তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, বেহেশতের টিকিট বিক্রিকারীদের ভাওতাবাজির প্রতি আস্থা না রেখে দেশের জনগণ আস্থা রেখেছে তারেক রহমান ও বিএনপির ইশতেহারের প্রতি। আর তারেক রহমান একের পর এক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন।
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চর বেতাগৈর ইউনিয়নের চর ভেলামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ফ্যামেলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের নারীদের জীবনমান উন্নয়ন, পারিবারিক নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে চালু করা হয়েছে ‘ফ্যামেলি কার্ড’ কর্মসূচি। এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে সমাজের অসচ্ছল পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চাঁদপুর থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ২০টি জেলায় একযোগে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
প্রতিমন্ত্রী সুবিধাভোগীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ফ্যামেলি কার্ডের মাধ্যমে যে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, সেই অর্থ অবশ্যই পরিবারের প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করবেন। পাশাপাশি কিছু টাকা সঞ্চয় রাখবেন, যাতে ভবিষ্যতের যেকোনো দুর্যোগ বা বিপদে তা কাজে লাগে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, দালালচক্র বা ঘুষ লেনদেন বরদাশত করা হবে না। কার্ড পাওয়ার জন্য কাউকে টাকা দেবেন না বা কোনো দালালের কাছে যাবেন না। প্রকৃত প্রাপকদের কাছেই সরকার এই সহায়তা পৌঁছে দেবে।’
চর বেতাগৈর ইউনিয়নের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘এই ইউনিয়নের মানুষ আমাকে সবচেয়ে বেশি ভোট দিয়েছে। তাই সবার আগে এই এলাকার মানুষের জন্য সামান্য উপহার নিয়ে এসেছি। ভবিষ্যতেও উন্নয়ন ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
অনুষ্ঠানে চর বেতাগৈর ইউনিয়নের ৭৩০ জন নারীর মাঝে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ করা হয়। উদ্বোধনের পরপরই সুবিধাভোগীদের মোবাইল ফোনে সহায়তা প্রাপ্তির বার্তা পৌঁছে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেনজেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাতসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
দেশের স্বাস্থ্য খাতে চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। স্বাস্থ্য প্রশাসন থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল—সবখানেই চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আতঙ্কে রয়েছেন। কোথাও রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে হামলা চালিয়ে চিকিৎসকের মাথা থেঁতলে দেওয়া হচ্ছে, কোথাও হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে—এমনকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালককেও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় দেশের স্বাস্থ্য খাতে অজানা শঙ্কা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যদি সারাক্ষণ শারীরিক নির্যাতন, অপমান বা হামলার আশঙ্কায় থাকেন, তাহলে স্বাভাবিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে জেলা-উপজেলা হাসপাতাল কিংবা মেডিকেল কলেজ পর্যায়ে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে থাকলে স্বাস্থ্যসেবার পুরো ব্যবস্থাই বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে চিকিৎসকদের সুরক্ষা এবং চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ মোকাবিলায় এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর আইন নেই। বর্তমানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন এবং দণ্ডবিধির কিছু সাধারণ ধারার মাধ্যমে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এসব আইনে চিকিৎসক ও রোগী—উভয় পক্ষের অধিকার ও সুরক্ষা স্পষ্ট নয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি করা সম্ভব হবে না। কারণ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আতঙ্কে থেকে সঠিকভাবে রোগীসেবা ও চিকিৎসা প্রদানে ব্যর্থ হবেন। যার প্রভাব পড়বে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর। তিনি বলেন, এর আগে একটি আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আইন থাকলে তার প্রয়োগ করা যেত। যেহেতু আইন নেই, তাই রোগী, চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান—কোনোটির নিরাপত্তাই নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতো চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের পরিস্থিতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
জানা গেছে, চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ‘স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছিল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অন্তত তিন দফা এ-সংক্রান্ত আইনের খসড়া তৈরি ও সংশোধন করা হয়। সর্বশেষ ২০২৩ সালে একটি খসড়া প্রাথমিক অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও সেটি আর আলোর মুখ দেখেনি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চিকিৎসকদের সুরক্ষা নয়, চিকিৎসা অবহেলায় রোগীদের প্রতিকার পাওয়ার বিষয়টিও আইনে সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। গত বছরের ১৩ মার্চ তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান গণমাধ্যমে বলেছিলেন, দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন চূড়ান্ত হবে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই আইন আলোর মুখ দেখেনি।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. জাহিদ রায়হানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। রাজধানীর মহাখালী এলাকায় হাসপাতালকেন্দ্রিক সন্ত্রাসী তৎপরতা ও চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার পর তার কার্যালয়ে এ হুমকিপত্র পৌঁছায়। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে শনিবার রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) সহকারী পরিচালকের কক্ষে ঢুকে অস্ত্রের মুখে হুমকি দেয় স্থানীয় একদল যুবক।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আউটসোর্সিং নিয়োগে নিজেদের লোক নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে তারা এ ঘটনা ঘটায়। দুপুরের দিকে সহকারী পরিচালক ডা. রাশেদের কক্ষে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, কয়েকজন যুবক সহকারী পরিচালকের কক্ষে ঢুকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে এবং অস্ত্র প্রদর্শন করে হুমকি দেয়। তারা সরাসরি বলে, তাদের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে। অন্যথায় বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে। শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার গভীর রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত চিকিৎসক নাসির ইসলামকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠাতে হয়েছে।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার বিলাশখান এলাকার লাল মিয়া কাজী বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে স্বজনরা লিখিত অঙ্গীকার দিয়ে হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে চান। কিছু সময় পর রোগীর মৃত্যু হলে চিকিৎসক দেরিতে এসেছেন—এমন অভিযোগ তুলে স্বজনরা জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালান। একপর্যায়ে দায়িত্বরত চিকিৎসক নাসির ইসলামকে ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মিতু আক্তার বলেন, আহত চিকিৎসককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে গত ২০ এপ্রিল রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আহমদ হোসেনের ওপর হামলার ঘটনাও দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
র্যাব জানিয়েছে, হাসপাতালের ঠিকাদারি কাজ নিয়ে বিরোধের জেরে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে তার ওপর হামলা চালানো হয়। মহাখালী এলাকায় হাঁটার সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। এ ঘটনায় মূল হামলাকারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একের পর এক হামলা, হুমকি ও প্রভাব বিস্তারের ঘটনায় চিকিৎসক সমাজের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসী প্রভাবমুক্ত রেখে দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা গেলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও বড় সংকটে পড়বে।
সামগ্রিক বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি, যা অনেকেই মেনে নিতে পারছে না। ফলে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তার পেছনে মূলত টেন্ডার ও আউটসোর্সিং বাণিজ্য রয়েছে। টেন্ডারে যারা সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে, তাদের কাজ দিতে গেলে অন্য গ্রুপ সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে। আবার আউটসোর্সিংয়ের ঠিকাদাররা হাসপাতালে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এদের কথায় সব করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, এসব হুমকি দিয়ে আমাদের ভালো কাজ থামিয়ে দেওয়া যাবে না। আমি থেমে নেই। আমরা আউটসোর্সিং পদ্ধতি বাতিল করে দেব। এ ছাড়া এখন থেকে সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় সিভিল ড্রেসে র্যাব পাহারায় থাকবে।
সুত্র: দৈনিক কালবেলা

জলঢাকায় কালভার্টের বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষিমাড়াই দক্ষিণ পাড়া এলাকায় একটি কালভার্টের বেহাল অবস্থার কারণে জনসাধারণের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় হাজার হাজার মানুষের বসবাস। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক-কৃষাণীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কালভার্টটির অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শ্রী গজেন চন্দ্র, রতন চন্দ্র রায়, হরি রায়, জ্যোতিষ রায়, স্বপন রায় ও মনসের আলীসহ অনেকেই বলেন, কালভার্টটির বেহাল অবস্থার কারণে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করতেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, দ্রুত সংস্কার কাজ না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাই উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করে কালভার্টটি দ্রুত সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের চার কমিটি

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সিরাজগঞ্জ জেলা, সদর উপজেলা, পৌর ও সরকারি কলেজ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত পত্রে ১ বছরের জন্য এসব কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে চারটি অনুমোদিত কমিটির তালিকা দেওয়া হয়েছে।
রবিউল ইসলাম রুবেলকে সভাপতি ও আল-আমিন খানকে সাধারণ সম্পাদক করে ৮৯ সদস্য বিশিষ্ট সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ, রেজাউল করিম রাব্বীকে সভাপতি ও মো. রাসেল শেখ আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট সদর উপজেলা ছাত্রলীগ, মো. সিপন হাসান কাব্যকে সভাপতি ও আলামিন সরকার হিমেলকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট পৌর ছাত্রলীগ এবং মো. জীবন শেখকে সভাপতি ও জিম আহমেদ আকাশকে সাধারণ সম্পাদক করে ২২ সদস্য বিশিষ্ট সিরাজগঞ্জ সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বেরোবির সাবেক ভিসি গ্রেপ্তার

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দীন তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আজ সন্ধ্যায় তাকে মোম্মাদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ৯ এপ্রিল আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বেরোবির সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
রায়ে আদালত শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন- পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনই গ্রেপ্তার আছেন।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিন আসামিও পুলিশের সাবেক সদস্য। তারা হলেন- সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক উপ-পরিদর্শক এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়। তারা পলাতক। এছাড়া রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারাও পলাতক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেলকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমানকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাফিউল গ্রেপ্তার আছেন। হাফিজুর রহমান বর্তমানে পলাতক। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক।
বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডলকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, সাবেক নিরাপত্তাপ্রহরী নুর আলম মিয়াকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মাহাবুবার রহমানকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাবেক এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা সবাই পলাতক।
রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক।আরপিএমপির সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেনকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটোয়ারীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা দুজনই পলাতক।
এই মামলার আসামি পলাতক চিকিৎসক মো. সরোয়ার হোসেনকে (চন্দন) পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে পলাতক।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাফুজুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. ফজলে রাব্বি, সহসভাপতি মো. আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ও দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেনকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই পলাতক।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদুল হাসানকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক। ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি কারাগারে আছেন।

আগামী ৮ বছরে কোনো প্রতিবন্ধী ভাতার বাইরে থাকবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আগামী ৮ বছরের মধ্যে দেশের কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সরকারি ভাতার বাইরে থাকবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, আগামী জুলাই মাস থেকে প্রতিবন্ধীদের তালিকাভুক্ত করে ভাতার আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু করা হবে। তিনি বলেন, যেসব পরিবারে প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে, তাদের দ্রুত নাম জমা দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে বলেছিলাম বেহেশতের টিকিট দেব না। এমন কিছু দেব, যা এই দুনিয়াতে মানুষের কল্যাণে কাজে আসবে। সেই লক্ষ্যেই আমরা ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছি।”
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বছরে মোট ৩০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। এতে পরিবারের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উপস্থিত নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের আত্মনির্ভরশীল করার চেষ্টা চলছে, যাতে তারা পরিবারের দায়িত্ব আরও ভালোভাবে পালন করতে পারেন।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে এক লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং নিরাপদ প্রসব সেবা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ উদ্বোধন করা হয়। নরসিংদীর বিন্নাবাইদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৬৬ জন উপকারভোগীর মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

হোসেনপুরে ভাঙা কালভার্টে জনদুর্ভোগ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা থেকে পাকুন্দিয়া উপজেলার কোদালিয়া হয়ে পুলেরঘাট অভিমুখী গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ঠাডারকান্দা বাজার সংলগ্ন কালভার্টটি মাঝখান থেকে ভেঙে পড়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন চলাচল করে। এছাড়াও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা কালভার্ট পার হতে হচ্ছে। সামান্য অসাবধানতাতেই ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কালভার্টটির মাঝখানের অংশ ধসে পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এলাকাবাসী সাময়িকভাবে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধানের অভাবে দিন দিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও বিরাজ করছে আতঙ্ক যেকোনো মুহুর্তে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত ও পানির স্রোতে কালভার্টের অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত ভাঙা কালভার্টটি সংস্কার অথবা নতুন করে একটি টেকসই কালভার্ট নির্মাণ করা হোক। তাদের ভাষ্য, হোসেনপুর ও পাকুন্দিয়া উপজেলার মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক এটি। তাই দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
শাহেদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ উদ্দিন বলেন,সংশ্লিষ্টদের বারবার বিষয়টি অবহিত করেছি আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস জানান, সেখানে নতুন একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আপাতত দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

নরসিংদীতে একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিলেন প্রসূতি মা

নরসিংদীতে অস্ত্রোপচারের (সিজারিয়ান) মাধ্যমে একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন মর্জিনা বেগম (২২) নামের এক প্রসূতি মা।
শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে জেলা শহরের পায়রা চত্ত্বরে অবস্থিত একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। একসঙ্গে তিন সন্তান জন্মের খবরে হাসপাতাল চত্বর ও স্বজনদের মাঝে আনন্দের সৃষ্টি হয়।
নবজাতকদের দুজন ছেলে এবং একজন মেয়ে। বর্তমানে মা ও তাঁর তিন নবজাতক সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
প্রসূতির বাবা আব্দুল হেকিম বলেন, প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম অনেক। পরে যখন শুনলাম আমার মেয়ের ২ ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তান হয়েছে, অনেক খুশি হয়েছি। পরিবারের সবাই অনেক খুশি। আমার মেয়ে এবং তার সন্তানেরা আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে।
ক্লিনিকের পরিচালক আরিফুল ইসলাম আবির জানান, শুক্রবার দুপুরে মর্জিনা নামের ওই প্রসূতি নারীর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনটি শিশুর জন্ম হয়। বর্তমানে মা ও সন্তানদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গাইনী সার্জন ডা. সুমাইয়া আজরীন অস্ত্রোপচারটি করেন।
তিনি জানান, মা ও তিন নবজাতকই সুস্থ আছে। এমন অপারেশন কিছুটা জটিল হলেও তা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।

ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ১০ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ১০ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিজিবি।
শনিবার (১৬ মে) বিজিবি ও বিএসএফ’র মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটকদের হালুয়াঘাট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, আটকরা পাসপোর্ট বা কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে মেঘালয় পুলিশ তাদের আটক করে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ করা হয়। সকাল ৬টায় হালুয়াঘাট সীমান্তের মেইন পিলার ১১২০-এর নিকটবর্তী ধোপাঝুড়ি নামক স্থানে বিজিবি এবং ২২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিএসএফ আটককৃত ১০ বাংলাদেশিকে তেলিখালী বিজিবি ক্যাম্পের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করে।
আটকরা হলেন- রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা মো. মুক্তার হোসেন, মো. শাহজামাল হক, মো. আনিছুর রহমান, মো. কামাল হোসেন, শ্রী সিপেন, মো. ইব্রাহিম আলী, মো. নওশাদ আলী, মো. আকবর আলী, মো. জহিরুল ইসলাম এবং মো. শাকিম উদ্দিন।
অবৈধ অনুপ্রবেশের এই ঘটনায় ৩৯ বিজিবির অন্তর্গত তেলিখালী বিওপির নায়েব সুবেদার মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে হালুয়াঘাট থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পাসপোর্ট আদেশ, ১৯৭৩-এর ১১(১)(ক) ধারা অনুযায়ী অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

দরিদ্রদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে সরকার : অর্থমন্ত্রী

সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করবে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা করা হবে যার মাধ্যমে রোগীরা সেখানে চিকিৎসা নিলে ব্যয় সরকার বহন করবে।
শনিবার (১৬ মে) চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি দেশের স্বাস্থ্যখাতে বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পাশাপাশি তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার দাবি করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমান সরকার ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজ করছে।
বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া সুবিধা, ডিজিটাল লাইব্রেরি, খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশে মেডিকেল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ঘাটতি আছে। দক্ষ জনবলের অভাবে কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ভবনটির নকশায় পার্কিং সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। ভবনের প্রস্তাবিত নকশায় ৭২টি গাড়ি পার্কিং সুবিধা অপর্যাপ্ত এবং কমপক্ষে ২০০ থেকে ২৫০টি পার্কিং সুবিধা রাখা উচিত।

রাণীনগরে ঘুমন্ত গৃহবধূর শয়নকক্ষে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টা, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি গ্রেপ্তার

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় গভীর রাতে ঘুমন্ত এক গৃহবধূর শয়নকক্ষে অনুপ্রবেশ করে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) রাতে এই ঘটনায় স্থানীয়রা অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে ভুক্তভোগী গৃহবধূর দায়ের করা মামলায় পুলিশ গোলাম রব্বানী (৫০) নামের এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রিকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার গোলাম রব্বানী উপজেলার কচুয়া গ্রামের রহিম উদ্দীন প্রামানিকের ছেলে। শুক্রবার রাতেই লোহাচুড়িয়া গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই গৃহবধূ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এই সুযোগে গোলাম রব্বানী শয়নকক্ষে প্রবেশ করে তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। গৃহবধূর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে হাতেনাতে আটক করেন। ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল জানান, ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি গোলাম রব্বানীকে গ্রেপ্তার করে শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সেনবাগে ৩৮৮ পরিবারের মাঝে “ফ্যামিলি কার্ড” বিতরণ

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ৩৮৮টি সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে “ফ্যামিলি কার্ড” বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে ) বিকেল ৪টায় ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এ উপলক্ষে সেনবাগ উপজেলা মডেল মসজিদ অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়নুল আবেদিন ফারুক।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, টিএম মোশাররফ হোসেন এবং সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহসিয়া তাবাসসুম।
অনুষ্ঠানে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে উপকারভোগী ৩৮৮ পরিবারের সদস্যদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে “ফ্যামিলি কার্ড” তুলে দেওয়া হয়।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর মাঝে সহায়তা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ডাকাতি করা গরুর মাংস সরবরাহ হতো ঢাকার সুপারশপে

সিরাজগঞ্জ থেকে ডাকাতি করা গরু জবাইয়ের পর মাংস ঢাকার বিভিন্ন সুপারশপে সরবরাহ করা হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রায় এক বছর আগে সংঘটিত গরু ডাকাতির একটি মামলার তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে কোন কোন সুপারশপে ওই মাংস সরবরাহ করা হতো, তা প্রকাশ করেনি পুলিশ।
শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা গ্রামের মো. আব্দুল্লাহর ছেলে রিপন ওরফে হাসান, ঢাকার আশুলিয়া উপজেলার এনায়েতপুরের জুলমত খানের ছেলে জিয়া হোসেন এবং পাবনার বেড়া উপজেলার মোহনগঞ্জ গ্রামের গোলজার সেখের ছেলে আব্দুল আলিম।
পুলিশের দাবি, জিয়া হোসেন ঢাকার বিভিন্ন সুপারশপে মাংস সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার সঙ্গে আব্দুল আলিম সহযোগী কসাই হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আমানুল্লাহ উত্তরাঞ্চল থেকে ১৪টি ষাঁড় কিনে পিকআপভ্যানে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। রাতে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কের সলঙ্গা এলাকায় ডাকাত দল ট্রাক দিয়ে পিকআপটির গতিরোধ করে। পরে চালক, সহকারী ও গরুর রাখালদের হাত-পা বেঁধে গরুগুলো নিজেদের ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন ওই ব্যবসায়ী।
ওসি আলী আসলাম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার রিপন ওরফে হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ডাকাতির গরু জবাই, মাংস বিক্রি এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিষয়ে জবানবন্দি দেন। সলঙ্গা থানা আমলি আদালতের বিচারক ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে রিপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়া এলাকা থেকে জিয়া হোসেন ও আব্দুল আলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে গবাদি পশু লুটের আশঙ্কা বেড়েছে। যমুনা নদীর দুর্গম চরের চৌহালী উপজেলার ঘোরজান ইউনিয়নের মুরাদপুর কাউনিয়ার চরে গত বছরের ২০ মে গো-খামারি তারা মিয়াকে হত্যা করে গবাদি পশু লুটের ঘটনা ঘটে। আলোচিত ওই মামলার তদন্তেও সংঘবদ্ধ গরু ডাকাত চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক এসআই সারফুল ইসলাম বলেন, তারা মিয়া হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের কালিহাতী এলাকার গফুর ও তার ছেলে গিয়াস উদ্দিনসহ আরও ১৪ আসামি পলাতক রয়েছেন। আগামী সপ্তাহে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে গরু চুরি ও ডাকাতি ঠেকাতে সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সহায়তায় রাতভর পাহারা দিচ্ছেন খামারি ও স্থানীয়রা। সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নেও ঈদ সামনে রেখে গবাদি পশুর চুরি হওয়ার আশঙ্কায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী।
বহুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন বলেন, অপরিচিত গাড়ি, ট্রাক, পিকআপভ্যান ও বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোই পাহারার মূল লক্ষ্য।

অভিনয় ছাড়িয়ে এবার নির্মাণে হাত দিতে চান দীঘি

শিশুশিল্পী হিসেবেই সিনেমায় আসেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। তবে এখন তিনি পূর্ণাঙ্গ নায়িকা। শিশুশিল্পী থাকাকালেই তিনি বেশ জনপ্রিয়তা পান। একাধিক সিনেমায় তিনি জনপ্রিয় সব নায়কের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। সে ধারাবাহিকতায় শাকিব খানের সঙ্গেও ‘চাচ্চু’ সিনেমায় কাজ করেছেন এ অভিনেত্রী। সিনেমায় শাকিবকে চাচ্চু বলেই ডাকতেন। আজও দীঘি শাকিব খানকে পর্দার বাইরে সেই স্থানেই রেখেছেন।
একবার গণমাধ্যমে এ বিষয়ে দীঘি বলেছিলেন, কখনও শাকিবের নায়িকা হিসেবে অভিনয় করতে চান না তিনি। এবার তিনি জানালেন, সময় ও সুযোগ হলে শাকিব খানের একটি ভিন্নধর্মী সাক্ষাৎকার নিতে চান।
সম্প্রতি তিনি অতিথি হয়েছিলেন পডকাস্ট শো ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’তে। রুম্মান রশীদ খানের সঞ্চালনায় এই পডকাস্টে দীঘি বলেন, যেহেতু একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগে তিনি পড়ছেন, সেই সূত্র ধরেই এক দিনের জন্য হলেও সাংবাদিকতা করতে চান তিনি।
সঞ্চালকের প্রশ্নে অভিনেত্রী আরও জানান, অনেকদিন ধরেই তার ইচ্ছা শাকিব খানের সাক্ষাৎকার নেওয়ার; যে সাক্ষাৎকার কিছুটা ভিন্নধর্মী হবে। এক দিনের জন্য হলেও ক্যামেরার পেছনে কাজ করতে চান তিনি।
১২০ মিনিটের পডকাস্টে দীঘি খোলামেলা অনেক কথা বলেছেন, তাকে ঘিরে বিভিন্ন কৌতূহল ও সমালোচনার উত্তর দিয়েছেন। জানিয়েছেন, পরিচালক হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে তার। চিত্রপরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, রায়হান রাফী, জয়া আহসান, পূজা চেরী, তৌহিদ আফ্রিদিকে নিয়েও এই শোতে দীঘি এবার এমন কিছু বলেছেন, যা আগে কখনো বলেননি। গতকাল রাতেই এটি মাছরাঙা টিভিতে প্রচার হয়েছে।

আমরা শুধু স্বপ্ন দেখতে চাই না, পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকে থেকে আমাদের কাজ হবে একটাই, সেটা হচ্ছে দেশ গঠন, রাষ্ট্র পুনর্গঠন। এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা। আমরা শুধু স্বপ্ন দেখতে চাই না, আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই। যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের উপকার হবে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারের খোর্দ্দ খাল পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে এ আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই। যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে ও দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।
খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ৪৮ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করে দিয়ে গিয়েছিলেন, সেই খাল পুনর্খননের এ অনুষ্ঠান। আসুন আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা করি, কী প্রতিজ্ঞা? সেটা হচ্ছে- দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা।
বিএনপি জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে যে সকল প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আগামীতে সকল প্রতিশ্রুতি আস্তে আস্তে বাস্তবায়ন করব।
তিনি বলেন, আমরা যারা বিএনপি করি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল করি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দল করেছি, আমরা সবাই বলি- জনগণই হচ্ছে আমাদের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। আপনাদের শক্তিই আমাদের শক্তি। আপনারা যতক্ষণ আমাদের পাশে থাকবেন, যতক্ষণ সমর্থন থাকবে, আমাদের দেশ গড়ার কাজ ইনশাআল্লাহ চলতে থাকবে।
দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আজকে এ খাল কাটা অনুষ্ঠানে আসুন আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক, আমাদের শপথ হোক যে- ‘আমরা করবো কাজ, সবার আগে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কাজে বিশ্বাসী, কথায় নয়। আজ আপনারা আমাদের ক্ষমতায় এনেছেন। এবার আপনাদের প্রতি নির্বাচনপূর্ব যে সমস্ত ওয়াদা দিয়েছি, তা এক এক করে বাস্তবায়ন শুরু করছি। ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, কৃষকদের কৃষি কার্ড প্রদান কর্মসূচি শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে আপনাদের দেওয়া সকল ওয়াদা পূরণ করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে এবং দেশের খাদ্য সংকট নিরসন ও অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটাতে সমগ্র দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।
এর আগে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারের ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনর্খননস্থলে পৌঁছে ফলক উন্মোচন করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ফলক উন্মোচনের পরে খালের তীরে নেমে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন তিনি। পরে খালের তীরে বৃক্ষরোপণ করেন।
চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, শিক্ষামন্ত্রী আ.ন.ম এহসানুল হক মিলন।
খোর্দ্দ খালটি ১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম খনন করে ছিলেন। ১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য খালটি ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। তৎকালীন সময়ে এ খালের পানি দিয়ে কৃষকরা সোনালী ফসল ফলাতো। দীর্ঘ ৪২ বছর পর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানে সন্তান বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালটি পুনর্খনন কাজ শুরু করায় আবার এ এলাকার কৃষকরা খুশি।

জাপানের কর্মী ভিসা স্থগিত, বাড়ছে শ্রমিক সংকটের শঙ্কা

বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মভিসা স্থগিত করায় শ্রমিক সংকট নিয়ে উদ্বেগে পড়েছে জাপানের রেস্তোরাঁ শিল্প। দেশটির সংবাদমাধ্যম কিয়োদো নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
স্থগিতাদেশটি “টাইপ-১ স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার” ভিসার ওপর প্রযোজ্য। জাপানে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি কর্মী নিয়োগে এই ভিসা ব্যবহার করে আসছে।
প্রাথমিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খাদ্যসেবা খাতে এই ভিসার আওতায় বিদেশি কর্মীর সংখ্যা বেড়ে ৪৬ হাজারে পৌঁছেছে। অথচ ২০২৮ অর্থবছর পর্যন্ত নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা ৫০ হাজার।
এতে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, বিদেশি কর্মীরা জাপানে কাজের পরিকল্পনা বাতিল করে অন্য দেশে চলে যেতে পারেন।
বড় রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠান স্কাইলার্ক হোল্ডিংস এবং মোস ফুড সার্ভিসেস জানিয়েছে, নতুন বিধিনিষেধ তাদের কর্মী নিয়োগ, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও রেস্তোরাঁ পরিচালনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোও সতর্ক করেছে, বৈধ ভিসাধারী কর্মীদের জন্য নিয়োগদাতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে। একই সঙ্গে বিদেশি শ্রমিকদের কাছে জাপানের আকর্ষণ কমে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
কম জন্মহার ও বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে জাপানে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমছে। কঠোর অভিবাসন নীতি থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি ক্রমশ বিদেশি শ্রমশক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে।

ফুটবলের রাজা মেসি, কি সত্যিই বিদায় নিচ্ছেন বিশ্বকাপ থেকে?

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ খেলতে যাবে আলবিসেলেস্তেরা। ইতোমধ্যেই ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দল জমা দিয়েছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এখন অপেক্ষা চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণার, যা ঠিক করবেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
শুক্রবার (১৫ মে) কনমেবলের এক সাক্ষাৎকারে আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস, ২০২২ এর বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি এবং লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন স্কালোনি।
আর্জেন্টিনার কোচ বলেন, ‘বিশ্বকাপ খুব কঠিন একটি প্রতিযোগিতা। শুধু ভালো খেললেই হয় না, আরও অনেক কিছু ঠিকঠাক হতে হয়। আমরা সবসময় যেমন চেষ্টা করি, এবারও তেমনই সর্বোচ্চটা দিতে চাই। কারণ আর্জেন্টিনা প্রতিবার বিশ্বকাপে শিরোপার লক্ষ্য নিয়েই নামে। এটা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।’
আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির এটাই হতে তার সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ। এ প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘তাকে (মেসি) খেলতে দেখা দারুণ ব্যাপার। এটা তার শেষ বিশ্বকাপ কি না, সেটা নিয়ে আমি ভাবতে চাই না। আমি বর্তমানটা উপভোগ করতে চাই। সবাই তাকে খেলতে দেখতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই সে খেলতে থাকুক। কারণ যখন এমন কিংবদন্তিরা আর মাঠে থাকে না, তখন খারাপ লাগে, যেমনটা দিয়েগো ম্যারাডোনার ক্ষেত্রে হয়েছিল। তারা ফুটবল ইতিহাসের অংশ। মেসি আর খেলবে না, এটা ভাবতেই মন খারাপ হয়। তাই আমি বর্তমান নিয়েই থাকতে চাই।’
আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে স্কালোনির সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০২২ এর বিশ্বকাপ জয়। এছাড়াও দুটি কোপা আমেরিকা ও লা ফিনালিসিমার শিরোপাও আলবিসেলেস্তেদের এনে দিয়েছেন। দলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কিছুই ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিই না। তবে খেলোয়াড়দের যা বলার, খুব সংক্ষিপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোই বলি। কারণ অতিরিক্ত তথ্য দিলে তারা বিভ্রান্ত হয়ে যায়। আমরাও তো একসময় খেলোয়াড় ছিলাম, তাই জানি তাদের কী দরকার। আমরা সবসময় তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখি।’

ভাইকে বাঁচানোর চেষ্টায় প্রাণ হারালেন বড় ভাই

লালমনিরহাটের সদর উপজেলায় তিস্তা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে উপজেলার রাজপুর এলাকার তিস্তা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
তারা হলো- রাজাপুর গ্রামের রেজাউল করিম ও শিউলি বেগম দম্পতির বড় ছেলে এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র শেফাউল করিম সিফাত (১৮) ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্র শোয়েব করিম স্বচ্ছ (১৪)। দুজন জেলা শহরের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র ছিল।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুই ভাই এক সঙ্গে তিস্তা নদীতে গোসল করতে নামে। গোসল করার একপর্যায়ে ছোট ভাই স্বচ্ছ পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। চোখের সামনে ছোট ভাইকে পানিতে ডুবতে দেখে বড় ভাই শিফাত তাকে বাঁচাতে যায়, কিন্তু খরস্রোতা তিস্তার প্রবল স্রোতে একপর্যায়ে দুজনই নিখোঁজ হয়ে যায়।
দুই ভাইকে খুঁজতে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আধঘণ্টা পর নদী থেকে দুই ভাইকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
লালমনিরহাট সদর থানার ওসি সাদ আহমেদ বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় সদর হাসপাতাল থেকেই দুই ভাইয়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কারিনার মরদেহ দেশে পৌঁছাবে আগামীকাল

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের অকাল মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ দেশের শোবিজ অঙ্গন। প্রিয় এই তারকাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ব্যাকুল হয়ে আছেন তার সহকর্মী, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তবে সব ধরণের আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় শনিবার (১৬ মে) কারিনার মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তার বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার কায়সার হামিদ।
সংবাদ মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, রোববার (১৭ এপ্রিল) তার মরদেহ চেন্নাই থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছাবে।
গণমাধ্যমকে কায়সার হামিদ বলেন, প্রিজার্ভ সংক্রান্ত কিছু বিষয় আছে। সব প্রক্রিয়া শেষে আজ বেলা ৩টার ফ্লাইট ধরা সম্ভব নয়, তাই আগামীকাল রোববারের ফ্লাইটে চেন্নাই থেকে ঢাকায় আসবে ওরা।
বেশ কিছুদিন লিভারের জটিলতায় ভুগে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোর খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কারিনা কায়সার। তার বাবা জানান, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ ওর প্রেশার অনেক নিচে নেমে গেলে আর বাঁচানো সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হলেও পরে কারিনার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ এবং ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চেন্নাই নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকেরা ফুসফুসের সংক্রমণের চিকিৎসা ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
উল্লেখ্য, অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিত কারিনা কায়সার হামিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।

ইরানের নতুন সিদ্ধান্তে আলোচনায় হরমুজ প্রণালি

ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম ও প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। যুদ্ধ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের ওপর নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয় এই প্রণালির মাধ্যমে। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ নয়। তবে এটি ‘বন্ধু ও নিরপেক্ষ’ দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত থাকলেও, ‘শত্রু’ দেশগুলোর জন্য কার্যত বন্ধ থাকবে। খবর আল জাজিরার।
এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সম্প্রতি প্রণালিটির ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেকোনো জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানি কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে আইআরজিসির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।
এ ছাড়া, প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজ, তেলবাহী ট্যাংকার ও অন্যান্য নৌযানের কাছ থেকে ট্রানজিট ফি আদায়ের বিষয়েও আলোচনা করছে ইরান।
সবশেষে ইরান জানিয়েছে, কোনো সামরিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হবে না।

জলাবদ্ধতায় পানির নিচে ৩ হাজার বিঘা পাকা ধান, চরম বিপাকে রায়গঞ্জের কৃষক
- রিপোর্টার:
- আপডেট টাইম : ০৬:০৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ভারী বৃষ্টি তে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ও ধুবিল ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমির পাকা ধান জলাবদ্ধতার কারণে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
শনিবার (১৬ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কলিয়া, শ্রীরামপুর, গোপালপুর, পশ্চিম আটঘরিয়া, গোপীনাথপুর, চকদাদপুর, বাশাইল, রাজাপুর ও বোয়াইল মৌজার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতি বছরই এ দুর্ভোগ বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষক মঈনুল হক বলেন, “আমন মৌসুমে কোনো আবাদ করা যায় না। ইরি-বোরো চাষ করলেও শেষ পর্যন্ত ধান ঘরে তুলতে পারি না।”
আরেক কৃষক সাইফুল ইসলাম দুলাল জানান, “এক বিঘা জমির ধান কাটতে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত শ্রমিক মজুরি দিতে হয়। পানিতে ধান পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এ কারণে ধানের ব্যবসায়ীরাও ধান কিনতে চান না। বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করতে হয়।”
দিনমজুর কালু সেখ বলেন, হাঁটুসমান পানিতে নেমে ধান কাটতে গিয়ে শ্রমিকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় জোতদার আব্দুল কুদ্দুস সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অতি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ জরুরি। তা না হলে নতুন করে পুকুর খননের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান যে , রায়গঞ্জ উপজেলায় যে সকল স্খানে বর্ষা মৌসুমে সেগুলো তালিকাভুক্ত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে এবং বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই সেই জায়গাগুলোতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেছেন। এছাড়াও বিষয়টি উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভায় উপজেলা কৃষি অফিসার জোড়ালো তুলে ধরেছেন।
৬৪,সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হক বলেন, “আধুনিক পাইপলাইন ও স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু করা গেলে হাজারো কৃষক উপকৃত হবেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। আগামী মৌসুমের আগেই জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সক্রিয় হয়ে উঠছে মায়ন আগ্নেয়গিরি, দেখা দিয়েছে নতুন ভূকম্পন

ফিলিপাইনের মায়ন আগ্নেয়গিরিতে নতুন করে তীব্র অস্থিরতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কয়েক ডজন আগ্নেয় ভূমিকম্প ও কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিপাইনের আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা।
শনিবার আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে ফিলিপাইন আগ্নেয়গিরি ও ভূকম্পবিদ্যা ইনস্টিটিউটের (ফিভলক্স) বরাতে খবর প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরিটিতে ৫১টি আগ্নেয় ভূমিকম্প, ৩০টি আগ্নেয় কম্পন, শত শত শিলা ধস এবং ৬টি পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহের সংকেত শনাক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগ্নেয়গিরির গহ্বর থেকে অব্যাহতভাবে লাভা বের হচ্ছে। লাভার প্রবাহ বাসুদ, বংগা ও মি-ইসি এলাকার দিকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু সময়ের জন্য লাভার ফোয়ারাও দেখা গেছে।
শুক্রবার আগ্নেয়গিরিটি থেকে ১ হাজার ৪৮২ টন সালফার ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় বেশি। এ সময় ধোঁয়ার স্তম্ভ দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
কর্তৃপক্ষ আগ্নেয়গিরির চারপাশের ৬ কিলোমিটার স্থায়ী বিপৎসীমায় প্রবেশ নিষিদ্ধ রেখেছে এবং ওই এলাকার কাছ দিয়ে বিমান চলাচল না করারও সতর্কতা দিয়েছে।
ফিভলক্স আশপাশের বাসিন্দাদের লাভা প্রবাহ, শিলা ধস, পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহ, মাঝারি বিস্ফোরণ এবং ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট কাদাপ্রবাহের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে।

ধর্ষণের শিকার নাতনিকে রক্ষা করতে গিয়ে খুন হলেন দাদি

সিলেটের গোয়াইনঘাটে রাতে ঘর থেকে নাতনিকে জোরপূর্বক তুলে নিতে বাধা দেওয়ায় দুর্বৃত্তের হামলায় দাদি নিহত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টা ও তাতে বাধা দেওয়ায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
শনিবার (১৬ মে) রাত ৩টার দিকে উপজেলার ১ নং রুস্তুমপুর ইউনিয়নের বীরমঙ্গল হাওর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সকাল ১০টায় দিলারা বেগম (৫৪) নামে ওই দাদির মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত দিলারা বেগম (৫৪) উপজেলার বীরমঙ্গল হাওর গ্রামের মৃত মাহমুদ হোসেনের স্ত্রী। এ ঘটনায় কিশোরী ও তার মা গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা দুজনেই গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে ওই কিশোরীর অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে অজ্ঞাত তিন যুবক দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এসময় তারা কিশোরীর মুখ চেপে ধরে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিশোরীর চিৎকার শুনে তার মা এগিয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তার হাতে কামড় দেয়। এক পর্যায়ে কিশোরী চিৎকার করতে থাকলে তাকে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়।
মা ও মেয়ের চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে দাদি দিলারা বেগম বের হয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাকে বুকের ডান পাশে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
পার্শ্ববর্তী বাড়ির আলকাছ মিয়া শুভ জানান, জরাজীর্ণ একটি টিনের ঘরে নিহত দিলারা বেগম ও তার ৩০ বছরের প্রতিবন্ধী মেয়ে, নাতনিসহ ৫ জন বাড়িতে থাকেন। নিহতের দুই ছেলে ঋণ করে গত কয়েকমাস পূর্বে জীবিকার তাগিদে প্রবাসে যান। তিনি রাত তিনটার দিকে ওই বাড়িতে কান্নাকাটির আওয়াজ শুনতে পান। পর দৌড়ে পার্শ্ববর্তী বাড়ির লোকজনসহ গিয়ে দেখতে পান দিলারা বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। ওই সময় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সে মারা যান। এদিকে মেয়ে ও মেয়ের মা আহত অবস্থায় পরে আছে।
কিশোরীর মা জানান, হঠাৎ রাত ৩ টার দিকে ঘুম থেকে জেগে দেখেন দরজা খোলা। আকাশের বিজলীর আলোয় দেখতে পান এক ব্যক্তি তার মেয়ের ওপর চড়াও হয়ে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করছেন। বাধা দিলে ওই ব্যক্তি আমার মেয়েকে মুখ চেপে ধরে বাহিরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে বাধা দিতে গেলে ওই ব্যক্তি তার হাতে কামড় দেয় এবং হাবিবাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।
তিনি আরও জানান, মা ও মেয়ের চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে তার শাশুড়ি দিলারা বেগম দরজার সামনেন এগিয়ে এসে বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর জখম হয়ে সেখানেই লুটিয়ে পড়েন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুর্বৃত্তরা মধ্যরাতে ঘরে প্রবেশ করে এবং কিশোরীকে অপহরণ বা ধর্ষণের উদ্দেশে এ হামলা চালাতে পারে।
গোয়াইনঘাট থানার কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।

নিজের নেতৃত্বকে সাকিব-মাশরাফির চেয়ে এগিয়ে বললেন লিটন

ভালো অধিনায়কত্বের জন্য চাই পরিপূর্ণ আত্মবিশ্বাস। আর সেই আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর লিটন দাস। টাইগারদের তিন ফরম্যাটে নেতৃত্ব দেওয়া এই ক্রিকেটার বর্তমানে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। আর অধিনায়ক হিসেবে তিনি নিজেকে এতটাই সফল মনে করেন যে, নিজেকে এগিয়ে রেখেছেন সাকিব-তামিম এমনকি মাশরাফির চেয়েও।
সম্প্রতি বিসিবির এক পডকাস্টে লিটনকে প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশের অল টাইম সেরা ক্যাপ্টেন বিবেচনা করে দুজন থেকে একজন বেছে নিলে, লিটন নাকি সাকিব কাকে বেছে নেবেন? জবাবে লিটন বলেন, ‘কঠিন… তবে আমি আমাকেই বেছে নিব।‘
পরের প্রশ্ন ছিল, ‘লিটন দাস নাকি তামিম ইকবাল?’ লিটন জবাব দেন, ‘রেকর্ডের দিক দিয়ে আমি।‘ ‘লিটন দাস নাকি নাজমুল হোসেন শান্ত?’ এই প্রশ্নের জবাবেও বলেন, ‘আবারো, রেকর্ডের দিক দিয়ে আমি।‘
সঞ্চালক লিটনের এত আত্মবিশ্বাস দেখে একপর্যায়ে বলেই বসেন, এই কনফিডেন্সই দলের লাগবে! পরের প্রশ্ন ছিল, লিটন দাস নাকি মেহেদী হাসান মিরাজ? এবারো লিটনের জবাব- ‘আমি।’
এরপর যে প্রশ্ন এবং উত্তর, লিটন নিজেই মানছেন এ নিয়ে সৃষ্টি হতে পারে বিতর্ক। বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক জানতে চাইলে অনেকেই নাম নেন মাশরাফি বিন মর্তুজার। তবে লিটন রেকর্ডের দিক বিবেচনায় নিজেকে মাশরাফির চেয়ে এগিয়ে রেখেছেন।
তিনি বলেন, ‘ভাইয়ার অধীনে অনেক দিন খেলেছি। সব ফরম্যাট খেলা হয়নি। রেকর্ডের দিক দিয়ে, আমি যেসব ফরম্যাটে করেছি রেকর্ড আমার খুব ভালো। তবে এটা নিয়ে অনেক বিতর্ক হবে আমি বুঝতে পারছি।’
এরপর মুশফিক রহিম ও খালেদ মাহমুদ সুজনের সাথে তুলনায়ও লিটন নিজের নামই নিয়েছেন। লিটন অবশ্য অধিনায়ক হিসেবে দ্বিধাহীনভাবে রয়েছেন অনন্য উচ্চতায়। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের অধিনায়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জয়ের হার তার- ৫২.৬৩। নিয়মিত অধিনায়কদের অনুপস্থিতিতে বাকি দুই ফরম্যাটেও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এনে দিয়েছেন সাফল্যও। ওয়ানডেতে ভারত বধের পাশাপাশি টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বরেকর্ড গড়া জয়ও আছে তার।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে ৩৯টি ম্যাচে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার মধ্যে জিতেছেন ২০টি ম্যাচ। বর্তমান টি-টোয়েন্টি দল যে উড়ন্ত ফর্মে রয়েছে, এর পেছনেও আছে লিটনের নেতৃত্বগুণের বড় অবদান। আর তিন ফরম্যাটেই খেলে যাওয়া এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার ব্যাট হাতে তো অভয় দিয়েই যাচ্ছেন দলকে, নিয়মিতভাবে। তাই এমন আত্মবিশ্বাস যেন লিটন দাসকেই মানায়।

সারাদেশে হাম উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
হাম ও হামের উপসর্গে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৪৫৩ শিশু প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয় ৭৪ জনের।
শনিবার (১৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৪১ হাজার ২৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই সময়ে মোট সাত হাজার ৫২৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৩৬ হাজার ৬৪৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছে।
2 thoughts on “পকেটের টাকা খরচ করে ভিজিএফ চাল বিতরণে বিপাকে রায়গঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যানরা”