তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, বেহেশতের টিকিট বিক্রিকারীদের ভাওতাবাজির প্রতি আস্থা না রেখে দেশের জনগণ আস্থা রেখেছে তারেক রহমান ও বিএনপির ইশতেহারের প্রতি। আর তারেক রহমান একের পর এক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন।
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চর বেতাগৈর ইউনিয়নের চর ভেলামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ফ্যামেলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের নারীদের জীবনমান উন্নয়ন, পারিবারিক নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে চালু করা হয়েছে ‘ফ্যামেলি কার্ড’ কর্মসূচি। এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে সমাজের অসচ্ছল পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চাঁদপুর থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ২০টি জেলায় একযোগে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
প্রতিমন্ত্রী সুবিধাভোগীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ফ্যামেলি কার্ডের মাধ্যমে যে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, সেই অর্থ অবশ্যই পরিবারের প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করবেন। পাশাপাশি কিছু টাকা সঞ্চয় রাখবেন, যাতে ভবিষ্যতের যেকোনো দুর্যোগ বা বিপদে তা কাজে লাগে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, দালালচক্র বা ঘুষ লেনদেন বরদাশত করা হবে না। কার্ড পাওয়ার জন্য কাউকে টাকা দেবেন না বা কোনো দালালের কাছে যাবেন না। প্রকৃত প্রাপকদের কাছেই সরকার এই সহায়তা পৌঁছে দেবে।’
চর বেতাগৈর ইউনিয়নের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘এই ইউনিয়নের মানুষ আমাকে সবচেয়ে বেশি ভোট দিয়েছে। তাই সবার আগে এই এলাকার মানুষের জন্য সামান্য উপহার নিয়ে এসেছি। ভবিষ্যতেও উন্নয়ন ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
অনুষ্ঠানে চর বেতাগৈর ইউনিয়নের ৭৩০ জন নারীর মাঝে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ করা হয়। উদ্বোধনের পরপরই সুবিধাভোগীদের মোবাইল ফোনে সহায়তা প্রাপ্তির বার্তা পৌঁছে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেনজেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাতসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
দেশের স্বাস্থ্য খাতে চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। স্বাস্থ্য প্রশাসন থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল—সবখানেই চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আতঙ্কে রয়েছেন। কোথাও রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে হামলা চালিয়ে চিকিৎসকের মাথা থেঁতলে দেওয়া হচ্ছে, কোথাও হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে—এমনকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালককেও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় দেশের স্বাস্থ্য খাতে অজানা শঙ্কা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যদি সারাক্ষণ শারীরিক নির্যাতন, অপমান বা হামলার আশঙ্কায় থাকেন, তাহলে স্বাভাবিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে জেলা-উপজেলা হাসপাতাল কিংবা মেডিকেল কলেজ পর্যায়ে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে থাকলে স্বাস্থ্যসেবার পুরো ব্যবস্থাই বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে চিকিৎসকদের সুরক্ষা এবং চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ মোকাবিলায় এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর আইন নেই। বর্তমানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন এবং দণ্ডবিধির কিছু সাধারণ ধারার মাধ্যমে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এসব আইনে চিকিৎসক ও রোগী—উভয় পক্ষের অধিকার ও সুরক্ষা স্পষ্ট নয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি করা সম্ভব হবে না। কারণ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আতঙ্কে থেকে সঠিকভাবে রোগীসেবা ও চিকিৎসা প্রদানে ব্যর্থ হবেন। যার প্রভাব পড়বে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর। তিনি বলেন, এর আগে একটি আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আইন থাকলে তার প্রয়োগ করা যেত। যেহেতু আইন নেই, তাই রোগী, চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান—কোনোটির নিরাপত্তাই নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতো চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের পরিস্থিতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
জানা গেছে, চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ‘স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছিল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অন্তত তিন দফা এ-সংক্রান্ত আইনের খসড়া তৈরি ও সংশোধন করা হয়। সর্বশেষ ২০২৩ সালে একটি খসড়া প্রাথমিক অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও সেটি আর আলোর মুখ দেখেনি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চিকিৎসকদের সুরক্ষা নয়, চিকিৎসা অবহেলায় রোগীদের প্রতিকার পাওয়ার বিষয়টিও আইনে সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। গত বছরের ১৩ মার্চ তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান গণমাধ্যমে বলেছিলেন, দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন চূড়ান্ত হবে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই আইন আলোর মুখ দেখেনি।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. জাহিদ রায়হানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। রাজধানীর মহাখালী এলাকায় হাসপাতালকেন্দ্রিক সন্ত্রাসী তৎপরতা ও চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার পর তার কার্যালয়ে এ হুমকিপত্র পৌঁছায়। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে শনিবার রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) সহকারী পরিচালকের কক্ষে ঢুকে অস্ত্রের মুখে হুমকি দেয় স্থানীয় একদল যুবক।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আউটসোর্সিং নিয়োগে নিজেদের লোক নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে তারা এ ঘটনা ঘটায়। দুপুরের দিকে সহকারী পরিচালক ডা. রাশেদের কক্ষে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, কয়েকজন যুবক সহকারী পরিচালকের কক্ষে ঢুকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে এবং অস্ত্র প্রদর্শন করে হুমকি দেয়। তারা সরাসরি বলে, তাদের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে। অন্যথায় বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে। শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার গভীর রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত চিকিৎসক নাসির ইসলামকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠাতে হয়েছে।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার বিলাশখান এলাকার লাল মিয়া কাজী বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে স্বজনরা লিখিত অঙ্গীকার দিয়ে হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে চান। কিছু সময় পর রোগীর মৃত্যু হলে চিকিৎসক দেরিতে এসেছেন—এমন অভিযোগ তুলে স্বজনরা জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালান। একপর্যায়ে দায়িত্বরত চিকিৎসক নাসির ইসলামকে ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মিতু আক্তার বলেন, আহত চিকিৎসককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে গত ২০ এপ্রিল রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আহমদ হোসেনের ওপর হামলার ঘটনাও দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
র্যাব জানিয়েছে, হাসপাতালের ঠিকাদারি কাজ নিয়ে বিরোধের জেরে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে তার ওপর হামলা চালানো হয়। মহাখালী এলাকায় হাঁটার সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। এ ঘটনায় মূল হামলাকারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একের পর এক হামলা, হুমকি ও প্রভাব বিস্তারের ঘটনায় চিকিৎসক সমাজের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসী প্রভাবমুক্ত রেখে দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা গেলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও বড় সংকটে পড়বে।
সামগ্রিক বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি, যা অনেকেই মেনে নিতে পারছে না। ফলে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তার পেছনে মূলত টেন্ডার ও আউটসোর্সিং বাণিজ্য রয়েছে। টেন্ডারে যারা সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে, তাদের কাজ দিতে গেলে অন্য গ্রুপ সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে। আবার আউটসোর্সিংয়ের ঠিকাদাররা হাসপাতালে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এদের কথায় সব করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, এসব হুমকি দিয়ে আমাদের ভালো কাজ থামিয়ে দেওয়া যাবে না। আমি থেমে নেই। আমরা আউটসোর্সিং পদ্ধতি বাতিল করে দেব। এ ছাড়া এখন থেকে সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় সিভিল ড্রেসে র্যাব পাহারায় থাকবে।
সুত্র: দৈনিক কালবেলা

জলঢাকায় কালভার্টের বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষিমাড়াই দক্ষিণ পাড়া এলাকায় একটি কালভার্টের বেহাল অবস্থার কারণে জনসাধারণের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় হাজার হাজার মানুষের বসবাস। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক-কৃষাণীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কালভার্টটির অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শ্রী গজেন চন্দ্র, রতন চন্দ্র রায়, হরি রায়, জ্যোতিষ রায়, স্বপন রায় ও মনসের আলীসহ অনেকেই বলেন, কালভার্টটির বেহাল অবস্থার কারণে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করতেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, দ্রুত সংস্কার কাজ না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাই উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করে কালভার্টটি দ্রুত সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের চার কমিটি

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সিরাজগঞ্জ জেলা, সদর উপজেলা, পৌর ও সরকারি কলেজ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত পত্রে ১ বছরের জন্য এসব কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে চারটি অনুমোদিত কমিটির তালিকা দেওয়া হয়েছে।
রবিউল ইসলাম রুবেলকে সভাপতি ও আল-আমিন খানকে সাধারণ সম্পাদক করে ৮৯ সদস্য বিশিষ্ট সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ, রেজাউল করিম রাব্বীকে সভাপতি ও মো. রাসেল শেখ আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট সদর উপজেলা ছাত্রলীগ, মো. সিপন হাসান কাব্যকে সভাপতি ও আলামিন সরকার হিমেলকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট পৌর ছাত্রলীগ এবং মো. জীবন শেখকে সভাপতি ও জিম আহমেদ আকাশকে সাধারণ সম্পাদক করে ২২ সদস্য বিশিষ্ট সিরাজগঞ্জ সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বেরোবির সাবেক ভিসি গ্রেপ্তার

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দীন তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আজ সন্ধ্যায় তাকে মোম্মাদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ৯ এপ্রিল আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বেরোবির সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
রায়ে আদালত শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন- পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনই গ্রেপ্তার আছেন।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিন আসামিও পুলিশের সাবেক সদস্য। তারা হলেন- সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক উপ-পরিদর্শক এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়। তারা পলাতক। এছাড়া রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারাও পলাতক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেলকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমানকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাফিউল গ্রেপ্তার আছেন। হাফিজুর রহমান বর্তমানে পলাতক। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক।
বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডলকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, সাবেক নিরাপত্তাপ্রহরী নুর আলম মিয়াকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মাহাবুবার রহমানকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাবেক এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা সবাই পলাতক।
রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক।আরপিএমপির সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেনকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটোয়ারীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা দুজনই পলাতক।
এই মামলার আসামি পলাতক চিকিৎসক মো. সরোয়ার হোসেনকে (চন্দন) পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে পলাতক।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাফুজুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. ফজলে রাব্বি, সহসভাপতি মো. আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ও দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেনকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই পলাতক।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদুল হাসানকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক। ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি কারাগারে আছেন।

আগামী ৮ বছরে কোনো প্রতিবন্ধী ভাতার বাইরে থাকবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আগামী ৮ বছরের মধ্যে দেশের কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সরকারি ভাতার বাইরে থাকবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, আগামী জুলাই মাস থেকে প্রতিবন্ধীদের তালিকাভুক্ত করে ভাতার আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু করা হবে। তিনি বলেন, যেসব পরিবারে প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে, তাদের দ্রুত নাম জমা দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে বলেছিলাম বেহেশতের টিকিট দেব না। এমন কিছু দেব, যা এই দুনিয়াতে মানুষের কল্যাণে কাজে আসবে। সেই লক্ষ্যেই আমরা ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছি।”
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বছরে মোট ৩০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। এতে পরিবারের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উপস্থিত নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের আত্মনির্ভরশীল করার চেষ্টা চলছে, যাতে তারা পরিবারের দায়িত্ব আরও ভালোভাবে পালন করতে পারেন।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে এক লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং নিরাপদ প্রসব সেবা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ উদ্বোধন করা হয়। নরসিংদীর বিন্নাবাইদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৬৬ জন উপকারভোগীর মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

হোসেনপুরে ভাঙা কালভার্টে জনদুর্ভোগ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা থেকে পাকুন্দিয়া উপজেলার কোদালিয়া হয়ে পুলেরঘাট অভিমুখী গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ঠাডারকান্দা বাজার সংলগ্ন কালভার্টটি মাঝখান থেকে ভেঙে পড়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন চলাচল করে। এছাড়াও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা কালভার্ট পার হতে হচ্ছে। সামান্য অসাবধানতাতেই ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কালভার্টটির মাঝখানের অংশ ধসে পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এলাকাবাসী সাময়িকভাবে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধানের অভাবে দিন দিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও বিরাজ করছে আতঙ্ক যেকোনো মুহুর্তে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত ও পানির স্রোতে কালভার্টের অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত ভাঙা কালভার্টটি সংস্কার অথবা নতুন করে একটি টেকসই কালভার্ট নির্মাণ করা হোক। তাদের ভাষ্য, হোসেনপুর ও পাকুন্দিয়া উপজেলার মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক এটি। তাই দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
শাহেদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ উদ্দিন বলেন,সংশ্লিষ্টদের বারবার বিষয়টি অবহিত করেছি আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস জানান, সেখানে নতুন একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আপাতত দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

নরসিংদীতে একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিলেন প্রসূতি মা

নরসিংদীতে অস্ত্রোপচারের (সিজারিয়ান) মাধ্যমে একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন মর্জিনা বেগম (২২) নামের এক প্রসূতি মা।
শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে জেলা শহরের পায়রা চত্ত্বরে অবস্থিত একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। একসঙ্গে তিন সন্তান জন্মের খবরে হাসপাতাল চত্বর ও স্বজনদের মাঝে আনন্দের সৃষ্টি হয়।
নবজাতকদের দুজন ছেলে এবং একজন মেয়ে। বর্তমানে মা ও তাঁর তিন নবজাতক সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
প্রসূতির বাবা আব্দুল হেকিম বলেন, প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম অনেক। পরে যখন শুনলাম আমার মেয়ের ২ ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তান হয়েছে, অনেক খুশি হয়েছি। পরিবারের সবাই অনেক খুশি। আমার মেয়ে এবং তার সন্তানেরা আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে।
ক্লিনিকের পরিচালক আরিফুল ইসলাম আবির জানান, শুক্রবার দুপুরে মর্জিনা নামের ওই প্রসূতি নারীর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনটি শিশুর জন্ম হয়। বর্তমানে মা ও সন্তানদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গাইনী সার্জন ডা. সুমাইয়া আজরীন অস্ত্রোপচারটি করেন।
তিনি জানান, মা ও তিন নবজাতকই সুস্থ আছে। এমন অপারেশন কিছুটা জটিল হলেও তা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।

ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ১০ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ১০ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিজিবি।
শনিবার (১৬ মে) বিজিবি ও বিএসএফ’র মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটকদের হালুয়াঘাট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, আটকরা পাসপোর্ট বা কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে মেঘালয় পুলিশ তাদের আটক করে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ করা হয়। সকাল ৬টায় হালুয়াঘাট সীমান্তের মেইন পিলার ১১২০-এর নিকটবর্তী ধোপাঝুড়ি নামক স্থানে বিজিবি এবং ২২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিএসএফ আটককৃত ১০ বাংলাদেশিকে তেলিখালী বিজিবি ক্যাম্পের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করে।
আটকরা হলেন- রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা মো. মুক্তার হোসেন, মো. শাহজামাল হক, মো. আনিছুর রহমান, মো. কামাল হোসেন, শ্রী সিপেন, মো. ইব্রাহিম আলী, মো. নওশাদ আলী, মো. আকবর আলী, মো. জহিরুল ইসলাম এবং মো. শাকিম উদ্দিন।
অবৈধ অনুপ্রবেশের এই ঘটনায় ৩৯ বিজিবির অন্তর্গত তেলিখালী বিওপির নায়েব সুবেদার মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে হালুয়াঘাট থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পাসপোর্ট আদেশ, ১৯৭৩-এর ১১(১)(ক) ধারা অনুযায়ী অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

দরিদ্রদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে সরকার : অর্থমন্ত্রী

সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করবে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা করা হবে যার মাধ্যমে রোগীরা সেখানে চিকিৎসা নিলে ব্যয় সরকার বহন করবে।
শনিবার (১৬ মে) চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি দেশের স্বাস্থ্যখাতে বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পাশাপাশি তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার দাবি করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমান সরকার ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজ করছে।
বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া সুবিধা, ডিজিটাল লাইব্রেরি, খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশে মেডিকেল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ঘাটতি আছে। দক্ষ জনবলের অভাবে কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ভবনটির নকশায় পার্কিং সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। ভবনের প্রস্তাবিত নকশায় ৭২টি গাড়ি পার্কিং সুবিধা অপর্যাপ্ত এবং কমপক্ষে ২০০ থেকে ২৫০টি পার্কিং সুবিধা রাখা উচিত।

রাণীনগরে ঘুমন্ত গৃহবধূর শয়নকক্ষে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টা, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি গ্রেপ্তার
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় গভীর রাতে ঘুমন্ত এক গৃহবধূর শয়নকক্ষে অনুপ্রবেশ করে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) রাতে এই ঘটনায় স্থানীয়রা অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে ভুক্তভোগী গৃহবধূর দায়ের করা মামলায় পুলিশ গোলাম রব্বানী (৫০) নামের এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রিকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার গোলাম রব্বানী উপজেলার কচুয়া গ্রামের রহিম উদ্দীন প্রামানিকের ছেলে। শুক্রবার রাতেই লোহাচুড়িয়া গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই গৃহবধূ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এই সুযোগে গোলাম রব্বানী শয়নকক্ষে প্রবেশ করে তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। গৃহবধূর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে হাতেনাতে আটক করেন। ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল জানান, ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি গোলাম রব্বানীকে গ্রেপ্তার করে শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
2 thoughts on “হোসেনপুরে লোডশেডিংয়ের সঙ্গে মোবাইল নেটওয়ার্কিংও ভেঙে পড়েছে”