এনজিও সংস্থা থেকে লোন নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সেলিনা বেগম নামের এক নারীর হাত থেকে টাকাসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েছে ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনায় ভাতিজাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১১ মে) বিকেলে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মথুরানগর গ্রামের দত্তনগর-জলিলপুর সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের একটি ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করে ভাতিজা লিটনের মোটরসাইকেলে বাড়ি (পান্তা পাড়া) ফিরছিলেন সেলিনা বেগম। বিকেলে মহেশপুরের মথুরানগর গ্রামের দত্তনগর-জলিলপুর সড়কে পৌঁছলে দুই ছিনতাইকারী মোটরসাইকেলে এসে তার হাত থেকে টাকাসহ ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে মহেশপুর থানার পুলিশ ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার ও টাকা উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। পুলিশ ঘটনাস্থলের আশেপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একটি ইয়ামাহা ফেজার মোটরসাইকেল শনাক্ত করে। ওই মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে জলিলপুর গ্রামের আয়ুব হোসেনের ছেলে আমিনুর রহমান খানকে (২৪) হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে এবং ছিনতাইকৃত টাকা তার বাড়িতে আছে বলে পুলিশকে জানায়। সে আরও জানায়, সেলিনা বেগমের সঙ্গে থাকা তার ভাতিজা লিটনই এই ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকরী। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার পূর্বে আমিনুর ও শাওন মোটরসাইকেল নিয়ে লিটন ও তার ফুফুকে অনুসরণ করতে থাকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছলে লিটন তার মোটরসাইকেলের গতি কমিয়ে দিলে আমিনুরের মোটরসাইকেলের পিছনে বসে থাকা শাওন সেলিনা বেগমের হাত থেকে টাকার ব্যাগটি টান দিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, সোমবার রাত ৮টার দিকে পুলিশ আসামি আমিনুরকে নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে তার দেখানো মতে ছিনতাইয়ের ৬ লাখ টাকা উদ্ধার করে। এরপর আসামি লিটন ও বরকতকে পৃথক স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনার আরেক আসামি মহেশপুরের কাজীপাড়া গ্রামের আইনাল বদ্দির ছেলে শাওন বদ্দি (২৩) এখনো পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে ড্রোন হামলায় মো. আ. রহিম (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পুটিজানা নামাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। নিহত রহিম স্থানীয় আজিজুল হকের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার সন্ধানে গত বছরের অক্টোবর মাসে রাশিয়ায় যান রহিম। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, তিনি সেখানে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। পরে জানতে পারেন, চলতি বছরের ৭ এপ্রিল তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। বিষয়টি তিনি পরিবারের কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন বলেও দাবি স্বজনদের।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২ মে রুশ সীমান্তবর্তী এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় রহিম নিহত হন। ওই হামলায় আরও দুই বাংলাদেশি ও এক নাইজেরীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত চারজন।
নিহতের মৃত্যুর বিষয়টি পরিবার নিশ্চিত হয় গত সোমবার (১২ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে। রহিমের বন্ধু লিমন দত্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের এই দুঃসংবাদ জানান। লিমন নিজেও একই ক্যাম্পে রুশ সেনা সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে একটি পা হারিয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতের বাবা আজিজুল হক ছেলের মৃত্যুতে শোকাহত কণ্ঠে বলেন, ‘রহিম যে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে, তা আমাদের জানায়নি। জানলে আমি কখনোই তাকে সেখানে যেতে দিতাম না। এখন শুনছি ড্রোন হামলায় সব শেষ হয়ে গেছে। আমার ছেলেকে আর ফিরে পাব না।’
স্থানীয়দের ভাষ্য, রহিম শান্ত স্বভাবের ও পরিশ্রমী যুবক ছিলেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু যুদ্ধের ভয়াবহতায় তার জীবনাবসান হওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুটিজানা ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম হিরা বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। আমি নিহতের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতার সুযোগ থাকলে আমরা তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।’
এদিকে বিদেশের মাটিতে যুদ্ধের ঘটনায় একের পর এক বাংলাদেশি নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়া তরুণদের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে, গত ১৭ এপ্রিল ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান মৌলভীবাজারের মুহিবুর রহমান নামের অন্য এক যুবক।

আজ পর্দা উঠছে কান উৎসবের, স্বর্ণ পামের লড়াইয়ে স্বাধীন চলচ্চিত্র
যুদ্ধ, শোক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে নির্মিত হরেক রকম গল্প কান চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণ পাম জয়ের লক্ষ্যে দৌড় শুরু করছে।
হলিউডের হেভিওয়েট স্টুডিয়োগুলোর অনুপস্থিতিতে মূল প্রতিযোগিতায় স্বাধীন চলচ্চিত্রের প্রাধান্য চোখে পড়ার মতো। এবার এমন কোনো ছবি নেই, যেগুলোর জন্য সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। আগেভাগে জয়ী বলা দেওয়া যাবে এমন নিরঙ্কুশ কোনো ফেভারিটও নেই। বোদ্ধাদের মতে, স্বর্ণ পাম জিততে পারেন যে কেউ। ফলে জমজমাট লড়াই দেখার অপেক্ষায় চলচ্চিত্রপ্রেমীরা।
মঙ্গলবার (১২ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়) পর্দা উঠবে ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের। হলিউডের ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স’ ও ‘টপ গান’-এর মতো ফ্র্যাঞ্চাইজির জমকালো উদ্বোধনের জন্য পরিচিত এই মনোমুগ্ধকর উৎসবে এবার নেই বড় বাজেটের কোনো ব্লকবাস্টার। সমালোচনার ভারে বক্স অফিসে লোকসানের ঝুঁকি এড়াতে নামজাদা স্টুডিয়োগুলো উৎসবে ছবি পাঠানোর ব্যাপারে সতর্ক বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও তারকা উপস্থিতির ঘাটতি থাকছে না। আজীবন সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন আমেরিকান অভিনেত্রী-গায়িকা বারব্রা স্ট্রাইস্যান্ড। আর পরিচালনায় অভিষেক ঘটছে হলিউড তারকা জন ট্রাভোল্টার।
আগামী ২৩ মে সমাপনী আয়োজনে ঘোষণা করা হবে স্বর্ণ পাম জয়ী ছবির নাম। এজন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ২২টি চলচ্চিত্র। মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে এগুলো। এরমধ্যে রয়েছে স্বাধীন ধারার খ্যাতিমান স্প্যানিশ নির্মাতা পেদ্রো আলমোদোভার ও হাঙ্গেরির লাসলো নেমেশ পরিচালিত পৃথক দুটি ছবি। পেদ্রো বানিয়েছেন স্প্যানিশ ভাষার ছবি ‘বিটার ক্রিসমাস’। আর লাসলোর নতুন চলচ্চিত্রের নাম ‘মুলাঁ’।
ইরানের আসগর ফারহাদি ও জাপানের ‘ড্রাইভ মাই কার’ খ্যাত রিয়ুসুকে হামাগুচি ফরাসি ভাষার পৃথক ছবি নিয়ে হাজির হয়েছেন কানসৈকতে। ফারহাদির ‘প্যারালাল টেলস’-এ অন্যের বিষয়ে নাক গলানো প্রতিবেশীর ভূমিকায় আছেন ফরাসি অভিনেত্রী ইজাবেল উপের। অন্যদিকে হামাগুচির ‘অল অব অ্যা সাডেন’ নির্মিত হয়েছে বার্ধক্যে বয়স্কদের যত্নকে কেন্দ্র করে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে মূল প্রতিযোগিতায় রয়েছে জেমস গ্রে পরিচালিত ‘পেপার টাইগার’। এতে আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে হলিউড তারকা স্কারলেট জোহানসন ও অ্যাডাম ড্রাইভারকে। তারা এর আগে ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ম্যারেজ স্টোরি’ ছবিতে জুটি বেঁধেছিলেন।
অস্কারজয়ী রামি মালেক অভিনয় করেছেন আইরা স্যাক্স পরিচালিত ‘দ্য ম্যান আই লাভ’-এ। এতে আশির দশকের নিউইয়র্কে এইচআইভি/এইডস সংকটের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
দুই সাবেক স্বর্ণ পাম জয়ী ফিরেছেন এবারের আসরে। জাপানের হিরোকাজু কোরে-এদা ২০১৮ সালে ‘শপলিফটার্স’-এর জন্য স্বর্ণ পাম জিতেছেন। এবার ‘শিপ ইন দ্য বক্স’ ছবির বিষয়বস্তুতে শোক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে রোমানিয়ার ক্রিস্টিয়ান মুনজিউ পরিচালিত পারিবারিক ড্রামা ‘ফিয়র্ড’-এর পটভূমি নরওয়ের প্রত্যন্ত একটি গ্রাম। এতে অভিনয় করেছেন সেবাস্তিয়ান স্তান ও রেনাটে রাইন্সভে।
এবারের আসরের চলচ্চিত্রগুলোতে রাজনৈতিক আবহ রয়েছে, তবে সেসব মূলত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখা যাবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মূল প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত বেলজিয়ামের লুকাস ডন্ট পরিচালিত ‘কাওয়ার্ড’-এর কথা। এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেয়া সৈনিকদের নিয়ে নির্মিত। এছাড়া লাসলো নেমেশের ‘মুলাঁ’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি অধিকৃত ফ্রান্সের প্রতিরোধ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নির্মিত। মূল প্রতিযোগিতার আরেক ছবি ফরাসি নির্মাতা এমানুয়েল মার পরিচালিত ‘অ্যা ম্যান অব হিজ টাইম’-এর পটভূমি ভিশি ফ্রান্স।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অবস্থা টালমাটাল হলেও আয়োজকেরা চলচ্চিত্রকেই কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। তাদের এই মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যাবে আসরের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র ‘দ্য ইলেকট্রিক কিস’-এ।
আন্তঃযুদ্ধকালীন প্যারিসে নির্মিত এই রোমান্টিক কমেডিকে বর্ণনা করা যায়, একটি কল্পকাহিনি এবং চলচ্চিত্রের প্রতি এক স্তুতি গান। ফ্রান্সের পিয়ের সালভাদোরি পরিচালিত ছবিটি দেখানো হবে উৎসব উদ্বোধন ঘোষণার পরপরই।

বেকারত্ব কমাতে শিক্ষায় নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বেকারত্ব নিরসন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রাথমিক থেকে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন খুব সম্ভবত সম্ভব হবে না।
সময়োপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাও সম্ভব নয়। এ কারণেই বর্তমান সরকার একাডেমিক সিলেবাসকে সময়োপযোগী করার কাজ হাতে নিয়েছে।
উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সেতুবন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী আইডিয়া বাস্তবায়নে সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে তারা ক্যাম্পাস থেকেই উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।
শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও প্রযুক্তির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বা বিগ ডাটার মতো প্রযুক্তি একদিকে প্রথাগত চাকরির বাজার সংকুচিত করছে, অন্যদিকে নিত্যনতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে।
এ সময় তিনি উবার, ফেসবুক, আলিবাবা ও এয়ারবিএনবির মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ টেনে বলেন, এদের নিজস্ব কোনো ট্যাক্সি, কন্টেন্ট, পণ্য বা রিয়েল এস্টেট নেই। শুধুমাত্র একটি স্মার্ট ইন্টারফেস ও উদ্ভাবনী আইডিয়া দিয়ে তারা বিশ্ব শাসন করছে। আমাদের প্রচুর মেধাবী মানুষ রয়েছেন, সুযোগ পেলে তাদের পক্ষেও বিশ্বমানের কিছু করা অসম্ভব নয়।
ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ শুরু করতে চায়। যেখানে মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতাকে আলিঙ্গন করার পাশাপাশি দেশজ মূল্যবোধ রক্ষার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমরা সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে হাঁটব, তবে আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের আবহমান কালের ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ যেন হারিয়ে না ফেলি সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসির কর্মশালা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কর্মশালা উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা রূপান্তর : টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শিরোনামে এ কর্মশালা শুরু হয়।
এদিন সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি হিসাবে তারেক রহমান কর্মশালাটির উদ্বোধন করেন।
অধ্যাপক মামুনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনও উপস্থিত আছেন।
তারেক রহমান এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যান গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর; যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার দুই দিন পর। সেদিন তিনি ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। কর্মশালায় পাঁচটি টেকনিক্যাল অধিবেশন থাকছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।
এছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম বদরুজ্জামান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন খান সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন।

অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে কর আরোপের পরিকল্পনা সরকারের
দেশে প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব রাখা হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার (১২ মে) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বাজেট-সংশ্লিষ্ট বৈঠকে এ প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বর্তমানে দেশে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, জিপ, বাস, ট্রাক ও পিকআপের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর আদায় করা হলেও মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এতদিন এই ব্যবস্থার বাইরে ছিল। তবে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে এবার নতুন এই দুই খাতকে করজালের আওতায় আনতে চায় সরকার।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল করমুক্ত রাখা হতে পারে। তবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বছরে ২ হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতার বাইকের জন্য বছরে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণের চিন্তা করছে এনবিআর।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৯ লাখ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই ১১০ সিসির বেশি হওয়ায় নতুন কর কার্যকর হলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা দেখছে সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, গড়ে প্রতিটি মোটরসাইকেল থেকে ৪ হাজার টাকা কর আদায় করা গেলে বছরে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পাওয়া সম্ভব।
এদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও প্রথমবারের মতো করের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী অটোরিকশার জন্য বছরে ৫ হাজার টাকা, পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণ করা হতে পারে।
সরকার ইতোমধ্যে ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া তৈরি করেছে। সেখানে নিবন্ধন সনদ, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ট্যাক্স টোকেন বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব যানবাহনের ওপর এনবিআর নির্ধারিত শুল্ক ও কর আরোপের বিধানও রাখা হয়েছে।
মোটরসাইকেল খাতসংশ্লিষ্টরা অবশ্য নতুন কর আরোপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দেশে গত এক দশকে মোটরসাইকেল শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ হয়েছে এবং এই খাত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। নতুন কর আরোপ করা হলে সাধারণ ব্যবহারকারী, রাইড শেয়ারিং কর্মী ও ডেলিভারি সেবার সঙ্গে জড়িতদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করলেও যানবাহনের মালিকরা পরে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় সেই কর সমন্বয়ের সুযোগ পাবেন। আগামী বাজেট ঘোষণার সময় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে।