কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বুধবার (১৩ মে) সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। কয়েক দিন ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অক্টোবর মাসে তিনি গ্রেপ্তার হন। ২০২৫ সালের আগস্টে অসুস্থ হয়ে পড়লে পিজি হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরবর্তীকালে জামিনে মুক্ত হন। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তিনি দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে সাবেদুর রহমান সুমু বাংলানিউজকে বলেন, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাদ আসর মিরসরাই উপজেলার মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম শহরে কোনো জানাজা অনুষ্ঠিত হবে না। ঢাকায় একটি জানাজা হবে, তবে সেটির স্থান ও সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি মীরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম এস রহমান তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য। মা পাঞ্জেবুনেছা। পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ১৯৬৬ সালে তিনি লাহোর থেকে খনিজ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সাহসিকতার জন্য লাহোরে বাঙালি ছাত্রদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় মোশাররফ ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। সেখানে পড়াশোনাকালে ১৯৬৬ সালে লাহোরে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রদের নিয়ে মোশাররফ হোসেন ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে মীরসরাই আসন থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন চট্টগ্রামের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তিনি গেরিলাযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বপরূপ বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে বাংলাদেশ সরকার ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।
দেশে হামের ব্যাপক সংক্রমণের মধ্যেই নতুন উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে আরেক প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ ডিপথেরিয়া। প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এ রোগ এখন আবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় শনাক্ত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং শিশুদের কমে যাওয়া রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে পরিস্থিতি বিপজ্জনক দিকে যাচ্ছে।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সিলেট, হবিগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। রাজধানীর একাধিক হাসপাতালেও এ রোগে আক্রান্তদের অনেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরই মধ্যে এ রোগে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, চলমান হাম পরিস্থিতির মধ্যে ডিপথেরিয়ার বিস্তার শুরু হলে শিশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। তাই সে ধরনের পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সেই লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।
সংক্রমণের শুরু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে: ডিপথেরিয়ার বড় প্রাদুর্ভাব প্রথম দেখা যায় ২০১৭ সালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ওই বছরের ৩ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে ১৫ জনের মৃত্যুসহ ৮০৪ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ১০ নভেম্বর, মেদসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) একটি ক্লিনিকে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, আক্রান্তদের ৭৩ শতাংশের বয়স ছিল ১৫ বছরের নিচে এবং এর ৬০ শতাংশই নারী। মারা যাওয়া ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জনই ছিল শিশু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তখনই সতর্ক করেছিল, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঘনবসতি,অপুষ্টি ও কম টিকা গ্রহণ পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির কথা বলা হয়েছিল।
সতর্কতার পরও কার্যকর প্রস্তুতি হয়নি: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আগাম সতর্কতা সত্ত্বেও দেশে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সার্ভিল্যান্স তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সিলেট ও হবিগঞ্জে, ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে (আইডিএইচ) এবং ২৫ মার্চ কামরাঙ্গীরচরে ডিপথেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট ও ২৪ সেপ্টেম্বর আইডিএইচে, ২৬ আগস্ট তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে এবং ৮ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী শনাক্ত হয়। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেওয়া রোগীটি কিশোরগঞ্জ থেকে সংক্রমিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালেও ডিপথেরিয়ার রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি সংক্রমণের নীরব বিস্তারের ইঙ্গিত। সরকার যদি এ সময়ে নীরব থাকে, তাহলে মারাত্মক সংক্রামক এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন বলেন, মূলত রোহিঙ্গা জনবসতিতে প্রথম ডিপথেরিয়া শনাক্ত হয়। পরে দেশের বিভিন্ন জেলায় রোগী পাওয়া গেছে। কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্যও রয়েছে। হাম-পরবর্তী সময়ে শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ডিপথেরিয়া ছড়িয়ে পড়লে দেশে করুণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ডিপথেরিয়া টিকার বুস্টার ডোজ চালু করতে হবে। ৬ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুদের লক্ষ করে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো গেলে দ্রুত ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
কী এই ডিপথেরিয়া: ডিপথেরিয়া বা করিনেব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরিয়া হলো একটি গ্রাম-পজিটিভ, মুগুর-আকৃতির ব্যাকটেরিয়া. যা জীবনঘাতী সংক্রামক রোগ ডিপথেরিয়ার জন্য দায়ী। এটি অত্যন্ত সংক্রামক ও গুরুতর রোগ, যা গলা, নাক ও শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। এটি টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ তৈরির মাধ্যমে গলায় একটি পুরু ধূসর আস্তরণ সৃষ্টি করে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট, গিলতে সমস্যা এবং হার্ট বা স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে। এটি মূলত হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এর সর্বোত্তম প্রতিরোধ ব্যবস্থা হলো টিকাদান। ঐতিহাসিকভাবে ‘শিশুদের শ্বাসরোধকারী দেবদূত’ নামে পরিচিত এ ব্যাকটেরিয়া প্রধানত ঊর্ধ্ব শ্বাসনালিকে সংক্রমিত করে, তবে এটি ত্বকের ক্ষতও (কিউটেনিয়াস ডিপথেরিয়া) সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, ডিপথেরিয়ার প্রধান লক্ষণ হলো গলা ব্যথা, জ্বর, ঘাড়ের গ্রন্থি ফুলে যাওয়া এবং গলায় ঘন ধূসর পর্দা বা আস্তরণ পড়া। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা ব্যবহৃত জিনিসপত্র (তোয়ালে, খেলনা) থেকে এবং সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এ জীবাণু ছড়ায়। শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির অধীনে ডিপিটি ও পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা প্রদান এবং হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখার মাধ্যমে এ রোগের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। টিকা না নেওয়া শিশু, জনাকীর্ণ স্থানে বসবাসকারী এবং অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ডিপথেরিয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ: ডিপথেরিয়া নিয়ন্ত্রণে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, ডিপথেরিয়া অ্যান্টিটক্সিন, অ্যান্টিবায়োটিক এবং জরুরি টিকাদান কর্মসূচির ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি বিশেষভাবে ছোট শিশু, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছে।
এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ডিপথেরিয়ার একটি ভয়াবহ সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিপথেরিয়া অ্যান্টিটক্সিন সেরাম এবং বেনজাইল পেনিসিলিনের মতো ওষুধগুলো এখন বিরল। ফলে হাসপাতালে ডিপথেরিয়া রোগী এলে তাদের সুস্থতা দান করা কঠিন হয়ে পড়বে। তা ছাড়া হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের চাপে হামের রোগীদের জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমন সময় ডিপথেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে হামের পর বাংলাদেশ নতুন আরেকটি সংক্রামক সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।
যা বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: সামগ্রিক বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ডিপথেরিয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত, করণীয় নিয়ে আমরা ভাবছি।
সুত্র: “দৈনিক কালবেলা”

স্কুলের সেফটি ট্যাংকের দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেফটি ট্যাংকে মরা মুরগি ফেলার ঘটনায় তীব্র দুর্গন্ধে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।
এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে অবস্থিত টয়লেটের সেফটি ট্যাংকের ঢাকনা ভেঙে সেখানে দুর্বৃত্তরা মরা মুরগি ফেলে রাখে। এরপর থেকেই পুরো স্কুলজুড়ে অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেহেলী খাতুন রায়গঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে চলমান পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী নাকে রুমাল চেপে পরীক্ষা দিচ্ছে। তারপরও দুর্গন্ধে মাথা ঘোরা ও বমির মতো সমস্যায় পড়ছে তারা।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, “দরজা-জানালা বন্ধ করেও দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। ক্লাস করতে খুব কষ্ট হচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের আশপাশে অন্তত ৬ থেকে ৭টি মুরগির খামার রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, খামারের কোনো অসাধু ব্যক্তি মৃত মুরগিগুলো সেফটি ট্যাংকে ফেলে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে অভিভাবক আখি খাতুন ও সিদ্দিক প্রামাণিক বলেন, “দুর্গন্ধের কারণে সন্তানরা স্কুলে যেতে চায় না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেহেলী খাতুন বলেন, “থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মরা মুরগির দুর্গন্ধে বিদ্যালয়ে অবস্থান করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান খান বলেন, “প্রশাসন যদি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করার সাহস পাবে না।”
অভিযোগের বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার এসআই শাহীন আলম মুঠোফোনে জানান, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

রায়গঞ্জে মহাসড়কের পাশে অবৈধ পাথর ডিপো, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা বাজার এলাকায় মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ পাথর বাণিজ্যের একাধিক অস্থায়ী ডিপো। ঘুড়কা পাপিয়া হোটেলসংলগ্ন এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে পাথর মজুত ও বিক্রির কার্যক্রম চলায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের জায়গা দখল করে চন্দন সরকার, তরুণ রায়, নিতীশ কুমার সরকার ও আব্দুল লতিফ হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তি এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। উত্তরাঞ্চল থেকে ট্রাকে করে আনা পাথর রাস্তার পাশেই খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। পরে সেখান থেকেই খুচরা ও পাইকারি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটিকুমরুল মহাসড়কের ঘুড়কা পাপিয়া হোটেল এলাকায় রাস্তার ধারে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে পাথরের স্তূপ। কোথাও কোথাও মহাসড়কের একাংশ দখল করে দাঁড়িয়ে আছে পাথরবাহী ট্রাক। এতে সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং বাড়ছে যানজট।
স্থানীয় মিশুকচালক আতিকুল ইসলাম ও লতিফ জানান, মহাসড়কের পাশে ট্রাক দাঁড় করিয়ে পাথর ওঠানামার কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সামান্য অসাবধানতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া ধুলাবালুর কারণে পরিবেশ দূষণও বাড়ছে।
একাধিক পরিবহন চালক অভিযোগ করে বলেন, রাতে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক ও পাথরের স্তূপের কারণে গাড়ি চালাতে চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। অন্ধকারে অনেক সময় সামনে কী রয়েছে তা বোঝা যায় না।
সচেতন মহলের দাবি, অনুমোদন ছাড়াই মহাসড়কের পাশে এভাবে পাথর মজুত ও বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে সংশ্লিষ্টরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।
এ বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে পাথর মজুত ও বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লাপাড়ায় পুকুর খননের সময় উদ্ধার কষ্টিপাথরের প্রাচীন দুর্গা মূর্তি

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় শত বছরের পুরানো একটি পুকুর খননের সময় কষ্টিপাথরের তৈরি একটি দুর্গা মূর্তি উদ্ধার হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে উপজেলার বাঙালা ইউনিয়নের চেংটিয়া বড় আইন্দা পুকুরে খননকাজ চলাকালে শ্রমিকরা মূর্তিটি দেখতে পেয়ে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে শত শত মানুষের ভিড় জমে।
পুকুরের মালিক রুহুল আমীন জানান, প্রায় ১৬ বিঘা আয়তনের এই প্রাচীন পুকুর থেকে এর আগেও কষ্টিপাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হয়েছিল। এবার একই পুকুর থেকে দুর্গা মূর্তি পাওয়া গেল।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, শত বছরের পুরানো পুকুরে কষ্টিপাথরের একটি দুর্গা মূর্তি পাওয়া গেছে। মূর্তিটির ওজন আনুমানিক ৪০ কেজি হতে পারে। বিষয়টি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মূর্তিটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঈদ উপলক্ষে ২৩ মে’র ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু আজ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বুধবার (১৩ মে) থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। অবৈধ টিকিট বিক্রি রোধে শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।
বুধবার (১৩) সকাল ৮টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। আর দুপুর ২টায় পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে।
রেলওয়ে জানিয়েছে, যাত্রীরা শুধু বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন ওয়েবসাইট এবং ‘রেল সেবা’ অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের নেওয়া কর্মপরিকল্পনা থেকে জানা গেছে, ঈদের আগে পাঁচ দিনের ট্রেনের আসনের টিকিট বিশেষ ব্যবস্থায় অগ্রিম বিক্রি করা হবে। আন্তঃনগর ট্রেনের ২৪ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৪ মে, ২৫ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৫ মে, ২৬ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৬ মে এবং ২৭ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৭ মে।
রেলওয়ের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, একজন যাত্রী ঈদ অগ্রিম যাত্রার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ একবার টিকিট কিনতে পারবেন এবং প্রতি ক্ষেত্রে সর্বাধিক চারটি টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। ঈদ অগ্রিম যাত্রার টিকিট রিফান্ড করা যাবে না।
যাত্রীদের অনুরোধে যাত্রার দিন মোট আসনের (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে।
এদিকে, ঈদের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২৮, ২৯ ও ৩০ মে তারিখের টিকিট বিক্রি করা হবে।

সাদিক কায়েমের বিয়ের দাওয়াত পেলেন স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। এসময় তিনি স্পিকারকে তার বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে সাদিক কায়েমের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।
ওই পোস্টে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।
এসময় তিনি স্পিকারকে তার বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন। স্পিকার জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য শুভকামনা ও দোয়া জানিয়েছেন। পাশাপাশি ডাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। আগামীর বাংলাদেশের রোল মডেলে উন্নীত হোক ডাকসু এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সোনাইমুড়ীতে ইয়াবাসহ তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি আটক

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ এক তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) নোয়াখালী জেলা কার্যালয়।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সোনাইমুড়ী থানাধীন জয়াগ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের যোগিখিল পাড়া উলুপাড়ায় আব্দুর রহমান ঠিকাদার বাড়ি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে যোগিখিল পাড়ার বাসিন্দা ছালে আহম্মেদ প্রকাশ খোকন (৪২)-এর নিজ বসতঘরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫২ পিস মিথাইল অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির ১ হাজার ৭০০ টাকা নগদ অর্থ এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি সিমযুক্ত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
আটক ছালে আহম্মেদ প্রকাশ খোকন উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের যোগিখিল পাড়া এলাকার মৃত আজিজুল হকের ছেলে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ জানান, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
3 thoughts on “সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রেস ব্রিফিং”