গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে হামলার ঘটনায় গুলিতে নিহত চার জনের ছবির মধ্যে সিরাজগঞ্জের এক জুলাই বিপ্লবীর ছবি প্রকাশিত হয়েছে। সমকাল অনলাইনসহ আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেইজে ছবিটি প্রচার হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জুলাই যোদ্ধা জুলকার নাইন হৃদয়।
বুধবার (১৬জুলাই) সমকালের অনলাইনে গোপালগঞ্জে নিহত চার যুবকের ছবি দিয়ে “আমার সন্তানকে কোথায় পাবো” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে নিহত রমজান কাজীর স্থানে হৃদয়ের ছবি দেওয়া হয়। তবে ছবির নিচে রমজান কাজীর নামই উল্লেখ করা হয়েছে। রমজান কাজী গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার বাসিন্দা। আর জুলকার নাইন হৃদয় উপজেলার ধোপাকান্দি আলী আক্তার সরকার ছেলে।
জুলকার নাইন দাবী করেন, সমকালে ব্যবহৃত ছবিটি ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট কামারখন্দে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন অংশগ্রহণের একটি ভিডিও থেকে নেওয়া।
বৃহস্পতিবার কামারখন্দ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জুলকার নাইন হৃদয় বলেন, আমি একজন জুলাই যোদ্ধা। ৪ আগষ্ট আন্দোলনে জামতৈল পূর্ব বাজারে স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে যাওয়ার সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এতে আমি আহত হলে আমার সাথে থাকা মহসিন ভাই, রানা ভাই ও হাসান ভাই আমাকে নিয়ে স্থানীয় খোকন মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। ওই সময়ের একটি ভিডিও কিছুদিন আগে আমার এক বড় ভাই ফেসবুকে আপলোড করেন। পরবর্তীতে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। ওই ভিডিও থেকেই আমার ছবিটা নিয়ে অনলাইনে মৃত রমজান কাজী নামে প্রকাশিত হয়েছে। ওই নিউজটা আমি দেখেছি আওয়ামী লীগের একটি পেজ থেকে শেয়ার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মিডিয়ায় ছবিটা দেখে আমার খুব খারাপ লেগেছে। আমি তো আসলে জুলাই যোদ্ধা গতকালকে গোপালগঞ্জের ওই ঘটনা আমি জানিই না, আর সেখানে থাকার তো কোন প্রশ্নই আসে না।
হৃদয় আরও বলেন, আমার বাবা একজন সাধারণ ব্যবসায়ী, আর আমি ছাত্র। আমাদের পরিবার কোন রাজনীতির মধ্যে নেই। জুলাই আন্দোলনে আমি দেশের হয়ে ছাত্র-জনতার সাথে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। অথচ তারা আওয়ামী লীগ হিসেবে চালিয়ে দিচ্ছে। এ ব্যাপারে অবশ্যই আমি আইনের পদক্ষেপ নেব।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিরাজগঞ্জ জেলার যুগ্ন আহবায়ক মাহবুব আলম সাকিব বলেন, গতকালের হৃদয়ের বিষয়ে যেটা ঘটেছে গোপালগঞ্জে যে চারজন নিহত হয়েছে এই নিউজের প্রেক্ষিতে আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি কেননা ও একজন জুলাই যোদ্ধা। ২০২৪ সালের ৪ আগষ্ট ফ্যাসিষ্ট তাড়ানোর যুদ্ধে সে আহত হয়েছে। সেই সময়কার একটা ভিডিও নিয়ে গোপালগঞ্জের যে ঘটনা ঘটেছে সেখানে চালিয়ে দিয়েছে। সে বিষয়ে আমি তীব্র নিন্দা জানিয়ে জানাচ্ছি এবং সমকাল যেন এটার ব্যবস্থা নেয় এবং যে ভুক্তভোগী তার কাছে তারা যেন ক্ষমা চায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ 






















