সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

অন্তরের মরদেহ গ্রহণ করল না পরিবার, লাশ বুঝে নিলেন দূর সম্পর্কের ভাই

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত মূল অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারের (২৮) লাশ তার নিজের পরিবারের কারও কাছে হস্তান্তর করতে পারেনি পুলিশ। তবে তার এক দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাইকে লাশটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

শনিবার (২৭ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

 

 

ওসি শাহীন মিয়া কালবেলাকে বলেন, নিহতের পাশের বাড়ির এক লোককে ডেকে এনেছিলাম। অনেক কষ্টে তাকে আনতে হয়েছে।

স্বজনরা লাশ নিতে রাজি ছিল না কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওরা ভয়েই আসতে রাজি হয়নি। পরে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে লাশ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেছি।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াকুব বলেন, অন্তর মজুমদার নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর থানার চরভাটা এলাকার চর বজলুল করিম গ্রামের কার্তিক মজুমদারের ছেলে। তার লাশ হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু স্বজনরা কোনোভাবেই লাশ নিতে রাজি হননি।

তিনি আরও বলেন, পরে ওই থানার পুলিশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় নিহতের দূর সম্পর্কের এক চাচাতো ভাইকে আনা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেলে তার কাছে অন্তরের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

 

লক্ষ্মীপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অরূপ পাল বলেন, সুরতহাল শেষে অন্তরের লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পরে লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

 

 

ওসি শাহীন মিয়া বলেন, অন্তর মজুমদারের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। রায়পুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

 

 

 

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীপাড় এলাকার আমির হোসেন মাস্টারের পাঁচতলা ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে ঢুকে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন অন্তর মজুমদার। এতে ঘটনাস্থলেই শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) এবং ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফা (৯) নিহত হন।

 

 

 

ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা অন্তরকে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলে পরে তারও মৃত্যু হয়।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

অন্তরের মরদেহ গ্রহণ করল না পরিবার, লাশ বুঝে নিলেন দূর সম্পর্কের ভাই

আপডেট টাইম : ০৪:৪২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত মূল অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারের (২৮) লাশ তার নিজের পরিবারের কারও কাছে হস্তান্তর করতে পারেনি পুলিশ। তবে তার এক দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাইকে লাশটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

শনিবার (২৭ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

 

 

ওসি শাহীন মিয়া কালবেলাকে বলেন, নিহতের পাশের বাড়ির এক লোককে ডেকে এনেছিলাম। অনেক কষ্টে তাকে আনতে হয়েছে।

স্বজনরা লাশ নিতে রাজি ছিল না কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওরা ভয়েই আসতে রাজি হয়নি। পরে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে লাশ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেছি।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াকুব বলেন, অন্তর মজুমদার নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর থানার চরভাটা এলাকার চর বজলুল করিম গ্রামের কার্তিক মজুমদারের ছেলে। তার লাশ হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু স্বজনরা কোনোভাবেই লাশ নিতে রাজি হননি।

তিনি আরও বলেন, পরে ওই থানার পুলিশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় নিহতের দূর সম্পর্কের এক চাচাতো ভাইকে আনা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেলে তার কাছে অন্তরের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

 

লক্ষ্মীপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অরূপ পাল বলেন, সুরতহাল শেষে অন্তরের লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পরে লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

 

 

ওসি শাহীন মিয়া বলেন, অন্তর মজুমদারের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। রায়পুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

 

 

 

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীপাড় এলাকার আমির হোসেন মাস্টারের পাঁচতলা ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে ঢুকে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন অন্তর মজুমদার। এতে ঘটনাস্থলেই শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) এবং ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফা (৯) নিহত হন।

 

 

 

ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা অন্তরকে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলে পরে তারও মৃত্যু হয়।