সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

যশোরে নিখোঁজ পুলিশ সদস্যের মরদেহ ২২ দিন পর মিলল পঞ্চগড়ে

নিহত আখতারুজ্জামান। ছবি : সংগৃহীত

কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে নিজ বাড়ি যশোরের চৌগাছায় এসে নিখোঁজ হওয়া পুলিশ সদস্য আখতারুজ্জামানের অর্ধগলিত মরদেহ পঞ্চগড় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) নিখোঁজের ২২ দিন পর পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের নয়মাইল গ্রামের একটি আখক্ষেত থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

 

তবে সেদিন অজ্ঞাত হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার হলেও শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) আখতারুজ্জামানের পরিচয় শনাক্ত হয়।

নিহত আখতারুজ্জামান (৪৬) যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার জামালতা গ্রামের মৃত আনিচুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি পেশায় বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল ছিলেন। খুলনা রেঞ্জের বাগেরহাট জেলার রামপাল থানায় কর্মরত ছিলেন।

 

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ৬ নম্বর সাতমেড়া ইউনিয়নের নয়মাইল এলাকায় একটি আখক্ষেতের ভেতর স্থানীয়রা অজ্ঞাত এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। তবে প্রাথমিকভাবে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পরে পঞ্চগড় সদর থানার এসআই বেলাল হোসেন মরদেহের পরনে থাকা কাপড়ের ছবি সংগ্রহ করে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সূত্র ধরে বিভিন্ন থানায় পাঠায়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চৌগাছা থানা পুলিশ মরদেহের পরনের কাপড় ও ছবি নিখোঁজ পুলিশ সদস্য আখতারুজ্জামানের পরিবারের সদস্যদের দেখালে তারা শনাক্ত করেন।

 

নিহত পুলিশ কনস্টেবল আখতারুজ্জামানের শ্যালক মামুনুর রশীদ বলেন, নিহতের পরিহিত পোশাক ও সঙ্গে থাকা অন্যান্য সরঞ্জাম দেখে আমরা মৃতদেহটি শনাক্ত করেছি। এটি আমার দুলাভাইয়েরই মরদেহ।

 

পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ২-৩ সপ্তাহ আগে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মরদেহটি প্রায় অর্ধগলিত, তাই এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু, সেটি বুঝা যাচ্ছে না। পুলিশ ও সিআইডি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

 

যশোরের চৌগাছা থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, নিখোঁজ পুলিশ সদস্যের স্ত্রী শাহিনা আক্তার গত ২৮ নভেম্বর থানায় করা জিডিতে উল্লেখ করেন, আখতারুজ্জামান গত ২৬ নভেম্বর ৫ দিনের ছুটি নিয়ে চৌগাছায় আসেন। পরে ২৭ নভেম্বর সকালে মহেশপুর যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও তিনি বাসায় রেখে গিয়েছিলেন। এরপর আমরা জানতে পারি ওই পুলিশ সদস্যের মরদেহ পঞ্চগড়ে পাওয়া গেছে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

যশোরে নিখোঁজ পুলিশ সদস্যের মরদেহ ২২ দিন পর মিলল পঞ্চগড়ে

আপডেট টাইম : ১২:৪২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে নিজ বাড়ি যশোরের চৌগাছায় এসে নিখোঁজ হওয়া পুলিশ সদস্য আখতারুজ্জামানের অর্ধগলিত মরদেহ পঞ্চগড় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) নিখোঁজের ২২ দিন পর পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের নয়মাইল গ্রামের একটি আখক্ষেত থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

 

তবে সেদিন অজ্ঞাত হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার হলেও শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) আখতারুজ্জামানের পরিচয় শনাক্ত হয়।

নিহত আখতারুজ্জামান (৪৬) যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার জামালতা গ্রামের মৃত আনিচুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি পেশায় বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল ছিলেন। খুলনা রেঞ্জের বাগেরহাট জেলার রামপাল থানায় কর্মরত ছিলেন।

 

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ৬ নম্বর সাতমেড়া ইউনিয়নের নয়মাইল এলাকায় একটি আখক্ষেতের ভেতর স্থানীয়রা অজ্ঞাত এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। তবে প্রাথমিকভাবে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পরে পঞ্চগড় সদর থানার এসআই বেলাল হোসেন মরদেহের পরনে থাকা কাপড়ের ছবি সংগ্রহ করে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সূত্র ধরে বিভিন্ন থানায় পাঠায়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চৌগাছা থানা পুলিশ মরদেহের পরনের কাপড় ও ছবি নিখোঁজ পুলিশ সদস্য আখতারুজ্জামানের পরিবারের সদস্যদের দেখালে তারা শনাক্ত করেন।

 

নিহত পুলিশ কনস্টেবল আখতারুজ্জামানের শ্যালক মামুনুর রশীদ বলেন, নিহতের পরিহিত পোশাক ও সঙ্গে থাকা অন্যান্য সরঞ্জাম দেখে আমরা মৃতদেহটি শনাক্ত করেছি। এটি আমার দুলাভাইয়েরই মরদেহ।

 

পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ২-৩ সপ্তাহ আগে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মরদেহটি প্রায় অর্ধগলিত, তাই এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু, সেটি বুঝা যাচ্ছে না। পুলিশ ও সিআইডি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

 

যশোরের চৌগাছা থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, নিখোঁজ পুলিশ সদস্যের স্ত্রী শাহিনা আক্তার গত ২৮ নভেম্বর থানায় করা জিডিতে উল্লেখ করেন, আখতারুজ্জামান গত ২৬ নভেম্বর ৫ দিনের ছুটি নিয়ে চৌগাছায় আসেন। পরে ২৭ নভেম্বর সকালে মহেশপুর যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও তিনি বাসায় রেখে গিয়েছিলেন। এরপর আমরা জানতে পারি ওই পুলিশ সদস্যের মরদেহ পঞ্চগড়ে পাওয়া গেছে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে।