সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

দেশের সার্বভৌমত্বকে গুমের মাধ্যমে দুর্বল করা হয়েছিল : এমপি আরমান

গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যকে ব্যবহার করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সার্বভৌমত্বকে অরক্ষিত করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১৪ আসনের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান।

 

 

 

রোববার (১৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিন র‌্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তার জেরা শেষ হয়।

 

 

 

ব্যারিস্টার আরমান বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। যতদিন সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব বজায় থাকবে, ততদিন দেশের সার্বভৌমত্বও সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যকে ব্যবহার করে শেখ হাসিনা সেই পেশাদারিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। এর মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্বও ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। আমরা চাই এ সংস্কৃতি আর ফিরে না আসুক। যত ক্ষমতাধর দলই হোক, বাংলাদেশের মানুষের অধিকার যেন আর কেউই নষ্ট করতে না পারেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে আরমান বলেন, গুমে থাকাকালীন একেকজনের নির্যাতন একেকরকম ছিল। কিন্তু ভিন্ন থাকলেও বিনা দোষে কোনো মানুষকে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। যখন এটি ব্যাপক এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে হচ্ছিল, তখন এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়ে যায়। নির্যাতনের মাত্রার ওপর এই অপরাধ নির্ভর করে না। অপরাধটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে হয়েছিল কিনা, এটাই দেখার বিষয়।

নতুন সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চান জানিয়ে এই সাংসদ বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও গুমের ভুক্তভোগী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রায় প্রত্যেক সংসদ সদস্যই অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। এই মজলুমদের মিলনমেলার ওপর আমরা আস্থা রাখতে চাই। সরকার এই বিচার নিশ্চিত করবে বলেও আমরা আশাবাদী।

শাহ আলী মাজারের হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাজারের মতো ধর্মীয়-গাম্ভীর্য স্থানে হামলার জন্য তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সরকারের দায়িত্ব সকল ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ জায়গায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন ভিডিও এভিডেন্স দেখে যদি কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। তবে ঢালাওভাবে বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিস্টদের ঐতিহ্য। আমরা এসবের পুনরাবৃত্তি চাই না।

কমিটিতে পদ পাওয়ার রাতেই গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা

সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের রাতেই পৌর কমিটিতে পদ পাওয়া সহ-সভাপতি আলভীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আলভী শহরের দিয়ার ধানগড়া মহল্লার জুলহাস হোসেনের ছেলে।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিস্ফোরক মামলায় আলভীকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

উল্লেখ্য শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সিরাজগঞ্জ জেলা, সদর থানা, পৌর ও সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। গ্রেপ্তার আলভী পৌর কমিটির সহ সভাপতির দায়িত্ব পান।

 

 

রাশিয়ার ভেতরে বড় ধরনের হামলা চালাল ইউক্রেন

 

ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন মস্কো অঞ্চলের বাসিন্দা। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত এক বছরের মধ্যে দেশটির রাজধানী মস্কোর ওপর এটিই সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা।

 

 

 

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে এক হাজারের বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইউক্রেন। অন্যদিকে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলেও একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর রয়টার্সের।

 

 

 

এর আগে শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত চার বছরের যুদ্ধে কিয়েভে গত দুই দিনে চালানো রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করা হয়।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিওতে জেলেনস্কি আকাশে উড়ন্ত ড্রোন, ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতার দৃশ্য প্রকাশ করেন।

 

 

তিনি বলেন, ‘রাশিয়া যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে এবং আমাদের শহর ও জনপদে হামলা চালাচ্ছে। এর জবাব দেওয়া সম্পূর্ণ ন্যায্য।’

 

 

জেলেনস্কি দাবি করেন, রাশিয়ায় কঠোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও সীমান্ত থেকে ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে ইউক্রেন।

 

 

মা হাতিকে বিদায় জানাতে গভীর রাতে লোকালয়ে বন্যহাতির পাল

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাগজিখোলা সংলগ্ন চকরিয়া লাম্বা হাকখোলা পূর্ণ গ্রামে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা একটি বন্য মা হাতি অবশেষে মারা গেছে।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হাতিটির মৃত্যু হয়।

 

 

 

মৃত মা হাতির শোকে শোকাহত হয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় অন্তত ১০টি বন্য হাতির একটি দল।

জানা যায়, জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কাগজিখোলা সংলগ্ন চকরিয়া লাম্বা হাকখোলা পূর্ণ গ্রামে দীর্ঘ অসুস্থতার পর অবশেষে মারা গেছে একটি বন্য মা হাতি। মায়ের মৃত্যুর পর গভীর রাতে তাকে শেষবারের মতো দেখতে ও ‘শোক জানাতে’ ঘটনাস্থলে হাজির হয় অন্তত ১০টি বন্যহাতির একটি দল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে একদিকে যেমন আতঙ্ক, অন্যদিকে তৈরি হয়েছে এক আবেগঘন পরিবেশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল থেকেই নূর মোহাম্মদের বাড়ির পশ্চিম পাশে মা হাতিটিকে অসুস্থ ও নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। সে সময় তার পাশে ছটফট করছিল একটি ছোট হাতি শাবক। কোনো মানুষ কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলেই শাবকটি আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার জুড়ে দিচ্ছিল এবং কোনোভাবেই মায়ের পাশ ছেড়ে যাচ্ছিল না। স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ বলেন, সকাল থেকে হাতিটাকে পড়ে থাকতে দেখি। পাশে ছোট বাচ্চাটাও ছিল। মানুষ কাছে গেলেই শাবকটি চিৎকার করছিল। দৃশ্যটি খুবই হৃদয়বিদারক ছিল।

খবর পেয়ে ঈদগাঁও বন বিভাগের কর্মকর্তা উজ্জ্বল স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ এনে হাতিটির চিকিৎসা শুরু করেন। তবে ততক্ষণে হাতিটি চরম অপুষ্টিতে আক্রান্ত হয়ে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

 

 

 

বন কর্মকর্তা উজ্জ্বল জানান, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ এনে হাতিটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তবে হাতিটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ছিল। রাত ১২টার দিকে হাতিটি মারা যায়।

 

 

 

মা হাতিটির মৃত্যুর কিছুক্ষণ পরেই ঘটে সেই বিস্ময়কর ঘটনা। গভীর রাতে হঠাৎ প্রায় ১০টি বন্যহাতির একটি দল জঙ্গল থেকে এসে মৃত হাতিটির আশপাশে অবস্থান নেয়।

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাতির দলটি সেখানে বেশকিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে। সে সময় অবুজ শাবকটিকেও মৃত মায়ের লাশের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর হাতির দলটি আবার পাহাড়ের গভীর বনাঞ্চলে ফিরে যায়।

 

 

 

স্থানীয়দের ধারণা, বন্যহাতির দলটি মূলত তাদের সঙ্গী ও মা হাতিটিকে শেষ বিদায় জানাতেই লোকালয়ে ছুটে এসেছিল। এ সময় শাবকটিকে মৃত মা হাতির কাছেই অবস্থান করতে দেখা যায়। হাতির দলটি কিছুসময় সেখানে অবস্থান করে আবার পাহাড়ের দিকে চলে যায়।

 

 

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পাহাড়ি বনাঞ্চলে ক্রমাগত খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় প্রায়ই বন্য হাতির দল লোকালয়ে চলে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও খাদ্যাভাবের কারণেই মা হাতিটি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বলে তাদের ধারণা। বন বিভাগ জানিয়েছে, মৃত হাতিটির শরীর থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ল্যাব টেস্টের পর হাতিটির মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রঘু ডাকাতের রক্তমাখা চিঠি, পুলিশ পাহারায় রাত কাটাল গ্রামবাসী

 

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গরুর খামারিদের বাড়ি বাড়ি রক্তমাখা চিঠি দিয়ে হত্যা ও ডাকাতির হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। চিঠিতে খামারিদের ঘরের দরজা খোলা রাখতে বলা হয়েছে।

 

 

 

গত শুক্রবার (১৫ মে) রাতে এ বিষয়ে স্থানীয় খামারি মো. আমজাদ হোসেন বাদি হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে গত ৫ দিনে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামের প্রায় ১৫টি বাড়িতে চিঠি দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

 

 

 

জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামে চেতনানাশক স্প্রে করে ধারাবাহিকভাবে ডাকাতির পর রঘু ডাকাতের নামে অন্তত ১৫টি বাড়িতে দেওয়া হয় রক্তমাখা চিঠি। চিঠিগুলোতে নির্বিঘ্নে ডাকাতি করার জন্য দরজা খোলা রাখতে বলা হয়। দরজা না খোলা রাখলে হত্যার হুমকি দেয়।

এরপর থেকেই আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে উপজেলাজুড়ে। ঘুমহীন হয়ে পড়ে বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। বিষয়টি নিয়ে কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। এরপর পুলিশ পাহারায় গ্রামবাসী ঘুমায়।

 

স্থানীয়রা জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে করে ডাকাতি করা হয়েছে। ফলে কোরবানির ঈদকে ঘিরে বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গরুর খামারিরা। একদিকে ডাকাতি অন্যদিকে হুমকি দেওয়া রক্তমাখা চিঠিতে নির্ঘুম হয়ে যায় পুরো গ্রাম।

 

 

তারা আরও জানান, গত ৪/৫দিনে টেকুয়াপাড়া গ্রামের অন্তত ১৫ জনের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা নিজেদের রঘু ডাকাত পরিচয় দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে লিখেছে ‘কালকে আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসব, তাই দরজা খোলা রাখবেন, না খুলে রাখলে জিন্দা খালাস………? ইতি রঘু ডাকাত।

 

 

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গ্রামবাসীকে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কোনোভাবেই কোনো ডাকাতকে বা কোন দুস্কৃতিকারীকে অপতৎপরতা করতে দেওয়া হবে না।

 

 

আমির হামজাকে গ্রেপ্তারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিল আদালত

 

জ্বালানি মন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

 

 

রোববার (১৭ মে) সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার এ আদেশ দেন।

 

 

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী ও সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল।

 

মামলার তথ্যে জানা গেছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করার অভিযোগে গত ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর কর্নেল। একই দিন আদালত আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করে ২১ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত তারিখে তিনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

 

পরবর্তীতে রোববার আদালতে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও সেদিনও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। এ কারণে আদালত তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।

 

 

এ বিষয়ে মামলার বাদী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর কর্নেল জানান, রোববার আমির হামজার আদালতে হাজির হওয়ার নির্ধারিত দিন ছিল। কিন্তু তিনি উপস্থিত হননি। এর আগে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। সর্বশেষ আদালত তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দিয়েছেন।

 

মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় উঠে এলো নতুন তথ্য

ফরিদপুরের মাধবদিয়া এলাকায় মা ও শিশু কন্যাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বকারটিলা এলাকা থেকে মো. উজ্জ্বল খান (৩৮) নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

রোববার (১৭ মে) দুপুরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, নিহত জাহানারা বেগম (৩০) রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার বাসিন্দা। তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে সামিয়াসহ তাদের মরদেহ গত ১৪ মে চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড় সংলগ্ন স্থান থেকে মাটি চাপা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর নিহতের স্বজন মো. লালন মোল্লা কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার আমিনবাজার এলাকায় একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারা বেগমের সঙ্গে উজ্জ্বল খানের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে উজ্জ্বল খান জাহানারাকে ফরিদপুরে নিয়ে আসেন।

 

 

 

গত ৪ মে রাতে চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উজ্জ্বল প্রথমে জাহানারাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা শিশু সামিয়াকেও গলা টিপে হত্যা করা হয়।

 

 

 

হত্যার পর আসামি নিজ বাড়ি থেকে কোদাল এনে ছাপড়া ঘরের পাশে পৃথক দুটি গর্ত খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ মাটি চাপা দেয়।

 

 

 

ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের ব্যবহৃত বোরকা, ওড়না, নেকাব, শিশু সামিয়ার পোশাক, একটি মালা, আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারাল অস্ত্র ও কোদাল উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

 

মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

 

 

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিআইও-১ ইন্সপেক্টর মো. মোশারফ হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস। ফরিদপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ভূমি মালিকদের জন্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

সারাদেশের ভূমি মালিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বকেয়াসহ চলতি অর্থবছরের ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া জমির সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা আরও সহজ করতে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

 

 

 

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাগরিকরা এখন ঘরে বসেই land.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারবেন। সরকারের লক্ষ্য হলো ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ স্মার্ট ও স্বচ্ছ ব্যবস্থায় রূপান্তর করা, যাতে সেবা গ্রহণ আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত হয়।

 

 

 

ভূমি মন্ত্রণালয় জানায়, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য নাগরিককে প্রথমে নির্ধারিত পোর্টালে (land.gov.bd) গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধিত হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে খতিয়ান ও জোত সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে করের পরিমাণ জানা যাবে এবং মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডের মাধ্যমে তা পরিশোধ করা যাবে।

 

 

মন্ত্রণালয়ের বার্তায় বলা হয়েছে, ৩০ জুনের মধ্যে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করুন এবং নিজের জমি সুরক্ষিত রাখুন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর পরিশোধ না করলে পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী বকেয়ার ওপর সুদ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

সাধারণত সরকারি হিসাবে অর্থবছর শেষ হয় ৩০ জুন। তাই বছরের হিসাব চুকিয়ে দিতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে এ সময়ের মধ্যেই খাজনা পরিশোধ করা বাঞ্ছনীয়। অনলাইন পদ্ধতি চালুর ফলে এখন আর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সশরীরে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই, যা সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় করছে।

 

 

ভূমি মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে ভূমি কর আদায়ে স্বচ্ছতা আসবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।

 

 

বিসিবি নির্বাচনে আদালতের হস্তক্ষেপ নয়

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা কমিটির নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা বিচারাধীন এক রিটের সম্পূরক আবেদন নথিভুক্ত করার আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, বিসিবি নির্বাচন নিয়ে আমরা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবো না। ফলে আগামী ৭ জুন বিসিবির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন বিসিবির আইনজীবী মাহিন এম রহমান। রবিবার (১৭ মে) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায়ের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

 

 

 

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশিদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। বিসিবির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহিম এম রহমান।

পরে বিসিবি আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিম এম রহমান বলেন, আদালত বিসিবির নির্বাচন স্থগিত চেয়ে জনৈক মোশাররফ হোসেন নামে এক ব্যক্তির রিটের সঙ্গে করা সম্পূরক আবেদনটি নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিসিবির নির্বাচন নিয়ে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করবো না।

তিনি আরও বলেন, মোহাম্মদ মোশারফ নামে একজন ব্যক্তি গত মার্চ মাসে বিসিবি গঠনতন্ত্রের একটি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট দায়ের করলে আদালত রুল জারি করেন।

বিচারাধীন সেই রিটে আজকে একটি সম্পূরক আবেদন দায়ের করে আসন্ন ৭ জুন অনুষ্ঠিতব্য বিসিবির নির্বাচন স্থগিত চাওয়া হয়। সেই আবেদনের শুনানি অন্তে আদালত বিসিবির নির্বাচন বিষয়ে এই অ্যাপ্লিকেশন দ্বারা কোন হস্তক্ষেপ করবে না বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

 

কালাইয়ে ভুয়া প্রাণিচিকিৎসককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

 

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় খামারিদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও নিরাপদ প্রাণিচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর। অভিযানে অপচিকিৎসার অভিযোগে এক ভুয়া প্রাণিচিকিৎসককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন উপজেলার ভূগোইল (মোসলেমগঞ্জ) গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে মো. খায়রুল ইসলাম আতিক। তিনি নিজেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম প্রজনন কর্মী পরিচয় দিয়ে এলাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া পরিচয়ে গবাদিপশুর চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন ওই ব্যক্তি। সম্প্রতি তার ভুল চিকিৎসার কারণে স্থানীয় এক খামারি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি প্রেসক্রিপশন পরিবর্তন করে নিজের মতো করে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন, যা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। খামারির ক্ষতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কালাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল-মাহাবুব। প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান।

প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, প্রাণিসম্পদ খাতে অপচিকিৎসা, প্রতারণা ও জালিয়াতি বন্ধে এবং খামারিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিজিবির সহায়তায় ভারত থেকে ফিরলেন নিখোঁজ যুবক

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছ থেকে মো. বকুল মন্ডল (২৫) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ১০টা দিকে সীমান্তের মেইন পিলার ১৫৭/২-এস এর কাছে এই পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

ফেরত আসা বকুল দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী চিলমারী ইউনিয়নের মরারপাড়া গ্রামের মো. লুৎফর মণ্ডলের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন।

বিজিবি সূত্র জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে বকুল বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে গত ১৫ মে মাইকিংয়ের মাধ্যমে নিখোঁজের সংবাদ প্রচার করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভারতীয় আইডিতে দেখা যায়, বকুল ভারতের কলকাতায় মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত চিলমারী বিওপিকে অবহিত করেন। এরপর বিজিবি দ্রুত বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিএসএফ সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির মালিকের সহায়তায় বকুলকে ১৬ মে আটক করে এবং পরদিন ভোরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।

পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন চরচিলমারী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. মোশারফ হোসেন। এসময় তার সঙ্গে আরও ৭ জন বিজিবি সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

অপরদিকে ভারতের ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চরভদ্রা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসআই নিতিন কুমারের নেতৃত্বে ৭ জন বিএসএফ সদস্য অংশ নেন। বৈঠকটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় বলে জানান বিজিবি।

 

 

 

কুষ্টিয়া ৪৭ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় এক বাংলাদেশি নাগরিক ভারতের কলকাতায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ও তথ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা বিজিবিকে অবহিত করেন। বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পতাকা বৈঠক করে তাকে দেশে ফেরানো হয়। পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তায় বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত বিজিবিকে জানাতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

বিশ্বকাপের শেষ লড়াইয়ে ব্রাজিল-স্পেন দেখার স্বপ্ন: নেইমার

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিল ও স্পেনের মধ্যে ফাইনাল হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। একই সঙ্গে তিনি স্বপ্ন দেখেছেন সেই ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করার।

 

 

তবে ৩৪ বছর বয়সী এই তারকার বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চোটের সঙ্গে লড়াই করছেন নেইমার। বিশেষ করে সৌদি ক্লাব আল হিলালে থাকার সময় তিনি বেশিরভাগ সময়ই মাঠের বাইরে ছিলেন।

 

 

এদিকে ব্রাজিল জাতীয় দলে এখন একাধিক তরুণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড় নিয়মিত জায়গা করে নেয়ায় নেইমারের জন্য দলে ফেরা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

তবুও স্বপ্ন দেখছেন এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। সাংবাদিক ব্রুনো ফর্মিগার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক কথোপকথনে নেইমার ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্রাজিল ও স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার কথা বলেন এবং ব্রাজিলের ৩-১ ব্যবধানে জয় কল্পনা করেন। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে নেইমার সংক্ষেপে বলেন, ‘স্বপ্ন তো দেখতেই হয়, তাই না?’

এদিকে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগেই জানিয়েছেন, শুধুমাত্র খ্যাতির ভিত্তিতে কাউকে দলে নেয়া হবে না। তিনি বলেন, নেইমার সম্প্রতি উন্নতি করেছেন এবং সান্তোসে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়ায় তাকে প্রশংসাও করেছেন। তবে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে হলে খেলোয়াড়কে অবশ্যই পুরোপুরি ফিট থাকতে হবে এবং ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করতে হবে।

সান্তোসে ফিরে কিছু ঝলক দেখালেও নেইমারের ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে। গত দুই মৌসুমে বারবার চোটে পড়ায় তার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে।

 

ভালোবাসার টানে চীনের যুবক বিয়ে করেছেন কুড়িগ্রামের মেয়েকে

কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ি উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে মোরশেদা বেগম। তিনি ঢাকায় থাকাকালীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে যান চীনের যুবক আন হুং ওয়েই সাথে। একটু একটু কথা এরপর ভালো লাগা থেকে শুরু হয় প্রেম ভালোবাসা। মোরশেদা বেগম এবং আন হুং ওয়েই’র ভালোবাসার কাছে চীনের দুরত্ব যেন কোন বাঁধা হতে পারলো না। প্রেম ভালোবাসার এক পর্যায় চীন থেকে চলে আসেন সেই যুবক আন হুং ওয়ে। পরে দুইজনের সম্মতিতে দেশের রীতি অনুযায়ী বিবাহ করেন।
তারা দুইজনে বর্তমান অবস্থান করছেন মোরশেদা বেগমের বাড়ি কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ীতে। চীন থেকে আসা যুবকে এক নজর দেখতে গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায়। অনেকে ছবি তুলছেন আবার অনেকে হাত মেলাচ্ছেন কেউবা কথা বলার চেষ্টা করছে। চায়নার সেই যুবককে নিয়ে গ্রামে শুরু হয়েছে কৌতূহল। আলোচনা থেকে এড়ায়নি নেট দুনিয়াও। নেট দুনিয়াও আলোচনার কেন্দ্রবৃন্দ হয়ে পড়েছে চায়নার সেই যুবক।
এ বিষয় স্থানীয়রা জানান, ভাষাগত এবং পরিবেশগত অমিল থাকলেও তার ব্যবহার এবং আচার-আচরণ অত্যান্ত সাবলিল। এ কারণে এলাকাবাসীদের মন মুগ্ধ করেছে চীনা যুবক। যদিও তার ভাষা বুঝতে পারেন না। তবুও তার ইশারা ইঙ্গিত অনেক সহজে বোঝা যায় তার ভিতরের কথা।
স্থানীয়দের পর মোরশেদা বেগম বলেন, তারা ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোন দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথমে কথা বলেন। এক পর্যায় দুইজনে প্রেমের জড়িয়ে পড়েন। যদিও বাংলাদেশ এবং চীনের দুরত্ব অনেক তারপরেও আন হুং ওয়েই এর কাছে তা বেশি দুরুত্ব মনে হয়নি। সে ঢাকায় আসে এবং আমরা দুইজনে দেশের রীতিমতো বিয়ে করি। সে আমাকে তার দেশে নিয়ে যাবে বলে কথা দেন। এ জন্য বাবার বাড়িতে আসছি।
চীনের যুবক আন হুং ওয়েই বলেন, মোরশেদার এলাকায় এসে সে অনেক খুশি। এখানকার সব কিছুই তার অনেক ভালো লেগেছে। সবাই খুব ভালো। আমি মোরশেদা কে বিয়ে করে অনেক সুখী।

 

সেনবাগে মাদকবিরোধী সেমিনার অনুষ্ঠিত

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় মাদকের ভয়াবহতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মাদকবিরোধী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৭ মে) উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে “মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে করণীয়” শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়নুল আবদিন ফারুক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুহসিয়া তাবাসসুম।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকে বিপথে নেয় না, বরং একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদকের ভয়াবহতা রোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং তরুণ সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নৈতিক শিক্ষা এবং তরুণদের খেলাধুলা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এ সময় উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মাদক প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় সচেতন মহল অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি মাদকবিরোধী জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।

 

বেলকুচিতে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ

ঘরের আঙ্গিনা জুড়ে কালচে পানি। পানির ওপর ভাসছে ময়লা-আবর্জনা। বাতাসে তীব্র দুর্গন্ধ। সন্ধ্যা নামলেই বাড়ে মশার উপদ্রব। এমন পরিবেশেই বছরের পর বছর বসবাস করছেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার শেরনগর মধ্যপাড়ার কয়েক হাজার মানুষ।

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, আশপাশের কয়েকটি প্রসেস মিল এবং পূর্বাণী গার্মেস্টসের পানি, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতার কারণে তাঁদের এই দুর্ভোগ। বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

 

 

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেরনগর মধ্যপাড়ার বিভিন্ন বাড়ির সামনে ও সরু সড়কে জমে আছে ময়লা মিশ্রিত পানি। কোথাও ড্রেনের পানি উপচে উঠছে। কোথাও আবার স্থির হয়ে থাকা পানিতে জন্ম নিয়েছে মশা। দুর্গন্ধে কয়েক মিনিটের বেশি দাঁড়িয়ে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়ে।

 

 

এই এলাকার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী আব্দুল হালিম মন্ডল। একসময় তাঁতশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এখন বয়সের ভারে অনেকটাই কর্মহীন। ১৫ সদস্যের পরিবার নিয়ে তাঁর বসবাস এই এলাকায়। ঘরের সামনে জমে থাকা নোংরা পানির দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কষ্টের কথা বলে শেষ করা যাবে না। টিউবওয়েলের পানিতেও গন্ধ। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি উঠে যায়। এই এলাকার কথা শুনে অনেকে আত্মীয়তা করতে চায় না। ছেলে-মেয়ের বিয়ের সম্বন্ধ এলে লোকজন এসে না বসেই চলে যায়।

 

 

তিনি জানান, মশার উপদ্রবে তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। ১৫-১৬ বছর ধরে এই ভোগান্তি। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। পৌরসভা থেকে একবার মশা মারার ওষুধ ছিটিয়েছিল। কিন্তু মশা কমেনি, বরং আরও বেড়েছে মনে হয়।

 

 

শুধু আব্দুল হালিম নন, স্থানীয়দের দাবি, শেরনগর মধ্যপাড়া ও আশপাশের প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ পরিবারের অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ একই দুর্ভোগে আছেন।

 

 

স্থানীয় নারী আলেয়া বেগম আজকের পত্রিকাকে বলেন, বৃষ্টি হলে ঘরে থাকা যায় না। পানি উঠে যায়। অনেক সময় আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে থাকতে হয়। আমরা গরিব মানুষ, কোথায় যাবো? সামনে ঈদ। আবার বৃষ্টি হলে ঘরে ঈদ করা কঠিন হবে।

 

 

এলাকাটিতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মসজিদ রয়েছে। জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়ছে শিশুদের জীবনেও।

 

 

স্থানীয় শিক্ষার্থী রাহাত বলে, বৃষ্টি হলে ১০-১৫ দিন পর্যন্ত স্কুলে যেতে পারি না। খেলাধুলাও করা যায় না। আমরা চাই এই সমস্যার একটা সমাধান হোক।

 

 

মোছা. হাশমত আরা নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, বৃষ্টি হলে কোমর পানি হয়। রান্নাবান্না করা যায় না। আমার স্বামী নাইট গার্ড। অন্য কোথাও গিয়ে থাকার সামর্থ্য আমাদের নেই।

 

 

স্থানীয় মুদি দোকানদার শমসের আলী বলেন, পানির গন্ধে দোকানে বসা কষ্ট হয়ে যায়। এভাবে কতদিন চলবে বুঝতে পারছি না।

 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, মুকন্দগাতী, চন্দনগাতী, কামারপাড়া ও শেরনগরের বিভিন্ন এলাকার ড্রেনের পানি এসে এই এলাকায় জমা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি প্রসেস মিলের বর্জ্যপানিও এখানে এসে পড়ছে।

 

 

তিনি বলেন, সঠিকভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে পানি বের করার ব্যবস্থা করলে হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি কমবে।

 

 

তিনি অভিযোগ করেন, মাসখানেক আগে পৌরসভার উদ্যোগে এলাকায় লাখ লাখ  টাকা একটি নালা খনন করা হলেও তাতে কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি।

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সমস্যাটি চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ ও মশার যন্ত্রণা নিয়েই দিন কাটছে শেরনগরের মানুষের।

 

 

বেলকুচি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন,পানি নিস্কাসনের জন্য পৌরসভার রাজস্ব তহবিল থেকে খাল খননের জন্য ১ কিলোমিটার কাজ শুরু করা হয়েছে। ৩শত মিটার খাল খনন শেষ হয়েছে। কিছু জটিলতার কারণে বাকি কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। জটিলতা শেষ হলে ৭শত মিটার খাল খনন পর্যায়ক্রমে শেষ করা হবে। পানি নিস্কাসনের জন্য মার্স্টার ড্রেন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ১ কিলোমিটার খাল খননে কত টাকা বাজেট হয়েছে জানতে চাইলে বলেন, ১৫-১৮ লাখ টাকার মতো হবে। তবে তিনি অফিসিয়ালি টাকার পরিমাণ  সুনির্দিষ্ট করে জানায়নি।

 

 

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক আফরিন জাহান  জানান, বিষয়টি পৌরসভা  গুরুত্ব সহকারে দেখছে। এটার অংশ হিসেবে শেরনগর খাল/নালা খনন/সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া সহ নানাবিধ কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও তার আংশিক বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু করেছে। বর্তমান পৌর প্রশাসক কর্তৃক কয়েকবার সরেজমিনে শেরনগর এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান,  প্রসেস মিলের বর্জ্য পানি  বন্ধে পৌরসভা নিয়মিত মনিটরিং সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গের সাথে পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছে। ঈদের পূর্বে ড্রেন পরিস্কার সহ রুটিন কাজ চলবে। এছাড়া জরুরী পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনে পাম্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন করা হবে।বেলকুচি পৌরসভা এলাকায় মাস্টার ড্রেন না থাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এমপি মহোদয়ের সাথে পরামর্শক্রমে শেরনগর ব্রীজ থেকে ক্ষিদ্রমাটিয়া স্লুইসগেট  পর্যন্ত একটি মাস্টার ড্রেন প্রকল্প খুব দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া হয়, যাপ্রক্রিয়াধীন আছে।

 

মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষায় মোরশেদ

জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার এক পরীক্ষার্থী। একদিকে জন্মদাত্রী মায়ের চিরবিদায়ের স্তব্ধতা, অন্যদিকে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াই। সব শোক বুকে চেপে, বাড়িতে মায়ের মৃতদেহ রেখে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মোরশেদ প্রামানিক নামের এক বুকভাঙ্গা কিশোর।

​শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাতে মায়ের মৃত্যুর পর, আজ রবিবার (১৭ মে) সকালে ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাধারণ বিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। মোরশেদের এই অদম্য মানসিকতা এবং দায়িত্ববোধ উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ পুরো এলাকায় এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের মাটিহাঁস গ্রামের মহসিন আলী প্রামানিকের ছেলে মোরশেদ প্রামানিক। সে বিনাই জসীমউদ্দীন মেমোরিয়াল বিদ্যানিকেতনের ছাত্র। তার মা আছমা বিবি পারুল (৪৩) দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শনিবার রাত ২টার দিকে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

​মায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারে যখন মাতম চলছে, তখন নিজের ভবিষ্যৎ আর কর্তব্যের টানে অশ্রুভেজা চোখে পরীক্ষার হলের দিকে রওনা হয় মোরশেদ। সকাল ৯ টায় নির্ধারিত সময়ে ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাধারণ বিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নেয় সে।

​ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রের হল সুপার  মো. আবু তাহের আকন্দ জানান, মোরশেদের চোখে-মুখে মায়ের হারানোর স্পষ্ট ছাপ ছিল। তবে সে অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে পরীক্ষা শেষ করেছে। তার এই কঠিন সময়ে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের মানসিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

​মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে মোরশেদের পরীক্ষায় বসার খবর ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠী এবং স্থানীয়দের মাঝে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। গ্রামের বাসিন্দারা জানান, জীবনের এত বড় বিপদেও মোরশেদ যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা সত্যিই অভাবনীয়।

​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মোরশেদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আজ দুপুরের দিকে জানাজা শেষে তার মায়ের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

 

শাহজাদপুরে ডাকাতের রক্তমাখা চিঠি: পুলিশ সুপার  ঘটনাস্থল পরিদর্শন

সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরে ডাকাত দলের নামে উড়ো চিঠি ছড়িয়ে এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে  এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শাহজাদপুর থানাধীন গাড়াদহ ইউনিয়নের অন্তর্গত টেকুয়াপাড়া গ্রাম পরিদর্শন করেন সিরাজগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মো: সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম (বার) মহোদয়।
পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার মহোদয় স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। তিনি জানান, জেলা পুলিশ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, রাত্রীকালীন টহল জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। একইসাথে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করতে জেলা পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সকলকে সন্দেহজনক তথ্য দ্রুত নিকটস্থ থানা অথবা পুলিশ কন্ট্রোলরুম, সিরাজগঞ্জকে জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে।
এ সময় সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের সকল ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা, শাহজাদপুর সার্কেল অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমান শাহজাদপুর থানা ভারপ্রাপ্ত ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম  উপস্থিত ছিলেন।

 

 

তারেক রহমানের প্রতি জনগণের আস্থা রয়েছে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

 

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, বেহেশতের টিকিট বিক্রিকারীদের ভাওতাবাজির প্রতি আস্থা না রেখে দেশের জনগণ আস্থা রেখেছে তারেক রহমান ও বিএনপির ইশতেহারের প্রতি। আর তারেক রহমান একের পর এক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চর বেতাগৈর ইউনিয়নের চর ভেলামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ফ্যামেলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

তিনি বলেন, দেশের নারীদের জীবনমান উন্নয়ন, পারিবারিক নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে চালু করা হয়েছে ‘ফ্যামেলি কার্ড’ কর্মসূচি। এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে সমাজের অসচ্ছল পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চাঁদপুর থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ২০টি জেলায় একযোগে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

 

প্রতিমন্ত্রী সুবিধাভোগীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ফ্যামেলি কার্ডের মাধ্যমে যে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, সেই অর্থ অবশ্যই পরিবারের প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করবেন। পাশাপাশি কিছু টাকা সঞ্চয় রাখবেন, যাতে ভবিষ্যতের যেকোনো দুর্যোগ বা বিপদে তা কাজে লাগে।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, দালালচক্র বা ঘুষ লেনদেন বরদাশত করা হবে না। কার্ড পাওয়ার জন্য কাউকে টাকা দেবেন না বা কোনো দালালের কাছে যাবেন না। প্রকৃত প্রাপকদের কাছেই সরকার এই সহায়তা পৌঁছে দেবে।’

 

 

 

চর বেতাগৈর ইউনিয়নের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘এই ইউনিয়নের মানুষ আমাকে সবচেয়ে বেশি ভোট দিয়েছে। তাই সবার আগে এই এলাকার মানুষের জন্য সামান্য উপহার নিয়ে এসেছি। ভবিষ্যতেও উন্নয়ন ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

 

 

 

অনুষ্ঠানে চর বেতাগৈর ইউনিয়নের ৭৩০ জন নারীর মাঝে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ করা হয়। উদ্বোধনের পরপরই সুবিধাভোগীদের মোবাইল ফোনে সহায়তা প্রাপ্তির বার্তা পৌঁছে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

 

 

এসময় উপস্থিত ছিলেনজেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাতসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

 

 

স্বাস্থ্য খাতে বাড়ছে অনিরাপত্তা, শঙ্কায় কর্মীরা

 

দেশের স্বাস্থ্য খাতে চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। স্বাস্থ্য প্রশাসন থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল—সবখানেই চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আতঙ্কে রয়েছেন। কোথাও রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে হামলা চালিয়ে চিকিৎসকের মাথা থেঁতলে দেওয়া হচ্ছে, কোথাও হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে—এমনকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালককেও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় দেশের স্বাস্থ্য খাতে অজানা শঙ্কা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

 

 

 

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যদি সারাক্ষণ শারীরিক নির্যাতন, অপমান বা হামলার আশঙ্কায় থাকেন, তাহলে স্বাভাবিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে জেলা-উপজেলা হাসপাতাল কিংবা মেডিকেল কলেজ পর্যায়ে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে থাকলে স্বাস্থ্যসেবার পুরো ব্যবস্থাই বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

 

 

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে চিকিৎসকদের সুরক্ষা এবং চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ মোকাবিলায় এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর আইন নেই। বর্তমানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন এবং দণ্ডবিধির কিছু সাধারণ ধারার মাধ্যমে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এসব আইনে চিকিৎসক ও রোগী—উভয় পক্ষের অধিকার ও সুরক্ষা স্পষ্ট নয়।

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি করা সম্ভব হবে না। কারণ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আতঙ্কে থেকে সঠিকভাবে রোগীসেবা ও চিকিৎসা প্রদানে ব্যর্থ হবেন। যার প্রভাব পড়বে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর। তিনি বলেন, এর আগে একটি আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আইন থাকলে তার প্রয়োগ করা যেত। যেহেতু আইন নেই, তাই রোগী, চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান—কোনোটির নিরাপত্তাই নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতো চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের পরিস্থিতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

 

জানা গেছে, চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ‘স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছিল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অন্তত তিন দফা এ-সংক্রান্ত আইনের খসড়া তৈরি ও সংশোধন করা হয়। সর্বশেষ ২০২৩ সালে একটি খসড়া প্রাথমিক অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও সেটি আর আলোর মুখ দেখেনি।

 

 

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চিকিৎসকদের সুরক্ষা নয়, চিকিৎসা অবহেলায় রোগীদের প্রতিকার পাওয়ার বিষয়টিও আইনে সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। গত বছরের ১৩ মার্চ তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান গণমাধ্যমে বলেছিলেন, দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন চূড়ান্ত হবে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই আইন আলোর মুখ দেখেনি।

 

 

 

সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. জাহিদ রায়হানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। রাজধানীর মহাখালী এলাকায় হাসপাতালকেন্দ্রিক সন্ত্রাসী তৎপরতা ও চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার পর তার কার্যালয়ে এ হুমকিপত্র পৌঁছায়। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

 

 

 

এদিকে শনিবার রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) সহকারী পরিচালকের কক্ষে ঢুকে অস্ত্রের মুখে হুমকি দেয় স্থানীয় একদল যুবক।

 

 

 

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আউটসোর্সিং নিয়োগে নিজেদের লোক নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে তারা এ ঘটনা ঘটায়। দুপুরের দিকে সহকারী পরিচালক ডা. রাশেদের কক্ষে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

 

 

হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, কয়েকজন যুবক সহকারী পরিচালকের কক্ষে ঢুকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে এবং অস্ত্র প্রদর্শন করে হুমকি দেয়। তারা সরাসরি বলে, তাদের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে। অন্যথায় বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে। শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

অন্যদিকে হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার গভীর রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত চিকিৎসক নাসির ইসলামকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠাতে হয়েছে।

 

 

 

 

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার বিলাশখান এলাকার লাল মিয়া কাজী বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে স্বজনরা লিখিত অঙ্গীকার দিয়ে হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে চান। কিছু সময় পর রোগীর মৃত্যু হলে চিকিৎসক দেরিতে এসেছেন—এমন অভিযোগ তুলে স্বজনরা জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালান। একপর্যায়ে দায়িত্বরত চিকিৎসক নাসির ইসলামকে ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।

 

 

 

 

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মিতু আক্তার বলেন, আহত চিকিৎসককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে গত ২০ এপ্রিল রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আহমদ হোসেনের ওপর হামলার ঘটনাও দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

 

 

 

 

র্যাব জানিয়েছে, হাসপাতালের ঠিকাদারি কাজ নিয়ে বিরোধের জেরে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে তার ওপর হামলা চালানো হয়। মহাখালী এলাকায় হাঁটার সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। এ ঘটনায় মূল হামলাকারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

 

 

 

স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একের পর এক হামলা, হুমকি ও প্রভাব বিস্তারের ঘটনায় চিকিৎসক সমাজের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসী প্রভাবমুক্ত রেখে দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা গেলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও বড় সংকটে পড়বে।

 

 

 

 

সামগ্রিক বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি, যা অনেকেই মেনে নিতে পারছে না। ফলে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তার পেছনে মূলত টেন্ডার ও আউটসোর্সিং বাণিজ্য রয়েছে। টেন্ডারে যারা সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে, তাদের কাজ দিতে গেলে অন্য গ্রুপ সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে। আবার আউটসোর্সিংয়ের ঠিকাদাররা হাসপাতালে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এদের কথায় সব করতে হবে।

 

 

 

 

মন্ত্রী বলেন, এসব হুমকি দিয়ে আমাদের ভালো কাজ থামিয়ে দেওয়া যাবে না। আমি থেমে নেই। আমরা আউটসোর্সিং পদ্ধতি বাতিল করে দেব। এ ছাড়া এখন থেকে সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় সিভিল ড্রেসে র্যাব পাহারায় থাকবে।

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

জলঢাকায় কালভার্টের বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষিমাড়াই দক্ষিণ পাড়া এলাকায় একটি কালভার্টের বেহাল অবস্থার কারণে জনসাধারণের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় হাজার হাজার মানুষের বসবাস। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক-কৃষাণীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কালভার্টটির অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা শ্রী গজেন চন্দ্র, রতন চন্দ্র রায়, হরি রায়, জ্যোতিষ রায়, স্বপন রায় ও মনসের আলীসহ অনেকেই বলেন, কালভার্টটির বেহাল অবস্থার কারণে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করতেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, দ্রুত সংস্কার কাজ না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাই উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করে কালভার্টটি দ্রুত সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের চার কমিটি

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সিরাজগঞ্জ জেলা, সদর উপজেলা, পৌর ও সরকারি কলেজ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত পত্রে ১ বছরের জন্য এসব কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে চারটি অনুমোদিত কমিটির তালিকা দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

রবিউল ইসলাম রুবেলকে সভাপতি ও আল-আমিন খানকে সাধারণ সম্পাদক করে ৮৯ সদস্য বিশিষ্ট সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ, রেজাউল করিম রাব্বীকে সভাপতি ও মো. রাসেল শেখ আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট সদর উপজেলা ছাত্রলীগ, মো. সিপন হাসান কাব্যকে সভাপতি ও আলামিন সরকার হিমেলকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট পৌর ছাত্রলীগ এবং মো. জীবন শেখকে সভাপতি ও জিম আহমেদ আকাশকে সাধারণ সম্পাদক করে ২২ সদস্য বিশিষ্ট সিরাজগঞ্জ সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

 

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বেরোবির সাবেক ভিসি গ্রেপ্তার

 

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দীন তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আজ সন্ধ্যায় তাকে মোম্মাদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ৯ এপ্রিল আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বেরোবির সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

 

রায়ে আদালত শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন।

 

 

 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন- পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনই গ্রেপ্তার আছেন।

 

 

 

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিন আসামিও পুলিশের সাবেক সদস্য। তারা হলেন- সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক উপ-পরিদর্শক এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়। তারা পলাতক। এছাড়া রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারাও পলাতক।

 

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেলকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমানকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাফিউল গ্রেপ্তার আছেন। হাফিজুর রহমান বর্তমানে পলাতক। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক।

 

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডলকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, সাবেক নিরাপত্তাপ্রহরী নুর আলম মিয়াকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মাহাবুবার রহমানকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাবেক এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা সবাই পলাতক।

 

 

 

 

রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক।আরপিএমপির সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেনকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটোয়ারীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা দুজনই পলাতক।

 

 

 

এই মামলার আসামি পলাতক চিকিৎসক মো. সরোয়ার হোসেনকে (চন্দন) পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে পলাতক।

 

 

 

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাফুজুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. ফজলে রাব্বি, সহসভাপতি মো. আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ও দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেনকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই পলাতক।

 

 

 

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদুল হাসানকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক। ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি কারাগারে আছেন।

 

 

আগামী ৮ বছরে কোনো প্রতিবন্ধী ভাতার বাইরে থাকবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আগামী ৮ বছরের মধ্যে দেশের কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সরকারি ভাতার বাইরে থাকবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, আগামী জুলাই মাস থেকে প্রতিবন্ধীদের তালিকাভুক্ত করে ভাতার আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু করা হবে। তিনি বলেন, যেসব পরিবারে প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে, তাদের দ্রুত নাম জমা দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে বলেছিলাম বেহেশতের টিকিট দেব না। এমন কিছু দেব, যা এই দুনিয়াতে মানুষের কল্যাণে কাজে আসবে। সেই লক্ষ্যেই আমরা ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছি।”

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বছরে মোট ৩০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। এতে পরিবারের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উপস্থিত নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের আত্মনির্ভরশীল করার চেষ্টা চলছে, যাতে তারা পরিবারের দায়িত্ব আরও ভালোভাবে পালন করতে পারেন।

তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে এক লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং নিরাপদ প্রসব সেবা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ উদ্বোধন করা হয়। নরসিংদীর বিন্নাবাইদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৬৬ জন উপকারভোগীর মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

হোসেনপুরে ভাঙা কালভার্টে জনদুর্ভোগ

‎কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা থেকে পাকুন্দিয়া উপজেলার কোদালিয়া হয়ে পুলেরঘাট অভিমুখী গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ঠাডারকান্দা বাজার সংলগ্ন কালভার্টটি মাঝখান থেকে ভেঙে পড়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।

 

 


‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন চলাচল করে। এছাড়াও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা কালভার্ট পার হতে হচ্ছে। সামান্য অসাবধানতাতেই ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

 

 


‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কালভার্টটির মাঝখানের অংশ ধসে পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এলাকাবাসী সাময়িকভাবে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধানের অভাবে দিন দিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও বিরাজ করছে আতঙ্ক যেকোনো মুহুর্তে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।

 

 


‎বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত ও পানির স্রোতে কালভার্টের অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

 

 


‎স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত ভাঙা কালভার্টটি সংস্কার অথবা নতুন করে একটি টেকসই কালভার্ট নির্মাণ করা হোক। তাদের ভাষ্য, হোসেনপুর ও পাকুন্দিয়া উপজেলার মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক এটি। তাই দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

 

 


‎শাহেদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ উদ্দিন বলেন,সংশ্লিষ্টদের বারবার বিষয়টি অবহিত করেছি আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।

 

 


‎এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস জানান, সেখানে নতুন একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আপাতত দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

 

 

নরসিংদীতে একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিলেন প্রসূতি মা

নরসিংদীতে অস্ত্রোপচারের (সিজারিয়ান) মাধ্যমে একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন মর্জিনা বেগম (২২) নামের এক প্রসূতি মা।

 

 

 

 

শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে জেলা শহরের পায়রা চত্ত্বরে অবস্থিত একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। একসঙ্গে তিন সন্তান জন্মের খবরে হাসপাতাল চত্বর ও স্বজনদের মাঝে আনন্দের সৃষ্টি হয়।

 

 

 

 

নবজাতকদের দুজন ছেলে এবং একজন মেয়ে। বর্তমানে মা ও তাঁর তিন নবজাতক সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

 

 

 

 

প্রসূতির বাবা আব্দুল হেকিম বলেন, প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম অনেক। পরে যখন শুনলাম আমার মেয়ের ২ ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তান হয়েছে, অনেক খুশি হয়েছি। পরিবারের সবাই অনেক খুশি। আমার মেয়ে এবং তার সন্তানেরা আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে।

 

 

 

 

ক্লিনিকের পরিচালক আরিফুল ইসলাম আবির জানান, শুক্রবার দুপুরে মর্জিনা নামের ওই প্রসূতি নারীর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনটি শিশুর জন্ম হয়। বর্তমানে মা ও সন্তানদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গাইনী সার্জন ডা. সুমাইয়া আজরীন অস্ত্রোপচারটি করেন।

 

 

 

তিনি জানান, মা ও তিন নবজাতকই সুস্থ আছে। এমন অপারেশন কিছুটা জটিল হলেও তা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

 

ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ১০ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ১০ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিজিবি।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) বিজিবি ও বিএসএফ’র মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটকদের হালুয়াঘাট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

 

 

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, আটকরা পাসপোর্ট বা কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে মেঘালয় পুলিশ তাদের আটক করে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ করা হয়। সকাল ৬টায় হালুয়াঘাট সীমান্তের মেইন পিলার ১১২০-এর নিকটবর্তী ধোপাঝুড়ি নামক স্থানে বিজিবি এবং ২২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিএসএফ আটককৃত ১০ বাংলাদেশিকে তেলিখালী বিজিবি ক্যাম্পের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করে।

 

 

আটকরা হলেন- রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা মো. মুক্তার হোসেন, মো. শাহজামাল হক, মো. আনিছুর রহমান, মো. কামাল হোসেন, শ্রী সিপেন, মো. ইব্রাহিম আলী, মো. নওশাদ আলী, মো. আকবর আলী, মো. জহিরুল ইসলাম এবং মো. শাকিম উদ্দিন।

 

অবৈধ অনুপ্রবেশের এই ঘটনায় ৩৯ বিজিবির অন্তর্গত তেলিখালী বিওপির নায়েব সুবেদার মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে হালুয়াঘাট থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পাসপোর্ট আদেশ, ১৯৭৩-এর ১১(১)(ক) ধারা অনুযায়ী অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

 

 

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

 

দরিদ্রদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে সরকার : অর্থমন্ত্রী

 

সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করবে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

 

 

তিনি বলেছেন, সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা করা হবে যার মাধ্যমে রোগীরা সেখানে চিকিৎসা নিলে ব্যয় সরকার বহন করবে।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি দেশের স্বাস্থ্যখাতে বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পাশাপাশি তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

 

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার দাবি করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমান সরকার ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজ করছে।

 

বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া সুবিধা, ডিজিটাল লাইব্রেরি, খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।

 

 

বাংলাদেশে মেডিকেল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ঘাটতি আছে। দক্ষ জনবলের অভাবে কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

 

 

 

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ভবনটির নকশায় পার্কিং সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। ভবনের প্রস্তাবিত নকশায় ৭২টি গাড়ি পার্কিং সুবিধা অপর্যাপ্ত এবং কমপক্ষে ২০০ থেকে ২৫০টি পার্কিং সুবিধা রাখা উচিত।

 

 

রাণীনগরে ঘুমন্ত গৃহবধূর শয়নকক্ষে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টা, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি গ্রেপ্তার

 

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় গভীর রাতে ঘুমন্ত এক গৃহবধূর শয়নকক্ষে অনুপ্রবেশ করে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) রাতে এই ঘটনায় স্থানীয়রা অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে ভুক্তভোগী গৃহবধূর দায়ের করা মামলায় পুলিশ গোলাম রব্বানী (৫০) নামের এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রিকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার গোলাম রব্বানী উপজেলার কচুয়া গ্রামের রহিম উদ্দীন প্রামানিকের ছেলে। শুক্রবার রাতেই লোহাচুড়িয়া গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই গৃহবধূ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এই সুযোগে গোলাম রব্বানী শয়নকক্ষে প্রবেশ করে তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। গৃহবধূর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে হাতেনাতে আটক করেন। ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল জানান, ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি গোলাম রব্বানীকে গ্রেপ্তার করে শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সেনবাগে ৩৮৮ পরিবারের মাঝে “ফ্যামিলি কার্ড” বিতরণ

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ৩৮৮টি সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে “ফ্যামিলি কার্ড” বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে ) বিকেল ৪টায় ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এ উপলক্ষে সেনবাগ উপজেলা মডেল মসজিদ অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়নুল আবেদিন ফারুক।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, টিএম মোশাররফ হোসেন এবং সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহসিয়া তাবাসসুম।
অনুষ্ঠানে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে উপকারভোগী ৩৮৮ পরিবারের সদস্যদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে “ফ্যামিলি কার্ড” তুলে দেওয়া হয়।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর মাঝে সহায়তা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ডাকাতি করা গরুর মাংস সরবরাহ হতো ঢাকার সুপারশপে

 

সিরাজগঞ্জ থেকে ডাকাতি করা গরু জবাইয়ের পর মাংস ঢাকার বিভিন্ন সুপারশপে সরবরাহ করা হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রায় এক বছর আগে সংঘটিত গরু ডাকাতির একটি মামলার তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

 

 

 

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে কোন কোন সুপারশপে ওই মাংস সরবরাহ করা হতো, তা প্রকাশ করেনি পুলিশ।

 

 

 

শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আসলাম।

 

 

 

গ্রেপ্তাররা হলেন মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা গ্রামের মো. আব্দুল্লাহর ছেলে রিপন ওরফে হাসান, ঢাকার আশুলিয়া উপজেলার এনায়েতপুরের জুলমত খানের ছেলে জিয়া হোসেন এবং পাবনার বেড়া উপজেলার মোহনগঞ্জ গ্রামের গোলজার সেখের ছেলে আব্দুল আলিম।

 

 

 

পুলিশের দাবি, জিয়া হোসেন ঢাকার বিভিন্ন সুপারশপে মাংস সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার সঙ্গে আব্দুল আলিম সহযোগী কসাই হিসেবে কাজ করতেন।

 

 

 

পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আমানুল্লাহ উত্তরাঞ্চল থেকে ১৪টি ষাঁড় কিনে পিকআপভ্যানে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। রাতে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কের সলঙ্গা এলাকায় ডাকাত দল ট্রাক দিয়ে পিকআপটির গতিরোধ করে। পরে চালক, সহকারী ও গরুর রাখালদের হাত-পা বেঁধে গরুগুলো নিজেদের ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন ওই ব্যবসায়ী।

 

 

 

ওসি আলী আসলাম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার রিপন ওরফে হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ডাকাতির গরু জবাই, মাংস বিক্রি এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিষয়ে জবানবন্দি দেন। সলঙ্গা থানা আমলি আদালতের বিচারক ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে রিপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়া এলাকা থেকে জিয়া হোসেন ও আব্দুল আলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

এদিকে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে গবাদি পশু লুটের আশঙ্কা বেড়েছে। যমুনা নদীর দুর্গম চরের চৌহালী উপজেলার ঘোরজান ইউনিয়নের মুরাদপুর কাউনিয়ার চরে গত বছরের ২০ মে গো-খামারি তারা মিয়াকে হত্যা করে গবাদি পশু লুটের ঘটনা ঘটে। আলোচিত ওই মামলার তদন্তেও সংঘবদ্ধ গরু ডাকাত চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

 

 

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক এসআই সারফুল ইসলাম বলেন, তারা মিয়া হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের কালিহাতী এলাকার গফুর ও তার ছেলে গিয়াস উদ্দিনসহ আরও ১৪ আসামি পলাতক রয়েছেন। আগামী সপ্তাহে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

 

অন্যদিকে গরু চুরি ও ডাকাতি ঠেকাতে সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সহায়তায় রাতভর পাহারা দিচ্ছেন খামারি ও স্থানীয়রা। সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নেও ঈদ সামনে রেখে গবাদি পশুর চুরি হওয়ার আশঙ্কায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী।

 

 

 

বহুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন বলেন, অপরিচিত গাড়ি, ট্রাক, পিকআপভ্যান ও বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোই পাহারার মূল লক্ষ্য।

 

 

অভিনয় ছাড়িয়ে এবার নির্মাণে হাত দিতে চান দীঘি

শিশুশিল্পী হিসেবেই সিনেমায় আসেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। তবে এখন তিনি পূর্ণাঙ্গ নায়িকা। শিশুশিল্পী থাকাকালেই তিনি বেশ জনপ্রিয়তা পান। একাধিক সিনেমায় তিনি জনপ্রিয় সব নায়কের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। সে ধারাবাহিকতায় শাকিব খানের সঙ্গেও ‘চাচ্চু’ সিনেমায় কাজ করেছেন এ অভিনেত্রী। সিনেমায় শাকিবকে চাচ্চু বলেই ডাকতেন। আজও দীঘি শাকিব খানকে পর্দার বাইরে সেই স্থানেই রেখেছেন।

 

 

 

একবার গণমাধ্যমে এ বিষয়ে দীঘি বলেছিলেন, কখনও শাকিবের নায়িকা হিসেবে অভিনয় করতে চান না তিনি। এবার তিনি জানালেন, সময় ও সুযোগ হলে শাকিব খানের একটি ভিন্নধর্মী সাক্ষাৎকার নিতে চান।

 

 

 

সম্প্রতি তিনি অতিথি হয়েছিলেন পডকাস্ট শো ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’তে। রুম্মান রশীদ খানের সঞ্চালনায় এই পডকাস্টে দীঘি বলেন, যেহেতু একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগে তিনি পড়ছেন, সেই সূত্র ধরেই এক দিনের জন্য হলেও সাংবাদিকতা করতে চান তিনি।

সঞ্চালকের প্রশ্নে অভিনেত্রী আরও জানান, অনেকদিন ধরেই তার ইচ্ছা শাকিব খানের সাক্ষাৎকার নেওয়ার; যে সাক্ষাৎকার কিছুটা ভিন্নধর্মী হবে। এক দিনের জন্য হলেও ক্যামেরার পেছনে কাজ করতে চান তিনি।

১২০ মিনিটের পডকাস্টে দীঘি খোলামেলা অনেক কথা বলেছেন, তাকে ঘিরে বিভিন্ন কৌতূহল ও সমালোচনার উত্তর দিয়েছেন। জানিয়েছেন, পরিচালক হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে তার। চিত্রপরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, রায়হান রাফী, জয়া আহসান, পূজা চেরী, তৌহিদ আফ্রিদিকে নিয়েও এই শোতে দীঘি এবার এমন কিছু বলেছেন, যা আগে কখনো বলেননি। গতকাল রাতেই এটি মাছরাঙা টিভিতে প্রচার হয়েছে।

 

 

আমরা শুধু স্বপ্ন দেখতে চাই না, পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকে থেকে আমাদের কাজ হবে একটাই, সেটা হচ্ছে দেশ গঠন, রাষ্ট্র পুনর্গঠন। এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা। আমরা শুধু স্বপ্ন দেখতে চাই না, আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই। যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের উপকার হবে।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারের খোর্দ্দ খাল পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে এ আহ্বান জানান তিনি।

 

 

 

তারেক রহমান বলেন, আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই। যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে ও দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ৪৮ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করে দিয়ে গিয়েছিলেন, সেই খাল পুনর্খননের এ অনুষ্ঠান। আসুন আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা করি, কী প্রতিজ্ঞা? সেটা হচ্ছে- দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা।

বিএনপি জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে যে সকল প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আগামীতে সকল প্রতিশ্রুতি আস্তে আস্তে বাস্তবায়ন করব।

তিনি বলেন, আমরা যারা বিএনপি করি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল করি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দল করেছি, আমরা সবাই বলি- জনগণই হচ্ছে আমাদের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। আপনাদের শক্তিই আমাদের শক্তি। আপনারা যতক্ষণ আমাদের পাশে থাকবেন, যতক্ষণ সমর্থন থাকবে, আমাদের দেশ গড়ার কাজ ইনশাআল্লাহ চলতে থাকবে।

 

 

 

দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আজকে এ খাল কাটা অনুষ্ঠানে আসুন আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক, আমাদের শপথ হোক যে- ‘আমরা করবো কাজ, সবার আগে বাংলাদেশ।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কাজে বিশ্বাসী, কথায় নয়। আজ আপনারা আমাদের ক্ষমতায় এনেছেন। এবার আপনাদের প্রতি নির্বাচনপূর্ব যে সমস্ত ওয়াদা দিয়েছি, তা এক এক করে বাস্তবায়ন শুরু করছি। ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, কৃষকদের কৃষি কার্ড প্রদান কর্মসূচি শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে আপনাদের দেওয়া সকল ওয়াদা পূরণ করা হবে।

 

 

 

তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে এবং দেশের খাদ্য সংকট নিরসন ও অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটাতে সমগ্র দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।

 

 

 

এর আগে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারের ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনর্খননস্থলে পৌঁছে ফলক উন্মোচন করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

ফলক উন্মোচনের পরে খালের তীরে নেমে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন তিনি। পরে খালের তীরে বৃক্ষরোপণ করেন।

 

 

 

চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, শিক্ষামন্ত্রী আ.ন.ম এহসানুল হক মিলন।

 

 

 

খোর্দ্দ খালটি ১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম খনন করে ছিলেন। ১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য খালটি ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। তৎকালীন সময়ে এ খালের পানি দিয়ে কৃষকরা সোনালী ফসল ফলাতো। দীর্ঘ ৪২ বছর পর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানে সন্তান বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালটি পুনর্খনন কাজ শুরু করায় আবার এ এলাকার কৃষকরা খুশি।

 

জাপানের কর্মী ভিসা স্থগিত, বাড়ছে শ্রমিক সংকটের শঙ্কা

 

বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মভিসা স্থগিত করায় শ্রমিক সংকট নিয়ে উদ্বেগে পড়েছে জাপানের রেস্তোরাঁ শিল্প। দেশটির সংবাদমাধ্যম কিয়োদো নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

 

 

 

স্থগিতাদেশটি “টাইপ-১ স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার” ভিসার ওপর প্রযোজ্য। জাপানে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি কর্মী নিয়োগে এই ভিসা ব্যবহার করে আসছে।

 

 

 

প্রাথমিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খাদ্যসেবা খাতে এই ভিসার আওতায় বিদেশি কর্মীর সংখ্যা বেড়ে ৪৬ হাজারে পৌঁছেছে। অথচ ২০২৮ অর্থবছর পর্যন্ত নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা ৫০ হাজার।

 

 

এতে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, বিদেশি কর্মীরা জাপানে কাজের পরিকল্পনা বাতিল করে অন্য দেশে চলে যেতে পারেন।

 

বড় রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠান স্কাইলার্ক হোল্ডিংস এবং মোস ফুড সার্ভিসেস জানিয়েছে, নতুন বিধিনিষেধ তাদের কর্মী নিয়োগ, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও রেস্তোরাঁ পরিচালনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

 

 

শিল্পসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোও সতর্ক করেছে, বৈধ ভিসাধারী কর্মীদের জন্য নিয়োগদাতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে। একই সঙ্গে বিদেশি শ্রমিকদের কাছে জাপানের আকর্ষণ কমে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

 

 

 

কম জন্মহার ও বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে জাপানে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমছে। কঠোর অভিবাসন নীতি থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি ক্রমশ বিদেশি শ্রমশক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে।

 

 

ফুটবলের রাজা মেসি, কি সত্যিই বিদায় নিচ্ছেন বিশ্বকাপ থেকে?

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ খেলতে যাবে আলবিসেলেস্তেরা। ইতোমধ্যেই ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দল জমা দিয়েছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এখন অপেক্ষা চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণার, যা ঠিক করবেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।

 

 

শুক্রবার (১৫ মে) কনমেবলের এক সাক্ষাৎকারে আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস, ২০২২ এর বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি এবং লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন স্কালোনি।

 

 

 

আর্জেন্টিনার কোচ বলেন, ‘বিশ্বকাপ খুব কঠিন একটি প্রতিযোগিতা। শুধু ভালো খেললেই হয় না, আরও অনেক কিছু ঠিকঠাক হতে হয়। আমরা সবসময় যেমন চেষ্টা করি, এবারও তেমনই সর্বোচ্চটা দিতে চাই। কারণ আর্জেন্টিনা প্রতিবার বিশ্বকাপে শিরোপার লক্ষ্য নিয়েই নামে। এটা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।’

আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির এটাই হতে তার সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ। এ প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘তাকে (মেসি) খেলতে দেখা দারুণ ব্যাপার। এটা তার শেষ বিশ্বকাপ কি না, সেটা নিয়ে আমি ভাবতে চাই না। আমি বর্তমানটা উপভোগ করতে চাই। সবাই তাকে খেলতে দেখতে চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই সে খেলতে থাকুক। কারণ যখন এমন কিংবদন্তিরা আর মাঠে থাকে না, তখন খারাপ লাগে, যেমনটা দিয়েগো ম্যারাডোনার ক্ষেত্রে হয়েছিল। তারা ফুটবল ইতিহাসের অংশ। মেসি আর খেলবে না, এটা ভাবতেই মন খারাপ হয়। তাই আমি বর্তমান নিয়েই থাকতে চাই।’

আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে স্কালোনির সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০২২ এর বিশ্বকাপ জয়। এছাড়াও দুটি কোপা আমেরিকা ও লা ফিনালিসিমার শিরোপাও আলবিসেলেস্তেদের এনে দিয়েছেন। দলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কিছুই ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিই না। তবে খেলোয়াড়দের যা বলার, খুব সংক্ষিপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোই বলি। কারণ অতিরিক্ত তথ্য দিলে তারা বিভ্রান্ত হয়ে যায়। আমরাও তো একসময় খেলোয়াড় ছিলাম, তাই জানি তাদের কী দরকার। আমরা সবসময় তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখি।’

 

ভাইকে বাঁচানোর চেষ্টায় প্রাণ হারালেন বড় ভাই

লালমনিরহাটের সদর উপজেলায় তিস্তা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে উপজেলার রাজপুর এলাকার তিস্তা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

 

তারা হলো- রাজাপুর গ্রামের রেজাউল করিম ও শিউলি বেগম দম্পতির বড় ছেলে এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র শেফাউল করিম সিফাত (১৮) ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্র শোয়েব করিম স্বচ্ছ (১৪)। দুজন জেলা শহরের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র ছিল।

 

 

 

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুই ভাই এক সঙ্গে তিস্তা নদীতে গোসল করতে নামে। গোসল করার একপর্যায়ে ছোট ভাই স্বচ্ছ পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। চোখের সামনে ছোট ভাইকে পানিতে ডুবতে দেখে বড় ভাই শিফাত তাকে বাঁচাতে যায়, কিন্তু খরস্রোতা তিস্তার প্রবল স্রোতে একপর্যায়ে দুজনই নিখোঁজ হয়ে যায়।

দুই ভাইকে খুঁজতে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আধঘণ্টা পর নদী থেকে দুই ভাইকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

লালমনিরহাট সদর থানার ওসি সাদ আহমেদ বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় সদর হাসপাতাল থেকেই দুই ভাইয়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

 

কারিনার মরদেহ দেশে পৌঁছাবে আগামীকাল

 

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের অকাল মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ দেশের শোবিজ অঙ্গন। প্রিয় এই তারকাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ব্যাকুল হয়ে আছেন তার সহকর্মী, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তবে সব ধরণের আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় শনিবার (১৬ মে) কারিনার মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তার বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার কায়সার হামিদ।

 

 

 

সংবাদ মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, রোববার (১৭ এপ্রিল) তার মরদেহ চেন্নাই থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছাবে।

 

 

 

গণমাধ্যমকে কায়সার হামিদ বলেন, প্রিজার্ভ সংক্রান্ত কিছু বিষয় আছে। সব প্রক্রিয়া শেষে আজ বেলা ৩টার ফ্লাইট ধরা সম্ভব নয়, তাই আগামীকাল রোববারের ফ্লাইটে চেন্নাই থেকে ঢাকায় আসবে ওরা।

বেশ কিছুদিন লিভারের জটিলতায় ভুগে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোর খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কারিনা কায়সার। তার বাবা জানান, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ ওর প্রেশার অনেক নিচে নেমে গেলে আর বাঁচানো সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হলেও পরে কারিনার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ এবং ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চেন্নাই নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকেরা ফুসফুসের সংক্রমণের চিকিৎসা ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

 

 

উল্লেখ্য, অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিত কারিনা কায়সার হামিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।

 

 

ইরানের নতুন সিদ্ধান্তে আলোচনায় হরমুজ প্রণালি

ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম ও প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। যুদ্ধ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের ওপর নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

 

 

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয় এই প্রণালির মাধ্যমে। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ নয়। তবে এটি ‘বন্ধু ও নিরপেক্ষ’ দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত থাকলেও, ‘শত্রু’ দেশগুলোর জন্য কার্যত বন্ধ থাকবে। খবর আল জাজিরার।

 

 

 

এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সম্প্রতি প্রণালিটির ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেকোনো জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানি কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে আইআরজিসির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

এ ছাড়া, প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজ, তেলবাহী ট্যাংকার ও অন্যান্য নৌযানের কাছ থেকে ট্রানজিট ফি আদায়ের বিষয়েও আলোচনা করছে ইরান।

সবশেষে ইরান জানিয়েছে, কোনো সামরিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হবে না।

 

 

জলাবদ্ধতায় পানির নিচে ৩ হাজার বিঘা পাকা ধান, চরম বিপাকে রায়গঞ্জের কৃষক

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৬:০৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
ভারী বৃষ্টি তে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ও ধুবিল ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমির পাকা ধান জলাবদ্ধতার কারণে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
 শনিবার (১৬ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কলিয়া, শ্রীরামপুর, গোপালপুর, পশ্চিম আটঘরিয়া, গোপীনাথপুর, চকদাদপুর, বাশাইল, রাজাপুর ও বোয়াইল মৌজার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতি বছরই এ দুর্ভোগ বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষক মঈনুল হক বলেন, “আমন মৌসুমে কোনো আবাদ করা যায় না। ইরি-বোরো চাষ করলেও শেষ পর্যন্ত ধান ঘরে তুলতে পারি না।”
আরেক কৃষক সাইফুল ইসলাম দুলাল জানান, “এক বিঘা জমির ধান কাটতে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত শ্রমিক মজুরি দিতে হয়। পানিতে ধান পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এ কারণে ধানের ব্যবসায়ীরাও ধান কিনতে চান না। বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করতে হয়।”
দিনমজুর কালু সেখ বলেন, হাঁটুসমান পানিতে নেমে ধান কাটতে গিয়ে শ্রমিকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় জোতদার আব্দুল কুদ্দুস সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অতি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ জরুরি। তা না হলে নতুন করে পুকুর খননের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান যে , রায়গঞ্জ উপজেলায় যে সকল স্খানে বর্ষা মৌসুমে সেগুলো তালিকাভুক্ত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে এবং বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই সেই জায়গাগুলোতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেছেন। এছাড়াও বিষয়টি উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভায় উপজেলা কৃষি অফিসার জোড়ালো তুলে ধরেছেন।
৬৪,সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হক বলেন, “আধুনিক পাইপলাইন ও স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু করা গেলে হাজারো কৃষক উপকৃত হবেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। আগামী মৌসুমের আগেই জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সক্রিয় হয়ে উঠছে মায়ন আগ্নেয়গিরি, দেখা দিয়েছে নতুন ভূকম্পন

ফিলিপাইনের মায়ন আগ্নেয়গিরিতে নতুন করে তীব্র অস্থিরতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কয়েক ডজন আগ্নেয় ভূমিকম্প ও কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিপাইনের আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা।

 

 

 

শনিবার আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে ফিলিপাইন আগ্নেয়গিরি ও ভূকম্পবিদ্যা ইনস্টিটিউটের (ফিভলক্স) বরাতে খবর প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরিটিতে ৫১টি আগ্নেয় ভূমিকম্প, ৩০টি আগ্নেয় কম্পন, শত শত শিলা ধস এবং ৬টি পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহের সংকেত শনাক্ত করা হয়েছে।

 

 

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগ্নেয়গিরির গহ্বর থেকে অব্যাহতভাবে লাভা বের হচ্ছে। লাভার প্রবাহ বাসুদ, বংগা ও মি-ইসি এলাকার দিকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু সময়ের জন্য লাভার ফোয়ারাও দেখা গেছে।

শুক্রবার আগ্নেয়গিরিটি থেকে ১ হাজার ৪৮২ টন সালফার ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় বেশি। এ সময় ধোঁয়ার স্তম্ভ দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

কর্তৃপক্ষ আগ্নেয়গিরির চারপাশের ৬ কিলোমিটার স্থায়ী বিপৎসীমায় প্রবেশ নিষিদ্ধ রেখেছে এবং ওই এলাকার কাছ দিয়ে বিমান চলাচল না করারও সতর্কতা দিয়েছে।

ফিভলক্স আশপাশের বাসিন্দাদের লাভা প্রবাহ, শিলা ধস, পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহ, মাঝারি বিস্ফোরণ এবং ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট কাদাপ্রবাহের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে।

 

ধর্ষণের শিকার নাতনিকে রক্ষা করতে গিয়ে খুন হলেন দাদি

সিলেটের গোয়াইনঘাটে রাতে ঘর থেকে নাতনিকে জোরপূর্বক তুলে নিতে বাধা দেওয়ায় দুর্বৃত্তের হামলায় দাদি নিহত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টা ও তাতে বাধা দেওয়ায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) রাত ৩টার দিকে উপজেলার ১ নং রুস্তুমপুর ইউনিয়নের বীরমঙ্গল হাওর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সকাল ১০টায় দিলারা বেগম (৫৪) নামে ওই দাদির মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

 

 

নিহত দিলারা বেগম (৫৪) উপজেলার বীরমঙ্গল হাওর গ্রামের মৃত মাহমুদ হোসেনের স্ত্রী। এ ঘটনায় কিশোরী ও তার মা গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা দুজনেই গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে ওই কিশোরীর অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে অজ্ঞাত তিন যুবক দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এসময় তারা কিশোরীর মুখ চেপে ধরে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিশোরীর চিৎকার শুনে তার মা এগিয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তার হাতে কামড় দেয়। এক পর্যায়ে কিশোরী চিৎকার করতে থাকলে তাকে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়।

 

মা ও মেয়ের চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে দাদি দিলারা বেগম বের হয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাকে বুকের ডান পাশে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

 

 

পার্শ্ববর্তী বাড়ির আলকাছ মিয়া শুভ জানান, জরাজীর্ণ একটি টিনের ঘরে নিহত দিলারা বেগম ও তার ৩০ বছরের প্রতিবন্ধী মেয়ে, নাতনিসহ ৫ জন বাড়িতে থাকেন। নিহতের দুই ছেলে ঋণ করে গত কয়েকমাস পূর্বে জীবিকার তাগিদে প্রবাসে যান। তিনি রাত তিনটার দিকে ওই বাড়িতে কান্নাকাটির আওয়াজ শুনতে পান। পর দৌড়ে পার্শ্ববর্তী বাড়ির লোকজনসহ গিয়ে দেখতে পান দিলারা বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। ওই সময় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সে মারা যান। এদিকে মেয়ে ও মেয়ের মা আহত অবস্থায় পরে আছে।

 

 

 

কিশোরীর মা জানান, হঠাৎ রাত ৩ টার দিকে ঘুম থেকে জেগে দেখেন দরজা খোলা। আকাশের বিজলীর আলোয় দেখতে পান এক ব্যক্তি তার মেয়ের ওপর চড়াও হয়ে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করছেন। বাধা দিলে ওই ব্যক্তি আমার মেয়েকে মুখ চেপে ধরে বাহিরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে বাধা দিতে গেলে ওই ব্যক্তি তার হাতে কামড় দেয় এবং হাবিবাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।

 

 

 

 

তিনি আরও জানান, মা ও মেয়ের চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে তার শাশুড়ি দিলারা বেগম দরজার সামনেন এগিয়ে এসে বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর জখম হয়ে সেখানেই লুটিয়ে পড়েন।

 

 

 

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুর্বৃত্তরা মধ্যরাতে ঘরে প্রবেশ করে এবং কিশোরীকে অপহরণ বা ধর্ষণের উদ্দেশে এ হামলা চালাতে পারে।

 

 

 

গোয়াইনঘাট থানার কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।

 

 

নিজের নেতৃত্বকে সাকিব-মাশরাফির চেয়ে এগিয়ে বললেন লিটন

ভালো অধিনায়কত্বের জন্য চাই পরিপূর্ণ আত্মবিশ্বাস। আর সেই আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর লিটন দাস। টাইগারদের তিন ফরম্যাটে নেতৃত্ব দেওয়া এই ক্রিকেটার বর্তমানে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। আর অধিনায়ক হিসেবে তিনি নিজেকে এতটাই সফল মনে করেন যে, নিজেকে এগিয়ে রেখেছেন সাকিব-তামিম এমনকি মাশরাফির চেয়েও।

 

 

 

সম্প্রতি বিসিবির এক পডকাস্টে লিটনকে প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশের অল টাইম সেরা ক্যাপ্টেন বিবেচনা করে দুজন থেকে একজন বেছে নিলে, লিটন নাকি সাকিব কাকে বেছে নেবেন? জবাবে লিটন বলেন, ‘কঠিন… তবে আমি আমাকেই বেছে নিব।‘

 

 

 

পরের প্রশ্ন ছিল, ‘লিটন দাস নাকি তামিম ইকবাল?’ লিটন জবাব দেন, ‘রেকর্ডের দিক দিয়ে আমি।‘ ‘লিটন দাস নাকি নাজমুল হোসেন শান্ত?’ এই প্রশ্নের জবাবেও বলেন, ‘আবারো, রেকর্ডের দিক দিয়ে আমি।‘

সঞ্চালক লিটনের এত আত্মবিশ্বাস দেখে একপর্যায়ে বলেই বসেন, এই কনফিডেন্সই দলের লাগবে! পরের প্রশ্ন ছিল, লিটন দাস নাকি মেহেদী হাসান মিরাজ? এবারো লিটনের জবাব- ‘আমি।’

এরপর যে প্রশ্ন এবং উত্তর, লিটন নিজেই মানছেন এ নিয়ে সৃষ্টি হতে পারে বিতর্ক। বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক জানতে চাইলে অনেকেই নাম নেন মাশরাফি বিন মর্তুজার। তবে লিটন রেকর্ডের দিক বিবেচনায় নিজেকে মাশরাফির চেয়ে এগিয়ে রেখেছেন।

তিনি বলেন, ‘ভাইয়ার অধীনে অনেক দিন খেলেছি। সব ফরম্যাট খেলা হয়নি। রেকর্ডের দিক দিয়ে, আমি যেসব ফরম্যাটে করেছি রেকর্ড আমার খুব ভালো। তবে এটা নিয়ে অনেক বিতর্ক হবে আমি বুঝতে পারছি।’

 

 

 

এরপর মুশফিক রহিম ও খালেদ মাহমুদ সুজনের সাথে তুলনায়ও লিটন নিজের নামই নিয়েছেন। লিটন অবশ্য অধিনায়ক হিসেবে দ্বিধাহীনভাবে রয়েছেন অনন্য উচ্চতায়। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের অধিনায়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জয়ের হার তার- ৫২.৬৩। নিয়মিত অধিনায়কদের অনুপস্থিতিতে বাকি দুই ফরম্যাটেও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এনে দিয়েছেন সাফল্যও। ওয়ানডেতে ভারত বধের পাশাপাশি টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বরেকর্ড গড়া জয়ও আছে তার।

 

 

 

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে ৩৯টি ম্যাচে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার মধ্যে জিতেছেন ২০টি ম্যাচ। বর্তমান টি-টোয়েন্টি দল যে উড়ন্ত ফর্মে রয়েছে, এর পেছনেও আছে লিটনের নেতৃত্বগুণের বড় অবদান। আর তিন ফরম্যাটেই খেলে যাওয়া এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার ব্যাট হাতে তো অভয় দিয়েই যাচ্ছেন দলকে, নিয়মিতভাবে। তাই এমন আত্মবিশ্বাস যেন লিটন দাসকেই মানায়।

 

সারাদেশে হাম উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

হাম ও হামের উপসর্গে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৪৫৩ শিশু প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয় ৭৪ জনের।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়।

 

 

 

অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৪১ হাজার ২৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই সময়ে মোট সাত হাজার ৫২৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৩৬ হাজার ৬৪৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছে।

 

বেলকুচিতে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।

 

 

শনিবার সকালে বেলকুচি খাদ্যগুদাম প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জ- ৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম।

 

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান।

 

 

এসময় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আনোয়ার হোসেন, খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কবির, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম গোলাম, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব বনি আমিন, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান, বেলকুচি পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হাজী আলতাফ হোসেন প্রামানিক, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম শফি, বেলকুচি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।

 

 

উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে ৩৬ টাকা কেজি দরে সরাসরি প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ৮৭৮ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হবে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন ধান খাদ্যগুদামে দিতে পারবেন। এছাড়া ৪৯ টাকা কেজি দরে ৩৪৪ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ও ৩৬ টাকা কেজি দরে ১৩২ মেট্রিক টন গম  সংগ্রহ করা হবে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই সংগ্রহ অভিযান চলবে।

রাণীনগরে প্রকাশ্যে হামলা, যুবদল নেতা বহিষ্কার

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে হাটের মধ্যে সংঘটিত নৃশংস হামলায় রেজাউল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ রায়হান ইসলাম (৩২) নামের একজন আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে উপজেলার খাঁনপুকুর হাটে রেজাউল ইসলামকে বেধড়ক মারধর করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় গ্রামবাসীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি ঘটলে পরবর্তীতে তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ সময় আহত ব্যক্তিকে রক্ষা করতে গিয়ে আনিছুর রহমান ও আলাউদ্দিন নামের আরও দুইজন আহত হন।
এ ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী আদরী বিবি বাদী হয়ে শুক্রবার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় যুবদল নেতা রেজাউল ইসলাম উজ্জল ও বিএনপি কর্মী আতাউরসহ অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবারই দ্রুত ব্যবস্থা নেয় দল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল নওগাঁ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ময়নূল হক লিটন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় — দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতিবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে কালীগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রেজাউল ইসলাম উজ্জ্বলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রাণীনগর থানার ওসি জাকারিয়া মন্ডল জানান, মামলার প্রেক্ষিতে একজন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

পাকিস্তানি বোলারদের তোপে অলআউটের শঙ্কায় বাংলাদেশ

মধ্যাহ্ন বিরতির পরও আরেকদফা ব্যাটিং ব্যর্থতার চিত্র বাংলাদেশ শিবিরে। প্রথম সেশনে ৩ উইকেট হারানোর পর দুপুরের খাবার খেয়ে এসে বেশিক্ষণ টিকলেন না নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজরা। একের পর এক উইকেট হারিয়ে রীতিমতো ধুঁকছে বাংলাদেশ।

 

 

 

ঢাকা টেস্টের একাদশ না থাকলেও সিরিজ নির্ধারণী টেস্টে ফেরানো হয় খুররম শেহজাদ। একাদশে জায়গা পেয়েই যেন তাঁতিয়ে উঠেছেন এই পেসার। মুমিনুল হকের পর এবার মুশফিককেও ফেরালেন। শেহজাদের মতো দারুণ বোলিং করে যাচ্ছেন মোহাম্মদ আব্বাস। তাদের যৌথ আক্রমণে এরই মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।

 

 

 

মুশফিক আউট হলে ক্রিজে আসেন মিরাজ। ১১০ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে দল তখন ধুঁকছে। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের বিকল্প ছিল না। কিন্তু সেটা না করে উল্টো বড় শট খেলার চেষ্টায় আউট মিরাজ। ৪ রান এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। মাহমুদুল হাসান, তানজিদ হাসান তামিম এবং মুমিনুল হককে হারিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের সংগ্রহ ছিল ১০১ রান। ৬৩ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর শান্ত এবং মুশফিকের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতির পর আবার ধস নামে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনে।

দ্বিতীয় সেশনে ব্যাট করতে নেমে ১৫ রানের মধ্যে ৩ ব্যাটারকে হারায় বাংলাদেশ। ঢাকা টেস্টের দুই ইনিংসে ১৮৮ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন শান্ত। এবারও বড় ইনিংসের আভাস মিলছিল তার ব্যাটে। কিন্তু অধিনায়ক থেমেছেন ২৯ রানে। আব্বাসের বলে মোহাম্মদ রিজওয়ানের গ্লাভস বন্দী হন শান্ত।

মুশফিককে ফেরান শেহজাদ। ২৩ রান করা ব্যাটারকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন পাকিস্তানি পেসার। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই সফরকারীদের ভুলে বেঁচে গিয়েছিলেন মুশফিক। সাজিদের বলে রিজওয়ানকে ক্যাচ দিলেও ফিল্ড আম্পায়ার আউট দেননি। পাকিস্তানও শেষ পর্যন্ত রিভিউ নেয়নি। পরে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বল মুশফিকের গ্লাভস ছুঁয়ে গিয়েছিল। সেবার বেঁচে গেলেও দলের বিপদে ব্যাট হাতে দাঁড়াতে পারলেন না এই ব্যাটার। মুশফিকের পর মিরাজকে হারালে চাপ আরও বেড়ে যায় বাংলাদেশের।

 

জাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা : বিচারের দাবিতে প্রক্টর কার্যালয়ে তালা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রক্টর কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) বেলা ১১টার দিকে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে প্রক্টরিয়াল টিমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রক্টর কার্যালয়ে তালা দেন তারা।

 

 

 

প্রক্টর কার্যালয়ের দুটি দরজার তালা ভেঙে নতুন তালা ঝুলিয়ে রোববার (১৭ মে) থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধের কর্মসূচিও ঘোষণা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা তাবাসসুম বলেন, গত ১২ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার পরদিন ১৩ মে নারী শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে অপরাধীকে গ্রেপ্তারের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে শুক্রবার রাত ২টা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা।

তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হলে প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগ। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও অপরাধী গ্রেপ্তার হননি। উল্টো প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করেছে এবং নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে।

এছাড়া দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আগামীকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

 

 

 

উল্লেখ্য, এর আগে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে নিয়ে পাশের জঙ্গলে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার অজ্ঞাত যুবককে আসামি করে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

 

জনগণ চাইলে কুমিল্লা বিভাগ হবে : প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লাকে বিভাগ করা জনগণের দাবি হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

শনিবার (১৬ মে) দুপুরের দিকে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে পথসভায় যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

 

পর্যায়ক্রমে সব ওয়াদা পালন করার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনে বিএনপি জনগণকে যে ওয়াদা দেয়, সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা ইমাম, মোয়াজ্জিনদের সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন আমরা নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমরা মানুষকে কার্ড দেওয়া শুরু করেছি। এই এলাকার মানুষও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। আগামী জুনে যে বাজেট, সেখানে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য অনেক বরাদ্দ রয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে গুম, মামলা করা হতো। দেশের মানুষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তাদেরকেই দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। দেশের মানুষের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বহু মানুষ শহীদ হয়েছে। বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে।

 

তারেক রহমান বলেন, এই দেশের মানুষ এক বিরাট স্বৈরাচারের কবলে পড়েছিল। কিন্তু দেশের মানুষ মুক্ত হয়েছে সেই অবস্থা থেকে। তবে শুধু দেশ স্বাধীন করলে হবে না— দেশ যদি স্বাধীন করি, দেশকে যদি স্বৈরাচারমুক্ত করি, পরবর্তী কাজ হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা।

রাস্তার মাঝখানে মরণফাঁদ

‎কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা থেকে পাকুন্দিয়া উপজেলার কোদালিয়া হয়ে পুলেরঘাট অভিমুখী গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ঠাডারকান্দা বাজার সংলগ্ন কালভার্টটি মাঝখান থেকে ভেঙে পড়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। ভাঙ্গা কালভার্টটি রাস্তার মাঝখানে মরণফাঁদের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন চলাচল করে। এছাড়াও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা কালভার্ট পার হতে হচ্ছে। সামান্য অসাবধানতাতেই ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কালভার্টটির মাঝখানের অংশ ধসে পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এলাকাবাসী সাময়িকভাবে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধানের অভাবে দিন দিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও বিরাজ করছে আতঙ্ক যেকোনো মুহুর্তে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
‎বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত ও পানির স্রোতে কালভার্টের অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
‎স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত ভাঙা কালভার্টটি সংস্কার অথবা নতুন করে একটি টেকসই কালভার্ট নির্মাণ করা হোক। তাদের ভাষ্য, হোসেনপুর ও পাকুন্দিয়া উপজেলার মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক এটি। তাই দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
‎শাহেদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ উদ্দিন বলেন,সংশ্লিষ্টদের বারবার বিষয়টি অবহিত করেছি আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।
‎এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস জানান, সেখানে নতুন একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আপাতত দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

 

তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে গজারিয়ায় নেতাকর্মীর ঢল

চাঁদপুর  জনসভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টায়  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া উপজেলার তেতৈতলা হাস পয়েন্টে  এই শুভেচ্ছা জানান ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কে এম এরাদত মানু, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাসহ বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী  সংগঠনের  রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং হাজার হাজার  নেতাকর্মী।
গজারিয়া উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ সড়কের পাশে দাড়িয়ে হাত নারিয়ে তারেক রহমানকে  শুভেচ্ছা   জানান । এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় ।
স্থানীয় নেতারা জানান, তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে গজারিয়াজুড়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। চাঁদপুরে অনুষ্ঠিতব্য জনসভাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ  বিরাজ করছে।

One thought on “দেশের সার্বভৌমত্বকে গুমের মাধ্যমে দুর্বল করা হয়েছিল : এমপি আরমান

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের সার্বভৌমত্বকে গুমের মাধ্যমে দুর্বল করা হয়েছিল : এমপি আরমান

আপডেট টাইম : ০৬:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যকে ব্যবহার করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সার্বভৌমত্বকে অরক্ষিত করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১৪ আসনের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান।

 

 

 

রোববার (১৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিন র‌্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তার জেরা শেষ হয়।

 

 

 

ব্যারিস্টার আরমান বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। যতদিন সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব বজায় থাকবে, ততদিন দেশের সার্বভৌমত্বও সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যকে ব্যবহার করে শেখ হাসিনা সেই পেশাদারিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। এর মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্বও ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। আমরা চাই এ সংস্কৃতি আর ফিরে না আসুক। যত ক্ষমতাধর দলই হোক, বাংলাদেশের মানুষের অধিকার যেন আর কেউই নষ্ট করতে না পারেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে আরমান বলেন, গুমে থাকাকালীন একেকজনের নির্যাতন একেকরকম ছিল। কিন্তু ভিন্ন থাকলেও বিনা দোষে কোনো মানুষকে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। যখন এটি ব্যাপক এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে হচ্ছিল, তখন এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়ে যায়। নির্যাতনের মাত্রার ওপর এই অপরাধ নির্ভর করে না। অপরাধটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে হয়েছিল কিনা, এটাই দেখার বিষয়।

নতুন সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চান জানিয়ে এই সাংসদ বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও গুমের ভুক্তভোগী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রায় প্রত্যেক সংসদ সদস্যই অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। এই মজলুমদের মিলনমেলার ওপর আমরা আস্থা রাখতে চাই। সরকার এই বিচার নিশ্চিত করবে বলেও আমরা আশাবাদী।

শাহ আলী মাজারের হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাজারের মতো ধর্মীয়-গাম্ভীর্য স্থানে হামলার জন্য তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সরকারের দায়িত্ব সকল ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ জায়গায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন ভিডিও এভিডেন্স দেখে যদি কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। তবে ঢালাওভাবে বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিস্টদের ঐতিহ্য। আমরা এসবের পুনরাবৃত্তি চাই না।

কমিটিতে পদ পাওয়ার রাতেই গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা

সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের রাতেই পৌর কমিটিতে পদ পাওয়া সহ-সভাপতি আলভীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আলভী শহরের দিয়ার ধানগড়া মহল্লার জুলহাস হোসেনের ছেলে।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিস্ফোরক মামলায় আলভীকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

উল্লেখ্য শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সিরাজগঞ্জ জেলা, সদর থানা, পৌর ও সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। গ্রেপ্তার আলভী পৌর কমিটির সহ সভাপতির দায়িত্ব পান।

 

 

রাশিয়ার ভেতরে বড় ধরনের হামলা চালাল ইউক্রেন

 

ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন মস্কো অঞ্চলের বাসিন্দা। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত এক বছরের মধ্যে দেশটির রাজধানী মস্কোর ওপর এটিই সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা।

 

 

 

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে এক হাজারের বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইউক্রেন। অন্যদিকে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলেও একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর রয়টার্সের।

 

 

 

এর আগে শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত চার বছরের যুদ্ধে কিয়েভে গত দুই দিনে চালানো রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করা হয়।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিওতে জেলেনস্কি আকাশে উড়ন্ত ড্রোন, ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতার দৃশ্য প্রকাশ করেন।

 

 

তিনি বলেন, ‘রাশিয়া যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে এবং আমাদের শহর ও জনপদে হামলা চালাচ্ছে। এর জবাব দেওয়া সম্পূর্ণ ন্যায্য।’

 

 

জেলেনস্কি দাবি করেন, রাশিয়ায় কঠোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও সীমান্ত থেকে ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে ইউক্রেন।

 

 

মা হাতিকে বিদায় জানাতে গভীর রাতে লোকালয়ে বন্যহাতির পাল

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাগজিখোলা সংলগ্ন চকরিয়া লাম্বা হাকখোলা পূর্ণ গ্রামে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা একটি বন্য মা হাতি অবশেষে মারা গেছে।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হাতিটির মৃত্যু হয়।

 

 

 

মৃত মা হাতির শোকে শোকাহত হয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় অন্তত ১০টি বন্য হাতির একটি দল।

জানা যায়, জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কাগজিখোলা সংলগ্ন চকরিয়া লাম্বা হাকখোলা পূর্ণ গ্রামে দীর্ঘ অসুস্থতার পর অবশেষে মারা গেছে একটি বন্য মা হাতি। মায়ের মৃত্যুর পর গভীর রাতে তাকে শেষবারের মতো দেখতে ও ‘শোক জানাতে’ ঘটনাস্থলে হাজির হয় অন্তত ১০টি বন্যহাতির একটি দল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে একদিকে যেমন আতঙ্ক, অন্যদিকে তৈরি হয়েছে এক আবেগঘন পরিবেশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল থেকেই নূর মোহাম্মদের বাড়ির পশ্চিম পাশে মা হাতিটিকে অসুস্থ ও নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। সে সময় তার পাশে ছটফট করছিল একটি ছোট হাতি শাবক। কোনো মানুষ কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলেই শাবকটি আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার জুড়ে দিচ্ছিল এবং কোনোভাবেই মায়ের পাশ ছেড়ে যাচ্ছিল না। স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ বলেন, সকাল থেকে হাতিটাকে পড়ে থাকতে দেখি। পাশে ছোট বাচ্চাটাও ছিল। মানুষ কাছে গেলেই শাবকটি চিৎকার করছিল। দৃশ্যটি খুবই হৃদয়বিদারক ছিল।

খবর পেয়ে ঈদগাঁও বন বিভাগের কর্মকর্তা উজ্জ্বল স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ এনে হাতিটির চিকিৎসা শুরু করেন। তবে ততক্ষণে হাতিটি চরম অপুষ্টিতে আক্রান্ত হয়ে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

 

 

 

বন কর্মকর্তা উজ্জ্বল জানান, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ এনে হাতিটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তবে হাতিটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ছিল। রাত ১২টার দিকে হাতিটি মারা যায়।

 

 

 

মা হাতিটির মৃত্যুর কিছুক্ষণ পরেই ঘটে সেই বিস্ময়কর ঘটনা। গভীর রাতে হঠাৎ প্রায় ১০টি বন্যহাতির একটি দল জঙ্গল থেকে এসে মৃত হাতিটির আশপাশে অবস্থান নেয়।

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাতির দলটি সেখানে বেশকিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে। সে সময় অবুজ শাবকটিকেও মৃত মায়ের লাশের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর হাতির দলটি আবার পাহাড়ের গভীর বনাঞ্চলে ফিরে যায়।

 

 

 

স্থানীয়দের ধারণা, বন্যহাতির দলটি মূলত তাদের সঙ্গী ও মা হাতিটিকে শেষ বিদায় জানাতেই লোকালয়ে ছুটে এসেছিল। এ সময় শাবকটিকে মৃত মা হাতির কাছেই অবস্থান করতে দেখা যায়। হাতির দলটি কিছুসময় সেখানে অবস্থান করে আবার পাহাড়ের দিকে চলে যায়।

 

 

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পাহাড়ি বনাঞ্চলে ক্রমাগত খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় প্রায়ই বন্য হাতির দল লোকালয়ে চলে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও খাদ্যাভাবের কারণেই মা হাতিটি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বলে তাদের ধারণা। বন বিভাগ জানিয়েছে, মৃত হাতিটির শরীর থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ল্যাব টেস্টের পর হাতিটির মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রঘু ডাকাতের রক্তমাখা চিঠি, পুলিশ পাহারায় রাত কাটাল গ্রামবাসী

 

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গরুর খামারিদের বাড়ি বাড়ি রক্তমাখা চিঠি দিয়ে হত্যা ও ডাকাতির হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। চিঠিতে খামারিদের ঘরের দরজা খোলা রাখতে বলা হয়েছে।

 

 

 

গত শুক্রবার (১৫ মে) রাতে এ বিষয়ে স্থানীয় খামারি মো. আমজাদ হোসেন বাদি হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে গত ৫ দিনে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামের প্রায় ১৫টি বাড়িতে চিঠি দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

 

 

 

জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামে চেতনানাশক স্প্রে করে ধারাবাহিকভাবে ডাকাতির পর রঘু ডাকাতের নামে অন্তত ১৫টি বাড়িতে দেওয়া হয় রক্তমাখা চিঠি। চিঠিগুলোতে নির্বিঘ্নে ডাকাতি করার জন্য দরজা খোলা রাখতে বলা হয়। দরজা না খোলা রাখলে হত্যার হুমকি দেয়।

এরপর থেকেই আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে উপজেলাজুড়ে। ঘুমহীন হয়ে পড়ে বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। বিষয়টি নিয়ে কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। এরপর পুলিশ পাহারায় গ্রামবাসী ঘুমায়।

 

স্থানীয়রা জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে করে ডাকাতি করা হয়েছে। ফলে কোরবানির ঈদকে ঘিরে বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গরুর খামারিরা। একদিকে ডাকাতি অন্যদিকে হুমকি দেওয়া রক্তমাখা চিঠিতে নির্ঘুম হয়ে যায় পুরো গ্রাম।

 

 

তারা আরও জানান, গত ৪/৫দিনে টেকুয়াপাড়া গ্রামের অন্তত ১৫ জনের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা নিজেদের রঘু ডাকাত পরিচয় দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে লিখেছে ‘কালকে আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসব, তাই দরজা খোলা রাখবেন, না খুলে রাখলে জিন্দা খালাস………? ইতি রঘু ডাকাত।

 

 

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গ্রামবাসীকে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কোনোভাবেই কোনো ডাকাতকে বা কোন দুস্কৃতিকারীকে অপতৎপরতা করতে দেওয়া হবে না।

 

 

আমির হামজাকে গ্রেপ্তারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিল আদালত

 

জ্বালানি মন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

 

 

রোববার (১৭ মে) সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার এ আদেশ দেন।

 

 

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী ও সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল।

 

মামলার তথ্যে জানা গেছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করার অভিযোগে গত ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর কর্নেল। একই দিন আদালত আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করে ২১ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত তারিখে তিনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

 

পরবর্তীতে রোববার আদালতে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও সেদিনও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। এ কারণে আদালত তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।

 

 

এ বিষয়ে মামলার বাদী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর কর্নেল জানান, রোববার আমির হামজার আদালতে হাজির হওয়ার নির্ধারিত দিন ছিল। কিন্তু তিনি উপস্থিত হননি। এর আগে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। সর্বশেষ আদালত তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দিয়েছেন।

 

মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় উঠে এলো নতুন তথ্য

ফরিদপুরের মাধবদিয়া এলাকায় মা ও শিশু কন্যাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বকারটিলা এলাকা থেকে মো. উজ্জ্বল খান (৩৮) নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

রোববার (১৭ মে) দুপুরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, নিহত জাহানারা বেগম (৩০) রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার বাসিন্দা। তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে সামিয়াসহ তাদের মরদেহ গত ১৪ মে চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড় সংলগ্ন স্থান থেকে মাটি চাপা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর নিহতের স্বজন মো. লালন মোল্লা কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার আমিনবাজার এলাকায় একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারা বেগমের সঙ্গে উজ্জ্বল খানের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে উজ্জ্বল খান জাহানারাকে ফরিদপুরে নিয়ে আসেন।

 

 

 

গত ৪ মে রাতে চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উজ্জ্বল প্রথমে জাহানারাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা শিশু সামিয়াকেও গলা টিপে হত্যা করা হয়।

 

 

 

হত্যার পর আসামি নিজ বাড়ি থেকে কোদাল এনে ছাপড়া ঘরের পাশে পৃথক দুটি গর্ত খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ মাটি চাপা দেয়।

 

 

 

ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের ব্যবহৃত বোরকা, ওড়না, নেকাব, শিশু সামিয়ার পোশাক, একটি মালা, আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারাল অস্ত্র ও কোদাল উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

 

মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

 

 

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিআইও-১ ইন্সপেক্টর মো. মোশারফ হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস। ফরিদপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ভূমি মালিকদের জন্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

সারাদেশের ভূমি মালিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বকেয়াসহ চলতি অর্থবছরের ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া জমির সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা আরও সহজ করতে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

 

 

 

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাগরিকরা এখন ঘরে বসেই land.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারবেন। সরকারের লক্ষ্য হলো ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ স্মার্ট ও স্বচ্ছ ব্যবস্থায় রূপান্তর করা, যাতে সেবা গ্রহণ আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত হয়।

 

 

 

ভূমি মন্ত্রণালয় জানায়, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য নাগরিককে প্রথমে নির্ধারিত পোর্টালে (land.gov.bd) গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধিত হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে খতিয়ান ও জোত সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে করের পরিমাণ জানা যাবে এবং মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডের মাধ্যমে তা পরিশোধ করা যাবে।

 

 

মন্ত্রণালয়ের বার্তায় বলা হয়েছে, ৩০ জুনের মধ্যে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করুন এবং নিজের জমি সুরক্ষিত রাখুন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর পরিশোধ না করলে পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী বকেয়ার ওপর সুদ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

সাধারণত সরকারি হিসাবে অর্থবছর শেষ হয় ৩০ জুন। তাই বছরের হিসাব চুকিয়ে দিতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে এ সময়ের মধ্যেই খাজনা পরিশোধ করা বাঞ্ছনীয়। অনলাইন পদ্ধতি চালুর ফলে এখন আর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সশরীরে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই, যা সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় করছে।

 

 

ভূমি মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে ভূমি কর আদায়ে স্বচ্ছতা আসবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।

 

 

বিসিবি নির্বাচনে আদালতের হস্তক্ষেপ নয়

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা কমিটির নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা বিচারাধীন এক রিটের সম্পূরক আবেদন নথিভুক্ত করার আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, বিসিবি নির্বাচন নিয়ে আমরা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবো না। ফলে আগামী ৭ জুন বিসিবির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন বিসিবির আইনজীবী মাহিন এম রহমান। রবিবার (১৭ মে) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায়ের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

 

 

 

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশিদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। বিসিবির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহিম এম রহমান।

পরে বিসিবি আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিম এম রহমান বলেন, আদালত বিসিবির নির্বাচন স্থগিত চেয়ে জনৈক মোশাররফ হোসেন নামে এক ব্যক্তির রিটের সঙ্গে করা সম্পূরক আবেদনটি নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিসিবির নির্বাচন নিয়ে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করবো না।

তিনি আরও বলেন, মোহাম্মদ মোশারফ নামে একজন ব্যক্তি গত মার্চ মাসে বিসিবি গঠনতন্ত্রের একটি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট দায়ের করলে আদালত রুল জারি করেন।

বিচারাধীন সেই রিটে আজকে একটি সম্পূরক আবেদন দায়ের করে আসন্ন ৭ জুন অনুষ্ঠিতব্য বিসিবির নির্বাচন স্থগিত চাওয়া হয়। সেই আবেদনের শুনানি অন্তে আদালত বিসিবির নির্বাচন বিষয়ে এই অ্যাপ্লিকেশন দ্বারা কোন হস্তক্ষেপ করবে না বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

 

কালাইয়ে ভুয়া প্রাণিচিকিৎসককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

 

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় খামারিদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও নিরাপদ প্রাণিচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর। অভিযানে অপচিকিৎসার অভিযোগে এক ভুয়া প্রাণিচিকিৎসককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন উপজেলার ভূগোইল (মোসলেমগঞ্জ) গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে মো. খায়রুল ইসলাম আতিক। তিনি নিজেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম প্রজনন কর্মী পরিচয় দিয়ে এলাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া পরিচয়ে গবাদিপশুর চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন ওই ব্যক্তি। সম্প্রতি তার ভুল চিকিৎসার কারণে স্থানীয় এক খামারি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি প্রেসক্রিপশন পরিবর্তন করে নিজের মতো করে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন, যা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। খামারির ক্ষতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কালাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল-মাহাবুব। প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান।

প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, প্রাণিসম্পদ খাতে অপচিকিৎসা, প্রতারণা ও জালিয়াতি বন্ধে এবং খামারিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিজিবির সহায়তায় ভারত থেকে ফিরলেন নিখোঁজ যুবক

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছ থেকে মো. বকুল মন্ডল (২৫) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ১০টা দিকে সীমান্তের মেইন পিলার ১৫৭/২-এস এর কাছে এই পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

ফেরত আসা বকুল দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী চিলমারী ইউনিয়নের মরারপাড়া গ্রামের মো. লুৎফর মণ্ডলের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন।

বিজিবি সূত্র জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে বকুল বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে গত ১৫ মে মাইকিংয়ের মাধ্যমে নিখোঁজের সংবাদ প্রচার করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভারতীয় আইডিতে দেখা যায়, বকুল ভারতের কলকাতায় মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত চিলমারী বিওপিকে অবহিত করেন। এরপর বিজিবি দ্রুত বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিএসএফ সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির মালিকের সহায়তায় বকুলকে ১৬ মে আটক করে এবং পরদিন ভোরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।

পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন চরচিলমারী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. মোশারফ হোসেন। এসময় তার সঙ্গে আরও ৭ জন বিজিবি সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

অপরদিকে ভারতের ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চরভদ্রা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসআই নিতিন কুমারের নেতৃত্বে ৭ জন বিএসএফ সদস্য অংশ নেন। বৈঠকটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় বলে জানান বিজিবি।

 

 

 

কুষ্টিয়া ৪৭ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় এক বাংলাদেশি নাগরিক ভারতের কলকাতায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ও তথ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা বিজিবিকে অবহিত করেন। বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পতাকা বৈঠক করে তাকে দেশে ফেরানো হয়। পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তায় বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত বিজিবিকে জানাতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

বিশ্বকাপের শেষ লড়াইয়ে ব্রাজিল-স্পেন দেখার স্বপ্ন: নেইমার

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিল ও স্পেনের মধ্যে ফাইনাল হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। একই সঙ্গে তিনি স্বপ্ন দেখেছেন সেই ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করার।

 

 

তবে ৩৪ বছর বয়সী এই তারকার বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চোটের সঙ্গে লড়াই করছেন নেইমার। বিশেষ করে সৌদি ক্লাব আল হিলালে থাকার সময় তিনি বেশিরভাগ সময়ই মাঠের বাইরে ছিলেন।

 

 

এদিকে ব্রাজিল জাতীয় দলে এখন একাধিক তরুণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড় নিয়মিত জায়গা করে নেয়ায় নেইমারের জন্য দলে ফেরা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

তবুও স্বপ্ন দেখছেন এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। সাংবাদিক ব্রুনো ফর্মিগার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক কথোপকথনে নেইমার ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্রাজিল ও স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার কথা বলেন এবং ব্রাজিলের ৩-১ ব্যবধানে জয় কল্পনা করেন। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে নেইমার সংক্ষেপে বলেন, ‘স্বপ্ন তো দেখতেই হয়, তাই না?’

এদিকে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগেই জানিয়েছেন, শুধুমাত্র খ্যাতির ভিত্তিতে কাউকে দলে নেয়া হবে না। তিনি বলেন, নেইমার সম্প্রতি উন্নতি করেছেন এবং সান্তোসে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়ায় তাকে প্রশংসাও করেছেন। তবে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে হলে খেলোয়াড়কে অবশ্যই পুরোপুরি ফিট থাকতে হবে এবং ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করতে হবে।

সান্তোসে ফিরে কিছু ঝলক দেখালেও নেইমারের ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে। গত দুই মৌসুমে বারবার চোটে পড়ায় তার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে।

 

ভালোবাসার টানে চীনের যুবক বিয়ে করেছেন কুড়িগ্রামের মেয়েকে

কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ি উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে মোরশেদা বেগম। তিনি ঢাকায় থাকাকালীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে যান চীনের যুবক আন হুং ওয়েই সাথে। একটু একটু কথা এরপর ভালো লাগা থেকে শুরু হয় প্রেম ভালোবাসা। মোরশেদা বেগম এবং আন হুং ওয়েই’র ভালোবাসার কাছে চীনের দুরত্ব যেন কোন বাঁধা হতে পারলো না। প্রেম ভালোবাসার এক পর্যায় চীন থেকে চলে আসেন সেই যুবক আন হুং ওয়ে। পরে দুইজনের সম্মতিতে দেশের রীতি অনুযায়ী বিবাহ করেন।
তারা দুইজনে বর্তমান অবস্থান করছেন মোরশেদা বেগমের বাড়ি কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ীতে। চীন থেকে আসা যুবকে এক নজর দেখতে গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায়। অনেকে ছবি তুলছেন আবার অনেকে হাত মেলাচ্ছেন কেউবা কথা বলার চেষ্টা করছে। চায়নার সেই যুবককে নিয়ে গ্রামে শুরু হয়েছে কৌতূহল। আলোচনা থেকে এড়ায়নি নেট দুনিয়াও। নেট দুনিয়াও আলোচনার কেন্দ্রবৃন্দ হয়ে পড়েছে চায়নার সেই যুবক।
এ বিষয় স্থানীয়রা জানান, ভাষাগত এবং পরিবেশগত অমিল থাকলেও তার ব্যবহার এবং আচার-আচরণ অত্যান্ত সাবলিল। এ কারণে এলাকাবাসীদের মন মুগ্ধ করেছে চীনা যুবক। যদিও তার ভাষা বুঝতে পারেন না। তবুও তার ইশারা ইঙ্গিত অনেক সহজে বোঝা যায় তার ভিতরের কথা।
স্থানীয়দের পর মোরশেদা বেগম বলেন, তারা ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোন দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথমে কথা বলেন। এক পর্যায় দুইজনে প্রেমের জড়িয়ে পড়েন। যদিও বাংলাদেশ এবং চীনের দুরত্ব অনেক তারপরেও আন হুং ওয়েই এর কাছে তা বেশি দুরুত্ব মনে হয়নি। সে ঢাকায় আসে এবং আমরা দুইজনে দেশের রীতিমতো বিয়ে করি। সে আমাকে তার দেশে নিয়ে যাবে বলে কথা দেন। এ জন্য বাবার বাড়িতে আসছি।
চীনের যুবক আন হুং ওয়েই বলেন, মোরশেদার এলাকায় এসে সে অনেক খুশি। এখানকার সব কিছুই তার অনেক ভালো লেগেছে। সবাই খুব ভালো। আমি মোরশেদা কে বিয়ে করে অনেক সুখী।

 

সেনবাগে মাদকবিরোধী সেমিনার অনুষ্ঠিত

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় মাদকের ভয়াবহতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মাদকবিরোধী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৭ মে) উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে “মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে করণীয়” শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়নুল আবদিন ফারুক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুহসিয়া তাবাসসুম।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকে বিপথে নেয় না, বরং একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদকের ভয়াবহতা রোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং তরুণ সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নৈতিক শিক্ষা এবং তরুণদের খেলাধুলা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এ সময় উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মাদক প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় সচেতন মহল অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি মাদকবিরোধী জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।

 

বেলকুচিতে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ

ঘরের আঙ্গিনা জুড়ে কালচে পানি। পানির ওপর ভাসছে ময়লা-আবর্জনা। বাতাসে তীব্র দুর্গন্ধ। সন্ধ্যা নামলেই বাড়ে মশার উপদ্রব। এমন পরিবেশেই বছরের পর বছর বসবাস করছেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার শেরনগর মধ্যপাড়ার কয়েক হাজার মানুষ।

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, আশপাশের কয়েকটি প্রসেস মিল এবং পূর্বাণী গার্মেস্টসের পানি, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতার কারণে তাঁদের এই দুর্ভোগ। বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

 

 

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেরনগর মধ্যপাড়ার বিভিন্ন বাড়ির সামনে ও সরু সড়কে জমে আছে ময়লা মিশ্রিত পানি। কোথাও ড্রেনের পানি উপচে উঠছে। কোথাও আবার স্থির হয়ে থাকা পানিতে জন্ম নিয়েছে মশা। দুর্গন্ধে কয়েক মিনিটের বেশি দাঁড়িয়ে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়ে।

 

 

এই এলাকার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী আব্দুল হালিম মন্ডল। একসময় তাঁতশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এখন বয়সের ভারে অনেকটাই কর্মহীন। ১৫ সদস্যের পরিবার নিয়ে তাঁর বসবাস এই এলাকায়। ঘরের সামনে জমে থাকা নোংরা পানির দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কষ্টের কথা বলে শেষ করা যাবে না। টিউবওয়েলের পানিতেও গন্ধ। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি উঠে যায়। এই এলাকার কথা শুনে অনেকে আত্মীয়তা করতে চায় না। ছেলে-মেয়ের বিয়ের সম্বন্ধ এলে লোকজন এসে না বসেই চলে যায়।

 

 

তিনি জানান, মশার উপদ্রবে তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। ১৫-১৬ বছর ধরে এই ভোগান্তি। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। পৌরসভা থেকে একবার মশা মারার ওষুধ ছিটিয়েছিল। কিন্তু মশা কমেনি, বরং আরও বেড়েছে মনে হয়।

 

 

শুধু আব্দুল হালিম নন, স্থানীয়দের দাবি, শেরনগর মধ্যপাড়া ও আশপাশের প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ পরিবারের অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ একই দুর্ভোগে আছেন।

 

 

স্থানীয় নারী আলেয়া বেগম আজকের পত্রিকাকে বলেন, বৃষ্টি হলে ঘরে থাকা যায় না। পানি উঠে যায়। অনেক সময় আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে থাকতে হয়। আমরা গরিব মানুষ, কোথায় যাবো? সামনে ঈদ। আবার বৃষ্টি হলে ঘরে ঈদ করা কঠিন হবে।

 

 

এলাকাটিতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মসজিদ রয়েছে। জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়ছে শিশুদের জীবনেও।

 

 

স্থানীয় শিক্ষার্থী রাহাত বলে, বৃষ্টি হলে ১০-১৫ দিন পর্যন্ত স্কুলে যেতে পারি না। খেলাধুলাও করা যায় না। আমরা চাই এই সমস্যার একটা সমাধান হোক।

 

 

মোছা. হাশমত আরা নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, বৃষ্টি হলে কোমর পানি হয়। রান্নাবান্না করা যায় না। আমার স্বামী নাইট গার্ড। অন্য কোথাও গিয়ে থাকার সামর্থ্য আমাদের নেই।

 

 

স্থানীয় মুদি দোকানদার শমসের আলী বলেন, পানির গন্ধে দোকানে বসা কষ্ট হয়ে যায়। এভাবে কতদিন চলবে বুঝতে পারছি না।

 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, মুকন্দগাতী, চন্দনগাতী, কামারপাড়া ও শেরনগরের বিভিন্ন এলাকার ড্রেনের পানি এসে এই এলাকায় জমা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি প্রসেস মিলের বর্জ্যপানিও এখানে এসে পড়ছে।

 

 

তিনি বলেন, সঠিকভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে পানি বের করার ব্যবস্থা করলে হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি কমবে।

 

 

তিনি অভিযোগ করেন, মাসখানেক আগে পৌরসভার উদ্যোগে এলাকায় লাখ লাখ  টাকা একটি নালা খনন করা হলেও তাতে কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি।

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সমস্যাটি চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ ও মশার যন্ত্রণা নিয়েই দিন কাটছে শেরনগরের মানুষের।

 

 

বেলকুচি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন,পানি নিস্কাসনের জন্য পৌরসভার রাজস্ব তহবিল থেকে খাল খননের জন্য ১ কিলোমিটার কাজ শুরু করা হয়েছে। ৩শত মিটার খাল খনন শেষ হয়েছে। কিছু জটিলতার কারণে বাকি কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। জটিলতা শেষ হলে ৭শত মিটার খাল খনন পর্যায়ক্রমে শেষ করা হবে। পানি নিস্কাসনের জন্য মার্স্টার ড্রেন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ১ কিলোমিটার খাল খননে কত টাকা বাজেট হয়েছে জানতে চাইলে বলেন, ১৫-১৮ লাখ টাকার মতো হবে। তবে তিনি অফিসিয়ালি টাকার পরিমাণ  সুনির্দিষ্ট করে জানায়নি।

 

 

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক আফরিন জাহান  জানান, বিষয়টি পৌরসভা  গুরুত্ব সহকারে দেখছে। এটার অংশ হিসেবে শেরনগর খাল/নালা খনন/সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া সহ নানাবিধ কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও তার আংশিক বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু করেছে। বর্তমান পৌর প্রশাসক কর্তৃক কয়েকবার সরেজমিনে শেরনগর এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান,  প্রসেস মিলের বর্জ্য পানি  বন্ধে পৌরসভা নিয়মিত মনিটরিং সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গের সাথে পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছে। ঈদের পূর্বে ড্রেন পরিস্কার সহ রুটিন কাজ চলবে। এছাড়া জরুরী পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনে পাম্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন করা হবে।বেলকুচি পৌরসভা এলাকায় মাস্টার ড্রেন না থাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এমপি মহোদয়ের সাথে পরামর্শক্রমে শেরনগর ব্রীজ থেকে ক্ষিদ্রমাটিয়া স্লুইসগেট  পর্যন্ত একটি মাস্টার ড্রেন প্রকল্প খুব দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া হয়, যাপ্রক্রিয়াধীন আছে।

 

মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষায় মোরশেদ

জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার এক পরীক্ষার্থী। একদিকে জন্মদাত্রী মায়ের চিরবিদায়ের স্তব্ধতা, অন্যদিকে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াই। সব শোক বুকে চেপে, বাড়িতে মায়ের মৃতদেহ রেখে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মোরশেদ প্রামানিক নামের এক বুকভাঙ্গা কিশোর।

​শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাতে মায়ের মৃত্যুর পর, আজ রবিবার (১৭ মে) সকালে ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাধারণ বিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। মোরশেদের এই অদম্য মানসিকতা এবং দায়িত্ববোধ উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ পুরো এলাকায় এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের মাটিহাঁস গ্রামের মহসিন আলী প্রামানিকের ছেলে মোরশেদ প্রামানিক। সে বিনাই জসীমউদ্দীন মেমোরিয়াল বিদ্যানিকেতনের ছাত্র। তার মা আছমা বিবি পারুল (৪৩) দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শনিবার রাত ২টার দিকে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

​মায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারে যখন মাতম চলছে, তখন নিজের ভবিষ্যৎ আর কর্তব্যের টানে অশ্রুভেজা চোখে পরীক্ষার হলের দিকে রওনা হয় মোরশেদ। সকাল ৯ টায় নির্ধারিত সময়ে ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাধারণ বিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নেয় সে।

​ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রের হল সুপার  মো. আবু তাহের আকন্দ জানান, মোরশেদের চোখে-মুখে মায়ের হারানোর স্পষ্ট ছাপ ছিল। তবে সে অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে পরীক্ষা শেষ করেছে। তার এই কঠিন সময়ে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের মানসিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

​মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে মোরশেদের পরীক্ষায় বসার খবর ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠী এবং স্থানীয়দের মাঝে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। গ্রামের বাসিন্দারা জানান, জীবনের এত বড় বিপদেও মোরশেদ যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা সত্যিই অভাবনীয়।

​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মোরশেদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আজ দুপুরের দিকে জানাজা শেষে তার মায়ের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

 

শাহজাদপুরে ডাকাতের রক্তমাখা চিঠি: পুলিশ সুপার  ঘটনাস্থল পরিদর্শন

সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরে ডাকাত দলের নামে উড়ো চিঠি ছড়িয়ে এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে  এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শাহজাদপুর থানাধীন গাড়াদহ ইউনিয়নের অন্তর্গত টেকুয়াপাড়া গ্রাম পরিদর্শন করেন সিরাজগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মো: সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম (বার) মহোদয়।
পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার মহোদয় স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। তিনি জানান, জেলা পুলিশ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, রাত্রীকালীন টহল জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। একইসাথে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করতে জেলা পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সকলকে সন্দেহজনক তথ্য দ্রুত নিকটস্থ থানা অথবা পুলিশ কন্ট্রোলরুম, সিরাজগঞ্জকে জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে।
এ সময় সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের সকল ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা, শাহজাদপুর সার্কেল অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমান শাহজাদপুর থানা ভারপ্রাপ্ত ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম  উপস্থিত ছিলেন।

 

 

তারেক রহমানের প্রতি জনগণের আস্থা রয়েছে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

 

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, বেহেশতের টিকিট বিক্রিকারীদের ভাওতাবাজির প্রতি আস্থা না রেখে দেশের জনগণ আস্থা রেখেছে তারেক রহমান ও বিএনপির ইশতেহারের প্রতি। আর তারেক রহমান একের পর এক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চর বেতাগৈর ইউনিয়নের চর ভেলামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ফ্যামেলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

তিনি বলেন, দেশের নারীদের জীবনমান উন্নয়ন, পারিবারিক নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে চালু করা হয়েছে ‘ফ্যামেলি কার্ড’ কর্মসূচি। এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে সমাজের অসচ্ছল পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চাঁদপুর থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ২০টি জেলায় একযোগে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

 

প্রতিমন্ত্রী সুবিধাভোগীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ফ্যামেলি কার্ডের মাধ্যমে যে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, সেই অর্থ অবশ্যই পরিবারের প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করবেন। পাশাপাশি কিছু টাকা সঞ্চয় রাখবেন, যাতে ভবিষ্যতের যেকোনো দুর্যোগ বা বিপদে তা কাজে লাগে।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, দালালচক্র বা ঘুষ লেনদেন বরদাশত করা হবে না। কার্ড পাওয়ার জন্য কাউকে টাকা দেবেন না বা কোনো দালালের কাছে যাবেন না। প্রকৃত প্রাপকদের কাছেই সরকার এই সহায়তা পৌঁছে দেবে।’

 

 

 

চর বেতাগৈর ইউনিয়নের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘এই ইউনিয়নের মানুষ আমাকে সবচেয়ে বেশি ভোট দিয়েছে। তাই সবার আগে এই এলাকার মানুষের জন্য সামান্য উপহার নিয়ে এসেছি। ভবিষ্যতেও উন্নয়ন ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

 

 

 

অনুষ্ঠানে চর বেতাগৈর ইউনিয়নের ৭৩০ জন নারীর মাঝে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ করা হয়। উদ্বোধনের পরপরই সুবিধাভোগীদের মোবাইল ফোনে সহায়তা প্রাপ্তির বার্তা পৌঁছে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

 

 

এসময় উপস্থিত ছিলেনজেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাতসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

 

 

স্বাস্থ্য খাতে বাড়ছে অনিরাপত্তা, শঙ্কায় কর্মীরা

 

দেশের স্বাস্থ্য খাতে চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। স্বাস্থ্য প্রশাসন থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল—সবখানেই চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আতঙ্কে রয়েছেন। কোথাও রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে হামলা চালিয়ে চিকিৎসকের মাথা থেঁতলে দেওয়া হচ্ছে, কোথাও হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে—এমনকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালককেও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় দেশের স্বাস্থ্য খাতে অজানা শঙ্কা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

 

 

 

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যদি সারাক্ষণ শারীরিক নির্যাতন, অপমান বা হামলার আশঙ্কায় থাকেন, তাহলে স্বাভাবিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে জেলা-উপজেলা হাসপাতাল কিংবা মেডিকেল কলেজ পর্যায়ে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে থাকলে স্বাস্থ্যসেবার পুরো ব্যবস্থাই বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

 

 

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে চিকিৎসকদের সুরক্ষা এবং চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ মোকাবিলায় এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর আইন নেই। বর্তমানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন এবং দণ্ডবিধির কিছু সাধারণ ধারার মাধ্যমে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এসব আইনে চিকিৎসক ও রোগী—উভয় পক্ষের অধিকার ও সুরক্ষা স্পষ্ট নয়।

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি করা সম্ভব হবে না। কারণ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আতঙ্কে থেকে সঠিকভাবে রোগীসেবা ও চিকিৎসা প্রদানে ব্যর্থ হবেন। যার প্রভাব পড়বে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর। তিনি বলেন, এর আগে একটি আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আইন থাকলে তার প্রয়োগ করা যেত। যেহেতু আইন নেই, তাই রোগী, চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান—কোনোটির নিরাপত্তাই নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতো চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের পরিস্থিতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

 

জানা গেছে, চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ‘স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছিল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অন্তত তিন দফা এ-সংক্রান্ত আইনের খসড়া তৈরি ও সংশোধন করা হয়। সর্বশেষ ২০২৩ সালে একটি খসড়া প্রাথমিক অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও সেটি আর আলোর মুখ দেখেনি।

 

 

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চিকিৎসকদের সুরক্ষা নয়, চিকিৎসা অবহেলায় রোগীদের প্রতিকার পাওয়ার বিষয়টিও আইনে সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। গত বছরের ১৩ মার্চ তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান গণমাধ্যমে বলেছিলেন, দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন চূড়ান্ত হবে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই আইন আলোর মুখ দেখেনি।

 

 

 

সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. জাহিদ রায়হানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। রাজধানীর মহাখালী এলাকায় হাসপাতালকেন্দ্রিক সন্ত্রাসী তৎপরতা ও চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার পর তার কার্যালয়ে এ হুমকিপত্র পৌঁছায়। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

 

 

 

এদিকে শনিবার রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) সহকারী পরিচালকের কক্ষে ঢুকে অস্ত্রের মুখে হুমকি দেয় স্থানীয় একদল যুবক।

 

 

 

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আউটসোর্সিং নিয়োগে নিজেদের লোক নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে তারা এ ঘটনা ঘটায়। দুপুরের দিকে সহকারী পরিচালক ডা. রাশেদের কক্ষে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

 

 

হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, কয়েকজন যুবক সহকারী পরিচালকের কক্ষে ঢুকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে এবং অস্ত্র প্রদর্শন করে হুমকি দেয়। তারা সরাসরি বলে, তাদের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে। অন্যথায় বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে। শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

অন্যদিকে হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার গভীর রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত চিকিৎসক নাসির ইসলামকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠাতে হয়েছে।

 

 

 

 

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার বিলাশখান এলাকার লাল মিয়া কাজী বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে স্বজনরা লিখিত অঙ্গীকার দিয়ে হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে চান। কিছু সময় পর রোগীর মৃত্যু হলে চিকিৎসক দেরিতে এসেছেন—এমন অভিযোগ তুলে স্বজনরা জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালান। একপর্যায়ে দায়িত্বরত চিকিৎসক নাসির ইসলামকে ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।

 

 

 

 

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মিতু আক্তার বলেন, আহত চিকিৎসককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে গত ২০ এপ্রিল রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আহমদ হোসেনের ওপর হামলার ঘটনাও দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

 

 

 

 

র্যাব জানিয়েছে, হাসপাতালের ঠিকাদারি কাজ নিয়ে বিরোধের জেরে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে তার ওপর হামলা চালানো হয়। মহাখালী এলাকায় হাঁটার সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। এ ঘটনায় মূল হামলাকারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

 

 

 

স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একের পর এক হামলা, হুমকি ও প্রভাব বিস্তারের ঘটনায় চিকিৎসক সমাজের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসী প্রভাবমুক্ত রেখে দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা গেলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও বড় সংকটে পড়বে।

 

 

 

 

সামগ্রিক বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি, যা অনেকেই মেনে নিতে পারছে না। ফলে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তার পেছনে মূলত টেন্ডার ও আউটসোর্সিং বাণিজ্য রয়েছে। টেন্ডারে যারা সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে, তাদের কাজ দিতে গেলে অন্য গ্রুপ সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে। আবার আউটসোর্সিংয়ের ঠিকাদাররা হাসপাতালে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এদের কথায় সব করতে হবে।

 

 

 

 

মন্ত্রী বলেন, এসব হুমকি দিয়ে আমাদের ভালো কাজ থামিয়ে দেওয়া যাবে না। আমি থেমে নেই। আমরা আউটসোর্সিং পদ্ধতি বাতিল করে দেব। এ ছাড়া এখন থেকে সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় সিভিল ড্রেসে র্যাব পাহারায় থাকবে।

সুত্র: দৈনিক কালবেলা

 

জলঢাকায় কালভার্টের বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষিমাড়াই দক্ষিণ পাড়া এলাকায় একটি কালভার্টের বেহাল অবস্থার কারণে জনসাধারণের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় হাজার হাজার মানুষের বসবাস। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক-কৃষাণীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কালভার্টটির অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা শ্রী গজেন চন্দ্র, রতন চন্দ্র রায়, হরি রায়, জ্যোতিষ রায়, স্বপন রায় ও মনসের আলীসহ অনেকেই বলেন, কালভার্টটির বেহাল অবস্থার কারণে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করতেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, দ্রুত সংস্কার কাজ না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাই উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করে কালভার্টটি দ্রুত সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের চার কমিটি

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সিরাজগঞ্জ জেলা, সদর উপজেলা, পৌর ও সরকারি কলেজ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত পত্রে ১ বছরের জন্য এসব কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে চারটি অনুমোদিত কমিটির তালিকা দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

রবিউল ইসলাম রুবেলকে সভাপতি ও আল-আমিন খানকে সাধারণ সম্পাদক করে ৮৯ সদস্য বিশিষ্ট সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ, রেজাউল করিম রাব্বীকে সভাপতি ও মো. রাসেল শেখ আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট সদর উপজেলা ছাত্রলীগ, মো. সিপন হাসান কাব্যকে সভাপতি ও আলামিন সরকার হিমেলকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট পৌর ছাত্রলীগ এবং মো. জীবন শেখকে সভাপতি ও জিম আহমেদ আকাশকে সাধারণ সম্পাদক করে ২২ সদস্য বিশিষ্ট সিরাজগঞ্জ সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

 

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বেরোবির সাবেক ভিসি গ্রেপ্তার

 

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দীন তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আজ সন্ধ্যায় তাকে মোম্মাদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ৯ এপ্রিল আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বেরোবির সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

 

রায়ে আদালত শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন।

 

 

 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন- পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনই গ্রেপ্তার আছেন।

 

 

 

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিন আসামিও পুলিশের সাবেক সদস্য। তারা হলেন- সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক উপ-পরিদর্শক এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়। তারা পলাতক। এছাড়া রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারাও পলাতক।

 

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেলকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমানকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাফিউল গ্রেপ্তার আছেন। হাফিজুর রহমান বর্তমানে পলাতক। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক।

 

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডলকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, সাবেক নিরাপত্তাপ্রহরী নুর আলম মিয়াকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মাহাবুবার রহমানকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাবেক এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা সবাই পলাতক।

 

 

 

 

রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক।আরপিএমপির সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেনকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটোয়ারীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা দুজনই পলাতক।

 

 

 

এই মামলার আসামি পলাতক চিকিৎসক মো. সরোয়ার হোসেনকে (চন্দন) পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে পলাতক।

 

 

 

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাফুজুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. ফজলে রাব্বি, সহসভাপতি মো. আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ও দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেনকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই পলাতক।

 

 

 

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদুল হাসানকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক। ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি কারাগারে আছেন।

 

 

আগামী ৮ বছরে কোনো প্রতিবন্ধী ভাতার বাইরে থাকবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আগামী ৮ বছরের মধ্যে দেশের কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সরকারি ভাতার বাইরে থাকবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, আগামী জুলাই মাস থেকে প্রতিবন্ধীদের তালিকাভুক্ত করে ভাতার আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু করা হবে। তিনি বলেন, যেসব পরিবারে প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে, তাদের দ্রুত নাম জমা দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে বলেছিলাম বেহেশতের টিকিট দেব না। এমন কিছু দেব, যা এই দুনিয়াতে মানুষের কল্যাণে কাজে আসবে। সেই লক্ষ্যেই আমরা ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছি।”

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বছরে মোট ৩০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। এতে পরিবারের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উপস্থিত নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের আত্মনির্ভরশীল করার চেষ্টা চলছে, যাতে তারা পরিবারের দায়িত্ব আরও ভালোভাবে পালন করতে পারেন।

তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে এক লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং নিরাপদ প্রসব সেবা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ উদ্বোধন করা হয়। নরসিংদীর বিন্নাবাইদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৬৬ জন উপকারভোগীর মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

হোসেনপুরে ভাঙা কালভার্টে জনদুর্ভোগ

‎কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা থেকে পাকুন্দিয়া উপজেলার কোদালিয়া হয়ে পুলেরঘাট অভিমুখী গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ঠাডারকান্দা বাজার সংলগ্ন কালভার্টটি মাঝখান থেকে ভেঙে পড়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।

 

 


‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন চলাচল করে। এছাড়াও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা কালভার্ট পার হতে হচ্ছে। সামান্য অসাবধানতাতেই ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

 

 


‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কালভার্টটির মাঝখানের অংশ ধসে পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এলাকাবাসী সাময়িকভাবে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধানের অভাবে দিন দিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও বিরাজ করছে আতঙ্ক যেকোনো মুহুর্তে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।

 

 


‎বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত ও পানির স্রোতে কালভার্টের অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

 

 


‎স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত ভাঙা কালভার্টটি সংস্কার অথবা নতুন করে একটি টেকসই কালভার্ট নির্মাণ করা হোক। তাদের ভাষ্য, হোসেনপুর ও পাকুন্দিয়া উপজেলার মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক এটি। তাই দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

 

 


‎শাহেদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ উদ্দিন বলেন,সংশ্লিষ্টদের বারবার বিষয়টি অবহিত করেছি আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।

 

 


‎এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস জানান, সেখানে নতুন একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আপাতত দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

 

 

নরসিংদীতে একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিলেন প্রসূতি মা

নরসিংদীতে অস্ত্রোপচারের (সিজারিয়ান) মাধ্যমে একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন মর্জিনা বেগম (২২) নামের এক প্রসূতি মা।

 

 

 

 

শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে জেলা শহরের পায়রা চত্ত্বরে অবস্থিত একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। একসঙ্গে তিন সন্তান জন্মের খবরে হাসপাতাল চত্বর ও স্বজনদের মাঝে আনন্দের সৃষ্টি হয়।

 

 

 

 

নবজাতকদের দুজন ছেলে এবং একজন মেয়ে। বর্তমানে মা ও তাঁর তিন নবজাতক সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

 

 

 

 

প্রসূতির বাবা আব্দুল হেকিম বলেন, প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম অনেক। পরে যখন শুনলাম আমার মেয়ের ২ ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তান হয়েছে, অনেক খুশি হয়েছি। পরিবারের সবাই অনেক খুশি। আমার মেয়ে এবং তার সন্তানেরা আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে।

 

 

 

 

ক্লিনিকের পরিচালক আরিফুল ইসলাম আবির জানান, শুক্রবার দুপুরে মর্জিনা নামের ওই প্রসূতি নারীর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনটি শিশুর জন্ম হয়। বর্তমানে মা ও সন্তানদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গাইনী সার্জন ডা. সুমাইয়া আজরীন অস্ত্রোপচারটি করেন।

 

 

 

তিনি জানান, মা ও তিন নবজাতকই সুস্থ আছে। এমন অপারেশন কিছুটা জটিল হলেও তা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

 

ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ১০ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ১০ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিজিবি।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) বিজিবি ও বিএসএফ’র মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটকদের হালুয়াঘাট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

 

 

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, আটকরা পাসপোর্ট বা কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে মেঘালয় পুলিশ তাদের আটক করে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ করা হয়। সকাল ৬টায় হালুয়াঘাট সীমান্তের মেইন পিলার ১১২০-এর নিকটবর্তী ধোপাঝুড়ি নামক স্থানে বিজিবি এবং ২২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিএসএফ আটককৃত ১০ বাংলাদেশিকে তেলিখালী বিজিবি ক্যাম্পের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করে।

 

 

আটকরা হলেন- রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা মো. মুক্তার হোসেন, মো. শাহজামাল হক, মো. আনিছুর রহমান, মো. কামাল হোসেন, শ্রী সিপেন, মো. ইব্রাহিম আলী, মো. নওশাদ আলী, মো. আকবর আলী, মো. জহিরুল ইসলাম এবং মো. শাকিম উদ্দিন।

 

অবৈধ অনুপ্রবেশের এই ঘটনায় ৩৯ বিজিবির অন্তর্গত তেলিখালী বিওপির নায়েব সুবেদার মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে হালুয়াঘাট থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পাসপোর্ট আদেশ, ১৯৭৩-এর ১১(১)(ক) ধারা অনুযায়ী অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

 

 

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

 

দরিদ্রদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে সরকার : অর্থমন্ত্রী

 

সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করবে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

 

 

তিনি বলেছেন, সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা করা হবে যার মাধ্যমে রোগীরা সেখানে চিকিৎসা নিলে ব্যয় সরকার বহন করবে।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি দেশের স্বাস্থ্যখাতে বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পাশাপাশি তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

 

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার দাবি করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমান সরকার ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজ করছে।

 

বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া সুবিধা, ডিজিটাল লাইব্রেরি, খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।

 

 

বাংলাদেশে মেডিকেল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ঘাটতি আছে। দক্ষ জনবলের অভাবে কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

 

 

 

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ভবনটির নকশায় পার্কিং সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। ভবনের প্রস্তাবিত নকশায় ৭২টি গাড়ি পার্কিং সুবিধা অপর্যাপ্ত এবং কমপক্ষে ২০০ থেকে ২৫০টি পার্কিং সুবিধা রাখা উচিত।

 

 

রাণীনগরে ঘুমন্ত গৃহবধূর শয়নকক্ষে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টা, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি গ্রেপ্তার

 

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় গভীর রাতে ঘুমন্ত এক গৃহবধূর শয়নকক্ষে অনুপ্রবেশ করে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) রাতে এই ঘটনায় স্থানীয়রা অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে ভুক্তভোগী গৃহবধূর দায়ের করা মামলায় পুলিশ গোলাম রব্বানী (৫০) নামের এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রিকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার গোলাম রব্বানী উপজেলার কচুয়া গ্রামের রহিম উদ্দীন প্রামানিকের ছেলে। শুক্রবার রাতেই লোহাচুড়িয়া গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই গৃহবধূ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এই সুযোগে গোলাম রব্বানী শয়নকক্ষে প্রবেশ করে তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। গৃহবধূর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে হাতেনাতে আটক করেন। ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল জানান, ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি গোলাম রব্বানীকে গ্রেপ্তার করে শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সেনবাগে ৩৮৮ পরিবারের মাঝে “ফ্যামিলি কার্ড” বিতরণ

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ৩৮৮টি সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে “ফ্যামিলি কার্ড” বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে ) বিকেল ৪টায় ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এ উপলক্ষে সেনবাগ উপজেলা মডেল মসজিদ অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়নুল আবেদিন ফারুক।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, টিএম মোশাররফ হোসেন এবং সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহসিয়া তাবাসসুম।
অনুষ্ঠানে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে উপকারভোগী ৩৮৮ পরিবারের সদস্যদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে “ফ্যামিলি কার্ড” তুলে দেওয়া হয়।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর মাঝে সহায়তা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ডাকাতি করা গরুর মাংস সরবরাহ হতো ঢাকার সুপারশপে

 

সিরাজগঞ্জ থেকে ডাকাতি করা গরু জবাইয়ের পর মাংস ঢাকার বিভিন্ন সুপারশপে সরবরাহ করা হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রায় এক বছর আগে সংঘটিত গরু ডাকাতির একটি মামলার তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

 

 

 

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে কোন কোন সুপারশপে ওই মাংস সরবরাহ করা হতো, তা প্রকাশ করেনি পুলিশ।

 

 

 

শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আসলাম।

 

 

 

গ্রেপ্তাররা হলেন মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা গ্রামের মো. আব্দুল্লাহর ছেলে রিপন ওরফে হাসান, ঢাকার আশুলিয়া উপজেলার এনায়েতপুরের জুলমত খানের ছেলে জিয়া হোসেন এবং পাবনার বেড়া উপজেলার মোহনগঞ্জ গ্রামের গোলজার সেখের ছেলে আব্দুল আলিম।

 

 

 

পুলিশের দাবি, জিয়া হোসেন ঢাকার বিভিন্ন সুপারশপে মাংস সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার সঙ্গে আব্দুল আলিম সহযোগী কসাই হিসেবে কাজ করতেন।

 

 

 

পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আমানুল্লাহ উত্তরাঞ্চল থেকে ১৪টি ষাঁড় কিনে পিকআপভ্যানে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। রাতে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কের সলঙ্গা এলাকায় ডাকাত দল ট্রাক দিয়ে পিকআপটির গতিরোধ করে। পরে চালক, সহকারী ও গরুর রাখালদের হাত-পা বেঁধে গরুগুলো নিজেদের ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন ওই ব্যবসায়ী।

 

 

 

ওসি আলী আসলাম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার রিপন ওরফে হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ডাকাতির গরু জবাই, মাংস বিক্রি এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিষয়ে জবানবন্দি দেন। সলঙ্গা থানা আমলি আদালতের বিচারক ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে রিপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়া এলাকা থেকে জিয়া হোসেন ও আব্দুল আলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

এদিকে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে গবাদি পশু লুটের আশঙ্কা বেড়েছে। যমুনা নদীর দুর্গম চরের চৌহালী উপজেলার ঘোরজান ইউনিয়নের মুরাদপুর কাউনিয়ার চরে গত বছরের ২০ মে গো-খামারি তারা মিয়াকে হত্যা করে গবাদি পশু লুটের ঘটনা ঘটে। আলোচিত ওই মামলার তদন্তেও সংঘবদ্ধ গরু ডাকাত চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

 

 

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক এসআই সারফুল ইসলাম বলেন, তারা মিয়া হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের কালিহাতী এলাকার গফুর ও তার ছেলে গিয়াস উদ্দিনসহ আরও ১৪ আসামি পলাতক রয়েছেন। আগামী সপ্তাহে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

 

অন্যদিকে গরু চুরি ও ডাকাতি ঠেকাতে সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সহায়তায় রাতভর পাহারা দিচ্ছেন খামারি ও স্থানীয়রা। সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নেও ঈদ সামনে রেখে গবাদি পশুর চুরি হওয়ার আশঙ্কায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী।

 

 

 

বহুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন বলেন, অপরিচিত গাড়ি, ট্রাক, পিকআপভ্যান ও বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোই পাহারার মূল লক্ষ্য।

 

 

অভিনয় ছাড়িয়ে এবার নির্মাণে হাত দিতে চান দীঘি

শিশুশিল্পী হিসেবেই সিনেমায় আসেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। তবে এখন তিনি পূর্ণাঙ্গ নায়িকা। শিশুশিল্পী থাকাকালেই তিনি বেশ জনপ্রিয়তা পান। একাধিক সিনেমায় তিনি জনপ্রিয় সব নায়কের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। সে ধারাবাহিকতায় শাকিব খানের সঙ্গেও ‘চাচ্চু’ সিনেমায় কাজ করেছেন এ অভিনেত্রী। সিনেমায় শাকিবকে চাচ্চু বলেই ডাকতেন। আজও দীঘি শাকিব খানকে পর্দার বাইরে সেই স্থানেই রেখেছেন।

 

 

 

একবার গণমাধ্যমে এ বিষয়ে দীঘি বলেছিলেন, কখনও শাকিবের নায়িকা হিসেবে অভিনয় করতে চান না তিনি। এবার তিনি জানালেন, সময় ও সুযোগ হলে শাকিব খানের একটি ভিন্নধর্মী সাক্ষাৎকার নিতে চান।

 

 

 

সম্প্রতি তিনি অতিথি হয়েছিলেন পডকাস্ট শো ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’তে। রুম্মান রশীদ খানের সঞ্চালনায় এই পডকাস্টে দীঘি বলেন, যেহেতু একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগে তিনি পড়ছেন, সেই সূত্র ধরেই এক দিনের জন্য হলেও সাংবাদিকতা করতে চান তিনি।

সঞ্চালকের প্রশ্নে অভিনেত্রী আরও জানান, অনেকদিন ধরেই তার ইচ্ছা শাকিব খানের সাক্ষাৎকার নেওয়ার; যে সাক্ষাৎকার কিছুটা ভিন্নধর্মী হবে। এক দিনের জন্য হলেও ক্যামেরার পেছনে কাজ করতে চান তিনি।

১২০ মিনিটের পডকাস্টে দীঘি খোলামেলা অনেক কথা বলেছেন, তাকে ঘিরে বিভিন্ন কৌতূহল ও সমালোচনার উত্তর দিয়েছেন। জানিয়েছেন, পরিচালক হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে তার। চিত্রপরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, রায়হান রাফী, জয়া আহসান, পূজা চেরী, তৌহিদ আফ্রিদিকে নিয়েও এই শোতে দীঘি এবার এমন কিছু বলেছেন, যা আগে কখনো বলেননি। গতকাল রাতেই এটি মাছরাঙা টিভিতে প্রচার হয়েছে।

 

 

আমরা শুধু স্বপ্ন দেখতে চাই না, পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকে থেকে আমাদের কাজ হবে একটাই, সেটা হচ্ছে দেশ গঠন, রাষ্ট্র পুনর্গঠন। এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা। আমরা শুধু স্বপ্ন দেখতে চাই না, আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই। যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের উপকার হবে।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারের খোর্দ্দ খাল পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে এ আহ্বান জানান তিনি।

 

 

 

তারেক রহমান বলেন, আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই। যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে ও দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ৪৮ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করে দিয়ে গিয়েছিলেন, সেই খাল পুনর্খননের এ অনুষ্ঠান। আসুন আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা করি, কী প্রতিজ্ঞা? সেটা হচ্ছে- দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা।

বিএনপি জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে যে সকল প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আগামীতে সকল প্রতিশ্রুতি আস্তে আস্তে বাস্তবায়ন করব।

তিনি বলেন, আমরা যারা বিএনপি করি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল করি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দল করেছি, আমরা সবাই বলি- জনগণই হচ্ছে আমাদের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। আপনাদের শক্তিই আমাদের শক্তি। আপনারা যতক্ষণ আমাদের পাশে থাকবেন, যতক্ষণ সমর্থন থাকবে, আমাদের দেশ গড়ার কাজ ইনশাআল্লাহ চলতে থাকবে।

 

 

 

দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আজকে এ খাল কাটা অনুষ্ঠানে আসুন আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক, আমাদের শপথ হোক যে- ‘আমরা করবো কাজ, সবার আগে বাংলাদেশ।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কাজে বিশ্বাসী, কথায় নয়। আজ আপনারা আমাদের ক্ষমতায় এনেছেন। এবার আপনাদের প্রতি নির্বাচনপূর্ব যে সমস্ত ওয়াদা দিয়েছি, তা এক এক করে বাস্তবায়ন শুরু করছি। ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, কৃষকদের কৃষি কার্ড প্রদান কর্মসূচি শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে আপনাদের দেওয়া সকল ওয়াদা পূরণ করা হবে।

 

 

 

তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে এবং দেশের খাদ্য সংকট নিরসন ও অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটাতে সমগ্র দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।

 

 

 

এর আগে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারের ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনর্খননস্থলে পৌঁছে ফলক উন্মোচন করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

ফলক উন্মোচনের পরে খালের তীরে নেমে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন তিনি। পরে খালের তীরে বৃক্ষরোপণ করেন।

 

 

 

চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, শিক্ষামন্ত্রী আ.ন.ম এহসানুল হক মিলন।

 

 

 

খোর্দ্দ খালটি ১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম খনন করে ছিলেন। ১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য খালটি ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। তৎকালীন সময়ে এ খালের পানি দিয়ে কৃষকরা সোনালী ফসল ফলাতো। দীর্ঘ ৪২ বছর পর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানে সন্তান বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালটি পুনর্খনন কাজ শুরু করায় আবার এ এলাকার কৃষকরা খুশি।

 

জাপানের কর্মী ভিসা স্থগিত, বাড়ছে শ্রমিক সংকটের শঙ্কা

 

বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মভিসা স্থগিত করায় শ্রমিক সংকট নিয়ে উদ্বেগে পড়েছে জাপানের রেস্তোরাঁ শিল্প। দেশটির সংবাদমাধ্যম কিয়োদো নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

 

 

 

স্থগিতাদেশটি “টাইপ-১ স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার” ভিসার ওপর প্রযোজ্য। জাপানে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি কর্মী নিয়োগে এই ভিসা ব্যবহার করে আসছে।

 

 

 

প্রাথমিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খাদ্যসেবা খাতে এই ভিসার আওতায় বিদেশি কর্মীর সংখ্যা বেড়ে ৪৬ হাজারে পৌঁছেছে। অথচ ২০২৮ অর্থবছর পর্যন্ত নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা ৫০ হাজার।

 

 

এতে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, বিদেশি কর্মীরা জাপানে কাজের পরিকল্পনা বাতিল করে অন্য দেশে চলে যেতে পারেন।

 

বড় রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠান স্কাইলার্ক হোল্ডিংস এবং মোস ফুড সার্ভিসেস জানিয়েছে, নতুন বিধিনিষেধ তাদের কর্মী নিয়োগ, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও রেস্তোরাঁ পরিচালনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

 

 

শিল্পসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোও সতর্ক করেছে, বৈধ ভিসাধারী কর্মীদের জন্য নিয়োগদাতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে। একই সঙ্গে বিদেশি শ্রমিকদের কাছে জাপানের আকর্ষণ কমে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

 

 

 

কম জন্মহার ও বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে জাপানে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমছে। কঠোর অভিবাসন নীতি থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি ক্রমশ বিদেশি শ্রমশক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে।

 

 

ফুটবলের রাজা মেসি, কি সত্যিই বিদায় নিচ্ছেন বিশ্বকাপ থেকে?

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ খেলতে যাবে আলবিসেলেস্তেরা। ইতোমধ্যেই ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দল জমা দিয়েছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এখন অপেক্ষা চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণার, যা ঠিক করবেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।

 

 

শুক্রবার (১৫ মে) কনমেবলের এক সাক্ষাৎকারে আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস, ২০২২ এর বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি এবং লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন স্কালোনি।

 

 

 

আর্জেন্টিনার কোচ বলেন, ‘বিশ্বকাপ খুব কঠিন একটি প্রতিযোগিতা। শুধু ভালো খেললেই হয় না, আরও অনেক কিছু ঠিকঠাক হতে হয়। আমরা সবসময় যেমন চেষ্টা করি, এবারও তেমনই সর্বোচ্চটা দিতে চাই। কারণ আর্জেন্টিনা প্রতিবার বিশ্বকাপে শিরোপার লক্ষ্য নিয়েই নামে। এটা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।’

আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির এটাই হতে তার সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ। এ প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘তাকে (মেসি) খেলতে দেখা দারুণ ব্যাপার। এটা তার শেষ বিশ্বকাপ কি না, সেটা নিয়ে আমি ভাবতে চাই না। আমি বর্তমানটা উপভোগ করতে চাই। সবাই তাকে খেলতে দেখতে চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই সে খেলতে থাকুক। কারণ যখন এমন কিংবদন্তিরা আর মাঠে থাকে না, তখন খারাপ লাগে, যেমনটা দিয়েগো ম্যারাডোনার ক্ষেত্রে হয়েছিল। তারা ফুটবল ইতিহাসের অংশ। মেসি আর খেলবে না, এটা ভাবতেই মন খারাপ হয়। তাই আমি বর্তমান নিয়েই থাকতে চাই।’

আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে স্কালোনির সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০২২ এর বিশ্বকাপ জয়। এছাড়াও দুটি কোপা আমেরিকা ও লা ফিনালিসিমার শিরোপাও আলবিসেলেস্তেদের এনে দিয়েছেন। দলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কিছুই ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিই না। তবে খেলোয়াড়দের যা বলার, খুব সংক্ষিপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোই বলি। কারণ অতিরিক্ত তথ্য দিলে তারা বিভ্রান্ত হয়ে যায়। আমরাও তো একসময় খেলোয়াড় ছিলাম, তাই জানি তাদের কী দরকার। আমরা সবসময় তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখি।’

 

ভাইকে বাঁচানোর চেষ্টায় প্রাণ হারালেন বড় ভাই

লালমনিরহাটের সদর উপজেলায় তিস্তা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে উপজেলার রাজপুর এলাকার তিস্তা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

 

তারা হলো- রাজাপুর গ্রামের রেজাউল করিম ও শিউলি বেগম দম্পতির বড় ছেলে এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র শেফাউল করিম সিফাত (১৮) ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্র শোয়েব করিম স্বচ্ছ (১৪)। দুজন জেলা শহরের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র ছিল।

 

 

 

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুই ভাই এক সঙ্গে তিস্তা নদীতে গোসল করতে নামে। গোসল করার একপর্যায়ে ছোট ভাই স্বচ্ছ পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। চোখের সামনে ছোট ভাইকে পানিতে ডুবতে দেখে বড় ভাই শিফাত তাকে বাঁচাতে যায়, কিন্তু খরস্রোতা তিস্তার প্রবল স্রোতে একপর্যায়ে দুজনই নিখোঁজ হয়ে যায়।

দুই ভাইকে খুঁজতে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আধঘণ্টা পর নদী থেকে দুই ভাইকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

লালমনিরহাট সদর থানার ওসি সাদ আহমেদ বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় সদর হাসপাতাল থেকেই দুই ভাইয়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

 

কারিনার মরদেহ দেশে পৌঁছাবে আগামীকাল

 

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের অকাল মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ দেশের শোবিজ অঙ্গন। প্রিয় এই তারকাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ব্যাকুল হয়ে আছেন তার সহকর্মী, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তবে সব ধরণের আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় শনিবার (১৬ মে) কারিনার মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তার বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার কায়সার হামিদ।

 

 

 

সংবাদ মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, রোববার (১৭ এপ্রিল) তার মরদেহ চেন্নাই থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছাবে।

 

 

 

গণমাধ্যমকে কায়সার হামিদ বলেন, প্রিজার্ভ সংক্রান্ত কিছু বিষয় আছে। সব প্রক্রিয়া শেষে আজ বেলা ৩টার ফ্লাইট ধরা সম্ভব নয়, তাই আগামীকাল রোববারের ফ্লাইটে চেন্নাই থেকে ঢাকায় আসবে ওরা।

বেশ কিছুদিন লিভারের জটিলতায় ভুগে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোর খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কারিনা কায়সার। তার বাবা জানান, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ ওর প্রেশার অনেক নিচে নেমে গেলে আর বাঁচানো সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হলেও পরে কারিনার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ এবং ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চেন্নাই নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকেরা ফুসফুসের সংক্রমণের চিকিৎসা ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

 

 

উল্লেখ্য, অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিত কারিনা কায়সার হামিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।

 

 

ইরানের নতুন সিদ্ধান্তে আলোচনায় হরমুজ প্রণালি

ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম ও প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। যুদ্ধ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের ওপর নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

 

 

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয় এই প্রণালির মাধ্যমে। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ নয়। তবে এটি ‘বন্ধু ও নিরপেক্ষ’ দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত থাকলেও, ‘শত্রু’ দেশগুলোর জন্য কার্যত বন্ধ থাকবে। খবর আল জাজিরার।

 

 

 

এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সম্প্রতি প্রণালিটির ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেকোনো জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানি কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে আইআরজিসির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

এ ছাড়া, প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজ, তেলবাহী ট্যাংকার ও অন্যান্য নৌযানের কাছ থেকে ট্রানজিট ফি আদায়ের বিষয়েও আলোচনা করছে ইরান।

সবশেষে ইরান জানিয়েছে, কোনো সামরিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হবে না।

 

 

জলাবদ্ধতায় পানির নিচে ৩ হাজার বিঘা পাকা ধান, চরম বিপাকে রায়গঞ্জের কৃষক

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৬:০৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
ভারী বৃষ্টি তে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ও ধুবিল ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমির পাকা ধান জলাবদ্ধতার কারণে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
 শনিবার (১৬ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কলিয়া, শ্রীরামপুর, গোপালপুর, পশ্চিম আটঘরিয়া, গোপীনাথপুর, চকদাদপুর, বাশাইল, রাজাপুর ও বোয়াইল মৌজার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতি বছরই এ দুর্ভোগ বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষক মঈনুল হক বলেন, “আমন মৌসুমে কোনো আবাদ করা যায় না। ইরি-বোরো চাষ করলেও শেষ পর্যন্ত ধান ঘরে তুলতে পারি না।”
আরেক কৃষক সাইফুল ইসলাম দুলাল জানান, “এক বিঘা জমির ধান কাটতে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত শ্রমিক মজুরি দিতে হয়। পানিতে ধান পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এ কারণে ধানের ব্যবসায়ীরাও ধান কিনতে চান না। বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করতে হয়।”
দিনমজুর কালু সেখ বলেন, হাঁটুসমান পানিতে নেমে ধান কাটতে গিয়ে শ্রমিকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় জোতদার আব্দুল কুদ্দুস সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অতি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ জরুরি। তা না হলে নতুন করে পুকুর খননের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান যে , রায়গঞ্জ উপজেলায় যে সকল স্খানে বর্ষা মৌসুমে সেগুলো তালিকাভুক্ত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে এবং বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই সেই জায়গাগুলোতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেছেন। এছাড়াও বিষয়টি উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভায় উপজেলা কৃষি অফিসার জোড়ালো তুলে ধরেছেন।
৬৪,সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হক বলেন, “আধুনিক পাইপলাইন ও স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু করা গেলে হাজারো কৃষক উপকৃত হবেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। আগামী মৌসুমের আগেই জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সক্রিয় হয়ে উঠছে মায়ন আগ্নেয়গিরি, দেখা দিয়েছে নতুন ভূকম্পন

ফিলিপাইনের মায়ন আগ্নেয়গিরিতে নতুন করে তীব্র অস্থিরতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কয়েক ডজন আগ্নেয় ভূমিকম্প ও কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিপাইনের আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা।

 

 

 

শনিবার আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে ফিলিপাইন আগ্নেয়গিরি ও ভূকম্পবিদ্যা ইনস্টিটিউটের (ফিভলক্স) বরাতে খবর প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরিটিতে ৫১টি আগ্নেয় ভূমিকম্প, ৩০টি আগ্নেয় কম্পন, শত শত শিলা ধস এবং ৬টি পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহের সংকেত শনাক্ত করা হয়েছে।

 

 

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগ্নেয়গিরির গহ্বর থেকে অব্যাহতভাবে লাভা বের হচ্ছে। লাভার প্রবাহ বাসুদ, বংগা ও মি-ইসি এলাকার দিকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু সময়ের জন্য লাভার ফোয়ারাও দেখা গেছে।

শুক্রবার আগ্নেয়গিরিটি থেকে ১ হাজার ৪৮২ টন সালফার ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় বেশি। এ সময় ধোঁয়ার স্তম্ভ দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

কর্তৃপক্ষ আগ্নেয়গিরির চারপাশের ৬ কিলোমিটার স্থায়ী বিপৎসীমায় প্রবেশ নিষিদ্ধ রেখেছে এবং ওই এলাকার কাছ দিয়ে বিমান চলাচল না করারও সতর্কতা দিয়েছে।

ফিভলক্স আশপাশের বাসিন্দাদের লাভা প্রবাহ, শিলা ধস, পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহ, মাঝারি বিস্ফোরণ এবং ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট কাদাপ্রবাহের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে।

 

ধর্ষণের শিকার নাতনিকে রক্ষা করতে গিয়ে খুন হলেন দাদি

সিলেটের গোয়াইনঘাটে রাতে ঘর থেকে নাতনিকে জোরপূর্বক তুলে নিতে বাধা দেওয়ায় দুর্বৃত্তের হামলায় দাদি নিহত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টা ও তাতে বাধা দেওয়ায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) রাত ৩টার দিকে উপজেলার ১ নং রুস্তুমপুর ইউনিয়নের বীরমঙ্গল হাওর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সকাল ১০টায় দিলারা বেগম (৫৪) নামে ওই দাদির মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

 

 

নিহত দিলারা বেগম (৫৪) উপজেলার বীরমঙ্গল হাওর গ্রামের মৃত মাহমুদ হোসেনের স্ত্রী। এ ঘটনায় কিশোরী ও তার মা গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা দুজনেই গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে ওই কিশোরীর অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে অজ্ঞাত তিন যুবক দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এসময় তারা কিশোরীর মুখ চেপে ধরে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিশোরীর চিৎকার শুনে তার মা এগিয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তার হাতে কামড় দেয়। এক পর্যায়ে কিশোরী চিৎকার করতে থাকলে তাকে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়।

 

মা ও মেয়ের চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে দাদি দিলারা বেগম বের হয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাকে বুকের ডান পাশে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

 

 

পার্শ্ববর্তী বাড়ির আলকাছ মিয়া শুভ জানান, জরাজীর্ণ একটি টিনের ঘরে নিহত দিলারা বেগম ও তার ৩০ বছরের প্রতিবন্ধী মেয়ে, নাতনিসহ ৫ জন বাড়িতে থাকেন। নিহতের দুই ছেলে ঋণ করে গত কয়েকমাস পূর্বে জীবিকার তাগিদে প্রবাসে যান। তিনি রাত তিনটার দিকে ওই বাড়িতে কান্নাকাটির আওয়াজ শুনতে পান। পর দৌড়ে পার্শ্ববর্তী বাড়ির লোকজনসহ গিয়ে দেখতে পান দিলারা বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। ওই সময় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সে মারা যান। এদিকে মেয়ে ও মেয়ের মা আহত অবস্থায় পরে আছে।

 

 

 

কিশোরীর মা জানান, হঠাৎ রাত ৩ টার দিকে ঘুম থেকে জেগে দেখেন দরজা খোলা। আকাশের বিজলীর আলোয় দেখতে পান এক ব্যক্তি তার মেয়ের ওপর চড়াও হয়ে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করছেন। বাধা দিলে ওই ব্যক্তি আমার মেয়েকে মুখ চেপে ধরে বাহিরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে বাধা দিতে গেলে ওই ব্যক্তি তার হাতে কামড় দেয় এবং হাবিবাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।

 

 

 

 

তিনি আরও জানান, মা ও মেয়ের চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে তার শাশুড়ি দিলারা বেগম দরজার সামনেন এগিয়ে এসে বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর জখম হয়ে সেখানেই লুটিয়ে পড়েন।

 

 

 

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুর্বৃত্তরা মধ্যরাতে ঘরে প্রবেশ করে এবং কিশোরীকে অপহরণ বা ধর্ষণের উদ্দেশে এ হামলা চালাতে পারে।

 

 

 

গোয়াইনঘাট থানার কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।

 

 

নিজের নেতৃত্বকে সাকিব-মাশরাফির চেয়ে এগিয়ে বললেন লিটন

ভালো অধিনায়কত্বের জন্য চাই পরিপূর্ণ আত্মবিশ্বাস। আর সেই আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর লিটন দাস। টাইগারদের তিন ফরম্যাটে নেতৃত্ব দেওয়া এই ক্রিকেটার বর্তমানে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। আর অধিনায়ক হিসেবে তিনি নিজেকে এতটাই সফল মনে করেন যে, নিজেকে এগিয়ে রেখেছেন সাকিব-তামিম এমনকি মাশরাফির চেয়েও।

 

 

 

সম্প্রতি বিসিবির এক পডকাস্টে লিটনকে প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশের অল টাইম সেরা ক্যাপ্টেন বিবেচনা করে দুজন থেকে একজন বেছে নিলে, লিটন নাকি সাকিব কাকে বেছে নেবেন? জবাবে লিটন বলেন, ‘কঠিন… তবে আমি আমাকেই বেছে নিব।‘

 

 

 

পরের প্রশ্ন ছিল, ‘লিটন দাস নাকি তামিম ইকবাল?’ লিটন জবাব দেন, ‘রেকর্ডের দিক দিয়ে আমি।‘ ‘লিটন দাস নাকি নাজমুল হোসেন শান্ত?’ এই প্রশ্নের জবাবেও বলেন, ‘আবারো, রেকর্ডের দিক দিয়ে আমি।‘

সঞ্চালক লিটনের এত আত্মবিশ্বাস দেখে একপর্যায়ে বলেই বসেন, এই কনফিডেন্সই দলের লাগবে! পরের প্রশ্ন ছিল, লিটন দাস নাকি মেহেদী হাসান মিরাজ? এবারো লিটনের জবাব- ‘আমি।’

এরপর যে প্রশ্ন এবং উত্তর, লিটন নিজেই মানছেন এ নিয়ে সৃষ্টি হতে পারে বিতর্ক। বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক জানতে চাইলে অনেকেই নাম নেন মাশরাফি বিন মর্তুজার। তবে লিটন রেকর্ডের দিক বিবেচনায় নিজেকে মাশরাফির চেয়ে এগিয়ে রেখেছেন।

তিনি বলেন, ‘ভাইয়ার অধীনে অনেক দিন খেলেছি। সব ফরম্যাট খেলা হয়নি। রেকর্ডের দিক দিয়ে, আমি যেসব ফরম্যাটে করেছি রেকর্ড আমার খুব ভালো। তবে এটা নিয়ে অনেক বিতর্ক হবে আমি বুঝতে পারছি।’

 

 

 

এরপর মুশফিক রহিম ও খালেদ মাহমুদ সুজনের সাথে তুলনায়ও লিটন নিজের নামই নিয়েছেন। লিটন অবশ্য অধিনায়ক হিসেবে দ্বিধাহীনভাবে রয়েছেন অনন্য উচ্চতায়। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের অধিনায়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জয়ের হার তার- ৫২.৬৩। নিয়মিত অধিনায়কদের অনুপস্থিতিতে বাকি দুই ফরম্যাটেও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এনে দিয়েছেন সাফল্যও। ওয়ানডেতে ভারত বধের পাশাপাশি টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বরেকর্ড গড়া জয়ও আছে তার।

 

 

 

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে ৩৯টি ম্যাচে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার মধ্যে জিতেছেন ২০টি ম্যাচ। বর্তমান টি-টোয়েন্টি দল যে উড়ন্ত ফর্মে রয়েছে, এর পেছনেও আছে লিটনের নেতৃত্বগুণের বড় অবদান। আর তিন ফরম্যাটেই খেলে যাওয়া এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার ব্যাট হাতে তো অভয় দিয়েই যাচ্ছেন দলকে, নিয়মিতভাবে। তাই এমন আত্মবিশ্বাস যেন লিটন দাসকেই মানায়।

 

সারাদেশে হাম উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

হাম ও হামের উপসর্গে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৪৫৩ শিশু প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয় ৭৪ জনের।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়।

 

 

 

অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৪১ হাজার ২৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই সময়ে মোট সাত হাজার ৫২৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৩৬ হাজার ৬৪৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছে।

 

বেলকুচিতে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।

 

 

শনিবার সকালে বেলকুচি খাদ্যগুদাম প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জ- ৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম।

 

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান।

 

 

এসময় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আনোয়ার হোসেন, খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কবির, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম গোলাম, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব বনি আমিন, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান, বেলকুচি পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হাজী আলতাফ হোসেন প্রামানিক, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম শফি, বেলকুচি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।

 

 

উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে ৩৬ টাকা কেজি দরে সরাসরি প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ৮৭৮ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হবে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন ধান খাদ্যগুদামে দিতে পারবেন। এছাড়া ৪৯ টাকা কেজি দরে ৩৪৪ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ও ৩৬ টাকা কেজি দরে ১৩২ মেট্রিক টন গম  সংগ্রহ করা হবে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই সংগ্রহ অভিযান চলবে।

রাণীনগরে প্রকাশ্যে হামলা, যুবদল নেতা বহিষ্কার

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে হাটের মধ্যে সংঘটিত নৃশংস হামলায় রেজাউল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ রায়হান ইসলাম (৩২) নামের একজন আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে উপজেলার খাঁনপুকুর হাটে রেজাউল ইসলামকে বেধড়ক মারধর করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় গ্রামবাসীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি ঘটলে পরবর্তীতে তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ সময় আহত ব্যক্তিকে রক্ষা করতে গিয়ে আনিছুর রহমান ও আলাউদ্দিন নামের আরও দুইজন আহত হন।
এ ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী আদরী বিবি বাদী হয়ে শুক্রবার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় যুবদল নেতা রেজাউল ইসলাম উজ্জল ও বিএনপি কর্মী আতাউরসহ অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবারই দ্রুত ব্যবস্থা নেয় দল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল নওগাঁ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ময়নূল হক লিটন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় — দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতিবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে কালীগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রেজাউল ইসলাম উজ্জ্বলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রাণীনগর থানার ওসি জাকারিয়া মন্ডল জানান, মামলার প্রেক্ষিতে একজন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

পাকিস্তানি বোলারদের তোপে অলআউটের শঙ্কায় বাংলাদেশ

মধ্যাহ্ন বিরতির পরও আরেকদফা ব্যাটিং ব্যর্থতার চিত্র বাংলাদেশ শিবিরে। প্রথম সেশনে ৩ উইকেট হারানোর পর দুপুরের খাবার খেয়ে এসে বেশিক্ষণ টিকলেন না নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজরা। একের পর এক উইকেট হারিয়ে রীতিমতো ধুঁকছে বাংলাদেশ।

 

 

 

ঢাকা টেস্টের একাদশ না থাকলেও সিরিজ নির্ধারণী টেস্টে ফেরানো হয় খুররম শেহজাদ। একাদশে জায়গা পেয়েই যেন তাঁতিয়ে উঠেছেন এই পেসার। মুমিনুল হকের পর এবার মুশফিককেও ফেরালেন। শেহজাদের মতো দারুণ বোলিং করে যাচ্ছেন মোহাম্মদ আব্বাস। তাদের যৌথ আক্রমণে এরই মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।

 

 

 

মুশফিক আউট হলে ক্রিজে আসেন মিরাজ। ১১০ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে দল তখন ধুঁকছে। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের বিকল্প ছিল না। কিন্তু সেটা না করে উল্টো বড় শট খেলার চেষ্টায় আউট মিরাজ। ৪ রান এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। মাহমুদুল হাসান, তানজিদ হাসান তামিম এবং মুমিনুল হককে হারিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের সংগ্রহ ছিল ১০১ রান। ৬৩ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর শান্ত এবং মুশফিকের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতির পর আবার ধস নামে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনে।

দ্বিতীয় সেশনে ব্যাট করতে নেমে ১৫ রানের মধ্যে ৩ ব্যাটারকে হারায় বাংলাদেশ। ঢাকা টেস্টের দুই ইনিংসে ১৮৮ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন শান্ত। এবারও বড় ইনিংসের আভাস মিলছিল তার ব্যাটে। কিন্তু অধিনায়ক থেমেছেন ২৯ রানে। আব্বাসের বলে মোহাম্মদ রিজওয়ানের গ্লাভস বন্দী হন শান্ত।

মুশফিককে ফেরান শেহজাদ। ২৩ রান করা ব্যাটারকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন পাকিস্তানি পেসার। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই সফরকারীদের ভুলে বেঁচে গিয়েছিলেন মুশফিক। সাজিদের বলে রিজওয়ানকে ক্যাচ দিলেও ফিল্ড আম্পায়ার আউট দেননি। পাকিস্তানও শেষ পর্যন্ত রিভিউ নেয়নি। পরে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বল মুশফিকের গ্লাভস ছুঁয়ে গিয়েছিল। সেবার বেঁচে গেলেও দলের বিপদে ব্যাট হাতে দাঁড়াতে পারলেন না এই ব্যাটার। মুশফিকের পর মিরাজকে হারালে চাপ আরও বেড়ে যায় বাংলাদেশের।

 

জাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা : বিচারের দাবিতে প্রক্টর কার্যালয়ে তালা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রক্টর কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) বেলা ১১টার দিকে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে প্রক্টরিয়াল টিমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রক্টর কার্যালয়ে তালা দেন তারা।

 

 

 

প্রক্টর কার্যালয়ের দুটি দরজার তালা ভেঙে নতুন তালা ঝুলিয়ে রোববার (১৭ মে) থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধের কর্মসূচিও ঘোষণা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা তাবাসসুম বলেন, গত ১২ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার পরদিন ১৩ মে নারী শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে অপরাধীকে গ্রেপ্তারের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে শুক্রবার রাত ২টা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা।

তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হলে প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগ। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও অপরাধী গ্রেপ্তার হননি। উল্টো প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করেছে এবং নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে।

এছাড়া দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আগামীকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

 

 

 

উল্লেখ্য, এর আগে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে নিয়ে পাশের জঙ্গলে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার অজ্ঞাত যুবককে আসামি করে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

 

জনগণ চাইলে কুমিল্লা বিভাগ হবে : প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লাকে বিভাগ করা জনগণের দাবি হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

শনিবার (১৬ মে) দুপুরের দিকে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে পথসভায় যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

 

পর্যায়ক্রমে সব ওয়াদা পালন করার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনে বিএনপি জনগণকে যে ওয়াদা দেয়, সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা ইমাম, মোয়াজ্জিনদের সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন আমরা নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমরা মানুষকে কার্ড দেওয়া শুরু করেছি। এই এলাকার মানুষও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। আগামী জুনে যে বাজেট, সেখানে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য অনেক বরাদ্দ রয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে গুম, মামলা করা হতো। দেশের মানুষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তাদেরকেই দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। দেশের মানুষের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বহু মানুষ শহীদ হয়েছে। বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে।

 

তারেক রহমান বলেন, এই দেশের মানুষ এক বিরাট স্বৈরাচারের কবলে পড়েছিল। কিন্তু দেশের মানুষ মুক্ত হয়েছে সেই অবস্থা থেকে। তবে শুধু দেশ স্বাধীন করলে হবে না— দেশ যদি স্বাধীন করি, দেশকে যদি স্বৈরাচারমুক্ত করি, পরবর্তী কাজ হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা।

রাস্তার মাঝখানে মরণফাঁদ

‎কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা থেকে পাকুন্দিয়া উপজেলার কোদালিয়া হয়ে পুলেরঘাট অভিমুখী গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ঠাডারকান্দা বাজার সংলগ্ন কালভার্টটি মাঝখান থেকে ভেঙে পড়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। ভাঙ্গা কালভার্টটি রাস্তার মাঝখানে মরণফাঁদের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন চলাচল করে। এছাড়াও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা কালভার্ট পার হতে হচ্ছে। সামান্য অসাবধানতাতেই ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কালভার্টটির মাঝখানের অংশ ধসে পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এলাকাবাসী সাময়িকভাবে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধানের অভাবে দিন দিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও বিরাজ করছে আতঙ্ক যেকোনো মুহুর্তে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
‎বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত ও পানির স্রোতে কালভার্টের অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
‎স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত ভাঙা কালভার্টটি সংস্কার অথবা নতুন করে একটি টেকসই কালভার্ট নির্মাণ করা হোক। তাদের ভাষ্য, হোসেনপুর ও পাকুন্দিয়া উপজেলার মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক এটি। তাই দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
‎শাহেদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ উদ্দিন বলেন,সংশ্লিষ্টদের বারবার বিষয়টি অবহিত করেছি আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।
‎এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস জানান, সেখানে নতুন একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আপাতত দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

 

তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে গজারিয়ায় নেতাকর্মীর ঢল

চাঁদপুর  জনসভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টায়  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া উপজেলার তেতৈতলা হাস পয়েন্টে  এই শুভেচ্ছা জানান ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কে এম এরাদত মানু, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাসহ বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী  সংগঠনের  রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং হাজার হাজার  নেতাকর্মী।
গজারিয়া উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ সড়কের পাশে দাড়িয়ে হাত নারিয়ে তারেক রহমানকে  শুভেচ্ছা   জানান । এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় ।
স্থানীয় নেতারা জানান, তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে গজারিয়াজুড়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। চাঁদপুরে অনুষ্ঠিতব্য জনসভাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ  বিরাজ করছে।