সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১০০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা,স্থবির আকাশ ও রেলপথ

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০১:২১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩১ জন দেখেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম

ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে এটি কাকিনাড়ার কাছাকাছি মছলিপত্তনম ও কলিঙ্গপত্তনমের মাঝামাঝি স্থানে আছড়ে পড়তে পারে। এর প্রভাবে বেশকিছু ট্রেন ও বিমানের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে ঘূর্ণিঝড়টি মছলিপত্তনম থেকে প্রায় ২৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে, বিশাখাপত্তনম থেকে ৪১০ কিলোমিটার দক্ষিণে, এবং কাকিনাড়া থেকে ৩৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল। ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার বেগে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমমুখী হয়ে এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করছে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ‘মোন্থা’ একটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিশাখাপত্তনম, পূর্ব গোদাবরী, পশ্চিম গোদাবরী ও কোনাসীমা জেলার নিচু এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরানো হচ্ছে। অন্ধ্রপ্রদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থপনায় জররি কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগের সময় বিদ্যুৎ ও পানীয় সরবরাহ সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতায় অন্ধ্র উপকূল দিয়ে চলাচল করা ৬৫টি যাত্রী ও দূরপাল্লার ট্রেন মঙ্গলবার ও বুধবার বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশাখাপত্তনম বিমানবন্দর থেকেও ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের সব ফ্লাইট বাতিল রাখা হয়েছে। ওড়িশা, তেলঙ্গানা ও তামিলনাড়ু প্রশাসনও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ওড়িশার গঞ্জাম জেলায় ১১০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, চিলকা হ্রদে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্ধ্র থেকে মাছ ধরার জন্য যাওয়া ৩০টি নৌকা এখন গোপালপুর বন্দরে নোঙর করা হয়েছে। তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া বিভাগ। মঙ্গলবার কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। এ ছাড়া দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টি (৭-১১ সেন্টিমিটার) হতে পারে।

বুধবার হাওড়া, দুই চব্বিশ পরগনা, দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া শুক্রবারও বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনায় সতর্কতা জারি রয়েছে।

90
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১০০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা,স্থবির আকাশ ও রেলপথ

আপডেট টাইম : ০১:২১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম

ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে এটি কাকিনাড়ার কাছাকাছি মছলিপত্তনম ও কলিঙ্গপত্তনমের মাঝামাঝি স্থানে আছড়ে পড়তে পারে। এর প্রভাবে বেশকিছু ট্রেন ও বিমানের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে ঘূর্ণিঝড়টি মছলিপত্তনম থেকে প্রায় ২৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে, বিশাখাপত্তনম থেকে ৪১০ কিলোমিটার দক্ষিণে, এবং কাকিনাড়া থেকে ৩৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল। ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার বেগে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমমুখী হয়ে এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করছে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ‘মোন্থা’ একটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিশাখাপত্তনম, পূর্ব গোদাবরী, পশ্চিম গোদাবরী ও কোনাসীমা জেলার নিচু এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরানো হচ্ছে। অন্ধ্রপ্রদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থপনায় জররি কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগের সময় বিদ্যুৎ ও পানীয় সরবরাহ সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতায় অন্ধ্র উপকূল দিয়ে চলাচল করা ৬৫টি যাত্রী ও দূরপাল্লার ট্রেন মঙ্গলবার ও বুধবার বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশাখাপত্তনম বিমানবন্দর থেকেও ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের সব ফ্লাইট বাতিল রাখা হয়েছে। ওড়িশা, তেলঙ্গানা ও তামিলনাড়ু প্রশাসনও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ওড়িশার গঞ্জাম জেলায় ১১০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, চিলকা হ্রদে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্ধ্র থেকে মাছ ধরার জন্য যাওয়া ৩০টি নৌকা এখন গোপালপুর বন্দরে নোঙর করা হয়েছে। তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া বিভাগ। মঙ্গলবার কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। এ ছাড়া দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টি (৭-১১ সেন্টিমিটার) হতে পারে।

বুধবার হাওড়া, দুই চব্বিশ পরগনা, দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া শুক্রবারও বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনায় সতর্কতা জারি রয়েছে।