সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নতুন পথে প্রত্যাবর্তন তিন জেলার ৬৫ চরমপন্থীর Logo রাণীনগরে জাতীয় যুব দিবস পালিত, চেক ও সনদ বিতরণ Logo করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ-এটা একটা হাদিস’ Logo বেলকুচিতে জমি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ, পাল্টা সংবাদ সম্মেলন Logo রায়গঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত Logo ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যালে এন্ড বিএম কলেজের ফলাফল নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ Logo সোমবার থেকে ১৩ সিটি করপোরেশনে ই-রিকশা নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু, ফি ৮-১০ হাজার টাকা Logo সৌদি আরবে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি Logo তাহসিফ হত্যা মামলা: হত্যার আগে সঙ্গে বারে দেখা যাওয়া সেই তরুণী গ্রেপ্তার Logo দিল্লিতে বিরোধীদলের বিক্ষোভ মিছিল, নিরাপত্তা জোরদার

মাদক চক্রের ড্রোন ঠেকাতে নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের

অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ইউমা প্রুভিং গ্রাউন্ডসে ‘ফ্যালকন পিক’ মহড়ায় অ্যান্ডুরিল ঘোস্ট-এক্স ড্রোন হাতে এক মার্কিন সেনাসদস্য। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স।

মেক্সিকো সীমান্তে মাদক কারবারি চক্রগুলোর ড্রোন ব্যবহার বাড়ায় তা ঠেকাতে নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষা করছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। চোরাচালান ও মানবপাচারের কাজে নজরদারির জন্য এসব ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

 

 

অ্যারিজোনার ইউমায় গত সেপ্টেম্বরে ‘ফ্যালকন পিক’ নামে একটি সামরিক মহড়ায় ড্রোন প্রতিরোধী বিভিন্ন প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হয়। এতে রাডার, ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম ইন্টারসেপ্টর ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় মেশিনগানসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রদর্শন করে প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।

 

 

 

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ৩০ দিনে দেশটির দক্ষিণ সীমান্তে ৩৭৮টি ড্রোনের অনুপ্রবেশ শনাক্ত করা হয়েছে। এই প্রবণতা বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

 

জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স সাউদার্ন বর্ডারের অপারেশনস বিভাগের উপকমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান ফিলার বলেন, সীমান্তে শনাক্ত হওয়া ড্রোনগুলোর বেশিরভাগই বাজারে সহজে পাওয়া যায় এমন বাণিজ্যিক ড্রোন। এসব ড্রোনে সাধারণত নজরদারি ক্যামেরা থাকে। সীমান্ত দিয়ে মানুষ বা পণ্য পারাপারের সময় এগুলোকে প্রায়ই দেখা যায়।

মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আগস্টে দক্ষিণ সীমান্তে লেজার প্রযুক্তি মোতায়েনের পর থেকে মাদক কারবারি চক্রগুলোর ১১টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

 

ইউক্রেনের কাছ থেকে শিক্ষা

ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর ফলে ড্রোন শনাক্ত, প্রতিহত ও ধ্বংস করার প্রযুক্তিতেও দ্রুত পরিবর্তন এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা এখন ইউক্রেনের এই দ্রুত প্রযুক্তি উন্নয়নের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাইছেন।

তবে কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক কারবারি চক্রগুলোর ব্যবহৃত ড্রোন ইউক্রেন বা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ড্রোনের সঙ্গে তুলনীয় নয়। তারপরও সীমান্ত এলাকা নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষা, সেনাদের প্রশিক্ষণ এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে এসব প্রযুক্তি কতটা কার্যকর তা যাচাইয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হয়ে উঠেছে।

 

 

 

‘ফ্যালকন পিক’ মহড়ায় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের ‘ঘোস্ট’ ড্রোন প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া টেলিডাইন এফএলআইআরের রাডার ও ক্যামেরাভিত্তিক ড্রোন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং অ্যালেন কন্ট্রোল সিস্টেমসের ‘বুলফ্রগ’ স্বয়ংক্রিয় মেশিনগানও দেখানো হয়।

 

 

 

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগও বেড়েছে। অ্যান্ডুরিল, শিল্ড এআই, সারোনিকসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সামরিক চুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যে নতুন ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি তৈরি করছে।

 

 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ম্যাট রস বলেন, ইউক্রেনে প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে যেভাবে দ্রুত প্রযুক্তি ও কৌশল পরিবর্তন করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রেরও সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন পথে প্রত্যাবর্তন তিন জেলার ৬৫ চরমপন্থীর

মাদক চক্রের ড্রোন ঠেকাতে নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট টাইম : ১০:৩৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

মেক্সিকো সীমান্তে মাদক কারবারি চক্রগুলোর ড্রোন ব্যবহার বাড়ায় তা ঠেকাতে নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষা করছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। চোরাচালান ও মানবপাচারের কাজে নজরদারির জন্য এসব ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

 

 

অ্যারিজোনার ইউমায় গত সেপ্টেম্বরে ‘ফ্যালকন পিক’ নামে একটি সামরিক মহড়ায় ড্রোন প্রতিরোধী বিভিন্ন প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হয়। এতে রাডার, ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম ইন্টারসেপ্টর ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় মেশিনগানসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রদর্শন করে প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।

 

 

 

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ৩০ দিনে দেশটির দক্ষিণ সীমান্তে ৩৭৮টি ড্রোনের অনুপ্রবেশ শনাক্ত করা হয়েছে। এই প্রবণতা বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

 

জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স সাউদার্ন বর্ডারের অপারেশনস বিভাগের উপকমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান ফিলার বলেন, সীমান্তে শনাক্ত হওয়া ড্রোনগুলোর বেশিরভাগই বাজারে সহজে পাওয়া যায় এমন বাণিজ্যিক ড্রোন। এসব ড্রোনে সাধারণত নজরদারি ক্যামেরা থাকে। সীমান্ত দিয়ে মানুষ বা পণ্য পারাপারের সময় এগুলোকে প্রায়ই দেখা যায়।

মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আগস্টে দক্ষিণ সীমান্তে লেজার প্রযুক্তি মোতায়েনের পর থেকে মাদক কারবারি চক্রগুলোর ১১টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

 

ইউক্রেনের কাছ থেকে শিক্ষা

ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর ফলে ড্রোন শনাক্ত, প্রতিহত ও ধ্বংস করার প্রযুক্তিতেও দ্রুত পরিবর্তন এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা এখন ইউক্রেনের এই দ্রুত প্রযুক্তি উন্নয়নের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাইছেন।

তবে কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক কারবারি চক্রগুলোর ব্যবহৃত ড্রোন ইউক্রেন বা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ড্রোনের সঙ্গে তুলনীয় নয়। তারপরও সীমান্ত এলাকা নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষা, সেনাদের প্রশিক্ষণ এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে এসব প্রযুক্তি কতটা কার্যকর তা যাচাইয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হয়ে উঠেছে।

 

 

 

‘ফ্যালকন পিক’ মহড়ায় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের ‘ঘোস্ট’ ড্রোন প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া টেলিডাইন এফএলআইআরের রাডার ও ক্যামেরাভিত্তিক ড্রোন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং অ্যালেন কন্ট্রোল সিস্টেমসের ‘বুলফ্রগ’ স্বয়ংক্রিয় মেশিনগানও দেখানো হয়।

 

 

 

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগও বেড়েছে। অ্যান্ডুরিল, শিল্ড এআই, সারোনিকসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সামরিক চুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যে নতুন ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি তৈরি করছে।

 

 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ম্যাট রস বলেন, ইউক্রেনে প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে যেভাবে দ্রুত প্রযুক্তি ও কৌশল পরিবর্তন করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রেরও সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।