সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে রেজাউল হক মিয়া নামে এক জার্মান প্রবাসীকে বেধড়ক মারপিট করে জোরপূর্বক তার কৃষিজমি দখল করে মাটি ভরাটের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে ভদ্রঘাট ইউনিয়নের মুগবেলাই গ্রামে ভুক্তভোগী রেজাউল হক মিয়ার আপন ভাই জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা তাসলিমা খাতুন ও ভাতিজা এনামুল হক বাবুর নেতৃত্বে এ হামলা ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে।
আহত রেজাউল হক মিয়া মুগবেলাই গ্রামের মৃত আবুল হোসেন মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জার্মানে বসবাস করছেন। এর আগে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী আমলা কবির বিন আনোয়ারের নেতৃত্বেও রেজাউল হক মিয়া ও তার জার্মান নাগরি স্ত্রীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার সকালে রেজাউল হক মিয়ার নিজের কেনা কৃষিজমিতে এস্কাভেটর মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছিল। এ সময় তিনি বাঁধা দিলে তার ভাতিজা এনামুল হক বাবু ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তাসলিমা খাতুনের নেতৃত্বে তাদের সহযোগীরা হামলা রেজাউল হক মিয়ার ওপর হামলা চালায়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আহত রেজাউল হক মিয়া বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের কারণেই আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। আমরা প্রবাসীরা কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছি। অথচ দেশে ফিরে আমাদের নিজস্ব সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, আমি ১৯৭৭ সাল থেকে জার্মান থাকি। আমি মুগবেলাই মৌজার জেএল নং-২৬, আরএস খতিয়ান-৩৮৪, দাগ নং-৩৫২, ৪০১,৪০২ ৩৯ শতক জমি ক্রয় করি। সেই জমি আমার আপন ভাইয়ের স্ত্রী তাসলিমা খাতুন ও ভাতিজারা জোরপূর্বক দখল করে নেয়। পরে আমি আদালতে মামলা দায়ের করি। আদালত আমার মামলা কারণে গত ১০ নভেম্বর ২০২৫ইং তারিখে মামলাটি নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয়পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজার রাখার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু আমার ভাবী ও ভাতিজারা আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কৌশলে স্থানীয় ক্ষমতাশীনদের নিকট টাকা নিয়ে মাটি ভরাট করার জন্য দিয়ে দেয়।
পরে আমি বিষয়টি জানতে পেরে কামারখন্দ উপজেলার ইউএনও ও সহকারি পুলিশ সুপার কামারখন্দ সার্কেলকে ফোন দিয়ে অবগত করি। পরে তিনি ঘটনাস্থলে কামারখন্দ থানার পুলিশ পাঠিয়ে দেন। আমি পুলিশের সাথে ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় শাহআলমসহ অজ্ঞাত ৫/৬ জন যুবক আমাকে মারপিট করে।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাশমত আলী জানান, এটি জমি-জমার ব্যাপারে। জমি-জমার ব্যাপারে থানা পুলিশের কোন কিছু করার নেই। এ বিষয়টি ভুমি সহকারী কর্মকর্তা দেখছেন। তিনি আরো জানান, মারপিটের বিষয়টি আমার জানা নেই। এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কামাখরন্দ উপজেলার সহকারী কর্মকর্তা (ভুমি) আব্দুল্লা আল মামুন জানান, অভিযোগ পাওয়া পর ঘটনাস্থলে গিয়ে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কৃষি জমিতে মাটি ভরাট বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশ অমান্য করলে পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে আইনুাগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম। 

















