের মাঘ মাসে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘বান্ধব’ পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় কবিতা ‘হোক ভারতের জয়’ প্রকাশিত হয়। প্রথম কবিতা প্রকাশের এক মাস পর ‘বালক কবি’ রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় কবিতা ঢাকা থেকে প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি কৌতূহলোদ্দীপক বটে!
এখানে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন সামনে চলে আসে। কবি-খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ার আগেই রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় কবিতা ঢাকায় এলো কীভাবে? ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘বান্ধব’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন? তার সঙ্গে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির কনিষ্ঠপুত্র রবীন্দ্রনাথের পরিচয় হয় কীভাবে? মূলত, ‘বান্ধব’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ঢাকার বিক্রমপুরের কৃতী সন্তান কবি, লেখক, সাংবাদিক ও বাগ্মী কালীপ্রসন্ন ঘোষ, যিনি বাঙালি পাঠকের কাছে ‘পারিব না এ কথাটি বলিও না আর/কেন পারিবে না তাহা ভাব এক বার,/পাঁচ জনে পারে যাহা,/তুমিও পারিবে তাহা,/পার কি না পার কর যতন আবার/এক বারে না পারিলে দেখ শত বার।’ কবিতার জন্য খ্যাত। বাল্যকাল থেকেই তিনি বাগ্মিতার পরিচয় দেন। মাত্র বিশ বছর বয়সে কলকাতার ভবানীপুরে খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে বক্তৃতা দিয়ে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রশংসা অর্জন করেন। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে তার যোগসূত্র স্থাপিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে তিনি ব্রাহ্মসমাজে যোগদান করেন। সেই সুবাদে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে তার আসা-যাওয়া ছিল।
ব্রাহ্মসমাজেরে মুখপত্র ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’য় ছাপা হওয়া ‘অভিলাষ’ কবিতা পড়ে ‘বালক কবি’ রবীন্দ্রনাথের কাব্য প্রতিভার সঙ্গে পরিচিত হন কালীপ্রসন্ন ঘোষ। অতঃপর হিন্দুমেলা উপলক্ষে লেখা রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় কবিতা ‘হোক ভারতের জয়’ নিজের ‘বান্ধব’ পত্রিকার জন্য কালীপ্রসন্ন ঘোষ চেয়ে নেন এবং ১২৮১ বঙ্গাব্দের মাঘ সংখ্যায় তা প্রকাশ করেন। এ কবিতাটি সম্পর্কে বিশ্বভারতী প্রকাশিত ‘রবীন্দ্র-রচনাবলী’র প্রথম খণ্ডে গ্রন্থপরিচয় অংশে লেখা হয়েছে- “কালীপ্রসন্ন ঘোষ-সম্পাদিত, ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘বান্ধব’ পত্রিকার মাঘ ১২৮১ সংখ্যায় ‘হোক ভারতের জয়’ শীর্ষক কবিতাটি প্রকাশিত। রচনা শেষে (র’) আদ্যক্ষর মুদ্রিত। হিন্দুমেলা উপলক্ষে এই কবিতাটি রচিত হয়েছিল’ এ মন্তব্য পাদটীকায় আছে। কবিতাটি রথীন্দ্রকান্ত ঘটকচৌধুরী ‘রবীন্দ্রনাথের একটি দুষ্প্রাপ্য কবিতা’ শিরোনামে ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৩৮৩ সংখ্যা ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রাসঙ্গিক তথ্যসহ পুনর্মুদ্রণ করেন। এ কবিতা হিন্দুমেলার উদ্বোধন উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ আবৃত্তি করেন তার প্রমাণ ওহফরধহ উধরষু ঘবংি (১৫ ফেব্রুয়ারি ১৮৭৫) ও ঞযব ইবহমধষবব-এর প্রতিবেদনে (২০ ফেব্রুয়ারি ১৮৭৫) লক্ষ করা যায়। ঞযব ইবহমধষবব পত্রিকায় পরিবেশিত তথ্য অনুসারে, কবিতা পাঠের তারিখ ১ ফাল্গুন ১২৮১ (১২ ফেব্রুয়ারি ১৮৭৫), কিন্তু ওহফরধহ উধরষু ঘবংি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে কবিতা পাঠের তারিখ ৩০ মাঘ ১২৮১ (১১ ফেব্রুয়ারি ১৮৭৫)। অগ্রজ সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘মিলে সবে ভারত সন্তান’ গান থেকে ‘হোক ভারতের জয়’ শিরোনামটি যে রবীন্দ্রনাথ গ্রহণ করেন, তা উদ্ধৃতি চিহ্নযুক্ত কবিতা-শিরোনাম থেকে অনুমেয়।”
দ্বিতীয় কবিতাটির মতো প্রথম কবিতাটি সম্পর্কেও রবীন্দ্র-রচনাবলীর প্রথম খণ্ডে গ্রন্থপরিচয় অংশে লেখা হয়েছে- “৩৯টি স্তবে রচিত ‘অভিলাষ’ কবিতাটির শিরোনামের নিচে ‘দ্বাদশবর্ষীয় বালকের রচিত’ এই সম্পাদকীয় মন্তব্য মুদ্রিত আছে। সজনীকান্ত দাস কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের রচনা, এরূপ অনুমান করে ‘তাঁহার নিকট উপস্থিত করিলে তিনি উহা নিঃসংশয়ে আপনার বলিয়া স্বীকার’ করেন।”
একই বছর প্রকাশিত তৃতীয় কবিতাটি সম্পর্কে রবীন্দ্র-রচনাবলীর প্রথম খণ্ডে গ্রন্থপরিচয় অংশে লেখা হয়েছে, “দ্বি-ভাষিক সাপ্তাহিক ‘অমৃতবাজার পত্রিকা’য় ১৪ ফাল্গুন ১২৮১ (২৫ ফেব্রুয়ারি ১৮৭৫) ‘শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’ স্বাক্ষরে ‘হিন্দুমেলায় উপহার’ কবিতাটি প্রকাশিত। পত্রিকার পুরাতন ফাইল থেকে ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কবিতাটি উদ্ধার করে ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের মাঘ মাসের ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় পুনর্মুদ্রণ করেন। রবীন্দ্রনাথে পূর্ণ-স্বাক্ষরিত সাময়িকপত্রে মুদ্রিত এটিই প্রথম কবিতা।”
লক্ষণীয় যে, কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশের প্রথম বছর রবীন্দ্রনাথের এ তিনটি কবিতাই প্রকাশিত হয়। ১২৮১ বঙ্গাব্দের ১৪ ফাল্গুন ‘হিন্দুমেলায় উপহার’ কবিতাটি প্রকাশিত হওয়ার পর ওই বছর আর কোনো কবিতা প্রকাশের খবর পাওয়া যায় না।
আরও লক্ষণীয় যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই তিনটি কবিতা তার কোনো কাব্যগ্রন্থে স্থান পায়নি। রবীন্দ্রনাথেরে প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কবি-কাহিনী’ (১২৮৪ বঙ্গাব্দ), দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘বন-ফুল’ (১২৮৬ বঙ্গাব্দ), তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ভগ্নহৃদয়’ (১২৮৮ বঙ্গাব্দ), চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ ‘শৈশবসঙ্গীত’ (১২৯১ বঙ্গাব্দ)- কোথাও এ কবিতাগুলো ছাপা হয়নি। রবীন্দ্র-রচনাবলি প্রকাশের সময়ে প্রথম খণ্ডের ‘সংযোজন’ অংশে স্বতন্ত্র কাব্যগ্রন্থের বাইরে থাকা কবিতা হিসেবে এগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
জীবনের প্রথম দিকে লেখা এসব কবিতা কেন তার কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, সেটা রবীন্দ্রনাথের সরল স্বীকারোক্তি থেকে বোঝা যায়। প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশকে ‘স্বদেশ’ নামক একটি কবিতা পাঠানোর সময় রবীন্দ্রনাথ লেখেন, ‘অকিঞ্চিৎকর বলে আমার কোনো বইয়ে স্থান পায় নি। কিন্তু ঐতিহাসিক দফতরে এর স্থান থাকতে পারে।’ ৩১ আশ্বিন ১৩২৮ (দেশ, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৩৮২)। বিশ্বভারতী রবীন্দ্র-রচনাবলীর ‘নিবেদন’ অংশে বিশ্বভারতী প্রকাশন বিভাগের অধিকর্তা চারুচন্দ্র ভট্টচার্য উল্লেখ করেন, ‘বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত কবির অনেক রচনা কোনো পুস্তকে সন্নিবিষ্ট হয় নাই। সেই সকল রচনা সংগৃহীত হইতেছে, সর্বশেষ খণ্ডে সেগুলি সন্নিবিষ্ট হইবে। প্রকাশকাল অনুসারে সেগুলো যথাস্থানে যোজনা করা এখন আর সম্ভব হইল না।’ উল্লিখিত বক্তব্য ও পরিপ্রেক্ষিত স্মরণ রেখেই ১৪২৩ বঙ্গাব্দে (২০১৬ খ্রিস্টাব্দ) ঢাকার ঐতিহ্য প্রকাশনী রবীন্দ্রনাথের প্রাপ্ত সমগ্র বাংলা রচনা প্রকাশক্রম অনুসারে ত্রিশ খণ্ডে নতুনভাবে বিন্যাস করে। সেখানে প্রথম খণ্ডে ‘সংযোজন’ অংশে উল্লিখিত তিনটি কবিতাসহ ১৭টি কবিতা স্থান পায়; যেগুলো ‘বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত’ হলেও কবির কোনো পুস্তকে সন্নিবিষ্ট হয়নি।
দীর্ঘ জীবন পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। এই দীর্ঘ জীবনে তিনি দুই হাজারের ওপরে গান লিখেছেন, সহস্রাধিক প্রবন্ধ লিখেছেন, অসংখ্য উপন্যাস এবং কয়েকশ ছোটগল্প লিখেছেন। চিঠিপত্র, ভ্রমণবৃত্তান্ত, স্মৃতিকথা, আত্মজীবনী, নাটক, প্রহসন, অনুবাদসহ বাংলা সাহিত্যের সব শাখায় তার ছিল অবাধ বিচরণ। যেখানে হাত দিয়েছেন, সেখানেই সোনা ফলিয়েছেন।
রবীন্দ্রনাথ হচ্ছেন তলস্তয়, বালজাক, গ্যেটে, রুশো, ভলতেয়ার, জেফারসন, জেরেমি বেন্থাম, স্টুয়ার্ট মিল, কান্টের মতো মনীষীদের সমগোত্রীয়। তবে তাদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের পার্থক্য এই যে, তাদের কেউ কাব্যে, কেউ নাটকে, কেউ সংগীতে, কেউ বা গদ্যের জাদুতে গোটা পৃথিবীর মানুষকে মোহাবিষ্ট করে রেখেছেন যুগের পর যুগ, আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যের সব শাখায় অনবদ্য ভূমিকা রেখে বিগত দেড়শ বছর ধরে বাঙালি জাতি তো বটেই, বিশ্বসাহিত্য পরিমণ্ডলকেও মোহাবিষ্ট করে রেখেছেন।
লক্ষণীয় যে, অন্য আর দশজন বাঙালি সাহিত্যিকের মতো রবীন্দ্রনাথের শুরুটা হয়েছিল কবিতা দিয়ে। জন্মের ত্রয়োদশ বছরে এসে ১২৮১ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’য় ‘অভিলাষ’, মাঘ মাসে ‘বান্ধব’ পত্রিকায় ‘হোক ভারতের জয়’ এবং ফাল্গুন মাসে ‘অমৃতবাজার পত্রিকা’য় ‘হিন্দুমেলার উপহার’ প্রকাশিত হয়। বাঙালি জাতির চেতনার বাতিঘর, বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বিতীয় কবিতাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হওয়ার খবর আমাদের আন্দোলিত করে, আমরা উদ্বেলিত হই।
(সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়)
কামারখন্দে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড
- কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০১:২৪:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে এক যুবককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে উপজেলার জামতৈল লোকনাথ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় মাদক সেবনের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ড. বিপাশা হোসাইন।
অভিযানকালে জামতৈল গ্রামের মৃত রবির ছেলে মো. হালিম (২৬) কে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে আনুমানিক ২০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই জব্দকৃত গাঁজা বিনষ্ট করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, মাদক সেবনের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নিজ মাকে মারধর এবং বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগেও অভিযুক্ত ছিলেন। এসব অপরাধের প্রেক্ষিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ড. বিপাশা হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গাঁজা সেবনের অপরাধে আটক যুবককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও একশত টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।”
তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল-অকটেন, অবৈধ মজুতের অভিযোগ
- রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১২:৫১:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, নিমগাছি বাজারের ধানহাটি এলাকায় রাস্তার ধারে ছোট একটি দোকানে প্লাস্টিকের বোতলে ভরে পেট্রোল ও অকটেন সাজিয়ে রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেল চালকরা এ দোকান থেকে ২শতটাকা লিটারে তেল কিনছেন।
অবৈধ তেল ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম এই প্রতিবেদকের কাছে প্রতি লিটার ২শত টাকা দাবি করেন। পরে সাংবাদিক টের পেয়ে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা লিটারে বিক্রির কথা বলেন। তিনি স্থানীয় একটি পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে বিক্রির কথা স্বীকার করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, সারাদেশে তেল সংকটের মধ্যেও তিনি অবাধে এই ব্যবসা চালিয়ে গেছেন। অনেক সময় সে ৩শত টাকা লিটার পর্যন্ত তেল বিক্রি করেছেন। তার বিরুদ্ধে তেল মজুতের অভিযোগ উঠেছে
জ্বালানি নীতি অনুযায়ী, বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়া পেট্রোল বা দাহ্য পদার্থ মজুত রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া তেলের মান নিয়ে যেমন প্রশ্ন রয়েছে, তেমনি এসব তেল যেভাবে সাধারণ প্লাস্টিক বোতলে রাখা হয়, তা যে কোনো সময় সামান্য আগুনের সংস্পর্শে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রকাশ্যে এভাবে পেট্রোল বিক্রি করা বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। অবৈধ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।

সেনবাগে শিশুকে সঙ্গে নিয়ে ইয়াবা পাচার, দম্পতি গ্রেপ্তার
- মো. ইসমাইল হোসেন নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১২:২৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
নোয়াখালীর সেনবাগে ছোট শিশুকে সঙ্গে নিয়ে ইয়াবা পাচারের সময় এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও র্যাবের যৌথ টিম। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৯শ’ পিস ইয়াবা, ইয়াবার গুঁড়া ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ১০টা থেকে ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সেনবাগ থানাধীন ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের সেবারহাট পূর্ব বাজার এলাকায় মাইশা স্টোরের সামনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা এলাকার মো. আব্দুল হামিদ (৩২) ও তার স্ত্রী বেবী আক্তার (২৩)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত ১৬ এপ্রিল ছোট শিশুসহ দুই নারী মাদক কারবারির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ইয়াবা চালানের তদন্ত করতে গিয়ে এই দম্পতির সন্ধান পাওয়া যায়। পরে ডিএনসি নোয়াখালী ও র্যাব-৭, সিপিসি-১ ফেনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৯শ’ পিস ইয়াবা, ৮ গ্রাম ইয়াবার গুঁড়া এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা ছোট শিশুকে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা পাচার করতেন। এর আগেও তারা কয়েকটি ইয়াবার চালান সেনবাগ এলাকায় পৌঁছে দিয়েছেন বলেও স্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ডিএনসি নোয়াখালীর পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে নিয়মিত মামলা করবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নোয়াখালীর উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ।

সন্ধ্যার মধ্যে ৫ জেলায় কালবৈশাখীর শঙ্কা
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ১১:৫৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
দেশের পাঁচ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (৮ মে) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

তাড়াশে কৃষিজমিতে অবৈধ পুকুর খনন, এক্সকাভেটর মালিককে জরিমানা
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। আপডেট টাইম : ১১:৩১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
তাড়াশে কৃষিজমিতে অবৈধ পুকুর খনন, এক্সকাভেটর মালিককে জরিমানা
সিরাজগঞ্জের শস্যভান্ডারখ্যাত তাড়াশ উপজেলার সরাপপুর এলাকায় কৃষিজমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এক্সকাভেটর মালিককে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ.জেড.এম নাহিদ হাসানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সরাপপুরসহ আশপাশের এলাকায় তিন ফসলি কৃষিজমি কেটে অবৈধভাবে পুকুর খনন করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে একটি এক্সকাভেটর মেশিন দিয়ে পুকুর খননের কাজ চলতে দেখে।
এ সময় এক্সকাভেটর মালিক সবুজ ইসলামকে আটক করা হয়। পরে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী তাকে ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
পাশাপাশি ভবিষ্যতে অবৈধ পুকুর খননের কাজে এক্সকাভেটর ব্যবহার না করার শর্তে তার কাছ থেকে মুচলেকাও নেওয়া হয়।
অভিযানকালে তাড়াশ থানা পুলিশের সদস্য ও স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ.জেড.এম নাহিদ হাসান বলেন, “কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খনন সম্পূর্ণ বেআইনি। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

টানা বৃষ্টিতে নুয়ে পড়েছে বোরো ধান, শ্রমিক সংকটে দিশেহারা তাড়াশের কৃষক
- তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১১:১০:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কৃষকরা। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মাঠের পর মাঠ পাকা ধান নুয়ে পড়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। হাজার টাকা মজুরি ও তিন বেলা খাবারের প্রলোভন দিয়েও মিলছে না ধান কাটার শ্রমিক।
সরেজমিনে উপজেলার নওগাঁ, বারুহাস, তালম ও দেশীগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমির পাকা ধান বৃষ্টির পানিতে নুয়ে পড়ে আছে। কোথাও কোথাও ধান পানিতে ডুবে গিয়ে শিষে চারা গজানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দেশীগ্রাম ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষক আব্দুল মজিদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বাপ-দাদার আমল থেইকা ধান চাষ করি, এমন বিপদে কখনও পড়ি নাই। ধান সব পানির মধ্যে শুইয়া আছে। ৫০০ টাকার কামলা এখন ১ হাজার টাকা দিয়াও পাইতেছি না। আরেকটা বৃষ্টি হইলে আমরা শেষ।”
শ্রমিক সর্দার সোলেমান আলী জানান, নুয়ে পড়া ধান কাটতে অনেক বেশি পরিশ্রম হয়। তিনি বলেন, “সোজা ধান হলে দিনে ১০ শতক কাটা যায়, কিন্তু নোয়ানো ধান ৪ শতকও কাটা যায় না। এত কষ্টের কাজ করতে অনেকে আগ্রহী না।”
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শর্মিষ্ঠা সেনগুপ্তা বলেন, “এবার উপজেলায় ২২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু অসময়ের বৃষ্টিতে প্রায় ৫০ শতাংশ জমির ধান নুয়ে পড়েছে। কৃষকদের দ্রুত হারভেস্টার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে উপজেলায় বিদ্যমান হারভেস্টারের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম।”
এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা স্বল্প ভাড়ায় পর্যাপ্ত হারভেস্টার সরবরাহ এবং নুয়ে পড়া ধানের জন্য বিশেষ সরকারি প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন আজ
- ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১০:২৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
“হে নূতন দেখা দিক আরবার জন্মেরও প্রথম শুভক্ষণ “ বাংলা সাহিত্য আকাশকে এক অনন্য সুর্যকিরণে আলোকিত মহামনিষী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম আজ। বাংলা সাহিত্যের এমন কোন শাখা নেই যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে পাওয়া যাবে না।
বাংলার প্রকৃতিতে, প্রেমে, বিরহে, প্রতিবাদে সমগ্র বাংলা জুড়েই বিচরণ করেছেন তিনি। তার গান ও কবিতা বাংলার মানুষের জীবন ও অনুভূতির কথাই বলে গেছেন। তার লেখা নাটক, গল্পগুলো বাঙালি জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। তার কবিতা গান বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। শ্রুতিমধুর বাংলা গীত ও সুরের মোর্ছনায় এক অনন্য আবহ সৃষ্টি করে গেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১২৬৮ সালের ২৫শে বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আজ তার ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণী দিয়েছেন।
প্রতিবছর ২৫শে বৈশাখে রবীন্দ্রপ্রেমী বাঙালির মনে তৈরি হয় বিশেষ এক আবহ। কারণ দিনটি শুধু একজন কবির জন্মদিন নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, মনন ও আত্মপরিচয়ের দিনও।
বাংলা সাহিত্য, সংগীত, চিত্রশিল্প ও দর্শন—প্রতিটি স্তরে রবীন্দ্রনাথ এমনভাবে মিশে আছেন, তাঁর জন্মদিন বাঙালির এক আনন্দঘন সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।
১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বমঞ্চে মর্যাদার আসনে বসিয়েছিলেন। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, শিশুতোষ সাহিত্য, চিত্রকলায় তাঁর সৃষ্টিশীলতার অসামান্য দীপ্তি ছড়িয়ে আছে। মানবতা, দেশপ্রেম, সত্য ও ন্যায়ের পথে তাঁর সৃষ্টিকর্ম যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর গান ছিল বাঙালির প্রেরণার শক্তি। সাহিত্যের বাইরে শিক্ষা, কৃষি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও সমাজকল্যাণে রবীন্দ্রনাথের অবদান অনন্য। শান্তিনিকেতনে ব্যতিক্রমী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা কিংবা বাংলাদেশের শাহজাদপুর ও পতিসরে কৃষকদের উন্নয়নে কাজ করা তাঁর বহুমাত্রিক চিন্তার পরিচয় বহন করে।
সময়ের স্রোতে সমাজ বদলেছে, বদলেছে মানুষের জীবনযাত্রা। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ আজও বাঙালির অনুভবে চিরনতুন।
নতুন প্রজন্মও তাঁর সৃষ্টিতে খুঁজে পায় ভালোবাসা, মানবতা ও জীবনের গভীর সত্যের আলো।
যথাযথ মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেশব্যাপী রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন করবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। এ বছর কবির জন্মবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে কুষ্টিয়ার শিলাইদহসহ কবির স্মৃতিবিজড়িত জেলাগুলোতে নেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথক আয়োজন রাখা হয়েছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে তিন দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের মূল অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। কুষ্টিয়ার পাশাপাশি কবির স্মৃতিধন্য নওগাঁর পতিসরেও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
পতিসরের আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। অন্যদিকে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এ ছাড়া খুলনার দক্ষিণ ডিহিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে আজ বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ১১ মে পর্যন্ত চার দিনের ‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন থাকছে।
বাংলা একাডেমিতে রবীন্দ্রজয়ন্তীর আয়োজন হবে ১১ মে বিকেল ৩টায়। সেমিনার, রবীন্দ্র পুরস্কার ২০২৬ প্রদান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিকে স্মরণ করবেন বিশিষ্টজনরা।
সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র উৎসবের আয়োজন করেছে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা এবং কাল সন্ধ্যা ৭টায় ছায়ানট মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে থাকবে আলোচনা, নাচ, গান ও আবৃত্তি। এ ছাড়া দেশব্যাপী ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপিত হবে।

কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি
- শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৯:৩৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে রংতুলির আঁচড়ে আর নানান রংয়ের আলোকসজ্জায় প্রস্তুত শাহজাদপুর রবীন্দ্র কাছারী বাড়ী। ২৫ শে বৈশাখ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্ম বার্ষিকী। এ বছর তিনদিন ব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে কবির জন্ম বার্ষিকী পালন করছে শাহজাদপুরবাসী। তাই প্রতিদিন দেশ-বিদেশের রবীন্দ্র ভক্তদের পদচারনায় মুখরিত থাকছে কবীর স্মৃতিবীজরিত কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গন।
জানা যায়, নাটোরের রানী ভবানীর জমিদারীর একটি অংশ শাহজাদপুরের জমিদারী নিলামে উঠলে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮৪০ সালে মাত্র ১৩ টাকা ১০ আনায় শাহজাদপুরের এই জমিদারী কিনে নেন। ১৮৯০ থেকে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শাহজাদপুরের জমিদারী দেখাশুনার জন্য এখানে আসতেন এবং সাময়িক ভাবে বসবাসও করতেন। আর এখানে বসেই কবি রচনা করেছেন কবিতা সোনারতরী, চিত্র, চৈতালী, কল্পনা, ছোটগল্প পোষ্ট মাষ্টার, রাম কানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা, ব্যবধান, তারা প্রসন্নের কীর্তি, ছুটি, সমাপ্তি, ক্ষুধিত পাষান, অতিথি, ৩৮ টি ছিন্ন পত্রাবলী, প্রবন্ধ ও গীতাঞ্জলির অংশ বিশেষ, নাটক বিসর্জন এর মত সাহিত্য কর্ম।
স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী এবং রবীন্দ্র অনুরাগীরা জানান, কবিগুরুর স্মৃতিবীজরিত শাহজাদপুর কাছাড়িবাড়িতে প্রতিবছরেই সারম্বরে উদযাপিত হয় কবির জন্মবার্ষিকী। শাহজাদপুরের সার্বজনিন উৎসবে পরিনত হওয়া এই উৎসবে অংশগ্রহন করতে ইতিমধ্যেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসছেন রবীন্দ্রপ্রেমিরা। এবারের জন্মবার্ষিকীটি সফলভাবে পালন করতে রাত-দিন পরিশ্রম করছেন সবাই। দিবসটিতে বিশ্বমানের একটি অনুষ্ঠান উপহার দিতে রবীন্দ্র গান, নৃত্য ও নাটকের মহড়া চলছে স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তত্বাবধানে। শাহজাদপুরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
রবীন্দ্র কাছারিবাড়ি কাস্টোডিয়ান শাওলী তালুকদার জানিয়েছেন, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে তিন দিন ব্যাপী নানা অনুষ্ঠান মালার আয়োজন থাকছে। এই আয়োজন সফল করতে সু-সজ্জিত করা হচ্ছে কাছাড়ি বাড়ি প্রাঙ্গন। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিবৃন্দ ও রবীন্দ্র ভক্তদের স্বাগত জানাতে রবীন্দ্র কাছাড়িবাড়ি প্রস্তুুত বলেও জানান রবীন্দ্র কাছারি বাড়ির কাস্ট্রোডিয়ান।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন জানান, বিশ্বকবির ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কবীর স্মৃতিবিজরিত রবীন্দ্র কাচারিবাড়িতে ২৫’শে বৈশাখ থেকে তিনদিনব্যাপি নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কবির জীবন এবং সৃষ্টি নিয়ে আলোচনাসহ ৩দিন ব্যাপী চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী
ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ আপডেট টাইম : ০৭:২৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। ছবি: সংগৃহীতদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সোলার খাতে নীতিগত সহায়তা ও কর কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘পাওয়ার, এনার্জি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশ সোলারের জন্য প্রস্তুত। এখন দরকার নীতিগত সহায়তা। সমস্যাটা হচ্ছে আমাদের নীতি। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী আমাদের নেতৃত্বে একটি কমিটি করে দিয়েছেন। সেই কমিটি কীভাবে নীতিগত সহায়তা দিলে আমরা খুব দ্রুত বাস্তবায়নে যেতে পারি, সে বিষয়ে কাজ করছে। আমাদের ইতোমধ্যে একটি সভা হয়েছে। আমরা ভিত্তিটা ঠিক করে ফেলেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আপনাদের নীতিগত সহায়তা দেব। আপনাদের যাতে বেশি কর দিতে না হয়, সে জন্য আমরা আলোচনা করছি। আমি আশা করি, এই মাসের মধ্যে আমরা একটি নীতি তৈরি করতে পারব এবং জুন মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন নিয়ে এটিকে সরকারি আদেশ হিসেবে জারি করতে পারব। মন্ত্রী হিসেবে আপনাদের বলে রাখছি, আপনারা নীতিগত সহায়তা পাবেন, যাতে আগামী পাঁচ বছরে আমরা এটিকে ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করতে পারি।’
বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘আগে বিদ্যুতের দাম বাড়ুক, তারপর এ বিষয়ে বক্তব্য দেব। এখন বক্তব্য দিতে পারব না।’
সোলার বিদ্যুতের কার্যকর ব্যবহারে সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ করে এখন আমরা বেশি নজর দিচ্ছি সংরক্ষণ ব্যবস্থার দিকে। ব্যাটারি না থাকলে দিনের বেলা চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিয়ে আমার কোনো লাভ হয় না। আমার যে সর্বোচ্চ চাহিদার সময়—সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত—সেই সময় বিদ্যুতের প্রয়োজন বেশি।’
আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবি নিয়েও কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী জানান, ‘এখন কোরবানির ঈদ আসছে। আমরা সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার নিয়ম করে দিয়েছি। এখন বিভিন্ন সমিতি আমাদের কাছে সময় বাড়ানোর অনুরোধ করছে, যাতে মানুষ কেনাকাটা করতে পারে।’
এ সময় বাসাবাড়ির ছাদে সোলার স্থাপনে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বিদ্যুৎমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাসাবাড়ির ছাদে আপনারা সোলার বসান। সেখান থেকে যারা বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে, তাদের কাছ থেকে বিল নেবেন। বাড়ির মালিক যে সোলারের বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন, সেটি ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় করবেন।’
প্রসঙ্গত, দেশের টেকসই বিদ্যুৎ, জ্বালানি, অবকাঠামো, সবুজ নির্মাণকৌশল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শিল্পপ্রযুক্তি খাতকে সামনে রেখে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে ৯ম আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এক্সপো অ্যান্ড ডায়ালগ। এর অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে ‘পাওয়ার, এনার্জি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক্সপো’।
এক্সপোনেন্ট একজিবিশনের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ মেলা চলবে ৯ মে পর্যন্ত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এবারের আয়োজনে ১২টি দেশের প্রায় ১৪০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস
মামুনুর রশিদ মামুন, ঠাকুরগাঁও (রংপুর) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। আপডেট টাইম : ০৯:২২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিকার (NICAR) বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে ভূল্লী উপজেলা গঠনের প্রস্তাব।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ খবরে পুরো ভূল্লী অঞ্চলজুড়ে আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদটি পাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল ও জনসাধারণের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন।
ঠাকুরগাঁও জেলার ভূল্লী থানাকে নতুন উপজেলা গঠনের জন্য ৫টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে এই নতুন উপজেলা গঠিত হতে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম এমপি বলেন, “ভূল্লী উপজেলা বহুদিনের প্রাণের দাবি আজ বাস্তবে রূপ নিলো। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আমরা জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। ভূল্লী উপজেলা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয়দের মতে, নতুন উপজেলা গঠনের ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলাসহ সকল নাগরিক সেবা এখন সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে। প্রশাসনিক ভোগান্তি লাঘবের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন গতি সৃষ্টি হবে। সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়ে অভিনন্দনের জোয়ার বইছে।

ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য
ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ আপডেট টাইম : ০৯:১৭:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ঘটনাটি ফেনীর সীমান্তবর্তী উপজেলা পরশুরামের। এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় এক ইমাম ও মক্তবের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক মাসেরও বেশি সময় জেল খাটতে হয় তাকে। এতে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে চরম অপমানের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। হারাতে হয় চাকরিও।
কিন্তু দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সামনে আসে ভয়ংকর এক সত্য। কিশোরীর গর্ভের সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষায় জানা যায়, শিশুটির বাবা ওই মক্তবের শিক্ষক নন; বরং মেয়েটিরই বড় ভাই। পরে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ভাই নিজেও বোনকে জোরপূর্বক ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন।
ফরেনসিক পরীক্ষায় পরশুরামের বক্স মাহমুদে ধর্ষণের শিকার সেই কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে তার আপন বড় ভাইয়ের ডিএনএ’র মিল পাওয়া গেছে। আর এই অপরাধের দায় থেকে ভাইকে বাঁচাতে ফাঁসানো হয়েছিল স্থানীয় এক মসজিদের ইমামকে। এক মাস দুইদিন কারাভোগের পর ধর্ষণ মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ওই গ্রামের চান মিয়ার স্ত্রী হনুফা খাতুন তার কিশোরী কন্যা রুবি আক্তারকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে একই গ্রামের স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক মোজাফফরের বিরুদ্ধে পরশুরাম মডেল থানায় মামলা করেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও ছাড় পাননি মোজাফফর। অভিযোগ মিথ্যা উল্লেখ করে ওই পরিবারের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ফেনীর আদালতে মামলা করতে যান মোজাফফর।
এ সময় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রামের মাতব্বর ও হনুফা খাতুন তাকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর একমাস দুইদিন কারাভোগ করেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায় ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করে পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের কিশোরী রুবি আক্তার (১৪)। এর পাঁচ বছর পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে সন্তানও প্রসব করে সে। আর এর দায় চাপানো হয় ওই মক্তবের শিক্ষক মোজাফফর আহমদের (২৫) কাঁধে।
একই বছরের ২২ ডিসেম্বর অভিযুক্ত মোজাফফরকে ঢাকার মালিবাগে পুলিশের সিআইডি বিভাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্ব-শরীরে ও রুবি আক্তারের সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ঢাকার মালিবাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি থেকে থেকে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি ডিএনএ প্রতিবেদন পান পরশুরাম মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম।
ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, পরীক্ষায় ভ্যাজাইনাল সোয়াবে পুরুষের বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ভ্যাজাইনাল সোয়াবে বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত না হওয়ায় মোজাফফরের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে তুলনা করে মতামত প্রদান করা সম্ভব নয়। এরপর ওই কিশোরী ও তার সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যা সন্তানের জৈবিক পিতা নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তাদের পরীক্ষাগারে উপস্থিত হয়ে ডিএনএর নমুনা প্রদানের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়।
এর মধ্যে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে বিস্ময়কর তথ্য। ডিএনএ রিপোর্টে কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে মোজাফফরের ডিএনএ’র মিল না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কিশোরী রুবি আক্তারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে ওই কিশোরী তার আপন বড় ভাই মোরশেদ তাকে গণহারে ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকারোক্তি দেয়। ঘটনা আড়াল করে ভাইকে বাঁচাতে শিক্ষক মোজাফফরকে ফাঁসানো হয়।
পরবর্তীকালে ২০২৫ সালের ১৯ মে বড় ভাই মোরশেদকে (২২) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালতে আপন বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ২০ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে মোরশেদ।
আদালতে আবেদনের প্রেক্ষিতে রুবি আক্তার ও তার ভূমিষ্ঠ সন্তান জান্নাতুল ফেরদাউস ও বড় ভাই মোরশেদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য একই বছরের ৪ আগস্ট ঢাকায় পুলিশের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভিকটিমের সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়ার শিশু কন্যা জান্নাতুল ফেরদাউসের সাথে মোরশেদের ডিএনএ নমুনা মিলে যাওয়ায় তিনি তার জৈবিক পিতা।
ডিএনএ পরীক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ডিএনএ পরীক্ষায় মোরশেদের সাথে জান্নাতুল ফেরদৌসের পিতা হিসেবে ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। মোজাফফর আহমেদ রুবি আক্তারের গর্ভজাত সন্তানের জৈবিক পিতা নন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক শরীফ হোসেন অভিযোগপত্রে মোজাফফর আহমেদের বিরুদ্ধে আনীত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০০) এর ৯(১) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় ধর্ষণ মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আর মোরশেদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের একই ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর থেকে মোরশেদ ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন। আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট উপস্থাপনের পর এক মাস দুইদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান মোজাফফর।
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর চার্জশীট থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
পরশুরামের বক্স মাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক ছিলেন মোজাফফর আহমেদ। এ ঘটনার পর মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান তিনি। মামলার খরচ যোগাতে বিক্রি করেছেন ৫ শতক জমি। প্রতিনিয়ত সামাজিকভাবে হেয় হয়েছেন। এসব কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ওই গ্রামের আবুল বশরের ছেলে মোজাফফর আহমেদ।
মোজাফফর আহমদ বলেন, অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। এ ঘটনায় আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছি। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি। মামলার খরচ চালাতে বাড়ির পাশে মূল্যবান জায়গা বিক্রি করে দিয়েছি, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কারাভোগ, সামাজিক মর্যাদাহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় প্রায় মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে ফাঁসানো হয়। প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হলে এভাবে আমার মত অনেক নিরপরাধ মানুষ বেঁচে যাবে। ইমামের সামাজিক মর্যাদাহানি ও এক মাস কারা ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন।
মোজাফফর আহমেদের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিরল। তাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য উদঘাটন হয়েছে।
জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের পরশুরাম উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম জানান, সুন্নী, কওমী বা সরকারি বুঝি না, সে একজন মজলুম ইমাম ও তালেবে ইলম। ক্ষতিগ্রস্ত ইমামের ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তাকে মানসিকভাবে সাহস দেয়ার পাশাপাশি, আর্থিক ও আইনিভাবে সহযোগিতা করা উচিত।

রিপোর্টার: 
































4 thoughts on “প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা”