সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ধরাছোঁয়ার বাইরে ফ্যাসিবাদের দোসর আ.লীগ নেতা জিন্নাহ আলম

২০২৪ সালে জুলাই-আগষ্টে ছাত্র জনতার গণঅভুত্থানে হামলা ও দমন পীড়ন চালানো সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানা আওয়ামী লীগ নেতা জিন্নাহ আলম তালুকদার এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। নানা অপকর্মে জড়িত এই আওয়ামী লীগ নেতা এখনো অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা স্থানীয় লোকদের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

স্থানীয়রা বলছেন, বিগত বিতর্কিত নির্বাচনগুলিতে ভোট কাটার দায়িত্ব পালন করা এই জিন্নাহ আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তিদের মধ্যে নিজে বা অনুসারিদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে নির্বাচন কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করছেন। সুষ্ঠ নির্বাচনের স্বার্থে তফসিল ঘোষনার আগেই তাকে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

 

স্থানীয়রা জানান, জেলার সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভেংড়ি গ্রামের মরহুম মতিয়ার রহমানের ছেলে জিন্নাহ আলম তালুকদার যুবক বয়স থেকেই লালন করেন সন্ত্রাসী প্রবৃত্তি। আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে বেপড়োয়া হয়ে ওঠেন তিনি। অর্থ ও পেশিশক্তির জোরে বাগিয়ে নেন রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সলঙ্গা থানা আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদকের পদ। তরুন বয়স থেকেই নানা অপকর্মে জড়িত জিন্নাহর বিরুদ্ধে যেন অভিযোগের শেষ নেই। ১৯৯৪ এ তার পিতা হত্যাকান্ডের স্বীকার হলেও মামলা দায়ের করে রহস্যজনকভাবে তা প্রত্যাহার করে নেন তিনি। রয়েছে পরিবারের সদস্যদের ফাকি দিয়ে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও।

 

বিগত সময়ে আওয়ামীলীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন জিন্নাহ আলম তালুকদার। অভিযোগ রয়েছে চকবরু ভেংড়ী রাস্তা তৈরীর কাজে বাঁধা দেওয়ার, কবরস্থান-মাদ্রাসার অর্থ আত্বসাতেরও। বিগত বছরগুলোতে রমজানের মাসে ভেংড়ি গ্রামের ৩ টা মসজিদে মক্তব চালু করা হলে মসজিদে জংগী ট্রেনিং দেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ এনে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করে আলেম-ওলামাদের। এমনকি ভিন্ন মতের হওয়ায় ঈদগাহ মাঠেও ঈমামকে অপমানিত করে এই ফ্যাসিবাদের দোসর।

 

সলঙ্গার তৃনমূলের আওয়ামীলীগের কর্মিরা যখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে তখনও জুলাই অভ্যুর্থানে ছাত্র-জনতার উপরে হামলা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত এই জিন্নাহ আলম তালুকদার অর্থের বিনিময়ে থানা-পুলিশকে ম্যানেজ করে নিজ বাড়িতে বসবাস করে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে প্রকাশ্যেই। অভিযোগ রয়েছে বিগত সকল বিকর্কিত নির্বাচনে জিন্নাহ ও তার পেটুয়া বাহিনীর সদস্য জামরুল, মুকুল, যুবলীগ ক্যাডার আজিজ এবং রেজাউল সরকার ভোট কাটার দায়িত্ব পালন করেছে ভেংড়ি স্কুল কেন্দ্রে। আসন্ন নির্বাচনেও তারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তির মাঝে অনুপ্রবেশ করে ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার ষড়যন্ত্র করছে। নির্বাচনের আগেই তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান স্থানীয়রা।

 

এ বিষয়ে কথা বলতে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

ধরাছোঁয়ার বাইরে ফ্যাসিবাদের দোসর আ.লীগ নেতা জিন্নাহ আলম

আপডেট টাইম : ০৭:২০:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

২০২৪ সালে জুলাই-আগষ্টে ছাত্র জনতার গণঅভুত্থানে হামলা ও দমন পীড়ন চালানো সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানা আওয়ামী লীগ নেতা জিন্নাহ আলম তালুকদার এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। নানা অপকর্মে জড়িত এই আওয়ামী লীগ নেতা এখনো অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা স্থানীয় লোকদের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

স্থানীয়রা বলছেন, বিগত বিতর্কিত নির্বাচনগুলিতে ভোট কাটার দায়িত্ব পালন করা এই জিন্নাহ আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তিদের মধ্যে নিজে বা অনুসারিদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে নির্বাচন কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করছেন। সুষ্ঠ নির্বাচনের স্বার্থে তফসিল ঘোষনার আগেই তাকে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

 

স্থানীয়রা জানান, জেলার সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভেংড়ি গ্রামের মরহুম মতিয়ার রহমানের ছেলে জিন্নাহ আলম তালুকদার যুবক বয়স থেকেই লালন করেন সন্ত্রাসী প্রবৃত্তি। আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে বেপড়োয়া হয়ে ওঠেন তিনি। অর্থ ও পেশিশক্তির জোরে বাগিয়ে নেন রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সলঙ্গা থানা আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদকের পদ। তরুন বয়স থেকেই নানা অপকর্মে জড়িত জিন্নাহর বিরুদ্ধে যেন অভিযোগের শেষ নেই। ১৯৯৪ এ তার পিতা হত্যাকান্ডের স্বীকার হলেও মামলা দায়ের করে রহস্যজনকভাবে তা প্রত্যাহার করে নেন তিনি। রয়েছে পরিবারের সদস্যদের ফাকি দিয়ে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও।

 

বিগত সময়ে আওয়ামীলীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন জিন্নাহ আলম তালুকদার। অভিযোগ রয়েছে চকবরু ভেংড়ী রাস্তা তৈরীর কাজে বাঁধা দেওয়ার, কবরস্থান-মাদ্রাসার অর্থ আত্বসাতেরও। বিগত বছরগুলোতে রমজানের মাসে ভেংড়ি গ্রামের ৩ টা মসজিদে মক্তব চালু করা হলে মসজিদে জংগী ট্রেনিং দেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ এনে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করে আলেম-ওলামাদের। এমনকি ভিন্ন মতের হওয়ায় ঈদগাহ মাঠেও ঈমামকে অপমানিত করে এই ফ্যাসিবাদের দোসর।

 

সলঙ্গার তৃনমূলের আওয়ামীলীগের কর্মিরা যখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে তখনও জুলাই অভ্যুর্থানে ছাত্র-জনতার উপরে হামলা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত এই জিন্নাহ আলম তালুকদার অর্থের বিনিময়ে থানা-পুলিশকে ম্যানেজ করে নিজ বাড়িতে বসবাস করে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে প্রকাশ্যেই। অভিযোগ রয়েছে বিগত সকল বিকর্কিত নির্বাচনে জিন্নাহ ও তার পেটুয়া বাহিনীর সদস্য জামরুল, মুকুল, যুবলীগ ক্যাডার আজিজ এবং রেজাউল সরকার ভোট কাটার দায়িত্ব পালন করেছে ভেংড়ি স্কুল কেন্দ্রে। আসন্ন নির্বাচনেও তারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তির মাঝে অনুপ্রবেশ করে ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার ষড়যন্ত্র করছে। নির্বাচনের আগেই তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান স্থানীয়রা।

 

এ বিষয়ে কথা বলতে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।