সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধ

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। গত ২৬ আগস্ট ভোটকোশি নদীতে ভয়াবহ বন্যার পর বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

 

 

 

 

 

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্টকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিকল্প কোনো প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতি চেয়ে ভারতের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্ষা মৌসুমে সাধারণত নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় নেপালের জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ে। এ সময় দেশের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতিবেশী দেশগুলোতে রপ্তানি করে থাকে নেপাল। তবে এবার অতিবৃষ্টিজনিত বন্যাই দেশটির বিদ্যুৎ রপ্তানিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন পাওয়া ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ২৪ মেগাওয়াটের ত্রিশুলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। গত সপ্তাহ থেকে প্রকল্প দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।

বন্যার আগে বর্ষা মৌসুমে নেপাল থেকে গড়ে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করা হতো। বন্যার পর তা কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। বন্যার কারণে এখন পর্যন্ত অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়েছে।

 

 

 

 

এ ছাড়া সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সানজেন, আপার সানজেন ও সালাসুঙ্গি প্রকল্পকে জাতীয় গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পরিচালনা করছে নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এসব প্রকল্প বর্তমানে শুধু আশপাশের এলাকার চাহিদা মেটাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

 

 

 

 

তবে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানিতে সংকট শুধু বন্যার কারণে নয়। ভারতের অনুমোদন নবায়ন না হওয়ায় তিনটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে আরও ৭৩ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারছে না দেশটি।

 

 

 

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমানে ভারতের গ্রিড ব্যবহার করে বিদ্যুৎ বাণিজ্য চলছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দেশের জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের সঙ্গে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানির বিষয়ে সম্মতি হয়েছিল। তবে সঞ্চালন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমতি দেয়নি ভারত।

 

 

 

 

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এখন ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সঞ্চালন অবকাঠামো দ্রুত পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে চালু থাকা অন্য জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমোদন পেতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।

 

 

 

One thought on “নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধ

আপডেট টাইম : ০৪:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। গত ২৬ আগস্ট ভোটকোশি নদীতে ভয়াবহ বন্যার পর বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

 

 

 

 

 

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্টকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিকল্প কোনো প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতি চেয়ে ভারতের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্ষা মৌসুমে সাধারণত নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় নেপালের জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ে। এ সময় দেশের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতিবেশী দেশগুলোতে রপ্তানি করে থাকে নেপাল। তবে এবার অতিবৃষ্টিজনিত বন্যাই দেশটির বিদ্যুৎ রপ্তানিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন পাওয়া ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ২৪ মেগাওয়াটের ত্রিশুলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। গত সপ্তাহ থেকে প্রকল্প দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।

বন্যার আগে বর্ষা মৌসুমে নেপাল থেকে গড়ে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করা হতো। বন্যার পর তা কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। বন্যার কারণে এখন পর্যন্ত অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়েছে।

 

 

 

 

এ ছাড়া সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সানজেন, আপার সানজেন ও সালাসুঙ্গি প্রকল্পকে জাতীয় গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পরিচালনা করছে নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এসব প্রকল্প বর্তমানে শুধু আশপাশের এলাকার চাহিদা মেটাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

 

 

 

 

তবে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানিতে সংকট শুধু বন্যার কারণে নয়। ভারতের অনুমোদন নবায়ন না হওয়ায় তিনটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে আরও ৭৩ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারছে না দেশটি।

 

 

 

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমানে ভারতের গ্রিড ব্যবহার করে বিদ্যুৎ বাণিজ্য চলছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দেশের জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের সঙ্গে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানির বিষয়ে সম্মতি হয়েছিল। তবে সঞ্চালন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমতি দেয়নি ভারত।

 

 

 

 

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এখন ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সঞ্চালন অবকাঠামো দ্রুত পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে চালু থাকা অন্য জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমোদন পেতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।