সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

দুই সন্তানের মাকে নিয়ে উধাও চার সন্তানের জনক মসজিদের ইমাম

দুই সন্তানের মাকে নিয়ে উধাও চার সন্তানের জনক মসজিদের ইমাম

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে দুই সন্তানের জননীকে নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন চার সন্তানের জনত ইমরান হোসেন নূরী নামে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম।

 

 

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিষয়টি স্থানীয়দের মাঝে জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে গত ১৩ এপ্রিল উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

 

 

এলাকাবাসী, অভিযুক্ত ইমাম ও ওই নারীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাশঁবাড়িয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমামতির পাশাপাশি একই গ্রামে ‘মিফতাহুল উলুম কওমিয়া হাফিজিয়া ক্যাডেট মাদ্রাসা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন হাফেজ ইমরান হোসেন নূরী (৩৭)। ইমরানের ছোট ছোট তিন কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে।

 

 

মাদ্রাসার পাশেই রয়েছে রানা সেখের বাড়ি। রানা তার স্ত্রী ইসমত আরা (৩৮) ও তার ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন। তাদের একটি কন্যা সন্তান আছে, যার বিয়ে হয়ে গেছে। মাদ্রাসায় আসা যাওয়ার সুবাদে প্রায় সময়ই রানা সেখের বাড়িতে সময় কাটান ইমরান। ইমাম ইমরান ইসমত আরাকে শাশুড়ি বলে ডাকতেন। এক পর্যায়ে রানা সেখের স্ত্রী ইসমত আরা এবং ইমাম ইমরানের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় বছর তিনেক ধরে প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা ইমরানকে একাধিকবার রানা সেখের বাড়ি যেতে নিষেধ করলেও বারণ শুনেননি ইমরান।

 

 

এক পর্যায়ে মাস দেড়েক আগে ঋণগ্রস্ত হওয়ায় স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে গাজীপুরে পারি জমান রানা সেখ। পরে ইসমত আরার সঙ্গে যোগসাজশে গাজীপুরের মৌচাকে চলে যান ইমরান। সেখানে ভাড়া বাসায় ১০ এপ্রিল রাতে ইসমত আরা ও ইমরানকে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ধরে ফেলেন রানা সেখ। সেখানে মান সম্মানের ভয়ে ইমরানকে ছেড়ে দিয়ে ইসমত আরাকে তার বাবার বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদের মোহনপুর এলাকায় রেখে যান রানা সেখ। সর্বশেষ বাবার বাড়ি থেকে গত ১৩ এপ্রিল রাতে দুই সন্তানের জননী ইসমত আরাকে নিয়ে পালিয়ে যান চার সন্তানের জনক হাফেজ ইমরান হোসেন নূরী (৩৭)। তারপর থেকে তাদের আর কোন খোঁজ মেলেনি।

 

 

এদিকে হাফেজ সন্তানের খোঁজ না পেয়ে চার নাতি ও পুত্রবধূকে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ইমরানের বাবা দুলাল সেখ। বুধবার দুপুরে ইমরানের বাড়িতে গেলে কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ দুলাল সেখ। তিনি জানান, ছেলেকে অনেক কষ্টে হাফেজ বানিয়েছি। এলাকায় তার বেশ সুনাম রয়েছে। কিন্তু ছেলে যে এমন কাজ করতে পারে ভাবতেই পারিনি। মান সম্মান সব শেষ হয়ে গেছে। শুধু তাই নয় তার স্ত্রী, ছোট ছোট তিনটি কন্যা ও একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। আমি বৃদ্ধ মানুষ কোনো আয় রোজগার করতে পারি না। তাদের ভরণ পোষণ কীভাবে করবো, সেই চিন্তায় আমি দিনে দিনে অসুস্থ হয়ে পড়ছি।

 

 

রানা সেখের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। কথা হয় ইসমত আরার জা ফুলু মালার সঙ্গে। তিনি জানান, আমরা বিষয়টি টের পেয়ে ইসমত আরাকে অনেক বুঝিয়েছি এবং হুজুরকে ইসমত আরার বাড়িতে আসতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু তারা কেউ মানেনি।

 

 

রানা সেখের প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মোমিন মন্ডল বলেন, আমরা সবাই মিলে মাদ্রাসা ও মসজিদটি দেখাশোনা করি। রানা সেখের বাড়ির পাশ দিয়ে মাদ্রাসায় যেতেন ইমরান। রানার স্ত্রী ইসমত আরাকে শাশুড়ি বলে ডাকতো সে। ইসমত আরাকে নিয়ে ইমাম ইমরান পালিয়ে যাওয়ায় গ্রামের মান সম্মান সব নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু তাই নয় মাদ্রাসার প্রায় আড়াই লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে ইমরান। তাদের কোন খোঁজ খবরই পাচ্ছি না।

 

 

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ইমরান হোসেন নূরীর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

 

 

রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের ইউপি সদস্য আখিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। কিন্তু কোনো পক্ষ আমার কাছে আসেনি। তাই সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টাও করিনি।

 

 

কামারখন্দ থানার ওসি হাশমত আলী জানান, এ ব্যাপারে থানায় কেউ আসেনি। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

দুই সন্তানের মাকে নিয়ে উধাও চার সন্তানের জনক মসজিদের ইমাম

আপডেট টাইম : ০৯:৪০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে দুই সন্তানের জননীকে নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন চার সন্তানের জনত ইমরান হোসেন নূরী নামে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম।

 

 

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিষয়টি স্থানীয়দের মাঝে জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে গত ১৩ এপ্রিল উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

 

 

এলাকাবাসী, অভিযুক্ত ইমাম ও ওই নারীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাশঁবাড়িয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমামতির পাশাপাশি একই গ্রামে ‘মিফতাহুল উলুম কওমিয়া হাফিজিয়া ক্যাডেট মাদ্রাসা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন হাফেজ ইমরান হোসেন নূরী (৩৭)। ইমরানের ছোট ছোট তিন কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে।

 

 

মাদ্রাসার পাশেই রয়েছে রানা সেখের বাড়ি। রানা তার স্ত্রী ইসমত আরা (৩৮) ও তার ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন। তাদের একটি কন্যা সন্তান আছে, যার বিয়ে হয়ে গেছে। মাদ্রাসায় আসা যাওয়ার সুবাদে প্রায় সময়ই রানা সেখের বাড়িতে সময় কাটান ইমরান। ইমাম ইমরান ইসমত আরাকে শাশুড়ি বলে ডাকতেন। এক পর্যায়ে রানা সেখের স্ত্রী ইসমত আরা এবং ইমাম ইমরানের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় বছর তিনেক ধরে প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা ইমরানকে একাধিকবার রানা সেখের বাড়ি যেতে নিষেধ করলেও বারণ শুনেননি ইমরান।

 

 

এক পর্যায়ে মাস দেড়েক আগে ঋণগ্রস্ত হওয়ায় স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে গাজীপুরে পারি জমান রানা সেখ। পরে ইসমত আরার সঙ্গে যোগসাজশে গাজীপুরের মৌচাকে চলে যান ইমরান। সেখানে ভাড়া বাসায় ১০ এপ্রিল রাতে ইসমত আরা ও ইমরানকে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ধরে ফেলেন রানা সেখ। সেখানে মান সম্মানের ভয়ে ইমরানকে ছেড়ে দিয়ে ইসমত আরাকে তার বাবার বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদের মোহনপুর এলাকায় রেখে যান রানা সেখ। সর্বশেষ বাবার বাড়ি থেকে গত ১৩ এপ্রিল রাতে দুই সন্তানের জননী ইসমত আরাকে নিয়ে পালিয়ে যান চার সন্তানের জনক হাফেজ ইমরান হোসেন নূরী (৩৭)। তারপর থেকে তাদের আর কোন খোঁজ মেলেনি।

 

 

এদিকে হাফেজ সন্তানের খোঁজ না পেয়ে চার নাতি ও পুত্রবধূকে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ইমরানের বাবা দুলাল সেখ। বুধবার দুপুরে ইমরানের বাড়িতে গেলে কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ দুলাল সেখ। তিনি জানান, ছেলেকে অনেক কষ্টে হাফেজ বানিয়েছি। এলাকায় তার বেশ সুনাম রয়েছে। কিন্তু ছেলে যে এমন কাজ করতে পারে ভাবতেই পারিনি। মান সম্মান সব শেষ হয়ে গেছে। শুধু তাই নয় তার স্ত্রী, ছোট ছোট তিনটি কন্যা ও একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। আমি বৃদ্ধ মানুষ কোনো আয় রোজগার করতে পারি না। তাদের ভরণ পোষণ কীভাবে করবো, সেই চিন্তায় আমি দিনে দিনে অসুস্থ হয়ে পড়ছি।

 

 

রানা সেখের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। কথা হয় ইসমত আরার জা ফুলু মালার সঙ্গে। তিনি জানান, আমরা বিষয়টি টের পেয়ে ইসমত আরাকে অনেক বুঝিয়েছি এবং হুজুরকে ইসমত আরার বাড়িতে আসতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু তারা কেউ মানেনি।

 

 

রানা সেখের প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মোমিন মন্ডল বলেন, আমরা সবাই মিলে মাদ্রাসা ও মসজিদটি দেখাশোনা করি। রানা সেখের বাড়ির পাশ দিয়ে মাদ্রাসায় যেতেন ইমরান। রানার স্ত্রী ইসমত আরাকে শাশুড়ি বলে ডাকতো সে। ইসমত আরাকে নিয়ে ইমাম ইমরান পালিয়ে যাওয়ায় গ্রামের মান সম্মান সব নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু তাই নয় মাদ্রাসার প্রায় আড়াই লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে ইমরান। তাদের কোন খোঁজ খবরই পাচ্ছি না।

 

 

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ইমরান হোসেন নূরীর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

 

 

রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের ইউপি সদস্য আখিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। কিন্তু কোনো পক্ষ আমার কাছে আসেনি। তাই সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টাও করিনি।

 

 

কামারখন্দ থানার ওসি হাশমত আলী জানান, এ ব্যাপারে থানায় কেউ আসেনি। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।