সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

রামগঞ্জে হৃদয়বিদারক দৃশ্য: মা-মেয়ের রক্তাক্ত লাশের পর জানাযায় হাজারো মানুষের কান্না

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ১১:১১:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • 61

মো. ইসমাইল হোসেন, নোয়াখালি ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম

লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নে নৃশংসভাবে খুন হওয়া মা ও মেয়ের জানাযা সম্পন্ন হয়েছে হৃদয়বিদারক পরিবেশে। শুক্রবার রাতে উত্তর চন্ডিপুর এমদাদুল উলুম মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় তাদের জানাযা। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ অংশ নেন এই জানাযায়। কান্নায় ভেঙে পড়ে জনতা, শোকে মুহ্যমান হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
নিহতরা হলেন— অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ও মিজান ক্রোকারিজের মালিক মিজানুর রহমানের স্ত্রী জুলেখা বেগম (৫৫) এবং তাদের ছোট মেয়ে তানহা আক্তার মীম (১৮)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ৮টার মধ্যে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে মা-মেয়েকে হত্যা করে এবং প্রায় অর্ধকোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন নিহত জুলেখার ছেলে রাব্বি ও জামাতা মামুন। লাশ পৌঁছার পর বাড়িতে শুরু হয় কান্নার রোল। আশপাশের গ্রাম থেকে শত শত মানুষ ভিড় করেন তাদের শেষবারের মতো দেখতে।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অরূপ পাল বলেন, “দুজনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
নিহত জুলেখার ছেলে রাব্বি কণ্ঠরোধে বলেন, “আমার বোন মীমকে আমি ‘ডিম’ বলে ডাকতাম। তার জন্য আমি পুচকা কিনে বাড়ি ফিরেছিলাম, কিন্তু এসে দেখি মা আর বোন দু’জনই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।”
জানাযায় উপস্থিত ছিলেন ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, “দেশে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এক মাসে দুইটি হত্যাকাণ্ড ঘটলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আমরা প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি — অপরাধীদের গ্রেফতার করতে না পারলে থানা ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
পুরো এলাকায় এখনো বিরাজ করছে শোক ও আতঙ্কের ছায়া। স্থানীয়দের ভাষায় — “এমন নির্মম হত্যা রামগঞ্জে আগে কেউ দেখেনি।”

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রামগঞ্জে হৃদয়বিদারক দৃশ্য: মা-মেয়ের রক্তাক্ত লাশের পর জানাযায় হাজারো মানুষের কান্না

আপডেট টাইম : ১১:১১:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

মো. ইসমাইল হোসেন, নোয়াখালি ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম

লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নে নৃশংসভাবে খুন হওয়া মা ও মেয়ের জানাযা সম্পন্ন হয়েছে হৃদয়বিদারক পরিবেশে। শুক্রবার রাতে উত্তর চন্ডিপুর এমদাদুল উলুম মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় তাদের জানাযা। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ অংশ নেন এই জানাযায়। কান্নায় ভেঙে পড়ে জনতা, শোকে মুহ্যমান হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
নিহতরা হলেন— অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ও মিজান ক্রোকারিজের মালিক মিজানুর রহমানের স্ত্রী জুলেখা বেগম (৫৫) এবং তাদের ছোট মেয়ে তানহা আক্তার মীম (১৮)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ৮টার মধ্যে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে মা-মেয়েকে হত্যা করে এবং প্রায় অর্ধকোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন নিহত জুলেখার ছেলে রাব্বি ও জামাতা মামুন। লাশ পৌঁছার পর বাড়িতে শুরু হয় কান্নার রোল। আশপাশের গ্রাম থেকে শত শত মানুষ ভিড় করেন তাদের শেষবারের মতো দেখতে।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অরূপ পাল বলেন, “দুজনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
নিহত জুলেখার ছেলে রাব্বি কণ্ঠরোধে বলেন, “আমার বোন মীমকে আমি ‘ডিম’ বলে ডাকতাম। তার জন্য আমি পুচকা কিনে বাড়ি ফিরেছিলাম, কিন্তু এসে দেখি মা আর বোন দু’জনই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।”
জানাযায় উপস্থিত ছিলেন ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, “দেশে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এক মাসে দুইটি হত্যাকাণ্ড ঘটলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আমরা প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি — অপরাধীদের গ্রেফতার করতে না পারলে থানা ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
পুরো এলাকায় এখনো বিরাজ করছে শোক ও আতঙ্কের ছায়া। স্থানীয়দের ভাষায় — “এমন নির্মম হত্যা রামগঞ্জে আগে কেউ দেখেনি।”