সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চর ফরিদপুর গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ শেখ ওরফে খতিব হত্যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় দাদপুর জিআর ডিগ্রি কলেজের সামনে এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী সমাজ ও নিহতের পরিবারের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে কয়েক শত মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ৯ নভেম্বর নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর গত ১২ নভেম্বর ফুলজোড় নদী থেকে ইট বাঁধা অবস্থায় খতিবের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ছয় দিনের তদন্তে বেরিয়ে আসে—পরকীয়ার জেরে পরিকল্পিত হত্যা, আর্থিক লেনদেন ও প্রতারণার চক্রের সম্পৃক্ততা। ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও এখনও আরও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার বাকি রয়েছে।
নিহতের বাবা আমিনুল ইসলাম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এ নৃশংস হত্যার বিচার দ্রুত না হলে কেউ নিরাপদ থাকবে না।” তিনি মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের দাবি জানান।
নিহতের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী কোনো অন্যায় করেনি। টাকার লোভ আর অনৈতিক সম্পর্কের জেরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।”
স্থানীয় কলেজ শিক্ষক আবদুল মান্নান বলেন, “খতিব ছিলেন সৎ ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী। তার হত্যাকাণ্ডে ব্যবসায়ী সমাজে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্তে নতুন কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে দ্রুত গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করতে হবে।”
বক্তারা আরও বলেন, “এটি শুধু খুন নয়—একটি পূর্বপরিকল্পিত, নৃশংস ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড। অপরাধীরা যত শক্তিশালীই হোক, কেউ যেন আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে না পারে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই এমন ঘটনা রোধ করা সম্ভব।” তারা দ্রুত চার্জশিট দাখিল, পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা এবং মামলার অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশের দাবিও জানান।
পুলিশ জানায়, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। নতুন কোনো তথ্য মিললে অতিরিক্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: জনতার কন্ঠ.কম 

















