সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

মারা গেছেন সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

ছবি : সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।

 

 

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। কয়েক দিন ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অক্টোবর মাসে তিনি গ্রেপ্তার হন। ২০২৫ সালের আগস্টে অসুস্থ হয়ে পড়লে পিজি হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরবর্তীকালে জামিনে মুক্ত হন। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

 

তিনি দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

 

 

 

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে সাবেদুর রহমান সুমু বাংলানিউজকে বলেন, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাদ আসর মিরসরাই উপজেলার মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম শহরে কোনো জানাজা অনুষ্ঠিত হবে না। ঢাকায় একটি জানাজা হবে, তবে সেটির স্থান ও সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

 

 

 

 

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি মীরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম এস রহমান তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য। মা পাঞ্জেবুনেছা। পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ১৯৬৬ সালে তিনি লাহোর থেকে খনিজ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সাহসিকতার জন্য লাহোরে বাঙালি ছাত্রদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় মোশাররফ ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। সেখানে পড়াশোনাকালে ১৯৬৬ সালে লাহোরে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রদের নিয়ে মোশাররফ হোসেন ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে মীরসরাই আসন থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন চট্টগ্রামের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তিনি গেরিলাযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বপরূপ বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে বাংলাদেশ সরকার ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।

 

 

সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নিলে ভয়াবহ হতে পারে পরিস্থিতি

হাম পরিস্থিতির মাঝেই চোখ রাঙাচ্ছে ডিপথেরিয়া

দেশে হামের ব্যাপক সংক্রমণের মধ্যেই নতুন উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে আরেক প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ ডিপথেরিয়া। প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এ রোগ এখন আবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় শনাক্ত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং শিশুদের কমে যাওয়া রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে পরিস্থিতি বিপজ্জনক দিকে যাচ্ছে।

 

 

 

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সিলেট, হবিগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। রাজধানীর একাধিক হাসপাতালেও এ রোগে আক্রান্তদের অনেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরই মধ্যে এ রোগে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, চলমান হাম পরিস্থিতির মধ্যে ডিপথেরিয়ার বিস্তার শুরু হলে শিশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। তাই সে ধরনের পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সেই লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

সংক্রমণের শুরু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে: ডিপথেরিয়ার বড় প্রাদুর্ভাব প্রথম দেখা যায় ২০১৭ সালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ওই বছরের ৩ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে ১৫ জনের মৃত্যুসহ ৮০৪ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ১০ নভেম্বর, মেদসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) একটি ক্লিনিকে।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, আক্রান্তদের ৭৩ শতাংশের বয়স ছিল ১৫ বছরের নিচে এবং এর ৬০ শতাংশই নারী। মারা যাওয়া ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জনই ছিল শিশু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তখনই সতর্ক করেছিল, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঘনবসতি,অপুষ্টি ও কম টিকা গ্রহণ পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির কথা বলা হয়েছিল।

 

 

সতর্কতার পরও কার্যকর প্রস্তুতি হয়নি: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আগাম সতর্কতা সত্ত্বেও দেশে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।

 

 

 

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সার্ভিল্যান্স তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সিলেট ও হবিগঞ্জে, ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে (আইডিএইচ) এবং ২৫ মার্চ কামরাঙ্গীরচরে ডিপথেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট ও ২৪ সেপ্টেম্বর আইডিএইচে, ২৬ আগস্ট তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে এবং ৮ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী শনাক্ত হয়। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেওয়া রোগীটি কিশোরগঞ্জ থেকে সংক্রমিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালেও ডিপথেরিয়ার রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।

 

 

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি সংক্রমণের নীরব বিস্তারের ইঙ্গিত। সরকার যদি এ সময়ে নীরব থাকে, তাহলে মারাত্মক সংক্রামক এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

 

 

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন বলেন, মূলত রোহিঙ্গা জনবসতিতে প্রথম ডিপথেরিয়া শনাক্ত হয়। পরে দেশের বিভিন্ন জেলায় রোগী পাওয়া গেছে। কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্যও রয়েছে। হাম-পরবর্তী সময়ে শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ডিপথেরিয়া ছড়িয়ে পড়লে দেশে করুণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

 

 

 

তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ডিপথেরিয়া টিকার বুস্টার ডোজ চালু করতে হবে। ৬ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুদের লক্ষ করে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো গেলে দ্রুত ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

 

 

 

কী এই ডিপথেরিয়া: ডিপথেরিয়া বা করিনেব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরিয়া হলো একটি গ্রাম-পজিটিভ, মুগুর-আকৃতির ব্যাকটেরিয়া. যা জীবনঘাতী সংক্রামক রোগ ডিপথেরিয়ার জন্য দায়ী। এটি অত্যন্ত সংক্রামক ও গুরুতর রোগ, যা গলা, নাক ও শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। এটি টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ তৈরির মাধ্যমে গলায় একটি পুরু ধূসর আস্তরণ সৃষ্টি করে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট, গিলতে সমস্যা এবং হার্ট বা স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে। এটি মূলত হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এর সর্বোত্তম প্রতিরোধ ব্যবস্থা হলো টিকাদান। ঐতিহাসিকভাবে ‘শিশুদের শ্বাসরোধকারী দেবদূত’ নামে পরিচিত এ ব্যাকটেরিয়া প্রধানত ঊর্ধ্ব শ্বাসনালিকে সংক্রমিত করে, তবে এটি ত্বকের ক্ষতও (কিউটেনিয়াস ডিপথেরিয়া) সৃষ্টি করতে পারে।

 

 

 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, ডিপথেরিয়ার প্রধান লক্ষণ হলো গলা ব্যথা, জ্বর, ঘাড়ের গ্রন্থি ফুলে যাওয়া এবং গলায় ঘন ধূসর পর্দা বা আস্তরণ পড়া। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা ব্যবহৃত জিনিসপত্র (তোয়ালে, খেলনা) থেকে এবং সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এ জীবাণু ছড়ায়। শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির অধীনে ডিপিটি ও পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা প্রদান এবং হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখার মাধ্যমে এ রোগের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। টিকা না নেওয়া শিশু, জনাকীর্ণ স্থানে বসবাসকারী এবং অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ডিপথেরিয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।

 

 

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ: ডিপথেরিয়া নিয়ন্ত্রণে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, ডিপথেরিয়া অ্যান্টিটক্সিন, অ্যান্টিবায়োটিক এবং জরুরি টিকাদান কর্মসূচির ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি বিশেষভাবে ছোট শিশু, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

 

 

 

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ডিপথেরিয়ার একটি ভয়াবহ সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিপথেরিয়া অ্যান্টিটক্সিন সেরাম এবং বেনজাইল পেনিসিলিনের মতো ওষুধগুলো এখন বিরল। ফলে হাসপাতালে ডিপথেরিয়া রোগী এলে তাদের সুস্থতা দান করা কঠিন হয়ে পড়বে। তা ছাড়া হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের চাপে হামের রোগীদের জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমন সময় ডিপথেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে হামের পর বাংলাদেশ নতুন আরেকটি সংক্রামক সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

 

 

 

যা বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: সামগ্রিক বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ডিপথেরিয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত, করণীয় নিয়ে আমরা ভাবছি।

 

 

 

সুত্র: “দৈনিক কালবেলা”

 

 

 

স্কুলের সেফটি ট্যাংকের দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেফটি ট্যাংকে মরা মুরগি ফেলার ঘটনায় তীব্র দুর্গন্ধে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।
এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে অবস্থিত টয়লেটের সেফটি ট্যাংকের ঢাকনা ভেঙে সেখানে দুর্বৃত্তরা মরা মুরগি ফেলে রাখে। এরপর থেকেই পুরো স্কুলজুড়ে অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেহেলী খাতুন রায়গঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে চলমান পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী নাকে রুমাল চেপে পরীক্ষা দিচ্ছে। তারপরও দুর্গন্ধে মাথা ঘোরা ও বমির মতো সমস্যায় পড়ছে তারা।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, “দরজা-জানালা বন্ধ করেও দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। ক্লাস করতে খুব কষ্ট হচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের আশপাশে অন্তত ৬ থেকে ৭টি মুরগির খামার রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, খামারের কোনো অসাধু ব্যক্তি মৃত মুরগিগুলো সেফটি ট্যাংকে ফেলে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে অভিভাবক আখি খাতুন ও সিদ্দিক প্রামাণিক বলেন, “দুর্গন্ধের কারণে সন্তানরা স্কুলে যেতে চায় না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেহেলী খাতুন বলেন, “থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মরা মুরগির দুর্গন্ধে বিদ্যালয়ে অবস্থান করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান খান বলেন, “প্রশাসন যদি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করার সাহস পাবে না।”
অভিযোগের বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার এসআই শাহীন আলম মুঠোফোনে জানান, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

রায়গঞ্জে মহাসড়কের পাশে অবৈধ পাথর ডিপো, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা বাজার এলাকায় মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ পাথর বাণিজ্যের একাধিক অস্থায়ী ডিপো। ঘুড়কা পাপিয়া হোটেলসংলগ্ন এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে পাথর মজুত ও বিক্রির কার্যক্রম চলায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের জায়গা দখল করে চন্দন সরকার, তরুণ রায়, নিতীশ কুমার সরকার ও আব্দুল লতিফ হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তি এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। উত্তরাঞ্চল থেকে ট্রাকে করে আনা পাথর রাস্তার পাশেই খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। পরে সেখান থেকেই খুচরা ও পাইকারি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটিকুমরুল মহাসড়কের ঘুড়কা পাপিয়া হোটেল এলাকায় রাস্তার ধারে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে পাথরের স্তূপ। কোথাও কোথাও মহাসড়কের একাংশ দখল করে দাঁড়িয়ে আছে পাথরবাহী ট্রাক। এতে সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং বাড়ছে যানজট।
স্থানীয় মিশুকচালক আতিকুল ইসলাম ও লতিফ জানান, মহাসড়কের পাশে ট্রাক দাঁড় করিয়ে পাথর ওঠানামার কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সামান্য অসাবধানতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া ধুলাবালুর কারণে পরিবেশ দূষণও বাড়ছে।
একাধিক পরিবহন চালক অভিযোগ করে বলেন, রাতে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক ও পাথরের স্তূপের কারণে গাড়ি চালাতে চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। অন্ধকারে অনেক সময় সামনে কী রয়েছে তা বোঝা যায় না।
সচেতন মহলের দাবি, অনুমোদন ছাড়াই মহাসড়কের পাশে এভাবে পাথর মজুত ও বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে সংশ্লিষ্টরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।
এ বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে পাথর মজুত ও বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লাপাড়ায় পুকুর খননের সময় উদ্ধার কষ্টিপাথরের প্রাচীন দুর্গা মূর্তি

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় শত বছরের পুরানো একটি পুকুর খননের সময় কষ্টিপাথরের তৈরি একটি দুর্গা মূর্তি উদ্ধার হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে উপজেলার বাঙালা ইউনিয়নের চেংটিয়া বড় আইন্দা পুকুরে খননকাজ চলাকালে শ্রমিকরা মূর্তিটি দেখতে পেয়ে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে শত শত মানুষের ভিড় জমে।
পুকুরের মালিক রুহুল আমীন জানান, প্রায় ১৬ বিঘা আয়তনের এই প্রাচীন পুকুর থেকে এর আগেও কষ্টিপাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হয়েছিল। এবার একই পুকুর থেকে দুর্গা মূর্তি পাওয়া গেল।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, শত বছরের পুরানো পুকুরে কষ্টিপাথরের একটি দুর্গা মূর্তি পাওয়া গেছে। মূর্তিটির ওজন আনুমানিক ৪০ কেজি হতে পারে। বিষয়টি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মূর্তিটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঈদ উপলক্ষে ২৩ মে’র ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু আজ

 

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বুধবার (১৩ মে) থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। অবৈধ টিকিট বিক্রি রোধে শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।

 

 

 

বুধবার (১৩) সকাল ৮টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। আর দুপুর ২টায় পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে।

 

 

 

রেলওয়ে জানিয়েছে, যাত্রীরা শুধু বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন ওয়েবসাইট এবং ‘রেল সেবা’ অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

 

ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের নেওয়া কর্মপরিকল্পনা থেকে জানা গেছে, ঈদের আগে পাঁচ দিনের ট্রেনের আসনের টিকিট বিশেষ ব্যবস্থায় অগ্রিম বিক্রি করা হবে। আন্তঃনগর ট্রেনের ২৪ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৪ মে, ২৫ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৫ মে, ২৬ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৬ মে এবং ২৭ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৭ মে।

 

রেলওয়ের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, একজন যাত্রী ঈদ অগ্রিম যাত্রার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ একবার টিকিট কিনতে পারবেন এবং প্রতি ক্ষেত্রে সর্বাধিক চারটি টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। ঈদ অগ্রিম যাত্রার টিকিট রিফান্ড করা যাবে না।

 

 

যাত্রীদের অনুরোধে যাত্রার দিন মোট আসনের (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে।

 

 

 

এদিকে, ঈদের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২৮, ২৯ ও ৩০ মে তারিখের টিকিট বিক্রি করা হবে।

 

 

 

সাদিক কায়েমের বিয়ের দাওয়াত পেলেন স্পিকার

 

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। এসময় তিনি স্পিকারকে তার বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে সাদিক কায়েমের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

 

ওই পোস্টে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।

এসময় তিনি স্পিকারকে তার বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন। স্পিকার জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য শুভকামনা ও দোয়া জানিয়েছেন। পাশাপাশি ডাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। আগামীর বাংলাদেশের রোল মডেলে উন্নীত হোক ডাকসু এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

 

 

 

সোনাইমুড়ীতে ইয়াবাসহ তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি আটক

 

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ এক তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) নোয়াখালী জেলা কার্যালয়।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সোনাইমুড়ী থানাধীন জয়াগ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের যোগিখিল পাড়া উলুপাড়ায় আব্দুর রহমান ঠিকাদার বাড়ি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে যোগিখিল পাড়ার বাসিন্দা ছালে আহম্মেদ প্রকাশ খোকন (৪২)-এর নিজ বসতঘরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫২ পিস মিথাইল অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির ১ হাজার ৭০০ টাকা নগদ অর্থ এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি সিমযুক্ত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

আটক ছালে আহম্মেদ প্রকাশ খোকন উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের যোগিখিল পাড়া এলাকার মৃত আজিজুল হকের ছেলে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ জানান, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

হাম আক্রান্ত শিশুদের কাতরতার মাঝে হাসপাতালের নিচে নার্সদের নাচ

 

আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নার্সদের নাচ-গান ও আনন্দ-উল্লাস ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলাকালে উচ্চ শব্দে ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে নাচানাচি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীর স্বজন ও সচেতন নাগরিকরা।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষে হাসপাতালের নার্সরা একটি শোভাযাত্রা বের করেন। শোভাযাত্রার আগে হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে ব্যান্ড পার্টির বাদ্যযন্ত্রের তালে ধামাইল গানের সঙ্গে নাচতে দেখা যায় নার্সদের। এ সময় হাসপাতালের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠিক ওই সময় হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত প্রায় ৮৫ জন শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। শিশুদের কান্না ও যন্ত্রণার মধ্যেই নিচতলায় উচ্চ শব্দে গান-বাজনা চলতে থাকে। পরে নার্সদের নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে সেবার মান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। এক অভিভাবক বলেন, আমার সন্তান হামে আক্রান্ত হয়ে ছটফট করছে। হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না, সব বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। ইনজেকশন দেওয়ার জন্য ডাকলে নার্সরা রোগীর কাছে না এসে উল্টো রোগীকে তাদের কাছে নিয়ে যেতে বলেন।

সুনামগঞ্জ ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপের সদস্য শবনমদোজা জ্যোতি বলেন, নার্স দিবস পালন করার অধিকার তাদের আছে। তবে হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় উচ্চ শব্দে ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে নাচানাচি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে রোগীদের চিকিৎসা ও বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটে।

সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাঈদ বলেন, সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আজকের এই আয়োজন জবাবদিহিতার অভাবেরই একটি উদাহরণ। হাসপাতালের ভেতরে এমন আনন্দ-উল্লাস মানবিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

 

 

 

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, নার্স দিবসে আনন্দ উপভোগ করা দোষের কিছু নয়। তবে সময়, পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে এসব আয়োজন করা উচিত ছিল।

 

 

নিজস্ব সম্পদ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন নেই: জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রী

 

নিজস্ব সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি পরিদর্শন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই মন্তব্য করেন।

 

 

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এটি জনগণের সরকার। তাই দেশের জনগণের যে সম্পদ রয়েছে, সেই সম্পদ জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। দেশে নিজস্ব সম্পদ থাকা সত্ত্বেও কেন আমরা বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করবো?’

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার’ দেশীয় সম্পদকে অবহেলা করে বিদেশি জ্বালানি আমদানিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। এতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এবং মধ্যপাড়া পাথরখনি জনকল্যাণে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘নিজেদের সম্পদ থাকতে বিদেশি সম্পদ আমদানি নয়।’

 

বর্তমান সরকার দেশীয় জ্বালানি সম্পদ আহরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও সম্মতি নিয়ে সরকার কাজ করছে।

 

 

 

এর আগে মন্ত্রী বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মধ্যপাড়া পাথরখনির কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক সভা করেন।

 

 

সভায় উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এবং এ জেড এম রেজওয়ানুল হক।

 

 

সভা শেষে মন্ত্রী বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মধ্যপাড়া পাথরখনি ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

 

 

আক্কেলপুরে ফসলি মাঠ থেকে হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

 

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় ফসলি মাঠ থেকে হাত-পা বাঁধা ও মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের নওজর গ্রামের নিশ্চিন্তা মাঠ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে মাঠের ভেতরে মাটিচাপা অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে খবর দেওয়া হলে আক্কেলপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের পরনে লুঙ্গি এবং নীল ও ঘিয়া রঙের গেঞ্জি ছিল। তার হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, ২ থেকে ৩ দিন আগে তাকে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে গুম করার চেষ্টা করা হয়েছে। নিহতের বয়স আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর।

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, “মাঠের মধ্যে মরদেহ পাওয়ার খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। লোকটিকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।”

তিলকপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সেলিম রেজা বাদশা জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। তবে এখন পর্যন্ত নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীন রেজা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

রাজশাহীকে সবুজ ও আধুনিক নগরী গড়তে কাজ চলছে: রাসিক প্রশাসক রিটন

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন বলেছেন, নগরবাসীর আশা-আকাঙ্খা বাস্তবায়নে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবেন। সকলের সহযোগিতায় রাজশাহীকে আরও সবুজ, সুন্দর, স্বাস্থ্যকর ও শান্তির নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে নগর ভবনের সরিৎ দত্তগুপ্ত সভাকক্ষে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ নগরীর উন্নয়ন, নাগরিক সেবা, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এসময় রাসিক প্রশাসক বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান আমাকে নগরবাসীর সেবার সুযোগ দিয়েছেন। নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নগরীর গাছের পরিচর্যা ও নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে তিন লক্ষাধিক বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নগরবাসীর মাঝে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
রাসিক প্রশাসক আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম, মশক নিধনে ফগার স্প্রে, সড়কের খানাখন্দ মেরামত ও নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উন্নয়ন স্কিম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
হাম-রুবেলা প্রতিরোধ কার্যক্রম নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। বলেন, “সিটি কর্পোরেশনগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম আমরা জনসচেতনতামূলক লিফলেট তৈরি করে বাড়ি বাড়ি বিতরণ করেছি। হাম-রুবেলা টিকাদানে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে।”
সভায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামসুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু কাউসার মাখনসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালাইয়ে ইনডোর স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন জেলা প্রশাসক

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে আধুনিক ইনডোর স্টেডিয়াম। আজ মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে উপজেলা চত্বরে এই স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজের ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব মোঃ মাসুদ রানা প্রধান।

 

​ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনায় জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, “স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনকে চাঙ্গা করতে এবং যুবসমাজকে মাঠমুখী করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই ইনডোর স্টেডিয়ামটি কালাইয়ের খেলোয়াড়দের জন্য একটি আধুনিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।” তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছতার সাথে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

 

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হান এবং কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা।

 

​অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার শ্রী তন্ময় কুন্ডুসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। জয়পুরহাট জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে ও বাস্তবায়নে এই প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এমপির পরিদর্শনের পর গজারিয়ায় খালের অবৈধ বাঁধ অপসারণ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার একটি খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে নির্মিত অবৈধ বাঁধ অপসারণ করেছে অভিযুক্ত একটি কোম্পানি।

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর কোম্পানিটি বাঁধ অপসারণে উদ্যোগ নেয়।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে উপজেলার বাউশিয়া বড়কান্দী এলাকায় মেঘনা নদীর সংযোগ গাদি কাটা খালের ওপর নির্মিত মাটির বাঁধ এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে অপসারণ করতে দেখা যায়। এ সময় খালের দুই পাশে ফেলে রাখা মাটির স্তূপ সরিয়ে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার কাজও চলতে থাকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় আশপাশের কৃষিজমি ও গ্রামে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, “খালটি এলাকার কৃষকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাঁধ দেওয়ার কারণে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এমপি সাহেব আসার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”

আরেক বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “অনেকদিন ধরে আমরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম। খাল দখল ও পানি প্রবাহ বন্ধ হলে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ে। এখন বাঁধ সরানোয় পানি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে।”

এ বিষয়ে সাহারা ট্রেডিং লিমিটেড এর প্রজেক্ট ম্যানেজার আলী আহম্মদ জানান, এটি স্থায়ী কোনো বাঁধ নয় বরং শ্রমিকদের চলাচলের সুবিধার জন্য অস্থায়ীভাবে নির্মিত হয়েছিল। তিনি বলেন, বর্তমানে তা অপসারণ করা হচ্ছে এবং সেখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান জানান, খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি নজরদারিতে আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন বলেন, “খাল, কৃষিজমি কিংবা সরকারি জায়গা দখল করে কেউ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। স্থানীয়দের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

শাহজাদপুরে ব্র্যাক সিড এন্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

শাহজাদপুরে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে ডিলার ও রিটেইলারদের নিয়ে উত্তম কৃষি চর্চায় টেকসই, নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) উপজেলার মশিপুর গোধুলি বেলা কমিউনিটি সেন্টারে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

হাজী মো: আতাহার আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো: আনোয়ার সাদাত।

 

 

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ব্র্যাক সিডের হেড অব সেলস কৃষিবিদ মো: এম এ মনসুর লিওন, সিনিয়র প্রোডাক্ট ম্যানেজার ( হাইব্রিড ধান) কৃষিবিদ মো: হাবিবুর রহমান, মানিক রাহা, মো ফেরদৌস আলম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন কৃষি বিদ মধুসূদন কুমার মন্ডল। এসময় উল্লাপাড়া টেরিটোরির ১০০ জন বীজ ব্যবসায়ীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে উপস্থিত সকল বীজ ব্যবসায়ীদের brac seed family গ্রুপে যুক্ত করে দেওয়া হয়।

 

 

 

অনুষ্ঠান শেষে গত আমন মৌসুমে পুরস্কারপ্রাপ্ত ডিলার এরং রিটেলারদের পুরস্কার দেওয়া হয় ।

 

 

 

ব্র্যাক সিডের গুণগত মানের বীজ নিয়ে বক্তারা আলোচনা করেন। সবাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে ব্র্যাক সিডের বীজ কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিবেন।

 

 

 

ঠাকুরগাঁওয়ের তাঁত শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে: ফখরুল কন্যা ড. শামারুহ মির্জা

ঠাকুরগাঁওয়ে কেশুর বাড়ী এলাকার তাঁতিদের সঙ্গে মতবিনিময় ও তাঁতশিল্প পরিদর্শন করেছেন বিএনপি’র মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর বড় কন্যা ডক্টর শামারুহ মির্জা।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের কেশুরবাড়ী তাঁতী পাড়ায় গিয়ে তিনি তাঁতশিল্পীদের সাথে মতবিনিময় করেন।
এ সময় তিনি দেশের বাজারে তাঁত শিল্পকে পরিচিত করে শিল্পটিকে পুনরুজ্জীবিত ও প্রতিষ্ঠা করার আশা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, দেশের তাঁত শিল্প বর্তমানে ক্রান্তিকালীন সময় পার করছে। সরকারের ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ স্লোগানের আলোকে এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এ সময় তিনি তাঁতিদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের এলাকায় ব্র্যাক থেকে লোকজন এসে তাঁতশিল্প নিয়ে আলোচনা করেছে। আড়ংয়ের মাধ্যমে তাঁতজাত পণ্য বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁতিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আধুনিক ও মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে সহযোগিতা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে ব্র্যাক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি এবং আপনাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।
নির্বাচনে দেওয়া অঙ্গীকার এর কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, আপনারা আমার আব্বাকে নির্বাচিত করেছেন। আপনাদের যেকোনো সমস্যা হলে ইউনিয়নের নেতাদের মাধ্যমে জানাবেন, সব কথা আমাদের কাছে পৌঁছে যাবে। তাঁতশিল্প যেন আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে বিষয়ে আমরা কাজ করতে চাই।
এ সময় ড. শামারুহ মির্জা স্থানীয় তাঁতশিল্প ঘুরে দেখেন এবং তাঁতিদের তৈরি কম্বল ক্রয় করেন। তাঁর এই উদ্যোগে স্থানীয় তাঁতিদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
স্থানীয় তাঁতশিল্পী শ্যামলি রানী বলেন, একসময় এই এলাকায় তাঁতশিল্প খুব জনপ্রিয় ছিল। এখন অনেক তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ না থাকায় মানুষ মাঠে-ঘাটে শ্রমিকের কাজ করতে যাচ্ছে। যদি আবার এই শিল্প চালু হয়, তাহলে গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।
রবিন্দ নামে এক তাঁতী বলেন, তাঁতের সুতা এখন অনেক দূর থেকে সংগ্রহ করতে হয়, দামও অনেক বেশি। ফলে খরচ বাড়ছে কিন্তু লাভ কমে যাচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা পেলে এই শিল্প আবার আগের অবস্থায় ফিরতে পারবে। আমরা আশা করি মহাসচিব স্যারের মেয়ে এ উদ্যোগ নিবেন।
স্থানীয়দের দাবি, একসময় কেশুর বাড়ী এলাকার শতাধিক পরিবার তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত থাকলেও অবহেলা, কাঁচামালের সংকট ও বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে ধীরে ধীরে এ শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমানে অনেক তাঁত অচল হয়ে পড়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে ড. শামারুহ মির্জার এই সফর ও সহযোগিতার আশ্বাস নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন তাঁতশিল্পীরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ আশরাফুল হক, ৪নং বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাহফুজুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শাহিন আলম, বালিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক গফুর, বড়গাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রমজান আলীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

টাইগারদের টেস্ট জয়ে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ জেতায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

 

এদিন ঢাকার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের জয় পায় টাইগাররা।

এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ দুটি টেস্ট তাদের দেশেই জিতেছিল বাংলাদেশ; এবার জয় দেশের মাটিতে।

দলটির বিপক্ষে টানা তৃতীয় টেস্ট জয় টাইগারদের। মিরপুর টেস্টে ২৬৮ রানের টার্গেট দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ১৬৩ রানে।

 

মাদক সংশ্লিষ্টতায় পুলিশের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: আইজিপি

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, পুলিশবাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

 

 

 

আইজিপি বলেন, পুলিশের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনআস্থা ধরে রাখার বিষয়ে বাহিনী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। মাদকবিরোধী অবস্থানকে আরও কঠোর করা হয়েছে।

 

মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, দেশের যুব সমাজ এবং ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হচ্ছে মাদক। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তবে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে মাদক সংশ্লিষ্টতায় জড়িত কিছু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে বাহিনীর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে।

 

 

আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ একটি ঐতিহ্যবাহী বাহিনী হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ দমনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, পুরস্কারপ্রাপ্ত সদস্যদের এই অর্জন শুধু স্বীকৃতিই নয়, এটি তাদের দায়িত্ববোধ, পেশাদারিত্ব ও নেতৃত্বগুণেরও প্রতিফলন।

 

 

 

দেশের কল্যাণে আরও নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, এসব সাফল্য ভবিষ্যতে অন্য সদস্যদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।

 

স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী, বাজারে অনিশ্চয়তার ছায়া

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। একই সঙ্গে ডলার ও তেলের দাম বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সুদের হার নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্সের।

 

 

 

মঙ্গলবার স্পট স্বর্ণের দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৯৮ দশমিক ২২ ডলারে নেমেছে। এর আগে দিনটিতে স্বর্ণের দাম তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল।

 

 

 

অন্যদিকে জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার ০.৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭০৬ দশমিক ১০ ডলারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানে রেখেছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মূল্যস্ফীতি তথ্য প্রকাশের আগে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচুতে থাকার আশঙ্কাও নতুন করে জোরালো হয়েছে, যা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে।

 

কোরবানির হাটে চাঁদাবাজি হলে দ্রুত হটলাইনে জানান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল আজহায় পশুর হাটে চাঁদাবাজি বন্ধে হটলাইন চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসময় চাঁদাবাজির ঘটনা জানানোর জন্য ১৬৬১১৩ হটলাইন নাম্বারে ফোন দেওয়ার অনুরোধও জানান তিনি।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভা শেষে গণমাধ্যমে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

 

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ঈদুল আজহার আগের এবং পরের সাতদিন পুলিশ হেডকোয়ার্টারে মনিটরিং সেল করা হবে। এছাড়া কোরবানির সব পশুর হাটেই আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। এবং পশুর হাটে সকল প্রকার চাঁদাবাজি বন্ধে হটলাইন চালু করা হবে।

তিনি বলেন, ঈদুল আজহায় নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা থাকবেন, তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মানুষের নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৫টি পশুর হাট হবে আর ১১টি হবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে।

এছাড়া কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের জন্য সরকার ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলেও জানান মন্ত্রী।

 

 

 

মন্ত্রী আরও বলেন, ঈদের আগে সব গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ভাতা পরিশোধ করা হবে। বিজিএমইএ এবং বিকিএমইএ এ বিষয়ে রাজি হয়েছে।

 

 

 

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি দাবি করেন, ‘চাঁদাবাজির কারণে বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চাঁদাবাজি কোথায় বেড়েছে, সেই তথ্য পেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারব।’

 

 

 

এদিকে, গত ৩০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, মাদক কারবারি ও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। বিশেষ করে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেফতারে জোর দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদরদপ্তর, ডিএমপি ও জেলা পুলিশ সুপারদের নিয়মিতভাবে অভিযানের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

 

 

চলচ্চিত্রে ইতিহাস বিকৃতি রোধে সচেতনতামূলক কর্মশালা

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই)-এর যৌথ আয়োজনে “ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র এবং ঐতিহাসিক বিষয়বস্তু অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সঠিক ইতিহাস উপস্থাপন এবং অপতথ্য প্রদান রোধ” শীর্ষক এক কর্মশালা আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

কর্মশালার সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন বিসিটিআই-এর উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মো. মোকছেদ হোসেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. শাহ মো. নিস্তার জাহান কবীর।

 

 

 

মূল প্রবন্ধে ড. শাহ নিস্তার কবীর ইতিহাসভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইতিহাস ও ইতিহাসনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণের মূল দায়িত্ব হলো সত্যকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা এবং অপতথ্য বা বিকৃত ইতিহাস থেকে বিরত থাকা। নতুন নির্মাতাদের মধ্যে ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা ও দায়বদ্ধতা তৈরি করাই এ ধরনের কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত মতাদর্শ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থকে প্রাধান্য দিলে ইতিহাস বিকৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রে এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক জনাব এ এস এম জাহীদ, বাংলাদেশ ফিল্ম এডিটরস গিল্ডের সভাপতি আবু মুসা দেবু, ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ অফ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরউল্লাহ এবং পরিচালক জনাব মো. মসিহউদ্দিন শাকের।

 

 

‘সূর্যদীঘল বাড়ী’ চলচ্চিত্রের পরিচালক জনাব মো. মসিহউদ্দিন শাকের বলেন, চলচ্চিত্র সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এক্ষেত্রে সত্য অত্যন্ত অপরিহার্য, কারণ সত্যই সুন্দর। সংস্কৃতির অংশ হিসেবে আমরা অবশ্যই সত্য ইতিহাসনির্ভর চলচ্চিত্র দেখতে চাই। শুধু পুঁথিগত জ্ঞান নয়, জীবন থেকেও অনেক কিছু শিখতে হবে। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক জনাব ম. জাভেদ ইকবাল তাঁর সভাপতির বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। ভবিষ্যতে বিসিটিআই-এর শিক্ষার্থীদের হাত ধরে সত্য ইতিহাসনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

 

 

 

বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক জনাব এ এস এম জাহীদ বলেন, ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে সত্যকে। অপতথ্য ও অসত্য অনেক সময় সমাজে বড় ধরনের বিভ্রান্তি ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

 

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন বলেন, ইতিহাসনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে গভীর গবেষণা অপরিহার্য। সত্যকে পরিহার করে নির্মিত চলচ্চিত্র দর্শক গ্রহণ করে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

 

 

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালসের শিক্ষক আল আমিন রাকিব তনয় বলেন, ইতিহাসভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ এবং এর জন্য যথাযথ গবেষণা ও ডকুমেন্টেশন অত্যন্ত জরুরি।

 

 

 

বিসিটিআই-এর প্রধান নির্বাহী জনাব আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, বন্ধুপ্রতিম প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ভবিষ্যতেও বিসিটিআই-এর শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে বলে তিনি আশাবাদী।

 

 

 

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে গাজী মাহবুব, মনিরুল ইসলাম ও ফজলে হকসহ বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ব্যক্তিবর্গ এবং বিসিটিআই-এর শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

 

দেশের মাটিতে টেস্টে প্রথমবার পাকিস্তানকে হারিয়ে টারগারদের ইতিহাস

দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো কোনো টেস্ট ম্যাচে পাকিস্তানকে হারানোর গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সফরকারীদের ১০৪ রানে হারিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। আর তাতেই নতুন ইতিহাস গড়ল টাইগাররা। সেইসঙ্গে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।

 

 

 

২৬৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই পাকিস্তানি ওপেনার ইমাম-উল হককে সাজঘরে ফেরান তাসকিন আহমেদ। তার করা বলে কটবিহাইন্ড হন ইমাম। আউট হওয়ার আগে করেন ৫ বলে ২ রান। আরেক ওপেনার আজান আওয়াইস করেন ৩৩ বলে ১৫ রান। আর দলনেতা নেতা শান মাসুমের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২ রান।

 

 

 

৬৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপেই পড়েছিল পাকিস্তান। চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে দলকে চাপমুক্ত করেন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা। এই জুটিতে আসে ৫১ রান। ফিফটির দেখা পাওয়া ফজলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ১১৩ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ৬৬ রান করেন ফজল। পরের ওভারেই সালমান আগাকে পরাস্থ করেন তাসকিন আহমেদ। সালমান করেন ৩৯ বলে ২৬ রান। এরপর পাকিস্তানের বাকি ব্যাটাররা ছিলেন আসা যাওয়ার মিছিলে।

এর আগে, প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান করেছিল বাংলাদেশ। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ১৭৯ রানে এগিয়ে ছিল টাইগাররা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৫৮ ও মুশফিকুর রহিম ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। পঞ্চম দিন শান্ত ৮৭, মুশফিক ২২, লিটন দাস ১১, মেহেদি হাসান মিরাজ ২৪, তাইজুল ইসলাম ৩, তাসকিন আহমেদ ১১ রানে আউট হন। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন এবাদত হোসেন। এ ছাড়া আগের দিন মাহমুদুল হাসান জয় ৫, সাদমান ইসলাম ১০ ও মুমিনুল হক ৫৬ রানে আউট হন।

 

পাকিস্তানের হাসান আলি ও নোমান আলি ২টি করে উইকেট নেন। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪১৩ ও পাকিস্তান ৩৮৬ রান করেছিল।

2 thoughts on “মারা গেছেন সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মারা গেছেন সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

আপডেট টাইম : ১১:৫৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।

 

 

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। কয়েক দিন ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অক্টোবর মাসে তিনি গ্রেপ্তার হন। ২০২৫ সালের আগস্টে অসুস্থ হয়ে পড়লে পিজি হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরবর্তীকালে জামিনে মুক্ত হন। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

 

তিনি দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

 

 

 

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে সাবেদুর রহমান সুমু বাংলানিউজকে বলেন, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাদ আসর মিরসরাই উপজেলার মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম শহরে কোনো জানাজা অনুষ্ঠিত হবে না। ঢাকায় একটি জানাজা হবে, তবে সেটির স্থান ও সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

 

 

 

 

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি মীরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম এস রহমান তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য। মা পাঞ্জেবুনেছা। পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ১৯৬৬ সালে তিনি লাহোর থেকে খনিজ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সাহসিকতার জন্য লাহোরে বাঙালি ছাত্রদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় মোশাররফ ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। সেখানে পড়াশোনাকালে ১৯৬৬ সালে লাহোরে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রদের নিয়ে মোশাররফ হোসেন ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে মীরসরাই আসন থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন চট্টগ্রামের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তিনি গেরিলাযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বপরূপ বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে বাংলাদেশ সরকার ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।

 

 

সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নিলে ভয়াবহ হতে পারে পরিস্থিতি

হাম পরিস্থিতির মাঝেই চোখ রাঙাচ্ছে ডিপথেরিয়া

দেশে হামের ব্যাপক সংক্রমণের মধ্যেই নতুন উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে আরেক প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ ডিপথেরিয়া। প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এ রোগ এখন আবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় শনাক্ত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং শিশুদের কমে যাওয়া রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে পরিস্থিতি বিপজ্জনক দিকে যাচ্ছে।

 

 

 

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সিলেট, হবিগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। রাজধানীর একাধিক হাসপাতালেও এ রোগে আক্রান্তদের অনেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরই মধ্যে এ রোগে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, চলমান হাম পরিস্থিতির মধ্যে ডিপথেরিয়ার বিস্তার শুরু হলে শিশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। তাই সে ধরনের পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সেই লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

সংক্রমণের শুরু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে: ডিপথেরিয়ার বড় প্রাদুর্ভাব প্রথম দেখা যায় ২০১৭ সালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ওই বছরের ৩ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে ১৫ জনের মৃত্যুসহ ৮০৪ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ১০ নভেম্বর, মেদসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) একটি ক্লিনিকে।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, আক্রান্তদের ৭৩ শতাংশের বয়স ছিল ১৫ বছরের নিচে এবং এর ৬০ শতাংশই নারী। মারা যাওয়া ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জনই ছিল শিশু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তখনই সতর্ক করেছিল, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঘনবসতি,অপুষ্টি ও কম টিকা গ্রহণ পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির কথা বলা হয়েছিল।

 

 

সতর্কতার পরও কার্যকর প্রস্তুতি হয়নি: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আগাম সতর্কতা সত্ত্বেও দেশে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।

 

 

 

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সার্ভিল্যান্স তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সিলেট ও হবিগঞ্জে, ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে (আইডিএইচ) এবং ২৫ মার্চ কামরাঙ্গীরচরে ডিপথেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট ও ২৪ সেপ্টেম্বর আইডিএইচে, ২৬ আগস্ট তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে এবং ৮ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী শনাক্ত হয়। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেওয়া রোগীটি কিশোরগঞ্জ থেকে সংক্রমিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালেও ডিপথেরিয়ার রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।

 

 

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি সংক্রমণের নীরব বিস্তারের ইঙ্গিত। সরকার যদি এ সময়ে নীরব থাকে, তাহলে মারাত্মক সংক্রামক এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

 

 

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন বলেন, মূলত রোহিঙ্গা জনবসতিতে প্রথম ডিপথেরিয়া শনাক্ত হয়। পরে দেশের বিভিন্ন জেলায় রোগী পাওয়া গেছে। কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্যও রয়েছে। হাম-পরবর্তী সময়ে শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ডিপথেরিয়া ছড়িয়ে পড়লে দেশে করুণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

 

 

 

তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ডিপথেরিয়া টিকার বুস্টার ডোজ চালু করতে হবে। ৬ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুদের লক্ষ করে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো গেলে দ্রুত ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

 

 

 

কী এই ডিপথেরিয়া: ডিপথেরিয়া বা করিনেব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরিয়া হলো একটি গ্রাম-পজিটিভ, মুগুর-আকৃতির ব্যাকটেরিয়া. যা জীবনঘাতী সংক্রামক রোগ ডিপথেরিয়ার জন্য দায়ী। এটি অত্যন্ত সংক্রামক ও গুরুতর রোগ, যা গলা, নাক ও শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। এটি টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ তৈরির মাধ্যমে গলায় একটি পুরু ধূসর আস্তরণ সৃষ্টি করে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট, গিলতে সমস্যা এবং হার্ট বা স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে। এটি মূলত হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এর সর্বোত্তম প্রতিরোধ ব্যবস্থা হলো টিকাদান। ঐতিহাসিকভাবে ‘শিশুদের শ্বাসরোধকারী দেবদূত’ নামে পরিচিত এ ব্যাকটেরিয়া প্রধানত ঊর্ধ্ব শ্বাসনালিকে সংক্রমিত করে, তবে এটি ত্বকের ক্ষতও (কিউটেনিয়াস ডিপথেরিয়া) সৃষ্টি করতে পারে।

 

 

 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, ডিপথেরিয়ার প্রধান লক্ষণ হলো গলা ব্যথা, জ্বর, ঘাড়ের গ্রন্থি ফুলে যাওয়া এবং গলায় ঘন ধূসর পর্দা বা আস্তরণ পড়া। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা ব্যবহৃত জিনিসপত্র (তোয়ালে, খেলনা) থেকে এবং সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এ জীবাণু ছড়ায়। শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির অধীনে ডিপিটি ও পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা প্রদান এবং হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখার মাধ্যমে এ রোগের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। টিকা না নেওয়া শিশু, জনাকীর্ণ স্থানে বসবাসকারী এবং অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ডিপথেরিয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।

 

 

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ: ডিপথেরিয়া নিয়ন্ত্রণে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, ডিপথেরিয়া অ্যান্টিটক্সিন, অ্যান্টিবায়োটিক এবং জরুরি টিকাদান কর্মসূচির ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি বিশেষভাবে ছোট শিশু, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

 

 

 

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ডিপথেরিয়ার একটি ভয়াবহ সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিপথেরিয়া অ্যান্টিটক্সিন সেরাম এবং বেনজাইল পেনিসিলিনের মতো ওষুধগুলো এখন বিরল। ফলে হাসপাতালে ডিপথেরিয়া রোগী এলে তাদের সুস্থতা দান করা কঠিন হয়ে পড়বে। তা ছাড়া হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের চাপে হামের রোগীদের জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমন সময় ডিপথেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে হামের পর বাংলাদেশ নতুন আরেকটি সংক্রামক সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

 

 

 

যা বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: সামগ্রিক বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ডিপথেরিয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত, করণীয় নিয়ে আমরা ভাবছি।

 

 

 

সুত্র: “দৈনিক কালবেলা”

 

 

 

স্কুলের সেফটি ট্যাংকের দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেফটি ট্যাংকে মরা মুরগি ফেলার ঘটনায় তীব্র দুর্গন্ধে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।
এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে অবস্থিত টয়লেটের সেফটি ট্যাংকের ঢাকনা ভেঙে সেখানে দুর্বৃত্তরা মরা মুরগি ফেলে রাখে। এরপর থেকেই পুরো স্কুলজুড়ে অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেহেলী খাতুন রায়গঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে চলমান পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী নাকে রুমাল চেপে পরীক্ষা দিচ্ছে। তারপরও দুর্গন্ধে মাথা ঘোরা ও বমির মতো সমস্যায় পড়ছে তারা।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, “দরজা-জানালা বন্ধ করেও দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। ক্লাস করতে খুব কষ্ট হচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের আশপাশে অন্তত ৬ থেকে ৭টি মুরগির খামার রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, খামারের কোনো অসাধু ব্যক্তি মৃত মুরগিগুলো সেফটি ট্যাংকে ফেলে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে অভিভাবক আখি খাতুন ও সিদ্দিক প্রামাণিক বলেন, “দুর্গন্ধের কারণে সন্তানরা স্কুলে যেতে চায় না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেহেলী খাতুন বলেন, “থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মরা মুরগির দুর্গন্ধে বিদ্যালয়ে অবস্থান করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান খান বলেন, “প্রশাসন যদি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করার সাহস পাবে না।”
অভিযোগের বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার এসআই শাহীন আলম মুঠোফোনে জানান, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

রায়গঞ্জে মহাসড়কের পাশে অবৈধ পাথর ডিপো, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা বাজার এলাকায় মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ পাথর বাণিজ্যের একাধিক অস্থায়ী ডিপো। ঘুড়কা পাপিয়া হোটেলসংলগ্ন এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে পাথর মজুত ও বিক্রির কার্যক্রম চলায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের জায়গা দখল করে চন্দন সরকার, তরুণ রায়, নিতীশ কুমার সরকার ও আব্দুল লতিফ হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তি এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। উত্তরাঞ্চল থেকে ট্রাকে করে আনা পাথর রাস্তার পাশেই খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। পরে সেখান থেকেই খুচরা ও পাইকারি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটিকুমরুল মহাসড়কের ঘুড়কা পাপিয়া হোটেল এলাকায় রাস্তার ধারে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে পাথরের স্তূপ। কোথাও কোথাও মহাসড়কের একাংশ দখল করে দাঁড়িয়ে আছে পাথরবাহী ট্রাক। এতে সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং বাড়ছে যানজট।
স্থানীয় মিশুকচালক আতিকুল ইসলাম ও লতিফ জানান, মহাসড়কের পাশে ট্রাক দাঁড় করিয়ে পাথর ওঠানামার কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সামান্য অসাবধানতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া ধুলাবালুর কারণে পরিবেশ দূষণও বাড়ছে।
একাধিক পরিবহন চালক অভিযোগ করে বলেন, রাতে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক ও পাথরের স্তূপের কারণে গাড়ি চালাতে চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। অন্ধকারে অনেক সময় সামনে কী রয়েছে তা বোঝা যায় না।
সচেতন মহলের দাবি, অনুমোদন ছাড়াই মহাসড়কের পাশে এভাবে পাথর মজুত ও বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে সংশ্লিষ্টরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।
এ বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে পাথর মজুত ও বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লাপাড়ায় পুকুর খননের সময় উদ্ধার কষ্টিপাথরের প্রাচীন দুর্গা মূর্তি

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় শত বছরের পুরানো একটি পুকুর খননের সময় কষ্টিপাথরের তৈরি একটি দুর্গা মূর্তি উদ্ধার হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে উপজেলার বাঙালা ইউনিয়নের চেংটিয়া বড় আইন্দা পুকুরে খননকাজ চলাকালে শ্রমিকরা মূর্তিটি দেখতে পেয়ে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে শত শত মানুষের ভিড় জমে।
পুকুরের মালিক রুহুল আমীন জানান, প্রায় ১৬ বিঘা আয়তনের এই প্রাচীন পুকুর থেকে এর আগেও কষ্টিপাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হয়েছিল। এবার একই পুকুর থেকে দুর্গা মূর্তি পাওয়া গেল।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, শত বছরের পুরানো পুকুরে কষ্টিপাথরের একটি দুর্গা মূর্তি পাওয়া গেছে। মূর্তিটির ওজন আনুমানিক ৪০ কেজি হতে পারে। বিষয়টি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মূর্তিটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঈদ উপলক্ষে ২৩ মে’র ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু আজ

 

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বুধবার (১৩ মে) থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। অবৈধ টিকিট বিক্রি রোধে শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।

 

 

 

বুধবার (১৩) সকাল ৮টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। আর দুপুর ২টায় পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে।

 

 

 

রেলওয়ে জানিয়েছে, যাত্রীরা শুধু বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন ওয়েবসাইট এবং ‘রেল সেবা’ অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

 

ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের নেওয়া কর্মপরিকল্পনা থেকে জানা গেছে, ঈদের আগে পাঁচ দিনের ট্রেনের আসনের টিকিট বিশেষ ব্যবস্থায় অগ্রিম বিক্রি করা হবে। আন্তঃনগর ট্রেনের ২৪ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৪ মে, ২৫ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৫ মে, ২৬ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৬ মে এবং ২৭ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৭ মে।

 

রেলওয়ের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, একজন যাত্রী ঈদ অগ্রিম যাত্রার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ একবার টিকিট কিনতে পারবেন এবং প্রতি ক্ষেত্রে সর্বাধিক চারটি টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। ঈদ অগ্রিম যাত্রার টিকিট রিফান্ড করা যাবে না।

 

 

যাত্রীদের অনুরোধে যাত্রার দিন মোট আসনের (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে।

 

 

 

এদিকে, ঈদের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২৮, ২৯ ও ৩০ মে তারিখের টিকিট বিক্রি করা হবে।

 

 

 

সাদিক কায়েমের বিয়ের দাওয়াত পেলেন স্পিকার

 

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। এসময় তিনি স্পিকারকে তার বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে সাদিক কায়েমের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

 

ওই পোস্টে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।

এসময় তিনি স্পিকারকে তার বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন। স্পিকার জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য শুভকামনা ও দোয়া জানিয়েছেন। পাশাপাশি ডাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। আগামীর বাংলাদেশের রোল মডেলে উন্নীত হোক ডাকসু এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

 

 

 

সোনাইমুড়ীতে ইয়াবাসহ তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি আটক

 

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ এক তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) নোয়াখালী জেলা কার্যালয়।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সোনাইমুড়ী থানাধীন জয়াগ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের যোগিখিল পাড়া উলুপাড়ায় আব্দুর রহমান ঠিকাদার বাড়ি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে যোগিখিল পাড়ার বাসিন্দা ছালে আহম্মেদ প্রকাশ খোকন (৪২)-এর নিজ বসতঘরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫২ পিস মিথাইল অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির ১ হাজার ৭০০ টাকা নগদ অর্থ এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি সিমযুক্ত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

আটক ছালে আহম্মেদ প্রকাশ খোকন উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের যোগিখিল পাড়া এলাকার মৃত আজিজুল হকের ছেলে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ জানান, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

হাম আক্রান্ত শিশুদের কাতরতার মাঝে হাসপাতালের নিচে নার্সদের নাচ

 

আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নার্সদের নাচ-গান ও আনন্দ-উল্লাস ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলাকালে উচ্চ শব্দে ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে নাচানাচি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীর স্বজন ও সচেতন নাগরিকরা।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষে হাসপাতালের নার্সরা একটি শোভাযাত্রা বের করেন। শোভাযাত্রার আগে হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে ব্যান্ড পার্টির বাদ্যযন্ত্রের তালে ধামাইল গানের সঙ্গে নাচতে দেখা যায় নার্সদের। এ সময় হাসপাতালের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠিক ওই সময় হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত প্রায় ৮৫ জন শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। শিশুদের কান্না ও যন্ত্রণার মধ্যেই নিচতলায় উচ্চ শব্দে গান-বাজনা চলতে থাকে। পরে নার্সদের নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে সেবার মান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। এক অভিভাবক বলেন, আমার সন্তান হামে আক্রান্ত হয়ে ছটফট করছে। হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না, সব বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। ইনজেকশন দেওয়ার জন্য ডাকলে নার্সরা রোগীর কাছে না এসে উল্টো রোগীকে তাদের কাছে নিয়ে যেতে বলেন।

সুনামগঞ্জ ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপের সদস্য শবনমদোজা জ্যোতি বলেন, নার্স দিবস পালন করার অধিকার তাদের আছে। তবে হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় উচ্চ শব্দে ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে নাচানাচি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে রোগীদের চিকিৎসা ও বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটে।

সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাঈদ বলেন, সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আজকের এই আয়োজন জবাবদিহিতার অভাবেরই একটি উদাহরণ। হাসপাতালের ভেতরে এমন আনন্দ-উল্লাস মানবিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

 

 

 

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, নার্স দিবসে আনন্দ উপভোগ করা দোষের কিছু নয়। তবে সময়, পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে এসব আয়োজন করা উচিত ছিল।

 

 

নিজস্ব সম্পদ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন নেই: জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রী

 

নিজস্ব সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি পরিদর্শন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই মন্তব্য করেন।

 

 

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এটি জনগণের সরকার। তাই দেশের জনগণের যে সম্পদ রয়েছে, সেই সম্পদ জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। দেশে নিজস্ব সম্পদ থাকা সত্ত্বেও কেন আমরা বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করবো?’

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার’ দেশীয় সম্পদকে অবহেলা করে বিদেশি জ্বালানি আমদানিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। এতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এবং মধ্যপাড়া পাথরখনি জনকল্যাণে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘নিজেদের সম্পদ থাকতে বিদেশি সম্পদ আমদানি নয়।’

 

বর্তমান সরকার দেশীয় জ্বালানি সম্পদ আহরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও সম্মতি নিয়ে সরকার কাজ করছে।

 

 

 

এর আগে মন্ত্রী বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মধ্যপাড়া পাথরখনির কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক সভা করেন।

 

 

সভায় উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এবং এ জেড এম রেজওয়ানুল হক।

 

 

সভা শেষে মন্ত্রী বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মধ্যপাড়া পাথরখনি ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

 

 

আক্কেলপুরে ফসলি মাঠ থেকে হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

 

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় ফসলি মাঠ থেকে হাত-পা বাঁধা ও মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের নওজর গ্রামের নিশ্চিন্তা মাঠ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে মাঠের ভেতরে মাটিচাপা অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে খবর দেওয়া হলে আক্কেলপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের পরনে লুঙ্গি এবং নীল ও ঘিয়া রঙের গেঞ্জি ছিল। তার হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, ২ থেকে ৩ দিন আগে তাকে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে গুম করার চেষ্টা করা হয়েছে। নিহতের বয়স আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর।

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, “মাঠের মধ্যে মরদেহ পাওয়ার খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। লোকটিকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।”

তিলকপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সেলিম রেজা বাদশা জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। তবে এখন পর্যন্ত নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীন রেজা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

রাজশাহীকে সবুজ ও আধুনিক নগরী গড়তে কাজ চলছে: রাসিক প্রশাসক রিটন

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন বলেছেন, নগরবাসীর আশা-আকাঙ্খা বাস্তবায়নে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবেন। সকলের সহযোগিতায় রাজশাহীকে আরও সবুজ, সুন্দর, স্বাস্থ্যকর ও শান্তির নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে নগর ভবনের সরিৎ দত্তগুপ্ত সভাকক্ষে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ নগরীর উন্নয়ন, নাগরিক সেবা, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এসময় রাসিক প্রশাসক বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান আমাকে নগরবাসীর সেবার সুযোগ দিয়েছেন। নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নগরীর গাছের পরিচর্যা ও নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে তিন লক্ষাধিক বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নগরবাসীর মাঝে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
রাসিক প্রশাসক আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম, মশক নিধনে ফগার স্প্রে, সড়কের খানাখন্দ মেরামত ও নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উন্নয়ন স্কিম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
হাম-রুবেলা প্রতিরোধ কার্যক্রম নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। বলেন, “সিটি কর্পোরেশনগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম আমরা জনসচেতনতামূলক লিফলেট তৈরি করে বাড়ি বাড়ি বিতরণ করেছি। হাম-রুবেলা টিকাদানে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে।”
সভায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামসুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু কাউসার মাখনসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালাইয়ে ইনডোর স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন জেলা প্রশাসক

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে আধুনিক ইনডোর স্টেডিয়াম। আজ মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে উপজেলা চত্বরে এই স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজের ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব মোঃ মাসুদ রানা প্রধান।

 

​ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনায় জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, “স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনকে চাঙ্গা করতে এবং যুবসমাজকে মাঠমুখী করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই ইনডোর স্টেডিয়ামটি কালাইয়ের খেলোয়াড়দের জন্য একটি আধুনিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।” তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছতার সাথে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

 

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হান এবং কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা।

 

​অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার শ্রী তন্ময় কুন্ডুসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। জয়পুরহাট জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে ও বাস্তবায়নে এই প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এমপির পরিদর্শনের পর গজারিয়ায় খালের অবৈধ বাঁধ অপসারণ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার একটি খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে নির্মিত অবৈধ বাঁধ অপসারণ করেছে অভিযুক্ত একটি কোম্পানি।

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর কোম্পানিটি বাঁধ অপসারণে উদ্যোগ নেয়।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে উপজেলার বাউশিয়া বড়কান্দী এলাকায় মেঘনা নদীর সংযোগ গাদি কাটা খালের ওপর নির্মিত মাটির বাঁধ এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে অপসারণ করতে দেখা যায়। এ সময় খালের দুই পাশে ফেলে রাখা মাটির স্তূপ সরিয়ে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার কাজও চলতে থাকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় আশপাশের কৃষিজমি ও গ্রামে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, “খালটি এলাকার কৃষকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাঁধ দেওয়ার কারণে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এমপি সাহেব আসার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”

আরেক বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “অনেকদিন ধরে আমরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম। খাল দখল ও পানি প্রবাহ বন্ধ হলে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ে। এখন বাঁধ সরানোয় পানি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে।”

এ বিষয়ে সাহারা ট্রেডিং লিমিটেড এর প্রজেক্ট ম্যানেজার আলী আহম্মদ জানান, এটি স্থায়ী কোনো বাঁধ নয় বরং শ্রমিকদের চলাচলের সুবিধার জন্য অস্থায়ীভাবে নির্মিত হয়েছিল। তিনি বলেন, বর্তমানে তা অপসারণ করা হচ্ছে এবং সেখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান জানান, খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি নজরদারিতে আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন বলেন, “খাল, কৃষিজমি কিংবা সরকারি জায়গা দখল করে কেউ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। স্থানীয়দের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

শাহজাদপুরে ব্র্যাক সিড এন্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

শাহজাদপুরে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে ডিলার ও রিটেইলারদের নিয়ে উত্তম কৃষি চর্চায় টেকসই, নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) উপজেলার মশিপুর গোধুলি বেলা কমিউনিটি সেন্টারে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

হাজী মো: আতাহার আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো: আনোয়ার সাদাত।

 

 

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো : আব্দুল্লাহ আল মামুন, ব্র্যাক সিডের হেড অব সেলস কৃষিবিদ মো: এম এ মনসুর লিওন, সিনিয়র প্রোডাক্ট ম্যানেজার ( হাইব্রিড ধান) কৃষিবিদ মো: হাবিবুর রহমান, মানিক রাহা, মো ফেরদৌস আলম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন কৃষি বিদ মধুসূদন কুমার মন্ডল। এসময় উল্লাপাড়া টেরিটোরির ১০০ জন বীজ ব্যবসায়ীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে উপস্থিত সকল বীজ ব্যবসায়ীদের brac seed family গ্রুপে যুক্ত করে দেওয়া হয়।

 

 

 

অনুষ্ঠান শেষে গত আমন মৌসুমে পুরস্কারপ্রাপ্ত ডিলার এরং রিটেলারদের পুরস্কার দেওয়া হয় ।

 

 

 

ব্র্যাক সিডের গুণগত মানের বীজ নিয়ে বক্তারা আলোচনা করেন। সবাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে ব্র্যাক সিডের বীজ কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিবেন।

 

 

 

ঠাকুরগাঁওয়ের তাঁত শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে: ফখরুল কন্যা ড. শামারুহ মির্জা

ঠাকুরগাঁওয়ে কেশুর বাড়ী এলাকার তাঁতিদের সঙ্গে মতবিনিময় ও তাঁতশিল্প পরিদর্শন করেছেন বিএনপি’র মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর বড় কন্যা ডক্টর শামারুহ মির্জা।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের কেশুরবাড়ী তাঁতী পাড়ায় গিয়ে তিনি তাঁতশিল্পীদের সাথে মতবিনিময় করেন।
এ সময় তিনি দেশের বাজারে তাঁত শিল্পকে পরিচিত করে শিল্পটিকে পুনরুজ্জীবিত ও প্রতিষ্ঠা করার আশা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, দেশের তাঁত শিল্প বর্তমানে ক্রান্তিকালীন সময় পার করছে। সরকারের ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ স্লোগানের আলোকে এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এ সময় তিনি তাঁতিদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের এলাকায় ব্র্যাক থেকে লোকজন এসে তাঁতশিল্প নিয়ে আলোচনা করেছে। আড়ংয়ের মাধ্যমে তাঁতজাত পণ্য বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁতিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আধুনিক ও মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে সহযোগিতা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে ব্র্যাক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি এবং আপনাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।
নির্বাচনে দেওয়া অঙ্গীকার এর কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, আপনারা আমার আব্বাকে নির্বাচিত করেছেন। আপনাদের যেকোনো সমস্যা হলে ইউনিয়নের নেতাদের মাধ্যমে জানাবেন, সব কথা আমাদের কাছে পৌঁছে যাবে। তাঁতশিল্প যেন আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে বিষয়ে আমরা কাজ করতে চাই।
এ সময় ড. শামারুহ মির্জা স্থানীয় তাঁতশিল্প ঘুরে দেখেন এবং তাঁতিদের তৈরি কম্বল ক্রয় করেন। তাঁর এই উদ্যোগে স্থানীয় তাঁতিদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
স্থানীয় তাঁতশিল্পী শ্যামলি রানী বলেন, একসময় এই এলাকায় তাঁতশিল্প খুব জনপ্রিয় ছিল। এখন অনেক তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ না থাকায় মানুষ মাঠে-ঘাটে শ্রমিকের কাজ করতে যাচ্ছে। যদি আবার এই শিল্প চালু হয়, তাহলে গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।
রবিন্দ নামে এক তাঁতী বলেন, তাঁতের সুতা এখন অনেক দূর থেকে সংগ্রহ করতে হয়, দামও অনেক বেশি। ফলে খরচ বাড়ছে কিন্তু লাভ কমে যাচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা পেলে এই শিল্প আবার আগের অবস্থায় ফিরতে পারবে। আমরা আশা করি মহাসচিব স্যারের মেয়ে এ উদ্যোগ নিবেন।
স্থানীয়দের দাবি, একসময় কেশুর বাড়ী এলাকার শতাধিক পরিবার তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত থাকলেও অবহেলা, কাঁচামালের সংকট ও বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে ধীরে ধীরে এ শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমানে অনেক তাঁত অচল হয়ে পড়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে ড. শামারুহ মির্জার এই সফর ও সহযোগিতার আশ্বাস নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন তাঁতশিল্পীরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ আশরাফুল হক, ৪নং বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাহফুজুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শাহিন আলম, বালিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক গফুর, বড়গাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রমজান আলীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

টাইগারদের টেস্ট জয়ে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ জেতায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

 

এদিন ঢাকার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের জয় পায় টাইগাররা।

এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ দুটি টেস্ট তাদের দেশেই জিতেছিল বাংলাদেশ; এবার জয় দেশের মাটিতে।

দলটির বিপক্ষে টানা তৃতীয় টেস্ট জয় টাইগারদের। মিরপুর টেস্টে ২৬৮ রানের টার্গেট দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ১৬৩ রানে।

 

মাদক সংশ্লিষ্টতায় পুলিশের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: আইজিপি

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, পুলিশবাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

 

 

 

আইজিপি বলেন, পুলিশের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনআস্থা ধরে রাখার বিষয়ে বাহিনী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। মাদকবিরোধী অবস্থানকে আরও কঠোর করা হয়েছে।

 

মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, দেশের যুব সমাজ এবং ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হচ্ছে মাদক। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তবে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে মাদক সংশ্লিষ্টতায় জড়িত কিছু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে বাহিনীর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে।

 

 

আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ একটি ঐতিহ্যবাহী বাহিনী হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ দমনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, পুরস্কারপ্রাপ্ত সদস্যদের এই অর্জন শুধু স্বীকৃতিই নয়, এটি তাদের দায়িত্ববোধ, পেশাদারিত্ব ও নেতৃত্বগুণেরও প্রতিফলন।

 

 

 

দেশের কল্যাণে আরও নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, এসব সাফল্য ভবিষ্যতে অন্য সদস্যদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।

 

স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী, বাজারে অনিশ্চয়তার ছায়া

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। একই সঙ্গে ডলার ও তেলের দাম বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সুদের হার নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্সের।

 

 

 

মঙ্গলবার স্পট স্বর্ণের দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৯৮ দশমিক ২২ ডলারে নেমেছে। এর আগে দিনটিতে স্বর্ণের দাম তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল।

 

 

 

অন্যদিকে জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার ০.৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭০৬ দশমিক ১০ ডলারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানে রেখেছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মূল্যস্ফীতি তথ্য প্রকাশের আগে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচুতে থাকার আশঙ্কাও নতুন করে জোরালো হয়েছে, যা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে।

 

কোরবানির হাটে চাঁদাবাজি হলে দ্রুত হটলাইনে জানান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল আজহায় পশুর হাটে চাঁদাবাজি বন্ধে হটলাইন চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসময় চাঁদাবাজির ঘটনা জানানোর জন্য ১৬৬১১৩ হটলাইন নাম্বারে ফোন দেওয়ার অনুরোধও জানান তিনি।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভা শেষে গণমাধ্যমে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

 

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ঈদুল আজহার আগের এবং পরের সাতদিন পুলিশ হেডকোয়ার্টারে মনিটরিং সেল করা হবে। এছাড়া কোরবানির সব পশুর হাটেই আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। এবং পশুর হাটে সকল প্রকার চাঁদাবাজি বন্ধে হটলাইন চালু করা হবে।

তিনি বলেন, ঈদুল আজহায় নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা থাকবেন, তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মানুষের নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৫টি পশুর হাট হবে আর ১১টি হবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে।

এছাড়া কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের জন্য সরকার ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলেও জানান মন্ত্রী।

 

 

 

মন্ত্রী আরও বলেন, ঈদের আগে সব গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ভাতা পরিশোধ করা হবে। বিজিএমইএ এবং বিকিএমইএ এ বিষয়ে রাজি হয়েছে।

 

 

 

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি দাবি করেন, ‘চাঁদাবাজির কারণে বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চাঁদাবাজি কোথায় বেড়েছে, সেই তথ্য পেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারব।’

 

 

 

এদিকে, গত ৩০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, মাদক কারবারি ও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। বিশেষ করে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেফতারে জোর দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদরদপ্তর, ডিএমপি ও জেলা পুলিশ সুপারদের নিয়মিতভাবে অভিযানের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

 

 

চলচ্চিত্রে ইতিহাস বিকৃতি রোধে সচেতনতামূলক কর্মশালা

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই)-এর যৌথ আয়োজনে “ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র এবং ঐতিহাসিক বিষয়বস্তু অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সঠিক ইতিহাস উপস্থাপন এবং অপতথ্য প্রদান রোধ” শীর্ষক এক কর্মশালা আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

কর্মশালার সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন বিসিটিআই-এর উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মো. মোকছেদ হোসেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. শাহ মো. নিস্তার জাহান কবীর।

 

 

 

মূল প্রবন্ধে ড. শাহ নিস্তার কবীর ইতিহাসভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইতিহাস ও ইতিহাসনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণের মূল দায়িত্ব হলো সত্যকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা এবং অপতথ্য বা বিকৃত ইতিহাস থেকে বিরত থাকা। নতুন নির্মাতাদের মধ্যে ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা ও দায়বদ্ধতা তৈরি করাই এ ধরনের কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত মতাদর্শ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থকে প্রাধান্য দিলে ইতিহাস বিকৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রে এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক জনাব এ এস এম জাহীদ, বাংলাদেশ ফিল্ম এডিটরস গিল্ডের সভাপতি আবু মুসা দেবু, ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ অফ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরউল্লাহ এবং পরিচালক জনাব মো. মসিহউদ্দিন শাকের।

 

 

‘সূর্যদীঘল বাড়ী’ চলচ্চিত্রের পরিচালক জনাব মো. মসিহউদ্দিন শাকের বলেন, চলচ্চিত্র সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এক্ষেত্রে সত্য অত্যন্ত অপরিহার্য, কারণ সত্যই সুন্দর। সংস্কৃতির অংশ হিসেবে আমরা অবশ্যই সত্য ইতিহাসনির্ভর চলচ্চিত্র দেখতে চাই। শুধু পুঁথিগত জ্ঞান নয়, জীবন থেকেও অনেক কিছু শিখতে হবে। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক জনাব ম. জাভেদ ইকবাল তাঁর সভাপতির বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। ভবিষ্যতে বিসিটিআই-এর শিক্ষার্থীদের হাত ধরে সত্য ইতিহাসনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

 

 

 

বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক জনাব এ এস এম জাহীদ বলেন, ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে সত্যকে। অপতথ্য ও অসত্য অনেক সময় সমাজে বড় ধরনের বিভ্রান্তি ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

 

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন বলেন, ইতিহাসনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে গভীর গবেষণা অপরিহার্য। সত্যকে পরিহার করে নির্মিত চলচ্চিত্র দর্শক গ্রহণ করে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

 

 

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালসের শিক্ষক আল আমিন রাকিব তনয় বলেন, ইতিহাসভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ এবং এর জন্য যথাযথ গবেষণা ও ডকুমেন্টেশন অত্যন্ত জরুরি।

 

 

 

বিসিটিআই-এর প্রধান নির্বাহী জনাব আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, বন্ধুপ্রতিম প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ভবিষ্যতেও বিসিটিআই-এর শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে বলে তিনি আশাবাদী।

 

 

 

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে গাজী মাহবুব, মনিরুল ইসলাম ও ফজলে হকসহ বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ব্যক্তিবর্গ এবং বিসিটিআই-এর শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

 

দেশের মাটিতে টেস্টে প্রথমবার পাকিস্তানকে হারিয়ে টারগারদের ইতিহাস

দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো কোনো টেস্ট ম্যাচে পাকিস্তানকে হারানোর গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সফরকারীদের ১০৪ রানে হারিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। আর তাতেই নতুন ইতিহাস গড়ল টাইগাররা। সেইসঙ্গে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।

 

 

 

২৬৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই পাকিস্তানি ওপেনার ইমাম-উল হককে সাজঘরে ফেরান তাসকিন আহমেদ। তার করা বলে কটবিহাইন্ড হন ইমাম। আউট হওয়ার আগে করেন ৫ বলে ২ রান। আরেক ওপেনার আজান আওয়াইস করেন ৩৩ বলে ১৫ রান। আর দলনেতা নেতা শান মাসুমের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২ রান।

 

 

 

৬৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপেই পড়েছিল পাকিস্তান। চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে দলকে চাপমুক্ত করেন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা। এই জুটিতে আসে ৫১ রান। ফিফটির দেখা পাওয়া ফজলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ১১৩ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ৬৬ রান করেন ফজল। পরের ওভারেই সালমান আগাকে পরাস্থ করেন তাসকিন আহমেদ। সালমান করেন ৩৯ বলে ২৬ রান। এরপর পাকিস্তানের বাকি ব্যাটাররা ছিলেন আসা যাওয়ার মিছিলে।

এর আগে, প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান করেছিল বাংলাদেশ। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ১৭৯ রানে এগিয়ে ছিল টাইগাররা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৫৮ ও মুশফিকুর রহিম ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। পঞ্চম দিন শান্ত ৮৭, মুশফিক ২২, লিটন দাস ১১, মেহেদি হাসান মিরাজ ২৪, তাইজুল ইসলাম ৩, তাসকিন আহমেদ ১১ রানে আউট হন। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন এবাদত হোসেন। এ ছাড়া আগের দিন মাহমুদুল হাসান জয় ৫, সাদমান ইসলাম ১০ ও মুমিনুল হক ৫৬ রানে আউট হন।

 

পাকিস্তানের হাসান আলি ও নোমান আলি ২টি করে উইকেট নেন। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪১৩ ও পাকিস্তান ৩৮৬ রান করেছিল।