সিরাজগঞ্জ , মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সৌদি আরবে হামলা:পিছিয়েই গেল এশিয়ান কাপ Logo জাজিরার নাওডোবায় মৃত ব্যক্তির নামে দলিল সৃজনের অভিযোগ Logo বিএনপি নেতার ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়ার’ হুমকি স্বেচ্ছাসেবকদল নেতার, ভিডিও ভাইরাল Logo হাসিনা-কামালের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি Logo বঙ্গভবনের ফোনে খুলে যায় কারাগারের দরজা: যেভাবে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে Logo মাদক ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করতে হবে Logo বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে নজিরবিহীন সাইবার চুরি Logo ইরানে মার্কিন হামলার খবরে ফের বাড়ল তেলের দাম Logo ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের Logo সেন্টমার্টিন ভ্রমণে নতুন শঙ্কা, দ্বীপে যাতায়াত নিয়ে অনিশ্চয়তায় পর্যটকরা

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে অগ্রাধিকার পাবে বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও জনশক্তি রপ্তানি ইস্যু গুরুত্ব পাবে

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের (২৬-২৯ অক্টোবর) সরকারি সফরে আগামী সোমবার টোকিও যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এটি প্রধানমন্ত্রীর চতুর্থ বিদেশ সফর। এবার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন অন্তত ‘২০ জন’; যাদের মধ্যে থাকবেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর একাধিক উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী মূলত কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বার্তা নিয়ে জাপান যাচ্ছেন। তার এ সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, মেগা প্রকল্প ও অবকাঠামো খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির মতো বহুমাত্রিক ইস্যু গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জাপানের টোকিওর চিবা অঞ্চলে এলএনজি টার্মিনাল এবং পাওয়ার প্লান্ট, ইউনিক্লো কোম্পানির হেডকোয়ার্টার এবং নাগোয়াতে গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি টয়োটার কারখানা পরিদর্শন করবেন। এ-সংক্রান্ত সফরসূচি প্রাথমিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

এ ছাড়া জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে নৈশভোজসহ বেশ কয়েকটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেবেন তারেক রহমান। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ এবং জাপানের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারকরণসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। জাপান সফরে ব্যস্ত সময় কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী। তার জাপান সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসরকারি বিমান পরিবহনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা বা সহযোগিতা স্মারকের ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাংলাদেশে আরও জাপানি বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচন হবে। বাংলাদেশ ও জাপানের সরকার গতকাল বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায় এবং টোকিও সময় বিকেল ৪টায় একই সঙ্গে এ সফরটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। সরকারের নীতিনির্ধারক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব তথ্য জানিয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম গতকাল এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জাপান সফর নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। এ সময় তিনি আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই সরকারি সফরের কর্মসূচি তুলে ধরেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফর ঘিরে জাপানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বেশ উচ্ছ্বসিত। তারা প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। জাপানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতাদের প্রত্যাশা—বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর হোক। প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক এবং জাপানে অর্জিত অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হোক।

 

প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চতুর্থ বিদেশ সফর। এর আগে তিনি ২২ থেকে ২৬ জুন প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। তারপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গত ২১-২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান প্রধানমন্ত্রী, যা ছিল তার তৃতীয় বিদেশ সফর।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন যারা: জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সফরসঙ্গী হচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিলসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মিডিয়া টিম এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি। তারা সবাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে গমনাগমন করবেন বলে জানানো হয়েছে।

 

 

 

 

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ও বিনিয়োগে গুরুত্ব: বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলোর অন্যতম জাপান বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। সময়ের পরিক্রমায় এ সম্পর্ক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কানেক্টিভিটি, পরিবেশ এবং আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ পর্যায়ে বিদ্যমান, যার আওতায় বাংলাদেশে অবকাঠামোগত স্থাপনা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আরও কার্যক্রমের পরিকল্পনা নিয়ে এ সফরে আলোচনা হবে।

 

 

 

 

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যমান ‘কৌশলগত সহযোগিতা’র প্রেক্ষাপটে আসন্ন সফরটি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী করার একটি সময়োপযোগী সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষত, গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ ইপিএ স্বাক্ষরিত হওয়ায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, এবং মাতারবাড়ীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ প্রকল্পে নির্মাণ এবং ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে, সফরকালে ইপিএর কার্যকর বাস্তবায়ন, বাংলাদেশি পণ্যের জাপানি বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা জোরদারের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ও এ সফরে গুরুত্ব পাবে।

 

 

 

 

 

 

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: পররাষ্ট্র সচিব গতকাল সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, জাপান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। এ ছাড়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করবেন বলে প্রাথমিকভাবে সফরসূচি নির্ধারিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব প্রসারের লক্ষ্যে আগামী ২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সম্মানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। অন্যান্য সম্ভাব্য বৈঠক ও কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ, জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (জেবিসিসিইসি) চেয়ারম্যান, জাইকার প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশনের গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) সভাপতি, সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক, জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে মূল বক্তব্য প্রদান ও জাপানের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক।

 

 

 

 

এলএনজি টার্মিনাল ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শন: সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের ফুৎসু সিটি, চিবাতে এলএনজি টার্মিনাল এবং পাওয়ার প্লান্ট, ইউনিক্লো কোম্পানির হেডকোয়ার্টার এবং নাগোয়াতে টয়োটার কারখানা পরিদর্শন করবেন বলে সফরসূচি প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে জাপানের কোম্পানির কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সূচি প্রস্তুত রয়েছে।

 

 

 

 

 

রোহিঙ্গা সংকট ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রসঙ্গ: পররাষ্ট্র সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাইরে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তি ও স্থিতি, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং জ্বালানি সংকট নিরসনে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে যৌথ ভূমিকা পালনের ব্যাপারে দুই পক্ষ ফলপ্রসূ আলোচনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আরও বলেন, এ সফরের ফলস্বরূপ আশা করা যায় যে, বাংলাদেশ এবং জাপানের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, সম্পর্কের নতুন দ্বার উন্মোচন, জাপান থেকে বাংলাদেশে নতুন বেসরকারি বিনিয়োগ এবং চলমান প্রকল্পগুলো ত্বরান্বিত হবে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহায়তা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এ সফর উপলক্ষ করে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসরকারি বিমান পরিবহন, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় সরকার আধুনিকীকরণ সংক্রান্ত সমঝোতা বা সহযোগিতা স্মারকের ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

প্রবাসীদের মাঝে উচ্ছ্বাস-প্রত্যাশা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর ঘিরে সে দেশে প্রবাসী বাংলাদেশি ও ব্যবসায়ীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে এরই মধ্যে একাধিক প্রস্তুতি ও ব্যবসায়িক মতবিনিময় সভা করেছেন।

 

 

 

 

জাপান বিএনপির সভাপতি ও ব্যবসায়ী রেজা মীর কালবেলাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জাপান সফর প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত খুশির ও গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে দলমত নির্বিশেষে আমরা সবাই যাব। এরই মধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আশা করছি প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সংকট সমাধানে পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত নেবেন।

 

 

 

 

জাপান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী এমদাদুল ইসলাম মনি কালবেলাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বাংলাদেশ ও জাপানের বহুদিনের সুদৃঢ় অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে। জাপানি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরার বড় সুযোগ তৈরি হলো এ সফরের মাধ্যমে। সেইসঙ্গে জাপানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং নতুন করে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে এই সফর অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আমরা আশাবাদী, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে জাপানি শ্রমবাজারে বাংলাদেশি তরুণদের অংশীদারত্ব আরও বাড়বে।

 

 

 

জাপানপ্রবাসী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জনি কালবেলাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। কেননা, দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। উন্নয়ন সহযোগিতা, অবকাঠামো, শিল্প, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবে হামলা:পিছিয়েই গেল এশিয়ান কাপ

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে অগ্রাধিকার পাবে বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান

আপডেট টাইম : ১২:৩৩:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের (২৬-২৯ অক্টোবর) সরকারি সফরে আগামী সোমবার টোকিও যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এটি প্রধানমন্ত্রীর চতুর্থ বিদেশ সফর। এবার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন অন্তত ‘২০ জন’; যাদের মধ্যে থাকবেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর একাধিক উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী মূলত কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বার্তা নিয়ে জাপান যাচ্ছেন। তার এ সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, মেগা প্রকল্প ও অবকাঠামো খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির মতো বহুমাত্রিক ইস্যু গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জাপানের টোকিওর চিবা অঞ্চলে এলএনজি টার্মিনাল এবং পাওয়ার প্লান্ট, ইউনিক্লো কোম্পানির হেডকোয়ার্টার এবং নাগোয়াতে গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি টয়োটার কারখানা পরিদর্শন করবেন। এ-সংক্রান্ত সফরসূচি প্রাথমিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

এ ছাড়া জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে নৈশভোজসহ বেশ কয়েকটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেবেন তারেক রহমান। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ এবং জাপানের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারকরণসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। জাপান সফরে ব্যস্ত সময় কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী। তার জাপান সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসরকারি বিমান পরিবহনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা বা সহযোগিতা স্মারকের ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাংলাদেশে আরও জাপানি বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচন হবে। বাংলাদেশ ও জাপানের সরকার গতকাল বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায় এবং টোকিও সময় বিকেল ৪টায় একই সঙ্গে এ সফরটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। সরকারের নীতিনির্ধারক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব তথ্য জানিয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম গতকাল এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জাপান সফর নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। এ সময় তিনি আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই সরকারি সফরের কর্মসূচি তুলে ধরেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফর ঘিরে জাপানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বেশ উচ্ছ্বসিত। তারা প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। জাপানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতাদের প্রত্যাশা—বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর হোক। প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক এবং জাপানে অর্জিত অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হোক।

 

প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চতুর্থ বিদেশ সফর। এর আগে তিনি ২২ থেকে ২৬ জুন প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। তারপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গত ২১-২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান প্রধানমন্ত্রী, যা ছিল তার তৃতীয় বিদেশ সফর।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন যারা: জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সফরসঙ্গী হচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিলসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মিডিয়া টিম এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি। তারা সবাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে গমনাগমন করবেন বলে জানানো হয়েছে।

 

 

 

 

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ও বিনিয়োগে গুরুত্ব: বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলোর অন্যতম জাপান বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। সময়ের পরিক্রমায় এ সম্পর্ক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কানেক্টিভিটি, পরিবেশ এবং আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ পর্যায়ে বিদ্যমান, যার আওতায় বাংলাদেশে অবকাঠামোগত স্থাপনা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আরও কার্যক্রমের পরিকল্পনা নিয়ে এ সফরে আলোচনা হবে।

 

 

 

 

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যমান ‘কৌশলগত সহযোগিতা’র প্রেক্ষাপটে আসন্ন সফরটি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী করার একটি সময়োপযোগী সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষত, গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ ইপিএ স্বাক্ষরিত হওয়ায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, এবং মাতারবাড়ীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ প্রকল্পে নির্মাণ এবং ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে, সফরকালে ইপিএর কার্যকর বাস্তবায়ন, বাংলাদেশি পণ্যের জাপানি বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা জোরদারের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ও এ সফরে গুরুত্ব পাবে।

 

 

 

 

 

 

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: পররাষ্ট্র সচিব গতকাল সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, জাপান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। এ ছাড়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করবেন বলে প্রাথমিকভাবে সফরসূচি নির্ধারিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব প্রসারের লক্ষ্যে আগামী ২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সম্মানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। অন্যান্য সম্ভাব্য বৈঠক ও কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ, জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (জেবিসিসিইসি) চেয়ারম্যান, জাইকার প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশনের গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) সভাপতি, সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক, জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে মূল বক্তব্য প্রদান ও জাপানের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক।

 

 

 

 

এলএনজি টার্মিনাল ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শন: সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের ফুৎসু সিটি, চিবাতে এলএনজি টার্মিনাল এবং পাওয়ার প্লান্ট, ইউনিক্লো কোম্পানির হেডকোয়ার্টার এবং নাগোয়াতে টয়োটার কারখানা পরিদর্শন করবেন বলে সফরসূচি প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে জাপানের কোম্পানির কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সূচি প্রস্তুত রয়েছে।

 

 

 

 

 

রোহিঙ্গা সংকট ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রসঙ্গ: পররাষ্ট্র সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাইরে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তি ও স্থিতি, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং জ্বালানি সংকট নিরসনে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে যৌথ ভূমিকা পালনের ব্যাপারে দুই পক্ষ ফলপ্রসূ আলোচনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আরও বলেন, এ সফরের ফলস্বরূপ আশা করা যায় যে, বাংলাদেশ এবং জাপানের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, সম্পর্কের নতুন দ্বার উন্মোচন, জাপান থেকে বাংলাদেশে নতুন বেসরকারি বিনিয়োগ এবং চলমান প্রকল্পগুলো ত্বরান্বিত হবে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহায়তা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এ সফর উপলক্ষ করে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসরকারি বিমান পরিবহন, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় সরকার আধুনিকীকরণ সংক্রান্ত সমঝোতা বা সহযোগিতা স্মারকের ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

প্রবাসীদের মাঝে উচ্ছ্বাস-প্রত্যাশা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর ঘিরে সে দেশে প্রবাসী বাংলাদেশি ও ব্যবসায়ীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে এরই মধ্যে একাধিক প্রস্তুতি ও ব্যবসায়িক মতবিনিময় সভা করেছেন।

 

 

 

 

জাপান বিএনপির সভাপতি ও ব্যবসায়ী রেজা মীর কালবেলাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জাপান সফর প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত খুশির ও গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে দলমত নির্বিশেষে আমরা সবাই যাব। এরই মধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আশা করছি প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সংকট সমাধানে পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত নেবেন।

 

 

 

 

জাপান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী এমদাদুল ইসলাম মনি কালবেলাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বাংলাদেশ ও জাপানের বহুদিনের সুদৃঢ় অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে। জাপানি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরার বড় সুযোগ তৈরি হলো এ সফরের মাধ্যমে। সেইসঙ্গে জাপানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং নতুন করে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে এই সফর অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আমরা আশাবাদী, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে জাপানি শ্রমবাজারে বাংলাদেশি তরুণদের অংশীদারত্ব আরও বাড়বে।

 

 

 

জাপানপ্রবাসী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জনি কালবেলাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। কেননা, দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। উন্নয়ন সহযোগিতা, অবকাঠামো, শিল্প, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।