এর আগে ঢাকা সময় রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে টোকিওর উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
সফরে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা রয়েছেন।
প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ; বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন; বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মুস্তাকুর রহমান; এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান; পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম; সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী; প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন; হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এবং আমজনতার পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু প্রাধান্য পাবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং নতুন জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে ইপিএ স্বাক্ষরের পর বাণিজ্য সম্প্রসারণের যে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে চায় ঢাকা।
এ ছাড়া বাংলাদেশে জাপানি শিল্পকারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হবে।
সফরকালে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কারিগরি দক্ষতা, বেসামরিক বিমান চলাচল, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে তিন থেকে চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে। জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল রূপান্তর নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন। পাশাপাশি জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বৈঠক হবে। জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন তিনি।
স্বাধীনতার পর থেকেই জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী অবকাঠামো উন্নয়নসহ বাংলাদেশের বড় বড় মেগা প্রকল্পে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে।

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 


















