সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

নরসিংদীর মরজাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় লটকনের বিশাল পাইকারি বাজার

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর মরজাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় লটকনের বিশাল পাইকারি বাজার। এখানে প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ব্যস্ত থাকেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। চাষিরা গাছ থেকে লটকন সংগ্রহ করে ভ্যানগাড়ি ও ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন এই বাজারে। বিক্রেতাদের সঙ্গে চলে দর-কষাকষি। চাহিদামতো দাম পেলেই চাষিরা বিক্রি করে টাকা নিয়ে ফেরেন বাড়ি।

 

 

 

গতকাল শুক্রবার সকালে কথা হয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে। তাঁরা জানান, হাটে প্রতিদিন ৭০-৮০ লাখ টাকার লটকন কেনাবেচা হয়। আকারভেদে লটকন মণপ্রতি ২ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এখানকার লটকন সুস্বাদু হওয়ায় দিন দিন চাহিদা বাড়ছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্ববাজারে রপ্তানি হচ্ছে। এলাকার চাষি ও বেকার যুবকেরা কম খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় লটকন চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

 

 

 

লটকনের হাট ঘুরে মহাসড়ক থেকে শিবপুর, বেলাব, রায়পুরা উপজেলার লাখপুর, আজকিতলা, বটিয়ারা, মরজালসহ কয়েকটি গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়ে বিভিন্ন ধরনের ফলগাছের অপরূপ শোভা। রাস্তার দুই পাশে থাকা অসংখ্য লটকনের বাগান যে কারও চোখ জুড়াবে।
অধিকাংশ গাছের নিচ থেকে ওপরের অংশের শাখা-প্রশাখায় থোকায় থোকায় ঝুলছে কাঁচা-পাকা লটকন। দেখে মনে হয় যেন পুরো গাছে হলুদ-সবুজ রঙের ফুল ফুটেছে। চাষি ও পাইকারেরা বাগানের পাকা লটকন গাছ থেকে ছাড়িয়ে নিচ্ছেন। কেউ আবার বাজারে বিক্রির জন্য প্রক্রিয়াজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, নরসিংদীর রায়পুরা, শিবপুর ও বেলাব উপজেলায় ১ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে লটকন চাষ হয়েছে।

 

 

 

চাষি পরাগ আহাম্মেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘তিন বিঘা জমির লটকন পাইকারি ৬ লাখ টাকায় বিক্রি করি, খরচ ১ লাখ টাকা। দুই মাস শ্রম দিলেই চলে। কম খরচে অধিক লাভবান হচ্ছি।’

 

 

 

চাষি কাজী কামাল হোসেন জানান, বাছাই করা সুস্বাদু বড় লটকনগুলো সারা দেশের চাহিদার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ রপ্তানি হচ্ছে। অর্জিত হচ্ছে অর্থ। সাধারণত লটকন দু-তিন দিন পর্যন্ত রাখা যায়। প্যাকেট করা ওই লটকন সাত-আট দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ সম্ভব।

 

 

 

নুরজ্জামান নামের এক চাষি জানান, পুরো মৌসুমে লটকনের ভালো চাহিদা রয়েছে। অনেকে বাণিজ্যিকভাবে লটকনের চাষ করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ জেলায় সবচেয়ে বেশি লটকন উৎপাদিত হয় শিবপুরে, দ্বিতীয় অবস্থানে বেলাব এবং তৃতীয় অবস্থানে রায়পুরা উপজেলা। এই এলাকার মাটি ও আবহাওয়া লটকন চাষের উপযোগী। উপজেলার অন্যান্য স্থানেও এ ফলের আবাদ সম্প্রসারণ ও জনগণের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টিতে উপজেলা কৃষি অফিস কাজ করে যাচ্ছে।

 

 

 

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

নরসিংদীর মরজাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় লটকনের বিশাল পাইকারি বাজার

আপডেট টাইম : ০৩:৪৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর মরজাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় লটকনের বিশাল পাইকারি বাজার। এখানে প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ব্যস্ত থাকেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। চাষিরা গাছ থেকে লটকন সংগ্রহ করে ভ্যানগাড়ি ও ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন এই বাজারে। বিক্রেতাদের সঙ্গে চলে দর-কষাকষি। চাহিদামতো দাম পেলেই চাষিরা বিক্রি করে টাকা নিয়ে ফেরেন বাড়ি।

 

 

 

গতকাল শুক্রবার সকালে কথা হয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে। তাঁরা জানান, হাটে প্রতিদিন ৭০-৮০ লাখ টাকার লটকন কেনাবেচা হয়। আকারভেদে লটকন মণপ্রতি ২ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এখানকার লটকন সুস্বাদু হওয়ায় দিন দিন চাহিদা বাড়ছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্ববাজারে রপ্তানি হচ্ছে। এলাকার চাষি ও বেকার যুবকেরা কম খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় লটকন চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

 

 

 

লটকনের হাট ঘুরে মহাসড়ক থেকে শিবপুর, বেলাব, রায়পুরা উপজেলার লাখপুর, আজকিতলা, বটিয়ারা, মরজালসহ কয়েকটি গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়ে বিভিন্ন ধরনের ফলগাছের অপরূপ শোভা। রাস্তার দুই পাশে থাকা অসংখ্য লটকনের বাগান যে কারও চোখ জুড়াবে।
অধিকাংশ গাছের নিচ থেকে ওপরের অংশের শাখা-প্রশাখায় থোকায় থোকায় ঝুলছে কাঁচা-পাকা লটকন। দেখে মনে হয় যেন পুরো গাছে হলুদ-সবুজ রঙের ফুল ফুটেছে। চাষি ও পাইকারেরা বাগানের পাকা লটকন গাছ থেকে ছাড়িয়ে নিচ্ছেন। কেউ আবার বাজারে বিক্রির জন্য প্রক্রিয়াজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, নরসিংদীর রায়পুরা, শিবপুর ও বেলাব উপজেলায় ১ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে লটকন চাষ হয়েছে।

 

 

 

চাষি পরাগ আহাম্মেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘তিন বিঘা জমির লটকন পাইকারি ৬ লাখ টাকায় বিক্রি করি, খরচ ১ লাখ টাকা। দুই মাস শ্রম দিলেই চলে। কম খরচে অধিক লাভবান হচ্ছি।’

 

 

 

চাষি কাজী কামাল হোসেন জানান, বাছাই করা সুস্বাদু বড় লটকনগুলো সারা দেশের চাহিদার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ রপ্তানি হচ্ছে। অর্জিত হচ্ছে অর্থ। সাধারণত লটকন দু-তিন দিন পর্যন্ত রাখা যায়। প্যাকেট করা ওই লটকন সাত-আট দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ সম্ভব।

 

 

 

নুরজ্জামান নামের এক চাষি জানান, পুরো মৌসুমে লটকনের ভালো চাহিদা রয়েছে। অনেকে বাণিজ্যিকভাবে লটকনের চাষ করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ জেলায় সবচেয়ে বেশি লটকন উৎপাদিত হয় শিবপুরে, দ্বিতীয় অবস্থানে বেলাব এবং তৃতীয় অবস্থানে রায়পুরা উপজেলা। এই এলাকার মাটি ও আবহাওয়া লটকন চাষের উপযোগী। উপজেলার অন্যান্য স্থানেও এ ফলের আবাদ সম্প্রসারণ ও জনগণের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টিতে উপজেলা কৃষি অফিস কাজ করে যাচ্ছে।