সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত করতে সৌদি-ইরান কূটনৈতিক যোগাযোগ

সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। ফোনালাপে তারা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয় ফোনালাপ।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পর থেকেই আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপ নেয় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।

এরপর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় স্থায়ী কোনো সমঝোতা হয়নি। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ান।

রোববার ইরান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাব পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠায়। তবে ট্রাম্প সেটিকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

গাজীপুরে পাঁচ খুন: ফরেনসিক রিপোর্টে রহস্যের নতুন দিক

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় ফরেনসিক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন স্ত্রী, শ্যালক এবং দুই মেয়েকে গলা কেটে এবং ছোট মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মাজহারুল হক এ তথ্য জানান।

 

 

 

গত শনিবার (০৯ মে) সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে একটি বহুতল বাড়ি থেকে ওই পাঁচ জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তারা হলেন- গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি গ্রামের শাহাদাত হোসেন মোল্লার মেয়ে শারমিন খানম (৩০), নাতনি মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (দেড় বছর) ও ছেলে রসুল মোল্লা (২৩)।

তারা কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী মজিবুর রহমানের বাসায় ভাড়ায় বসবাস করতেন। অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা গোপালগঞ্জ সদরের গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে। প্রাইভেটকার চালিয়ে সংসার চালাতেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন তিনি।

চিকিৎসক মাজহারুল হক বলেন, শারমিন খানম, তার ভাই রসুল মোল্লা এবং দুই শিশু মীম ও হাবিবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। আর শিশুকন্যা ফারিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কীভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে সেটি ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আগে তাদের চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় কোনো কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কিনা, তা জানার জন্য পেটের খাবারসহ অন্যান্য উপাদানের নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ওই ল্যাবের প্রতিবেদন পেলে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

 

 

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় শনিবার রাতে শারমিন খানমের বাবা নিহতের স্বামী ফোরকান মোল্লাকে (৪০) প্রধান করে অজ্ঞাত চার জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ফোরকান মোল্লাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (পিবিআই) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। তাকে গ্রেপ্তারের পর হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে।

 

ঈদের আনন্দে ‘ভটভটি’, নতুন নাটকে পর্দায় খায়রুল-সাদনিমা

আসন্ন ঈদুল আজহায় বিনোদনের নতুন মাত্রা যোগ করতে নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব নিয়ে আসছেন বিশেষ নাটক ‘ভটভটি’। গত ঈদে দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা খায়রুল বাসার ও সাদনিমা জুটিকে আবারও এই নাটকের মাধ্যমে পর্দায় ফিরিয়ে আনছেন তিনি।

 

 

 

জনপ্রিয় এই জুটির অনস্ক্রিন রসায়ন নিয়ে দর্শকদের মাঝে যে উম্মাদনা তৈরি হয়েছিল, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই নির্মাতা আবারও তাদের নিয়ে নতুন এক গল্প বুনেছেন। এনটিভি-তে প্রচারের অপেক্ষায় থাকা এই নাটকটি ঘিরে এরই মধ্যে দর্শকদের মধ্যে দারুণ আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

 

‘ভটভটি’ মূলত একটি রোমান্টিক কমেডি ঘরানার নাটক হলেও এর পরতে পরতে মিশে আছে আবেগ, সম্পর্কের গভীরতা এবং গ্রামীণ জীবনের চিরায়ত সৌন্দর্য। নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব এই গল্পের মাধ্যমে গ্রামবাংলার মাটির ঘ্রাণ এবং সাধারণ মানুষের সহজ-সরল জীবনযাত্রাকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

ঢাকার বাইরের মনোরম ও বৈচিত্র্যময় গ্রামীণ লোকেশনে নাটকটির দৃশ্যধারণ করা হয়েছে। গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ, নদীর পাড় আর হাটের দৃশ্যগুলো যেন পর্দায় এক জীবন্ত আবহ তৈরি করে, সেদিকে বিশেষ নজর দিয়েছেন নির্মাতা।

অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে নির্মাতা জানান যে, প্রতিটি চরিত্রকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে। খায়রুল বাসার ও সাদনিমা ছাড়াও এই নাটকে পর্দা ভাগ করে নিয়েছেন পারভেজ সুমন, নরেশ ভূঁইয়া, বাশার বাপ্পি, লাবণ্য লিসা এবং তুতিয়া জাহান পাপিয়া। প্রত্যেকের চরিত্রেই রয়েছে ভিন্নধর্মী চমক এবং মজার সব মোড়।

 

 

নির্মাতার ভাষ্যমতে, ‘ভটভটি’ এমন একটি কাজ যা দর্শকদের শুধু হাসাবেই না, বরং গল্পের চরিত্রগুলোর সঙ্গে তাদের এক ধরনের আত্মিক সংযোগ তৈরি করবে।

 

একটি টেলিফিল্ম নির্মাণে চার প্রজন্মের অভিনয় শিল্পী

বর্তমান সময়ের নাটক, টেলিফিল্মে চরিত্রের খুব একটা বৈচিত্র্য দেখা যায় না। অধিকাংশ নাটকে দুই তিন চরিত্রের খুব বেশি এখন আর দেখা যায় না। তবে বিশেষ কিছু কাজে দেখা মেলে একাধিক চরিত্রের। তেমনি একটি টেলিফিল্ম ‘জোহরা বেগমের ইচ্ছাপত্র’। এতে অভিনয় করেছেন চার প্রজন্মের শিল্পী, যা সচরাচর এখন আর দেখা যায় না। তৌকীর আহমেদের রচনায় টেলিফিল্মটি পরিচালনা করেছেন আরিফ খান। ঈদুল আজহা উপলক্ষে নির্মিত এ টেলিফিল্মে একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে ফেরদৌসী মজুমদার, আফজাল হোসেন, মামুনুর রশীদ, তৌকীর আহমেদ, দীপা খন্দকার, রওনক হাসান, জাকিয়া বারী মমর মতো তারকাদের।

 

 

 

এ টেলিফিল্মের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর টেলিভিশনে অভিনয়ে ফিরেছেন ফেরদৌসী মজুমদার, এটি এই প্রযোজনার সবচেয়ে দারুণ দিকগুলোর একটি। বয়সজনিত শারীরিক দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও তার কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও মানসিক দৃঢ়তা পুরো ইউনিটকে অনুপ্রাণিত করেছে। নির্মাতা জানান, প্রতিদিন নিয়ম করে শুটিংয়ে অংশ নেওয়া, চরিত্রে মনোযোগী থাকা এবং নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা—সব মিলিয়ে তিনি যেন আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তিনি অভিনয়ের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। ফেরদৌসী মজুমদারকে ঘিরে এই টেলিফিল্মের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, ‘মূলত ফেরদৌসী মজুমদারকে সম্মান জানানোর জন্যই আমি এ নাটকটি করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। উনার সম্মানেই আমরা সবাই মিলে কাজটি করেছি। আমার মনে হয়েছে, উনাকে এ সম্মানটুকু জানানো দরকার। কাজটি করার পর এখন মনে হচ্ছে, আমাদের ইচ্ছাপূরণ হয়েছে।’

 

 

 

বর্তমান সময়ে একটি টেলিছবিতে একসঙ্গে আলোচিত সব শিল্পীকে একত্র করার ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। এমন প্রশ্নে আরিফ খান বলেন, ‘আমি বরাবরই কাজ করার আগে গল্প নিয়ে বেশ সচেতন থাকি। গল্প ঠিক হলে তখন যাদের প্রয়োজন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারাও সানন্দে রাজি হন। অভিনয়শিল্পীরা আস্থা রাখেন, বিশ্বাস করেন—এটাই একজন নির্মাতা হিসেবে বড় প্রাপ্তি। মোটকথা, আমি আমার কাজের ব্যাপারে সৎ থাকি, এতে বাকি সব হয়ে যায়।’

 

 

 

পরকীয়ার বিরোধ থেকে হত্যাকাণ্ড, স্বামীর যাবজ্জীবন

রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে হত্যার দায়ে মো. শাহাদাৎ হোসেন নামে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৯-এর বিচারক মাহমুদুল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি আসামিকে দশ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

 

 

রায় ঘোষণার সময় কারাগার থেকে আসামি শাহাদাৎ হোসেনকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর সাজা পরোয়ানা দিয়ে আবারও তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আসামির স্ত্রীর সঙ্গে ভিকটিম আনিসের পরকীয়া ছিল। বিষয়টি আসামি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরে ভিকটিম আনিসকে নিষেধ করেন। কিন্তু ভিকটিম আনিস আসামির কথা না শুনে তার স্ত্রীর সঙ্গে আবারও দেখা করতে থাকেন।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২০১২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঢাকার তেজগাঁও থানাধীন আনোয়ারা পার্কের দক্ষিণ পার্শ্বে মা মেডিকেল স্টোরের বিপরীত দিকে ফুটপাতে ভিকটিমকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে ফেলে রাখেন। ওই ঘটনায় তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক মো. মাসুদুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলাটি করেন। বিচারকালে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলাটি তদন্ত করে ২০১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক কাজী সাহান হক আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

 

 

 

একই বছরের ২৭ মে আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলাটি বিচারকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।

 

হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় জামিনে মুক্ত সাবেক পুলিশ সুপার

ঢাকা নিউ মার্কেট থানায় ব্যবসায়ী ওয়াদুদ হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-৪ থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক পুলিশ সুপার তানভীর সালেহীন ইমন।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) বিকেল ৫টার দিকে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-৪ থেকে তিনি মুক্তি পান। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

 

 

 

তিনি বলেন, জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছালে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

 

তানভীর সালেহীন ইমনের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইকবাল করিমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ১৯ জুলাই বিকেল ৫টায় নিউমার্কেটের ১ নম্বর গেটের সামনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলাকারীদের গুলিতে নিহত হন ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ। এ ঘটনায় তার শ্যালক আব্দুর রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

 

পরে গত বছর ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে রাজশাহীর সারদায় থাকা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি থেকে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে।

 

 

 

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এর দায়িত্ব পালন করেন। গ্রেপ্তারের দুই মাস পর তাকে বরখাস্ত করা হয়।

 

 

প্রাণঘাতী নোরোভাইরাস সংক্রমণে বাড়ছে উদ্বেগ

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৬:৫৩:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসের সংক্রমণের খবরের মধ্যেই এবার একটি প্রমোদতরীতে নোরোভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ক্যারিবিয়ান প্রিন্সেস নামের একটি জাহাজে নোরোভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক যাত্রী ও ক্রু সদস্য অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

 

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নোরোভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক। অন্যদিকে হান্টাভাইরাস তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও এর মৃত্যুহার অনেক বেশি।

 

 

 

নোরোভাইরাস মূলত পাকস্থলি ও অন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। দূষিত খাবার বা পানি ও সংক্রমিত ব্যক্তির স্পর্শের মাধ্যমে এটি ছড়ায়। এ ভাইরাসকে অনেক সময় ‘স্টমাক ফ্লু’ বা ‘উইন্টার ভমিটিং বাগ’ও বলা হয়।

নোরোভাইরাসের লক্ষণ

নোরোভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত বমি, ডায়রিয়া, বমিভাব, পেটব্যথা, হালকা জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথা দেখা দেয়। সংক্রমণের ১২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উপসর্গ শুরু হয়। সাধারণত ১ থেকে ৩ দিনের মধ্যে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।

হান্টাভাইরাসের লক্ষণ

হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হলে শুরুতে জ্বর, ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা ও শরীর দুর্বল লাগার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পরে শ্বাসকষ্ট, কাশি, বুকব্যথা এবং ফুসফুসে পানি জমার মতো গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বমি, পেটব্যথা ও কিডনির জটিলতাও দেখা দেয়।

 

 

 

হান্টাভাইরাস কেন বেশি বিপজ্জনক?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হান্টাভাইরাস নোরোভাইরাসের তুলনায় অনেক বেশি প্রাণঘাতী। এটি মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মল, মূত্র বা লালার সংস্পর্শে মানুষের শরীরে ছড়ায়। হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হলে ফুসফুসে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। একে হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম (এইচপিএস) বলা হয়। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে কিডনি বিকল ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণও হতে পারে।

 

চিকিৎসকদের মতে, হান্টাভাইরাসের গুরুতর সংক্রমণে মৃত্যুহার ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে নোরোভাইরাসে আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষ বাড়িতেই কয়েক দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে বয়স্ক ব্যক্তি ও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

 

 

 

চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের অনেক সময় হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। অক্সিজেন বা ভেন্টিলেটর সাপোর্টও লাগতে পারে। অন্যদিকে নোরোভাইরাসে পর্যাপ্ত তরল ও ইলেকট্রোলাইট গ্রহণই প্রধান চিকিৎসা।

 

সম্প্রতি ক্যারিবিয়ান প্রিন্সেস জাহাজে নোরোভাইরাসে ১০২ জন যাত্রী ও ১৩ জন ক্রু সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আলাদা রাখাই এ ভাইরাস প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

 

বড় লিড গড়ার পথে টাইগাররা, শেষ দিনে উত্তেজনার আভাস

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনের সকালে বাংলাদেশের দুই ওপেনার সুবিধা করতে পারেননি। তবে নাজমুল হোসেন শান্ত-মুমিনুল হকের জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় টাইগাররা। বড় সংগ্রহের পথে হাঁটতে থাকা বাংলাদেশের সামনে বাধা হয়ে আসে বৃষ্টি। তাতে দিনের দ্বিতীয় সেশন পুরোটাই ভেসে গেছে। চা বিরতির পর খেলা শুরু হলেও আলোক স্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ করতে বাধ্য হন আম্পায়াররা। ফলে ম্যাচ গড়িয়েছে পঞ্চম দিনে।

 

 

 

চতুর্থ দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৫২ রান। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে টাইগারদের লিড এখন ১৭৯ রানের। এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৪১৩ রান, আর পাকিস্তান অলআউট হয়েছিল ৩৮৬ রানে।

 

 

 

দিনের শুরুতে ব্যাট করতে নামেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয়। দিনের দ্বিতীয় বলে চার হাঁকালেও দেখেশুনেই খেলছিলেন দুই ওপেনার। কিন্তু আব্বাস আফ্রিদির কাছে পরাস্ত হন জয়। ব্যক্তিগত ৪ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি। রিভিউ নিয়েও হয়নি কোনো ফায়দা।

আর ইনিংসের ১১তম ওভারে সাজঘরের পথ ধরেন আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম। এবার উইকেট পান হাসান আলি। তার করা বলে ব্যক্তিগত ১০ রানে স্লিপে ক্যাচ তুলে নেন বাংলাদেশি এই ওপেনার। ফলে ২৩ রানেই দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ।

দুই ওপেনার সাজঘরে ফিরলে খানিকটা চাপেই পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে স্বস্তি দিয়েছে দলনেতা নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের জুটি। লাঞ্চ বিরতির আগে আর কোনো উইকেট হারায়নি স্বাগতিকরা। প্রথম সেশনে তারা তুলেছিল ২ উইকেটে ৮৬ রান।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান যখন লাঞ্চে যায়, তখনো আকাশ খানিকটা মেঘলা। কিন্তু দুই দল যখন মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আলোর স্বল্পতা ও বৃষ্টির কারণে ড্রেসিংরুমেই থাকতে হয়েছে। তারপর প্রায় ঘণ্টা দুয়েক বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় সেশনে খেলাই হয়নি।

 

 

 

বৃষ্টির পর দেখে-শুনে খেলে ফিফটি স্পর্শ করেন মুমিনুল হক। ১০৫ বল খেলে এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। তবে ফিফটির পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৫৬ রান করে এই ব্যাটার ফেরায় ভেঙেছে ১০৫ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি।

 

 

 

মুমিনুল ফিফটির পর ফিরলেও দারুণ ব্যাটিং করেছেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটার দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটি করে অপরাজিত আছেন। দিন শেষে শান্তর সঙ্গী হিসেবে অপরাজিত থেকেছেন মুশফিকুর রহিম।

 

 

চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে রেল চলাচল বন্ধ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে ট্রেনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে চালকের তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার আউলিয়ানগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

 

 

 

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা অতিরিক্ত তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ইঞ্জিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় এবং সাময়িকভাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং ইঞ্জিন নিরাপদ ঘোষণা করা হলে ট্রেনটি পুনরায় নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। এছাড়া ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তও করা হবে।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জগামী ‘মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ত্রিশালের আউলিয়ানগর এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ ইঞ্জিনের নিচ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে ট্রেনের চালক দ্রুত ট্রেনটি থামিয়ে দেন। পরে চালক ও রেলওয়ের কর্মচারীরা প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় ট্রেনের যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেক যাত্রী দ্রুত ট্রেন থেকে নেমে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

পড়শীর নতুন গান প্রকাশ, ভক্তদের উচ্ছ্বাস

শ্রোতাপ্রিয় সংগীতশিল্পী পড়শী। নতুন গান প্রকাশের ধারাবাহিকতায় আবারও তিনি প্রকাশ করলেন ‘তোমার জন্য আমি’ শিরোনামের একটি গান। দ্বৈত এ গানটিতে পড়শীর সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন বেলাল খান। গানের কথা লিখেছেন মেহেদী হাসান লিমন। নাজির মাহমুদের সুরে গানের সংগীতায়োজন করেছেন মুশফিক লিটু। মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন চন্দন রায় চৌধুরী। গানটি সম্প্রতি ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে।

 

 

 

গান প্রসঙ্গে পড়শী বলেন, ‘বেলাল খানের সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে গাওয়া প্রতিটি গানই শ্রোতা পছন্দ করেছেন। তারপরও প্রায় এক বছর আমাদের একসঙ্গে নতুন কোনো আয়োজন করা হয়ে ওঠেনি। অন্যদিকে শ্রোতার নতুন গানের আবদারও থেমে ছিল না। অবশেষে ‘তোমার জন্য আমি’ গানে কণ্ঠ দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিরতি ভাঙার সুযোগ হলো আমাদের। ভালো লাগার বিষয় হলো, ঠিক যে ধরনের গানের জন্য প্রতীক্ষায় ছিলাম, নতুন এ গানটি ঠিক তেমনই। গানটি শ্রোতাদের প্রত্যাশা পূরণ করবে বলে আমার বিশ্বাস।’

 

 

 

বেলাল খানের সঙ্গে এর আগেও পড়শী একাধিক গান করেছেন। তাদের গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘ভালোবাসি হয়নি বলা’, ‘একলা প্রহর’, ‘কত যে আপন’ ইত্যাদি। তাদের গাওয়া প্রায় প্রতিটি গানই শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে। তাই বেলাল খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে পড়শীর আবারও গান গাওয়া। কথা, সুর, সংগীতায়োজন, গায়কি, ভিডিও নির্মাণ সব মিলিয়ে গানটি সংগীতপ্রেমীদের ভালো লাগবে বলেই আশা করছেন এ শিল্পী।

 

 

ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত ইলিয়াস কাঞ্চন: সবার কাছে দোয়া চাইলেন চম্পা

ঢালিউড অভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কাণ্ডারি ইলিয়াস কাঞ্চন ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে রয়েছেন। প্রিয় সহকর্মীর এই অসুস্থতার খবর কিছুতেই মানতে পারছেন না অভিনেত্রী গুলশান আরা আক্তার চম্পা।

 

 

 

সম্প্রতি একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

 

 

 

বিস্ময় প্রকাশ করে চম্পা বলেন, ‘এটা সত্যিই অনেক দুঃখজনক। কখনোই ভাবতে পারিনি যে কাঞ্চন ভাইয়ের এই দুঃসংবাদ এত তাড়াতাড়ি শুনতে হবে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

তার কথায়, ‘কাজের ক্ষেত্রে কাঞ্চন ভাইয়ের সঙ্গে অনেক বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। একবার শুটিংয়ের সময় উনি অনেক উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকেও উনি লড়াই করে ফিরে এসেছেন। তিনি আমাদের সবার কাছে পথপ্রদর্শক ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাঞ্চন ভাই নিয়মিত ধর্ম পালন করতেন। আমার সঙ্গে দেখা হলেই বলতেন তুমি নামাজ পড়ো তুমি এটা পড়বে ওটা পড়বে। উনার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। সেই মানুষটি এভাবে শয্যাশায়ী হবেন তা ভাবা যায় না। আমি আল্লাহর কাছে অনেক দোয়া করেছি।’

 

নরসিংদীতে মেঘনা নদীতে গোসলে নেমে কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নরসিংদী শহরের নাগরিযাকান্দি এলাকায় সহপাঠীদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে মাহির শাহরিয়ার (১৭) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী নিখোঁজের ৪ ঘন্টা পর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিখোঁজের পর বিকাল পৌণে ৪টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন করিমপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক এস এম মাকসুদুর রহমান।

 

 

নিখোঁজ মাহিরের বন্ধু ওয়ালী জানায়, সোমবার সকালে ঢাকা থেকে ট্রেনে করে বিএএফ শাহীন কলেজ, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজসহ ঢাকার ৪-৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী নরসিংদী স্টেশনে নেমে শহরতলীর নাগরিয়াকান্দি সেতু এলাকায় ঘুরতে যায়। তারা বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার এক পর্যায়ে নাগরিযাকান্দি এলাকার মেঘনার শাখা নদীতে গোসল করতে নামে বেশ কয়েকজন। এ সময় সাঁতার না জানার কারণে মাহির শাহরিয়ার ও আরো দুইজন নদীর স্রোতে তলিয়ে যেতে থাকে। তাৎক্ষণিক ২ জনকে উদ্ধার করতে পারলেও মাহির স্রোতে তলিয়ে যায়। সহপাঠীরা তাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস চেষ্টার পরও তার সন্ধান না পাওয়ায় ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নিখোঁজের ৪ ঘন্টা পর মরদেহ উদ্ধার করে।

 

 

 

করিমপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক এস এম মাকসুদুর রহমান জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়েছে। ঢাকা হতে অভিভাবক আসার পর আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

 

 

 

রাণীনগরের আবাদপুকুর বাজারে দুর্ধর্ষ চুরি, নগদসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর বাজারে একটি দোকানে গভীর রাতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা দোকানের জানালা ভেঙে নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, গত ১০ মে রাতের কোনো এক সময়  উপজেলার মাজগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আতিকুর রহমান সুমনের (৪০) মালিকানাধীন আবাদপুকুর বাজারস্থ “তৌহিদ প্রাইজ” নামের দোকানে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
চোরেরা দোকান ঘরের জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে একটি টেলিভিশন, ব্লেন্ডার, আইরন, রাইস কুকার, প্রেসার কুকার, ফ্যানসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও গৃহস্থালী পণ্য এবং নগদ প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। পরে সকালে দোকান খুলতে এসে মালিক বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়দের জানান।
এ ঘটনায় বাজার ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
 রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকারিয়া মন্ডল মুঠোফোনে জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত কাজ করছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি কেনাবেচায় জমজমাট সিন্ডিকেট

নওগাঁর রাণীনগরে মাথা গোঁজার জন্য গৃহহীনদের জন্য দেওয়া হয়েছিল জমিসহ বাড়ি, আর সেই বাড়িগুলোই এখন হাতবদল হচ্ছে অর্থের বিনিময়ে। এমনকি একই বাড়ি একাধিকবারও বিক্রি হচ্ছে। আবার কেউ কেউ সরকারি আশ্রয়ণের ঘরকে বানিয়ে তুলছেন বিলাসবহুল বাসস্থান।
এমনই চিত্র পাওয়া গেছে উপজেলার মালিপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে। সেখানে প্রবাসী সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা বিবির কেনা বাড়ির ভেতরে পা দিলেই চোখে পড়বে মেঝেজুড়ে বিছানো আছে দামি কার্পেট, আছে দামি ফ্রিজ আর ঘরের দেয়ালে লাগানো ৪৩ ইঞ্চি স্মার্ট কালার টেলিভিশন। খাট থেকে শুরু করে নানান রকমের আসবাবপত্রে ঘরটি যেন সাজানো-গোছানো এক অবস্থাশালী পরিবারের বাসস্থান। দেখলে কেউ বিশ্বাসই করবে না যে এটি একটি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি।
অথচ দলিল অনুযায়ী ৫নং এই বাড়ির মালিক মল্লিকা। কিন্তু এই বাড়িটি দুইবার বিক্রি হয়েছে। প্রথমবার নিয়েছিলেন মকবুল নামের এক ব্যক্তি। তিনি আবার ৭০হাজার টাকায় বিক্রি করেন মর্জিনা বিবির কাছে। ৬নং ঘরের মালিক রুবেল হলেও এই ঘরটিও মর্জিনা বিবির দখলে। তৃতীয় দফায় ১লাখ ১০হাজার টাকায় কিনে নেন তিনি।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৭নং বাড়ির মালিক আরব। কিন্তু ৭০হাজার টাকায় কিনে বসবাস করছেন আমিন নামের এক ব্যক্তি। ৯নং বাড়ি ১লাখ ১০ হাজার টাকায় কিনে বসবাস করছেন আসাদুল নামের এক ব্যক্তি। ১০নং বাড়ি ৮০ হাজার টাকায় কিনে বসবাস করছেন সফেটা নামের এক নারী।
একইভাবে ১৪ নং বাড়ির মালিক সিরাজুল ইসলাম হলেও সেটি ৭০হাজার টাকায় কিনে নিয়ে বসবাস করছেন শরিফ নামের একজন। আর পাশের  ১৩নং বাড়িটি বিক্রির জন্য চলছে আলোচনা।
১৫নং বাড়ির মালিক জবুআরা। তবে বসবাস করছেন মিনা নামের এক নারী। এবং ১৬নং বাড়ির মালিক শরিফ। এই বাড়িটিও আছে মিনা নামের ওই নারীর দখলে। এই দুটি বাড়িই টাকার বিনিময়ে কিনে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি।
১৮নং বাড়ির মালিক মজনু হলেও ৬০হাজার টাকায় কিনে সেখানে বসবাস করছেন শাহীন নামের এক ব্যক্তি। এবং ১৯নং বাড়িটি ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় কিনে নিয়ে বসবাস করছেন খাদিজা নামের এক নারী। এবং প্রকল্পের ২২নং বাড়ির মালিক সাদ্দাম হোসেন। কিন্তু ৮০ হাজার টাকায় কিনে নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন সাইদুর নামের অন্য এক ব্যক্তি।
এভাবেই গৃহহীনদের জন্য দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়িগুলো বিক্রির মহোৎসব চলছে। আর এই বাড়িগুলো বেঁচা-কেনাতে সহযোগীতা করে থাকেন প্রকল্পের বাড়ি পাওয়া হাফিজুলের স্ত্রী নাজমা বেগম নামের এক নারী। তিনি গর্ব করে জানালেন, আমিই বাড়ি বেঁচা কেনায় সহযোগিতা করেছি। কারণ এখানে যাদেরকে বাড়ি দেওয়া হয়েছে, তারা অধিকাংশই অন্য এলাকার। তাদের থাকার জায়গাও আছে। তারা এখানে থাকতে চায়না। তাই স্থানীয় যারা কিনতে চায় একটু সহযোগীতা করি।
মকবুল জানালেন, আমার আসল বাড়ি নওগাঁর সুলতানপুর। এখানে ছেলে ও জামাই থাকে। আমি প্রতিবন্ধী হওয়ায় মল্লিকার বাড়ি নিয়েছিলাম। ছেলের বউয়ের অসুখের সময় সেই বাড়ি মর্জিনার কাছে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
বাড়ির ক্রেতা প্রবাসীর স্ত্রী মর্জিনা বলেন, গোনা এলাকার মল্লিকার নামে ছিল বাড়িটি। আমি মকবুলের কাছ থেকে ৭০হাজার টাকায় কিনে নিয়েছি। তবে সরকার আমাদের নামে এখনও কাগজ করে দেয়নি, কিন্তু দলিল রেখে দিয়েছি এবং মল্লিকা না দাবি করে স্ট্যাম্পে সই দিয়ে গেছে।
তিনি একসময় জোর দিয়ে জানালেন, শুধু আমি একাই কিনিনি। এখানে বেশিরভাগ বাড়ি বিক্রি হয়েছে, কিনে নেওয়া। তার ভাষায় ৩০টির মধ্যে ২০ টা বিক্রি। এবং সেক্রেটারি মীমও তার বাড়ি বিক্রি ৩লাখ টাকায় বিক্রি করতে চায়।
৯নং বাড়িটি ১লাখ ১০ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছে বলে জানালেন রেহেনা নামের এক নারী। তিনিও দলিল রেখে দিয়েছে এবং স্ট্যাম্পে সই নিয়েছে বলে জানালেন।
বাড়ির ক্রেতা মিনা বলেন, গোনার শরিফ নামের একজনের কাছ থেকে কেনা হয়েছে। আর আমার ছেলে একটা কিনেছে। আমার মা প্রতিবন্ধী, এক ঘরে হয়না, তাই এটাও নেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয় জামাল খন্দকার, আব্দুল খালেকসহ একাধিক নারী-পুরুষ ক্ষোভ নিয়ে জানালেন, স্থানীয়দের বাড়ি না দিয়ে অন্য জায়গার লোককে বাড়ি দেওয়ায় তারা বিক্রি করে চলে যাচ্ছে। তাই ৩২টি ঘরের মধ্যে ইতিমধ্যে ১২টি ঘরই বিক্রয় করা হয়েছে। আর বর্তমানে যে বাড়ি বিক্রয় হচ্ছে সেগুলো সর্বনিম্ন ৭০ থেকে ১ লক্ষ ১০হাজার টাকায়।
এদিকে সাইদ নামের একজনকে বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার বাড়ি উপজেলার নারায়নপাড়ায় হলেও আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার পাশে কয়াপাড়া গ্রামের জামাই হওয়ার সুবাদে তিনিও গৃহহীনদের জন্য প্রাপ্য একটা বাড়ি ভাগিয়ে নিয়েছে। অথচ এই সাইদ ও তার ছেলে বিদেশে থেকে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করছে। এছাড়া তার গ্রামের বাড়ি নারায়নপাড়ায় আছে বাড়িভিটাসহ জমিজমা।
অপরদিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি পেয়েছে নারী গ্রাম পুলিশ ছাবিনা ইয়াসমিন মীম ও তার আরেক বোন বানিছা ওরফে পরী বানু। তবে বানিছা এখন ঢাকায় একটা গার্মেন্টসে চাকরি করে। তিনিও তার পাওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়িটি বিক্রি করতে চান। আর ছাবিনা ইয়াসমিন মীম প্রাচীর দিয়ে তার বাড়িটি বানিয়েছে দেখার মতো। অভিযোগ প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক এই মীমও তার বাড়িটি তিল লাখ টাকায় বিক্রি করতে চায়।
সেক্রেটারি ও নারী গ্রাম পুলিশ ছাবিনা ইয়াসমিন মীম মুঠোফোনে বলেন, আমি শুনতে পাই টাকার বিনিময়ে ঘর বিক্রি হচ্ছে। এরপর এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। ইউএনও স্যারসহ ঢাকা থেকেও স্যারেরা এসেছিল। আর চাকরির সুবাদে আমি ভাড়া বাসায় থাকার কারণে অনেকে ফোন করে বাড়ি বিক্রির কথা বলে, তাই আমি রাগ করে তিন লাখ টাকা দাম চেয়েছি। তবে আমি বাড়ি বিক্রি করতে চাইনা। কারণ আমার কোনো বাড়ি নেই। বরং মর্জিনার বাড়ি কেনার খবরে আমি অনেক দৌড়াদৌড়ি করেছি, এমনকি সাংবাদিককেও বলেছি।
সভাপতি ফরিদ আলী মুঠোফোনে বলেন, এখানে ৩২টি ঘর আছে। প্রায় ১০-১২টা ঘর অর্থের বিনিময়ে বেঁচা-কেনা হয়েছে। এমনকি একই ঘর একাধিকবার বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে। আমি সভাপতি হিসেবে শুধুমাত্র ইউএনও স্যারকে জানিয়েছি।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান বলেন, বিষয়টি জানার পর ইতিমধ্যে খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করেছি। বেঁচা-কেনার প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

শাহজাদপুরে র‌্যাবের অভিযানে ১৩৮ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার ১

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে র‍্যাব-১২ এর মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ১৩৮ বোতল ফেনসিডিলসহ একজন গ্রেপ্তার করেছে।
র‍্যাব ১২ জানিয়েছে, গতকাল রোববার (১১ মে) রাত ৮.৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌরশহরের রূপপুর নতুনপাড়া এলাকায় ডিএডি মোহাম্মদ শফিকামাল এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স এসআই সাব্বির আরাফাত জনি, সার্জেন্ট মোঃ খোরশেদ আলম, ল্যান্স নায়েক জিয়াউর রহমান, ও সিপাহী মোঃ রাশেদুল হক এর একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে ১৩৮ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার সহ রুপপুর নতুন পাড়ার মৃত হাজী শুকুর আলীর ছেলে মোঃ আকছেদ আলীকে (৫২) গ্রেফতার করে । উদ্ধার হওয়া ফেনসিডিল ও আসামিকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শাহজাদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযুক্ত আকছেদ আলী কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সে দীর্ঘদিন ধরে দেশের উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বর্ডার এলাকা থেকে ফেনসিডিল এনে শাহজাদপুরের বিভিন্ন জায়গায় সুকৌশলে বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছে।
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, র‍্যাবের  অভিযানে উদ্ধার হওয়া ১৩৮ বোতল ফেনসিডিল আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং আসামিকে শাহজাদপুর আমলি আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

 

 

মুন্সীগঞ্জে মাদক-জুয়া বিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৬

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় মাদক ও জুয়া বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে গজারিয়া থানা পুলিশ।
রবিবার (১০ মে) রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে গজারিয়া থানাধীন বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের ছোট রায়াপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আওলাদ হোসেন (৪০), শহিদুল ইসলাম (৪৫), সুমন (৪০), নুরুল হক (৫৫), মোস্তফা (৫৫) ও তাজুল ইসলাম (৪০)। তাদের সকলের বাড়ি গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ৪ বান্ডেল তাস, জুয়ার বোর্ড থেকে নগদ ৪ হাজার ৯৭০ টাকা এবং ১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানা ইনচার্জ মোঃ হাসান আলী জানায় এ ঘটনায় গজারিয়া থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের শেষ করে, সোমবার দুপুর ১২ টায় আদালতে পেরণ করা হয়।

 

গাছের সাথে বেঁধে যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন!

“ওরে মা… মা গো… আর মারিস না ভাই… হৃদয় ভাইয়া, ছেড়ে দে… আমি আর করব না…” এমন আর্তনাদেও নির্যাতনকারীদের মন গলেনি, আরও নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়েছে।

 

 

রাজশাহী মহানগরীর কাজলা এলাকায় তুষার (৩৫) নামে এক যুবককে এমনভাবেই মধ্যযুগীয় কায়দায় গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ইতিমধ্যে মর্মান্তিক এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

 

নির্যাতি তুষার রাজশাহীর মতিহার থানার কাজলা এলাকার নাজিরের ছেলে।

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি বাসার জানালার থাইগ্লাস চুরির সন্দেহে তাকে আটক করা হয়। পরে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে মারধর শুরু করে।

রোববার (১০ মে) ঘটে যাওয়া ঘটনার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, গাছের সঙ্গে বাঁধা তুষারের ওপর একের পর এক আঘাত হানছে কয়েকজন যুবক। কখনো বাঁশ, কখনো মোটা লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হচ্ছে। একটি বাঁশ ভেঙে গেলে আরেকটি এনে শুরু হচ্ছে নতুন করে প্রহার।

 

ভিডিওতে শোনা যায়, যন্ত্রণায় কাতর তুষার বারবার চিৎকার করে বলছেন—“ওরে মা… মা গো… আর মারিস না ভাই… হৃদয় ভাইয়া, ছেড়ে দে… আমি আর করব না…” কিন্তু তার সেই আর্তনাদেও থামেনি নির্যাতন। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আঘাতের তীব্রতা যেন আরও বাড়তে থাকে।

 

 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্যাতনের পুরো ঘটনাটি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভিডিও ধারণ করছিল ‘হৃদয়’ নামের এক যুবক। ভিডিওতে দেখা যায়, তুষার বারবার তার কাছেই করুণা চাইছিলেন। অথচ সেই মুহূর্তেও কেউ এগিয়ে এসে নির্যাতন থামানোর সাহস দেখায়নি।

 

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া উচিত ছিল। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজন মানুষকে এভাবে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, এটি একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ।

 

সিটিএসবি সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের নাম আশিক, মাহিন ও মানিক। আর ভিডিও ধারণকারী যুবকের নাম হৃদয়। এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

 

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কবির বলেন, অপরাধকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলে সমাজে অপরাধ বাড়তেই থাকবে। এ ঘটনায় অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে ভুক্তভোগী নিজেই মামলা করবেন বলে জেনেছি।

 

 

মেগা প্রকল্পে লুটপাটের অভিযোগ, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই রাষ্ট্র পরিচালনা: সেতুমন্ত্রী

দেশে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ব্যাপক লুটপাট ও অর্থ পাচার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, বিগত সময়ে মেগা প্রকল্পের আড়ালে প্রায় ত্রিশ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ লাখ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক ঋণের বোঝা রেখে যাওয়া হয়েছে। সেই কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই বর্তমান সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হচ্ছে।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) দুপুরে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতু এলাকায় আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও পদ্মা সেতু জাদুঘরের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

মন্ত্রী বলেছেন, দেশের ১৬টি বড় মেগা প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হলেও অনেক প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ হয়নি। কোথাও ঠিকাদার কাজ ফেলে পালিয়ে গেছে, কোথাও আবার প্রকল্প শুরুই করা যাচ্ছে না। এতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছরের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার কারণে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোও এখন বাংলাদেশে বড় প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে অনীহা দেখাচ্ছে। এক সময় যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে দাঁড়াতো, তারাও এখন আস্থা হারাচ্ছে। ফলে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নেও নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, পদ্মা সেতু শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি দেশের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের প্রতীক। এই সেতুকে ঘিরে পর্যটন, ইতিহাস ও উন্নয়নের বিষয়গুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই পদ্মা সেতু জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

 

সেতু বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ও সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম নাসিরউদ্দিন সরদার, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ শরীফ উজ জামানসহ সেতু বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

 

মন্ত্রী ছাড়া সাক্ষাৎ অনিচ্ছুক বালেন্দ্র শাহ, স্থগিত ভারতীয় সচিবের সফর

ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি-এর নির্ধারিত কাঠমান্ডু সফর হঠাৎ স্থগিত করা হয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। লিপুলেখ সীমান্ত ইস্যুতে সাম্প্রতিক ভারত-নেপাল উত্তেজনাকেই এই সিদ্ধান্তের পেছনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর বালেন্দ্র শাহ মন্ত্রী ছাড়া কোনো দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন না।

 

 

 

আগামী ১১ মে দুই দিনের সফরে মিসরির কাঠমান্ডু পৌঁছানোর কথা ছিল। নতুন সরকার গঠনের পর নেপালের অগ্রাধিকার ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সফর স্থগিত হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

 

 

 

নেপালের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে অন্যান্য ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে সফর স্থগিতের কথা জানালেও প্রকৃত কারণ ভিন্ন। একদিকে প্রধানমন্ত্রী শাহ ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রাজি হননি, অন্যদিকে ভারত ও চীনের মধ্যে বিতর্কিত লিপুলেখ হয়ে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ কাঠমান্ডু।

সম্প্রতি ভারত ও চীন লিপুলেখ হয়ে তিব্বতের মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়। নেপাল দাবি করছে, লিপুলেখ তাদের ভূখণ্ডের অংশ। ফলে বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়েছে।

এর আগে মরিশাসে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-এর বৈঠকে মিসরির সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী সফরের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিল দুই দেশে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শাহের জন্য ভারত সফরের আমন্ত্রণপত্রও নিয়ে আসার কথা ছিল মিশ্রির।

 

 

নেপালের কূটনৈতিক মহল বলছে, প্রধানমন্ত্রী শাহ সাম্প্রতিক সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিচের পর্যায়ের কোনও বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূতের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। একই নীতি ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের ক্ষেত্রেও বজায় রাখা হয়।

 

 

 

এদিকে লিপুলেখ ইস্যুতে নেপাল ভারত ও চীনের কাছে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে। জবাবে ভারত বলেছে, সীমান্ত বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে তারা প্রস্তুত। তবে দিল্লি স্পষ্ট করেছে, নেপালের একতরফা ভূখণ্ড দাবি তারা মেনে নেয় না।

 

 

 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জস্বওয়াল বলেন, ভারত ও নেপালের মধ্যে যেকোনও অমীমাংসিত বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। তবে একতরফাভাবে ভূখণ্ড দাবি করা গ্রহণযোগ্য নয়।

 

 

 

অন্যদিকে নেপালের শিক্ষা মন্ত্রী সসমিত পোখারেল জানিয়েছেন, সীমান্ত ইস্যুতে ইতোমধ্যে ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

 

 

 

নেপালের দাবি, সুগৌলি চুক্তি অনুযায়ী লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি অঞ্চল দেশটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সরকার এ অবস্থান ভারত ও চীন; উভয় দেশকেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।

 

 

 

তবে কূটনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেও দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দিল্লি। ভারত বলেছে, বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী নেপালে জ্বালানি তেল ও রাসায়নিক সার সরবরাহ চালু থাকবে।

 

 

সূত্র : দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট

 

 

এক বছর ভারতীয়দের স্বর্ণ না কিনতে আহ্বান জানালেন মোদি

এক বছর দেশবাসীকে স্বর্ণ কেনায় লাগাম দিতে বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাঁচাতে বলেছেন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার। কিন্তু কেন এই পদক্ষেপের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি! বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত মহল বলছে, বিদেশ থেকে সোনা আমদানি করতে যে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয় কেন্দ্রীয় সরকারের, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাতেই রাশ টানতে চাওয়া হচ্ছে।

 

 

 

এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে (১ মে পর্যন্ত) ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ৭৭৯ কোটি ৪০ লক্ষ মার্কিন ডলার থেকে কমে গিয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকা। তার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার এখন হয়েছে দেশে ৬৯,০৬৯ কোটি ৩০ লক্ষ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬৫ লক্ষ ২৪ হাজার কোটি টাকা।

 

 

 

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে তেলের দাম বেড়েছে। বেড়েছে আমদানির খরচও। আমদানি-রফতানি ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সোনা আমদানির খরচও বেড়েছে। তার ফলে চাপ পড়ছে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডারে। এই আবহে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আপাতত এক বছর সোনা কিনতে বারণ করেছেন।

পৃথিবীতে সোনা কেনার ক্ষেত্রে ভারত অগ্রগণ্য। প্রতি বছর দেশটির মানুষ ৭০০ থেকে ৮০০ টন সোনা কেনেন। কিন্তু ভারতে সোনা মেলে মাত্র এক থেকে দু’টন। অর্থাৎ, প্রয়োজনের ৯০ শতাংশ সোনা তাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এত সোনা আমদানি করা হলেও তার প্রভাব কিন্তু এ দেশের শিল্পোৎপাদনে পড়ে না। উল্টে সোনা আমদানি করতে গিয়ে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়।

 

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত ৭২০০ কোটি ডলারের সোনা আমদানি করেছে। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা ছিল ৫৮০০ কোটি ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪ লক্ষ ৮৭ হাজার কোটি টাকা। ওই বছরের থেকে গত বছরে সোনা আমদানি বেড়েছিল ২৪ শতাংশ। ভারত বিদেশ থেকে যত পণ্য আমদানি করে, তার ৯ শতাংশই হল সোনা। সবচেয়ে বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করে অপরিশোধিত তেল। তার পরেই রয়েছে সোনা।

 

 

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে মোদির দেশবাসীকে করা এই অনুরোধ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তার অনুরোধ, বাড়িতে যা-ই অনুষ্ঠান থাকুক, আগামী এক বছর কোনও সোনার গয়না কেনা চলবে না।

 

 

মোদি বলেন, সোনা কেনাতেও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়। এক সময়ে সঙ্কটময় পরিস্থিতি বা যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে লোকে দেশহিতে সোনা দান করে দিত। এখন দান করার দরকার নেই। কিন্তু এক বছর বাড়িতে যাই অনুষ্ঠান হোক, আমরা সোনার গয়না কিনব না। দেশের স্বার্থে আমাদের এই সঙ্কল্প করতে হবে। আমরা সোনা কিনব না, বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে হবে।

 

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

 

সিরাজগঞ্জ অনলাইন নিউজপোর্টাল এশিয়া পোস্টের শুভ উদ্বোধন

সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের জগতে নতুন সম্ভাবনার আলো নিয়ে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অঙ্গীকারে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো আধুনিক গণমাধ্যম “এশিয়া পোস্ট”।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) সকালে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের হলরুমে আয়োজিত এক প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এশিয়া পোস্টের শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন হয়। সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশিদ খান হাসানের সভাপতিত্বে এবং দপ্তর সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ এনামুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এশিয়া পোস্টের সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মো: রানা আহমেদ।

 

 

 

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজরান রউফ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মামুন খান।

 

 

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান দুলাল, সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান, সাত্তার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী মো: আব্দুস সাত্তার সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলে খোদা লিটন, দৈনিক কলম সৈনিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক আব্দুল হামিদ খান, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি হীরক গুণ, যুগ্ম -সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ দেওয়ান রাজু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রহমত আলী।

 

 

 

বক্তারা বলেন,সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে এশিয়া পোস্ট অচিরেই গণমানুষের আস্থা অর্জন করবে। সমাজের নানা অসঙ্গতি,দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরে ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ গণমাধ্যম। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সময়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন। এশিয়া পোস্ট সবসময় সত্যের পক্ষে থেকে সাহসিকতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি ।

 

 

 

উল্লেখ্য:অনুষ্ঠান ঘিরে পুরো প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। অতিথিবৃন্দ ফিতা কেটে ও কেক কেটে এশিয়া পোস্টের আনুষ্ঠানিক যাত্রার শুভ সূচনা করেন। এসময় উপস্থিত অতিথি, সাংবাদিক ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে আনন্দঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।

 

 

 

নতুন এ পথচলায় এশিয়া পোস্ট সত্য, ন্যায় ও মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে গণমাধ্যম জগতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত সকলে।

 

 

উল্লাপাড়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে ঘুমন্ত অবস্থায় একজনকে কুপিয়ে হত্যা

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে সোবহান প্রামানিক (৭০) নামের এক দুগ্ধ সমিতির সাবেক ম্যানেজারকে নিজ বাড়িতে রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১০ মে) গভীর রাতে উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া এলংজানি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী শেফালী খাতুনকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন সোবহান প্রামানিক ও তার স্ত্রী। এ সময় দুর্বৃত্তরা ডোয়া কেটে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই সোবহান প্রামানিক নিহত হন। গুরুতর আহত হন তার স্ত্রী শেফালী খাতুন। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সন্দেহ হলে একই গ্রামের হায়দুল ইসলাম (৫০) নামের একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আটক হায়দুল ইসলাম ওই গ্রামের ইসমাইলের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববারে সোবহান ৭০ লাখ টাকার একটি জমি বিক্রি করে। হয়তো দুবৃত্তরা টাকা নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও গ্রামের একটি খাস পুকুরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মোল্লা বংশ ও প্রামাণিক বংশের মধ্যে বিরোধ চলছিল। প্রায় দুই বছর আগে একই বিরোধকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় সংঘর্ষে পিতা ও পুত্র নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। সেই ঘটনার জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি মোক্তারুজ্জামান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একজনকে আটক করেছে এলাকাবাসী। তিনি জড়িত কিনা যাচাই করা হচ্ছে। হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

২য় ইনিংসেও ব্যর্থ ওপেনিং জুটি, আবারও হাল ধরলেন শান্ত-মুমিনুল জুটি

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ বড় সংগ্রহ পেলেও ব্যাট হাতে হতাশ করেছেন দু্ই ওপেনার সাদমান ইসলাম এবং মাহমুদুল হাসান। দ্বিতীয় ইনিংসেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করলেন এই দুজন। এবারও দলকে বিপদে ফেলে সাজঘরে ফিরেছেন তারা।

 

 

 

বাংলাদেশের করা ৪১৩ রানের জবাবে পাকিস্তানের ইনিংস থেমেছে ৩৮৬ রানে। ২৭ রানের লিড নিয়ে গতকাল রোববার শেষ বিকেলে ১.৫ ওভার ব্যাট করেছে স্বাগতিকরা। বিনা উইকেটে ৭ রান নিয়ে দিনের খেলা শেষ করেন সাদমান এবং মাহমুদুল। গতকাল কোনো বিপদ না হলেও আজ দিনের শুরুতেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন এই দুই ওপেনার।

 

 

 

এর শুরুটা হয় মাহমুদুলকে দিয়ে। মোহাম্মদ আব্বাসের করা ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বল এই ওপেনারের প্যাডে লাগতেই জোরালো আবেদন হয়। আবেদনে সাড়া দিয়ে আঙুল তুলে আম্পায়ার। এলবিডব্লু হয়ে রিবিউ নিয়েছিলেন মাহমুদুল। তাতে অবশ্য কাজের কাজ হয়নি। ২৬ বলে ৫ রান করেন এই ব্যাটার।

১১তম ওভারে সাদমানকেও হারায় বাংলাদেশ। হাসান আলীর করা অফ স্টাম্পের বাইরের বাউন্ডার বাঁহাতি ওপেনারের ব্যাটের শ্লোল্ডারে লেগে সরাসরি চলে যায় গালিতে থাকা সৌদ শাকিলের হাতে। ফেরার আগে ১০ রান করেন সাদমান। দলীয় ২৩ রানেই সাজঘরে বাংলাদেশের দুই ওপেনার। এর আগে প্রথম ইনিংসে ৩১ রানে বিদায়ে নিয়েছিলেন সাদমান এবং মাহমুদুল। সাদমান ১৩ এবং মাহমুদুল করেছিলেন ৮ রান।

 

 

গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ জানানো নিষিদ্ধ করলেন হাইকোর্ট

লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করেন।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

 

 

 

রায়ে বলা হয়েছে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা, সামাজিক ভারসাম্যহীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি। আদালতের মতে, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিল। শুধু একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া এই অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।

 

রায়ে উল্লেখ করা হয়, নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত অনাগত শিশুর ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকা প্রয়োজন।

 

 

হাইকোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ৬ মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আদালত আরও উল্লেখ করেন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম আইন দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

 

 

 

রায়ে আদালত এ নির্দেশনাকে ‘continuous mandamus’ হিসেবে ঘোষণা করেন, যাতে ভবিষ্যতে নির্দেশনার বাস্তবায়ন আদালত তদারকি করতে পারেন।

 

 

 

২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান গর্ভের শিশুর পরিচয় প্রকাশ বন্ধে এ রিট আবেদন করেন।

 

 

 

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।

 

 

পরিবার ও সমাজ গঠনে নারীর ভূমিকা নিয়ে ডা. জুবাইদা রহমানের বক্তব্য

পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নে নারীদের অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, নারীরা পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রে থেকে স্বাস্থ্য-গ্রামীণ উন্নয়নে অংশ নিতে পারে।

 

 

 

 

তিনি বলেছেন, কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা ও সুন্দর মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিটি মেয়ে যে ভবিষ্যৎ নিজের জন্য গড়তে চায়, সে পথে রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পরিবর্তে তা এগিয়ে নেবে।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) রাজধানীতে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সমাবেশে অংশ নিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে আমার খুবই ভালো লাগছে। অভিনন্দন জানাই সব সদস্যকে— তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে অবদান রাখার জন্য।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আপনারা আপনাদের কর্মের মাধ্যমে আগামীর প্রজন্মকে সমাজে অবদান রাখার পথ দেখিয়ে দিতে সহায়তা করছেন। অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত সমাজসেবামূলক আপনাদের পরিকল্পনাগুলো সমন্বিতভাবে একটি সুন্দর সুস্থ মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি। আমরা সকলে যদি নিজ নিজ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সমাজ গঠনে অবদান রাখি। তাহলে নিশ্চয়ই সেটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব ইনশাআল্লাহ।

 

 

তিনি আরও বলেন, নারীরা পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রে থেকে স্বাস্থ্য-গ্রামীণ উন্নয়নে অংশ নিতে পারে। কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা ও সুন্দর মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিটি মেয়ে যে ভবিষ্যৎ নিজের জন্য গড়তে চায়, সেই পথে রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পরিবর্তে তা এগিয়ে নেবে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র কুটির ও মাঝারি শিল্পে যোগ্যতার ভিত্তিতে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ প্রদান। যেমন- প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং ডেভেলপমেন্ট ও মার্কেটিং সাপোর্ট প্রদান। ফলে পারিবারিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি ও সন্তানদের শিক্ষা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম করা সম্ভব হবে।

 

 

 

উল্লেখ্য, সব শেষে তিনি অনুষ্ঠানটি আয়োজনের জন্য পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।

 

 

 

আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে ৩০০ পদের বিশাল নিয়োগ

কাজের সুযোগ দিচ্ছে আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ‘ডাটা এন্ট্রি অপারেটর’ পদে ৩০০ জনকে নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদন শুরু হবে ১৪ মে সকাল ১০টায়, চলবে ১৩ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি-২০২৬

প্রতিষ্ঠানের নাম: আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক

পদের নাম: ডাটা এন্ট্রি অপারেটর

পদসংখ্যা: ৩০০ জন

চাকরির ধরন: বেসরকারি, ফুল টাইম

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক অথবা সমমান

অভিজ্ঞতা: প্রযোজ্য নয়

বেতন ও অন্যান্য সুবিধা: ৯৩০০ – ২২,৪৯০ টাকা (১৬তম গ্রেড)

বয়সসীমা: ১ মে ২০২৬ তারিখ ১৮-৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভেট গ্রহণযোগ্য নয়।

কর্মস্থল: যে কোনো জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক।

আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

আবেদন ফি: টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে ১১২ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে।

আবেদন শুরু: ১৪ মে

আবেদনের শেষ তারিখ: ১৩ জুন

 

 

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর, বন অধিদপ্তরে ৩৮২ জন নিয়োগ

বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটি তাদের রাজস্ব খাতভুক্ত ‘ফরেস্টার’ পদে তিন শতাধিক জনবল নিয়োগ দেবে।

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

পদের নাম: ফরেস্টার

পদ সংখ্যা: ৩৮২

শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা: কোন স্বীকৃত বোর্ড হতে ডিপ্লোমা-ইন-ফরেস্ট্রি। উচ্চতা ১৬৩ সে.মি; ও বুকের মাপ ৭৬ সে.মি

বেতন স্কেল: ৯,৭০০-২৩,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৫)

বয়সসীমা: ১৮-৩২ বছর

আবেদনের নিয়ম: বন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র ডাউনলোড করে পূরণ করতে হবে। ডাকযোগে অথবা বন ভবন, আগারগাঁও, ঢাকার দ্বিতীয় তলায় (Level-1)-এ রক্ষিত বাক্সে সরাসরি পৌঁছাতে হবে।

আবেদনের ঠিকানা: প্রধান বন সংরক্ষক, বন অধিদপ্তর, বন ভবন, আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭ প্রধান বন সংরক্ষক, বন অধিদপ্তর, বন ভবন, আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭

আবেদন ফি: ১০০ টাকা

আবেদনের শেষ তারিখ: ১০ জুন ২০২৬

বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন এখানে

 

 

প্রেস ক্লাব গঠন করেও বাঁচতে পারলেন না শ্রমিক লীগ নেতা

গ্রেপ্তার এড়াতে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকে নিয়ে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা প্রেস ক্লাব গঠন করা সেই শ্রমিক লীগ নেতা চৌধুরী মাহমুদ আশরাফ টুটুকে চাঁদাবাজি মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। টুটু সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত। তিনি সালথা উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক।

 

 

 

রোববার (১০ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুরে সালথার আমলি আদালতে হাজির হলে ওই আদালতের বিচারক কৃষ্ণা বালা তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী জসীমউদ্দীন মৃধা।

 

 

 

জসীমউদ্দিন মৃধা বলেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজির চেষ্টার একটি মামলায় তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এর আগে টুটু চৌধুরীকে ঘিরে নানা অভিযোগ সামনে আসে। স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, গত ফেব্রুয়ারিতে একটি হোটেলে কয়েকজনকে নিয়ে ‘সালথা উপজেলা প্রেস ক্লাব’ নামে নতুন একটি সংগঠনের কমিটি ঘোষণা করেন তিনি। ওই কমিটিতে সভাপতি করা হয় টুটু চৌধুরীকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলামকে।

 

অভিযোগ রয়েছে, ১৮ সদস্যের ওই কমিটিতে অধিকাংশ সদস্যের সাংবাদিকতার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাদের মধ্যে কেউ যুবলীগ, কেউ ছাত্রদল, আবার কেউ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এমনকি ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি করে সদস্য বানানোর অভিযোগও উঠেছে।

 

স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে টুটু চৌধুরী সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দালালি, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তার করতেন। এছাড়া মাটি-বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডার বাণিজ্য ও থানাকেন্দ্রিক দালালির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 

 

সম্প্রতি, ফরিদপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর সম্পদ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে টুটু চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

 

 

ফ্রিজের কম্প্রসার বিস্ফোরণ: একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি বাসায় ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ হয়েছেন।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফতুল্লার শিবু মার্কেটের পাশে কুতুবপুর রাখিবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

 

দগ্ধরা হলেন— আব্দুল কাদের (৫০) ও তার তিন ছেলে মেহেদী (১৭), যমজ সন্তান সাকিব (১৬) ও রাকিব (১৬)। গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, আব্দুল কাদের অটোরিকশাচালক। আর তার ছেলে মেহেদি হালিম বিক্রেতা, সাকিব একটি কারখানায় কাজ করে এবং রাকিব চটপটি বিক্রি করেন। ঘটনার সময় ৩ ছেলে ও বাবা ঘুমিয়েছিলেন। আর তাদের মা রান্নার কাজের জন্য পানি সংগ্রহ করতে ঘরের বাইরে ছিলেন। তখনই এ দুর্ঘটনা ঘটলে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি।

 

তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. ফারুক জানান, একতলা ভবনটিতে ভাড়া থাকেন আব্দুল কাদেরের পরিবার। তার তিন ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস। সকালে তাদের বাসায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের মানুষ জেগে ওঠে। তখন সবাই দৌড়ে গিয়ে দেখেন, ওই বাড়িটির দরজা, জানলা ভেঙে পড়েছে। ঘরের ভেতর থেকে দগ্ধ অবস্থায় একে একে তাদের বের করে আনা হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।

 

 

তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে, ওই বাসার গ্যাস লিকেজ হয়ে জমে থাকা গ্যাস থেকে অথবা ফ্রিজের কম্প্রসার থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তবে এটি কেউই নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না।

 

 

 

এদিকে বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আব্দুল কাদেরের শরীরের ৫৭ শতাংশ, মেহেদীর ১৮, সাকিবের ১৭ ও রাকিবের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। মেহেদী ও রাকিবের শ্বাসনালিও দগ্ধ হয়েছে। তাদের চারজনের অবস্থাই গুরুতর। ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, থাকছে জিয়া পরিবারের ইতিহাস

আগামী শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ে নানা পরিমার্জন ও পরিবর্তন আনছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবি। এর মধ্যে চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বীরত্বের ওপর আলাদা অধ্যায় থাকবে। চতুর্থ শ্রেণিতে শারীরিক শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ জয়’ বা আনন্দময় শিক্ষা এবং কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা নামে তিনটি বই বাধ্যতামূলকভাবে যোগ হবে। খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পাঠ্যবইয়ে। চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি ক্লাসেই সাতটি খেলাধুলা ও দেশীয় সংস্কৃতি নিয়ে আলাদা বই থাকবে।

 

 

 

এ ছাড়া আইসিটি বইয়ে এআই, রোবোটিকস এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো যুগোপযোগী বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর বাইরেও সব বইয়ে তথ্য, শব্দ ও ভাষাগত নানা পরিমার্জন আনা হবে। পাঠ্যবইয়ের প্রচ্ছদ, ছবি, মানচিত্র ও অলংকরণেও নান্দনিকতা আনা হবে। এসব পরিবর্তন এনে জুনের মধ্যেই পরিমার্জনের কাজ শেষ করতে চায় এনসিটিবি। এবার এনসিটিবির সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে পরিমার্জনের কাজ করছে।

 

 

 

এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যপুস্তকসমূহ পর্যালোচনা ও পরিমার্জন করতে গত ৪ মে থেকে ৭ মে পর্যন্ত বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে টানা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্ত ছিলেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। চার দিনের এ কর্মশালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ নূর-ই-আলম সিদ্দিকী ও শাহ শামীম আহমদের তত্ত্বাবধানে দেশের ২৫৭ শিক্ষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞ অংশ নেন। তারা বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত।

এ কর্মশালায় অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষক বলেন, সেখানে বর্তমান পাঠ্যবইগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন। বর্তমান ভুলত্রুটিগুলো খুঁজে বের করার পাশাপাশি ভাষাগত পরিমার্জনে নানা পরামর্শ দেন। অন্য বছর কর্মশালাগুলোতে আমলাদের আধিক্য থাকলেও এবার তা ছিল না। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিমার্জনের দায়িত্বে থাকায় শিক্ষকদেরও ভুলত্রুটি বের করা সহজ হয়েছে।

তারা জানান, বিগত বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আওয়ামী লীগ আমলের পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের সংশোধন আনায় এবার বেশি পরিমার্জন করতে হচ্ছে না। তবে ইতিহাস এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব ক্লাসের এসব বইয়ে জাতীয় বিপ্লব সংহতি দিবস ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বীরত্ব নিয়ে নতুন অধ্যায় যোগ করা হচ্ছে। এ তিনটি বিষয়কে আওয়ামী লীগ আমলে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধসহ আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া অন্যান্য জাতীয় নেতার যার যে অবদান, তা তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন মেজর জিয়াউর রহমান। পরবর্তী সময়ে তিনি ১ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। আওয়ামী লীগ আমলে তার এ ইতিহাস পাঠ্যবই থেকে অনেকটা মুছে ফেলা হয়। এ ছাড়া ১৯৭৫ সালে সমগ্র জাতি যখন অনিশ্চয়তার সম্মুখীন, তখন ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার মিলিত বিপ্লব জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেয়, যা দেশপ্রেমের এক অনন্য নজির। ওইদিন জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেন।

 

 

 

তিনি ক্রান্তিময় সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন। এ ইতিহাসও আওয়ামী লীগ আমলে ধামাচাপা ছিল। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে এ দিবসকে গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দিবসটির গুরুত্ব এবার পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরা হবে।

 

 

 

এ ছাড়া নব্বইয়ের গণআন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা অস্পষ্ট ছিল। এবার পাঠ্যবইয়ে তার অবদানের কথা তুলে ধরা হচ্ছে।

 

 

 

এনসিটিবির এক কর্মকর্তা বলেন, নবম শ্রেণিতে ওঠার পর মূলত মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরা ইতিহাস বই পড়ে। তাই চতুর্থ শ্রেণি থেকেই ইতিহাস এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে এ ইতিহাসগুলো তুলে ধরা হচ্ছে।

 

 

 

ইতিহাসের বই সংশোধনের দায়িত্বে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ‘ইতিহাসের বয়ান হবে নির্মোহ। এখানে কাউকে বড় কিংবা ছোট করে দেখানো হবে না। যার যে অবদান আছে, তা তুলে ধরা হবে। শিক্ষার্থীরা বই পড়ে যাতে সঠিক তথ্য পায়, সেই আলোকে বই লেখার জন্য সংশ্লিষ্ট লেখকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

 

 

 

খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সারা দেশে চালু করেছে। এরই অংশ হিসেবে পাঠ্যবইয়েও খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব ক্লাসেই খেলাধুলা ও সংস্কৃতি নিয়ে আলাদা বই থাকবে।

 

 

 

এতে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, কারাতে অথবা দাবা নিয়ে আলাদা অধ্যায় থাকবে। বইয়ে দেশীয় সংস্কৃতিও উঠে আসবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ বইয়ের পরীক্ষা হবে ব্যবহারিক। অর্থাৎ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ থেকেই নম্বর দেওয়া হবে। আগে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির এ বিষয়ে একটি পুস্তিকা থাকলেও এবার মাধ্যমিকেও তা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

 

 

 

এ ছাড়া নতুন করে তিনটি বই যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে যোগ হচ্ছে শারীরিক শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য নামের একটি বই। আর ষষ্ঠ শ্রেণিতে যোগ হচ্ছে ‘লার্নিং উইথ জয়’ বা আনন্দময় শিক্ষা এবং কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা নামে দুটি বই। এর মধ্যে আনন্দময় শিক্ষার বইটির পরীক্ষাও ব্যবহারিক হবে। ‘লার্নিং উইথ জয়’ মূলত পরীক্ষামূলকভাবে আগামী বছর চালু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শ্রেণিতে এ বই যুক্ত করা হবে।

 

 

 

বর্তমানে শিক্ষার্থীদের যে বই পড়ানো হচ্ছে, তা ২০১২ সালে প্রণয়ন করা। তাই ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ে যে পাঠগুলো পড়ানো হচ্ছে, সেগুলো সেকেলে। আধুনিক প্রযুক্তির ধারেকাছেও নেই। তাই এবার আইসিটি বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, হার্ডওয়্যার, সাইবার নিরাপত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক নানা বিষয় যুক্ত করা হবে।

 

 

 

এ ছাড়া বাংলা, বিজ্ঞান, পৌরনীতি ও নাগরিকতাসহ বেশকিছু বইয়ের কিছু কনটেন্টে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি এবার পাঠ্যবইয়ের প্রচ্ছদ, ছবি, মানচিত্র, লেখার বিন্যাস ও অলংকরণেও নান্দনিকতা আনা হচ্ছে। বইয়ে যেসব ছবি, বাণী বা প্রবাদ দেওয়া হয়, তা শিক্ষার্থীর বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করারও চিন্তা রয়েছে। ছবির সামঞ্জস্যতা, ছবির স্পষ্টতা, ক্যাপশন ও ব্রেইল বইয়ের ক্যাপশনেও পরিমার্জন আনা হবে।

 

 

 

সার্বিক বিষয়ে পাঠ্যবই পরিমার্জনের দায়িত্বে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এস এম হাফিজুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘বর্তমানে যে বইগুলো আছে; তাই আগামী বছর শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে। এখানে শুধু তথ্যগত, বানান, শব্দ ও ভাষাগত বিষয়গুলো দেখা হচ্ছে, যাতে ভুল কিছু না যায়। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়গুলো দেখছি।’

 

 

 

এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক কালবেলাকে বলেন, ‘সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের কথা মাথায় রেখেই বইগুলো পরিমার্জন করা হচ্ছে। জুনের মধ্যে আমরা এ কাজ শেষ করব। সবকিছু এবার পরিবর্তন হয়তো সম্ভব হবে না। তবে আগামী ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। তখন আমরা পাঠ্যবই কমানোর পাশাপাশি যুগোপযোগী বিষয় ও অধ্যায় যোগ করব। জুন থেকেই নতুন কারিকুলাম নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।’

 

সুত্র: “দৈনিক কালবেলা”

 

 

মাদকবিরোধী অভিযানে নোয়াখালীতে ৩ জন গ্রেপ্তার

নোয়াখালীতে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও বিদেশি মদসহ তালিকাভুক্ত এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
একই দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে গাঁজাসহ আরও দুই মাদকসেবীকে আটক করে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় নোয়াখালী সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১০ মে ) সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে সুধারাম মডেল থানাধীন পূর্ব এওয়াজবালিয়া গ্রামের মন্নান মেম্বার বাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি মো. আনোয়ার হোসেন প্রকাশ ছোট্টি (৫২)কে তার নিজ দখলীয় বসতঘর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি পূর্ব এওয়াজবালিয়া গ্রামের ০৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। অভিযানে তার ঘর তল্লাশি করে ১২০ পিস অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫০০ গ্রাম লুজ গাঁজা, ভারতীয় বিদেশি মদের ২ বোতল এবং ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে, একই দিন জেলার সুধারাম মডেল থানাধীন দত্তেরহাট ও বাড়লিংটন মোড় এলাকায় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদত হোসেন এবং মোসাদ্দেক হোসেনের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় ৭২০ গ্রাম লুজ গাঁজাসহ বাপ্পি হোসেন (১৯) ও মিশু (২০) নামে দুই মাদকসেবীকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটক দুইজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
নোয়াখালী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ জানান, জেলার বিভিন্ন স্থানে মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কামারখন্দে বাউল গানের অনুষ্ঠানে হাতাহাতি, ছাত্রদল নেতা সহ আহত ১০

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিয়াড়া মেলার শেষ দিনে অনুষ্ঠিত বাউল গানের আসরে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রদল নেতাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।

 

 

 

রবিবার (১০ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার বিয়াড়া মেলা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাউল গানের অনুষ্ঠান চলাকালে বড়কুড়া ও বিয়াড়া গ্রামের কয়েকজন যুবকের মধ্যে নাচানাচি ও ধাক্কাধাক্কিকে কেন্দ্র করে প্রথমে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এতে অনুষ্ঠানস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দর্শনার্থীরা ছোটাছুটি শুরু করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অনুষ্ঠানটি ভণ্ডুল হয়ে যায়।

 

 

 

আহতদের মধ্যে বিয়াড়া গ্রামের রাজিব, রাজু, কলম ও করিমের নাম জানা গেছে। এছাড়াও বড়কুড়া গ্রামের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

 

 

 

আহত রাজিব জানান, তিনি স্টেজের কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করছিলেন। হঠাৎ হুড়োহুড়ি শুরু হলে লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় কিছু ব্যক্তি তাকে মারধর শুরু করে। পরে তার দুই ভাই এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়।

 

 

 

এদিকে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে কামারখন্দ থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তানহাল আহমেদ রাজু ও তার ভাই আজাদুলও হামলার শিকার হন বলে জানা গেছে।

 

 

 

ঘটনার বিষয়ে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী জানান, মৌখিক অনুমতি নিয়ে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছিল। হাতাহাতির ঘটনার পরপরই অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

চাকরি দিচ্ছে আরএফএল গ্রুপ, থাকছে বাড়তি সুবিধা

লোকবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে আরএফএল গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার/ অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে জনবল নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে ০৯ মে থেকে এবং আবেদন করা যাবে আগামী ০৭ জুন পর্যন্ত।

 

 

 

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

 

 

 

এক নজরে দেখে নিন আরএফএল গ্রুপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬

প্রতিষ্ঠানের নাম : আরএফএল গ্রুপ

চাকরির ধরন : বেসরকারি চাকরি

পদ সংখ্যা : ১টি

লোকবল নিয়োগ : নির্ধারিত নয়

আবেদন করার মাধ্যম : অনলাইন

অফিশিয়াল ওয়েবসাইট : https://rflbd.com

আবেদন করার লিংক : অফিশিয়াল নোটিশের নিচে

প্রতিষ্ঠানের নাম : আরএফএল গ্রুপ

পদের নাম : প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার/ অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার

পদসংখ্যা : নির্ধারিত নয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা : সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা

অন্য যোগ্যতা : অটোক্যাড, এমএস প্রজেক্ট/প্রিমাভেরা এবং এমএস অফিসে পারদর্শিতা। প্রকল্প পরিকল্পনা, সাইট তত্ত্বাবধান এবং বাস্তবায়নে ভালো জ্ঞান।

অভিজ্ঞতা : কমপক্ষে ৩ বছর

চাকরির ধরন : ফুলটাইম

কর্মক্ষেত্র : অফিসে

প্রার্থীর ধরন : নারী-পুরুষ (উভয়)

বয়সসীমা : কমপক্ষে ২৫ বছর

কর্মস্থল : দেশের যেকোনো জায়গায়

বেতন : আলোচনা সাপেক্ষে

অন্য সুবিধা : প্রভিডেন্ট ফান্ড, ভ্রমণ ভাতা, মোবাইল বিল, কর্মক্ষমতা বোনাস, দুপুরের খাবার সুবিধা, প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট।

আবেদন করবেন যেভাবে : আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আবেদনের শেষ সময়: ০৭ জুন ২০২৬

 

 

হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ১১ শিশুর মৃত্যু

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে রোববার (১০ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ শিশু এবং হামে আক্রান্ত হয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামে ৬৫টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আর ২০৫টি শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৭৮টি শিশু। একই সময়ে হামে মারা যাওয়া ৪ শিশুর তিনজনই ঢাকা বিভাগের, একজন বরিশালের। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়েও ঢাকা বিভাগে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে দুইজন করে শিশুর মৃত্যুর হয়েছে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে।

 

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ৫০৩টি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা যায়। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৭৮টি শিশু। এর মধ্যে ৪৯৬টি শিশুই ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ১১৬টি শিশু গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিভাগের ৪৪৩ শিশু।

 

গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা গেছে মোট ৪৯ হাজার ১৫৯টি শিশুর। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৪ হাজার ৯০৯টি শিশু। তাদের মধ্যে ৬ হাজার ৮১৯ জনের হাম শনাক্ত হয়। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৩০ হাজার ৮৬২।

 

 

 

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের শেষ আশ্রয় ‘মা’: মির্জা ফখরুল

মা দিবসে দেশের সব নাগরিককে মায়েদের যথাযোগ্য সম্মান ও কর্তব্য পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার মতে, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়স্থান হচ্ছেন ‘মা’। এই মানুষটি সন্তানদের গড়ে তুলতে সব অর্থেই থাকেন আপসহীন ও সংগ্রামী।

 

 

 

রোববার (১০ মে) ‘আন্তর্জাতিক মা দিবস’ উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

 

বাণীতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মা দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মায়ের প্রতি আমি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমি তাদের সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়স্থান হচ্ছেন ‘মা’ । যদিও মাকে শ্রদ্ধা জানাতে কোন দিন-ক্ষণের প্রয়োজন হয় না।

 

‘মা’ একটি ছোট শব্দ কিন্তু তার ব্যাপকতা অসীম উল্লেখ করে তিনি বলেন, মা সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখান। তাই মায়ের জন্য প্রতিদিনই সন্তানের ভালোবাসা থাকে, তবু স্বতন্ত্রভাবে ভালোবাসা জানাতেই আজকের এই দিন। পরিবারে ‘মা’ হচ্ছেন এক অপরিহার্য মহিমান্বিত প্রতিষ্ঠান।

 

মহীয়সী মায়ের শিক্ষাতেই শিশুর ভবিষ্যৎ নির্মিত হয়। সুমাতার সহচার্যে সন্তানের উৎকর্ষতা ও প্রকৃত মানবসত্তার জাগরণ ঘটে, সন্তানের আত্মাকে নির্মল করে বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব।

 

 

বাণীতে তিনি বলেন, সন্তানের সাফল্যের মূলে থাকে ‘মা’-এর উদ্যম ও উদ্যোগ। নিবেদিতপ্রাণ এই মানুষটি সন্তানদের গড়ে তুলতে সব অর্থেই থাকেন আপসহীন ও সংগ্রামী। অনেক শক্তির আধার একজন মা।

 

 

 

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় নারী সমাজের অগ্রগতির জন্য যে অবদান রেখেছিলেন তা প্রশংসিত হয়েছে দেশ-বিদেশে। আর্থিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে এদেশে দেশনেত্রীর অবদান কিংবদন্তিতুল্য।

 

 

 

লুণ্ঠিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভয়ংকর রাজরোষে পড়া সত্ত্বেও তিনি তার কর্তব্যকর্ম থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হননি জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সেই কারণেই মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে সর্বজনশ্রদ্ধেয় ও অভিনন্দিত। এই গৌরবান্বিত দিবসে আমি মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি তিনি যেন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাত নসিব করেন।

 

 

 

মা দিবসে সব নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মায়েদের প্রতি যথাযোগ্য সম্মান ও কর্তব্য পালন করেন। কারণ কেবলমাত্র সন্তানদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার একমাত্র শর্ত হচ্ছে মায়ের মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন থাকা।

 

 

 

তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন: রিজভী

নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরলসভাবে কাজ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। 

 

 

 

তিনি বলেন, মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে। 
রোববার (১০ মে) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে আইডিইবি’র ৪৫ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। 

 

 

 

রিজভী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। 

 

 

তাই এই সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।

 

 

 

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপির ৩১ দফা ও বিভিন্ন অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নে কাজ চলছে। 

 

 

 

কৃষিঋণ মওকুফ, ফার্মার্স কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খননের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এগুলো কোনো ফাঁপা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাস্তবায়নের জন্য সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। 

 

 

নাচোলে বসতবাড়িতে ককটেল হামলা, থানায় সাধারণ ডায়েরি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে গভীর রাতে এক বসতবাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ফুরশেদপুর বিরেন বাজার সংলগ্ন এলাকায় শনিবার (৯ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি ককটেল বিস্ফোরিত হলেও অন্যটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
​ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুরশেদপুর বিরেন বাজার এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিনের বাড়ি লক্ষ্য করে গভীর রাতে দু’টি ককটেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। বিকট শব্দে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে নাচোল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবিস্ফোরিত অবস্থায় অপর একটি ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করে।
​ভুক্তভোগী রুহুল আমিনের দাবি, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জয়নাল হাজারীর ছেলে সাগর ও তার সহযোগীরা এই হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, “সাগরের সাথে আমাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। এর আগেও তারা দু’বার আমাদের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলেছে। ওই ঘটনায় থানায় জিডি করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
​এই ঘটনায় রুহুল আমিন বাদী হয়ে নাচোল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
​নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অবিস্ফোরিত উদ্ধারকৃত বস্তুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রাথমিক আলামত পরীক্ষা করা হচ্ছে। যদি এটি ককটেল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়, তবে দ্রুত বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করা হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জনতার কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ: ক্ষেতলালের সেই ‘কমিশনখোর’ পিআইও বদলি

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় টিআর-কাবিখা প্রকল্পে ২৫ শতাংশ কমিশন বাণিজ্য ও ভ্যাট-আয়করের নামে অর্থ আত্মসাতের খবর ‘জনতার কণ্ঠে প্রকাশের পর অবশেষে ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। অভিযুক্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ওবায়দুল হককে ক্ষেতলাল থেকে সরিয়ে পার্শ্ববর্তী পাঁচবিবি উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।

 

​গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন-১) তাসনূভা নাশতারাণ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ জারি করা হয়। আদেশে ওবায়দুল হকসহ ৮ জন পিআইও-কে জনস্বার্থে বদলি করা হলেও ক্ষেতলালে তার বিরুদ্ধে ওঠা পাহাড় সমান দুর্নীতির অভিযোগই এই বদলির নেপথ্যে কাজ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

গত ২০ এপ্রিল জনতার কণ্ঠ ও সংবাদ সারাবেলা’য় “ক্ষেতলালে উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ: পিআইওর বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য” শিরোনামে একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে পিআইও ওবায়দুল হকের কমিশন বাণিজ্যের কারণে মেম্বার-চেয়ারম্যানদের জিম্মি দশা এবং প্রকল্পের টাকা লুটের চিত্র ফুটে ওঠে। বিশেষ করে বড়াইল ও আলমপুর ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া সরাসরি স্বীকারোক্তিগুলো প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের টনক নড়ায়। প্রতিবেদকের কাছে থাকা অডিও-ভিডিও প্রমাণ এবং নথিপত্র সংবাদের সত্যতাকে অকাট্য করে তোলে।

আরও পড়ুন: টিআর-কাবিখা প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পিআইওর বিরুদ্ধে

 

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ১৪ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত (Stand Released) হতে হবে। অন্যথায় ঐ দিন বিকেলেই তারা বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন। ক্ষেতলালে ওবায়দুল হকের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন পাঁচবিবির বর্তমান পিআইও মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক।

 

 

এই বদলিকে এলাকাবাসী স্বাগত জানালেও তারা কেবল বদলিতেই তুষ্ট নন। সচেতন মহলের দাবি, সংবাদ সারাবেলায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করে ওবায়দুল হকের সময়কার সকল প্রকল্পের অডিট করা প্রয়োজন। দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত সরকারি অর্থ উদ্ধার এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশে

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বাড়তি উত্তাপ। ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে অন্যরকম উত্তেজনা। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ৩২ দিন বাকি। এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলে সব কিছুর দামই আকাশচুম্বী! টিকিটের দাম থেকে শুরু করে এখন সম্প্রচার স্বত্বও চূড়ায় উঠতে শুরু করেছে। যে কারণে চীন, ভারত সম্প্রচার নিয়ে জটিলতায় পড়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।

 

 

 

বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক মিডিয়া সংস্থা ‘স্প্রিংবক’। কিন্তু তারা এখন সেটি সম্প্রচারের জন্য বিটিভির কাছে যে পরিমাণ অর্থ চেয়েছে, তা দেশের একমাত্র সরকারি টেলিভিশনের বাজেটকেই প্রায় ছুঁয়ে ফেলছে! অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন এর এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘স্প্রিংবক থেকে আমাদের কাছে ১৫১ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব এসেছে। এছাড়া এর সঙ্গে ট্যাক্স ও ভ্যাট মিলিয়ে সেটা দুইশত কোটি টাকা দাঁড়াবে।’

 

 

 

তারপরই ওই কর্তা জানান, এত অর্থ দিয়ে আসলে বিটিভির মতো প্রতিষ্ঠানের খেলা দেখানো অসম্ভব। তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি, ‘আসলে এত টাকা দিয়ে বিটিভির পক্ষে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব কেনা সম্ভব নয়। বিটিভির সারা বছরের বাজেটই আছে তিনশত কোটি টাকা। এর মধ্যে যদি আমরা দুইশত কোটি টাকা দিয়ে সম্প্রচার স্বত্ব কিনি তাহলে টেলিভিশন চলবে কী করে? সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এত টাকা দিয়ে স্বত্ব কিনে বিটিভি তো কোনোভাবেই লাভ করতে পারবে না। বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’

 

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব ৯৮ কোটি টাকায় কিনেছিল বিটিভি। যার কারণে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল দেশের একমাত্র সরকারি টেলিভিশনকে। এ নিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘কাতার বিশ্বকাপে সম্প্রচার স্বত্ব কেনা নিয়ে পরবর্তীতে বিটিভিকে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। আমরা বিজ্ঞাপন থেকে কিছু টাকা সংগ্রহ করতে পারলেও বিনিয়োগের পুরা টাকা আসেনি। বড় ক্ষতি হয়েছিল। এখন সরকার যদি মনে করে বিটিভির মাধ্যমে বিশ্বকাপ দেখাবে, তাহলে হয়তো সম্ভব। এছাড়া এই মুহূর্তে অন্য কোনও বিকল্প নেই।’

 

শেষ পর্যন্ত যদি বাংলাদেশেও বিশ্বকাপ সম্প্রচার না হয় তাহলে বিশ্বের একটি বড় অংশই সম্প্রচার তালিকার বাইরে চলে যাবে।

 

 

কিছু দিন আগেই যেমন রয়টার্সকে ফিফা জানিয়েছিল যে তারা ১৭৫টিরও বেশি অঞ্চলের সঙ্গে সম্প্রচার চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এটা সত্য হলেও বাস্তব চিত্র আরও জটিল। কারণ এখনও পাকিস্তান, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। তার ওপর ভারত ও চীনসহ বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল কয়েকটি দেশও ফিফার সম্প্রচার তালিকার বাইরে। অর্থাৎ বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ জনসংখ্যা এই সম্প্রচার কাভারেজের বাইরে রয়ে গেছেন।

 

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, বাদ পড়া দেশগুলোর বড় অংশই একই অঞ্চলের, মূলত টাইম জোন সমস্যা। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে সাড়ে ৯ ঘণ্টা এবং চীন ১২ ঘণ্টা এগিয়ে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলো সেখানে বেশিরভাগ সময় গভীর রাত বা ভোরে সম্প্রচার হবে।

 

 

 

এর বিপরীতে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সময়ের পার্থক্য ছিল তুলনামূলক সুবিধাজনক সময়ে। ভারতের সঙ্গে ব্যবধান ছিল মাত্র আড়াই ঘণ্টা এবং চীনের সঙ্গে ৫ ঘণ্টা। সেই কারণেই সে সময় ভারতের ভায়াকম১৮ (বর্তমানে রিলায়েন্সের অধীনে থাকা জিওসিনেমা প্ল্যাটফর্ম) ৬ কোটি ডলারে সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছিল এবং বিনামূল্যে ম্যাচ দেখিয়েছিল। ফলে প্ল্যাটফর্মটির দর্শক সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গিয়েছিল। তবে সেখানেও বিজ্ঞাপন আয় ছিল কম, প্রায় ৩ কোটি ডলার। যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি লোকসান দেখেছে। ভারতে মূলত সাবস্ক্রিপশন নয়, বিজ্ঞাপনই মিডিয়ার আয়ের প্রধান উৎস হওয়ায় এই মডেল টেকসই হয়নি।

 

 

 

এই অভিজ্ঞতার পর ফিফা ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপ মিলিয়ে ভারতীয় বাজারের জন্য প্রায় ১০ কোটি ডলারের একটি প্যাকেজ চেয়েছিল। কিন্তু রিপোর্ট অনুযায়ী, জিওস্টার ও সনির দুই বড় প্রতিদ্বন্দ্বীই সেই দামে আগ্রহ দেখায়নি। বরং জিওস্টার মাত্র ২ কোটি ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে।

 

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, সময়ের পার্থক্য ছাড়াও বড় কারণ হলো ভারতীয় ক্রিকেটের আধিপত্য, বিশেষ করে আইপিএলের জন্য বিপুল বিনিয়োগ। একই সময়ে নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও থাকায় দর্শক ও বিজ্ঞাপনদাতাদের আগ্রহ সেদিকেই বেশি।

 

 

 

চীনের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি প্রায় একই। সেখানকার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের কেন্দ্র। তবে ফিফার প্রত্যাশা অনুযায়ী চীনা বাজার থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আসেনি। ফিফা শুরুতে ২৫ কোটি ডলার চাইলেও চীনা পক্ষের আগ্রহ ছিল অনেক কম। প্রস্তাব নেমে আসে ৮০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। ফলে সব দিক দিয়ে এখন অর্থই অনর্থের মূল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে সবাইকে বিশ্বকাপ দেখাতে হলে ফিফাকে বড় ধরনের মূল্য ছাড় দিতে হবে।

 

 

“ওঙ্কার আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রর” আত্মপ্রকাশ আগামীকাল

কবিতা জাগাবে বোধ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে নতুন সাহিত্য ও আবৃত্তি সংগঠন “ওঙ্কার আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র”।

 

 

 

আগামীকাল সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যা ৬টায় সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

 

অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করবেন সিরাজগঞ্জ জেলা কালচারাল অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী, শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা উপস্থিত থাকবেন।

 

 

 

মায়াময় এ সংসারের ঘূর্ণাবর্তে, স্বার্থের বেড়াজালে যখন জীবন অস্থির হয়ে ওঠে এবং হৃদয় মন যখন অশান্ত থাকে, তখন আবৃত্তি, গান ও শিল্প-সাহিত্যের আড্ডার মাধ্যমে সুস্থ বিনোদন ও নির্মল আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াসে “কবিতা জাগাবে বোধ” এই স্লোগানকে ধারণ করে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

 

 

 

অনুষ্ঠানে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ, আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্য এবং আবৃত্তি পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হবে।

 

 

 

সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উক্ত অনুষ্ঠানকে আনন্দময়, প্রাণবন্ত এবং সার্থক করতে সকলের উপস্থিতির জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

2 thoughts on “যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত করতে সৌদি-ইরান কূটনৈতিক যোগাযোগ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত করতে সৌদি-ইরান কূটনৈতিক যোগাযোগ

আপডেট টাইম : ০৭:৪৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। ফোনালাপে তারা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয় ফোনালাপ।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পর থেকেই আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপ নেয় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।

এরপর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় স্থায়ী কোনো সমঝোতা হয়নি। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ান।

রোববার ইরান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাব পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠায়। তবে ট্রাম্প সেটিকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

গাজীপুরে পাঁচ খুন: ফরেনসিক রিপোর্টে রহস্যের নতুন দিক

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় ফরেনসিক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন স্ত্রী, শ্যালক এবং দুই মেয়েকে গলা কেটে এবং ছোট মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মাজহারুল হক এ তথ্য জানান।

 

 

 

গত শনিবার (০৯ মে) সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে একটি বহুতল বাড়ি থেকে ওই পাঁচ জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তারা হলেন- গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি গ্রামের শাহাদাত হোসেন মোল্লার মেয়ে শারমিন খানম (৩০), নাতনি মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (দেড় বছর) ও ছেলে রসুল মোল্লা (২৩)।

তারা কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী মজিবুর রহমানের বাসায় ভাড়ায় বসবাস করতেন। অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা গোপালগঞ্জ সদরের গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে। প্রাইভেটকার চালিয়ে সংসার চালাতেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন তিনি।

চিকিৎসক মাজহারুল হক বলেন, শারমিন খানম, তার ভাই রসুল মোল্লা এবং দুই শিশু মীম ও হাবিবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। আর শিশুকন্যা ফারিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কীভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে সেটি ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আগে তাদের চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় কোনো কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কিনা, তা জানার জন্য পেটের খাবারসহ অন্যান্য উপাদানের নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ওই ল্যাবের প্রতিবেদন পেলে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

 

 

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় শনিবার রাতে শারমিন খানমের বাবা নিহতের স্বামী ফোরকান মোল্লাকে (৪০) প্রধান করে অজ্ঞাত চার জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ফোরকান মোল্লাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (পিবিআই) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। তাকে গ্রেপ্তারের পর হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে।

 

ঈদের আনন্দে ‘ভটভটি’, নতুন নাটকে পর্দায় খায়রুল-সাদনিমা

আসন্ন ঈদুল আজহায় বিনোদনের নতুন মাত্রা যোগ করতে নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব নিয়ে আসছেন বিশেষ নাটক ‘ভটভটি’। গত ঈদে দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা খায়রুল বাসার ও সাদনিমা জুটিকে আবারও এই নাটকের মাধ্যমে পর্দায় ফিরিয়ে আনছেন তিনি।

 

 

 

জনপ্রিয় এই জুটির অনস্ক্রিন রসায়ন নিয়ে দর্শকদের মাঝে যে উম্মাদনা তৈরি হয়েছিল, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই নির্মাতা আবারও তাদের নিয়ে নতুন এক গল্প বুনেছেন। এনটিভি-তে প্রচারের অপেক্ষায় থাকা এই নাটকটি ঘিরে এরই মধ্যে দর্শকদের মধ্যে দারুণ আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

 

‘ভটভটি’ মূলত একটি রোমান্টিক কমেডি ঘরানার নাটক হলেও এর পরতে পরতে মিশে আছে আবেগ, সম্পর্কের গভীরতা এবং গ্রামীণ জীবনের চিরায়ত সৌন্দর্য। নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব এই গল্পের মাধ্যমে গ্রামবাংলার মাটির ঘ্রাণ এবং সাধারণ মানুষের সহজ-সরল জীবনযাত্রাকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

ঢাকার বাইরের মনোরম ও বৈচিত্র্যময় গ্রামীণ লোকেশনে নাটকটির দৃশ্যধারণ করা হয়েছে। গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ, নদীর পাড় আর হাটের দৃশ্যগুলো যেন পর্দায় এক জীবন্ত আবহ তৈরি করে, সেদিকে বিশেষ নজর দিয়েছেন নির্মাতা।

অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে নির্মাতা জানান যে, প্রতিটি চরিত্রকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে। খায়রুল বাসার ও সাদনিমা ছাড়াও এই নাটকে পর্দা ভাগ করে নিয়েছেন পারভেজ সুমন, নরেশ ভূঁইয়া, বাশার বাপ্পি, লাবণ্য লিসা এবং তুতিয়া জাহান পাপিয়া। প্রত্যেকের চরিত্রেই রয়েছে ভিন্নধর্মী চমক এবং মজার সব মোড়।

 

 

নির্মাতার ভাষ্যমতে, ‘ভটভটি’ এমন একটি কাজ যা দর্শকদের শুধু হাসাবেই না, বরং গল্পের চরিত্রগুলোর সঙ্গে তাদের এক ধরনের আত্মিক সংযোগ তৈরি করবে।

 

একটি টেলিফিল্ম নির্মাণে চার প্রজন্মের অভিনয় শিল্পী

বর্তমান সময়ের নাটক, টেলিফিল্মে চরিত্রের খুব একটা বৈচিত্র্য দেখা যায় না। অধিকাংশ নাটকে দুই তিন চরিত্রের খুব বেশি এখন আর দেখা যায় না। তবে বিশেষ কিছু কাজে দেখা মেলে একাধিক চরিত্রের। তেমনি একটি টেলিফিল্ম ‘জোহরা বেগমের ইচ্ছাপত্র’। এতে অভিনয় করেছেন চার প্রজন্মের শিল্পী, যা সচরাচর এখন আর দেখা যায় না। তৌকীর আহমেদের রচনায় টেলিফিল্মটি পরিচালনা করেছেন আরিফ খান। ঈদুল আজহা উপলক্ষে নির্মিত এ টেলিফিল্মে একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে ফেরদৌসী মজুমদার, আফজাল হোসেন, মামুনুর রশীদ, তৌকীর আহমেদ, দীপা খন্দকার, রওনক হাসান, জাকিয়া বারী মমর মতো তারকাদের।

 

 

 

এ টেলিফিল্মের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর টেলিভিশনে অভিনয়ে ফিরেছেন ফেরদৌসী মজুমদার, এটি এই প্রযোজনার সবচেয়ে দারুণ দিকগুলোর একটি। বয়সজনিত শারীরিক দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও তার কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও মানসিক দৃঢ়তা পুরো ইউনিটকে অনুপ্রাণিত করেছে। নির্মাতা জানান, প্রতিদিন নিয়ম করে শুটিংয়ে অংশ নেওয়া, চরিত্রে মনোযোগী থাকা এবং নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা—সব মিলিয়ে তিনি যেন আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তিনি অভিনয়ের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। ফেরদৌসী মজুমদারকে ঘিরে এই টেলিফিল্মের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, ‘মূলত ফেরদৌসী মজুমদারকে সম্মান জানানোর জন্যই আমি এ নাটকটি করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। উনার সম্মানেই আমরা সবাই মিলে কাজটি করেছি। আমার মনে হয়েছে, উনাকে এ সম্মানটুকু জানানো দরকার। কাজটি করার পর এখন মনে হচ্ছে, আমাদের ইচ্ছাপূরণ হয়েছে।’

 

 

 

বর্তমান সময়ে একটি টেলিছবিতে একসঙ্গে আলোচিত সব শিল্পীকে একত্র করার ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। এমন প্রশ্নে আরিফ খান বলেন, ‘আমি বরাবরই কাজ করার আগে গল্প নিয়ে বেশ সচেতন থাকি। গল্প ঠিক হলে তখন যাদের প্রয়োজন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারাও সানন্দে রাজি হন। অভিনয়শিল্পীরা আস্থা রাখেন, বিশ্বাস করেন—এটাই একজন নির্মাতা হিসেবে বড় প্রাপ্তি। মোটকথা, আমি আমার কাজের ব্যাপারে সৎ থাকি, এতে বাকি সব হয়ে যায়।’

 

 

 

পরকীয়ার বিরোধ থেকে হত্যাকাণ্ড, স্বামীর যাবজ্জীবন

রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে হত্যার দায়ে মো. শাহাদাৎ হোসেন নামে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৯-এর বিচারক মাহমুদুল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি আসামিকে দশ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

 

 

রায় ঘোষণার সময় কারাগার থেকে আসামি শাহাদাৎ হোসেনকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর সাজা পরোয়ানা দিয়ে আবারও তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আসামির স্ত্রীর সঙ্গে ভিকটিম আনিসের পরকীয়া ছিল। বিষয়টি আসামি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরে ভিকটিম আনিসকে নিষেধ করেন। কিন্তু ভিকটিম আনিস আসামির কথা না শুনে তার স্ত্রীর সঙ্গে আবারও দেখা করতে থাকেন।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২০১২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঢাকার তেজগাঁও থানাধীন আনোয়ারা পার্কের দক্ষিণ পার্শ্বে মা মেডিকেল স্টোরের বিপরীত দিকে ফুটপাতে ভিকটিমকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে ফেলে রাখেন। ওই ঘটনায় তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক মো. মাসুদুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলাটি করেন। বিচারকালে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলাটি তদন্ত করে ২০১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক কাজী সাহান হক আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

 

 

 

একই বছরের ২৭ মে আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলাটি বিচারকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।

 

হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় জামিনে মুক্ত সাবেক পুলিশ সুপার

ঢাকা নিউ মার্কেট থানায় ব্যবসায়ী ওয়াদুদ হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-৪ থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক পুলিশ সুপার তানভীর সালেহীন ইমন।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) বিকেল ৫টার দিকে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-৪ থেকে তিনি মুক্তি পান। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

 

 

 

তিনি বলেন, জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছালে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

 

তানভীর সালেহীন ইমনের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইকবাল করিমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ১৯ জুলাই বিকেল ৫টায় নিউমার্কেটের ১ নম্বর গেটের সামনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলাকারীদের গুলিতে নিহত হন ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ। এ ঘটনায় তার শ্যালক আব্দুর রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

 

পরে গত বছর ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে রাজশাহীর সারদায় থাকা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি থেকে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে।

 

 

 

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এর দায়িত্ব পালন করেন। গ্রেপ্তারের দুই মাস পর তাকে বরখাস্ত করা হয়।

 

 

প্রাণঘাতী নোরোভাইরাস সংক্রমণে বাড়ছে উদ্বেগ

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৬:৫৩:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসের সংক্রমণের খবরের মধ্যেই এবার একটি প্রমোদতরীতে নোরোভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ক্যারিবিয়ান প্রিন্সেস নামের একটি জাহাজে নোরোভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক যাত্রী ও ক্রু সদস্য অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

 

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নোরোভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক। অন্যদিকে হান্টাভাইরাস তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও এর মৃত্যুহার অনেক বেশি।

 

 

 

নোরোভাইরাস মূলত পাকস্থলি ও অন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। দূষিত খাবার বা পানি ও সংক্রমিত ব্যক্তির স্পর্শের মাধ্যমে এটি ছড়ায়। এ ভাইরাসকে অনেক সময় ‘স্টমাক ফ্লু’ বা ‘উইন্টার ভমিটিং বাগ’ও বলা হয়।

নোরোভাইরাসের লক্ষণ

নোরোভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত বমি, ডায়রিয়া, বমিভাব, পেটব্যথা, হালকা জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথা দেখা দেয়। সংক্রমণের ১২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উপসর্গ শুরু হয়। সাধারণত ১ থেকে ৩ দিনের মধ্যে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।

হান্টাভাইরাসের লক্ষণ

হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হলে শুরুতে জ্বর, ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা ও শরীর দুর্বল লাগার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পরে শ্বাসকষ্ট, কাশি, বুকব্যথা এবং ফুসফুসে পানি জমার মতো গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বমি, পেটব্যথা ও কিডনির জটিলতাও দেখা দেয়।

 

 

 

হান্টাভাইরাস কেন বেশি বিপজ্জনক?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হান্টাভাইরাস নোরোভাইরাসের তুলনায় অনেক বেশি প্রাণঘাতী। এটি মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মল, মূত্র বা লালার সংস্পর্শে মানুষের শরীরে ছড়ায়। হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হলে ফুসফুসে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। একে হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম (এইচপিএস) বলা হয়। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে কিডনি বিকল ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণও হতে পারে।

 

চিকিৎসকদের মতে, হান্টাভাইরাসের গুরুতর সংক্রমণে মৃত্যুহার ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে নোরোভাইরাসে আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষ বাড়িতেই কয়েক দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে বয়স্ক ব্যক্তি ও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

 

 

 

চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের অনেক সময় হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। অক্সিজেন বা ভেন্টিলেটর সাপোর্টও লাগতে পারে। অন্যদিকে নোরোভাইরাসে পর্যাপ্ত তরল ও ইলেকট্রোলাইট গ্রহণই প্রধান চিকিৎসা।

 

সম্প্রতি ক্যারিবিয়ান প্রিন্সেস জাহাজে নোরোভাইরাসে ১০২ জন যাত্রী ও ১৩ জন ক্রু সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আলাদা রাখাই এ ভাইরাস প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

 

বড় লিড গড়ার পথে টাইগাররা, শেষ দিনে উত্তেজনার আভাস

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনের সকালে বাংলাদেশের দুই ওপেনার সুবিধা করতে পারেননি। তবে নাজমুল হোসেন শান্ত-মুমিনুল হকের জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় টাইগাররা। বড় সংগ্রহের পথে হাঁটতে থাকা বাংলাদেশের সামনে বাধা হয়ে আসে বৃষ্টি। তাতে দিনের দ্বিতীয় সেশন পুরোটাই ভেসে গেছে। চা বিরতির পর খেলা শুরু হলেও আলোক স্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ করতে বাধ্য হন আম্পায়াররা। ফলে ম্যাচ গড়িয়েছে পঞ্চম দিনে।

 

 

 

চতুর্থ দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৫২ রান। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে টাইগারদের লিড এখন ১৭৯ রানের। এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৪১৩ রান, আর পাকিস্তান অলআউট হয়েছিল ৩৮৬ রানে।

 

 

 

দিনের শুরুতে ব্যাট করতে নামেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয়। দিনের দ্বিতীয় বলে চার হাঁকালেও দেখেশুনেই খেলছিলেন দুই ওপেনার। কিন্তু আব্বাস আফ্রিদির কাছে পরাস্ত হন জয়। ব্যক্তিগত ৪ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি। রিভিউ নিয়েও হয়নি কোনো ফায়দা।

আর ইনিংসের ১১তম ওভারে সাজঘরের পথ ধরেন আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম। এবার উইকেট পান হাসান আলি। তার করা বলে ব্যক্তিগত ১০ রানে স্লিপে ক্যাচ তুলে নেন বাংলাদেশি এই ওপেনার। ফলে ২৩ রানেই দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ।

দুই ওপেনার সাজঘরে ফিরলে খানিকটা চাপেই পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে স্বস্তি দিয়েছে দলনেতা নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের জুটি। লাঞ্চ বিরতির আগে আর কোনো উইকেট হারায়নি স্বাগতিকরা। প্রথম সেশনে তারা তুলেছিল ২ উইকেটে ৮৬ রান।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান যখন লাঞ্চে যায়, তখনো আকাশ খানিকটা মেঘলা। কিন্তু দুই দল যখন মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আলোর স্বল্পতা ও বৃষ্টির কারণে ড্রেসিংরুমেই থাকতে হয়েছে। তারপর প্রায় ঘণ্টা দুয়েক বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় সেশনে খেলাই হয়নি।

 

 

 

বৃষ্টির পর দেখে-শুনে খেলে ফিফটি স্পর্শ করেন মুমিনুল হক। ১০৫ বল খেলে এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। তবে ফিফটির পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৫৬ রান করে এই ব্যাটার ফেরায় ভেঙেছে ১০৫ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি।

 

 

 

মুমিনুল ফিফটির পর ফিরলেও দারুণ ব্যাটিং করেছেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটার দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটি করে অপরাজিত আছেন। দিন শেষে শান্তর সঙ্গী হিসেবে অপরাজিত থেকেছেন মুশফিকুর রহিম।

 

 

চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে রেল চলাচল বন্ধ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে ট্রেনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে চালকের তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার আউলিয়ানগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

 

 

 

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা অতিরিক্ত তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ইঞ্জিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় এবং সাময়িকভাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং ইঞ্জিন নিরাপদ ঘোষণা করা হলে ট্রেনটি পুনরায় নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। এছাড়া ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তও করা হবে।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জগামী ‘মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ত্রিশালের আউলিয়ানগর এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ ইঞ্জিনের নিচ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে ট্রেনের চালক দ্রুত ট্রেনটি থামিয়ে দেন। পরে চালক ও রেলওয়ের কর্মচারীরা প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় ট্রেনের যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেক যাত্রী দ্রুত ট্রেন থেকে নেমে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

পড়শীর নতুন গান প্রকাশ, ভক্তদের উচ্ছ্বাস

শ্রোতাপ্রিয় সংগীতশিল্পী পড়শী। নতুন গান প্রকাশের ধারাবাহিকতায় আবারও তিনি প্রকাশ করলেন ‘তোমার জন্য আমি’ শিরোনামের একটি গান। দ্বৈত এ গানটিতে পড়শীর সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন বেলাল খান। গানের কথা লিখেছেন মেহেদী হাসান লিমন। নাজির মাহমুদের সুরে গানের সংগীতায়োজন করেছেন মুশফিক লিটু। মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন চন্দন রায় চৌধুরী। গানটি সম্প্রতি ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে।

 

 

 

গান প্রসঙ্গে পড়শী বলেন, ‘বেলাল খানের সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে গাওয়া প্রতিটি গানই শ্রোতা পছন্দ করেছেন। তারপরও প্রায় এক বছর আমাদের একসঙ্গে নতুন কোনো আয়োজন করা হয়ে ওঠেনি। অন্যদিকে শ্রোতার নতুন গানের আবদারও থেমে ছিল না। অবশেষে ‘তোমার জন্য আমি’ গানে কণ্ঠ দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিরতি ভাঙার সুযোগ হলো আমাদের। ভালো লাগার বিষয় হলো, ঠিক যে ধরনের গানের জন্য প্রতীক্ষায় ছিলাম, নতুন এ গানটি ঠিক তেমনই। গানটি শ্রোতাদের প্রত্যাশা পূরণ করবে বলে আমার বিশ্বাস।’

 

 

 

বেলাল খানের সঙ্গে এর আগেও পড়শী একাধিক গান করেছেন। তাদের গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘ভালোবাসি হয়নি বলা’, ‘একলা প্রহর’, ‘কত যে আপন’ ইত্যাদি। তাদের গাওয়া প্রায় প্রতিটি গানই শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে। তাই বেলাল খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে পড়শীর আবারও গান গাওয়া। কথা, সুর, সংগীতায়োজন, গায়কি, ভিডিও নির্মাণ সব মিলিয়ে গানটি সংগীতপ্রেমীদের ভালো লাগবে বলেই আশা করছেন এ শিল্পী।

 

 

ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত ইলিয়াস কাঞ্চন: সবার কাছে দোয়া চাইলেন চম্পা

ঢালিউড অভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কাণ্ডারি ইলিয়াস কাঞ্চন ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে রয়েছেন। প্রিয় সহকর্মীর এই অসুস্থতার খবর কিছুতেই মানতে পারছেন না অভিনেত্রী গুলশান আরা আক্তার চম্পা।

 

 

 

সম্প্রতি একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

 

 

 

বিস্ময় প্রকাশ করে চম্পা বলেন, ‘এটা সত্যিই অনেক দুঃখজনক। কখনোই ভাবতে পারিনি যে কাঞ্চন ভাইয়ের এই দুঃসংবাদ এত তাড়াতাড়ি শুনতে হবে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

তার কথায়, ‘কাজের ক্ষেত্রে কাঞ্চন ভাইয়ের সঙ্গে অনেক বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। একবার শুটিংয়ের সময় উনি অনেক উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকেও উনি লড়াই করে ফিরে এসেছেন। তিনি আমাদের সবার কাছে পথপ্রদর্শক ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাঞ্চন ভাই নিয়মিত ধর্ম পালন করতেন। আমার সঙ্গে দেখা হলেই বলতেন তুমি নামাজ পড়ো তুমি এটা পড়বে ওটা পড়বে। উনার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। সেই মানুষটি এভাবে শয্যাশায়ী হবেন তা ভাবা যায় না। আমি আল্লাহর কাছে অনেক দোয়া করেছি।’

 

নরসিংদীতে মেঘনা নদীতে গোসলে নেমে কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নরসিংদী শহরের নাগরিযাকান্দি এলাকায় সহপাঠীদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে মাহির শাহরিয়ার (১৭) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী নিখোঁজের ৪ ঘন্টা পর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিখোঁজের পর বিকাল পৌণে ৪টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন করিমপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক এস এম মাকসুদুর রহমান।

 

 

নিখোঁজ মাহিরের বন্ধু ওয়ালী জানায়, সোমবার সকালে ঢাকা থেকে ট্রেনে করে বিএএফ শাহীন কলেজ, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজসহ ঢাকার ৪-৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী নরসিংদী স্টেশনে নেমে শহরতলীর নাগরিয়াকান্দি সেতু এলাকায় ঘুরতে যায়। তারা বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার এক পর্যায়ে নাগরিযাকান্দি এলাকার মেঘনার শাখা নদীতে গোসল করতে নামে বেশ কয়েকজন। এ সময় সাঁতার না জানার কারণে মাহির শাহরিয়ার ও আরো দুইজন নদীর স্রোতে তলিয়ে যেতে থাকে। তাৎক্ষণিক ২ জনকে উদ্ধার করতে পারলেও মাহির স্রোতে তলিয়ে যায়। সহপাঠীরা তাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস চেষ্টার পরও তার সন্ধান না পাওয়ায় ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নিখোঁজের ৪ ঘন্টা পর মরদেহ উদ্ধার করে।

 

 

 

করিমপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক এস এম মাকসুদুর রহমান জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়েছে। ঢাকা হতে অভিভাবক আসার পর আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

 

 

 

রাণীনগরের আবাদপুকুর বাজারে দুর্ধর্ষ চুরি, নগদসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর বাজারে একটি দোকানে গভীর রাতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা দোকানের জানালা ভেঙে নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, গত ১০ মে রাতের কোনো এক সময়  উপজেলার মাজগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আতিকুর রহমান সুমনের (৪০) মালিকানাধীন আবাদপুকুর বাজারস্থ “তৌহিদ প্রাইজ” নামের দোকানে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
চোরেরা দোকান ঘরের জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে একটি টেলিভিশন, ব্লেন্ডার, আইরন, রাইস কুকার, প্রেসার কুকার, ফ্যানসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও গৃহস্থালী পণ্য এবং নগদ প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। পরে সকালে দোকান খুলতে এসে মালিক বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়দের জানান।
এ ঘটনায় বাজার ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
 রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকারিয়া মন্ডল মুঠোফোনে জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত কাজ করছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি কেনাবেচায় জমজমাট সিন্ডিকেট

নওগাঁর রাণীনগরে মাথা গোঁজার জন্য গৃহহীনদের জন্য দেওয়া হয়েছিল জমিসহ বাড়ি, আর সেই বাড়িগুলোই এখন হাতবদল হচ্ছে অর্থের বিনিময়ে। এমনকি একই বাড়ি একাধিকবারও বিক্রি হচ্ছে। আবার কেউ কেউ সরকারি আশ্রয়ণের ঘরকে বানিয়ে তুলছেন বিলাসবহুল বাসস্থান।
এমনই চিত্র পাওয়া গেছে উপজেলার মালিপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে। সেখানে প্রবাসী সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা বিবির কেনা বাড়ির ভেতরে পা দিলেই চোখে পড়বে মেঝেজুড়ে বিছানো আছে দামি কার্পেট, আছে দামি ফ্রিজ আর ঘরের দেয়ালে লাগানো ৪৩ ইঞ্চি স্মার্ট কালার টেলিভিশন। খাট থেকে শুরু করে নানান রকমের আসবাবপত্রে ঘরটি যেন সাজানো-গোছানো এক অবস্থাশালী পরিবারের বাসস্থান। দেখলে কেউ বিশ্বাসই করবে না যে এটি একটি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি।
অথচ দলিল অনুযায়ী ৫নং এই বাড়ির মালিক মল্লিকা। কিন্তু এই বাড়িটি দুইবার বিক্রি হয়েছে। প্রথমবার নিয়েছিলেন মকবুল নামের এক ব্যক্তি। তিনি আবার ৭০হাজার টাকায় বিক্রি করেন মর্জিনা বিবির কাছে। ৬নং ঘরের মালিক রুবেল হলেও এই ঘরটিও মর্জিনা বিবির দখলে। তৃতীয় দফায় ১লাখ ১০হাজার টাকায় কিনে নেন তিনি।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৭নং বাড়ির মালিক আরব। কিন্তু ৭০হাজার টাকায় কিনে বসবাস করছেন আমিন নামের এক ব্যক্তি। ৯নং বাড়ি ১লাখ ১০ হাজার টাকায় কিনে বসবাস করছেন আসাদুল নামের এক ব্যক্তি। ১০নং বাড়ি ৮০ হাজার টাকায় কিনে বসবাস করছেন সফেটা নামের এক নারী।
একইভাবে ১৪ নং বাড়ির মালিক সিরাজুল ইসলাম হলেও সেটি ৭০হাজার টাকায় কিনে নিয়ে বসবাস করছেন শরিফ নামের একজন। আর পাশের  ১৩নং বাড়িটি বিক্রির জন্য চলছে আলোচনা।
১৫নং বাড়ির মালিক জবুআরা। তবে বসবাস করছেন মিনা নামের এক নারী। এবং ১৬নং বাড়ির মালিক শরিফ। এই বাড়িটিও আছে মিনা নামের ওই নারীর দখলে। এই দুটি বাড়িই টাকার বিনিময়ে কিনে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি।
১৮নং বাড়ির মালিক মজনু হলেও ৬০হাজার টাকায় কিনে সেখানে বসবাস করছেন শাহীন নামের এক ব্যক্তি। এবং ১৯নং বাড়িটি ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় কিনে নিয়ে বসবাস করছেন খাদিজা নামের এক নারী। এবং প্রকল্পের ২২নং বাড়ির মালিক সাদ্দাম হোসেন। কিন্তু ৮০ হাজার টাকায় কিনে নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন সাইদুর নামের অন্য এক ব্যক্তি।
এভাবেই গৃহহীনদের জন্য দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়িগুলো বিক্রির মহোৎসব চলছে। আর এই বাড়িগুলো বেঁচা-কেনাতে সহযোগীতা করে থাকেন প্রকল্পের বাড়ি পাওয়া হাফিজুলের স্ত্রী নাজমা বেগম নামের এক নারী। তিনি গর্ব করে জানালেন, আমিই বাড়ি বেঁচা কেনায় সহযোগিতা করেছি। কারণ এখানে যাদেরকে বাড়ি দেওয়া হয়েছে, তারা অধিকাংশই অন্য এলাকার। তাদের থাকার জায়গাও আছে। তারা এখানে থাকতে চায়না। তাই স্থানীয় যারা কিনতে চায় একটু সহযোগীতা করি।
মকবুল জানালেন, আমার আসল বাড়ি নওগাঁর সুলতানপুর। এখানে ছেলে ও জামাই থাকে। আমি প্রতিবন্ধী হওয়ায় মল্লিকার বাড়ি নিয়েছিলাম। ছেলের বউয়ের অসুখের সময় সেই বাড়ি মর্জিনার কাছে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
বাড়ির ক্রেতা প্রবাসীর স্ত্রী মর্জিনা বলেন, গোনা এলাকার মল্লিকার নামে ছিল বাড়িটি। আমি মকবুলের কাছ থেকে ৭০হাজার টাকায় কিনে নিয়েছি। তবে সরকার আমাদের নামে এখনও কাগজ করে দেয়নি, কিন্তু দলিল রেখে দিয়েছি এবং মল্লিকা না দাবি করে স্ট্যাম্পে সই দিয়ে গেছে।
তিনি একসময় জোর দিয়ে জানালেন, শুধু আমি একাই কিনিনি। এখানে বেশিরভাগ বাড়ি বিক্রি হয়েছে, কিনে নেওয়া। তার ভাষায় ৩০টির মধ্যে ২০ টা বিক্রি। এবং সেক্রেটারি মীমও তার বাড়ি বিক্রি ৩লাখ টাকায় বিক্রি করতে চায়।
৯নং বাড়িটি ১লাখ ১০ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছে বলে জানালেন রেহেনা নামের এক নারী। তিনিও দলিল রেখে দিয়েছে এবং স্ট্যাম্পে সই নিয়েছে বলে জানালেন।
বাড়ির ক্রেতা মিনা বলেন, গোনার শরিফ নামের একজনের কাছ থেকে কেনা হয়েছে। আর আমার ছেলে একটা কিনেছে। আমার মা প্রতিবন্ধী, এক ঘরে হয়না, তাই এটাও নেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয় জামাল খন্দকার, আব্দুল খালেকসহ একাধিক নারী-পুরুষ ক্ষোভ নিয়ে জানালেন, স্থানীয়দের বাড়ি না দিয়ে অন্য জায়গার লোককে বাড়ি দেওয়ায় তারা বিক্রি করে চলে যাচ্ছে। তাই ৩২টি ঘরের মধ্যে ইতিমধ্যে ১২টি ঘরই বিক্রয় করা হয়েছে। আর বর্তমানে যে বাড়ি বিক্রয় হচ্ছে সেগুলো সর্বনিম্ন ৭০ থেকে ১ লক্ষ ১০হাজার টাকায়।
এদিকে সাইদ নামের একজনকে বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার বাড়ি উপজেলার নারায়নপাড়ায় হলেও আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার পাশে কয়াপাড়া গ্রামের জামাই হওয়ার সুবাদে তিনিও গৃহহীনদের জন্য প্রাপ্য একটা বাড়ি ভাগিয়ে নিয়েছে। অথচ এই সাইদ ও তার ছেলে বিদেশে থেকে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করছে। এছাড়া তার গ্রামের বাড়ি নারায়নপাড়ায় আছে বাড়িভিটাসহ জমিজমা।
অপরদিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি পেয়েছে নারী গ্রাম পুলিশ ছাবিনা ইয়াসমিন মীম ও তার আরেক বোন বানিছা ওরফে পরী বানু। তবে বানিছা এখন ঢাকায় একটা গার্মেন্টসে চাকরি করে। তিনিও তার পাওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়িটি বিক্রি করতে চান। আর ছাবিনা ইয়াসমিন মীম প্রাচীর দিয়ে তার বাড়িটি বানিয়েছে দেখার মতো। অভিযোগ প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক এই মীমও তার বাড়িটি তিল লাখ টাকায় বিক্রি করতে চায়।
সেক্রেটারি ও নারী গ্রাম পুলিশ ছাবিনা ইয়াসমিন মীম মুঠোফোনে বলেন, আমি শুনতে পাই টাকার বিনিময়ে ঘর বিক্রি হচ্ছে। এরপর এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। ইউএনও স্যারসহ ঢাকা থেকেও স্যারেরা এসেছিল। আর চাকরির সুবাদে আমি ভাড়া বাসায় থাকার কারণে অনেকে ফোন করে বাড়ি বিক্রির কথা বলে, তাই আমি রাগ করে তিন লাখ টাকা দাম চেয়েছি। তবে আমি বাড়ি বিক্রি করতে চাইনা। কারণ আমার কোনো বাড়ি নেই। বরং মর্জিনার বাড়ি কেনার খবরে আমি অনেক দৌড়াদৌড়ি করেছি, এমনকি সাংবাদিককেও বলেছি।
সভাপতি ফরিদ আলী মুঠোফোনে বলেন, এখানে ৩২টি ঘর আছে। প্রায় ১০-১২টা ঘর অর্থের বিনিময়ে বেঁচা-কেনা হয়েছে। এমনকি একই ঘর একাধিকবার বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে। আমি সভাপতি হিসেবে শুধুমাত্র ইউএনও স্যারকে জানিয়েছি।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান বলেন, বিষয়টি জানার পর ইতিমধ্যে খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করেছি। বেঁচা-কেনার প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

শাহজাদপুরে র‌্যাবের অভিযানে ১৩৮ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার ১

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে র‍্যাব-১২ এর মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ১৩৮ বোতল ফেনসিডিলসহ একজন গ্রেপ্তার করেছে।
র‍্যাব ১২ জানিয়েছে, গতকাল রোববার (১১ মে) রাত ৮.৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌরশহরের রূপপুর নতুনপাড়া এলাকায় ডিএডি মোহাম্মদ শফিকামাল এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স এসআই সাব্বির আরাফাত জনি, সার্জেন্ট মোঃ খোরশেদ আলম, ল্যান্স নায়েক জিয়াউর রহমান, ও সিপাহী মোঃ রাশেদুল হক এর একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে ১৩৮ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার সহ রুপপুর নতুন পাড়ার মৃত হাজী শুকুর আলীর ছেলে মোঃ আকছেদ আলীকে (৫২) গ্রেফতার করে । উদ্ধার হওয়া ফেনসিডিল ও আসামিকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শাহজাদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযুক্ত আকছেদ আলী কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সে দীর্ঘদিন ধরে দেশের উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বর্ডার এলাকা থেকে ফেনসিডিল এনে শাহজাদপুরের বিভিন্ন জায়গায় সুকৌশলে বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছে।
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, র‍্যাবের  অভিযানে উদ্ধার হওয়া ১৩৮ বোতল ফেনসিডিল আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং আসামিকে শাহজাদপুর আমলি আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

 

 

মুন্সীগঞ্জে মাদক-জুয়া বিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৬

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় মাদক ও জুয়া বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে গজারিয়া থানা পুলিশ।
রবিবার (১০ মে) রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে গজারিয়া থানাধীন বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের ছোট রায়াপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আওলাদ হোসেন (৪০), শহিদুল ইসলাম (৪৫), সুমন (৪০), নুরুল হক (৫৫), মোস্তফা (৫৫) ও তাজুল ইসলাম (৪০)। তাদের সকলের বাড়ি গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ৪ বান্ডেল তাস, জুয়ার বোর্ড থেকে নগদ ৪ হাজার ৯৭০ টাকা এবং ১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানা ইনচার্জ মোঃ হাসান আলী জানায় এ ঘটনায় গজারিয়া থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের শেষ করে, সোমবার দুপুর ১২ টায় আদালতে পেরণ করা হয়।

 

গাছের সাথে বেঁধে যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন!

“ওরে মা… মা গো… আর মারিস না ভাই… হৃদয় ভাইয়া, ছেড়ে দে… আমি আর করব না…” এমন আর্তনাদেও নির্যাতনকারীদের মন গলেনি, আরও নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়েছে।

 

 

রাজশাহী মহানগরীর কাজলা এলাকায় তুষার (৩৫) নামে এক যুবককে এমনভাবেই মধ্যযুগীয় কায়দায় গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ইতিমধ্যে মর্মান্তিক এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

 

নির্যাতি তুষার রাজশাহীর মতিহার থানার কাজলা এলাকার নাজিরের ছেলে।

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি বাসার জানালার থাইগ্লাস চুরির সন্দেহে তাকে আটক করা হয়। পরে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে মারধর শুরু করে।

রোববার (১০ মে) ঘটে যাওয়া ঘটনার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, গাছের সঙ্গে বাঁধা তুষারের ওপর একের পর এক আঘাত হানছে কয়েকজন যুবক। কখনো বাঁশ, কখনো মোটা লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হচ্ছে। একটি বাঁশ ভেঙে গেলে আরেকটি এনে শুরু হচ্ছে নতুন করে প্রহার।

 

ভিডিওতে শোনা যায়, যন্ত্রণায় কাতর তুষার বারবার চিৎকার করে বলছেন—“ওরে মা… মা গো… আর মারিস না ভাই… হৃদয় ভাইয়া, ছেড়ে দে… আমি আর করব না…” কিন্তু তার সেই আর্তনাদেও থামেনি নির্যাতন। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আঘাতের তীব্রতা যেন আরও বাড়তে থাকে।

 

 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্যাতনের পুরো ঘটনাটি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভিডিও ধারণ করছিল ‘হৃদয়’ নামের এক যুবক। ভিডিওতে দেখা যায়, তুষার বারবার তার কাছেই করুণা চাইছিলেন। অথচ সেই মুহূর্তেও কেউ এগিয়ে এসে নির্যাতন থামানোর সাহস দেখায়নি।

 

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া উচিত ছিল। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজন মানুষকে এভাবে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, এটি একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ।

 

সিটিএসবি সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের নাম আশিক, মাহিন ও মানিক। আর ভিডিও ধারণকারী যুবকের নাম হৃদয়। এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

 

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কবির বলেন, অপরাধকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলে সমাজে অপরাধ বাড়তেই থাকবে। এ ঘটনায় অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে ভুক্তভোগী নিজেই মামলা করবেন বলে জেনেছি।

 

 

মেগা প্রকল্পে লুটপাটের অভিযোগ, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই রাষ্ট্র পরিচালনা: সেতুমন্ত্রী

দেশে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ব্যাপক লুটপাট ও অর্থ পাচার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, বিগত সময়ে মেগা প্রকল্পের আড়ালে প্রায় ত্রিশ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ লাখ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক ঋণের বোঝা রেখে যাওয়া হয়েছে। সেই কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই বর্তমান সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হচ্ছে।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) দুপুরে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতু এলাকায় আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও পদ্মা সেতু জাদুঘরের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

মন্ত্রী বলেছেন, দেশের ১৬টি বড় মেগা প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হলেও অনেক প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ হয়নি। কোথাও ঠিকাদার কাজ ফেলে পালিয়ে গেছে, কোথাও আবার প্রকল্প শুরুই করা যাচ্ছে না। এতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছরের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার কারণে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোও এখন বাংলাদেশে বড় প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে অনীহা দেখাচ্ছে। এক সময় যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে দাঁড়াতো, তারাও এখন আস্থা হারাচ্ছে। ফলে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নেও নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, পদ্মা সেতু শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি দেশের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের প্রতীক। এই সেতুকে ঘিরে পর্যটন, ইতিহাস ও উন্নয়নের বিষয়গুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই পদ্মা সেতু জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

 

সেতু বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ও সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম নাসিরউদ্দিন সরদার, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ শরীফ উজ জামানসহ সেতু বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

 

মন্ত্রী ছাড়া সাক্ষাৎ অনিচ্ছুক বালেন্দ্র শাহ, স্থগিত ভারতীয় সচিবের সফর

ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি-এর নির্ধারিত কাঠমান্ডু সফর হঠাৎ স্থগিত করা হয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। লিপুলেখ সীমান্ত ইস্যুতে সাম্প্রতিক ভারত-নেপাল উত্তেজনাকেই এই সিদ্ধান্তের পেছনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর বালেন্দ্র শাহ মন্ত্রী ছাড়া কোনো দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন না।

 

 

 

আগামী ১১ মে দুই দিনের সফরে মিসরির কাঠমান্ডু পৌঁছানোর কথা ছিল। নতুন সরকার গঠনের পর নেপালের অগ্রাধিকার ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সফর স্থগিত হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

 

 

 

নেপালের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে অন্যান্য ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে সফর স্থগিতের কথা জানালেও প্রকৃত কারণ ভিন্ন। একদিকে প্রধানমন্ত্রী শাহ ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রাজি হননি, অন্যদিকে ভারত ও চীনের মধ্যে বিতর্কিত লিপুলেখ হয়ে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ কাঠমান্ডু।

সম্প্রতি ভারত ও চীন লিপুলেখ হয়ে তিব্বতের মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়। নেপাল দাবি করছে, লিপুলেখ তাদের ভূখণ্ডের অংশ। ফলে বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়েছে।

এর আগে মরিশাসে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-এর বৈঠকে মিসরির সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী সফরের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিল দুই দেশে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শাহের জন্য ভারত সফরের আমন্ত্রণপত্রও নিয়ে আসার কথা ছিল মিশ্রির।

 

 

নেপালের কূটনৈতিক মহল বলছে, প্রধানমন্ত্রী শাহ সাম্প্রতিক সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিচের পর্যায়ের কোনও বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূতের সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। একই নীতি ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের ক্ষেত্রেও বজায় রাখা হয়।

 

 

 

এদিকে লিপুলেখ ইস্যুতে নেপাল ভারত ও চীনের কাছে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে। জবাবে ভারত বলেছে, সীমান্ত বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে তারা প্রস্তুত। তবে দিল্লি স্পষ্ট করেছে, নেপালের একতরফা ভূখণ্ড দাবি তারা মেনে নেয় না।

 

 

 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জস্বওয়াল বলেন, ভারত ও নেপালের মধ্যে যেকোনও অমীমাংসিত বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। তবে একতরফাভাবে ভূখণ্ড দাবি করা গ্রহণযোগ্য নয়।

 

 

 

অন্যদিকে নেপালের শিক্ষা মন্ত্রী সসমিত পোখারেল জানিয়েছেন, সীমান্ত ইস্যুতে ইতোমধ্যে ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

 

 

 

নেপালের দাবি, সুগৌলি চুক্তি অনুযায়ী লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি অঞ্চল দেশটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সরকার এ অবস্থান ভারত ও চীন; উভয় দেশকেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।

 

 

 

তবে কূটনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেও দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দিল্লি। ভারত বলেছে, বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী নেপালে জ্বালানি তেল ও রাসায়নিক সার সরবরাহ চালু থাকবে।

 

 

সূত্র : দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট

 

 

এক বছর ভারতীয়দের স্বর্ণ না কিনতে আহ্বান জানালেন মোদি

এক বছর দেশবাসীকে স্বর্ণ কেনায় লাগাম দিতে বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাঁচাতে বলেছেন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার। কিন্তু কেন এই পদক্ষেপের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি! বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত মহল বলছে, বিদেশ থেকে সোনা আমদানি করতে যে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয় কেন্দ্রীয় সরকারের, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাতেই রাশ টানতে চাওয়া হচ্ছে।

 

 

 

এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে (১ মে পর্যন্ত) ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ৭৭৯ কোটি ৪০ লক্ষ মার্কিন ডলার থেকে কমে গিয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকা। তার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার এখন হয়েছে দেশে ৬৯,০৬৯ কোটি ৩০ লক্ষ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬৫ লক্ষ ২৪ হাজার কোটি টাকা।

 

 

 

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে তেলের দাম বেড়েছে। বেড়েছে আমদানির খরচও। আমদানি-রফতানি ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সোনা আমদানির খরচও বেড়েছে। তার ফলে চাপ পড়ছে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডারে। এই আবহে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আপাতত এক বছর সোনা কিনতে বারণ করেছেন।

পৃথিবীতে সোনা কেনার ক্ষেত্রে ভারত অগ্রগণ্য। প্রতি বছর দেশটির মানুষ ৭০০ থেকে ৮০০ টন সোনা কেনেন। কিন্তু ভারতে সোনা মেলে মাত্র এক থেকে দু’টন। অর্থাৎ, প্রয়োজনের ৯০ শতাংশ সোনা তাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এত সোনা আমদানি করা হলেও তার প্রভাব কিন্তু এ দেশের শিল্পোৎপাদনে পড়ে না। উল্টে সোনা আমদানি করতে গিয়ে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়।

 

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত ৭২০০ কোটি ডলারের সোনা আমদানি করেছে। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা ছিল ৫৮০০ কোটি ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪ লক্ষ ৮৭ হাজার কোটি টাকা। ওই বছরের থেকে গত বছরে সোনা আমদানি বেড়েছিল ২৪ শতাংশ। ভারত বিদেশ থেকে যত পণ্য আমদানি করে, তার ৯ শতাংশই হল সোনা। সবচেয়ে বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করে অপরিশোধিত তেল। তার পরেই রয়েছে সোনা।

 

 

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে মোদির দেশবাসীকে করা এই অনুরোধ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তার অনুরোধ, বাড়িতে যা-ই অনুষ্ঠান থাকুক, আগামী এক বছর কোনও সোনার গয়না কেনা চলবে না।

 

 

মোদি বলেন, সোনা কেনাতেও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়। এক সময়ে সঙ্কটময় পরিস্থিতি বা যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে লোকে দেশহিতে সোনা দান করে দিত। এখন দান করার দরকার নেই। কিন্তু এক বছর বাড়িতে যাই অনুষ্ঠান হোক, আমরা সোনার গয়না কিনব না। দেশের স্বার্থে আমাদের এই সঙ্কল্প করতে হবে। আমরা সোনা কিনব না, বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে হবে।

 

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

 

সিরাজগঞ্জ অনলাইন নিউজপোর্টাল এশিয়া পোস্টের শুভ উদ্বোধন

সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের জগতে নতুন সম্ভাবনার আলো নিয়ে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অঙ্গীকারে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো আধুনিক গণমাধ্যম “এশিয়া পোস্ট”।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) সকালে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের হলরুমে আয়োজিত এক প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এশিয়া পোস্টের শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন হয়। সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশিদ খান হাসানের সভাপতিত্বে এবং দপ্তর সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ এনামুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এশিয়া পোস্টের সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মো: রানা আহমেদ।

 

 

 

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজরান রউফ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মামুন খান।

 

 

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান দুলাল, সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান, সাত্তার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী মো: আব্দুস সাত্তার সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলে খোদা লিটন, দৈনিক কলম সৈনিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক আব্দুল হামিদ খান, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি হীরক গুণ, যুগ্ম -সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ দেওয়ান রাজু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রহমত আলী।

 

 

 

বক্তারা বলেন,সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে এশিয়া পোস্ট অচিরেই গণমানুষের আস্থা অর্জন করবে। সমাজের নানা অসঙ্গতি,দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরে ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ গণমাধ্যম। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সময়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন। এশিয়া পোস্ট সবসময় সত্যের পক্ষে থেকে সাহসিকতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি ।

 

 

 

উল্লেখ্য:অনুষ্ঠান ঘিরে পুরো প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। অতিথিবৃন্দ ফিতা কেটে ও কেক কেটে এশিয়া পোস্টের আনুষ্ঠানিক যাত্রার শুভ সূচনা করেন। এসময় উপস্থিত অতিথি, সাংবাদিক ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে আনন্দঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।

 

 

 

নতুন এ পথচলায় এশিয়া পোস্ট সত্য, ন্যায় ও মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে গণমাধ্যম জগতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত সকলে।

 

 

উল্লাপাড়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে ঘুমন্ত অবস্থায় একজনকে কুপিয়ে হত্যা

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে সোবহান প্রামানিক (৭০) নামের এক দুগ্ধ সমিতির সাবেক ম্যানেজারকে নিজ বাড়িতে রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১০ মে) গভীর রাতে উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া এলংজানি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী শেফালী খাতুনকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন সোবহান প্রামানিক ও তার স্ত্রী। এ সময় দুর্বৃত্তরা ডোয়া কেটে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই সোবহান প্রামানিক নিহত হন। গুরুতর আহত হন তার স্ত্রী শেফালী খাতুন। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সন্দেহ হলে একই গ্রামের হায়দুল ইসলাম (৫০) নামের একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আটক হায়দুল ইসলাম ওই গ্রামের ইসমাইলের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববারে সোবহান ৭০ লাখ টাকার একটি জমি বিক্রি করে। হয়তো দুবৃত্তরা টাকা নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও গ্রামের একটি খাস পুকুরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মোল্লা বংশ ও প্রামাণিক বংশের মধ্যে বিরোধ চলছিল। প্রায় দুই বছর আগে একই বিরোধকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় সংঘর্ষে পিতা ও পুত্র নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। সেই ঘটনার জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি মোক্তারুজ্জামান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একজনকে আটক করেছে এলাকাবাসী। তিনি জড়িত কিনা যাচাই করা হচ্ছে। হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

২য় ইনিংসেও ব্যর্থ ওপেনিং জুটি, আবারও হাল ধরলেন শান্ত-মুমিনুল জুটি

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ বড় সংগ্রহ পেলেও ব্যাট হাতে হতাশ করেছেন দু্ই ওপেনার সাদমান ইসলাম এবং মাহমুদুল হাসান। দ্বিতীয় ইনিংসেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করলেন এই দুজন। এবারও দলকে বিপদে ফেলে সাজঘরে ফিরেছেন তারা।

 

 

 

বাংলাদেশের করা ৪১৩ রানের জবাবে পাকিস্তানের ইনিংস থেমেছে ৩৮৬ রানে। ২৭ রানের লিড নিয়ে গতকাল রোববার শেষ বিকেলে ১.৫ ওভার ব্যাট করেছে স্বাগতিকরা। বিনা উইকেটে ৭ রান নিয়ে দিনের খেলা শেষ করেন সাদমান এবং মাহমুদুল। গতকাল কোনো বিপদ না হলেও আজ দিনের শুরুতেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন এই দুই ওপেনার।

 

 

 

এর শুরুটা হয় মাহমুদুলকে দিয়ে। মোহাম্মদ আব্বাসের করা ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বল এই ওপেনারের প্যাডে লাগতেই জোরালো আবেদন হয়। আবেদনে সাড়া দিয়ে আঙুল তুলে আম্পায়ার। এলবিডব্লু হয়ে রিবিউ নিয়েছিলেন মাহমুদুল। তাতে অবশ্য কাজের কাজ হয়নি। ২৬ বলে ৫ রান করেন এই ব্যাটার।

১১তম ওভারে সাদমানকেও হারায় বাংলাদেশ। হাসান আলীর করা অফ স্টাম্পের বাইরের বাউন্ডার বাঁহাতি ওপেনারের ব্যাটের শ্লোল্ডারে লেগে সরাসরি চলে যায় গালিতে থাকা সৌদ শাকিলের হাতে। ফেরার আগে ১০ রান করেন সাদমান। দলীয় ২৩ রানেই সাজঘরে বাংলাদেশের দুই ওপেনার। এর আগে প্রথম ইনিংসে ৩১ রানে বিদায়ে নিয়েছিলেন সাদমান এবং মাহমুদুল। সাদমান ১৩ এবং মাহমুদুল করেছিলেন ৮ রান।

 

 

গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ জানানো নিষিদ্ধ করলেন হাইকোর্ট

লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করেন।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

 

 

 

রায়ে বলা হয়েছে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা, সামাজিক ভারসাম্যহীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি। আদালতের মতে, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিল। শুধু একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া এই অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।

 

রায়ে উল্লেখ করা হয়, নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত অনাগত শিশুর ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকা প্রয়োজন।

 

 

হাইকোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ৬ মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আদালত আরও উল্লেখ করেন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম আইন দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

 

 

 

রায়ে আদালত এ নির্দেশনাকে ‘continuous mandamus’ হিসেবে ঘোষণা করেন, যাতে ভবিষ্যতে নির্দেশনার বাস্তবায়ন আদালত তদারকি করতে পারেন।

 

 

 

২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান গর্ভের শিশুর পরিচয় প্রকাশ বন্ধে এ রিট আবেদন করেন।

 

 

 

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।

 

 

পরিবার ও সমাজ গঠনে নারীর ভূমিকা নিয়ে ডা. জুবাইদা রহমানের বক্তব্য

পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নে নারীদের অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, নারীরা পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রে থেকে স্বাস্থ্য-গ্রামীণ উন্নয়নে অংশ নিতে পারে।

 

 

 

 

তিনি বলেছেন, কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা ও সুন্দর মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিটি মেয়ে যে ভবিষ্যৎ নিজের জন্য গড়তে চায়, সে পথে রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পরিবর্তে তা এগিয়ে নেবে।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) রাজধানীতে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সমাবেশে অংশ নিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে আমার খুবই ভালো লাগছে। অভিনন্দন জানাই সব সদস্যকে— তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে অবদান রাখার জন্য।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আপনারা আপনাদের কর্মের মাধ্যমে আগামীর প্রজন্মকে সমাজে অবদান রাখার পথ দেখিয়ে দিতে সহায়তা করছেন। অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত সমাজসেবামূলক আপনাদের পরিকল্পনাগুলো সমন্বিতভাবে একটি সুন্দর সুস্থ মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি। আমরা সকলে যদি নিজ নিজ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সমাজ গঠনে অবদান রাখি। তাহলে নিশ্চয়ই সেটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব ইনশাআল্লাহ।

 

 

তিনি আরও বলেন, নারীরা পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রে থেকে স্বাস্থ্য-গ্রামীণ উন্নয়নে অংশ নিতে পারে। কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা ও সুন্দর মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিটি মেয়ে যে ভবিষ্যৎ নিজের জন্য গড়তে চায়, সেই পথে রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পরিবর্তে তা এগিয়ে নেবে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র কুটির ও মাঝারি শিল্পে যোগ্যতার ভিত্তিতে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ প্রদান। যেমন- প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং ডেভেলপমেন্ট ও মার্কেটিং সাপোর্ট প্রদান। ফলে পারিবারিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি ও সন্তানদের শিক্ষা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম করা সম্ভব হবে।

 

 

 

উল্লেখ্য, সব শেষে তিনি অনুষ্ঠানটি আয়োজনের জন্য পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।

 

 

 

আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে ৩০০ পদের বিশাল নিয়োগ

কাজের সুযোগ দিচ্ছে আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ‘ডাটা এন্ট্রি অপারেটর’ পদে ৩০০ জনকে নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদন শুরু হবে ১৪ মে সকাল ১০টায়, চলবে ১৩ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি-২০২৬

প্রতিষ্ঠানের নাম: আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক

পদের নাম: ডাটা এন্ট্রি অপারেটর

পদসংখ্যা: ৩০০ জন

চাকরির ধরন: বেসরকারি, ফুল টাইম

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ

শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক অথবা সমমান

অভিজ্ঞতা: প্রযোজ্য নয়

বেতন ও অন্যান্য সুবিধা: ৯৩০০ – ২২,৪৯০ টাকা (১৬তম গ্রেড)

বয়সসীমা: ১ মে ২০২৬ তারিখ ১৮-৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভেট গ্রহণযোগ্য নয়।

কর্মস্থল: যে কোনো জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক।

আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

আবেদন ফি: টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে ১১২ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে।

আবেদন শুরু: ১৪ মে

আবেদনের শেষ তারিখ: ১৩ জুন

 

 

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর, বন অধিদপ্তরে ৩৮২ জন নিয়োগ

বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটি তাদের রাজস্ব খাতভুক্ত ‘ফরেস্টার’ পদে তিন শতাধিক জনবল নিয়োগ দেবে।

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি-

পদের নাম: ফরেস্টার

পদ সংখ্যা: ৩৮২

শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা: কোন স্বীকৃত বোর্ড হতে ডিপ্লোমা-ইন-ফরেস্ট্রি। উচ্চতা ১৬৩ সে.মি; ও বুকের মাপ ৭৬ সে.মি

বেতন স্কেল: ৯,৭০০-২৩,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৫)

বয়সসীমা: ১৮-৩২ বছর

আবেদনের নিয়ম: বন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র ডাউনলোড করে পূরণ করতে হবে। ডাকযোগে অথবা বন ভবন, আগারগাঁও, ঢাকার দ্বিতীয় তলায় (Level-1)-এ রক্ষিত বাক্সে সরাসরি পৌঁছাতে হবে।

আবেদনের ঠিকানা: প্রধান বন সংরক্ষক, বন অধিদপ্তর, বন ভবন, আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭ প্রধান বন সংরক্ষক, বন অধিদপ্তর, বন ভবন, আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭

আবেদন ফি: ১০০ টাকা

আবেদনের শেষ তারিখ: ১০ জুন ২০২৬

বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন এখানে

 

 

প্রেস ক্লাব গঠন করেও বাঁচতে পারলেন না শ্রমিক লীগ নেতা

গ্রেপ্তার এড়াতে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকে নিয়ে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা প্রেস ক্লাব গঠন করা সেই শ্রমিক লীগ নেতা চৌধুরী মাহমুদ আশরাফ টুটুকে চাঁদাবাজি মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। টুটু সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত। তিনি সালথা উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক।

 

 

 

রোববার (১০ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুরে সালথার আমলি আদালতে হাজির হলে ওই আদালতের বিচারক কৃষ্ণা বালা তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী জসীমউদ্দীন মৃধা।

 

 

 

জসীমউদ্দিন মৃধা বলেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজির চেষ্টার একটি মামলায় তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এর আগে টুটু চৌধুরীকে ঘিরে নানা অভিযোগ সামনে আসে। স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, গত ফেব্রুয়ারিতে একটি হোটেলে কয়েকজনকে নিয়ে ‘সালথা উপজেলা প্রেস ক্লাব’ নামে নতুন একটি সংগঠনের কমিটি ঘোষণা করেন তিনি। ওই কমিটিতে সভাপতি করা হয় টুটু চৌধুরীকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলামকে।

 

অভিযোগ রয়েছে, ১৮ সদস্যের ওই কমিটিতে অধিকাংশ সদস্যের সাংবাদিকতার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাদের মধ্যে কেউ যুবলীগ, কেউ ছাত্রদল, আবার কেউ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এমনকি ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি করে সদস্য বানানোর অভিযোগও উঠেছে।

 

স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে টুটু চৌধুরী সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দালালি, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তার করতেন। এছাড়া মাটি-বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডার বাণিজ্য ও থানাকেন্দ্রিক দালালির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 

 

সম্প্রতি, ফরিদপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর সম্পদ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে টুটু চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

 

 

ফ্রিজের কম্প্রসার বিস্ফোরণ: একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি বাসায় ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ হয়েছেন।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফতুল্লার শিবু মার্কেটের পাশে কুতুবপুর রাখিবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

 

দগ্ধরা হলেন— আব্দুল কাদের (৫০) ও তার তিন ছেলে মেহেদী (১৭), যমজ সন্তান সাকিব (১৬) ও রাকিব (১৬)। গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, আব্দুল কাদের অটোরিকশাচালক। আর তার ছেলে মেহেদি হালিম বিক্রেতা, সাকিব একটি কারখানায় কাজ করে এবং রাকিব চটপটি বিক্রি করেন। ঘটনার সময় ৩ ছেলে ও বাবা ঘুমিয়েছিলেন। আর তাদের মা রান্নার কাজের জন্য পানি সংগ্রহ করতে ঘরের বাইরে ছিলেন। তখনই এ দুর্ঘটনা ঘটলে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি।

 

তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. ফারুক জানান, একতলা ভবনটিতে ভাড়া থাকেন আব্দুল কাদেরের পরিবার। তার তিন ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস। সকালে তাদের বাসায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের মানুষ জেগে ওঠে। তখন সবাই দৌড়ে গিয়ে দেখেন, ওই বাড়িটির দরজা, জানলা ভেঙে পড়েছে। ঘরের ভেতর থেকে দগ্ধ অবস্থায় একে একে তাদের বের করে আনা হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।

 

 

তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে, ওই বাসার গ্যাস লিকেজ হয়ে জমে থাকা গ্যাস থেকে অথবা ফ্রিজের কম্প্রসার থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তবে এটি কেউই নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না।

 

 

 

এদিকে বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আব্দুল কাদেরের শরীরের ৫৭ শতাংশ, মেহেদীর ১৮, সাকিবের ১৭ ও রাকিবের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। মেহেদী ও রাকিবের শ্বাসনালিও দগ্ধ হয়েছে। তাদের চারজনের অবস্থাই গুরুতর। ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, থাকছে জিয়া পরিবারের ইতিহাস

আগামী শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ে নানা পরিমার্জন ও পরিবর্তন আনছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবি। এর মধ্যে চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বীরত্বের ওপর আলাদা অধ্যায় থাকবে। চতুর্থ শ্রেণিতে শারীরিক শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ জয়’ বা আনন্দময় শিক্ষা এবং কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা নামে তিনটি বই বাধ্যতামূলকভাবে যোগ হবে। খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পাঠ্যবইয়ে। চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি ক্লাসেই সাতটি খেলাধুলা ও দেশীয় সংস্কৃতি নিয়ে আলাদা বই থাকবে।

 

 

 

এ ছাড়া আইসিটি বইয়ে এআই, রোবোটিকস এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো যুগোপযোগী বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর বাইরেও সব বইয়ে তথ্য, শব্দ ও ভাষাগত নানা পরিমার্জন আনা হবে। পাঠ্যবইয়ের প্রচ্ছদ, ছবি, মানচিত্র ও অলংকরণেও নান্দনিকতা আনা হবে। এসব পরিবর্তন এনে জুনের মধ্যেই পরিমার্জনের কাজ শেষ করতে চায় এনসিটিবি। এবার এনসিটিবির সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে পরিমার্জনের কাজ করছে।

 

 

 

এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যপুস্তকসমূহ পর্যালোচনা ও পরিমার্জন করতে গত ৪ মে থেকে ৭ মে পর্যন্ত বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে টানা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্ত ছিলেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। চার দিনের এ কর্মশালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ নূর-ই-আলম সিদ্দিকী ও শাহ শামীম আহমদের তত্ত্বাবধানে দেশের ২৫৭ শিক্ষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞ অংশ নেন। তারা বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত।

এ কর্মশালায় অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষক বলেন, সেখানে বর্তমান পাঠ্যবইগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন। বর্তমান ভুলত্রুটিগুলো খুঁজে বের করার পাশাপাশি ভাষাগত পরিমার্জনে নানা পরামর্শ দেন। অন্য বছর কর্মশালাগুলোতে আমলাদের আধিক্য থাকলেও এবার তা ছিল না। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিমার্জনের দায়িত্বে থাকায় শিক্ষকদেরও ভুলত্রুটি বের করা সহজ হয়েছে।

তারা জানান, বিগত বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আওয়ামী লীগ আমলের পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের সংশোধন আনায় এবার বেশি পরিমার্জন করতে হচ্ছে না। তবে ইতিহাস এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব ক্লাসের এসব বইয়ে জাতীয় বিপ্লব সংহতি দিবস ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বীরত্ব নিয়ে নতুন অধ্যায় যোগ করা হচ্ছে। এ তিনটি বিষয়কে আওয়ামী লীগ আমলে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধসহ আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া অন্যান্য জাতীয় নেতার যার যে অবদান, তা তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন মেজর জিয়াউর রহমান। পরবর্তী সময়ে তিনি ১ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। আওয়ামী লীগ আমলে তার এ ইতিহাস পাঠ্যবই থেকে অনেকটা মুছে ফেলা হয়। এ ছাড়া ১৯৭৫ সালে সমগ্র জাতি যখন অনিশ্চয়তার সম্মুখীন, তখন ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার মিলিত বিপ্লব জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেয়, যা দেশপ্রেমের এক অনন্য নজির। ওইদিন জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেন।

 

 

 

তিনি ক্রান্তিময় সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন। এ ইতিহাসও আওয়ামী লীগ আমলে ধামাচাপা ছিল। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে এ দিবসকে গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দিবসটির গুরুত্ব এবার পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরা হবে।

 

 

 

এ ছাড়া নব্বইয়ের গণআন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা অস্পষ্ট ছিল। এবার পাঠ্যবইয়ে তার অবদানের কথা তুলে ধরা হচ্ছে।

 

 

 

এনসিটিবির এক কর্মকর্তা বলেন, নবম শ্রেণিতে ওঠার পর মূলত মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরা ইতিহাস বই পড়ে। তাই চতুর্থ শ্রেণি থেকেই ইতিহাস এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে এ ইতিহাসগুলো তুলে ধরা হচ্ছে।

 

 

 

ইতিহাসের বই সংশোধনের দায়িত্বে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ‘ইতিহাসের বয়ান হবে নির্মোহ। এখানে কাউকে বড় কিংবা ছোট করে দেখানো হবে না। যার যে অবদান আছে, তা তুলে ধরা হবে। শিক্ষার্থীরা বই পড়ে যাতে সঠিক তথ্য পায়, সেই আলোকে বই লেখার জন্য সংশ্লিষ্ট লেখকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

 

 

 

খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সারা দেশে চালু করেছে। এরই অংশ হিসেবে পাঠ্যবইয়েও খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব ক্লাসেই খেলাধুলা ও সংস্কৃতি নিয়ে আলাদা বই থাকবে।

 

 

 

এতে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, কারাতে অথবা দাবা নিয়ে আলাদা অধ্যায় থাকবে। বইয়ে দেশীয় সংস্কৃতিও উঠে আসবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ বইয়ের পরীক্ষা হবে ব্যবহারিক। অর্থাৎ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ থেকেই নম্বর দেওয়া হবে। আগে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির এ বিষয়ে একটি পুস্তিকা থাকলেও এবার মাধ্যমিকেও তা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

 

 

 

এ ছাড়া নতুন করে তিনটি বই যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে যোগ হচ্ছে শারীরিক শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য নামের একটি বই। আর ষষ্ঠ শ্রেণিতে যোগ হচ্ছে ‘লার্নিং উইথ জয়’ বা আনন্দময় শিক্ষা এবং কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা নামে দুটি বই। এর মধ্যে আনন্দময় শিক্ষার বইটির পরীক্ষাও ব্যবহারিক হবে। ‘লার্নিং উইথ জয়’ মূলত পরীক্ষামূলকভাবে আগামী বছর চালু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শ্রেণিতে এ বই যুক্ত করা হবে।

 

 

 

বর্তমানে শিক্ষার্থীদের যে বই পড়ানো হচ্ছে, তা ২০১২ সালে প্রণয়ন করা। তাই ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ে যে পাঠগুলো পড়ানো হচ্ছে, সেগুলো সেকেলে। আধুনিক প্রযুক্তির ধারেকাছেও নেই। তাই এবার আইসিটি বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, হার্ডওয়্যার, সাইবার নিরাপত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক নানা বিষয় যুক্ত করা হবে।

 

 

 

এ ছাড়া বাংলা, বিজ্ঞান, পৌরনীতি ও নাগরিকতাসহ বেশকিছু বইয়ের কিছু কনটেন্টে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি এবার পাঠ্যবইয়ের প্রচ্ছদ, ছবি, মানচিত্র, লেখার বিন্যাস ও অলংকরণেও নান্দনিকতা আনা হচ্ছে। বইয়ে যেসব ছবি, বাণী বা প্রবাদ দেওয়া হয়, তা শিক্ষার্থীর বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করারও চিন্তা রয়েছে। ছবির সামঞ্জস্যতা, ছবির স্পষ্টতা, ক্যাপশন ও ব্রেইল বইয়ের ক্যাপশনেও পরিমার্জন আনা হবে।

 

 

 

সার্বিক বিষয়ে পাঠ্যবই পরিমার্জনের দায়িত্বে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এস এম হাফিজুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘বর্তমানে যে বইগুলো আছে; তাই আগামী বছর শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে। এখানে শুধু তথ্যগত, বানান, শব্দ ও ভাষাগত বিষয়গুলো দেখা হচ্ছে, যাতে ভুল কিছু না যায়। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়গুলো দেখছি।’

 

 

 

এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক কালবেলাকে বলেন, ‘সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের কথা মাথায় রেখেই বইগুলো পরিমার্জন করা হচ্ছে। জুনের মধ্যে আমরা এ কাজ শেষ করব। সবকিছু এবার পরিবর্তন হয়তো সম্ভব হবে না। তবে আগামী ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। তখন আমরা পাঠ্যবই কমানোর পাশাপাশি যুগোপযোগী বিষয় ও অধ্যায় যোগ করব। জুন থেকেই নতুন কারিকুলাম নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।’

 

সুত্র: “দৈনিক কালবেলা”

 

 

মাদকবিরোধী অভিযানে নোয়াখালীতে ৩ জন গ্রেপ্তার

নোয়াখালীতে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও বিদেশি মদসহ তালিকাভুক্ত এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
একই দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে গাঁজাসহ আরও দুই মাদকসেবীকে আটক করে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় নোয়াখালী সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১০ মে ) সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে সুধারাম মডেল থানাধীন পূর্ব এওয়াজবালিয়া গ্রামের মন্নান মেম্বার বাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি মো. আনোয়ার হোসেন প্রকাশ ছোট্টি (৫২)কে তার নিজ দখলীয় বসতঘর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি পূর্ব এওয়াজবালিয়া গ্রামের ০৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। অভিযানে তার ঘর তল্লাশি করে ১২০ পিস অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫০০ গ্রাম লুজ গাঁজা, ভারতীয় বিদেশি মদের ২ বোতল এবং ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে, একই দিন জেলার সুধারাম মডেল থানাধীন দত্তেরহাট ও বাড়লিংটন মোড় এলাকায় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদত হোসেন এবং মোসাদ্দেক হোসেনের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় ৭২০ গ্রাম লুজ গাঁজাসহ বাপ্পি হোসেন (১৯) ও মিশু (২০) নামে দুই মাদকসেবীকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটক দুইজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
নোয়াখালী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ জানান, জেলার বিভিন্ন স্থানে মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কামারখন্দে বাউল গানের অনুষ্ঠানে হাতাহাতি, ছাত্রদল নেতা সহ আহত ১০

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিয়াড়া মেলার শেষ দিনে অনুষ্ঠিত বাউল গানের আসরে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রদল নেতাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।

 

 

 

রবিবার (১০ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার বিয়াড়া মেলা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাউল গানের অনুষ্ঠান চলাকালে বড়কুড়া ও বিয়াড়া গ্রামের কয়েকজন যুবকের মধ্যে নাচানাচি ও ধাক্কাধাক্কিকে কেন্দ্র করে প্রথমে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এতে অনুষ্ঠানস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দর্শনার্থীরা ছোটাছুটি শুরু করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অনুষ্ঠানটি ভণ্ডুল হয়ে যায়।

 

 

 

আহতদের মধ্যে বিয়াড়া গ্রামের রাজিব, রাজু, কলম ও করিমের নাম জানা গেছে। এছাড়াও বড়কুড়া গ্রামের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

 

 

 

আহত রাজিব জানান, তিনি স্টেজের কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করছিলেন। হঠাৎ হুড়োহুড়ি শুরু হলে লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় কিছু ব্যক্তি তাকে মারধর শুরু করে। পরে তার দুই ভাই এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়।

 

 

 

এদিকে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে কামারখন্দ থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তানহাল আহমেদ রাজু ও তার ভাই আজাদুলও হামলার শিকার হন বলে জানা গেছে।

 

 

 

ঘটনার বিষয়ে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী জানান, মৌখিক অনুমতি নিয়ে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছিল। হাতাহাতির ঘটনার পরপরই অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

চাকরি দিচ্ছে আরএফএল গ্রুপ, থাকছে বাড়তি সুবিধা

লোকবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে আরএফএল গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার/ অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে জনবল নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে ০৯ মে থেকে এবং আবেদন করা যাবে আগামী ০৭ জুন পর্যন্ত।

 

 

 

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

 

 

 

এক নজরে দেখে নিন আরএফএল গ্রুপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬

প্রতিষ্ঠানের নাম : আরএফএল গ্রুপ

চাকরির ধরন : বেসরকারি চাকরি

পদ সংখ্যা : ১টি

লোকবল নিয়োগ : নির্ধারিত নয়

আবেদন করার মাধ্যম : অনলাইন

অফিশিয়াল ওয়েবসাইট : https://rflbd.com

আবেদন করার লিংক : অফিশিয়াল নোটিশের নিচে

প্রতিষ্ঠানের নাম : আরএফএল গ্রুপ

পদের নাম : প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার/ অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার

পদসংখ্যা : নির্ধারিত নয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা : সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা

অন্য যোগ্যতা : অটোক্যাড, এমএস প্রজেক্ট/প্রিমাভেরা এবং এমএস অফিসে পারদর্শিতা। প্রকল্প পরিকল্পনা, সাইট তত্ত্বাবধান এবং বাস্তবায়নে ভালো জ্ঞান।

অভিজ্ঞতা : কমপক্ষে ৩ বছর

চাকরির ধরন : ফুলটাইম

কর্মক্ষেত্র : অফিসে

প্রার্থীর ধরন : নারী-পুরুষ (উভয়)

বয়সসীমা : কমপক্ষে ২৫ বছর

কর্মস্থল : দেশের যেকোনো জায়গায়

বেতন : আলোচনা সাপেক্ষে

অন্য সুবিধা : প্রভিডেন্ট ফান্ড, ভ্রমণ ভাতা, মোবাইল বিল, কর্মক্ষমতা বোনাস, দুপুরের খাবার সুবিধা, প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট।

আবেদন করবেন যেভাবে : আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আবেদনের শেষ সময়: ০৭ জুন ২০২৬

 

 

হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ১১ শিশুর মৃত্যু

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে রোববার (১০ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ শিশু এবং হামে আক্রান্ত হয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামে ৬৫টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আর ২০৫টি শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৭৮টি শিশু। একই সময়ে হামে মারা যাওয়া ৪ শিশুর তিনজনই ঢাকা বিভাগের, একজন বরিশালের। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়েও ঢাকা বিভাগে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে দুইজন করে শিশুর মৃত্যুর হয়েছে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে।

 

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ৫০৩টি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা যায়। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৭৮টি শিশু। এর মধ্যে ৪৯৬টি শিশুই ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ১১৬টি শিশু গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিভাগের ৪৪৩ শিশু।

 

গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা গেছে মোট ৪৯ হাজার ১৫৯টি শিশুর। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৪ হাজার ৯০৯টি শিশু। তাদের মধ্যে ৬ হাজার ৮১৯ জনের হাম শনাক্ত হয়। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৩০ হাজার ৮৬২।

 

 

 

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের শেষ আশ্রয় ‘মা’: মির্জা ফখরুল

মা দিবসে দেশের সব নাগরিককে মায়েদের যথাযোগ্য সম্মান ও কর্তব্য পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার মতে, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়স্থান হচ্ছেন ‘মা’। এই মানুষটি সন্তানদের গড়ে তুলতে সব অর্থেই থাকেন আপসহীন ও সংগ্রামী।

 

 

 

রোববার (১০ মে) ‘আন্তর্জাতিক মা দিবস’ উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

 

বাণীতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মা দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মায়ের প্রতি আমি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমি তাদের সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়স্থান হচ্ছেন ‘মা’ । যদিও মাকে শ্রদ্ধা জানাতে কোন দিন-ক্ষণের প্রয়োজন হয় না।

 

‘মা’ একটি ছোট শব্দ কিন্তু তার ব্যাপকতা অসীম উল্লেখ করে তিনি বলেন, মা সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখান। তাই মায়ের জন্য প্রতিদিনই সন্তানের ভালোবাসা থাকে, তবু স্বতন্ত্রভাবে ভালোবাসা জানাতেই আজকের এই দিন। পরিবারে ‘মা’ হচ্ছেন এক অপরিহার্য মহিমান্বিত প্রতিষ্ঠান।

 

মহীয়সী মায়ের শিক্ষাতেই শিশুর ভবিষ্যৎ নির্মিত হয়। সুমাতার সহচার্যে সন্তানের উৎকর্ষতা ও প্রকৃত মানবসত্তার জাগরণ ঘটে, সন্তানের আত্মাকে নির্মল করে বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব।

 

 

বাণীতে তিনি বলেন, সন্তানের সাফল্যের মূলে থাকে ‘মা’-এর উদ্যম ও উদ্যোগ। নিবেদিতপ্রাণ এই মানুষটি সন্তানদের গড়ে তুলতে সব অর্থেই থাকেন আপসহীন ও সংগ্রামী। অনেক শক্তির আধার একজন মা।

 

 

 

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় নারী সমাজের অগ্রগতির জন্য যে অবদান রেখেছিলেন তা প্রশংসিত হয়েছে দেশ-বিদেশে। আর্থিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে এদেশে দেশনেত্রীর অবদান কিংবদন্তিতুল্য।

 

 

 

লুণ্ঠিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভয়ংকর রাজরোষে পড়া সত্ত্বেও তিনি তার কর্তব্যকর্ম থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হননি জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সেই কারণেই মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে সর্বজনশ্রদ্ধেয় ও অভিনন্দিত। এই গৌরবান্বিত দিবসে আমি মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি তিনি যেন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাত নসিব করেন।

 

 

 

মা দিবসে সব নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মায়েদের প্রতি যথাযোগ্য সম্মান ও কর্তব্য পালন করেন। কারণ কেবলমাত্র সন্তানদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার একমাত্র শর্ত হচ্ছে মায়ের মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন থাকা।

 

 

 

তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন: রিজভী

নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরলসভাবে কাজ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। 

 

 

 

তিনি বলেন, মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে। 
রোববার (১০ মে) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে আইডিইবি’র ৪৫ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। 

 

 

 

রিজভী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। 

 

 

তাই এই সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।

 

 

 

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপির ৩১ দফা ও বিভিন্ন অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নে কাজ চলছে। 

 

 

 

কৃষিঋণ মওকুফ, ফার্মার্স কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খননের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এগুলো কোনো ফাঁপা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাস্তবায়নের জন্য সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। 

 

 

নাচোলে বসতবাড়িতে ককটেল হামলা, থানায় সাধারণ ডায়েরি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে গভীর রাতে এক বসতবাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ফুরশেদপুর বিরেন বাজার সংলগ্ন এলাকায় শনিবার (৯ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি ককটেল বিস্ফোরিত হলেও অন্যটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
​ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুরশেদপুর বিরেন বাজার এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিনের বাড়ি লক্ষ্য করে গভীর রাতে দু’টি ককটেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। বিকট শব্দে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে নাচোল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবিস্ফোরিত অবস্থায় অপর একটি ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করে।
​ভুক্তভোগী রুহুল আমিনের দাবি, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জয়নাল হাজারীর ছেলে সাগর ও তার সহযোগীরা এই হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, “সাগরের সাথে আমাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। এর আগেও তারা দু’বার আমাদের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলেছে। ওই ঘটনায় থানায় জিডি করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
​এই ঘটনায় রুহুল আমিন বাদী হয়ে নাচোল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
​নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অবিস্ফোরিত উদ্ধারকৃত বস্তুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রাথমিক আলামত পরীক্ষা করা হচ্ছে। যদি এটি ককটেল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়, তবে দ্রুত বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করা হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জনতার কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ: ক্ষেতলালের সেই ‘কমিশনখোর’ পিআইও বদলি

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় টিআর-কাবিখা প্রকল্পে ২৫ শতাংশ কমিশন বাণিজ্য ও ভ্যাট-আয়করের নামে অর্থ আত্মসাতের খবর ‘জনতার কণ্ঠে প্রকাশের পর অবশেষে ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। অভিযুক্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ওবায়দুল হককে ক্ষেতলাল থেকে সরিয়ে পার্শ্ববর্তী পাঁচবিবি উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।

 

​গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন-১) তাসনূভা নাশতারাণ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ জারি করা হয়। আদেশে ওবায়দুল হকসহ ৮ জন পিআইও-কে জনস্বার্থে বদলি করা হলেও ক্ষেতলালে তার বিরুদ্ধে ওঠা পাহাড় সমান দুর্নীতির অভিযোগই এই বদলির নেপথ্যে কাজ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

গত ২০ এপ্রিল জনতার কণ্ঠ ও সংবাদ সারাবেলা’য় “ক্ষেতলালে উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ: পিআইওর বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য” শিরোনামে একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে পিআইও ওবায়দুল হকের কমিশন বাণিজ্যের কারণে মেম্বার-চেয়ারম্যানদের জিম্মি দশা এবং প্রকল্পের টাকা লুটের চিত্র ফুটে ওঠে। বিশেষ করে বড়াইল ও আলমপুর ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া সরাসরি স্বীকারোক্তিগুলো প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের টনক নড়ায়। প্রতিবেদকের কাছে থাকা অডিও-ভিডিও প্রমাণ এবং নথিপত্র সংবাদের সত্যতাকে অকাট্য করে তোলে।

আরও পড়ুন: টিআর-কাবিখা প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পিআইওর বিরুদ্ধে

 

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ১৪ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত (Stand Released) হতে হবে। অন্যথায় ঐ দিন বিকেলেই তারা বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন। ক্ষেতলালে ওবায়দুল হকের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন পাঁচবিবির বর্তমান পিআইও মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক।

 

 

এই বদলিকে এলাকাবাসী স্বাগত জানালেও তারা কেবল বদলিতেই তুষ্ট নন। সচেতন মহলের দাবি, সংবাদ সারাবেলায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করে ওবায়দুল হকের সময়কার সকল প্রকল্পের অডিট করা প্রয়োজন। দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত সরকারি অর্থ উদ্ধার এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশে

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বাড়তি উত্তাপ। ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে অন্যরকম উত্তেজনা। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ৩২ দিন বাকি। এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলে সব কিছুর দামই আকাশচুম্বী! টিকিটের দাম থেকে শুরু করে এখন সম্প্রচার স্বত্বও চূড়ায় উঠতে শুরু করেছে। যে কারণে চীন, ভারত সম্প্রচার নিয়ে জটিলতায় পড়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।

 

 

 

বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক মিডিয়া সংস্থা ‘স্প্রিংবক’। কিন্তু তারা এখন সেটি সম্প্রচারের জন্য বিটিভির কাছে যে পরিমাণ অর্থ চেয়েছে, তা দেশের একমাত্র সরকারি টেলিভিশনের বাজেটকেই প্রায় ছুঁয়ে ফেলছে! অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন এর এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘স্প্রিংবক থেকে আমাদের কাছে ১৫১ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব এসেছে। এছাড়া এর সঙ্গে ট্যাক্স ও ভ্যাট মিলিয়ে সেটা দুইশত কোটি টাকা দাঁড়াবে।’

 

 

 

তারপরই ওই কর্তা জানান, এত অর্থ দিয়ে আসলে বিটিভির মতো প্রতিষ্ঠানের খেলা দেখানো অসম্ভব। তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি, ‘আসলে এত টাকা দিয়ে বিটিভির পক্ষে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব কেনা সম্ভব নয়। বিটিভির সারা বছরের বাজেটই আছে তিনশত কোটি টাকা। এর মধ্যে যদি আমরা দুইশত কোটি টাকা দিয়ে সম্প্রচার স্বত্ব কিনি তাহলে টেলিভিশন চলবে কী করে? সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এত টাকা দিয়ে স্বত্ব কিনে বিটিভি তো কোনোভাবেই লাভ করতে পারবে না। বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’

 

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব ৯৮ কোটি টাকায় কিনেছিল বিটিভি। যার কারণে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল দেশের একমাত্র সরকারি টেলিভিশনকে। এ নিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘কাতার বিশ্বকাপে সম্প্রচার স্বত্ব কেনা নিয়ে পরবর্তীতে বিটিভিকে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। আমরা বিজ্ঞাপন থেকে কিছু টাকা সংগ্রহ করতে পারলেও বিনিয়োগের পুরা টাকা আসেনি। বড় ক্ষতি হয়েছিল। এখন সরকার যদি মনে করে বিটিভির মাধ্যমে বিশ্বকাপ দেখাবে, তাহলে হয়তো সম্ভব। এছাড়া এই মুহূর্তে অন্য কোনও বিকল্প নেই।’

 

শেষ পর্যন্ত যদি বাংলাদেশেও বিশ্বকাপ সম্প্রচার না হয় তাহলে বিশ্বের একটি বড় অংশই সম্প্রচার তালিকার বাইরে চলে যাবে।

 

 

কিছু দিন আগেই যেমন রয়টার্সকে ফিফা জানিয়েছিল যে তারা ১৭৫টিরও বেশি অঞ্চলের সঙ্গে সম্প্রচার চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এটা সত্য হলেও বাস্তব চিত্র আরও জটিল। কারণ এখনও পাকিস্তান, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। তার ওপর ভারত ও চীনসহ বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল কয়েকটি দেশও ফিফার সম্প্রচার তালিকার বাইরে। অর্থাৎ বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ জনসংখ্যা এই সম্প্রচার কাভারেজের বাইরে রয়ে গেছেন।

 

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, বাদ পড়া দেশগুলোর বড় অংশই একই অঞ্চলের, মূলত টাইম জোন সমস্যা। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে সাড়ে ৯ ঘণ্টা এবং চীন ১২ ঘণ্টা এগিয়ে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলো সেখানে বেশিরভাগ সময় গভীর রাত বা ভোরে সম্প্রচার হবে।

 

 

 

এর বিপরীতে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সময়ের পার্থক্য ছিল তুলনামূলক সুবিধাজনক সময়ে। ভারতের সঙ্গে ব্যবধান ছিল মাত্র আড়াই ঘণ্টা এবং চীনের সঙ্গে ৫ ঘণ্টা। সেই কারণেই সে সময় ভারতের ভায়াকম১৮ (বর্তমানে রিলায়েন্সের অধীনে থাকা জিওসিনেমা প্ল্যাটফর্ম) ৬ কোটি ডলারে সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছিল এবং বিনামূল্যে ম্যাচ দেখিয়েছিল। ফলে প্ল্যাটফর্মটির দর্শক সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গিয়েছিল। তবে সেখানেও বিজ্ঞাপন আয় ছিল কম, প্রায় ৩ কোটি ডলার। যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি লোকসান দেখেছে। ভারতে মূলত সাবস্ক্রিপশন নয়, বিজ্ঞাপনই মিডিয়ার আয়ের প্রধান উৎস হওয়ায় এই মডেল টেকসই হয়নি।

 

 

 

এই অভিজ্ঞতার পর ফিফা ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপ মিলিয়ে ভারতীয় বাজারের জন্য প্রায় ১০ কোটি ডলারের একটি প্যাকেজ চেয়েছিল। কিন্তু রিপোর্ট অনুযায়ী, জিওস্টার ও সনির দুই বড় প্রতিদ্বন্দ্বীই সেই দামে আগ্রহ দেখায়নি। বরং জিওস্টার মাত্র ২ কোটি ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে।

 

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, সময়ের পার্থক্য ছাড়াও বড় কারণ হলো ভারতীয় ক্রিকেটের আধিপত্য, বিশেষ করে আইপিএলের জন্য বিপুল বিনিয়োগ। একই সময়ে নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও থাকায় দর্শক ও বিজ্ঞাপনদাতাদের আগ্রহ সেদিকেই বেশি।

 

 

 

চীনের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি প্রায় একই। সেখানকার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের কেন্দ্র। তবে ফিফার প্রত্যাশা অনুযায়ী চীনা বাজার থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আসেনি। ফিফা শুরুতে ২৫ কোটি ডলার চাইলেও চীনা পক্ষের আগ্রহ ছিল অনেক কম। প্রস্তাব নেমে আসে ৮০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। ফলে সব দিক দিয়ে এখন অর্থই অনর্থের মূল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে সবাইকে বিশ্বকাপ দেখাতে হলে ফিফাকে বড় ধরনের মূল্য ছাড় দিতে হবে।

 

 

“ওঙ্কার আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রর” আত্মপ্রকাশ আগামীকাল

কবিতা জাগাবে বোধ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে নতুন সাহিত্য ও আবৃত্তি সংগঠন “ওঙ্কার আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র”।

 

 

 

আগামীকাল সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যা ৬টায় সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

 

অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করবেন সিরাজগঞ্জ জেলা কালচারাল অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী, শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা উপস্থিত থাকবেন।

 

 

 

মায়াময় এ সংসারের ঘূর্ণাবর্তে, স্বার্থের বেড়াজালে যখন জীবন অস্থির হয়ে ওঠে এবং হৃদয় মন যখন অশান্ত থাকে, তখন আবৃত্তি, গান ও শিল্প-সাহিত্যের আড্ডার মাধ্যমে সুস্থ বিনোদন ও নির্মল আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াসে “কবিতা জাগাবে বোধ” এই স্লোগানকে ধারণ করে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

 

 

 

অনুষ্ঠানে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ, আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্য এবং আবৃত্তি পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হবে।

 

 

 

সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উক্ত অনুষ্ঠানকে আনন্দময়, প্রাণবন্ত এবং সার্থক করতে সকলের উপস্থিতির জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।