সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

ইরানকে মোকাবিলায় দিশেহারা আমেরিকা

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ইরানের ভেতরে বিশেষ বাহিনীর অভিযান চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

 

 

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। চলমান অচলাবস্থা ভাঙতে ওয়াশিংটন যদি আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে এসব পরিকল্পনা কার্যকর হতে পারে।

 

 

 

পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে পারস্য উপসাগরে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাব্য অভিযান। এছাড়া ইরানের সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।

 

 

 

তবে ট্রাম্প এখনো ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি।

 

এদিকে ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরান ইস্যুতে তার ধৈর্য দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। তিনি তেহরানকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান।

 

 

গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই দেশের আলোচনা এখনো অচল অবস্থায় রয়েছে।

 

 

 

ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করলে তারা হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেবে না।

 

 

এদিকে আজ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে আলোচনা পরবর্তী ধাপে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপাতত উভয় পক্ষ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

 

সূত্র : শাফাক নিউজ

 

 

৬৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ

মাহমুদুল হাসান জয় মিরপুর টেস্টের কোনো ইনিংসেই দুই অঙ্কের ঘরও ছুঁতে পারেননি। সবমিলিয়ে করেন স্রেফ ১৩ রান। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেটে আজ (শনিবার) থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টেও ফিরলেন ডাক নিয়ে। দিনের দ্বিতীয় বলেই জয় ক্যাচ দিয়েছেন স্লিপে। আরেকপ্রান্তে টেস্ট অভিষেক হওয়া তানজিদ হাসান তামিম দ্রুতগতিতে রান তুলছিলেন। কিন্তু টাইমিংয়ে গড়বড় হয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন তিনিও (২৬)।

 

 

 

বেশ সাবলীল ছিলেন মিরপুর টেস্টের দুই ইনিংসেই হাফসেঞ্চুরি করা অভিজ্ঞ বাংলাদেশি তারকা মুমিনুল হক। কিন্তু হালকা ভেতরে ঢোকা বলের লাইন মিস করে হারিয়েছেন স্টাম্প। খুররম শেহজাদের বলে তিনি ফিরলেন ২২ রান করে। ৬৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে সিলেট শুরুটা সুখকর হলো না বাংলাদেশের।

 

 

 

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে কোনো রাখঢাক না রেখেই কথাটা বলেছিলেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন, টেস্টে তথাকথিত ব্যাটিং ধরনে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনায় আছেন তারা। তারই অংশ হিসেবে প্রথমবার টেস্ট দলে ডাকা হয় তানজিদ হাসান তামিমকে।

 

ঢাকা টেস্টে একাদশে জায়গা না হলেও খুব বেশি অপেক্ষা করতে হলো না তামিমকে। সিলেট টেস্টে অভিষেক ক্যাপ পরেন এই ওপেনার। সচরাচর হাতখুলে খেলতে পছন্দ করেন তিনি। অভিষেক টেস্টেও নিজের স্বভাবজাত ব্যাটিং শুরু করেছিলেন। কিন্তু ক্রিজে সেটা হয়েও ইনিংস বড় করতে পারলেন না তামিম।

 

মোহাম্মদ আব্বাসের করা দশম ওভারের শেষ বলে আউট হয়ে ফেরেন তামিম। অফ স্টাম্পের বাইরের বলটি মিড অনে দিয়ে পাঠানোর চেষ্টায় ছিলেন। কিন্তু ব্যাটে-বলে হয়নি। বল চলে যায় আব্বাসের হাতে। প্যাভিলিয়নের পথ ধরার আগে ২৬ রান করেন তামিম। ৩ বাউন্ডারিতে সাজানো তার ৩৪ বলের ইনিংস।

 

 

সাদমান ইসলামের চোটে অভিষেক হয় তামিমের। সাদমান ছিটকে গেলে শেষ মুহূর্তে দলে ডাকা হয় জাকির হাসানকে। তবে একাদশে জায়গা পাননি এই ব্যাটার। সিলেট টেস্টে মাহমুদুল হাসান জয়ের সঙ্গে ওপেনিং করতে নামেন তামিম। ইনিংসের শুরুতেই জয় ফিরলে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। আব্বাসের করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলে স্লিপে সালমান আলী আগার হাতে ধরা পড়েন। কোনো রান করতে পারেননি এই ওপেনার।

 

 

 

জয় বিদায় নিলেও মুমিনুল হককে নিয়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করছিলেন তামিম। এই জুটি জমেও গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তামিম-মুমিনুল উভয়েই সাজঘরে ফিরে গেলে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে শুরুর বিপর্যয়ে যথারীতি এখন লড়াই করছেন বাংলাদেশের দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও দলপতি নাজমুল হোসেন শান্ত।

 

 

আজ ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস

 

ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস আজ শনিবার (১৬ মে)। ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা আদায়ের দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই ঐতিহাসিক লংমার্চ।

 

 

 

সেদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দানে সমবেত হন। পরে সেখান থেকে বিশাল লংমার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে গিয়ে শেষ হয়। নদীর পানির ন্যায্য অধিকার আদায়ে এত বড় গণআন্দোলন এর আগে বা পরে খুব কমই দেখা গেছে।

 

 

 

সে সময় চুক্তি অনুযায়ী গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ধীরে ধীরে মরুকরণের ঝুঁকিতে পড়ে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ফারাক্কার পানি বণ্টন নিয়ে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও প্রত্যাশিত পানি পায়নি বাংলাদেশ।

 

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে ভারতের মনোহরপুর এলাকায় ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এ বাঁধের মাধ্যমে গঙ্গার পানি অন্যদিকে প্রবাহিত হওয়ায় পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ কমে যায়। এর প্রভাব হিসেবে পদ্মা নদী বছরের বেশিরভাগ সময় নাব্য সংকটে ভোগে।

 

 

সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যু

 

সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই। শুক্রবার (১৫ মে) রাত ২টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বস হয়েছিল ৮৩ বছর।

 

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার মেয়ে একমি গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা ।

 

 

 

মিজানুর রহমান সিনহা রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে সবশেষ ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ি) আসন হতে দলীয় মননোয়ন লাভ করেন তিনি। পরবর্তীতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্থলে বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল সালাম আজাদকে এ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়।

মিজানুর রহমান ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার স্থানীয় বাড়ি ‘সিনহা হাউজ’ দীর্ঘদিন ধরে দর্শনীয় স্থান হিসেবে সকলের জন্য উন্মুক্ত। তার পিতার নাম হামিদুর রহমান সিনহা ও মাতার নাম নূরজাহান সিনহা। হামিদুর রহমান বাংলাদেশের ওষুধ ব্যবসায়ের অন্যতম পথিকৃৎ ও শিল্পগোষ্ঠী একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা।

 

 

সিনহা শৈশবে কলকাতায় বেড়ে উঠেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় স্নাতক সম্পন্ন করেন।

 

 

 

১৯৬৪ সালে সিনহা হাবিব ব্যাংকে চাকুরীর মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তার পিতার মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালে তিনি পিতার প্রতিষ্ঠিত একমি গ্রুপে যোগদান করেন। ১৯৮৩ সাল থেকে তিনি গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

 

 

মিজানুর রহমান ছাত্রজীবনে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ২২ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির মনোনয়নে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

 

 

১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম খান বাদলকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করেন। এরপর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রাার্থী সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলিকে হারিয়ে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কাজ ও দানশীলতার জন্যও এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা।

 

 

মুন্সীগঞ্জ-২ আসনর সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিনসহ বিএনপি নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

 

 

চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

 

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ৮টার পর গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে তিনি চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

 

 

 

সফরকালে তিনি দুটি খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, পথসভা এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনসমাবেশস্থলের বিশাল মঞ্চ প্রস্তুত করার অনুষ্ঠানস্থলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চলছে নজরদারিতে বিশেষ কড়াকড়ি। শনিবার বিকেলে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে এ সমাবেশ হবে। এখান থেকেই উদ্বোধন হবে ফ্যামিলি কার্ড। ইতোমধ্যেই স্থানটি ঘিরে বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরাও আনন্দ উল্লাসে সরব রয়েছেন।

 

নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা রয়েছে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। ২০০৪-এ তারেক রহমান চাঁদপুরে এসেছিলেন বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম সফর এ জেলায়।

 

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেছেন সরকারের তিনজন মন্ত্রী। শুক্রবার রাতে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠ পরিদর্শন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এবং পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

 

 

স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা লড়াইয়ে নামবে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

বিগত সংসদ নির্বাচনে জোট-সমঝোতার নানা সমীকরণ দেখা গেলেও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আলাদা মাঠে নামবে ক্ষমতাসীন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি)। এরই মধ্যে নির্দলীয় প্রতীকের এই নির্বাচনে একা লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে তারা।

আগামী এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করার পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাতিল করা হয়েছে।

তফসিল ঘোষণার আগেই স্থানীয় নির্বাচনের মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। দলীয় প্রতীক না থাকার সুবাদে প্রতিটি দলই নিজেদের একক শক্তিমত্তা প্রমাণের এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছে না।

এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো একক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত জোট হওয়ার সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সংসদ নির্বাচনে জয়ের ধারা ধরে রাখতে চায় বিএনপি:
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের ধারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ধরে রাখতে চায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

দলটির সূত্র জানায়, দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রার্থী জয়ী করতে আগেভাগেই ছক কষছেন তারা। তৃণমূলের নেতাদের পারস্পরিক বিরোধ নিয়ন্ত্রণ, জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও এরই মধ্যে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিন তারিখ ঠিক হওয়ার পর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে পারে বিএনপি।

নির্বাচনে ভোটার টানতে গত তিন মাসের সরকারের অর্জন এবং দেশ ও জনগণকে নিয়ে তারেক রহমানের পরিকল্পনা ভোটারদের সামনে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলীয় প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর দলীয় পূর্ণ শক্তি নিয়ে নেতাকর্মীরা ভোটের মাঠে নামবেন।

সরকারের ইতিবাচক কার্যক্রমের কারণে অধিকাংশ এলাকায় বিএনপি নেতারাও বিজয়ী হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

তৃণমূলে শক্তি যাচাই করতে চায় জামায়াত:
বিগত সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় জোটে নির্বাচন করলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে মাঠে নামার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

এরই মধ্যে ১২টি সিটি করপোরেশনের জন্য সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীও চূড়ান্ত করেছে দলটি। এবারের নির্বাচনে তরুণ নেতৃত্ব এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা উত্তরে মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি ও শিবিরের নেতা আবু সাদিক কায়েমকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে আবদুল জব্বার, গাজীপুরে হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রামে শামসুজ্জামান হেলালী এবং রংপুরে এ টি এম আজম খানের নাম সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবেই অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জামায়াত নেতারা মনে করছেন, অতীতে জোটের চেয়ে আলাদাভাবে নির্বাচন করেই তারা বেশি সফলতা পেয়েছিলেন।

 

১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে এগিয়ে এনসিপি:

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রার্থী ঘোষণা করে এগিয়ে আছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রথম ধাপে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র পদে ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে চমক দেখিয়েছে দলটি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ এবং উত্তরে আরিফুল ইসলাম আদিবকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানান, তারা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছেন। তবে ১১ দলের মতো জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তারা আলোচনায় বসতে রাজি আছেন।

এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সারজিস আলম জানিয়েছেন, যোগ্য ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই করে প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

জোটগত নির্বাচন নিয়ে সারজিস বলেন, জোটগতভাবে নির্বাচন করতে হলে কিছু জায়গায় ছাড় দেওয়ার বিষয়টি দলীয় নীতির ওপর নির্ভর করবে। তবে নামকাওয়াস্তে কোনো সমঝোতা মেনে নেওয়া হবে না।

 

এক বছরের মধ্যেই সব নির্বাচন:
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব ধাপে নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে।

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলীয় প্রতীকের মোড়কে বন্দি করা হয়েছিল। এতে তৃণমূলের স্বাভাবিক নেতৃত্ব বিকাশের পথ রুদ্ধ হয়েছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিহিংসা বেড়েছিল। আইন সংশোধন সিটি করপোরেশন আইনের ৩২(ক), পৌরসভা আইনের ২০(ক), উপজেলা পরিষদ আইনের ১৬(ক), এবং ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ১৯(ক) ধারা বাতিল করেছে সংসদ।

 

 

বর্তমানে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৯০টির মতো উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টির মতো পৌরসভা ও ৬১টি জেলা পরিষদের নির্বাচন মেয়াদোত্তীর্ণ। এ ছাড়া হাজার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনও দরজায় কড়া নাড়ছে। ডিসেম্বর থেকেই এই নির্বাচনী মহাযজ্ঞ শুরু হওয়ার জোরালো আভাস রয়েছে।

সূত্র: বাংলানিউজ

 

ভারতে বড় বিনিয়োগ করছে আরব আমিরাত

ভারতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটিতে সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ বৈঠকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব কাঠামো, ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্যাকেজ এবং একাধিক জ্বালানি চুক্তি ঘোষণা করা হয়।

 

শুক্রবার (১৫ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবুধাবি বিমানবন্দরে প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান নিজে মোদিকে স্বাগত জানান এবং আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেন। এরপর দুই নেতা ভারত-ইউএই সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

 

এ সফরের আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তা ছিল অন্যতম প্রধান বিষয়। ভারতের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভস লিমিটেড এবং আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির মধ্যে একটি কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি সই হয়েছে। এর আওতায় ইউএই ভারতের কৌশলগত তেল মজুদে তাদের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে ৩ কোটি ব্যারেলে উন্নীত করবে।

 

দুই দেশ ভারতে কৌশলগত গ্যাস মজুদ গড়ে তুলতেও একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন ও এডিএনওসির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি এলপিজি সরবরাহ চুক্তিও আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দুই নেতা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় ইউএইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং অপরিশোধিত তেল, এলএনজি ও এলপিজি সরবরাহে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে একমত হন।

 

এনডিটিভি জানিয়েছে, সফরের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে ইউএইভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভারতে মোট ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে এমিরেটস এনবিডি ভারতের আরবিএল ব্যাংকে ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। আবুধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি ভারতের ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (এনআইআইএফ) সঙ্গে যৌথভাবে অগ্রাধিকারভিত্তিক অবকাঠামো প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং কোম্পানি ভারতের সাম্মান ক্যাপিটালে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।

 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব বিনিয়োগ ভারতের প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ইউএইয়ের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

 

সফরে দুই দেশের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স পার্টনারশিপ কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশ প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, উদ্ভাবন ও উন্নত প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার প্রতিরক্ষা এবং নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদান আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি ও প্রতিরক্ষার বাইরে প্রযুক্তি ও জাহাজ নির্মাণসহ আরও কয়েকটি খাতে চুক্তি হয়েছে।

 

গণঅধিকারে যোগ দিচ্ছেন এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা

রাঙ্গামাটি জেলা গণঅধিকার পরিষদের যোগ দিচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। এরা হলেন- এনসিপির রাঙামাটির জেলার আহবায়ক বিপিন যথী চাকমা, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির যুব আন্দোলনের সভাপতি পলাশ চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক চীরজিৎ চাকমা, দপ্তর সম্পাদক সাগর চাকমা ও প্রচার সম্পাদক অভিলাস চাকমা, অবসরপ্রাপ্ত এস.আই জলমনি চাকমা এবং এলডিপি নেতা কামালসহ অনেকেই।

 

শুক্রবার (১৫ মে) রাঙ্গামাটি জেলা শিল্পকলা একামেডিতে গণঅধিকার পরিষদে যোগদান করার বিষয়ে এক সমন্বয় সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন- গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ, উচ্চতর পরিষদের সদস্য সাকিব হোসাইন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক লোকমান হোসেন, জেলা গণঅধিকার পরিষদে সাবেক আহবায়ক আবুল বাশার, সদস্য সচিব ওয়াহিদুজ্জামান রোমান, ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি রুদ্র মুহম্মদ জিয়াদ, রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি ইমাম হোসাইন ইমু, সাধারণ সম্পাদক রবিউল আউয়াল, জয় বড়ুয়া প্রমুখ।

 

 

সভায় গণঅধিকার পরিষদের গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, গণঅধিকার পরিষদের রাজনীতি সবার জন্য উন্মুক্ত। আওয়ামী লীগের নিরপরাধ নেতাকর্মীরাও যোগ দিতে পারবে। তবে আওয়ামী লীগের যারা অপরাধী ছিল, তাদের জায়গা গণঅধিকার পরিষদে হবে না। গণঅধিকার পরিষদ পাহাড় সমতল সবার অধিকার নিশ্চিতে কাজ করবে।

 

 

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে সবার পরিচয় এই দেশের নাগরিক। গণঅধিকার পরিষদ রাজপথ থেকে বেড়ে উঠা দল। আমাদের কাছে জনগণের অধিকার বাস্তবায়ন করাই মূল লক্ষ্য। আমরা জুলাই সনদ ও গণভোটের পক্ষে, সরকারের কাছে দাবি তারা যেন জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে দেওয়া কমিটমেন্ট বাস্তবায়ন করে।

সূত্র: কালবেলা

 

বাধা পেরিয়ে ধানকাটা উৎসবে মাতলো সোনাইডাঙ্গার ভূমিহীন কৃষকেরা

দীর্ঘদিনের বাধা, ভয়ভীতি ও নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে নিজেদের রোপণ করা ধান ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাইডাঙ্গা বিলের ভূমিহীন কৃষকেরা। এ সাফল্যের আনন্দ উদযাপন করতে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গণভোজের আয়োজন করেন তারা। অনুষ্ঠানে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের সোনাইডাঙ্গা গ্রামে এ আয়োজন করে গ্রামসোনাই ভূমিহীন সংগঠন। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা দেয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নিজেরা করি’।
আয়োজকরা জানান, বছরের পর বছর ধরে সোনাইডাঙ্গা বিলে চাষাবাদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জোতদারদের সঙ্গে ভূমিহীন কৃষকদের বিরোধ চলে আসছে। চলতি মৌসুমেও ধান কাটাকে ঘিরে নানা বাধা, ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় তারা শান্তিপূর্ণভাবে ধান কেটে ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।
ভূমিহীন সংগঠনের নেতারা বলেন, এটি শুধু ধান কাটার সাফল্য নয়, বরং ভূমিহীন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তারা জানান, রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী এবং রায়গঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতার কারণেই পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল।
অনুষ্ঠানস্থলে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আলোচনা সভার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের নেতা মো. রহমত আলী, আল আমিন ও রফিকুল ইসলাম বলেন, “অনেক বাধা পেরিয়ে আমরা নিজেদের ধান ঘরে তুলতে পেরেছি। প্রশাসনের সহায়তা না থাকলে এবারও হয়তো তা সম্ভব হতো না।”
অনুষ্ঠান শেষে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে গণভোজ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন এলাকায় সচরাচর দেখা যায় না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।

 

মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে রায়গঞ্জে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে বিক্ষোভ মিছিল ও মতবিনিময় সভা করেছে হাজী ওয়াহেদ মরিয়ম অনার্স কলেজ শাখা ছাত্রদল। শিক্ষাঙ্গন ও তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে উপজেলার চান্দাইকোনা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির শুরুতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ভি.পি আয়নুল হক-এর নেতৃত্বে একটি মাদকবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি চান্দাইকোনা বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
পরে একই স্থানে অনুষ্ঠিত হয় মতবিনিময় সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ৪,সিরাজগঞ্জ-৩(রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য ভি.পি আয়নুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুনায়েদ হোসেন সবুজ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন হাজী ওয়াহেদ মরিয়ম অনার্স কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. শাহিন সুমন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. দুলাল হোসেন খান, চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল মমিন সরকার, সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সামা সরকার, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. ইকবাল হোসেন এবং সদস্যসচিব মো. সাইফুল্লাহ ইবনে সজলসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বক্তারা বলেন, মাদক বর্তমানে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের সচেতন করে সুস্থ সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনে ইতিবাচক ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ড বাড়াতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

 

গজারিয়ায় গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৭:৪৯:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোঃ আরমান (২০) নামে ১ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গজারিয়া বাউশিয়া ইউনিয়ন বাউশিয়া গ্রামস্থ চট্টগ্রাম টু ঢাকাগমী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে মেঘনা প্যাকেজিং লিমিটেড এর গেইটের সামনে এই মাদক বিরোধী অভিযান চালানো হয়।
আটক আরমান কুমিল্লার চান্দিনা থানার চান্দিনা ইউনিয়নের জিরো আইস মাইজ খা গ্রামের মো. মোস্তফা কামালের ছেলে।
গ্রেফতারের সময় তাদের (এক) কেজি গাঁজা, মূল্য ২০,০০০/- টাকা, উদ্ধার করা হয়। উক্ত বিষয়ে এজাহার প্রাপ্তি সাপেক্ষে গজারিয়া থানার মামলায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গজারিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করা শেষে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আলী আরো জানান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য নিকটস্থ থানায় জানিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সকলকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

শাহজাদপুরে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল আদায়ে বাঁধা প্রদানের অভিযোগ!

সিরাজগঞ্জ জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মিশুক ও ট্যাক্সিকার শ্রমিক ইউনিয়নের অনুকূলে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল সংগ্রহে বাঁধা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে শ্রমিকদের থেকে চাঁদা আদায়কারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে সিরাজগঞ্জ জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মিশুক ও ট্যাক্সিকার শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।
১৫ মে (শুক্রবার) দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলার করতোয়া সেতুর পূর্বপাড়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি ফরহাদ আলীর সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক কিবরিয়া খান সজলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, ‘ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম দপ্তরে রেজিষ্ট্রেশনকৃত সিরাজগঞ্জ জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মিশুক ও ট্যাক্সিকার শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং- রাজঃ ৩০০১) এর নেতৃবৃন্দ স্থানীয় সিএনজি শ্রমিকদের কল্যাণের স্বার্থে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে অনুমোদন নিয়ে দৈনিক ১০ টাকা শ্রমিক কল্যাণ তহবিল আদায় শুরু করেন।
কিন্তু, সরকারি সেই বিধিবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে হয়রানিসহ দৈনিক শ্রমিক কল্যাণ তহবিল আদায় বন্ধ করে দেন উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও আসন্ন হাবিবুল্লাহ নগর ইউপি নির্বাচনের সাম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী মনির গং।
এ সময় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ আক্ষেপ প্রকাশ করে আরও বলেন,  ‘সরকারি অনুমোদন না নিয়েই হাজী মনির গং অবৈধভাবে  দৈনিক ২০/৩০ টাকা চাঁদা আদায় করছেন। সেই তারাই আবার সিএনজি শ্রমিকদের বৈধ ১০ টাকা শ্রমিক কল্যাণ তহবিল সংগ্রহে বাঁধা দিচ্ছেন। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এ অবৈধ অযাচিত  হস্তক্ষেপ রোধে  স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. এম এ মুহিত এমপিসহ প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিকেরা ছাড়াও শাহজাদপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক হাজী মনির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ওখানকার কিছু না। তাই চাঁদা ওঠানোর প্রশ্নই ওঠে না।’

 

চিত্রনায়ক ফারুকের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

 

বাংলা চলচ্চিত্রের মিয়াভাই খ্যাত চিত্রনায়ক ফারুকের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বাংলা সিনেমায় গ্রামীণ প্রতিবাদী যুবকের চিত্র দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলে আজও সিনেমাপ্রেমীদের মাঝে অমর হয়ে রয়েছেন ফারুক।

 

আজকের দিনে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফারুক। তবে তিনি ইহলোকে না থাকলেও বেঁচে আছেন তার অনবদ্য অভিনয় ও কর্মের মধ্যে।

 

‘সব সখীরে পার করিতে নেব আনা আনা, তোমার বেলায় নেব সখী তোমার কানের সোনা’—বাংলা চলচ্চিত্রের এ কালজয়ী গানের চিত্র যখন মনে পড়ে, তখন অবলীলায় চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক সুদর্শন যুবকের কথা। তিনি নায়ক ফারুক। বাংলা চলচ্চিত্রের সাদাকালো যুগের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় নায়ক তিনি। চলচ্চিত্রের মানুষজনের কাছে ফারুক ‘মিয়া ভাই’ নামেও পরিচিত। চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

 

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা প্রায়ই তাকে স্মরণ করেন নানা পরিস্থিতিতে। তিনি শুধু একজন গুণী অভিনেতা, দর্শকনন্দিত নায়ক কিংবা সংসদ সদস্যই ছিলেন না, এসবের বাইরেও তিনি ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রকৃত অর্থে চলচ্চিত্র পরিবারের একজন অভিভাবক। চলচ্চিত্রের নানা সংকটময় পরিস্থিতি তিনি দৃঢ় হাতে সামাল দিতেন।

 

চলচ্চিত্রের মানুষের আপদে-বিপদে সর্বদা এগিয়ে আসতেন। গ্রামীণ পটভূমিকায় তার অভিনয় এতটাই সাবলীল ছিল যে, একসময় তার ইমেজ গড়ে ওঠে গ্রামের প্রতিবাদী যুবকের। ফারুকের স্ত্রী ফারহানা পাঠান বলেন, ‘তাকে আমরা সবসময়ই স্মরণ করি। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’

নায়ক ফারুকের পুরো নাম আকবর হোসেন পাঠান দুলু। তিনি শুধু একজন অভিনেতাই নন, প্রযোজক ও ব্যবসায়ী হিসেবেও তার খ্যাতি রয়েছে। ১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন ফারুক। তার চলচ্চিত্রে অভিষেক ১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ সিনেমার মাধ্যমে। নায়ক হিসেবে ফারুক আলোচনায় আসেন ১৯৭৫ সালে গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত ‘সুজন সখী ও ‘লাঠিয়াল’ সিনেমা দুটির মাধ্যমে। এ দুটি সিনেমাই ব্যবসাসফল ও দর্শকনন্দিত হয়েছিল।

 

এমনকি সেই বছর ‘লাঠিয়াল’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব চরিত্রের অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র লাভ করেন ফারুক। দেশের চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদান রাখায় ২০১৬ সালে ফারুককে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

ব্যক্তিগত জীবনে ফারুক বিয়ে করেন ফারহানা পাঠানকে। ফারিহা তাবাসসুম পাঠান ও রওশন হোসেন নামে তাদের দুই সন্তান রয়েছে।

 

হরমুজ প্রণালির দিকে ছুটছে ফ্রান্সের যুদ্ধজাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ফ্রান্স তাদের বিমানবাহী রণতরী শার্ল দ্য গোলকে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় পাঠাচ্ছে। ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি অ্যালিস রুফো শুক্রবার ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভিকে বলেন, যুদ্ধজাহাজটি আরব সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে পৌঁছে গেছে।

 

তিনি বলেন, এটি আরব সাগরের দিকে এগোচ্ছে, ইতোমধ্যে এলাকায় রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় হরমুজ প্রণালি।

পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ান।

 

 

এদিকে ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানি সামুদ্রিক চলাচল লক্ষ্য করে নৌ অবরোধ কার্যকর করছে। এ নিয়ে প্রায় ছোটখাটো সংঘাত লেগেই রয়েছে।

 

চাঁদের আলোয় দেখা মিলবে বিরল রংধনুর

সূর্যের আলোতে রংধনু দেখছেন। কিন্তু কখনো কি রাতে চাঁদের আলোয় রংধুন দেখেছেন? কী রাতে রংধনুর কথা শুনে চমকে উঠেছেন? চাইলে রাতেও দেখতে পারেন প্রকৃতির অন্যতম বিরল দৃশ্য।

খবর বিবিসির

জিম্বাবুয়ে এবং জাম্বিয়ার সীমান্তের ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত পৃথিবীর অল্প কয়েকটি স্থানের একটি, যেখানে এই ‘মুনবো বা চন্দ্রধনুর’ দেখার সুযোগ মিলতে পারে।

 

সম্প্রতি ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতে সারাহ স্টিজার রাতে চাঁদের আলোতে তৈরি রংধনু দেখেন এবং তা ক্যামেরাবন্দি করেন।

 

সারাহ স্টিজার সংবাদ মাধ্যম বিবিসি-তে তার চন্দ্রধনু দেখার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

 

সারাহ স্টিজার তার বিরল অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, সেখানে (ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতে) কোনো ফ্লাডলাইট ছিল না।

 

ছিল কেবল উদীয়মান পূর্ণিমার চাঁদের ম্লান আভা আর জাম্বিয়ার রাতের ঘন নীল-কালো অন্ধকার। অন্ধকারের ওপারে, ১০০ মিটারেরও (৩২৮ ফুট) বেশি নিচে গিরিখাতের মধ্যে আছড়ে পড়ছিল পানি।

আছড়ে পড়া পানি বাতাসের অনেক উঁচুতে বিশাল জলকণা বা স্প্রে-র স্তম্ভ পাঠিয়ে দিচ্ছিল।

সারাহ আরও বলেন, তারপর ধীরে ধীরে, প্রায় অলক্ষ্যে, জলকণার মাঝে একটি ম্লান দাগ, সরাসরি সেদিকে না তাকালে দেখা কঠিন। তারপর একটি বক্ররেখা ফুটে উঠল- একটি কোমল, উজ্জ্বল বন্ধনী; অন্ধকারের বুক চিরে প্রসারিত এবং নিচে হা করা গিরিখাতের ওপরে ঝুলে আছে রংধনু। এটি ছিল ‘মুনবো’ বা একটি চন্দ্রধনু। এটি সূর্যের আলোয় নয় বরং চাঁদের আলোয় তৈরি হয়।

জিম্বাবুয়ে এবং জাম্বিয়ার সীমান্তের মাঝে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জলপ্রপাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত। এটি স্থানীয়ভাবে ‘মোসি-ওয়া-তুনিয়া’ বা ‘বজ্রধ্বনি সৃষ্টিকারী ধোঁয়া’ নামে পরিচিত।

 

প্রতি বছর প্রায় দশ লাখ মানুষ এই ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত দেখতে আসেন। যাদের বেশিরভাগই দিনের আলোতে আসেন। কিন্তু অন্ধকার হওয়ার পর, পূর্ণিমার সময়টিতে অভিজ্ঞতাটি সম্পূর্ণ বদলে যায়। তখন রাতে অন্ধকারে চাঁদের আলোয় দেখা মিলতে পারে এই বিরল মুনবো বা চন্দ্রধনুর।

 

হামে একদিনে আরও ১২ জনের প্রাণ গেল

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৯২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ৬১১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১১১ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা সাত হাজার ৪১৬ জন।

১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০ হাজার ১৭৬ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও আট জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৩৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আরও চার জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

হাসপাতালের গাছে ঝুলছিল যুবকের মরদেহ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নরিনায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন হাসমত ফকির (৪০) নামের এক ব্যক্তি। শুক্রবার সকালে শাহজাদপুর থানা পুলিশ নরিনা হাসপাতাল কম্পাউন্ডের একটি আম গাছ থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত হাসমত নরিনা মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত সফিজ ফকিরের ছেলে।

 

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সকালে নরিনা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কম্পাউন্ডের মধ্যে একটি আমগাছের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় হাসমত ফকিরের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী ও স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: হাফিজুর রহমান ও শাহজাদপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নাজমুল কাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

এসময় ইন্সপেক্টর নাজমুল কাদের জানান, প্রাথমিকভাবে সুরতহাল করে মনে হচ্ছে এটি একটি আত্মহত্যা। তবে অধিকতর তদন্তের জন্য লাশ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

কৃষকের ধান কেটে ফেসবুকে ভিডিও ছড়ালো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এক কৃষকের ফসলের মাঠ পাকা ধান কেটে ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ।  ৪৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) খোজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার পঞ্চকোশী ইউনিয়নের ভদ্রকোল গ্রামের একটি ফসলি জমিতে ছাত্রলীগের ৮ থেকে ১০ জন নেতাকর্মী এক কৃষকের পাকা ধান কেটে দিচ্ছেন এবং মাথায় নিয়ে যাচ্ছে। ভিডিওতে এক যুবকের কথায় বলছে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রী সহ-সভাপতি ভিপি ফরহাদ ভাইয়ের দিকনির্দ্দেশনায় উল্লাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সাধারণ খেটে খাওয়া কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছি। সাধান মানুষের পাশে থাকবে ছাত্রলী এই কথার পরে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ধান করতে শুরু করে। ভিতিওতে এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোক্তারুজ্জামান বলেন, কৃষকদের ধান কেটে দিচ্ছে, এমন একটি ভিডিও আমরা দেখেছি। তবে, কোন এলাকার এমন কাজ করেছে, তা খোঁজা হচ্ছে। ভিডিওতে যাঁদের দেখা গেছে, তাঁদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। শনাক্ত করা গেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
২০২৪ সালের (৫ আগষ্ট) আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেছে। সংগঠনটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর থেকে প্রকাশ্যে আর তাদের কোনো কর্মসূচি করতে দেখা যায়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

সিরাজগঞ্জের এতিম রায়হান-রোহানের পাশে প্রধানমন্ত্রী

গণমাধ্যমে সংবাদ দেখে সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার এতিম দুই শিশু রায়হান ও রোহানের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

তার নির্দেশে শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধি দল শিশু দুটির বাড়িতে গিয়ে তাদের পড়ালেখাসহ যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে।

 

জানা যায়, বাবা মারা গেছেন ছোটবেলায়, চার মাস আগে হারিয়েছে মাকেও- নানীর অন্যের বাড়িতে কাজের টাকায় কোনো রকমে চলছে এতিম দুই শিশুর জীবন- সম্প্রতি এমন একটি প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বিষয়টি ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়।

 

এরপর তিনি শিশু দুটির খোঁজখবর নিতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন।

 

সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের একডালা গ্রামে যায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতিনিধি দল।

 

সংগঠনটির উপদেষ্টা আবুল কাশেমের উপস্থিতিতে এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি রায়হান ও রোহানের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন।

 

এ সময় প্রতিনিধি দলটি এতিম শিশু দুটির নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আবাসনের জন্য সহায়তার উদ্যোগ নেয়।

 

পাশাপাশি অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া লেখাপড়া পুনরায় শুরু করতে এককালীন শিক্ষা বৃত্তি ও মাসিক শিক্ষা বৃত্তি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ৯ বছর বয়সী রায়হান ও ৭ বছর বয়সী রোহান ছোটবেলাতেই বাবাকে হারায়। চার মাস আগে মায়ের মৃত্যুর পর তারা এখন বৃদ্ধ নানা আজিজুর রহমান ও নানী মালেকা বেগমের আশ্রয়ে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অর্থাভাবে তাদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় এবং একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে তারা বসবাস করছে।

 

প্রতিনিধি দলের পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা, কাজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুস সালাম, সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েস, বিএনপি নেতা হাসান।

 

এছাড়া ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহান, আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

 

 

১৪ হাজার ৫০০ টাকার খাসির খাজনা ১৫০০!

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৬:০৩:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এনায়েতপুর কোরবানীর পশুর হাটে গরু ছাগলের  অস্বাভাবিক খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গবাদিপশুর খাজনা নেওয়া হচ্ছে প্রতি হাজারে ১০০ টাকা করে। তবে রশিদে খাজনার পরিমাণ উল্লেখ করা নেই।

 

 

শুক্রবার (১৫ মে) এনায়েতপুর গরু-ছাগলের হাটে এভাবেই খাজনা নেওয়া হচ্ছে বলে এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন।

 

 

জানা যায়, বেলকুচি উপজেলার তামাই পূর্বপাড়া গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি আব্দুল কুদ্দুস কবিরাজ এনায়েতপুর হাট থেকে ১৪ হাজার ৫০০ টাকায় কোরবানির জন্য ছোট একটি খাসি কিনেছেন। কেনার পরই তিনি খাজনা ঘরে খাজনা দিতে গিয়ে পরেন বিপাকে। ইজারাদার মাসুদ রানা পাষাণ সরকার প্রতি হাজারে ১০০ টাকা করে দাবি করেন।

 

আব্দুল কুদ্দুস কবিরাজ বলেন, হাজারে একশো টাকা হিসেবে ১৪৫০ টাকা খাজনা আসে। কিন্তু দাবি করা হয় ১৫০০ টাকা। তিনি ১৩০০ টাকা দিতে চাইলেও রশিদ আটকে রাখেন ইজারাদারের লোকজন। বাধ্য হয়ে ১৫০০ টাকা দিয়েই রশিদ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় তাকে।

 

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি ঢাকায় ছোট ব্যবসা করি। আজই ঢাকা ফিরে যাব। সময় নাই দেখে তাড়াতাড়ি ওই খাসিটি কিনে ভ্যান যোগে বাড়ি যাচ্ছি। এত টাকা খাজনা হলে ওই হাটে যেতাম না। এখন খাজনরা রশিদে দেখছি টাকাও উল্লেখ নেই। এটা বড় প্রতারনা। নাম ঠিকানা দাম রশিদে উল্লেখ করলেও খাজনার দেড় হাজার টাকার কথা উল্লেখ করা হয়নি। এদের বিষয়ে সরকারিভাবে জরুরী পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তিনি।

 

এ বিষয়ে এনায়েতপুর হাটের ইজারাদার মাসুদ রানা পাষাণ বলেন, আমি খাজনা আদায় করি না। তবে যারা কালেকশন করে তাদের বলা আছে যতটুকো কম নেওয়া দরকার কম নিতে। সাড়ে ১৪ হাজার টাকার খাসির খাজনা ১৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন আমি এ বিষয়ে জানিনা।

 

তিনি বলেন, ঈদের সময় খরচ বেশি হয় এ জন্য একটু বেশি খাজনা নেওয়া হয়। তবে এত বেশি নেওয়ার কথা নয়।

 

সরকার নির্ধারিত খাজনা কতো এবং কত বেশি নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নাই।

 

এ ব্যাপারে জানতে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মোবাইলে ফোন দেওয়া হলে সেটা বন্ধ পাওয়া যায়।

 

 

ফেসবুকে যারা লেখে তারা গুপ্তের চেয়েও খারাপ: বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সমালোচনা করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ফেসবুকের ওয়াল হয়ে গেছে, সবচেয়ে নোংরা ওয়াল। ফেসবুকে যারা লেখে তারা গুপ্তের চেয়ে খারাপ। তিনি বলেন, বাচ্চাদের বল দেন, ক্রিকেটের ব্যাট দেন, ডাঙ্গুলি দেন। এগুলো করলে সমাজ ভালো হবে।

 

শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরের দিকে সিরাজগঞ্জ শহীদ শামসুদ্দিন স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাইছেন, আগামি প্রজন্ম যারা বেড়ে উঠবে তারা খেলাধুলা করেই বেড়ে উঠবে। না খেললে মস্তিস্ক উর্বর হয় না।

 

নিজের বাল্যকালের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী বলেন, সারাবছর ইসলামিয়া কলেজ মাঠ ছিল খেলাধুলায় সরব। ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টনসহ নানা খেলা চলতো। আমরা গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্দা আরও অনেক খেলা খেলেছি। আর খেলাধুলার কারণে নেশার দিকে ঝুকতে পারি নাই। আর এখন ওই মাঠটিতে হয় গরু চরে, নয় গরুর গোবর শুকানো হয়। এই জন্য আজকে সমাজ নেশার দিকে চলে গেছে। একটা জেনারেশন নেশার জন্য নষ্ট হয়ে গেছে। এখান থেকে ফেরাতে হবে। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদককে না বলা শেখাতে হবে।

 

তিনি বলেন, মাঠ কেন্দ্রিক সোসাইটি গড়ে তোলেন। প্রত্যেকটা ইউনিয়নে দুইটা খেলার মাঠ থাকবে। প্রত্যেকটা স্কুলে মাঠ আছে। মাঠে খেলাধুলা করাতে হবে। বাচ্চাদেরকে খেলা শেখান, মেয়েদেরকে খেলা শেখান।

 

ইসলামিয়া কলেজ মাঠকে ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রূপান্তরের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখানে ক্রিকেট একাডেমী বানাবো, ইনডোর ট্রেনিং হবে।

 

সিরাজগঞ্জের উন্নয়নে নিজের ব্যর্থতার কথা অকপটে স্বীকার করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমি আমার ব্যর্থতার কথা বলি। আমি তিনমাস হলো মন্ত্রী, সিরাজগঞ্জে এক চুল পরিমাণ কিছু করতে পারি নাই। আমি স্বীকার করি। পারিনি কেন? আমি কো-অপারেশন পাইনি কারও কাছ থেকে। তাহলে এতদিনের সিরাজগঞ্জ সুন্দর ও সুশৃংখল শহরে পরিণত হতেো আপনারা কেউ সহযোগীতা করেন নাই আমাকে। টুকু সাহেব এই কথা কইছে, তাহলে আমরা সবাই মিলে নেমে পড়ি।

 

তিনি বলেন, এটা তো আমার একার দায়িত্ব নয়। হ্যা, যেটা হবে আমার ট্রার্ম শেষ হলে সবাই বলবে অনেক কথা বলেছিলেন কিন্তু করেন নাই। কিন্তু কেন যে করলাম না আপনারা কিন্তু সেটা খুঁজবেন না। খালি ডিসি আর এসপি দিয়ে কইলেই হবে? আপনাদেরও নামতে হবে।

 

মন্ত্রী আরও বলেন, সবাই ব্যবসা করবে, সবাই অর্থ রোজগার করবে-কিন্তু কেউ সমাজের কিচ্ছু করবে না। বাস রাস্তায় জড়ো ব্যবসা করবে। একজন  দোকানদারকে ব্যবসা করতে দোকান খুলতে হয়। কিন্তু বাস ওয়লাদের লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করবে কিন্তু বাসটা রাখার ব্যবস্থা করবে না। ওইটা সরকারি জায়গা আছে দখল করে ব্যবসা করবে। প্রত্যেকটা বাস মালিক যদি নিজেদের খরচায় নিজেদের বাস রাখার ব্যবস্থা করে, তাইলে শহরটা বিশৃংখল থাকে না।

 

জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন খান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাহাব উদ্দিনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে ঘুষ দাবির অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে ক্ষেতলাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয় কুমার বর্মনকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগের পর জেলা পুলিশ প্রশাসন এ ব্যবস্থা নেয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁচুপীর খন্দকারপাড়া গ্রামের মো. শাহজাহান খন্দকারের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে গত ৭ এপ্রিল নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় পরদিন ৮ এপ্রিল ক্ষেতলাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৩৪৯) করা হলে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই সঞ্জয় কুমার বর্মনকে।

ভুক্তভোগী পিতা শাহজাহান খন্দকার অভিযোগ করেন, জিডির কয়েকদিন পর তদন্ত কর্মকর্তা তার মেয়েকে উদ্ধারের কথা বলে টাকা দাবি করেন। মেয়ের সন্ধানে মরিয়া হয়ে তিনি এসআই সঞ্জয় কুমার বর্মনকে ৩ হাজার টাকা দেন। তবে টাকা নেওয়ার পরও কিশোরীকে উদ্ধারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

পরে থানা পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে গত ৫ মে ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে মামলা দায়ের করে। একইসঙ্গে ৭ মে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে লিখিত আবেদন জানানো হয়।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসআই সঞ্জয় কুমার বর্মনকে ক্ষেতলাল থানা থেকে প্রত্যাহার করে জয়পুরহাট পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফ হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে এসপি স্যারের কাছে একটি অভিযোগ ছিলো। এর প্রেক্ষিতে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এদিকে, নিখোঁজের এক মাস পেরিয়ে গেলেও কিশোরীকে আজও খুঁজে পায়নি তার পরিবার। মেয়ের সন্ধান না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্বজনদের।

আগৈলঝাড়ায় বোরো সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা খাদ্যগুদাম চত্তরে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক।

 

 

 

 

 

খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত এই বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান চলবে। প্রতিকেজি ধানের মুল্য নির্ধারন করা হয়েছে ৩৬ টাকা। কৃষি অফিসের তালিকাভুক্ত চাষীদের কাছ থেকে এই বোরে ধান সংগ্রহ করা হবে। প্রতিজন চাষীর কাজ থেকে সর্বোচ্চ তিনটন ধান সংগ্রহ করবেন খাদ্যগুদাম। চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৬০ মেট্রিক টন চিটামুক্ত বোরো ধান সংগ্রহ করা হবে। যার আর্দ্রাতা সর্বোচ্চ ১৪।

 

 

 

উদ্বোধনী সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক সিকদার হাফিজুল ইসলাম, ওসি(তদন্ত)সুশংকর মল্লিক, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ফারজানা ফৌরদোস, খাদ্য পরিদর্শক(ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো.আবুক্কর ছিদ্দিক, প্রেসক্লাব সভাপতি মো.শামীমুল ইসলাম, বিএনপি’র যুগ্ন-আহবায়ক আবুল হোসেন মোল্লা প্রমুখ।

 

 

 

হিলিতে পুলিশের অভিযান: ৭ মামলার কুখ্যাত আসামি শওকতসহ গ্রেপ্তার ৯

​দিনাজপুরের হাকিমপুর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ও সাতটি মামলার পলাতক আসামি শওকতসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার দিনভর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে৷
​আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর ২ ঘটিকায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন।
​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার পৃথক দুটি মাদক মামলা এবং বিভিন্ন ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারায় রুজুকৃত মামলায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁরা হলেন, মোঃ রশিদুল ইসলাম (৩২) বিরামপুর৷ মোঃ মোফাজ্জল হোসেন (৪৭), বিরামপুর৷ মোঃ মাহাবুব আলম (৪৯) হাকিমপুর৷ মোঃ শাহিনুর ইসলাম (২৫) বিরামপুর৷  মোঃ কাওসার হোসেন (৪২) বিরামপুর এবং শ্রী দীপক সিং (২৮) হাকিমপুর।
​এছাড়াও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) ধারায় হাকিমপুরের দক্ষিণ মাধবপাড়া এলাকার মোঃ আনোয়ার মুন্সির ছেলে মোঃ রাহুলকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে জিআর মামলায় ওয়ারেন্ট মূলে আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলেন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ওরফে শওকতকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে দিনাজপুর ও বগুড়াসহ বিভিন্ন থানায় ৭টি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া বদরগঞ্জ থানার একটি ওয়ারেন্ট মূলে মোঃ মোস্তাক আহমেদকে (৫২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মাদক সিন্ডিকেট, মাসোয়ারা ও আপোষ বাণিজ্য: অভিযোগের কেন্দ্রে এসআই জুয়েল

রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েলের বিরুদ্ধে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা, উদ্ধারকৃত অরিজিনাল হেরোইন বিক্রি এবং বিচারপ্রার্থীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী এই পুলিশ কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পক্ষ এখন আতঙ্ক ও ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে উদ্ধারকৃত মাদক নিয়ে কারসাজির বিষয়ে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এসআই জুয়েল মাদকসহ আসামি আটক করার পর উদ্ধারকৃত অরিজিনাল মাদক সরিয়ে সেখানে নকল বা মাদক সদৃশ বস্তু যুক্ত করে আদালতে চালান দেন।
গত ১০ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ভাটোপাড়া এলাকা থেকে ১০০ গ্রাম মাদকসহ আলিয়ারা বেগম (স্বামী- মাসুদ রানা) নামের এক নারীকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় গোদাগাড়ী মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা (এফআইআর নং-২১, জিআর নং-১০৯) রেকর্ড করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, উদ্ধারকৃত ১০০ গ্রাম অরিজিনাল হেরোইনের মধ্যে ৯০ গ্রামই বিক্রি করে দেন এসআই জুয়েল। পরে মাত্র ১০ গ্রাম ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে বাকি অংশের জায়গায় মাদক সদৃশ বস্তু যুক্ত করে জব্দ তালিকায় দেখানো হয়।
থানার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এসআই জুয়েলের বিরুদ্ধে উদ্ধারকৃত আসল মাদক বিক্রির অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও তিনি একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেন তারা।
শুধু মাদক নয়, ফসলি জমির টপসয়েল (ওপরিভাগের মাটি) নিধন সিন্ডিকেট থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই সিন্ডিকেটের এক সদস্য ছদ্মনাম “রহিম” ফোনে জানান, তিনি নিয়মিত থানায় গিয়ে এসআই জুয়েলকে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে থাকেন। তবে বর্তমান ওসির সঙ্গে এ ধরনের কোনো লেনদেন হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।
এছাড়া উপজেলার সাফিনা পার্ক থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন মামলার বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে আপোষ-মীমাংসার কথা বলে থানায় ডেকে এনে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করেন এসআই জুয়েল। কেউ টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় বলেও জানিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই জুয়েলের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমার জানা নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পুলিশের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অন্যথায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি পুলিশের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধে হার মানলেন পুলিশ সদস্য মিজানুর রহমান

ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির সঙ্গে মাত্র এক মাসের লড়াই শেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন পুলিশ কনস্টেবল মিজানুর রহমান মিজান ।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মিজানুর রহমান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার নারায়ণ শহর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল থানায় কর্মরত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মিজানুর রহমান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হলে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে শেষ পর্যায়ের ক্যান্সার শনাক্ত হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও ক্যানসার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুতে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি নিজ গ্রামেও চলছে শোকের মাতম। সহকর্মী ও স্থানীয়রা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ বাদ এশায় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আরিফ হোসেন বলেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এসপি স্যার একটি শোকবার্তা দিয়েছেন। অন্যদিকে জেলা পুলিশ এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টারস এর পক্ষ তার পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে অনিয়মের অভিযোগে মনছুর আলী ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানী তেল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগে একটি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে সদর উপজেলার ভূল্লীতে মেসার্স আলহাজ্ব মনসুর আলী ফিলিং স্টেশনে অভিযানে অনিয়মের অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হাসনা হেনা লাবনী।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত নিয়ম উপেক্ষা করে ফুয়েল কার্ড ছাড়া পেট্রোল বিক্রির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
অভিযান চলাকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জ্বালানী তেল বিক্রয়ে সরকারি নির্দেশনা ও বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সাথে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হাসনা হেনা লাবনী জানায়, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা, জ্বালানী তেল বিপণনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জয়পুরহাটে প্যানেল চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বাতিল করে প্রকৌশলীকে নিয়োগ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোছাঃ হোসেনে আরা বেগমের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বাতিল করা হয়েছে। পরিষদের কার্যক্রম ও জনসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে উপজেলা প্রকৌশলীকে এই দায়িত্ব প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।

 

​গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক মো: আল-মামুন মিয়া স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

 

​অফিস আদেশ সূত্রে জানা গেছে, আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান জনাব মো: আনোয়ারুজ্জামান তালুকদার মামলাজনিত কারণে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত রয়েছেন। এর ফলে স্থানীয় সরকার সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মোছাঃ হোসেনে আরা বেগমকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।

 

 

 

​তবে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অভিযোগ তুলে ধরেন পরিষদের সদস্যরা। এরই প্রেক্ষিতে পরিষদের ৮ জন সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনয়ন ও অপসারণের আবেদন করেন। সদস্যদের অনাস্থা ও প্রশাসনিক তদন্তের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক হোসেনে আরা বেগমের ক্ষমতা বাতিল করেন।

 

​আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে এবং জনসেবা অব্যাহত রাখতে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৩, ১০১ এবং ১০২ ধারা মোতাবেক ক্ষেতলাল উপজেলা প্রকৌশলীকে আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে।

 

​জেলা প্রশাসক কর্তৃক জারিকৃত এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

গাজীপুরের আলোচিত পাঁচ খুনের রহস্য উদঘাটন

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের ৫ জনকে নৃশংস হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ। পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, তিন কন্যা সন্তান ও শ্যালককে হত্যার পর প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু এলাকা থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

 

 

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গোপালগঞ্জ সদর থানার গোপীনাথপুর এলাকার মৃত আতিকার রহমান মোল্লার ছেলে ফোরকান মোল্লা (৪০) প্রায় ১৬ বছর আগে শারমিন বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে তিন কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ ও পারিবারিক অশান্তি চলছিল। প্রায় ছয় মাস আগে ফোরকান মোল্লা স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউজকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় জনৈক মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করেন। তিনি পেশায় একজন প্রাইভেটকার চালক ছিলেন।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৮ মে রাতে ফোরকান মোল্লা তার শ্যালক রাসেল মোল্লাকে গাড়ি কেনার কথা বলে গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ায় নিয়ে আসে। পরে গভীর রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরিবারের সদস্যদের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতনকারী পদার্থ মিশিয়ে খাওয়ানো হয় বলে পুলিশের ধারণা। সবাই অচেতন হয়ে পড়লে ধারালো চাপাতি দিয়ে স্ত্রী শারমিন বেগম, তিন কন্যা সন্তান এবং শ্যালক রাসেল মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যা করে ফোরকান।

নিহত শারমিনের বাবা শাহাবুদ্দিন মোল্লার অভিযোগের ভিত্তিতে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরপরই জেলা পুলিশ, পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং কাপাসিয়া থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক টিম মাঠে নামে।

পুলিশ জানায়, আধুনিক প্রযুক্তি, মোবাইল ট্র্যাকিং ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান ঢাকার দিকে পালিয়ে যায় এবং পরে পদ্মা সেতু এলাকায় অবস্থান নেয়। ১১ মে সকালে পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের পাশে ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এক ব্যক্তি কিছু সময় সেতুর ওপর অবস্থান করার পর নদীতে ঝাঁপ দেয়। পুলিশের ধারণা, ওই ব্যক্তি ফোরকান মোল্লা।

 

 

 

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মোল্লা পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করেছে।”

 

 

 

তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত আত্মগোপনে চলে যায় এবং পরবর্তীতে পদ্মা সেতু এলাকা থেকে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে নদীতে ঝাঁপ দেয় বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।” এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহতদের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

 

শিক্ষাক্ষেত্রে সেশনজট কমাতে নতুন পরিকল্পনা: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সেশনজট যেনো বন্ধ হয়ে যায়, আমরা সেভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি চালু করবো৷ 

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) বিকেলে গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) ক্যাম্পাসে ‘আইইউটি এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ তথ্য জানান। 

 

 

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের টার্গেট একাডেমিক ক্যালেন্ডার হবে ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে। 

 

 

বিগত সময়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে যে অব্যবস্থাপন হয়েছে, সেগুলোর সমাধান করা। 

 

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পলিসি মেকারদের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর জীবন থেকে যেনো অতিরিক্ত ২ বছর ঝরে না পড়ে।

 

 

এজন্য ক্রমান্বয়ে আমার সিংক্রোনাইজ করছি। 

 

 

এসময় মন্ত্রী আইইউটির মানসম্মত গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে ধারাবাহিক সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় উৎকর্ষতা অর্জনে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। 

 

 

অনুষ্ঠানে আইইউটি উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ও উপ-উপাচার্য হোসাইন আরাবি নুর সহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

 

 

 

এরআগে মন্ত্রী আইইউটি শিক্ষার্থীদের তৈরি করা গাড়ি ও অন্যান্য যন্ত্র ঘুরে দেখেন৷ পরে বিভিন্ন দেশে প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার পাওয়া শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। 

 

 

 

শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষতা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিও প্রদান করেন শিক্ষামন্ত্রী। 

রায়গঞ্জের ধানের হাটে অনিয়মের অভিযোগ, অতিরিক্ত ওজন ও খাজনা নিয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ধানের হাটে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে অতিরিক্ত ওজনে ধান ক্রয় এবং খাজনার নামে বাড়তি টাকা ও ধান আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, আড়ৎদার, ক্রেতা, ফড়িয়া ও ইজারাদারদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেটের কারণে তারা প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার প্রাচীন ও বড় হাটগুলোর মধ্যে সলঙ্গা, চান্দাইকোনা, নিমগাছীসহ অন্তত ১০টি ধানের হাটে নিয়মিত ধান কেনাবেচা হয়। পাশাপাশি এক শ্রেণির ফড়িয়া ব্যবসায়ী নির্ধারিত কমিশনের ভিত্তিতে গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করেন।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মন ধানের ওজন ৪০ কেজি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রতি মণে ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত ওজনের কম হলে অনেক ক্ষেত্রে ধান কিনতে অনীহা দেখান ক্রেতারা। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষকদের বাড়তি ধান দিতে হচ্ছে।
এ ছাড়া ইজারাদাররা ধান বিক্রেতাদের কাছ থেকে খাজনা বাবদ নগদ টাকা আদায়ের পাশাপাশি ধান (তোলা) বাবদ প্রতি মণে দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষকদের ক্ষোভ বাড়লেও প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
চান্দাইকোনা হাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “সার, তেল, সেচ ও শ্রমিকের খরচ কয়েকগুণ বাড়লেও ধানের দাম বাড়েনি। ধান বিক্রি করতে গেলেই ব্যবসায়িদের সিন্ডিকেটের ফাঁদে পড়তে হয়।”
তেলিজানা গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, “ঘুড়কা হাটে এক মন ধানে ৩ থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান দিতে হচ্ছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠছে না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ধান চাষ ছেড়ে দিতে হবে।”
আরেক কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, “হাটে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করা হয় না। কষকদের জিম্মি করে ব্যবসায়িরা পকেট ভরে। ধান চাষে খরচ বাড়লেও আমরা লাভের মুখ দেখতে পাই না।”
নিমগাছী হাটের এক বিক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, “এ হাটে ধান বিক্রি করতে এলে প্রতি মণে ৩ থেকে ৪ কেজি বেশি দিতে হয়। এ ছাড়া ফড়িয়া ব্যবসায়িরা সুযোগ পেলে ধান ওজনের কারচুপি করে প্রতি বস্তায় দেড় থেকে দুই কেজি ধান কম বানায়।” তিনি আরও জানান, কিছু আড়ৎদার ধান কিনে যথাসময়ে টাকা পরিশোধ না করে টালবাহানা করেন এবং বাকিতে ধান নিয়ে থাকেন।
নিমগাছী বাজারের এক আড়ৎদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বছরের পর বছর ধরেই এভাবে ধান কেনাবেচা চলে আসছে। সবাই এভাবেই ব্যবসা করেন।” তিনি দাবি করেন, পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনার খরচের কারণেই কিছুটা বেশি ওজন নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল মনে করছেন, ধানের হাটে অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত নজরদারি, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং খাজনা ও তোলার নামে অতিরিক্ত অর্থ ও ধান আদায় বন্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরি।

শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল সাবেকমন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের জানাজায়

সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে চট্টগ্রামে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১১টার দিকে নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তাকে মিরসরাইয়ে নেওয়া হয়।

 

 

সেখানে বাদ আসর ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় নামাজের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

 

 

 

জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ছাড়াও সাধারণ জনগণকে জানাজায় অংশ নিতে দেখা যায়।

 

 

এ সময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন দেশের রাজনীতির এক অভিজ্ঞ ও সজ্জন ব্যক্তিত্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ভূমিকা মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

One thought on “ইরানকে মোকাবিলায় দিশেহারা আমেরিকা

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানকে মোকাবিলায় দিশেহারা আমেরিকা

আপডেট টাইম : ১২:১১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ইরানের ভেতরে বিশেষ বাহিনীর অভিযান চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

 

 

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। চলমান অচলাবস্থা ভাঙতে ওয়াশিংটন যদি আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে এসব পরিকল্পনা কার্যকর হতে পারে।

 

 

 

পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে পারস্য উপসাগরে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাব্য অভিযান। এছাড়া ইরানের সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।

 

 

 

তবে ট্রাম্প এখনো ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি।

 

এদিকে ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরান ইস্যুতে তার ধৈর্য দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। তিনি তেহরানকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান।

 

 

গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই দেশের আলোচনা এখনো অচল অবস্থায় রয়েছে।

 

 

 

ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করলে তারা হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেবে না।

 

 

এদিকে আজ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে আলোচনা পরবর্তী ধাপে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপাতত উভয় পক্ষ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

 

সূত্র : শাফাক নিউজ

 

 

৬৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ

মাহমুদুল হাসান জয় মিরপুর টেস্টের কোনো ইনিংসেই দুই অঙ্কের ঘরও ছুঁতে পারেননি। সবমিলিয়ে করেন স্রেফ ১৩ রান। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেটে আজ (শনিবার) থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টেও ফিরলেন ডাক নিয়ে। দিনের দ্বিতীয় বলেই জয় ক্যাচ দিয়েছেন স্লিপে। আরেকপ্রান্তে টেস্ট অভিষেক হওয়া তানজিদ হাসান তামিম দ্রুতগতিতে রান তুলছিলেন। কিন্তু টাইমিংয়ে গড়বড় হয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন তিনিও (২৬)।

 

 

 

বেশ সাবলীল ছিলেন মিরপুর টেস্টের দুই ইনিংসেই হাফসেঞ্চুরি করা অভিজ্ঞ বাংলাদেশি তারকা মুমিনুল হক। কিন্তু হালকা ভেতরে ঢোকা বলের লাইন মিস করে হারিয়েছেন স্টাম্প। খুররম শেহজাদের বলে তিনি ফিরলেন ২২ রান করে। ৬৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে সিলেট শুরুটা সুখকর হলো না বাংলাদেশের।

 

 

 

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে কোনো রাখঢাক না রেখেই কথাটা বলেছিলেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন, টেস্টে তথাকথিত ব্যাটিং ধরনে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনায় আছেন তারা। তারই অংশ হিসেবে প্রথমবার টেস্ট দলে ডাকা হয় তানজিদ হাসান তামিমকে।

 

ঢাকা টেস্টে একাদশে জায়গা না হলেও খুব বেশি অপেক্ষা করতে হলো না তামিমকে। সিলেট টেস্টে অভিষেক ক্যাপ পরেন এই ওপেনার। সচরাচর হাতখুলে খেলতে পছন্দ করেন তিনি। অভিষেক টেস্টেও নিজের স্বভাবজাত ব্যাটিং শুরু করেছিলেন। কিন্তু ক্রিজে সেটা হয়েও ইনিংস বড় করতে পারলেন না তামিম।

 

মোহাম্মদ আব্বাসের করা দশম ওভারের শেষ বলে আউট হয়ে ফেরেন তামিম। অফ স্টাম্পের বাইরের বলটি মিড অনে দিয়ে পাঠানোর চেষ্টায় ছিলেন। কিন্তু ব্যাটে-বলে হয়নি। বল চলে যায় আব্বাসের হাতে। প্যাভিলিয়নের পথ ধরার আগে ২৬ রান করেন তামিম। ৩ বাউন্ডারিতে সাজানো তার ৩৪ বলের ইনিংস।

 

 

সাদমান ইসলামের চোটে অভিষেক হয় তামিমের। সাদমান ছিটকে গেলে শেষ মুহূর্তে দলে ডাকা হয় জাকির হাসানকে। তবে একাদশে জায়গা পাননি এই ব্যাটার। সিলেট টেস্টে মাহমুদুল হাসান জয়ের সঙ্গে ওপেনিং করতে নামেন তামিম। ইনিংসের শুরুতেই জয় ফিরলে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। আব্বাসের করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলে স্লিপে সালমান আলী আগার হাতে ধরা পড়েন। কোনো রান করতে পারেননি এই ওপেনার।

 

 

 

জয় বিদায় নিলেও মুমিনুল হককে নিয়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করছিলেন তামিম। এই জুটি জমেও গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তামিম-মুমিনুল উভয়েই সাজঘরে ফিরে গেলে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে শুরুর বিপর্যয়ে যথারীতি এখন লড়াই করছেন বাংলাদেশের দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও দলপতি নাজমুল হোসেন শান্ত।

 

 

আজ ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস

 

ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস আজ শনিবার (১৬ মে)। ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা আদায়ের দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই ঐতিহাসিক লংমার্চ।

 

 

 

সেদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দানে সমবেত হন। পরে সেখান থেকে বিশাল লংমার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে গিয়ে শেষ হয়। নদীর পানির ন্যায্য অধিকার আদায়ে এত বড় গণআন্দোলন এর আগে বা পরে খুব কমই দেখা গেছে।

 

 

 

সে সময় চুক্তি অনুযায়ী গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ধীরে ধীরে মরুকরণের ঝুঁকিতে পড়ে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ফারাক্কার পানি বণ্টন নিয়ে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও প্রত্যাশিত পানি পায়নি বাংলাদেশ।

 

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে ভারতের মনোহরপুর এলাকায় ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এ বাঁধের মাধ্যমে গঙ্গার পানি অন্যদিকে প্রবাহিত হওয়ায় পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ কমে যায়। এর প্রভাব হিসেবে পদ্মা নদী বছরের বেশিরভাগ সময় নাব্য সংকটে ভোগে।

 

 

সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যু

 

সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই। শুক্রবার (১৫ মে) রাত ২টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বস হয়েছিল ৮৩ বছর।

 

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার মেয়ে একমি গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা ।

 

 

 

মিজানুর রহমান সিনহা রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে সবশেষ ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ি) আসন হতে দলীয় মননোয়ন লাভ করেন তিনি। পরবর্তীতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্থলে বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল সালাম আজাদকে এ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়।

মিজানুর রহমান ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার স্থানীয় বাড়ি ‘সিনহা হাউজ’ দীর্ঘদিন ধরে দর্শনীয় স্থান হিসেবে সকলের জন্য উন্মুক্ত। তার পিতার নাম হামিদুর রহমান সিনহা ও মাতার নাম নূরজাহান সিনহা। হামিদুর রহমান বাংলাদেশের ওষুধ ব্যবসায়ের অন্যতম পথিকৃৎ ও শিল্পগোষ্ঠী একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা।

 

 

সিনহা শৈশবে কলকাতায় বেড়ে উঠেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় স্নাতক সম্পন্ন করেন।

 

 

 

১৯৬৪ সালে সিনহা হাবিব ব্যাংকে চাকুরীর মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তার পিতার মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালে তিনি পিতার প্রতিষ্ঠিত একমি গ্রুপে যোগদান করেন। ১৯৮৩ সাল থেকে তিনি গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

 

 

মিজানুর রহমান ছাত্রজীবনে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ২২ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির মনোনয়নে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

 

 

১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম খান বাদলকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করেন। এরপর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রাার্থী সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলিকে হারিয়ে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কাজ ও দানশীলতার জন্যও এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা।

 

 

মুন্সীগঞ্জ-২ আসনর সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিনসহ বিএনপি নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

 

 

চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

 

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ৮টার পর গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে তিনি চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

 

 

 

সফরকালে তিনি দুটি খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, পথসভা এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনসমাবেশস্থলের বিশাল মঞ্চ প্রস্তুত করার অনুষ্ঠানস্থলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চলছে নজরদারিতে বিশেষ কড়াকড়ি। শনিবার বিকেলে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে এ সমাবেশ হবে। এখান থেকেই উদ্বোধন হবে ফ্যামিলি কার্ড। ইতোমধ্যেই স্থানটি ঘিরে বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরাও আনন্দ উল্লাসে সরব রয়েছেন।

 

নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা রয়েছে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। ২০০৪-এ তারেক রহমান চাঁদপুরে এসেছিলেন বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম সফর এ জেলায়।

 

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেছেন সরকারের তিনজন মন্ত্রী। শুক্রবার রাতে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠ পরিদর্শন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এবং পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

 

 

স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা লড়াইয়ে নামবে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

বিগত সংসদ নির্বাচনে জোট-সমঝোতার নানা সমীকরণ দেখা গেলেও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আলাদা মাঠে নামবে ক্ষমতাসীন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি)। এরই মধ্যে নির্দলীয় প্রতীকের এই নির্বাচনে একা লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে তারা।

আগামী এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করার পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাতিল করা হয়েছে।

তফসিল ঘোষণার আগেই স্থানীয় নির্বাচনের মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। দলীয় প্রতীক না থাকার সুবাদে প্রতিটি দলই নিজেদের একক শক্তিমত্তা প্রমাণের এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছে না।

এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো একক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত জোট হওয়ার সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সংসদ নির্বাচনে জয়ের ধারা ধরে রাখতে চায় বিএনপি:
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের ধারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ধরে রাখতে চায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

দলটির সূত্র জানায়, দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রার্থী জয়ী করতে আগেভাগেই ছক কষছেন তারা। তৃণমূলের নেতাদের পারস্পরিক বিরোধ নিয়ন্ত্রণ, জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও এরই মধ্যে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিন তারিখ ঠিক হওয়ার পর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে পারে বিএনপি।

নির্বাচনে ভোটার টানতে গত তিন মাসের সরকারের অর্জন এবং দেশ ও জনগণকে নিয়ে তারেক রহমানের পরিকল্পনা ভোটারদের সামনে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের দলীয় প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর দলীয় পূর্ণ শক্তি নিয়ে নেতাকর্মীরা ভোটের মাঠে নামবেন।

সরকারের ইতিবাচক কার্যক্রমের কারণে অধিকাংশ এলাকায় বিএনপি নেতারাও বিজয়ী হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

তৃণমূলে শক্তি যাচাই করতে চায় জামায়াত:
বিগত সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় জোটে নির্বাচন করলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে মাঠে নামার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

এরই মধ্যে ১২টি সিটি করপোরেশনের জন্য সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীও চূড়ান্ত করেছে দলটি। এবারের নির্বাচনে তরুণ নেতৃত্ব এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা উত্তরে মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি ও শিবিরের নেতা আবু সাদিক কায়েমকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে আবদুল জব্বার, গাজীপুরে হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রামে শামসুজ্জামান হেলালী এবং রংপুরে এ টি এম আজম খানের নাম সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবেই অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জামায়াত নেতারা মনে করছেন, অতীতে জোটের চেয়ে আলাদাভাবে নির্বাচন করেই তারা বেশি সফলতা পেয়েছিলেন।

 

১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে এগিয়ে এনসিপি:

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রার্থী ঘোষণা করে এগিয়ে আছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রথম ধাপে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র পদে ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে চমক দেখিয়েছে দলটি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ এবং উত্তরে আরিফুল ইসলাম আদিবকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানান, তারা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছেন। তবে ১১ দলের মতো জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তারা আলোচনায় বসতে রাজি আছেন।

এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সারজিস আলম জানিয়েছেন, যোগ্য ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই করে প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

জোটগত নির্বাচন নিয়ে সারজিস বলেন, জোটগতভাবে নির্বাচন করতে হলে কিছু জায়গায় ছাড় দেওয়ার বিষয়টি দলীয় নীতির ওপর নির্ভর করবে। তবে নামকাওয়াস্তে কোনো সমঝোতা মেনে নেওয়া হবে না।

 

এক বছরের মধ্যেই সব নির্বাচন:
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব ধাপে নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে।

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলীয় প্রতীকের মোড়কে বন্দি করা হয়েছিল। এতে তৃণমূলের স্বাভাবিক নেতৃত্ব বিকাশের পথ রুদ্ধ হয়েছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিহিংসা বেড়েছিল। আইন সংশোধন সিটি করপোরেশন আইনের ৩২(ক), পৌরসভা আইনের ২০(ক), উপজেলা পরিষদ আইনের ১৬(ক), এবং ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ১৯(ক) ধারা বাতিল করেছে সংসদ।

 

 

বর্তমানে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৯০টির মতো উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টির মতো পৌরসভা ও ৬১টি জেলা পরিষদের নির্বাচন মেয়াদোত্তীর্ণ। এ ছাড়া হাজার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনও দরজায় কড়া নাড়ছে। ডিসেম্বর থেকেই এই নির্বাচনী মহাযজ্ঞ শুরু হওয়ার জোরালো আভাস রয়েছে।

সূত্র: বাংলানিউজ

 

ভারতে বড় বিনিয়োগ করছে আরব আমিরাত

ভারতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটিতে সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ বৈঠকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব কাঠামো, ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্যাকেজ এবং একাধিক জ্বালানি চুক্তি ঘোষণা করা হয়।

 

শুক্রবার (১৫ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবুধাবি বিমানবন্দরে প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান নিজে মোদিকে স্বাগত জানান এবং আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেন। এরপর দুই নেতা ভারত-ইউএই সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

 

এ সফরের আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তা ছিল অন্যতম প্রধান বিষয়। ভারতের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভস লিমিটেড এবং আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির মধ্যে একটি কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি সই হয়েছে। এর আওতায় ইউএই ভারতের কৌশলগত তেল মজুদে তাদের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে ৩ কোটি ব্যারেলে উন্নীত করবে।

 

দুই দেশ ভারতে কৌশলগত গ্যাস মজুদ গড়ে তুলতেও একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন ও এডিএনওসির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি এলপিজি সরবরাহ চুক্তিও আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দুই নেতা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় ইউএইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং অপরিশোধিত তেল, এলএনজি ও এলপিজি সরবরাহে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে একমত হন।

 

এনডিটিভি জানিয়েছে, সফরের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে ইউএইভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভারতে মোট ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে এমিরেটস এনবিডি ভারতের আরবিএল ব্যাংকে ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। আবুধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি ভারতের ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (এনআইআইএফ) সঙ্গে যৌথভাবে অগ্রাধিকারভিত্তিক অবকাঠামো প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং কোম্পানি ভারতের সাম্মান ক্যাপিটালে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।

 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব বিনিয়োগ ভারতের প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ইউএইয়ের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

 

সফরে দুই দেশের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স পার্টনারশিপ কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশ প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, উদ্ভাবন ও উন্নত প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার প্রতিরক্ষা এবং নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদান আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি ও প্রতিরক্ষার বাইরে প্রযুক্তি ও জাহাজ নির্মাণসহ আরও কয়েকটি খাতে চুক্তি হয়েছে।

 

গণঅধিকারে যোগ দিচ্ছেন এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা

রাঙ্গামাটি জেলা গণঅধিকার পরিষদের যোগ দিচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। এরা হলেন- এনসিপির রাঙামাটির জেলার আহবায়ক বিপিন যথী চাকমা, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির যুব আন্দোলনের সভাপতি পলাশ চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক চীরজিৎ চাকমা, দপ্তর সম্পাদক সাগর চাকমা ও প্রচার সম্পাদক অভিলাস চাকমা, অবসরপ্রাপ্ত এস.আই জলমনি চাকমা এবং এলডিপি নেতা কামালসহ অনেকেই।

 

শুক্রবার (১৫ মে) রাঙ্গামাটি জেলা শিল্পকলা একামেডিতে গণঅধিকার পরিষদে যোগদান করার বিষয়ে এক সমন্বয় সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন- গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ, উচ্চতর পরিষদের সদস্য সাকিব হোসাইন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক লোকমান হোসেন, জেলা গণঅধিকার পরিষদে সাবেক আহবায়ক আবুল বাশার, সদস্য সচিব ওয়াহিদুজ্জামান রোমান, ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি রুদ্র মুহম্মদ জিয়াদ, রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি ইমাম হোসাইন ইমু, সাধারণ সম্পাদক রবিউল আউয়াল, জয় বড়ুয়া প্রমুখ।

 

 

সভায় গণঅধিকার পরিষদের গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, গণঅধিকার পরিষদের রাজনীতি সবার জন্য উন্মুক্ত। আওয়ামী লীগের নিরপরাধ নেতাকর্মীরাও যোগ দিতে পারবে। তবে আওয়ামী লীগের যারা অপরাধী ছিল, তাদের জায়গা গণঅধিকার পরিষদে হবে না। গণঅধিকার পরিষদ পাহাড় সমতল সবার অধিকার নিশ্চিতে কাজ করবে।

 

 

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে সবার পরিচয় এই দেশের নাগরিক। গণঅধিকার পরিষদ রাজপথ থেকে বেড়ে উঠা দল। আমাদের কাছে জনগণের অধিকার বাস্তবায়ন করাই মূল লক্ষ্য। আমরা জুলাই সনদ ও গণভোটের পক্ষে, সরকারের কাছে দাবি তারা যেন জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে দেওয়া কমিটমেন্ট বাস্তবায়ন করে।

সূত্র: কালবেলা

 

বাধা পেরিয়ে ধানকাটা উৎসবে মাতলো সোনাইডাঙ্গার ভূমিহীন কৃষকেরা

দীর্ঘদিনের বাধা, ভয়ভীতি ও নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে নিজেদের রোপণ করা ধান ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাইডাঙ্গা বিলের ভূমিহীন কৃষকেরা। এ সাফল্যের আনন্দ উদযাপন করতে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গণভোজের আয়োজন করেন তারা। অনুষ্ঠানে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের সোনাইডাঙ্গা গ্রামে এ আয়োজন করে গ্রামসোনাই ভূমিহীন সংগঠন। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা দেয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নিজেরা করি’।
আয়োজকরা জানান, বছরের পর বছর ধরে সোনাইডাঙ্গা বিলে চাষাবাদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জোতদারদের সঙ্গে ভূমিহীন কৃষকদের বিরোধ চলে আসছে। চলতি মৌসুমেও ধান কাটাকে ঘিরে নানা বাধা, ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় তারা শান্তিপূর্ণভাবে ধান কেটে ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।
ভূমিহীন সংগঠনের নেতারা বলেন, এটি শুধু ধান কাটার সাফল্য নয়, বরং ভূমিহীন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তারা জানান, রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী এবং রায়গঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতার কারণেই পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল।
অনুষ্ঠানস্থলে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আলোচনা সভার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের নেতা মো. রহমত আলী, আল আমিন ও রফিকুল ইসলাম বলেন, “অনেক বাধা পেরিয়ে আমরা নিজেদের ধান ঘরে তুলতে পেরেছি। প্রশাসনের সহায়তা না থাকলে এবারও হয়তো তা সম্ভব হতো না।”
অনুষ্ঠান শেষে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে গণভোজ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন এলাকায় সচরাচর দেখা যায় না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।

 

মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে রায়গঞ্জে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে বিক্ষোভ মিছিল ও মতবিনিময় সভা করেছে হাজী ওয়াহেদ মরিয়ম অনার্স কলেজ শাখা ছাত্রদল। শিক্ষাঙ্গন ও তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে উপজেলার চান্দাইকোনা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির শুরুতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ভি.পি আয়নুল হক-এর নেতৃত্বে একটি মাদকবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি চান্দাইকোনা বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
পরে একই স্থানে অনুষ্ঠিত হয় মতবিনিময় সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ৪,সিরাজগঞ্জ-৩(রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য ভি.পি আয়নুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুনায়েদ হোসেন সবুজ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন হাজী ওয়াহেদ মরিয়ম অনার্স কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. শাহিন সুমন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. দুলাল হোসেন খান, চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল মমিন সরকার, সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সামা সরকার, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. ইকবাল হোসেন এবং সদস্যসচিব মো. সাইফুল্লাহ ইবনে সজলসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বক্তারা বলেন, মাদক বর্তমানে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের সচেতন করে সুস্থ সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনে ইতিবাচক ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ড বাড়াতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

 

গজারিয়ায় গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৭:৪৯:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোঃ আরমান (২০) নামে ১ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গজারিয়া বাউশিয়া ইউনিয়ন বাউশিয়া গ্রামস্থ চট্টগ্রাম টু ঢাকাগমী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে মেঘনা প্যাকেজিং লিমিটেড এর গেইটের সামনে এই মাদক বিরোধী অভিযান চালানো হয়।
আটক আরমান কুমিল্লার চান্দিনা থানার চান্দিনা ইউনিয়নের জিরো আইস মাইজ খা গ্রামের মো. মোস্তফা কামালের ছেলে।
গ্রেফতারের সময় তাদের (এক) কেজি গাঁজা, মূল্য ২০,০০০/- টাকা, উদ্ধার করা হয়। উক্ত বিষয়ে এজাহার প্রাপ্তি সাপেক্ষে গজারিয়া থানার মামলায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গজারিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করা শেষে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আলী আরো জানান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য নিকটস্থ থানায় জানিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সকলকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

শাহজাদপুরে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল আদায়ে বাঁধা প্রদানের অভিযোগ!

সিরাজগঞ্জ জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মিশুক ও ট্যাক্সিকার শ্রমিক ইউনিয়নের অনুকূলে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল সংগ্রহে বাঁধা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে শ্রমিকদের থেকে চাঁদা আদায়কারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে সিরাজগঞ্জ জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মিশুক ও ট্যাক্সিকার শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।
১৫ মে (শুক্রবার) দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলার করতোয়া সেতুর পূর্বপাড়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি ফরহাদ আলীর সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক কিবরিয়া খান সজলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, ‘ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম দপ্তরে রেজিষ্ট্রেশনকৃত সিরাজগঞ্জ জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মিশুক ও ট্যাক্সিকার শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং- রাজঃ ৩০০১) এর নেতৃবৃন্দ স্থানীয় সিএনজি শ্রমিকদের কল্যাণের স্বার্থে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে অনুমোদন নিয়ে দৈনিক ১০ টাকা শ্রমিক কল্যাণ তহবিল আদায় শুরু করেন।
কিন্তু, সরকারি সেই বিধিবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে হয়রানিসহ দৈনিক শ্রমিক কল্যাণ তহবিল আদায় বন্ধ করে দেন উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও আসন্ন হাবিবুল্লাহ নগর ইউপি নির্বাচনের সাম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী মনির গং।
এ সময় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ আক্ষেপ প্রকাশ করে আরও বলেন,  ‘সরকারি অনুমোদন না নিয়েই হাজী মনির গং অবৈধভাবে  দৈনিক ২০/৩০ টাকা চাঁদা আদায় করছেন। সেই তারাই আবার সিএনজি শ্রমিকদের বৈধ ১০ টাকা শ্রমিক কল্যাণ তহবিল সংগ্রহে বাঁধা দিচ্ছেন। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এ অবৈধ অযাচিত  হস্তক্ষেপ রোধে  স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. এম এ মুহিত এমপিসহ প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিকেরা ছাড়াও শাহজাদপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক হাজী মনির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ওখানকার কিছু না। তাই চাঁদা ওঠানোর প্রশ্নই ওঠে না।’

 

চিত্রনায়ক ফারুকের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

 

বাংলা চলচ্চিত্রের মিয়াভাই খ্যাত চিত্রনায়ক ফারুকের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বাংলা সিনেমায় গ্রামীণ প্রতিবাদী যুবকের চিত্র দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলে আজও সিনেমাপ্রেমীদের মাঝে অমর হয়ে রয়েছেন ফারুক।

 

আজকের দিনে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফারুক। তবে তিনি ইহলোকে না থাকলেও বেঁচে আছেন তার অনবদ্য অভিনয় ও কর্মের মধ্যে।

 

‘সব সখীরে পার করিতে নেব আনা আনা, তোমার বেলায় নেব সখী তোমার কানের সোনা’—বাংলা চলচ্চিত্রের এ কালজয়ী গানের চিত্র যখন মনে পড়ে, তখন অবলীলায় চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক সুদর্শন যুবকের কথা। তিনি নায়ক ফারুক। বাংলা চলচ্চিত্রের সাদাকালো যুগের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় নায়ক তিনি। চলচ্চিত্রের মানুষজনের কাছে ফারুক ‘মিয়া ভাই’ নামেও পরিচিত। চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

 

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা প্রায়ই তাকে স্মরণ করেন নানা পরিস্থিতিতে। তিনি শুধু একজন গুণী অভিনেতা, দর্শকনন্দিত নায়ক কিংবা সংসদ সদস্যই ছিলেন না, এসবের বাইরেও তিনি ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রকৃত অর্থে চলচ্চিত্র পরিবারের একজন অভিভাবক। চলচ্চিত্রের নানা সংকটময় পরিস্থিতি তিনি দৃঢ় হাতে সামাল দিতেন।

 

চলচ্চিত্রের মানুষের আপদে-বিপদে সর্বদা এগিয়ে আসতেন। গ্রামীণ পটভূমিকায় তার অভিনয় এতটাই সাবলীল ছিল যে, একসময় তার ইমেজ গড়ে ওঠে গ্রামের প্রতিবাদী যুবকের। ফারুকের স্ত্রী ফারহানা পাঠান বলেন, ‘তাকে আমরা সবসময়ই স্মরণ করি। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’

নায়ক ফারুকের পুরো নাম আকবর হোসেন পাঠান দুলু। তিনি শুধু একজন অভিনেতাই নন, প্রযোজক ও ব্যবসায়ী হিসেবেও তার খ্যাতি রয়েছে। ১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন ফারুক। তার চলচ্চিত্রে অভিষেক ১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ সিনেমার মাধ্যমে। নায়ক হিসেবে ফারুক আলোচনায় আসেন ১৯৭৫ সালে গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত ‘সুজন সখী ও ‘লাঠিয়াল’ সিনেমা দুটির মাধ্যমে। এ দুটি সিনেমাই ব্যবসাসফল ও দর্শকনন্দিত হয়েছিল।

 

এমনকি সেই বছর ‘লাঠিয়াল’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব চরিত্রের অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র লাভ করেন ফারুক। দেশের চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদান রাখায় ২০১৬ সালে ফারুককে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

ব্যক্তিগত জীবনে ফারুক বিয়ে করেন ফারহানা পাঠানকে। ফারিহা তাবাসসুম পাঠান ও রওশন হোসেন নামে তাদের দুই সন্তান রয়েছে।

 

হরমুজ প্রণালির দিকে ছুটছে ফ্রান্সের যুদ্ধজাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ফ্রান্স তাদের বিমানবাহী রণতরী শার্ল দ্য গোলকে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় পাঠাচ্ছে। ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি অ্যালিস রুফো শুক্রবার ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভিকে বলেন, যুদ্ধজাহাজটি আরব সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে পৌঁছে গেছে।

 

তিনি বলেন, এটি আরব সাগরের দিকে এগোচ্ছে, ইতোমধ্যে এলাকায় রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় হরমুজ প্রণালি।

পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ান।

 

 

এদিকে ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানি সামুদ্রিক চলাচল লক্ষ্য করে নৌ অবরোধ কার্যকর করছে। এ নিয়ে প্রায় ছোটখাটো সংঘাত লেগেই রয়েছে।

 

চাঁদের আলোয় দেখা মিলবে বিরল রংধনুর

সূর্যের আলোতে রংধনু দেখছেন। কিন্তু কখনো কি রাতে চাঁদের আলোয় রংধুন দেখেছেন? কী রাতে রংধনুর কথা শুনে চমকে উঠেছেন? চাইলে রাতেও দেখতে পারেন প্রকৃতির অন্যতম বিরল দৃশ্য।

খবর বিবিসির

জিম্বাবুয়ে এবং জাম্বিয়ার সীমান্তের ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত পৃথিবীর অল্প কয়েকটি স্থানের একটি, যেখানে এই ‘মুনবো বা চন্দ্রধনুর’ দেখার সুযোগ মিলতে পারে।

 

সম্প্রতি ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতে সারাহ স্টিজার রাতে চাঁদের আলোতে তৈরি রংধনু দেখেন এবং তা ক্যামেরাবন্দি করেন।

 

সারাহ স্টিজার সংবাদ মাধ্যম বিবিসি-তে তার চন্দ্রধনু দেখার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

 

সারাহ স্টিজার তার বিরল অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, সেখানে (ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতে) কোনো ফ্লাডলাইট ছিল না।

 

ছিল কেবল উদীয়মান পূর্ণিমার চাঁদের ম্লান আভা আর জাম্বিয়ার রাতের ঘন নীল-কালো অন্ধকার। অন্ধকারের ওপারে, ১০০ মিটারেরও (৩২৮ ফুট) বেশি নিচে গিরিখাতের মধ্যে আছড়ে পড়ছিল পানি।

আছড়ে পড়া পানি বাতাসের অনেক উঁচুতে বিশাল জলকণা বা স্প্রে-র স্তম্ভ পাঠিয়ে দিচ্ছিল।

সারাহ আরও বলেন, তারপর ধীরে ধীরে, প্রায় অলক্ষ্যে, জলকণার মাঝে একটি ম্লান দাগ, সরাসরি সেদিকে না তাকালে দেখা কঠিন। তারপর একটি বক্ররেখা ফুটে উঠল- একটি কোমল, উজ্জ্বল বন্ধনী; অন্ধকারের বুক চিরে প্রসারিত এবং নিচে হা করা গিরিখাতের ওপরে ঝুলে আছে রংধনু। এটি ছিল ‘মুনবো’ বা একটি চন্দ্রধনু। এটি সূর্যের আলোয় নয় বরং চাঁদের আলোয় তৈরি হয়।

জিম্বাবুয়ে এবং জাম্বিয়ার সীমান্তের মাঝে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জলপ্রপাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত। এটি স্থানীয়ভাবে ‘মোসি-ওয়া-তুনিয়া’ বা ‘বজ্রধ্বনি সৃষ্টিকারী ধোঁয়া’ নামে পরিচিত।

 

প্রতি বছর প্রায় দশ লাখ মানুষ এই ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত দেখতে আসেন। যাদের বেশিরভাগই দিনের আলোতে আসেন। কিন্তু অন্ধকার হওয়ার পর, পূর্ণিমার সময়টিতে অভিজ্ঞতাটি সম্পূর্ণ বদলে যায়। তখন রাতে অন্ধকারে চাঁদের আলোয় দেখা মিলতে পারে এই বিরল মুনবো বা চন্দ্রধনুর।

 

হামে একদিনে আরও ১২ জনের প্রাণ গেল

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৯২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ৬১১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১১১ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা সাত হাজার ৪১৬ জন।

১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০ হাজার ১৭৬ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও আট জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৩৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আরও চার জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

হাসপাতালের গাছে ঝুলছিল যুবকের মরদেহ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নরিনায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন হাসমত ফকির (৪০) নামের এক ব্যক্তি। শুক্রবার সকালে শাহজাদপুর থানা পুলিশ নরিনা হাসপাতাল কম্পাউন্ডের একটি আম গাছ থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত হাসমত নরিনা মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত সফিজ ফকিরের ছেলে।

 

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সকালে নরিনা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কম্পাউন্ডের মধ্যে একটি আমগাছের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় হাসমত ফকিরের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী ও স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: হাফিজুর রহমান ও শাহজাদপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নাজমুল কাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

এসময় ইন্সপেক্টর নাজমুল কাদের জানান, প্রাথমিকভাবে সুরতহাল করে মনে হচ্ছে এটি একটি আত্মহত্যা। তবে অধিকতর তদন্তের জন্য লাশ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

কৃষকের ধান কেটে ফেসবুকে ভিডিও ছড়ালো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এক কৃষকের ফসলের মাঠ পাকা ধান কেটে ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ।  ৪৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) খোজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার পঞ্চকোশী ইউনিয়নের ভদ্রকোল গ্রামের একটি ফসলি জমিতে ছাত্রলীগের ৮ থেকে ১০ জন নেতাকর্মী এক কৃষকের পাকা ধান কেটে দিচ্ছেন এবং মাথায় নিয়ে যাচ্ছে। ভিডিওতে এক যুবকের কথায় বলছে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রী সহ-সভাপতি ভিপি ফরহাদ ভাইয়ের দিকনির্দ্দেশনায় উল্লাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সাধারণ খেটে খাওয়া কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছি। সাধান মানুষের পাশে থাকবে ছাত্রলী এই কথার পরে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ধান করতে শুরু করে। ভিতিওতে এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোক্তারুজ্জামান বলেন, কৃষকদের ধান কেটে দিচ্ছে, এমন একটি ভিডিও আমরা দেখেছি। তবে, কোন এলাকার এমন কাজ করেছে, তা খোঁজা হচ্ছে। ভিডিওতে যাঁদের দেখা গেছে, তাঁদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। শনাক্ত করা গেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
২০২৪ সালের (৫ আগষ্ট) আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেছে। সংগঠনটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর থেকে প্রকাশ্যে আর তাদের কোনো কর্মসূচি করতে দেখা যায়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

সিরাজগঞ্জের এতিম রায়হান-রোহানের পাশে প্রধানমন্ত্রী

গণমাধ্যমে সংবাদ দেখে সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার এতিম দুই শিশু রায়হান ও রোহানের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

তার নির্দেশে শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধি দল শিশু দুটির বাড়িতে গিয়ে তাদের পড়ালেখাসহ যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে।

 

জানা যায়, বাবা মারা গেছেন ছোটবেলায়, চার মাস আগে হারিয়েছে মাকেও- নানীর অন্যের বাড়িতে কাজের টাকায় কোনো রকমে চলছে এতিম দুই শিশুর জীবন- সম্প্রতি এমন একটি প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বিষয়টি ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়।

 

এরপর তিনি শিশু দুটির খোঁজখবর নিতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন।

 

সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের একডালা গ্রামে যায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতিনিধি দল।

 

সংগঠনটির উপদেষ্টা আবুল কাশেমের উপস্থিতিতে এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি রায়হান ও রোহানের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন।

 

এ সময় প্রতিনিধি দলটি এতিম শিশু দুটির নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আবাসনের জন্য সহায়তার উদ্যোগ নেয়।

 

পাশাপাশি অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া লেখাপড়া পুনরায় শুরু করতে এককালীন শিক্ষা বৃত্তি ও মাসিক শিক্ষা বৃত্তি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ৯ বছর বয়সী রায়হান ও ৭ বছর বয়সী রোহান ছোটবেলাতেই বাবাকে হারায়। চার মাস আগে মায়ের মৃত্যুর পর তারা এখন বৃদ্ধ নানা আজিজুর রহমান ও নানী মালেকা বেগমের আশ্রয়ে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অর্থাভাবে তাদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় এবং একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে তারা বসবাস করছে।

 

প্রতিনিধি দলের পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা, কাজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুস সালাম, সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েস, বিএনপি নেতা হাসান।

 

এছাড়া ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহান, আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

 

 

১৪ হাজার ৫০০ টাকার খাসির খাজনা ১৫০০!

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৬:০৩:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এনায়েতপুর কোরবানীর পশুর হাটে গরু ছাগলের  অস্বাভাবিক খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গবাদিপশুর খাজনা নেওয়া হচ্ছে প্রতি হাজারে ১০০ টাকা করে। তবে রশিদে খাজনার পরিমাণ উল্লেখ করা নেই।

 

 

শুক্রবার (১৫ মে) এনায়েতপুর গরু-ছাগলের হাটে এভাবেই খাজনা নেওয়া হচ্ছে বলে এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন।

 

 

জানা যায়, বেলকুচি উপজেলার তামাই পূর্বপাড়া গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি আব্দুল কুদ্দুস কবিরাজ এনায়েতপুর হাট থেকে ১৪ হাজার ৫০০ টাকায় কোরবানির জন্য ছোট একটি খাসি কিনেছেন। কেনার পরই তিনি খাজনা ঘরে খাজনা দিতে গিয়ে পরেন বিপাকে। ইজারাদার মাসুদ রানা পাষাণ সরকার প্রতি হাজারে ১০০ টাকা করে দাবি করেন।

 

আব্দুল কুদ্দুস কবিরাজ বলেন, হাজারে একশো টাকা হিসেবে ১৪৫০ টাকা খাজনা আসে। কিন্তু দাবি করা হয় ১৫০০ টাকা। তিনি ১৩০০ টাকা দিতে চাইলেও রশিদ আটকে রাখেন ইজারাদারের লোকজন। বাধ্য হয়ে ১৫০০ টাকা দিয়েই রশিদ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় তাকে।

 

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি ঢাকায় ছোট ব্যবসা করি। আজই ঢাকা ফিরে যাব। সময় নাই দেখে তাড়াতাড়ি ওই খাসিটি কিনে ভ্যান যোগে বাড়ি যাচ্ছি। এত টাকা খাজনা হলে ওই হাটে যেতাম না। এখন খাজনরা রশিদে দেখছি টাকাও উল্লেখ নেই। এটা বড় প্রতারনা। নাম ঠিকানা দাম রশিদে উল্লেখ করলেও খাজনার দেড় হাজার টাকার কথা উল্লেখ করা হয়নি। এদের বিষয়ে সরকারিভাবে জরুরী পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তিনি।

 

এ বিষয়ে এনায়েতপুর হাটের ইজারাদার মাসুদ রানা পাষাণ বলেন, আমি খাজনা আদায় করি না। তবে যারা কালেকশন করে তাদের বলা আছে যতটুকো কম নেওয়া দরকার কম নিতে। সাড়ে ১৪ হাজার টাকার খাসির খাজনা ১৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন আমি এ বিষয়ে জানিনা।

 

তিনি বলেন, ঈদের সময় খরচ বেশি হয় এ জন্য একটু বেশি খাজনা নেওয়া হয়। তবে এত বেশি নেওয়ার কথা নয়।

 

সরকার নির্ধারিত খাজনা কতো এবং কত বেশি নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নাই।

 

এ ব্যাপারে জানতে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মোবাইলে ফোন দেওয়া হলে সেটা বন্ধ পাওয়া যায়।

 

 

ফেসবুকে যারা লেখে তারা গুপ্তের চেয়েও খারাপ: বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সমালোচনা করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ফেসবুকের ওয়াল হয়ে গেছে, সবচেয়ে নোংরা ওয়াল। ফেসবুকে যারা লেখে তারা গুপ্তের চেয়ে খারাপ। তিনি বলেন, বাচ্চাদের বল দেন, ক্রিকেটের ব্যাট দেন, ডাঙ্গুলি দেন। এগুলো করলে সমাজ ভালো হবে।

 

শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরের দিকে সিরাজগঞ্জ শহীদ শামসুদ্দিন স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাইছেন, আগামি প্রজন্ম যারা বেড়ে উঠবে তারা খেলাধুলা করেই বেড়ে উঠবে। না খেললে মস্তিস্ক উর্বর হয় না।

 

নিজের বাল্যকালের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী বলেন, সারাবছর ইসলামিয়া কলেজ মাঠ ছিল খেলাধুলায় সরব। ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টনসহ নানা খেলা চলতো। আমরা গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্দা আরও অনেক খেলা খেলেছি। আর খেলাধুলার কারণে নেশার দিকে ঝুকতে পারি নাই। আর এখন ওই মাঠটিতে হয় গরু চরে, নয় গরুর গোবর শুকানো হয়। এই জন্য আজকে সমাজ নেশার দিকে চলে গেছে। একটা জেনারেশন নেশার জন্য নষ্ট হয়ে গেছে। এখান থেকে ফেরাতে হবে। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদককে না বলা শেখাতে হবে।

 

তিনি বলেন, মাঠ কেন্দ্রিক সোসাইটি গড়ে তোলেন। প্রত্যেকটা ইউনিয়নে দুইটা খেলার মাঠ থাকবে। প্রত্যেকটা স্কুলে মাঠ আছে। মাঠে খেলাধুলা করাতে হবে। বাচ্চাদেরকে খেলা শেখান, মেয়েদেরকে খেলা শেখান।

 

ইসলামিয়া কলেজ মাঠকে ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রূপান্তরের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখানে ক্রিকেট একাডেমী বানাবো, ইনডোর ট্রেনিং হবে।

 

সিরাজগঞ্জের উন্নয়নে নিজের ব্যর্থতার কথা অকপটে স্বীকার করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমি আমার ব্যর্থতার কথা বলি। আমি তিনমাস হলো মন্ত্রী, সিরাজগঞ্জে এক চুল পরিমাণ কিছু করতে পারি নাই। আমি স্বীকার করি। পারিনি কেন? আমি কো-অপারেশন পাইনি কারও কাছ থেকে। তাহলে এতদিনের সিরাজগঞ্জ সুন্দর ও সুশৃংখল শহরে পরিণত হতেো আপনারা কেউ সহযোগীতা করেন নাই আমাকে। টুকু সাহেব এই কথা কইছে, তাহলে আমরা সবাই মিলে নেমে পড়ি।

 

তিনি বলেন, এটা তো আমার একার দায়িত্ব নয়। হ্যা, যেটা হবে আমার ট্রার্ম শেষ হলে সবাই বলবে অনেক কথা বলেছিলেন কিন্তু করেন নাই। কিন্তু কেন যে করলাম না আপনারা কিন্তু সেটা খুঁজবেন না। খালি ডিসি আর এসপি দিয়ে কইলেই হবে? আপনাদেরও নামতে হবে।

 

মন্ত্রী আরও বলেন, সবাই ব্যবসা করবে, সবাই অর্থ রোজগার করবে-কিন্তু কেউ সমাজের কিচ্ছু করবে না। বাস রাস্তায় জড়ো ব্যবসা করবে। একজন  দোকানদারকে ব্যবসা করতে দোকান খুলতে হয়। কিন্তু বাস ওয়লাদের লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করবে কিন্তু বাসটা রাখার ব্যবস্থা করবে না। ওইটা সরকারি জায়গা আছে দখল করে ব্যবসা করবে। প্রত্যেকটা বাস মালিক যদি নিজেদের খরচায় নিজেদের বাস রাখার ব্যবস্থা করে, তাইলে শহরটা বিশৃংখল থাকে না।

 

জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন খান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাহাব উদ্দিনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে ঘুষ দাবির অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে ক্ষেতলাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয় কুমার বর্মনকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগের পর জেলা পুলিশ প্রশাসন এ ব্যবস্থা নেয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁচুপীর খন্দকারপাড়া গ্রামের মো. শাহজাহান খন্দকারের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে গত ৭ এপ্রিল নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় পরদিন ৮ এপ্রিল ক্ষেতলাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৩৪৯) করা হলে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই সঞ্জয় কুমার বর্মনকে।

ভুক্তভোগী পিতা শাহজাহান খন্দকার অভিযোগ করেন, জিডির কয়েকদিন পর তদন্ত কর্মকর্তা তার মেয়েকে উদ্ধারের কথা বলে টাকা দাবি করেন। মেয়ের সন্ধানে মরিয়া হয়ে তিনি এসআই সঞ্জয় কুমার বর্মনকে ৩ হাজার টাকা দেন। তবে টাকা নেওয়ার পরও কিশোরীকে উদ্ধারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

পরে থানা পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে গত ৫ মে ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে মামলা দায়ের করে। একইসঙ্গে ৭ মে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে লিখিত আবেদন জানানো হয়।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসআই সঞ্জয় কুমার বর্মনকে ক্ষেতলাল থানা থেকে প্রত্যাহার করে জয়পুরহাট পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফ হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে এসপি স্যারের কাছে একটি অভিযোগ ছিলো। এর প্রেক্ষিতে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এদিকে, নিখোঁজের এক মাস পেরিয়ে গেলেও কিশোরীকে আজও খুঁজে পায়নি তার পরিবার। মেয়ের সন্ধান না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্বজনদের।

আগৈলঝাড়ায় বোরো সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা খাদ্যগুদাম চত্তরে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক।

 

 

 

 

 

খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত এই বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান চলবে। প্রতিকেজি ধানের মুল্য নির্ধারন করা হয়েছে ৩৬ টাকা। কৃষি অফিসের তালিকাভুক্ত চাষীদের কাছ থেকে এই বোরে ধান সংগ্রহ করা হবে। প্রতিজন চাষীর কাজ থেকে সর্বোচ্চ তিনটন ধান সংগ্রহ করবেন খাদ্যগুদাম। চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৬০ মেট্রিক টন চিটামুক্ত বোরো ধান সংগ্রহ করা হবে। যার আর্দ্রাতা সর্বোচ্চ ১৪।

 

 

 

উদ্বোধনী সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক সিকদার হাফিজুল ইসলাম, ওসি(তদন্ত)সুশংকর মল্লিক, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ফারজানা ফৌরদোস, খাদ্য পরিদর্শক(ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো.আবুক্কর ছিদ্দিক, প্রেসক্লাব সভাপতি মো.শামীমুল ইসলাম, বিএনপি’র যুগ্ন-আহবায়ক আবুল হোসেন মোল্লা প্রমুখ।

 

 

 

হিলিতে পুলিশের অভিযান: ৭ মামলার কুখ্যাত আসামি শওকতসহ গ্রেপ্তার ৯

​দিনাজপুরের হাকিমপুর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ও সাতটি মামলার পলাতক আসামি শওকতসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার দিনভর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে৷
​আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর ২ ঘটিকায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন।
​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার পৃথক দুটি মাদক মামলা এবং বিভিন্ন ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারায় রুজুকৃত মামলায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁরা হলেন, মোঃ রশিদুল ইসলাম (৩২) বিরামপুর৷ মোঃ মোফাজ্জল হোসেন (৪৭), বিরামপুর৷ মোঃ মাহাবুব আলম (৪৯) হাকিমপুর৷ মোঃ শাহিনুর ইসলাম (২৫) বিরামপুর৷  মোঃ কাওসার হোসেন (৪২) বিরামপুর এবং শ্রী দীপক সিং (২৮) হাকিমপুর।
​এছাড়াও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) ধারায় হাকিমপুরের দক্ষিণ মাধবপাড়া এলাকার মোঃ আনোয়ার মুন্সির ছেলে মোঃ রাহুলকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে জিআর মামলায় ওয়ারেন্ট মূলে আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলেন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ওরফে শওকতকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে দিনাজপুর ও বগুড়াসহ বিভিন্ন থানায় ৭টি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া বদরগঞ্জ থানার একটি ওয়ারেন্ট মূলে মোঃ মোস্তাক আহমেদকে (৫২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মাদক সিন্ডিকেট, মাসোয়ারা ও আপোষ বাণিজ্য: অভিযোগের কেন্দ্রে এসআই জুয়েল

রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েলের বিরুদ্ধে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা, উদ্ধারকৃত অরিজিনাল হেরোইন বিক্রি এবং বিচারপ্রার্থীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী এই পুলিশ কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পক্ষ এখন আতঙ্ক ও ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে উদ্ধারকৃত মাদক নিয়ে কারসাজির বিষয়ে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এসআই জুয়েল মাদকসহ আসামি আটক করার পর উদ্ধারকৃত অরিজিনাল মাদক সরিয়ে সেখানে নকল বা মাদক সদৃশ বস্তু যুক্ত করে আদালতে চালান দেন।
গত ১০ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ভাটোপাড়া এলাকা থেকে ১০০ গ্রাম মাদকসহ আলিয়ারা বেগম (স্বামী- মাসুদ রানা) নামের এক নারীকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় গোদাগাড়ী মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা (এফআইআর নং-২১, জিআর নং-১০৯) রেকর্ড করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, উদ্ধারকৃত ১০০ গ্রাম অরিজিনাল হেরোইনের মধ্যে ৯০ গ্রামই বিক্রি করে দেন এসআই জুয়েল। পরে মাত্র ১০ গ্রাম ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে বাকি অংশের জায়গায় মাদক সদৃশ বস্তু যুক্ত করে জব্দ তালিকায় দেখানো হয়।
থানার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এসআই জুয়েলের বিরুদ্ধে উদ্ধারকৃত আসল মাদক বিক্রির অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও তিনি একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেন তারা।
শুধু মাদক নয়, ফসলি জমির টপসয়েল (ওপরিভাগের মাটি) নিধন সিন্ডিকেট থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই সিন্ডিকেটের এক সদস্য ছদ্মনাম “রহিম” ফোনে জানান, তিনি নিয়মিত থানায় গিয়ে এসআই জুয়েলকে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে থাকেন। তবে বর্তমান ওসির সঙ্গে এ ধরনের কোনো লেনদেন হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।
এছাড়া উপজেলার সাফিনা পার্ক থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন মামলার বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে আপোষ-মীমাংসার কথা বলে থানায় ডেকে এনে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করেন এসআই জুয়েল। কেউ টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় বলেও জানিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই জুয়েলের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমার জানা নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পুলিশের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অন্যথায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি পুলিশের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধে হার মানলেন পুলিশ সদস্য মিজানুর রহমান

ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির সঙ্গে মাত্র এক মাসের লড়াই শেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন পুলিশ কনস্টেবল মিজানুর রহমান মিজান ।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মিজানুর রহমান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার নারায়ণ শহর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল থানায় কর্মরত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মিজানুর রহমান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হলে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে শেষ পর্যায়ের ক্যান্সার শনাক্ত হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও ক্যানসার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুতে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি নিজ গ্রামেও চলছে শোকের মাতম। সহকর্মী ও স্থানীয়রা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ বাদ এশায় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আরিফ হোসেন বলেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এসপি স্যার একটি শোকবার্তা দিয়েছেন। অন্যদিকে জেলা পুলিশ এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টারস এর পক্ষ তার পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে অনিয়মের অভিযোগে মনছুর আলী ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানী তেল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগে একটি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে সদর উপজেলার ভূল্লীতে মেসার্স আলহাজ্ব মনসুর আলী ফিলিং স্টেশনে অভিযানে অনিয়মের অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হাসনা হেনা লাবনী।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত নিয়ম উপেক্ষা করে ফুয়েল কার্ড ছাড়া পেট্রোল বিক্রির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
অভিযান চলাকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জ্বালানী তেল বিক্রয়ে সরকারি নির্দেশনা ও বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সাথে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হাসনা হেনা লাবনী জানায়, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা, জ্বালানী তেল বিপণনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জয়পুরহাটে প্যানেল চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বাতিল করে প্রকৌশলীকে নিয়োগ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোছাঃ হোসেনে আরা বেগমের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বাতিল করা হয়েছে। পরিষদের কার্যক্রম ও জনসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে উপজেলা প্রকৌশলীকে এই দায়িত্ব প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।

 

​গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক মো: আল-মামুন মিয়া স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

 

​অফিস আদেশ সূত্রে জানা গেছে, আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান জনাব মো: আনোয়ারুজ্জামান তালুকদার মামলাজনিত কারণে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত রয়েছেন। এর ফলে স্থানীয় সরকার সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মোছাঃ হোসেনে আরা বেগমকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।

 

 

 

​তবে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অভিযোগ তুলে ধরেন পরিষদের সদস্যরা। এরই প্রেক্ষিতে পরিষদের ৮ জন সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনয়ন ও অপসারণের আবেদন করেন। সদস্যদের অনাস্থা ও প্রশাসনিক তদন্তের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক হোসেনে আরা বেগমের ক্ষমতা বাতিল করেন।

 

​আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে এবং জনসেবা অব্যাহত রাখতে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৩, ১০১ এবং ১০২ ধারা মোতাবেক ক্ষেতলাল উপজেলা প্রকৌশলীকে আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে।

 

​জেলা প্রশাসক কর্তৃক জারিকৃত এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

গাজীপুরের আলোচিত পাঁচ খুনের রহস্য উদঘাটন

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের ৫ জনকে নৃশংস হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ। পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, তিন কন্যা সন্তান ও শ্যালককে হত্যার পর প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু এলাকা থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

 

 

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গোপালগঞ্জ সদর থানার গোপীনাথপুর এলাকার মৃত আতিকার রহমান মোল্লার ছেলে ফোরকান মোল্লা (৪০) প্রায় ১৬ বছর আগে শারমিন বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে তিন কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ ও পারিবারিক অশান্তি চলছিল। প্রায় ছয় মাস আগে ফোরকান মোল্লা স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউজকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় জনৈক মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করেন। তিনি পেশায় একজন প্রাইভেটকার চালক ছিলেন।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৮ মে রাতে ফোরকান মোল্লা তার শ্যালক রাসেল মোল্লাকে গাড়ি কেনার কথা বলে গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ায় নিয়ে আসে। পরে গভীর রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরিবারের সদস্যদের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতনকারী পদার্থ মিশিয়ে খাওয়ানো হয় বলে পুলিশের ধারণা। সবাই অচেতন হয়ে পড়লে ধারালো চাপাতি দিয়ে স্ত্রী শারমিন বেগম, তিন কন্যা সন্তান এবং শ্যালক রাসেল মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যা করে ফোরকান।

নিহত শারমিনের বাবা শাহাবুদ্দিন মোল্লার অভিযোগের ভিত্তিতে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরপরই জেলা পুলিশ, পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং কাপাসিয়া থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক টিম মাঠে নামে।

পুলিশ জানায়, আধুনিক প্রযুক্তি, মোবাইল ট্র্যাকিং ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান ঢাকার দিকে পালিয়ে যায় এবং পরে পদ্মা সেতু এলাকায় অবস্থান নেয়। ১১ মে সকালে পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের পাশে ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এক ব্যক্তি কিছু সময় সেতুর ওপর অবস্থান করার পর নদীতে ঝাঁপ দেয়। পুলিশের ধারণা, ওই ব্যক্তি ফোরকান মোল্লা।

 

 

 

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মোল্লা পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করেছে।”

 

 

 

তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত আত্মগোপনে চলে যায় এবং পরবর্তীতে পদ্মা সেতু এলাকা থেকে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে নদীতে ঝাঁপ দেয় বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।” এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহতদের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

 

শিক্ষাক্ষেত্রে সেশনজট কমাতে নতুন পরিকল্পনা: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সেশনজট যেনো বন্ধ হয়ে যায়, আমরা সেভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি চালু করবো৷ 

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) বিকেলে গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) ক্যাম্পাসে ‘আইইউটি এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ তথ্য জানান। 

 

 

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের টার্গেট একাডেমিক ক্যালেন্ডার হবে ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে। 

 

 

বিগত সময়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে যে অব্যবস্থাপন হয়েছে, সেগুলোর সমাধান করা। 

 

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পলিসি মেকারদের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর জীবন থেকে যেনো অতিরিক্ত ২ বছর ঝরে না পড়ে।

 

 

এজন্য ক্রমান্বয়ে আমার সিংক্রোনাইজ করছি। 

 

 

এসময় মন্ত্রী আইইউটির মানসম্মত গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে ধারাবাহিক সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় উৎকর্ষতা অর্জনে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। 

 

 

অনুষ্ঠানে আইইউটি উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ও উপ-উপাচার্য হোসাইন আরাবি নুর সহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

 

 

 

এরআগে মন্ত্রী আইইউটি শিক্ষার্থীদের তৈরি করা গাড়ি ও অন্যান্য যন্ত্র ঘুরে দেখেন৷ পরে বিভিন্ন দেশে প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার পাওয়া শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। 

 

 

 

শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষতা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিও প্রদান করেন শিক্ষামন্ত্রী। 

রায়গঞ্জের ধানের হাটে অনিয়মের অভিযোগ, অতিরিক্ত ওজন ও খাজনা নিয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ধানের হাটে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে অতিরিক্ত ওজনে ধান ক্রয় এবং খাজনার নামে বাড়তি টাকা ও ধান আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, আড়ৎদার, ক্রেতা, ফড়িয়া ও ইজারাদারদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেটের কারণে তারা প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার প্রাচীন ও বড় হাটগুলোর মধ্যে সলঙ্গা, চান্দাইকোনা, নিমগাছীসহ অন্তত ১০টি ধানের হাটে নিয়মিত ধান কেনাবেচা হয়। পাশাপাশি এক শ্রেণির ফড়িয়া ব্যবসায়ী নির্ধারিত কমিশনের ভিত্তিতে গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করেন।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মন ধানের ওজন ৪০ কেজি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রতি মণে ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত ওজনের কম হলে অনেক ক্ষেত্রে ধান কিনতে অনীহা দেখান ক্রেতারা। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষকদের বাড়তি ধান দিতে হচ্ছে।
এ ছাড়া ইজারাদাররা ধান বিক্রেতাদের কাছ থেকে খাজনা বাবদ নগদ টাকা আদায়ের পাশাপাশি ধান (তোলা) বাবদ প্রতি মণে দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষকদের ক্ষোভ বাড়লেও প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
চান্দাইকোনা হাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “সার, তেল, সেচ ও শ্রমিকের খরচ কয়েকগুণ বাড়লেও ধানের দাম বাড়েনি। ধান বিক্রি করতে গেলেই ব্যবসায়িদের সিন্ডিকেটের ফাঁদে পড়তে হয়।”
তেলিজানা গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, “ঘুড়কা হাটে এক মন ধানে ৩ থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান দিতে হচ্ছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠছে না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ধান চাষ ছেড়ে দিতে হবে।”
আরেক কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, “হাটে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করা হয় না। কষকদের জিম্মি করে ব্যবসায়িরা পকেট ভরে। ধান চাষে খরচ বাড়লেও আমরা লাভের মুখ দেখতে পাই না।”
নিমগাছী হাটের এক বিক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, “এ হাটে ধান বিক্রি করতে এলে প্রতি মণে ৩ থেকে ৪ কেজি বেশি দিতে হয়। এ ছাড়া ফড়িয়া ব্যবসায়িরা সুযোগ পেলে ধান ওজনের কারচুপি করে প্রতি বস্তায় দেড় থেকে দুই কেজি ধান কম বানায়।” তিনি আরও জানান, কিছু আড়ৎদার ধান কিনে যথাসময়ে টাকা পরিশোধ না করে টালবাহানা করেন এবং বাকিতে ধান নিয়ে থাকেন।
নিমগাছী বাজারের এক আড়ৎদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বছরের পর বছর ধরেই এভাবে ধান কেনাবেচা চলে আসছে। সবাই এভাবেই ব্যবসা করেন।” তিনি দাবি করেন, পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনার খরচের কারণেই কিছুটা বেশি ওজন নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল মনে করছেন, ধানের হাটে অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত নজরদারি, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং খাজনা ও তোলার নামে অতিরিক্ত অর্থ ও ধান আদায় বন্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরি।

শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল সাবেকমন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের জানাজায়

সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে চট্টগ্রামে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১১টার দিকে নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তাকে মিরসরাইয়ে নেওয়া হয়।

 

 

সেখানে বাদ আসর ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় নামাজের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

 

 

 

জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ছাড়াও সাধারণ জনগণকে জানাজায় অংশ নিতে দেখা যায়।

 

 

এ সময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন দেশের রাজনীতির এক অভিজ্ঞ ও সজ্জন ব্যক্তিত্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ভূমিকা মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।