সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল রোড সংলগ্ন সিরাজগঞ্জ হেলথ কেয়ার হাসপাতালে এক প্রসূতি রোগীর চিকিৎসায় অবহেলা, চিকিৎসকের অনুপস্থিতি এবং অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুরোধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালটির সেবার মান ও চিকিৎসকদের উপস্থিতি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সচেতন নাগরিক মো. সুলতান মাহমুদ।
গত ২৫ অক্টোবর দেওয়া ওই আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২১ অক্টোবর রাতে তাঁর এক নিকটাত্মীয়কে প্রসবকালীন জরুরি চিকিৎসার জন্য রাত আনুমানিক ২টার দিকে সিরাজগঞ্জ হেলথ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর প্রাথমিক কিছু চিকিৎসাসেবা দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, পরদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা হাসপাতালে কোনো গাইনি চিকিৎসক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় প্রসূতি মা ও গর্ভস্থ সন্তানের জীবন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে রোগীর স্বজনেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুরোধ জানান।
কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীকে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায় বলে অভিযোগ করেন সুলতান মাহমুদ। তাঁর দাবি, ‘চিকিৎসক এই মুহূর্তে আসছেন’ বলে বারবার আশ্বাস দিয়ে স্বজনদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা হয়। এতে রোগীকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব ঘটে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত আবেদনে সুলতান মাহমুদ আরও বলেন, প্রসূতি রোগীর চিকিৎসার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, যথাযথ সেবা নিশ্চিত না করা এবং রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তরে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এ ধরনের ঘটনা রোগী ও তাঁর অনাগত সন্তানের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
এ অবস্থায় সিরাজগঞ্জ হেলথ কেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকদের উপস্থিতি, চিকিৎসাসেবার মান এবং রোগী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা সরেজমিনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলেরও দাবি জানান।
তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কোনো তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এমন প্রত্যাশা জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা। জনতার কণ্ঠ.কম। 


















