শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবায় মৃত ব্যক্তির নামে ওসিয়তনামা দলিল সৃজন করে জমি দাবি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ইউনুছ ঢালী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চাচাতো ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। জমিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ অবস্থায় আইনি সহযোগিতা চেয়েছেন তাঁরা।
মৃত খালেক ঢালীর ওয়ারিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাওডোবা ইউনিয়নের কলম ঢালী কান্দি এলাকার বাসিন্দা কালু ঢালীর ছেলে আব্দুল খালেক ঢালী ১৯৩৭ সালের ১২ মে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুর প্রায় দুই মাস পর, একই বছরের ২৯ ডিসেম্বর ইউনুছ ঢালীর নামে একটি ওসিয়তনামা দলিল সম্পাদনের দাবি করা হয়। ওই দলিলের ভিত্তিতে খালেক ঢালীর ওয়ারিশদের কাছে জমি দাবি করে আসছেন ইউনুছ ঢালী।
খালেক ঢালীর নাতি ফরিদ ঢালী অভিযোগ করে বলেন, তাঁর দাদা কালু ঢালীর ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি তাঁর বাবা আব্দুল খালেক ঢালী জীবদ্দশায় ভোগদখল করেছেন। তাঁর বাবার মৃত্যুর পরও তাঁরা পৈতৃক সম্পত্তিতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। অথচ বাবার মৃত্যুর ১২ বছর পর ইউনুছ ঢালী দাবি করছেন, তাঁর বাবা নাকি জমি লিখে দিয়েছেন। এ দাবিতে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করা হয়েছে।
ফরিদ ঢালী আরও বলেন, ইউনুছ ঢালী যে জমির দাবি করছেন, সেই জমির নামজারি ও হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর তাঁরা নিয়মিত পরিশোধ করছেন। মামলায় উল্লেখ করা দলিলের তারিখও তাঁর বাবার মৃত্যুর দুই মাস পরের। এ ছাড়া তাঁদের নির্মাণাধীন স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আদালত তাঁদের পক্ষে রায় দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। বর্তমানে জমিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে এবং নির্মাণসামগ্রী নষ্ট হয়ে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে ইউনুছ ঢালী বলেন, তাঁর কাগজপত্র সঠিক রয়েছে। প্রথম মামলায় আইনজীবীর গাফিলতির কারণে ফরিদ ঢালীর পক্ষে রায় হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তিনি আরেকটি মামলা করেছেন। ফরিদ ঢালীও পাল্টা মামলা করেছেন। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন।
ইউনুছ ঢালীর জামাতা চুন্নু ঢালী বলেন, ফরিদ ঢালী ও ইউনুছ ঢালী চাচাতো ভাই। তাঁদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল। কোনো ভুল-বোঝাবুঝি থাকলে দুই পক্ষকে একসঙ্গে বসিয়ে সমাধান করা সম্ভব। তিনি মনে করেন, স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে পারিবারিক সম্পর্ক বজায় থাকবে।
এ বিষয়ে পদ্মা দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সালাম বলেন, ফরিদ ঢালী ও ইউনুছ ঢালীর মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে মামলা রয়েছে। মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে।
জনতার কণ্ঠ / কেএম

শরিয়তপুর প্রতিনিধি | জনতার কণ্ঠ 




















