সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই নূরজাহানের

নূরজাহান বেগম। ছবি : সংগৃহীত

একটি ছোট ঝুপড়ি ঘর, যা দূর থেকে দেখলে আবর্জনার স্তূপ বা মুরগির খাঁচা বলে ভ্রম হতে পারে। এমনই এক জরাজীর্ণ ঘরে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন পার করছেন রংপুরের পীরগাছা উপজেলার সাতভিটা গ্রামের নূরজাহান বেগম (৫০)। কৈশোরে বাবা-মাকে হারানোর পর থেকে শুরু হওয়া তার জীবনযুদ্ধের কষ্টের প্রহর যেন শেষই হচ্ছে না।

 

 

 

জানা গেছে, নূরজাহানের জীবনকাহিনি কেবলই বঞ্চনার। শৈশবে এতিম হওয়ার পর মামাদের আশ্রয়ে বড় হলেও সেখানে জোটেনি একটু স্বস্তি। বিয়ের পর সংসারে সুখের মুখ দেখার আগেই মানসিক প্রতিবন্ধী স্বামী মারা যান। এরপর থেকেই শুরু হয় তার যাযাবর জীবন।

 

 

 

বর্তমানে খালার জমিতে এক কোণে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তিনি। মানুষের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করে যা পান, তা দিয়েই কোনোমতে একবেলা খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছেন এই অসহায় নারী।

 

 

সরেজমিনে দেখা যায়, নূরজাহানের বর্তমান বাসস্থানটি এতটাই নিচু যে সেখানে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর কোনো উপায় নেই। ভাঙা বেড়া আর ছেঁড়া পলিথিনের আবরণে তৈরি এই ঘরে রোদ-বৃষ্টি সমানভাবে হানা দেয়।

নূরজাহান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, শীতকালে কুয়াশায় শরীর জমে যায়, রাতে ঘুমানোর উপায় থাকে না। আর বর্ষা এলে বৃষ্টির পানিতে বিছানাপত্র সব ভিজে একাকার হয়ে যায়। আমার চাওয়া শুধু একটু মাথা গোঁজার মতো শক্ত ঘর আর শীত কাটানোর জন্য একটা কম্বল।

 

 

নূরজাহানের প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের মতে, এই বয়সে এমন পরিবেশে বসবাস করা যে কোনো মানুষের জন্য অমানবিক। নূরজাহান আজ একা, তার পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো আপনজন নেই। এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি সাহায্য বা কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি যদি এগিয়ে আসেন, তবেই হয়তো এই নিঃস্ব নারীর শেষ জীবনটা একটু শান্তিতে কাটবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই নূরজাহানের

আপডেট টাইম : ১২:৩২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

একটি ছোট ঝুপড়ি ঘর, যা দূর থেকে দেখলে আবর্জনার স্তূপ বা মুরগির খাঁচা বলে ভ্রম হতে পারে। এমনই এক জরাজীর্ণ ঘরে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন পার করছেন রংপুরের পীরগাছা উপজেলার সাতভিটা গ্রামের নূরজাহান বেগম (৫০)। কৈশোরে বাবা-মাকে হারানোর পর থেকে শুরু হওয়া তার জীবনযুদ্ধের কষ্টের প্রহর যেন শেষই হচ্ছে না।

 

 

 

জানা গেছে, নূরজাহানের জীবনকাহিনি কেবলই বঞ্চনার। শৈশবে এতিম হওয়ার পর মামাদের আশ্রয়ে বড় হলেও সেখানে জোটেনি একটু স্বস্তি। বিয়ের পর সংসারে সুখের মুখ দেখার আগেই মানসিক প্রতিবন্ধী স্বামী মারা যান। এরপর থেকেই শুরু হয় তার যাযাবর জীবন।

 

 

 

বর্তমানে খালার জমিতে এক কোণে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তিনি। মানুষের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করে যা পান, তা দিয়েই কোনোমতে একবেলা খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছেন এই অসহায় নারী।

 

 

সরেজমিনে দেখা যায়, নূরজাহানের বর্তমান বাসস্থানটি এতটাই নিচু যে সেখানে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর কোনো উপায় নেই। ভাঙা বেড়া আর ছেঁড়া পলিথিনের আবরণে তৈরি এই ঘরে রোদ-বৃষ্টি সমানভাবে হানা দেয়।

নূরজাহান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, শীতকালে কুয়াশায় শরীর জমে যায়, রাতে ঘুমানোর উপায় থাকে না। আর বর্ষা এলে বৃষ্টির পানিতে বিছানাপত্র সব ভিজে একাকার হয়ে যায়। আমার চাওয়া শুধু একটু মাথা গোঁজার মতো শক্ত ঘর আর শীত কাটানোর জন্য একটা কম্বল।

 

 

নূরজাহানের প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের মতে, এই বয়সে এমন পরিবেশে বসবাস করা যে কোনো মানুষের জন্য অমানবিক। নূরজাহান আজ একা, তার পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো আপনজন নেই। এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি সাহায্য বা কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি যদি এগিয়ে আসেন, তবেই হয়তো এই নিঃস্ব নারীর শেষ জীবনটা একটু শান্তিতে কাটবে।