নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
সিরাজগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সব দলের ঐক্য চান, তিনি বাংলাদেশের ঐক্য চান। তিনি ৩১ দফার আলোকে প্রত্যেকটা দলকে সাথে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করতে চান। অতএব আসুন আমরা নিজেদের মধ্যে দেশের মধ্যে ঐক্য বিনষ্ট না করি, সমাজের ঐক্য বিনষ্ট না করি। ঐক্যের কোন বিকল্প নাই।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে শহরের সয়াধানগড়া উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার প্রচারে আয়োজিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা মোস্তফা জামান বলেন, দেশ আজ গভীর ষড়যন্ত্রের মধ্যে রয়েছে। যে কোন সময় আবার গণতন্ত্র ভুলন্ঠিত হতে পারে। বিগত ১৬ বছর আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার, মানবাধিকার ও বিচার অধিকারের জন্য অনেকেই খুন হয়েছেন, গুম হয়েছেন, জেল খেটেছেন, বাড়ীঘর ছাড়া হয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দী থেকে গৃহবন্দী আজকে তিনি মৃত্যুশয্যায়। আমরা তিনটি বার ভোট দিতে যেয়ে আমরা পারিনি। আমরা নিরপেক্ষ যে নির্বাচন করতে চেয়েছি সে নির্বাচন হয়নি। এক তরফা নির্বাচন হয়ে ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে। গণতন্ত্র যদি না থাকে মানুষের ভোটাধিকারের প্রয়োগের ব্যবস্থা যদি না থাকে তাহলে একটি দল স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ হয়ে যায়। শেখ হাসিনার দল তাই হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছে কিসের জন্য? ভোটাধিকারের জন্য, মানবাধিকারের জন্য, বিচারের অধিকারের জন্য, নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। আমাদের ভেতরে যে ঐক্য সেটা রক্ষা জরুরী ছিল। কিন্তু দেশী বিদেশীয় চক্রান্তে আমাদের ঐক্যের ফাটল ধরেছে। আমরা সেটাই লক্ষ্য করছি।
আওয়ামী লীগের দোসররা রন্ধে রন্ধে রয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে কুটচাল চালাচ্ছে। আমরা যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন করেছি, তারা অনৈক্যের কারণে আর একটি অশনি সংকেতের মধ্যে রয়েছে।
পিআরের আলোচনা থেকে মনে হয় কোন ষড়যন্ত্রের গন্ধ রয়েছে। আজকে সব দল জুলাই সনদে সম্মতি দিয়েছে। কিন্তু আজকে হঠাৎ করেই দেখলাম জুলাই যোদ্ধাদের ভুল বুঝিয়ে তাদেরকে দিয়ে ঢাকা শহরে মারামারি-হানাহানি শুরু করেছে। এ থেকেই প্রমাণ হয় না, দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র চলছে।
আগামী ২৬ সালে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধের নির্বাচন নিয়ে আমরা শঙ্কিত। জনগণের অধিকারের জন্য যে আন্দোলন ১৬ বছর হয়েছে, জন্য ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে। সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতেই হবে এর কোন বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, তারেক রহমান রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রুপরেখা দিয়েছেন। আমরা যে জন্য আন্দোলন করেছি, সবকিছু রয়েছে এই ৩১ দফার মধ্যে। এটা বাস্তবায়ন করতে হলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়া দরকার। যদি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চান, তবে অবশ্যই তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরীক হতে হবে। ৩১ দফার মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। ফ্যামিলী কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড দিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র প্রবীণ নেতা গোলাম রহিম খানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা নিয়ামুল হাকিম সাজু, জেলা বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক জিন্নাহ সরদার, জেলা ড্যাব এর সদস্য ডাঃ আব্দুল আজিজ, উপজেলা বিএনপি নেতা আবু কায়েস ভূইয়া কর্নেল, ফরহাদ হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত হাসান সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাইবুল হাসান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সোহেল রানা হামিদ, পৌর জাসাস এর সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শাওন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সোহাগ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আরিফ, মহিলা দলের নেত্রী কলি।

রিপোর্টার: 



















