সিরাজগঞ্জ , মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হোসেনপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, চিকিৎসায় প্রস্তুত হাসপাতাল Logo টেন্ডার ছাড়াই ভবন নির্মাণ শুরু চেয়ারম্যানের, বন্ধ করলেন ইউএনও Logo ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেব’, বিএনপি নেতাকে হুঁশিয়ারি স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতির Logo নওগাঁ কারা হেফাজতে থাকা বগুড়ার আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু Logo ডেঙ্গুতে নতুন করে ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ১০ জন Logo থাপ্পড়কাণ্ডে শাহজালাল রুমিকে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ Logo জাজিরায় মৃত্যুর দুই মাস পরের দলিলে জমি দাবি, বিরোধে দুই পক্ষ Logo ৭ নভেম্বর ৬ ঘণ্টার জন্য টোল ফ্রি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে Logo সৌদি আরবে হামলা:পিছিয়েই গেল এশিয়ান কাপ Logo জাজিরার নাওডোবায় মৃত ব্যক্তির নামে দলিল সৃজনের অভিযোগ

বিপর্যয়ের মধ্যে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ

চলতি বছর এইসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে কারিগরি শাখায় সারাদেশে চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ।

 

 

 

 

এ বছর প্রতিষ্ঠানটির এইসএসসি বিএমটি শাখা থেকে ১৭১ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। দেশব্যাপী চরম বিপর্যয়ের মধ্যে ৩০ জন পাস করেছে।

 

 

 

 

ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি গত ১২ বছর ধরে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে চলেছে।

 

 

 

 

এর মধ্যে ২০২০ সালে এইচএসসি বিএমটি শাখায় শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করে। এছাড়াও ২০২৩ সালে পাসের হার ছিলো ৯৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ওই বছর এসএসসি ভোকেশনাল শাখায় পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

 

 

 

 

প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল বিশ্লেষণে জানা যায়, এইচএসসি বিএমটি শাখায় ২০১৪ সালে ১২৮ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করে ১০৮ জন। পাসের হার ছিল ৮৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ২০১৫ সালে ১৩৪ জনের মধ্যে পাস করে ১১৩ জন, ৮৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। ২০১৬ সালে ১৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ১৩৮ জন, পাসের হার ৯২ শতাংশ। ২০১৭ সালে ১২৫ জনের মধ্যে পাস করে ১১৫ জন, পাসের হার ৯২ শতাংশ। ২০১৮ সালে ১৫১ জনের মধ্যে ১০২ জন পাস করেছে, পাসের হার ৬৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ২০১৯ সালে ১৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬৪ জন পাস করেছে, পাসের হার ৯১ দশমিক ৬২ শতাংশ। ২০২০ সালে ২১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগই পাস করে। ২০২১ সালে ১৭৬ জনের মধ্যে ১৭০ জন পাস করে, পাসের হার ৯৬.৫৯ শতাংশ, ২০২২ সালে ১৮৩ জনের মধ্যে ১৭৫ জন পাস করে পাসের হার ৯৫.৬২ শতাংশ, ২০২৩ সালে ২২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২১৯ জন পাস করে, পাসের হার ছিল ৯৭.৭৭ শতাংশ, ২০২৪ সালে ১৮৮ জনের মধ্যে ১৬৬ জন পাস করে, পাসের হার ৮৮.২৯ শতাংশ, ২০২৫ সালে ১৭৯ জনের মধ্যে ১৫২ জন পাস করে, পাসের হার ৮৫ শতাংশ।

 

 

 

 

 

চলতি বছর দেশব্যাপীই ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। সারাদেশে পাশের হার বিগত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই অবস্থাতে ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজে থেকে ১৭১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩০ জন পাস করে। পাসের হার ছিল ১৮ শতাংশ।

 

 

 

 

এছাড়াও কলেজটির এসএসসি ভোকেশনাল শাখায় ২০১৪ সালে ৮৩.০৭ শতাংশ, ২০২৫ সালে ৭৩.৯১,শতাংশ ২০১৬ সালে ৬৮.১০ শতাংশ ২০১৭ সালে ৮৪.৪২ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৮৩.৮৯ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৬৪.৯৭ শতাংশ, ২০২০ সালে ৮৮.৭১ শতাংশ, ২০২১ সালে ৯২.৯৭ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮৬.৫৮ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৯৫.৯৩ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮১.৯৭ শতাংশ ও ২০২৫ সালে ৮২.১১ শতাংশ।

 

 

 

 

জানা যায়, কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সন্তানদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০০২ সালে ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানলগ্ন থেকেই কলেজটির অধ্যক্ষ মো. শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল নবীন উদ্যমী শিক্ষকের নিরলস পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে যেতে থাকে। এ অবস্থায় ২০০৪ সালে কলেজের কারিগরি বিএমটি শাখা এমপিওভুক্ত হয় এবং ২০১০ সালে স্কুল শাখাও এমপিওভুক্ত হয়। ২০১৩ সালে কলেজে বানিজ্য বিভাগ খোলা হলেও অদ্যাবধি এমপিওভুক্ত হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব অর্থায়নে বানিজ্য শাখা পরিচালিত হচ্ছে।

 

 

 

 

কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় অভিভাবকেরা জানান, প্রতিষ্ঠার দুই যুগ পার হলেও প্রতিষ্ঠনটিতে এখনো কোন পাকা ভবন নেই। টিনের ঘরের মধ্যেই ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে কলেজটির কোন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়নি। বিএনপি নেতা প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার কারণেই তৎকালিন সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের প্রতিহিংসার কারণে এখন পর্যন্ত ভবন হয়নি।

 

 

 

 

 

কলেজের অধ্যক্ষ মো. শরীফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু ভবন না থাকায় টিনের ঘরে কষ্ট করেই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তারপরও শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টায় প্রতি বছরই ভালো রেজাল্ট করছে শিক্ষার্থীরা।

 

 

জনতার কণ্ঠ/জেডএইচ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হোসেনপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, চিকিৎসায় প্রস্তুত হাসপাতাল

বিপর্যয়ের মধ্যে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ

আপডেট টাইম : ০১:১৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

চলতি বছর এইসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে কারিগরি শাখায় সারাদেশে চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ।

 

 

 

 

এ বছর প্রতিষ্ঠানটির এইসএসসি বিএমটি শাখা থেকে ১৭১ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। দেশব্যাপী চরম বিপর্যয়ের মধ্যে ৩০ জন পাস করেছে।

 

 

 

 

ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি গত ১২ বছর ধরে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে চলেছে।

 

 

 

 

এর মধ্যে ২০২০ সালে এইচএসসি বিএমটি শাখায় শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করে। এছাড়াও ২০২৩ সালে পাসের হার ছিলো ৯৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ওই বছর এসএসসি ভোকেশনাল শাখায় পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

 

 

 

 

প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল বিশ্লেষণে জানা যায়, এইচএসসি বিএমটি শাখায় ২০১৪ সালে ১২৮ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করে ১০৮ জন। পাসের হার ছিল ৮৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ২০১৫ সালে ১৩৪ জনের মধ্যে পাস করে ১১৩ জন, ৮৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। ২০১৬ সালে ১৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ১৩৮ জন, পাসের হার ৯২ শতাংশ। ২০১৭ সালে ১২৫ জনের মধ্যে পাস করে ১১৫ জন, পাসের হার ৯২ শতাংশ। ২০১৮ সালে ১৫১ জনের মধ্যে ১০২ জন পাস করেছে, পাসের হার ৬৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ২০১৯ সালে ১৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬৪ জন পাস করেছে, পাসের হার ৯১ দশমিক ৬২ শতাংশ। ২০২০ সালে ২১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগই পাস করে। ২০২১ সালে ১৭৬ জনের মধ্যে ১৭০ জন পাস করে, পাসের হার ৯৬.৫৯ শতাংশ, ২০২২ সালে ১৮৩ জনের মধ্যে ১৭৫ জন পাস করে পাসের হার ৯৫.৬২ শতাংশ, ২০২৩ সালে ২২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২১৯ জন পাস করে, পাসের হার ছিল ৯৭.৭৭ শতাংশ, ২০২৪ সালে ১৮৮ জনের মধ্যে ১৬৬ জন পাস করে, পাসের হার ৮৮.২৯ শতাংশ, ২০২৫ সালে ১৭৯ জনের মধ্যে ১৫২ জন পাস করে, পাসের হার ৮৫ শতাংশ।

 

 

 

 

 

চলতি বছর দেশব্যাপীই ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। সারাদেশে পাশের হার বিগত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই অবস্থাতে ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজে থেকে ১৭১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩০ জন পাস করে। পাসের হার ছিল ১৮ শতাংশ।

 

 

 

 

এছাড়াও কলেজটির এসএসসি ভোকেশনাল শাখায় ২০১৪ সালে ৮৩.০৭ শতাংশ, ২০২৫ সালে ৭৩.৯১,শতাংশ ২০১৬ সালে ৬৮.১০ শতাংশ ২০১৭ সালে ৮৪.৪২ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৮৩.৮৯ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৬৪.৯৭ শতাংশ, ২০২০ সালে ৮৮.৭১ শতাংশ, ২০২১ সালে ৯২.৯৭ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮৬.৫৮ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৯৫.৯৩ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮১.৯৭ শতাংশ ও ২০২৫ সালে ৮২.১১ শতাংশ।

 

 

 

 

জানা যায়, কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সন্তানদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০০২ সালে ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানলগ্ন থেকেই কলেজটির অধ্যক্ষ মো. শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল নবীন উদ্যমী শিক্ষকের নিরলস পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে যেতে থাকে। এ অবস্থায় ২০০৪ সালে কলেজের কারিগরি বিএমটি শাখা এমপিওভুক্ত হয় এবং ২০১০ সালে স্কুল শাখাও এমপিওভুক্ত হয়। ২০১৩ সালে কলেজে বানিজ্য বিভাগ খোলা হলেও অদ্যাবধি এমপিওভুক্ত হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব অর্থায়নে বানিজ্য শাখা পরিচালিত হচ্ছে।

 

 

 

 

কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় অভিভাবকেরা জানান, প্রতিষ্ঠার দুই যুগ পার হলেও প্রতিষ্ঠনটিতে এখনো কোন পাকা ভবন নেই। টিনের ঘরের মধ্যেই ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে কলেজটির কোন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়নি। বিএনপি নেতা প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার কারণেই তৎকালিন সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের প্রতিহিংসার কারণে এখন পর্যন্ত ভবন হয়নি।

 

 

 

 

 

কলেজের অধ্যক্ষ মো. শরীফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু ভবন না থাকায় টিনের ঘরে কষ্ট করেই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তারপরও শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টায় প্রতি বছরই ভালো রেজাল্ট করছে শিক্ষার্থীরা।

 

 

জনতার কণ্ঠ/জেডএইচ