নোয়াখালীর সেনবাগে তিন ছিনতাইকারীকে গণপিটুনি দিয়ে সেনবাগ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। এ ঘটনায় ছিনতাইকারীদের হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (১৪ই ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে সেনবাগ উপজেলার ফেনী–নোয়াখালী ফোর লেন মহাসড়কের ছমির মুন্সির হাট বাজারে জাহাঙ্গীর আলম কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গণপিটুনির শিকার তিন ছিনতাইকারী হলেন—হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া গ্রামের আলী আহাম্মদের ছেলে মো. ইমরান (৪৫), সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা গ্রামের আবদুল্লাহর ছেলে মো. মনির হোসেন (৪৫) এবং লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানার চরজগবন্ধু গ্রামের নুর কবিরের ছেলে জাকির হোসেন (৩৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চাপরাশিরহাট বাজার থেকে এক নারী সিএনজি চালিত অটোরিকশায় ওঠেন। যাত্রীবেশে থাকা তিন ছিনতাইকারী ওই নারীর কাছে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ফেলে দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং চিৎকার শুরু করলে বাজারের লোকজন ও কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করেন।
ধাওয়া চলাকালে ছিনতাইকারীরা তাদের কাছে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ৫–৬ জন মোটরসাইকেল আরোহীকে আঘাত করে আহত করে। পরে চাপরাশিরহাট থেকে ধাওয়া করে সেনবাগ উপজেলার ছমির মুন্সির হাট বাজারে জাহাঙ্গীর আলম কমপ্লেক্সের সামনে পৌঁছালে আলুবোঝাই একটি ট্রাকের সামনে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটি থেমে যায়। এ সময় ধাওয়া করা লোকজনের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে সিএনজিতে থাকা তিন ছিনতাইকারীকে আটক করে গণপিটুনি দেয়।
খবর পেয়ে সেনবাগ থানার ওসি আবুল বাশারের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত তিন ছিনতাইকারীকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। এ সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত নম্বরবিহীন একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা জব্দ করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে এবং মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মো. ইসমাইল হোসেন নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম 



















