সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে রাজনীতি থেকে বিদায় নিলেন ফেনী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াছিন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে মোহাম্মদ ইয়াছিন ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেন।
পোস্টে ইয়াছিন লেখেন, ‘বিদায় নিলাম বিএনপির রাজনীতি থেকে, আজকের পর থেকে আর কোনো দিন বিএনপি করব না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতারা (গোয়েন্দা বাহিনী) মাল খেয়ে শুয়ে থাকে, গোয়েন্দা বাহিনীর রিপোর্টগুলা কালো টাকার কাছে চালিত হয়ে যায়। দলের দুঃসময় বড় বড় নেতারা আমাদের মতো সহজ-সরল সস্তা কর্মীদের রাজপথে ব্যবহার করেছে। আমাদের দিয়ে জিয়া পরিবারকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আজ দলের সুসময় বড় বড় নেতা আমাদের লাথি মেরে দূরে সরে দিয়েছে।
তিনি লেখেন, যারা জীবনে কোনোদিন বিএনপি করে নাই, বাস কাউন্টার, হাট-বাজার, রাস্তাঘাট, ফুটপাত সবকিছু আজ তাদের দখলে। তারা সবাই আজ ভাগাভাগি করে খাচ্ছে, কিন্তু আমাদের মতো কর্মীদের ভাগ্যে একটা রুটি আর এক কাপ চা খাওয়ার জন্য ১০ টাকার ভাগ মিলে নাই। নেতারা বলেছিল, তোমরা রাস্তার কাজটা করিও কিন্তু কাজটা করার সময় নেতাদের আত্মীয়-স্বজনরা বিএনপির বড় অভিভাবক হয়ে গেল। আমরা ইচ্ছে করলে আমাদের অধিকারের জন্য সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রতিবাদ করতে পারতাম নেতাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমরা কাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব, যাদের বড় ভাই হিসেবে সম্মান দিয়ে, যাদের সঙ্গে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে জিয়া পরিবারকে রক্ষা করেছি?’
ইয়াছিন লেখেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে আমরা সাংবাদিক সম্মেলন করতে পারলাম না, মনে হয় এটা আমাদের ব্যর্থতা। রাজপথে ‘শহীদ জিয়ার স্মরণে, ভয় করি না মরণে’, ‘তারেক রহমান ভয় নাই, রাজ পথ ছাড়ি নাই’ এ কথাগুলো বলতে শরীরের অনেক ঘাম ঝড়ে, অনেক কষ্ট হয়। সেই কষ্টের প্রতিদান বিএনপি থেকে পাই না। তাই আজ বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে দিলাম। বউ বাচ্চা নিয়ে ডাল ভাত খেয়ে বেঁচে থাকব।’
এ নেতা আরও লেখেন, বিএনপি রাজনীতি করতে গিয়ে মনের অজান্তে বড় ভাই, রাজপথের সহযোদ্ধা বন্ধু-বান্ধব, কারও যদি মনে কষ্ট দিয়ে থাকি সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। সবাই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।’ মোহাম্মদ ইয়াছিন, সাধারণ সম্পাদক, ৯ নং ওয়ার্ড যুবদল, ফেনী পৌরসভা।
জানতে চাইলে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব নঈম উল্যাহ চৌধুরী বরাত কালবেলাকে বলেন, সে ত্যাগী ও অভিমানী। নিশ্চয় কোনো বিষয়ে তার ভীষণ কষ্ট লেগেছে। সেই জন্য ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে দল ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে। তবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে অভিমান দূর হয়ে যাবে।
জানতে চাইলে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খোন্দকার কালবেলাকে বলেন, ইয়াছিন যুবদলের ডেলিগেডেট কর্মী। সে হয়তো ক্ষোভে এমন স্ট্যাটাস দিয়েছে। তিনি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিল সে। কী কারণে এমন স্ট্যাটাস দিয়েছে সেটা খোঁজখবর নিয়ে দেখব। আশা করি, ক্ষোভ দূর হয়ে আবারও জাতীয়তাবাদী আদর্শের সৈনিক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম। 

















