সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

রিমান্ডে অভিনেতা আলভীর গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি

রাজধানীর মিরপুরের বাসা থেকে স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের মামলায় ছোটপর্দার অভিনেতা নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে যাহের আলভীকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আলভী রিমান্ডে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ দিয়েছেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন পুলিশ।

 

 

 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

 

 

দুই দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার আলভীকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মিরপুর জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আব্দুল মালেক।

আবেদনে বলেন, ‘আসামিকে ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের মামলার ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা মামলার তদন্তকাজে সহায়তা করবে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তদন্ত অব্যাহত। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক প্রয়োজন।’

শুনানিকালে আলভীকে এজলাসে তোলা হয়। তবে তার পক্ষে জামিনের আবেদন ছিল না। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা এ মামলায় আর কার কার সম্পৃক্ততা আসছে তা লিখিত আকারে জানাতে আদালতের কাছে আবেদন করেন। বিচারক তাকে জানান, তদন্ত কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে কল করা হবে।

এরপর বিচারক আলভীর কিছু বলার আছে কি না জানতে চান। আলভী মাথা নেড়ে জানান, ‘না।’ কোনো টর্চার করা হয়েছে কি না বিচারক জানতে চাইলে আলভী বলেন, ‘না।’ পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

 

 

গত ১৮ জুন আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন যাহের আলভী। তবে আদালত সেদিন জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর গত ২১ জুন আলভীর ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদনের পর ২৪ জুন শুনানি শেষে তার দুই দিনের আদেশ দেন।

 

 

 

এর আগে গত ৪ জুন আলভীর মা নাসরিন সুলতানা আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।

 

 

 

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পল্লবীর ডিওএইচএসের বাসায় বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

 

পরে পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

এদিকে ইকরার আত্মহত্যার পর ওই রাতেই মামলা করেন বাবা কবির হায়াত খান। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

রিমান্ডে অভিনেতা আলভীর গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি

আপডেট টাইম : ০৫:০২:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরের বাসা থেকে স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের মামলায় ছোটপর্দার অভিনেতা নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে যাহের আলভীকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আলভী রিমান্ডে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ দিয়েছেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন পুলিশ।

 

 

 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

 

 

দুই দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার আলভীকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মিরপুর জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আব্দুল মালেক।

আবেদনে বলেন, ‘আসামিকে ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের মামলার ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা মামলার তদন্তকাজে সহায়তা করবে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তদন্ত অব্যাহত। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক প্রয়োজন।’

শুনানিকালে আলভীকে এজলাসে তোলা হয়। তবে তার পক্ষে জামিনের আবেদন ছিল না। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা এ মামলায় আর কার কার সম্পৃক্ততা আসছে তা লিখিত আকারে জানাতে আদালতের কাছে আবেদন করেন। বিচারক তাকে জানান, তদন্ত কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে কল করা হবে।

এরপর বিচারক আলভীর কিছু বলার আছে কি না জানতে চান। আলভী মাথা নেড়ে জানান, ‘না।’ কোনো টর্চার করা হয়েছে কি না বিচারক জানতে চাইলে আলভী বলেন, ‘না।’ পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

 

 

গত ১৮ জুন আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন যাহের আলভী। তবে আদালত সেদিন জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর গত ২১ জুন আলভীর ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদনের পর ২৪ জুন শুনানি শেষে তার দুই দিনের আদেশ দেন।

 

 

 

এর আগে গত ৪ জুন আলভীর মা নাসরিন সুলতানা আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।

 

 

 

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পল্লবীর ডিওএইচএসের বাসায় বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

 

পরে পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

এদিকে ইকরার আত্মহত্যার পর ওই রাতেই মামলা করেন বাবা কবির হায়াত খান। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।