একদিকে নীল সমুদ্র, সবুজ পাহাড় আর দিগন্তজোড়া উপকূল; অন্যদিকে আধুনিক পর্যটন অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাইনান প্রদেশের পর্যটননগরী সানইয়া যেন প্রকৃতি ও আধুনিক উন্নয়নের এক অনন্য মেলবন্ধন।
এই নগরীর বহুমাত্রিক সৌন্দর্য ও উন্নয়নচিত্র কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৯টি দেশ ও অঞ্চলের গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও বিদেশি কনটেন্ট নির্মাতারা। ১ থেকে ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ‘গো চায়না ইন সানইয়া’ আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কর্মসূচিতে তাঁরা অংশ নেন।
‘হোয়াই চায়না: ডিসকভারিং সানইয়া’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে আয়োজিত কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে শহরটির প্রকৃতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি, পর্যটনশিল্প ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরা।
শহরটির লুহুইতোউ পর্যটন এলাকায় কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। সেখানে সানইয়া পৌর কমিটির প্রচার বিভাগের প্রধান লি ইংটিং শহরটির আন্তর্জাতিক পর্যটন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সানইয়ার অভিজ্ঞতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
সানইয়া পৌর কমিটির প্রচার বিভাগের দিকনির্দেশনায় এবং সানইয়া পর্যটন উন্নয়ন ব্যুরোর আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহায়তা করে সানইয়া পৌর সাইবারস্পেস প্রশাসন এবং বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল চায়না নিউজ সার্ভিস ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন গ্রুপের হাইনান শাখা।
ছয় দিনের সফরে প্রতিনিধিরা সানইয়ার বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে দেখেন। লুহুইতোউর পাহাড় থেকে বিস্তৃত সমুদ্র ও শহরের দৃশ্য, থিয়ানইয়া হাইচিয়াওর মনোমুগ্ধকর উপকূল এবং দাসিয়াওদোংথিয়ানের প্রাকৃতিক পরিবেশ তাঁদের সামনে তুলে ধরে সানইয়ার অনন্য ভৌগোলিক সৌন্দর্য।
উঝিঝৌ দ্বীপে সামুদ্রিক পরিবেশ ও প্রবালপ্রাচীর সংরক্ষণের উদ্যোগ সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়। অন্যদিকে ওয়েস্ট আইল্যান্ডের শতবর্ষী জেলেপল্লি স্থানীয় মানুষের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার ভিন্ন অভিজ্ঞতা এনে দেয়।
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ইয়াঝৌ প্রাচীন নগরী। সেখানে ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য, লোকসংগীত এবং লি জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা হাইনানের বহুমাত্রিক ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরে।
তবে সানইয়ার পরিচয় কেবল সমুদ্রসৈকত ও ঐতিহাসিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ নয়। হংঝৌ আন্তর্জাতিক ইয়ট মেরিনা, আটলান্টিস সানইয়া এবং সিডিএফ আন্তর্জাতিক শুল্কমুক্ত বিপণিবিতান শহরটির আধুনিক পর্যটন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিকাশের চিত্র তুলে ধরে।
সানইয়া জয় সিটিতে বিদেশি পর্যটকদের জন্য নেওয়া ‘পাসপোর্ট ফ্রেন্ডলি’ উদ্যোগও বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। এর মাধ্যমে বিদেশিদের কেনাকাটা ও বিভিন্ন সেবা গ্রহণ সহজ করার চেষ্টা চলছে।
পর্যটনের সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষির সংযোগও এ সফরের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। প্রতিনিধিরা ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, হাইনান লুজান পর্যটন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডুরিয়ান ভ্যালি পরিদর্শন করে এসব খাতে নতুন সম্ভাবনার কথা জানতে পারেন।
আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও সানইয়া এগিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শহরটির সঙ্গে ৩৮টি আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বিমান রুট চালু রয়েছে। চলতি বছরের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সানইয়া ফিনিক্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচল ১০ লাখ ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
এ ছাড়া বিভিন্ন ভিসামুক্ত প্রবেশব্যবস্থার আওতায় ৮৮টি দেশের নাগরিক সুবিধা পান বলে জানানো হয়েছে।
সানইয়ার ছয় দিনের এই সফর দেখিয়েছে, পর্যটন উন্নয়নের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, আধুনিক অবকাঠামো এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে যুক্ত করার চেষ্টা কীভাবে একটি শহরের আন্তর্জাতিক পরিচিতিকে সমৃদ্ধ করতে পারে।
বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের জন্যও এ অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটনশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি বিকাশে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, স্থানীয় সংস্কৃতি, পরিবেশ এবং পর্যটকবান্ধব সেবার সমন্বয় কতটা জরুরি, সানইয়ার উদ্যোগগুলো সেই আলোচনাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
জনতার কণ্ঠ / কেএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 






















