সিরাজগঞ্জের চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের নাম লাউতা। এ গ্রামে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ বাস করে। লাউতা থেকে পার্শ্ববর্তী গ্রাম গোন্তার দুরুত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। দুই গ্রামের মধ্যে চলাচলের পথ বিস্তৃর্ণ ফসলী জমির আইল। যেখান দিয়ে পায়ে হেঁটেই চলতে হয় মানুষকে।
সামান্য বৃষ্টিতেই হলেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে ওই আইল দিয়ে হেঁটে চলাও দুস্কর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে স্কুলের ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তির যেন শেষ ছিল না। নানা দুর্ভোগ মাথায় নিয়েই এ দুই গ্রামে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করেছেন।
কিন্তু এই জন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি জনপ্রতিনিধিদের নজরে আসছিল না। তাই বাধ্য হয়ে নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমেই মাটির রাস্তা নির্মাণ করলেন গ্রামবাসী।
গ্রামবাসীরা জানায়, বর্ষাকালে কাদায় লাউতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আসার পথে পিছলে পড়ে বই-খাতা ও স্কুলব্যাগ ভিজে যেত। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে না পেরে বাড়ি ফিরে চলে যেতো।
লাউতা গ্রামের আজাহার আলী মাস্টার ও যুবদল নেতা আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে গ্রামবাসীরা আইলটিকে কাচা রাস্তায় পরিণত করার উদ্যোগ নেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) গ্রামবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে এই রাস্তাটি নির্মাণ শুরু হয়। আজাহার আলী মাস্টার নিজের জমির একটি অংশ ছেড়ে দেন। যুবদল নেতা আশরাফুল নিজের অর্থায়নে ২০ জন শ্রমিক দিয়ে রাস্তাটির তৈরিতে সহযোগীতা করেন। প্রথম দিনে প্রায় সাড়ে ৪শ মিটার রাস্তা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়।
লাউতা গ্রামের মোছা. ঝর্ণা খাতুন বলেন, আমরা প্র্রায় ২০টি পরিবার এ পাড়ায় বসবাস করি। আমাদের সন্তানদের স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হতো। সামান্য বৃষ্টি হলেও বই-খাতা ও ব্যাগ ভিজে যায়। এমনকি কেউ মারা গেলেও কবরস্থানে নিতে অনেক কষ্ট হয়। রাস্তাটি নির্মাণ হলে আমাদের সেই দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।
আব্দুল আজিজ বলেন, জমির আইলের পাশে মাটি ভরাট করে কাঁচা রাস্তাটি তৈরি করা হচ্ছে। সরকারি সহযোগীতা পেলে আগামিতে রাস্তাটি পাকা করা সম্ভব হবে।
জমিদাতা মো. আজাহার আলী মাস্টার জানিয়েছেন, এই রাস্তা শুধু আমার জন্য নয়, পুরো এলাকার মানুষের জন্য। আমার জমির কিছু অংশ দিয়ে যদি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হয় এর চেয়ে বড় আনন্দের আর কিছু নেই।
তালম ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম জানান, গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দেখে আমি নিজ উদ্যোগে রাস্তার মাটি ভরাটের ব্যবস্থা করেছি। স্কুলের ছোট্ট ছোট্ট ছেলে- মেয়েরা যেন ভালো ভাবে স্কুলে আসতে পারে। এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়।
লাউতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেলিনা খাতুন জানিয়েছেন, এ জমির আইলের রাস্তার জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের সমস্যায় ভুগছিল। গ্রামের মো. আজাহার মাস্টার ও মো. আশরাফুল ইসলামেরএই মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আশা করছি, এখন গোন্তা গ্রাম থেকে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ে আসতে পারবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম। 


















One thought on “নিজেদের চলাচলের রাস্তা নিজেরাই তৈরি করে নিলো লাউতা গ্রামবাসী”