সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা Logo কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুত শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি Logo নিকার অনুমোদন: ভূল্লী উপজেলা গঠনে জনসাধারণের উচ্ছ্বাস Logo ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম জেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে এলো আসল তথ্য Logo অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখলমুক্ত হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী Logo বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার Logo মাদক সেবনের দায়ে কারাদণ্ড, কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার Logo মাসুদ উদ্দিনকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল Logo ইসরায়েলকে হুমকি দিলে কঠিন পরিণতি: নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

নিকলীতে অকাল বন্যায় বিপর্যস্ত কৃষক, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বিএনপি নেতা আতিকুল ইসলাম তালুকদার

নিকলীতে অকাল বন্যায় বিপর্যস্ত কৃষক, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বিএনপি নেতা আতিকুল ইসলাম তালুকদার। ছবি: জনতার কণ্ঠ

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় আকস্মিক অকাল বন্যায় হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বোরো ফসল তলিয়ে গিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে মুহূর্তেই ডুবে যায় সোনালি ধানের ক্ষেত, ফলে বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে হাজারো কৃষক পরিবার।

 

 

 

এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন নিকলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. আতিকুল ইসলাম তালুকদার।

 

 

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় তিনি সরেজমিনে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে কৃষকদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দুর্দশার কথা শোনেন।

 

 

 

রোববার (৩ মে) দিনব্যাপী তিনি উপজেলার বরগুনা, মাটিকাটা, দিঘলা, বরুলিয়া, গোড়াদিগা ও সিংপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বন্যাকবলিত দুর্গম হাওর এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন, ক্ষয়ক্ষতির বাস্তব চিত্র দেখেন এবং তাদের বর্তমান সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

 

 

 

পরিদর্শনকালে আতিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “নিকলী উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। হাওরাঞ্চলের মানুষ বছরের প্রায় ছয় মাস পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে। তাদের একমাত্র অবলম্বন বোরো ধান। সেই ফসলই যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তাদের জীবনে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ।”

 

 

 

তিনি আরও বলেন, “এই অঞ্চলের কৃষকরা তাদের জীবনের সব সঞ্চয় বিনিয়োগ করে ফসল উৎপাদন করেন। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় সবকিছু হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। অনেক পরিবার ঋণের বোঝা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।”

 

 

 

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উদ্দেশে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “জননেতা তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা সবসময় আপনাদের পাশে আছি এবং থাকবো। আপনাদের এই দুর্দিনে একা ফেলে রাখা হবে না।”

 

 

 

তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় তিন মাসের একটি বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তবে মাঠপর্যায়ে দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

 

 

 

এ সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দেশ ও জনগণের এই সংকটময় সময়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতিটি নেতাকর্মীকে মানবিকতার পরিচয় দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে দলীয় ও সামাজিকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।”

 

 

 

স্থানীয় কৃষকরা জানান, আকস্মিক বন্যায় তাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেকেই ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন, যা এখন পরিশোধ করা নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দাবি জানান।

 

 

 

পরিদর্শনকালে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। দুর্যোগের এই সময়ে শীর্ষস্থানীয় নেতার সরাসরি উপস্থিতি ও সহমর্মিতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতাকে অব্যাহতি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা

নিকলীতে অকাল বন্যায় বিপর্যস্ত কৃষক, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বিএনপি নেতা আতিকুল ইসলাম তালুকদার

আপডেট টাইম : ০৯:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় আকস্মিক অকাল বন্যায় হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বোরো ফসল তলিয়ে গিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে মুহূর্তেই ডুবে যায় সোনালি ধানের ক্ষেত, ফলে বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে হাজারো কৃষক পরিবার।

 

 

 

এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন নিকলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. আতিকুল ইসলাম তালুকদার।

 

 

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় তিনি সরেজমিনে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে কৃষকদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দুর্দশার কথা শোনেন।

 

 

 

রোববার (৩ মে) দিনব্যাপী তিনি উপজেলার বরগুনা, মাটিকাটা, দিঘলা, বরুলিয়া, গোড়াদিগা ও সিংপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বন্যাকবলিত দুর্গম হাওর এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন, ক্ষয়ক্ষতির বাস্তব চিত্র দেখেন এবং তাদের বর্তমান সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

 

 

 

পরিদর্শনকালে আতিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “নিকলী উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। হাওরাঞ্চলের মানুষ বছরের প্রায় ছয় মাস পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে। তাদের একমাত্র অবলম্বন বোরো ধান। সেই ফসলই যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তাদের জীবনে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ।”

 

 

 

তিনি আরও বলেন, “এই অঞ্চলের কৃষকরা তাদের জীবনের সব সঞ্চয় বিনিয়োগ করে ফসল উৎপাদন করেন। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় সবকিছু হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। অনেক পরিবার ঋণের বোঝা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।”

 

 

 

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উদ্দেশে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “জননেতা তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা সবসময় আপনাদের পাশে আছি এবং থাকবো। আপনাদের এই দুর্দিনে একা ফেলে রাখা হবে না।”

 

 

 

তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় তিন মাসের একটি বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তবে মাঠপর্যায়ে দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

 

 

 

এ সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দেশ ও জনগণের এই সংকটময় সময়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতিটি নেতাকর্মীকে মানবিকতার পরিচয় দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে দলীয় ও সামাজিকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।”

 

 

 

স্থানীয় কৃষকরা জানান, আকস্মিক বন্যায় তাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেকেই ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন, যা এখন পরিশোধ করা নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দাবি জানান।

 

 

 

পরিদর্শনকালে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। দুর্যোগের এই সময়ে শীর্ষস্থানীয় নেতার সরাসরি উপস্থিতি ও সহমর্মিতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।