সিরাজগঞ্জ , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্লাস্টিকের চেয়ারই চলাচলের একমাত্র সম্বল: চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছেন বৃদ্ধ হুরমুজ আলী Logo বন্যার অবনতি হতে পারে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে Logo সিরাজগঞ্জে এক সপ্তাহে ৪ শিশু ধর্ষণ-বলাৎকারের শিকার Logo ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫৭ দিন পর ফ্লাইট চালু হলো Logo রায়গঞ্জে ভ্যানচালক জাহের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি Logo ব্রহ্মপুত্র নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু Logo কারণ দর্শানোর নোটিশ পেলেন বেলকুচি পৌরসভার সেই প্রকৌশলী Logo কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ট্রাক–মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৩, আহত ১১ Logo যুদ্ধবিরতি ভেঙে লেবাননে হামলা চালাল ইসরায়েল, ৮ জন নিহত Logo যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ: সারাহ কুক

ব্ল্যাকমেইল করে চিকিৎসককে বিয়ে: তালাকের পরও নানাভাবে হয়রানি

ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ের পর তালাকপ্রাপ্ত হয়েও শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসককে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে রত্না খাতুন নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। নানাভাবে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তরুণ ওই চিকিৎসককে সামাজিকভাবে হেয় করতে গণমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

 

 

এসব বিষয়ে প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগী চিকিৎসক তাড়াশ উপজেলার চৌড়া গ্রামের বাসিন্দা ডা. মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে রত্না খাতুনকে বিবাদী করে গত ২৪ মার্চ তাড়াশ থানায় সাধারণ ডায়রী করেছেন। রত্না খাতুন সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের শালুয়াভিটা গ্রামের মো. বেলাল হোসেনের মেয়ে।

 

 

খোজ নিয়ে জানা যায়, বেশ কিছুদিন আগে কৌশলে ডা. মনিরুজ্জামানের চেম্বারে গিয়ে পরিচিত হন ৩৭ বছর বয়সী রত্না খাতুন। তার থেকে ৬ বছরের ছোট চিকিৎসক মনিরুজ্জামানের চেম্বারে মাঝে মধ্যে যাতায়াত করতেন।

 

 

এরই এক পর্যায়ে একদিন রাতে হঠাৎ করেই তাকে রত্না তাকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য বলে। চিকিৎসক মনিরুজ্জামান সরল বিশ্বাস নিয়েই তাকে বোনের বাড়িতে এগিয়ে দিতে যান। আর তখনই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বেশ কয়েকজন লোক মিলে মনিরুজ্জামানকে আটক করে। এ সময় তাকে শারিরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয়।

 

 

রত্না খাতুন তার সাথে মনিরুজ্জামানের সম্পর্ক রয়েছে এমন কথা বলে বিয়ের দাবী জানায়। মনিরুজ্জামানের পরিবারকে না জানিয়ে হুমকি-ধামকি দিয়ে এক প্রকার জোর করেই বিয়ে পড়ানো হয়। ১০ লাখ টাকা দেনমোহরও ধার্য্য করা হয়।

 

 

২০২৫ সালের ৫ জুলাই বিয়ে হলেও স্ত্রী রত্না খাতুন তার বাবার বাড়িতেই থাকতেন। বিভিন্ন পরীক্ষা ও ট্রেনিং নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন মনিরুজ্জামানও।

 

 

জোরপূর্বক বিয়ে হলেও সংসারটাকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার নানা চেষ্টা করছিলেন ডা. মনিরুজ্জামান। কিন্তু কোনভাবেই দুজনের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না।

 

 

এমন অবস্থায় বাধ্য হয়ে কাজী অফিসের মাধ্যমে গত ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ পাঠান ডা. মনিরুজ্জামান। সেই সঙ্গে নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে হলফনামা সম্পাদন করেন তিনি।

 

 

তবে রত্না খাতুন তালাকের নোটিশ গ্রহণ না করে ডাকযোগে আমাকে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। দীর্ঘ ৯০ দিনের মধ্যেও তারা কোন সমঝোতায় আসেনি। ৯০ দিন পর গত জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখে তালাক সম্পন্ন হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কাজী অফিসে তালাকনামার নিবন্ধনও সম্পন্ন হয়েছে।

 

 

তারপরও রত্না খাতুন ডা. মনিরুজ্জামান ও তার পরিবারকে ফোন করে বলে তাকে গ্রহণ না করলে বাড়িতে ঢুকে আত্মহত্যা করবে-এমন হুমকি দিয়ে আসছে। বাধ্য হয়ে মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে তাড়াশ থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন।

 

 

এরই মধ্যে তরুণ এই চিকিৎসকের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিককে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করাচ্ছেন রত্না ও তার পরিবার।

 

 

ভুক্তভোগী ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, আমার সাথে রত্নার কোন সম্পর্ক ছিল না। পরিচয়ের সূত্রধরে আমাকে পরিকল্পিতভাবে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে আটক করা হয়। আটকের পর মারধোর করে জোরপূর্বক বিয়েতে রাজি করায়। এমনকি আমার পরিবারের কাউকেউ জানানো হয়নি। রত্না খাতুন বয়েসে আমার চেয়ে ৫-৬ বছরের বড়। যেভাবেই হোক বিয়ে হয়েছে, আমি সংসারটা কনিটিনিউ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তাদের সঙ্গে কোনভাবেই বনিবনা হচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে আইনসম্মতভাবে তালাক দিয়েছি। দেনমোহরের টাকাও দিতে চেয়েছে। কিন্তু তারা কোনভাবেই সমঝোতায় আসতে চায় না। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য তারা উঠে পড়ে লেগেছে।

 

 

এসব মানসিক টেনশনে আমার ক্যারিয়ারও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আমি ভালোভাবে বিসিএসসহ অন্যান্য পরীক্ষায় অংশ নিতে পারি নাই। ভালো ফলাফলও করতে পারিনি।

 

 

জিডি তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি জিডি তদন্তের জন্য আদালতের কাছে আবেদন দিয়েছি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত শুরু হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

প্লাস্টিকের চেয়ারই চলাচলের একমাত্র সম্বল: চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছেন বৃদ্ধ হুরমুজ আলী

ব্ল্যাকমেইল করে চিকিৎসককে বিয়ে: তালাকের পরও নানাভাবে হয়রানি

আপডেট টাইম : ০৮:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ের পর তালাকপ্রাপ্ত হয়েও শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসককে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে রত্না খাতুন নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। নানাভাবে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তরুণ ওই চিকিৎসককে সামাজিকভাবে হেয় করতে গণমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

 

 

এসব বিষয়ে প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগী চিকিৎসক তাড়াশ উপজেলার চৌড়া গ্রামের বাসিন্দা ডা. মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে রত্না খাতুনকে বিবাদী করে গত ২৪ মার্চ তাড়াশ থানায় সাধারণ ডায়রী করেছেন। রত্না খাতুন সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের শালুয়াভিটা গ্রামের মো. বেলাল হোসেনের মেয়ে।

 

 

খোজ নিয়ে জানা যায়, বেশ কিছুদিন আগে কৌশলে ডা. মনিরুজ্জামানের চেম্বারে গিয়ে পরিচিত হন ৩৭ বছর বয়সী রত্না খাতুন। তার থেকে ৬ বছরের ছোট চিকিৎসক মনিরুজ্জামানের চেম্বারে মাঝে মধ্যে যাতায়াত করতেন।

 

 

এরই এক পর্যায়ে একদিন রাতে হঠাৎ করেই তাকে রত্না তাকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য বলে। চিকিৎসক মনিরুজ্জামান সরল বিশ্বাস নিয়েই তাকে বোনের বাড়িতে এগিয়ে দিতে যান। আর তখনই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বেশ কয়েকজন লোক মিলে মনিরুজ্জামানকে আটক করে। এ সময় তাকে শারিরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয়।

 

 

রত্না খাতুন তার সাথে মনিরুজ্জামানের সম্পর্ক রয়েছে এমন কথা বলে বিয়ের দাবী জানায়। মনিরুজ্জামানের পরিবারকে না জানিয়ে হুমকি-ধামকি দিয়ে এক প্রকার জোর করেই বিয়ে পড়ানো হয়। ১০ লাখ টাকা দেনমোহরও ধার্য্য করা হয়।

 

 

২০২৫ সালের ৫ জুলাই বিয়ে হলেও স্ত্রী রত্না খাতুন তার বাবার বাড়িতেই থাকতেন। বিভিন্ন পরীক্ষা ও ট্রেনিং নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন মনিরুজ্জামানও।

 

 

জোরপূর্বক বিয়ে হলেও সংসারটাকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার নানা চেষ্টা করছিলেন ডা. মনিরুজ্জামান। কিন্তু কোনভাবেই দুজনের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না।

 

 

এমন অবস্থায় বাধ্য হয়ে কাজী অফিসের মাধ্যমে গত ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ পাঠান ডা. মনিরুজ্জামান। সেই সঙ্গে নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে হলফনামা সম্পাদন করেন তিনি।

 

 

তবে রত্না খাতুন তালাকের নোটিশ গ্রহণ না করে ডাকযোগে আমাকে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। দীর্ঘ ৯০ দিনের মধ্যেও তারা কোন সমঝোতায় আসেনি। ৯০ দিন পর গত জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখে তালাক সম্পন্ন হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কাজী অফিসে তালাকনামার নিবন্ধনও সম্পন্ন হয়েছে।

 

 

তারপরও রত্না খাতুন ডা. মনিরুজ্জামান ও তার পরিবারকে ফোন করে বলে তাকে গ্রহণ না করলে বাড়িতে ঢুকে আত্মহত্যা করবে-এমন হুমকি দিয়ে আসছে। বাধ্য হয়ে মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে তাড়াশ থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন।

 

 

এরই মধ্যে তরুণ এই চিকিৎসকের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিককে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করাচ্ছেন রত্না ও তার পরিবার।

 

 

ভুক্তভোগী ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, আমার সাথে রত্নার কোন সম্পর্ক ছিল না। পরিচয়ের সূত্রধরে আমাকে পরিকল্পিতভাবে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে আটক করা হয়। আটকের পর মারধোর করে জোরপূর্বক বিয়েতে রাজি করায়। এমনকি আমার পরিবারের কাউকেউ জানানো হয়নি। রত্না খাতুন বয়েসে আমার চেয়ে ৫-৬ বছরের বড়। যেভাবেই হোক বিয়ে হয়েছে, আমি সংসারটা কনিটিনিউ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তাদের সঙ্গে কোনভাবেই বনিবনা হচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে আইনসম্মতভাবে তালাক দিয়েছি। দেনমোহরের টাকাও দিতে চেয়েছে। কিন্তু তারা কোনভাবেই সমঝোতায় আসতে চায় না। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য তারা উঠে পড়ে লেগেছে।

 

 

এসব মানসিক টেনশনে আমার ক্যারিয়ারও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আমি ভালোভাবে বিসিএসসহ অন্যান্য পরীক্ষায় অংশ নিতে পারি নাই। ভালো ফলাফলও করতে পারিনি।

 

 

জিডি তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি জিডি তদন্তের জন্য আদালতের কাছে আবেদন দিয়েছি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত শুরু হবে।