সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১০ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যু: পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট Logo বিশ্বকাপের উদ্বোধনী রাতে সুরের জাদু ছড়াবেন বাংলাদেশের সঞ্জয় Logo মুক্তির পথে আইভী, আপিলেও মিলল জামিন Logo ঈদের আগে হিলিতে মশলার দাম কমায় স্বস্তিতে ক্রেতারা  Logo নিকলীতে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক স্বামী-স্ত্রী Logo বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ৭৬তম জন্মদিন আজ Logo আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা: চিন্ময় দাশকে জামিন দেননি হাইকোর্ট Logo বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ও মাদকমুক্ত তামিলনাড়ুর প্রতিশ্রুতি বিজয়ের Logo রায়গঞ্জে গরু চুরি রোধে ‘বাঁশ ব্যারিয়ার: ব্যতিক্রমী উদ্যোগে খামারিদের স্বস্তি  Logo কোটি টাকার হেরোইনসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ

  1. আজ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল ও অনন্য দিন ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক বিশাল জনসমুদ্রে তার ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। সেই ভাষণে বাঙালি জাতি খুঁজে পেয়েছিল স্বাধীনতা-সংগ্রামের এক দিকনির্দেশনা।

 

পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিক এ ভাষণই হয়ে ওঠে স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজমন্ত্র। মূলত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের এ ভাষণের আহ্বানেই মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে বাঙালি। তাই এ জাতির স্বাধীনতা-মুক্তি ও জাতীয়তাবোধ জাগরণের ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয় ভাষণটি।

 

২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো।

 

ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র ১৮ মিনিটের ভাষণে সেদিন শেখ মুজিবুর যেমন বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরেছেন, তেমনি দেশবাসীর করণীয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এক কথায় বলা যায়, এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল।

 

একাত্তরের এই দিনের পড়ন্ত বিকেলে শেখ মুজিবুর সমবেত লাখো মানুষকে সামনে রেখে বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ তিনি দেশের মানুষকে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করার এবং ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

 

তার এই উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। তার এই বজ্রনিনাদে আসন্ন মহামুক্তির আনন্দে বাঙালি জাতি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত মুক্তির লক্ষ্যে।

 

প্রতি বছর দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলেও ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঐতিহাসিক ৭ মার্চসহ আটটি জাতীয় দিবস পালন না করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

 

এ বছরও দিবসটি পালনে সরকারি-বেসরকারি কোন কর্মসূচি নেই।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যু: পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ

আপডেট টাইম : ১০:৪৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  1. আজ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল ও অনন্য দিন ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক বিশাল জনসমুদ্রে তার ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। সেই ভাষণে বাঙালি জাতি খুঁজে পেয়েছিল স্বাধীনতা-সংগ্রামের এক দিকনির্দেশনা।

 

পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিক এ ভাষণই হয়ে ওঠে স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজমন্ত্র। মূলত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের এ ভাষণের আহ্বানেই মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে বাঙালি। তাই এ জাতির স্বাধীনতা-মুক্তি ও জাতীয়তাবোধ জাগরণের ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয় ভাষণটি।

 

২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো।

 

ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র ১৮ মিনিটের ভাষণে সেদিন শেখ মুজিবুর যেমন বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরেছেন, তেমনি দেশবাসীর করণীয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এক কথায় বলা যায়, এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল।

 

একাত্তরের এই দিনের পড়ন্ত বিকেলে শেখ মুজিবুর সমবেত লাখো মানুষকে সামনে রেখে বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ তিনি দেশের মানুষকে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করার এবং ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

 

তার এই উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। তার এই বজ্রনিনাদে আসন্ন মহামুক্তির আনন্দে বাঙালি জাতি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত মুক্তির লক্ষ্যে।

 

প্রতি বছর দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলেও ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঐতিহাসিক ৭ মার্চসহ আটটি জাতীয় দিবস পালন না করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

 

এ বছরও দিবসটি পালনে সরকারি-বেসরকারি কোন কর্মসূচি নেই।