সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

অনতিবিলম্বে পে-স্কেল কার্যকরের দাবি কর্মচারীদের

পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচিতে ডাক কর্মচারীরা। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে ডাক অধিদপ্তরের কর্মচারীরা পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আজ অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

 

 

সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) ডাক ভবন, আগারগাঁও, ঢাকায় তারা অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ইউনুছ আলী সরকার।

 

 

ডাক অধিদপ্তরের কর্মচারী নেতা এবং বাংলাদেশ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদের কোষাধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেন বলেন, আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি একটি ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবিকে সামনে রেখে— পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি। এই দাবি কোনো বিলাসিতা নয়, এটি আমাদের অধিকার। দীর্ঘদিন ধরে আমরা নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আমাদের ওপর অর্পিত কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ১০ বছর অতিবাহিত হলেও সেই শ্রমের ন্যায্য মূল্য আমরা এখনো পাইনি। বর্তমান বাজারদর, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও পারিবারিক ব্যয়ের বাস্তবতায় বিদ্যমান বেতন কাঠামো দিয়ে সম্মানজনক জীবনযাপন করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সরকার ঘোষিত পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে শুধু কর্মচারীদের জীবনমান উন্নত হবে না, বরং কাজের প্রতি আগ্রহ, দক্ষতা ও দায়বদ্ধতাও বহুগুণে বাড়বে। তিনি বলেন, আমরা কোনো অযৌক্তিক দাবি করছি না। আমরা চাই— সরকার কর্তৃক ঘোষিত পে-স্কেল দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হোক, বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক এবং বকেয়া থাকলে তা যথাযথভাবে পরিশোধ করা হোক। আমরা বিশ্বাস করি, একটি সন্তুষ্ট কর্মীবাহিনীই একটি প্রতিষ্ঠানের শক্ত ভিত। তাই আমাদের এই ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন হলে রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও জনগণ— সবাই উপকৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারের কাছে জোরালোভাবে আহ্বান জানাচ্ছি— আমাদের দাবি বিবেচনা করুন, বাস্তবতার আলোকে সিদ্ধান্ত নিন এবং অবিলম্বে পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। অপরদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পে স্কেল বাস্তবায়ন করবে না। তার দেওয়া বক্তব্যটি অনতিবিলম্বে প্রত্যহারপূর্বক ৯ম পে-স্কেল আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পূর্বে ঘোষণা করতে হবে। তা না হলে কর্মচারীরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

 

কর্মসূচিটি সঞ্চালনা করেন ডাক অধিদপ্তরের ১৭-২০ গ্রেডের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল হোসেন।

 

ডাক অধিদপ্তরের আওতায় কেন্দ্রীয় সার্কেলের নেতা এবং বাংলাদেশ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদের সভাপতি আবু নাসির খান, মেট্রোপলিটন সার্কেলের নেতা রোকন উদ্দীন, ডাক জীবন বীমা, ঢাকার নেতা আরিফুর রহমান চৌধুরিও স্ব স্ব ইউনিটে পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য কর্মসূচি পালন করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- মো. সিদ্দিক হোসেন, মো. হারুনুর রশিদ, রাহীদুর রহমান রাহী, আ. রাজ্জাক, রেজাউর রহমান, মো. হান্নান, পাপ্পু বিশ্বাস, মো. আলামিন প্রমুখ।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

অনতিবিলম্বে পে-স্কেল কার্যকরের দাবি কর্মচারীদের

আপডেট টাইম : ১২:২৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে ডাক অধিদপ্তরের কর্মচারীরা পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আজ অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

 

 

সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) ডাক ভবন, আগারগাঁও, ঢাকায় তারা অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ইউনুছ আলী সরকার।

 

 

ডাক অধিদপ্তরের কর্মচারী নেতা এবং বাংলাদেশ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদের কোষাধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেন বলেন, আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি একটি ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবিকে সামনে রেখে— পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি। এই দাবি কোনো বিলাসিতা নয়, এটি আমাদের অধিকার। দীর্ঘদিন ধরে আমরা নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আমাদের ওপর অর্পিত কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ১০ বছর অতিবাহিত হলেও সেই শ্রমের ন্যায্য মূল্য আমরা এখনো পাইনি। বর্তমান বাজারদর, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও পারিবারিক ব্যয়ের বাস্তবতায় বিদ্যমান বেতন কাঠামো দিয়ে সম্মানজনক জীবনযাপন করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সরকার ঘোষিত পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে শুধু কর্মচারীদের জীবনমান উন্নত হবে না, বরং কাজের প্রতি আগ্রহ, দক্ষতা ও দায়বদ্ধতাও বহুগুণে বাড়বে। তিনি বলেন, আমরা কোনো অযৌক্তিক দাবি করছি না। আমরা চাই— সরকার কর্তৃক ঘোষিত পে-স্কেল দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হোক, বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক এবং বকেয়া থাকলে তা যথাযথভাবে পরিশোধ করা হোক। আমরা বিশ্বাস করি, একটি সন্তুষ্ট কর্মীবাহিনীই একটি প্রতিষ্ঠানের শক্ত ভিত। তাই আমাদের এই ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন হলে রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও জনগণ— সবাই উপকৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারের কাছে জোরালোভাবে আহ্বান জানাচ্ছি— আমাদের দাবি বিবেচনা করুন, বাস্তবতার আলোকে সিদ্ধান্ত নিন এবং অবিলম্বে পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। অপরদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পে স্কেল বাস্তবায়ন করবে না। তার দেওয়া বক্তব্যটি অনতিবিলম্বে প্রত্যহারপূর্বক ৯ম পে-স্কেল আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পূর্বে ঘোষণা করতে হবে। তা না হলে কর্মচারীরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

 

কর্মসূচিটি সঞ্চালনা করেন ডাক অধিদপ্তরের ১৭-২০ গ্রেডের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল হোসেন।

 

ডাক অধিদপ্তরের আওতায় কেন্দ্রীয় সার্কেলের নেতা এবং বাংলাদেশ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদের সভাপতি আবু নাসির খান, মেট্রোপলিটন সার্কেলের নেতা রোকন উদ্দীন, ডাক জীবন বীমা, ঢাকার নেতা আরিফুর রহমান চৌধুরিও স্ব স্ব ইউনিটে পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য কর্মসূচি পালন করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- মো. সিদ্দিক হোসেন, মো. হারুনুর রশিদ, রাহীদুর রহমান রাহী, আ. রাজ্জাক, রেজাউর রহমান, মো. হান্নান, পাপ্পু বিশ্বাস, মো. আলামিন প্রমুখ।