সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ১১:০৫:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩৬ জন দেখেছেন

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান থেকে তিনি গলায় ফাঁস নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সহপাঠীরা।

সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিংয়ের একটি বাসার জানালায় গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তানহা বিনতে বাশার নামের ওই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তানহা বিনতে বাশার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) বিবিএ বিভাগের চতুর্থ সেমিস্টারে পড়াশোনা করতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে নবীনগর হাউজিংয়ে একটি বাসায় তিনি সাবলেট থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচংয়ের কুসুমপুর গ্রামে।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ময়নাতদন্ত শেষে তানহা বিনতে বাশারের লাশ তার গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে সন্ধ্যায় তার লাশ দাফন করা হয়। এই ঘটনায় ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

জানা যায়, ইউল্যাবের সিএসই বিভাগের চতুর্থ সেমিস্টারের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে তানহার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি তাদের সেই সম্পর্কে চিড় ধরেছে। আর সেই অভিমান থেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি।

তানহার বান্ধবী তাসমিম আলম নাগর বলেন, তানহা প্রথমে ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো। সায়মন পড়তো ইউল্যাবে। পরে সায়মনের কথায় তানহাও ইউল্যাবে ভর্তি হয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সায়মন তানহার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে থাকেই অন্য আরেকজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছে। সেগুলো নিয়ে অভিযোগ করায় সায়মন তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

সায়মনের রুমমেট জালাল উদ্দিন রুমি বলেন, তানহা গত কয়েকদিন ধরে সায়মনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিল। তিনি সায়মনকে সেই কথাও বলেছেন। কিন্তু সায়মন তা করতে রাজি হয়নি। তানহার মৃত্যুর পর থেকে সায়মনের ফোন বন্ধ। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে তানহার বাবা মেয়ের লাশ নিতে এসে বলেন, সর্বশেষ সোমবার বিকেল ৪টার সময় মেয়ের সঙ্গে কথা হয় আমার। মেয়ে আমাকে বলেছে, তুমি আমাকে মাফ করে দিও। এরপর আর কোনো যোগাযোগ করতে পারিনি। আমার মেয়েটা চলে গেল। শুনেছি সায়মন নামের এক ছেলে তাকে মানসিক অত্যাচার করেছে। যেই দোষী হোক, আমি তার সুষ্ঠু বিচার চাই।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক জানান, ময়নাতদন্তের পর পরিবার তানহার লাশ নিয়ে গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। তবে কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত আমরা প্রেমের বিষয়ে কিছু জানতে পারিনি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বাকি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

89
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

আপডেট টাইম : ১১:০৫:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান থেকে তিনি গলায় ফাঁস নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সহপাঠীরা।

সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিংয়ের একটি বাসার জানালায় গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তানহা বিনতে বাশার নামের ওই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তানহা বিনতে বাশার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) বিবিএ বিভাগের চতুর্থ সেমিস্টারে পড়াশোনা করতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে নবীনগর হাউজিংয়ে একটি বাসায় তিনি সাবলেট থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচংয়ের কুসুমপুর গ্রামে।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ময়নাতদন্ত শেষে তানহা বিনতে বাশারের লাশ তার গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে সন্ধ্যায় তার লাশ দাফন করা হয়। এই ঘটনায় ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

জানা যায়, ইউল্যাবের সিএসই বিভাগের চতুর্থ সেমিস্টারের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে তানহার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি তাদের সেই সম্পর্কে চিড় ধরেছে। আর সেই অভিমান থেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি।

তানহার বান্ধবী তাসমিম আলম নাগর বলেন, তানহা প্রথমে ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো। সায়মন পড়তো ইউল্যাবে। পরে সায়মনের কথায় তানহাও ইউল্যাবে ভর্তি হয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সায়মন তানহার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে থাকেই অন্য আরেকজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছে। সেগুলো নিয়ে অভিযোগ করায় সায়মন তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

সায়মনের রুমমেট জালাল উদ্দিন রুমি বলেন, তানহা গত কয়েকদিন ধরে সায়মনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিল। তিনি সায়মনকে সেই কথাও বলেছেন। কিন্তু সায়মন তা করতে রাজি হয়নি। তানহার মৃত্যুর পর থেকে সায়মনের ফোন বন্ধ। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে তানহার বাবা মেয়ের লাশ নিতে এসে বলেন, সর্বশেষ সোমবার বিকেল ৪টার সময় মেয়ের সঙ্গে কথা হয় আমার। মেয়ে আমাকে বলেছে, তুমি আমাকে মাফ করে দিও। এরপর আর কোনো যোগাযোগ করতে পারিনি। আমার মেয়েটা চলে গেল। শুনেছি সায়মন নামের এক ছেলে তাকে মানসিক অত্যাচার করেছে। যেই দোষী হোক, আমি তার সুষ্ঠু বিচার চাই।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক জানান, ময়নাতদন্তের পর পরিবার তানহার লাশ নিয়ে গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। তবে কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত আমরা প্রেমের বিষয়ে কিছু জানতে পারিনি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বাকি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।