সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

আগুনে দগ্ধ হয়ে গৃহবধূর করুণ মৃত্যু

নওগাঁর রাণীনগরে আগুনে দগ্ধ হল বাসন্তী রানী (২৫) নামে এক গৃহবধূ।সোমবার দুপুরে উপজেলার হরিপুর গ্রামে শ্বশুর বাড়ি থেকে গৃহবধূর লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ ।
মৃত বাসন্তী রানী হরিপুর গ্রামের প্রবাসী উৎপল চন্দ্রের স্ত্রী। গৃহবধূ বাসন্তীর মৃত্যু ঘিরে নানা গুঞ্জন ও জল্পনা কল্পনা চলছে। বাসন্তী রানীর স্বজনদের দাবি- তাকে হত্যার পর আগুনে পুড়ে দগ্ধ করা হয়েছে।
বাসন্তী রানীর শ্বশুর কৃষ্ণবন্ধু ওরফে মুন্টু জানান, সোমবার সকালে মাঠের মধ্যে ক্ষেতে আলু তোলার জন্য আমরা সবাই চলে যাই। বাড়িতে শুধুমাত্র বউমা (বাসন্তী) একাই ছিল। বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে আলু রাখার জন্য বস্তা নিয়ে আসার কথা বলার জন্য বউমার ফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও কোন সারা পাওয়া যায়নি। ফলে মাঠ থেকে বাড়িতে এসে দেখতে পান চুলার পারে বউমার শরীর আগুনে জলছে। এ সময় প্রতিবেশীদের ডাক দিলে তারা দৌঁড়ে ছুটে আসে। কিন্তু ততক্ষনে বউমার শরীর পুরোটা আগুনে পুড়ে দগ্ধ হয়ে ঝলসে গেছে। তিনি ধারণা করে বলেন, হয়তো চুলায় খড়ি দিয়ে ভাত গরম করার সময় আগুন ধরে পুড়ে মারা গেছে।
বাসন্তীর ছোট বোন লক্ষী রানী বলেন, কয়েক মাস আগে বাসন্তীর শ্বাশুড়ী মারা গেছেন। মাত্র তিন বছরের এক কণ্যা শিশু নিয়ে শ্বশুরের সাথে বাড়িতে থাকতেন বাসন্তী। তার স্বামী উৎপল কুয়েতে থাকেন। তার সাথে পারিবারিক নানান বিষয় নিয়ে বনি-বনা হচ্ছিলনা। প্রায় মোবাইল ফোনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব হতো। তাই অতিষ্ঠ হয়ে রোববার মোবাইল ফোনে জানিয়েছিলেন বাবার বাড়িতে নিয়ে যাবার কথা। অথচ আজ তার লাশ দেখছি।
বাসন্তীর মামা গোপেস চন্দ্র বলেন, আমার ভাগনী আগুনে পুড়ে মারা যায়নি। তাকে হয়তো হত্যার পর আগুনে পোড়ানো হয়েছে। তিনি দাবি করে বলেন, মানুষের শরীরে আগুন ধরলে নানান ভাবে বাঁচার চেষ্টা করে। অথচ যেভাবে লাশ আগুনে দগ্ধ হয়ে পরে আছে তাতে বাঁচার জন্য বিন্দু মাত্র চেষ্টা করা বা ছটফট করার কোন আলামত দেখা যাচ্ছেনা। তাই বিষয়টি ভাল করে ক্ষতিয়ে দেখতে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনাটি উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রাণীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বাবলু চন্দ্র পাল জানান, আগুনে দগ্ধ হয়ে পোড়া বাসন্তীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা জানতে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রির্পোট হাতে আসলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি আরও ভাল করে সুষ্ঠু তদন্ত করা হচ্ছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

আগুনে দগ্ধ হয়ে গৃহবধূর করুণ মৃত্যু

আপডেট টাইম : ০৮:২০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
নওগাঁর রাণীনগরে আগুনে দগ্ধ হল বাসন্তী রানী (২৫) নামে এক গৃহবধূ।সোমবার দুপুরে উপজেলার হরিপুর গ্রামে শ্বশুর বাড়ি থেকে গৃহবধূর লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ ।
মৃত বাসন্তী রানী হরিপুর গ্রামের প্রবাসী উৎপল চন্দ্রের স্ত্রী। গৃহবধূ বাসন্তীর মৃত্যু ঘিরে নানা গুঞ্জন ও জল্পনা কল্পনা চলছে। বাসন্তী রানীর স্বজনদের দাবি- তাকে হত্যার পর আগুনে পুড়ে দগ্ধ করা হয়েছে।
বাসন্তী রানীর শ্বশুর কৃষ্ণবন্ধু ওরফে মুন্টু জানান, সোমবার সকালে মাঠের মধ্যে ক্ষেতে আলু তোলার জন্য আমরা সবাই চলে যাই। বাড়িতে শুধুমাত্র বউমা (বাসন্তী) একাই ছিল। বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে আলু রাখার জন্য বস্তা নিয়ে আসার কথা বলার জন্য বউমার ফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও কোন সারা পাওয়া যায়নি। ফলে মাঠ থেকে বাড়িতে এসে দেখতে পান চুলার পারে বউমার শরীর আগুনে জলছে। এ সময় প্রতিবেশীদের ডাক দিলে তারা দৌঁড়ে ছুটে আসে। কিন্তু ততক্ষনে বউমার শরীর পুরোটা আগুনে পুড়ে দগ্ধ হয়ে ঝলসে গেছে। তিনি ধারণা করে বলেন, হয়তো চুলায় খড়ি দিয়ে ভাত গরম করার সময় আগুন ধরে পুড়ে মারা গেছে।
বাসন্তীর ছোট বোন লক্ষী রানী বলেন, কয়েক মাস আগে বাসন্তীর শ্বাশুড়ী মারা গেছেন। মাত্র তিন বছরের এক কণ্যা শিশু নিয়ে শ্বশুরের সাথে বাড়িতে থাকতেন বাসন্তী। তার স্বামী উৎপল কুয়েতে থাকেন। তার সাথে পারিবারিক নানান বিষয় নিয়ে বনি-বনা হচ্ছিলনা। প্রায় মোবাইল ফোনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব হতো। তাই অতিষ্ঠ হয়ে রোববার মোবাইল ফোনে জানিয়েছিলেন বাবার বাড়িতে নিয়ে যাবার কথা। অথচ আজ তার লাশ দেখছি।
বাসন্তীর মামা গোপেস চন্দ্র বলেন, আমার ভাগনী আগুনে পুড়ে মারা যায়নি। তাকে হয়তো হত্যার পর আগুনে পোড়ানো হয়েছে। তিনি দাবি করে বলেন, মানুষের শরীরে আগুন ধরলে নানান ভাবে বাঁচার চেষ্টা করে। অথচ যেভাবে লাশ আগুনে দগ্ধ হয়ে পরে আছে তাতে বাঁচার জন্য বিন্দু মাত্র চেষ্টা করা বা ছটফট করার কোন আলামত দেখা যাচ্ছেনা। তাই বিষয়টি ভাল করে ক্ষতিয়ে দেখতে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনাটি উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রাণীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বাবলু চন্দ্র পাল জানান, আগুনে দগ্ধ হয়ে পোড়া বাসন্তীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা জানতে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রির্পোট হাতে আসলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি আরও ভাল করে সুষ্ঠু তদন্ত করা হচ্ছে।