সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জয়শঙ্করের ঢাকা সফরকে রাজনৈতিকভাবে না দেখার আহ্বান পররাষ্ট্র উপদেষ্টার

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফরকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখার কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। একই সঙ্গে তার সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে চলমান টানাপোড়েন কমবে কি না, তার উত্তর আগামীতে খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন উপদেষ্টা।

 

 

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

 

 

এর আগে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর ও পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক।

 

এ ছাড়া ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ডুঙ্গেল, মালদ্বীপের মন্ত্রী ড. আলি হায়দার আহমেদ, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথও ঢাকা সফর ক‌রে‌ছেন।

উপদেষ্টা তৌ‌হিদ হোসেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের প্রতিনিধি এসেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এসেছেন। তার সফর সংক্ষিপ্ত ছিল। কিন্তু তিনি পুরো অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণ করেছেন। তারপর চলে গেছেন। এটা একটা ভালো জেসচার, এ পর্যন্তই। এর চেয়ে বেশি কিছু খুঁজতে না যাওয়াই ভালো। এই সফর‌কে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখাই ভা‌লো।

 

জয়শঙ্করের সঙ্গে একান্ত বৈঠক হয়নি জানিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমাদের মধ্যে ওয়ান টু ওয়ান কথাবার্তা হয়নি। সে রকম সুযোগও সৃষ্টি হয়নি। বিদেশি অন্য অতিথিরাও ছিলেন। পাকিস্তানের স্পিকার ছিলেন, তার সঙ্গেও তিনি (জয়শঙ্কর) হাত মিলিয়েছেন। এটা কার্টেসি, যেটা সবাই মেনে চলে।

 

 

তি‌নি বলেন, তার সঙ্গে আমার যেটুকু কথা হয়েছে, সেখানে রাজনীতি ছিল না। একেবারেই সৌজন্যবোধ, অন্য সবার সামনে, ফলে দ্বিপাক্ষিক ইস্যু আলোচনার সুযোগ ছিল না।

 

 

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর দুই দেশের উত্তেজনা প্রশমন করবে কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এর উত্তর আপনাদের আগামীতেই খুঁজতে হবে।

 

 

তি‌নি বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশ তো বটেই, প্রতিবেশী দেশগুলোতেও তার একধরনের পজিটিভ ইমেজ আছে। তিনি যে অবস্থানে নিজেকে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন আপনারা তা জানেন। দেশের মানুষের মধ্যে দলমত-নির্বিশেষে তার একধরনের গ্রহণযোগ্যতা ও শ্রদ্ধা সম্মান আছে।

 

 

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটা দক্ষিণ এশিয়ার সবাই স্বীকৃ‌তি দেয়। তার জানাজায় সবাই অংশ নেবেন, এটাই স্বাভাবিক। এটাকে আমরা সেভাবেই দেখি।

93
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জয়শঙ্করের ঢাকা সফরকে রাজনৈতিকভাবে না দেখার আহ্বান পররাষ্ট্র উপদেষ্টার

আপডেট টাইম : ০৭:১০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফরকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখার কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। একই সঙ্গে তার সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে চলমান টানাপোড়েন কমবে কি না, তার উত্তর আগামীতে খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন উপদেষ্টা।

 

 

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

 

 

এর আগে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর ও পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক।

 

এ ছাড়া ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ডুঙ্গেল, মালদ্বীপের মন্ত্রী ড. আলি হায়দার আহমেদ, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথও ঢাকা সফর ক‌রে‌ছেন।

উপদেষ্টা তৌ‌হিদ হোসেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের প্রতিনিধি এসেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এসেছেন। তার সফর সংক্ষিপ্ত ছিল। কিন্তু তিনি পুরো অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণ করেছেন। তারপর চলে গেছেন। এটা একটা ভালো জেসচার, এ পর্যন্তই। এর চেয়ে বেশি কিছু খুঁজতে না যাওয়াই ভালো। এই সফর‌কে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখাই ভা‌লো।

 

জয়শঙ্করের সঙ্গে একান্ত বৈঠক হয়নি জানিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমাদের মধ্যে ওয়ান টু ওয়ান কথাবার্তা হয়নি। সে রকম সুযোগও সৃষ্টি হয়নি। বিদেশি অন্য অতিথিরাও ছিলেন। পাকিস্তানের স্পিকার ছিলেন, তার সঙ্গেও তিনি (জয়শঙ্কর) হাত মিলিয়েছেন। এটা কার্টেসি, যেটা সবাই মেনে চলে।

 

 

তি‌নি বলেন, তার সঙ্গে আমার যেটুকু কথা হয়েছে, সেখানে রাজনীতি ছিল না। একেবারেই সৌজন্যবোধ, অন্য সবার সামনে, ফলে দ্বিপাক্ষিক ইস্যু আলোচনার সুযোগ ছিল না।

 

 

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর দুই দেশের উত্তেজনা প্রশমন করবে কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এর উত্তর আপনাদের আগামীতেই খুঁজতে হবে।

 

 

তি‌নি বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশ তো বটেই, প্রতিবেশী দেশগুলোতেও তার একধরনের পজিটিভ ইমেজ আছে। তিনি যে অবস্থানে নিজেকে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন আপনারা তা জানেন। দেশের মানুষের মধ্যে দলমত-নির্বিশেষে তার একধরনের গ্রহণযোগ্যতা ও শ্রদ্ধা সম্মান আছে।

 

 

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটা দক্ষিণ এশিয়ার সবাই স্বীকৃ‌তি দেয়। তার জানাজায় সবাই অংশ নেবেন, এটাই স্বাভাবিক। এটাকে আমরা সেভাবেই দেখি।