সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

গাজায় চালু থাকা কয়েকটি হাসপাতালের কাছে হামলা, নিহত ১৯

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ১০:৪৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 47

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম

ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় নতুন করে তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে। এখনও চালু থাকা অল্প কয়েকটি হাসপাতালের কাছাকাছি এলাকায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। অন্যদিকে গাজা সিটিতে তাদের স্থল আক্রমণে বেসামরিক নাগরিকের নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বেড়েই চলেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।

চিকিৎসা কর্মকর্তারা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ৮৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আল-শিফা ও আল-আহলি হাসপাতালের আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়, যা ক্ষুধার্ত, অসুস্থ এবং আহত মানুষের জন্য শেষ ভরসার জায়গা ছিল। আল-শিফার বাইরে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হন এবং আল-আহলির কাছে পৃথক হামলায় মারা যান আরও চারজন।

হামাস এই হামলাকে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। হামাস বলেছে, জাতিসংঘের নতুন প্রতিবেদন প্রকাশের এক দিনেরও কম সময় হয়েছে যখন ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা আরও বলেছে, এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অবাধ্যতা এবং স্পষ্ট অবজ্ঞার একটি স্পষ্ট বার্তা।

যুক্তরাজ্যের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মন্ত্রী হ্যামিশ ফ্যালকনার শিশুদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত আল-রান্তিসি হাসপাতালকে লক্ষ্য করে রাতভর বোমাবর্ষণে আতঙ্কিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইনকিউবেটরে থাকা নবজাতক আর ডায়ালাইসিসে থাকা শিশুদের ওপর কোনোভাবেই হামলা হওয়া উচিত নয়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিশু হাসপাতালটিতে তিনবার হামলা করা হয়। এতে ৪০ জন রোগী পালাতে বাধ্য হয়, তবে আরও ৪০ জন রোগী ও কর্মী ভেতরেই আটকে পড়েছেন।

জাতিসংঘের মতে, এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত অভিযান। এই আক্রমণের মূল উদ্দেশ্য হলো গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর আক্রমণ এবং হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা অবকাঠামো ধ্বংস করা। এই পদ্ধতিগত হামলা গাজায় চিকিৎসা পরিষেবা কার্যত নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে।

এই পদক্ষেপগুলো কেবল স্বাস্থ্যসেবার ক্ষতি করছে না, বরং গাজাবাসীর জীবনযাত্রাকেও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

সূত্র: কালবেলা

ট্যাগ :

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

গাজায় চালু থাকা কয়েকটি হাসপাতালের কাছে হামলা, নিহত ১৯

আপডেট টাইম : ১০:৪৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম

ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় নতুন করে তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে। এখনও চালু থাকা অল্প কয়েকটি হাসপাতালের কাছাকাছি এলাকায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। অন্যদিকে গাজা সিটিতে তাদের স্থল আক্রমণে বেসামরিক নাগরিকের নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বেড়েই চলেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।

চিকিৎসা কর্মকর্তারা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ৮৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আল-শিফা ও আল-আহলি হাসপাতালের আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়, যা ক্ষুধার্ত, অসুস্থ এবং আহত মানুষের জন্য শেষ ভরসার জায়গা ছিল। আল-শিফার বাইরে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হন এবং আল-আহলির কাছে পৃথক হামলায় মারা যান আরও চারজন।

হামাস এই হামলাকে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। হামাস বলেছে, জাতিসংঘের নতুন প্রতিবেদন প্রকাশের এক দিনেরও কম সময় হয়েছে যখন ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা আরও বলেছে, এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অবাধ্যতা এবং স্পষ্ট অবজ্ঞার একটি স্পষ্ট বার্তা।

যুক্তরাজ্যের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মন্ত্রী হ্যামিশ ফ্যালকনার শিশুদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত আল-রান্তিসি হাসপাতালকে লক্ষ্য করে রাতভর বোমাবর্ষণে আতঙ্কিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইনকিউবেটরে থাকা নবজাতক আর ডায়ালাইসিসে থাকা শিশুদের ওপর কোনোভাবেই হামলা হওয়া উচিত নয়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিশু হাসপাতালটিতে তিনবার হামলা করা হয়। এতে ৪০ জন রোগী পালাতে বাধ্য হয়, তবে আরও ৪০ জন রোগী ও কর্মী ভেতরেই আটকে পড়েছেন।

জাতিসংঘের মতে, এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত অভিযান। এই আক্রমণের মূল উদ্দেশ্য হলো গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর আক্রমণ এবং হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা অবকাঠামো ধ্বংস করা। এই পদ্ধতিগত হামলা গাজায় চিকিৎসা পরিষেবা কার্যত নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে।

এই পদক্ষেপগুলো কেবল স্বাস্থ্যসেবার ক্ষতি করছে না, বরং গাজাবাসীর জীবনযাত্রাকেও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

সূত্র: কালবেলা