সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়: দুই যুগের স্বপ্নপূরণ যেভাবে

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৮:৪১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫
  • 94

প্রধান প্রতিবেদক, জনতার কন্ঠ:

‘ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে আমার নামটি লিখো তোমার মনেরও মন্দিরে’ ১৮৯৬ সালে প্রিয় ভূমি শাহজাদপুরকে ছেড়ে যাওয়ার সময় গানটি লিখেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তার ভালোবাসার সখী কোনো মানবী নয়, শাহজাদপুর।

রবীন্দ্র বিশ্লেষকদের মতে, কবিগুরু ১৮৯০ থেকে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত শাহজাদপুরের কাছারি বাড়িতে অবস্থান করেন। ওই ৭ বছরে শাহজাদপুরে বসেই কবি তার বিখ্যাত রচনাগুলো লিখেছেন। শাহজাদপুরে কবিগুরুর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে ‘বিসর্জন’, ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘চৈতালি’, ‘গোলাপগুচ্ছ’, ‘ছিন্নপত্র’, ‘পঞ্চভূতের ডায়েরি’সহ বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, ছোট গল্প ‘পোস্টমাস্টার’, ‘ছুটি’, ‘অতিথি’, ‘সমাপ্তি’ নাটক বিসর্জন উল্লেখযোগ্য।

কবিগুরুর স্মৃতি বিজড়িত এই শাজাদপুরে তাঁরই নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবী করে আসছিলেন শাহজাদপুরবাসী। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবীতে দীর্ঘ ২৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলনও করে আসছিলেন তারা।

আন্দোলন ও দাবীর প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে কবির ১৫৫তম জন্মদিনে প্রতিষ্ঠিত হয় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ। বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধন হওয়ার পরপরই  শাহজাদপুর তথা সিরাজগঞ্জবাসী উল্লসিত হয়। কিন্তু কয়েক বছরেই তাঁদের সেই উল্লাসে ভাটা পড়ে যায়। দুই বছর পর ২০১৮ সালে কয়েকটি ভাড়া ভবনে দেশের ৪০তম এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।

এরপর দিন পেরিয়ে মাস, মাস পেরিয়ে বছর গড়ে যায় কিন্তু স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে কোন অগ্রগতি দেখা যায় না।  প্রতিষ্ঠার সময় বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক মানের করার ঘোষণা দিলেও ক্যাম্পাস না থাকায় এটি  নিম্নমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হতে থাকে। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ২শ শিক্ষার্থী, ৩৪ শিক্ষক, ৫৪ কর্মকর্তা ও ১০৭ কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। চারটি অনুষদের অধীন বাংলা, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, ম্যানেজমেন্ট এবং সংগীত এ পাঁচটি বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের পাঠদান চলছে।

গোচারণ ভূমির জন্য রবীন্দ্রনাথের রেখে যাওয়া জমি থেকে ১০১ একর জমির উপর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দফায় দফায় প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন করতে আসেন সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তৈরি করা হয় ৯ হাজার ২শ কোটি টাকার প্রকল্প। প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর দফায় দফায় সংশোধনী চেয়ে ফিরে আসতে থাকে। এভাবে বিশ্বকবির নামাঙ্কিত প্রকল্পটি ৮ বছর ধরে ৭ দফায় মন্ত্রণালয়ে গিয়ে পূণরায় ফিরে এসেছে।

২০২৪ এর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য হিসেবে যোগ দেন ড. এস. এম হাসান তালুকদার। তিনি এসেই প্রকল্পের বাজেট কমিয়ে প্রস্তাবনা পাঠিয়ে দেন। তিনি ৯৪ শতাংশ ব্যয় কমিয়ে ৯ হাজার ২শ কোটি টাকার প্রকল্প ৫১৯ কোটি টাকায় নিয়ে আসেন। এরপরও নানা কারণে আটকে থাকে প্রকল্পটি।

বাধ্য হয়ে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি ক্যাম্পাস দাবীতে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। টানা ১১ দিন মহাসড়ক অবরোধ, মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও গণসংযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যান তারা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে ৩০ জানুয়ারি আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।

এরপর ৭ মে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য একনেক সভায় ওঠে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসসহ সভার সবাই প্রকল্প অনুমোদনের ব্যাপারে ইতিবাচক থাকলেও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজিওয়ানা হাসান প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এরপর ১৬ জুন তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রকল্পটি শীঘ্রেই অনুমোদন হবে বলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আশ্বস্ত করেন।

কিন্তু এরপর পর পর দুটি একনেক সভায় প্রকল্পটি ওঠেনি। গত ২৬ জুলাই প্রকল্পটি একনেক সভার এজেন্ডাভুক্ত না হওয়ায় ওইদিন থেকেই আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। শুরু হয় লাগাতার আন্দোলন। শাহজাদপুরে ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও রাস্তায় ক্লাস কর্মসূচি পালন করা হয়। হাটিকুমরুল গোলচত্বরে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সব সড়ক যোগাযোগ বন্ধ, এরপর উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ৬ ঘণ্টা রেলপথ অবরুদ্ধ এবং যমুনা সেতু পশ্চিম এলাকায় মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে কর্মসূচি পালন করে। অবশেষে ১৬ আগষ্ট বেলা ১১টা থেকে আমরণ অনশন শুরু করে শিক্ষার্থীরা।

পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও একাত্মতা প্রকাশ করে পৃথক কর্মসূচি পালন করছে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ রাজনৈতিক দলের নেতারাও আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে।

আন্দোলনকারী সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাকারিয়া জিহাদ বলেন, ৫২ থেকে শুরু করে ৭১ ও ২৪ আমরা দেখেছি ছাত্রদের কোনো আন্দোলন বৃথা যায়নি। তারই ধারাবাহিকতায় স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে আমাদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক আন্দোলন সফল হয়েছে। আমরা ধন্যবাদ জানাই শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবার প্রতি, যারা আমাদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছিলেন, আমাদের উৎসাহ দিয়ে এসেছেন। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, শাহজাদপুরসহ সিরাজগঞ্জের আপামর জনসাধারণের প্রতি।

ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া বলেন, বেলা আড়াইটার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের খবর পেয়েছি। আমাদের শ্রম ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্বার্থক হয়েছে।

ক্যাম্পাস প্রকল্পের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বিশ্বকবির নামাঙ্কিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি।  শীঘ্রই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এটাই রবীন্দ্রপ্রেমী তথা শাহজাদপুরবাসীর প্রত্যাশা।

ট্যাগ :

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়: দুই যুগের স্বপ্নপূরণ যেভাবে

আপডেট টাইম : ০৮:৪১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫

প্রধান প্রতিবেদক, জনতার কন্ঠ:

‘ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে আমার নামটি লিখো তোমার মনেরও মন্দিরে’ ১৮৯৬ সালে প্রিয় ভূমি শাহজাদপুরকে ছেড়ে যাওয়ার সময় গানটি লিখেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তার ভালোবাসার সখী কোনো মানবী নয়, শাহজাদপুর।

রবীন্দ্র বিশ্লেষকদের মতে, কবিগুরু ১৮৯০ থেকে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত শাহজাদপুরের কাছারি বাড়িতে অবস্থান করেন। ওই ৭ বছরে শাহজাদপুরে বসেই কবি তার বিখ্যাত রচনাগুলো লিখেছেন। শাহজাদপুরে কবিগুরুর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে ‘বিসর্জন’, ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘চৈতালি’, ‘গোলাপগুচ্ছ’, ‘ছিন্নপত্র’, ‘পঞ্চভূতের ডায়েরি’সহ বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, ছোট গল্প ‘পোস্টমাস্টার’, ‘ছুটি’, ‘অতিথি’, ‘সমাপ্তি’ নাটক বিসর্জন উল্লেখযোগ্য।

কবিগুরুর স্মৃতি বিজড়িত এই শাজাদপুরে তাঁরই নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবী করে আসছিলেন শাহজাদপুরবাসী। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবীতে দীর্ঘ ২৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলনও করে আসছিলেন তারা।

আন্দোলন ও দাবীর প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে কবির ১৫৫তম জন্মদিনে প্রতিষ্ঠিত হয় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ। বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধন হওয়ার পরপরই  শাহজাদপুর তথা সিরাজগঞ্জবাসী উল্লসিত হয়। কিন্তু কয়েক বছরেই তাঁদের সেই উল্লাসে ভাটা পড়ে যায়। দুই বছর পর ২০১৮ সালে কয়েকটি ভাড়া ভবনে দেশের ৪০তম এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।

এরপর দিন পেরিয়ে মাস, মাস পেরিয়ে বছর গড়ে যায় কিন্তু স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে কোন অগ্রগতি দেখা যায় না।  প্রতিষ্ঠার সময় বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক মানের করার ঘোষণা দিলেও ক্যাম্পাস না থাকায় এটি  নিম্নমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হতে থাকে। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ২শ শিক্ষার্থী, ৩৪ শিক্ষক, ৫৪ কর্মকর্তা ও ১০৭ কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। চারটি অনুষদের অধীন বাংলা, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, ম্যানেজমেন্ট এবং সংগীত এ পাঁচটি বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের পাঠদান চলছে।

গোচারণ ভূমির জন্য রবীন্দ্রনাথের রেখে যাওয়া জমি থেকে ১০১ একর জমির উপর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দফায় দফায় প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন করতে আসেন সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তৈরি করা হয় ৯ হাজার ২শ কোটি টাকার প্রকল্প। প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর দফায় দফায় সংশোধনী চেয়ে ফিরে আসতে থাকে। এভাবে বিশ্বকবির নামাঙ্কিত প্রকল্পটি ৮ বছর ধরে ৭ দফায় মন্ত্রণালয়ে গিয়ে পূণরায় ফিরে এসেছে।

২০২৪ এর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য হিসেবে যোগ দেন ড. এস. এম হাসান তালুকদার। তিনি এসেই প্রকল্পের বাজেট কমিয়ে প্রস্তাবনা পাঠিয়ে দেন। তিনি ৯৪ শতাংশ ব্যয় কমিয়ে ৯ হাজার ২শ কোটি টাকার প্রকল্প ৫১৯ কোটি টাকায় নিয়ে আসেন। এরপরও নানা কারণে আটকে থাকে প্রকল্পটি।

বাধ্য হয়ে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি ক্যাম্পাস দাবীতে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। টানা ১১ দিন মহাসড়ক অবরোধ, মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও গণসংযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যান তারা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে ৩০ জানুয়ারি আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।

এরপর ৭ মে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য একনেক সভায় ওঠে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসসহ সভার সবাই প্রকল্প অনুমোদনের ব্যাপারে ইতিবাচক থাকলেও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজিওয়ানা হাসান প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এরপর ১৬ জুন তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রকল্পটি শীঘ্রেই অনুমোদন হবে বলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আশ্বস্ত করেন।

কিন্তু এরপর পর পর দুটি একনেক সভায় প্রকল্পটি ওঠেনি। গত ২৬ জুলাই প্রকল্পটি একনেক সভার এজেন্ডাভুক্ত না হওয়ায় ওইদিন থেকেই আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। শুরু হয় লাগাতার আন্দোলন। শাহজাদপুরে ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও রাস্তায় ক্লাস কর্মসূচি পালন করা হয়। হাটিকুমরুল গোলচত্বরে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সব সড়ক যোগাযোগ বন্ধ, এরপর উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ৬ ঘণ্টা রেলপথ অবরুদ্ধ এবং যমুনা সেতু পশ্চিম এলাকায় মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে কর্মসূচি পালন করে। অবশেষে ১৬ আগষ্ট বেলা ১১টা থেকে আমরণ অনশন শুরু করে শিক্ষার্থীরা।

পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও একাত্মতা প্রকাশ করে পৃথক কর্মসূচি পালন করছে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ রাজনৈতিক দলের নেতারাও আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে।

আন্দোলনকারী সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাকারিয়া জিহাদ বলেন, ৫২ থেকে শুরু করে ৭১ ও ২৪ আমরা দেখেছি ছাত্রদের কোনো আন্দোলন বৃথা যায়নি। তারই ধারাবাহিকতায় স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে আমাদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক আন্দোলন সফল হয়েছে। আমরা ধন্যবাদ জানাই শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবার প্রতি, যারা আমাদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছিলেন, আমাদের উৎসাহ দিয়ে এসেছেন। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, শাহজাদপুরসহ সিরাজগঞ্জের আপামর জনসাধারণের প্রতি।

ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া বলেন, বেলা আড়াইটার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের খবর পেয়েছি। আমাদের শ্রম ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্বার্থক হয়েছে।

ক্যাম্পাস প্রকল্পের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বিশ্বকবির নামাঙ্কিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি।  শীঘ্রই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এটাই রবীন্দ্রপ্রেমী তথা শাহজাদপুরবাসীর প্রত্যাশা।