সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিচার দাবি

সাধারণ আইনজীবী ব্যানারে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: সংগৃহীত

‎হামে শিশু মৃত্যুর জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমসহ দোষীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আইনজীবীরা।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) বিকেলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ আইনজীবী ব্যানারে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

বিক্ষোভ সমাবেশে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের একাংশ এতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় আওয়ামীপন্থী আইনজীবী মো. কায়েস আহমেদ অর্নব, সিফাত আমিনুল করিম, গোলাম রাব্বানি, রাসেল আহমেদ, ফারজানা ইয়াসমিন রাখিসহ শতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

 

এসময় আইনজীবীরা সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিচার দাবি করেন।

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইউনিসেফের পক্ষ থেকে সতর্ক করা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার টিকার প্রচলিত সংগ্রহ পদ্ধতি পরিবর্তন করে ‘উন্মুক্ত দরপত্র’ (ওপেন টেন্ডার) পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। ইউনিসেফের অনুরোধ উপেক্ষা করার ফলে দেশে হামের টিকার তীব্র সংকট দেখা দেয়।

বক্তাদের দাবি, সঠিক সময়ে টিকা না পাওয়ায় ৪০০’র বেশি শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

 

 

 

আয়োজকদের পক্ষে কায়েস আহমেদ অর্ণব নামে এক আইনজীবী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও নূরজাহান বেগমকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শুধু হাম নয়, অন্যান্য টিকার ক্ষেত্রেও এই সরকারের চরম গাফিলতি ছিল। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

 

 

 

মানববন্ধনে আইনজীবী সিলফাত আমিনুল করিম অভিযোগ করে বলেন, তৎকালীন সরকার আগের চুক্তিগুলো বাতিল করলেও কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেয়নি। শিশুদের এই অকাল মৃত্যুর দায় সরকারকে নিতে হবে এবং বর্তমান সরকারের কাছে আমরা এর বিচার দাবি করছি।

 

 

 

কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে কয়েকজন আইনজীবী চোখে ও মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। এ সময় আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, ‘চার শতাধিক শিশুর মৃত্যু কেবল গাফিলতি নয়, এটি একটি অপরাধ।’

 

 

শাহজাদপুরে শাশুড়ির পরকীয়া দেখে ফেলায় পুত্রবধূকে হত্যার অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শাশুড়ির পরকীয়া দেখে পরিবারের সদস্যদের কাছে বলে দেওয়ায় ছেলের বউকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের বৃ-আঙ্গারু গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাশুড়ি এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা গা ঢাকা দিয়েছে। নিহত গৃহবধূ তাসলিমা (২২) বৃ-আঙ্গারু গ্রামের মমিনের পুত্র উজ্জ্বল হোসেনের স্ত্রী এবং একই গ্রামের তাহের মণ্ডলের কন্যা।
নিহত তাসলিমার বাবা তাহের মণ্ডল এবং এলাকাবাসী জানান, গত ৮ বছর পূর্বে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে তাসলিমা এবং উজ্জ্বলের বিয়ে হয়। স্বাভাবিক ভাবেই তাদের দাম্পত্য জীবন চলছিল। তাদের সংসারে দুইটি সন্তান রয়েছে। তবে সম্প্রতি তাসলিমা তার শাশুড়ির পরকীয়া সম্পর্ক দেখে ফেলে এবং পরিবারের সদ্যদের কাছে প্রকাশ করলে তার উপর নির্যাতনের খড়গ নেমে আসে। এই নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার রাতের কোন এক সময় তাসলিমাকে হত্যা করে ঘরের ভিতর ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে। ঘটনা জানাজানির পর পরিবারের সকলে আত্মগোপনে চলে যায়।

শাহজাদপুর থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুল কাদের জানান, লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। লাশের গলার দাগ দেখে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটা আত্মহত্যা নয়। তবে ময়না তদন্তের পর প্রকৃত কারন জানা যাবে।

উল্লাপাড়ায় চলতি মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় অভ্যন্তরীণ বোরো মৌসুমে ধান চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে খাদ্য বিভাগের আয়োজনে উপজেলার আর/এস খাদ্য গুদামে ধান- চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৪ উল্লাপাড়া আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রায়হানুল ইসলাম, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আইনিন আফরোজ, ওসি এলএসডি মোঃ মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মোঃ আজাদ হোসেন আজাদ, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শাহজাহান আলী, সাবেক পৌর মেয়র এম বেলাল হোসেন সহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ থেকে জানা গেছে, কৃষকদের কাছ থেকে এ বছরে কৃষি অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন গ্রহন করে স্বচ্ছ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে লটারির মাধ্যমে ধান চাল সংগ্রহ করা হবে।
সরকার এ বছরে উল্লাপাড়া থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে ৩ হাজার ২৮ মেট্রিক টন ধান, ৪৯ টাকা কেজি দরে ৪ হাজার ৩৭৭ মেট্রিক টন চাল, ৩৫ টাকা কেজি দরে ৩০ মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করবে।

শাহজাদপুরে দুই কৃষকের জমির আধা পাকা ধান লুটের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ভাড়াটিয়া মাস্তান দিয়ে সকিম প্রামানিক এবং ফটিক প্রামানিক নামের দুই কৃষকের ৭৮ শতাংশ জমির ধান কেটে লুট করার অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, বৈধ কাগজ না থাকলেও ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে আব্দুল আজিজ ও তার ভাড়াটিয়া গুন্ডা সুলতান, আলামিন, সাগর, জোমের, মমিন, শাহ আলমসহ একদল সন্ত্রাসী জমির ধান কেটে নিয়েছে। তবে, অভিযুক্ত আব্দুল আজিজ জমির প্রকৃত মালিক দাবী করে জানিয়েছেন, তিনি  নিজের জমির ধান নিজেই কেটে ঘরে তুলেছেন।
ভুক্তভোগী দুই কৃষক সকিম প্রামানিক এবং ফটিক প্রামানিক জানান, উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের খারুয়াজংলা মৌজার এসএ ১৪৭৩ দাগ থেকে ৩০ শতাংশ, ১১৭৯ দাগ থেকে ১৬ শতাংশ এবং ১১৭২ দাগ থেকে ৩২ শতাংশ মিলে মোট ৭৮ শতাংশ জমি ১৯৭৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দুই সন্তান সকিম এবং ফটিকের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন মা শুকুরন নেছা। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে সকিম প্রামানিক এবং ফটিক প্রামানিক দুই ভাই ভোগ দখল করে ফসল ফলিয়ে আসছে। কিন্তু হঠাৎই ঐ জমির প্রকৃত মালিক দাবী করে বসেন কায়েমপুর ইউনিয়নের বাড়াবিল গ্রামের আব্দুল আজিজ। সম্প্রতি এ নিয়ে শাহজাদপুর আইনজীবী সমিতিতে উভয় পক্ষকে নিয়ে শালিস বৈঠকও হয়েছে। সেই শালিসে কগজপত্র এবং যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সকিম প্রামানিক এবং ফটিক প্রামানিক প্রকৃত মালিক প্রমাণিত হলেও সেই সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জোরপূর্বক জমির ধান কেটে নেয় আব্দুল আজিজ। মঙ্গলবার (১২ মে) আব্দুল আজিজ তার ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী সুলতান, শাহ আলম, মমিন,সাগর, জোমেরসহ একদল মানুষকে নিয়ে জমির সব ধান কেটে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শাহজাদপুর আমলি আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল আজিজ জানান, ‘আমার জমি আমি ভোগদখল করে আসছি। আমার ধান আমিই কেটে নিয়েছি।’

শাহজাদপুর থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুল নাদের জানান, এ বিষয়ে এখনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে ক্ষোভ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের

গরুর হাটে চুরি, ক্রেতার পকেট থেকে উধাও এক লাখ টাকা

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আবাদপুকুর গরু-ছাগলের হাটে কুরবানির পশু কিনতে এসে এক লাখ টাকা খোয়ালেন এক ক্রেতা।
বুধবার (১৩ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এই চুরির ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নুরুজ্জামান (৪২) পার্শ্ববর্তী বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ঘোড়াঘাট এলাকার মৃত নাজমুলের ছেলে।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুরবানির গরু কেনার উদ্দেশ্যে সকাল ১১টার দিকে বাড়ি থেকে রওনা দেন নুরুজ্জামান। হাটে পৌঁছানোর পর ভিড়ের মধ্যে কৌশলে তাঁর প্যান্টের পকেট থেকে নগদ এক লাখ টাকা সরিয়ে নেয় সংঘবদ্ধ চোরচক্র।
ভুক্তভোগী নুরুজ্জামান জানান, “হাটে অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলার সুযোগে আমার টাকা খোয়া গেছে। হাটে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। সংশ্লিষ্টরা যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করত, তাহলে এমন ঘটনা ঘটত না।”
ঘটনার পর তিনি হাট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের অবহিত করেন। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি জানাজানি হলে হাটে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রতি হাটবারে যেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়, সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল।
স্থানীয় সচেতন মহল সতর্ক করে বলেছেন, কুরবানির পশুর হাটগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার না করলে চুরি ও প্রতারণার ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
রানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল বলেন, “হাটের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে আজ অতিরিক্ত মানুষের চাপে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। চোর ধরতে আমরা কাজ শুরু করেছি এবং আগামীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান জানান, ঈদকে সামনে রেখে আগেই হাট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে নিরাপত্তার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বিশৃঙ্খলা এড়াতে হাটে উন্নয়নমূলক শেড নির্মাণ করা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রানীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন বলেন, “হাটের সাথে জড়িতদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।”

১নং তালম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সম্পদ

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেন তরুণ সমাজসেবক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সম্পদ।
তিনি জানান, ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, সততা প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছেন এবং এখন নির্বাচনের মাধ্যমে সেই সেবাকে আরও বিস্তৃত করতে চান।
মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সম্পদ এলাকাবাসীর কাছে দোয়া, ভালোবাসা ও সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “আপনাদের সমর্থন ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমি বিশ্বাস করি, আমরা সবাই মিলে ১নং তালম ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।”
তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই মিলে একটি সুন্দর, আধুনিক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য। এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার সমানভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রার্থিতা ঘোষণার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই তার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে শুভেচ্ছা ও সমর্থন প্রকাশ করেছেন। তরুণ ভোটারদের মাঝে এ নিয়ে ইতোমধ্যেই ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, ১নং তালম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। নির্বাচন ঘিরে এলাকায় এখন থেকেই প্রচারণার আমেজ শুরু হয়েছে।

রাতভর ভারি বৃষ্টিতে থমকে গেছে জনজীবন, সূর্যের দেখা মিললো দুপুরে

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে কুড়িগ্রাম জেলাসহ বাংলাদেশের বেশ কিছু জায়গায় ১২ মে থেকে ২১ মে পযর্ন্ত হতে পারে ভারি বৃষ্টি। সে তথ্য অনুপাতে কুড়িগ্রাম জেলা জুড়ে ১৩ মে রাত ১ টা থেকে নেমে আসে ভারি বৃষ্টি। যার শেষ হয় বেলা ১২.৩০ টার পর। দীর্ঘক্ষণ টানা বৃষ্টিপাতের ফলে জেলা জুড়ে দেখা দিয়েছে সাধারণ জনগণের দুর্গতি।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষ্যমতে গত ২৪ ঘন্টায় কুড়িগ্রামে ১৮৬ মিমি বৃষ্টিপাত হয়। যা এ বছরের সর্বচ্ছ রেকর্ড হিসাবে তালিকায় আসে।
টানা বৃষ্টিপাতের ফলে জনজীবনের বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে অর্থনীতি এবং কৃষিখাতে। অবিরাম বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে শহর গ্রামের রাস্তা – ঘাট এবং কৃষি জমিতে। এর ফলে চলাফেরায় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে জনগণের। এছাড়াও কৃষি জমি গুলোতে পানি হওয়ার ফলে ব্যাহত হচ্ছে ধান কাটা এবং শোকানোর কাজে।
মুষলধারে বৃষ্টির ফলে দিন মজুরি এবং কৃষিসহ নানান সমস্যার মুখী হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলার জনগণ। কর্ম বন্ধের পাশাপাশি শহরে বা গ্রামে পানির জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার কারণে ঘর থেকে বাহির হতে পাচ্ছে না অনেকে। এ যেন এক বন্যার পূর্বাভাস।
কিন্তু অবাক করার বিষয় রাত ১ টা থেকে বৃষ্টি হলেও তার শেষ মেলে দুপুর ১২.৩০ পর। এবং সেই সাথে সূর্যের দেখা মিলে দুপুর ২ টায়। এতেও জনসাধারণ সন্তুষ্টি নয়।
খেটে খাওয়া মানুষ এবং দিনমজুরি মানুষ গুলো বলছেন, সময় মত বৃষ্টি বন্ধ না হয়ে অসময়ে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে রোদ উঠছে। কিন্তু কর্মে ফেরার সময় এখন নয়। বেলা শেষে কে কাজে নিবে বা কে সঠিক মূল্য দিবে? মালিক পক্ষ যে অর্থ দিবে সেটার জন্য অনেক কষ্ট করতে হবে। তাই অসময়ে বৃষ্টি থেমেও কোন সুফল হয়নি দিনমজুরি মানুষদের।

রাণীনগরে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, কৃষি ও পুষ্টি উদ্যোক্তা উন্নয়নে নতুন অঙ্গীকার

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে “প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ” (পার্টনার) কর্মসূচির আওতায় মঙ্গলবার রাণীনগর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এক পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে কৃষি উন্নয়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার মোসা মোস্তাকিমা আক্তার। তিনি বলেন, পার্টনার কর্মসূচি বাংলাদেশের কৃষিখাতে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্যসেবার সাথে সংযুক্ত করা হচ্ছে এবং গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, রাণীনগর উপজেলায় এই কর্মসূচির সুফল ইতোমধ্যে কৃষকদের মধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই কার্যক্রমে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি, আর সেই কৃষিকে আধুনিক ও টেকসই করতে পার্টনার কর্মসূচির মতো উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি বলেন, গ্রামীণ কৃষক ও উদ্যোক্তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে এই কর্মসূচি রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার সাধারণ মানুষের জীবন বদলে দিতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এমপি রেজাউল ইসলাম আরও বলেন, কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বাজার সংযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি উপস্থিত সকল কৃষক ও উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, সরকার সবসময় তাদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান বলেন, পার্টনার কর্মসূচি শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি একটি সমন্বিত উন্নয়নের দর্পণ। কৃষি, পুষ্টি ও গ্রামীণ উদ্যোক্তা — এই তিনটি মূলস্তম্ভকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই কর্মসূচি রাণীনগর উপজেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন সকল সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার সাথে সমন্বয় করে এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবে। স্থানীয় কৃষকদের আধুনিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করতে এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি। সভাপতি সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন,, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম, থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নয়ন খান লুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল হক লিটনসহ স্থানীয় কৃষক, উদ্যোক্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বগুড়ায় ৫ দফা দাবিতে বিড়ি শ্রমিকদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন আমলকে ‘বিড়ি শিল্পের স্বর্ণযুগ’ মনে করতেন শ্রমিকরা। জিয়াউর রহমান স্পষ্টভাবে বলতেন, “বিড়ি হলো গরিব মানুষের সিগারেট। যারা দিনমজুর বা রিকশাচালক, তাদের বিনোদনের উপায় খুব সীমিত। তাই বিড়ির ওপর ট্যাক্স বাড়িয়ে তাদের ওপর চাপ বাড়ানো যাবে না। সেই সময়ের মতো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমলে আসন্ন বাজেটে বিড়ি শিল্পের উপর শুল্ক বৃদ্ধি না করার দাবি জানিয়েছেন বগুড়া জেলা বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) বেলা ১১টায় বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসের সামনে পাঁচ দফা দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানান তারা।

 

শ্রমিকদের দাবি সমূহ- বিড়ির শুল্ক বৃদ্ধি না করা, বিড়ি শ্রমিকদের কর্ম দিবস বৃদ্ধি করা, নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি করা, বিড়ি ফ্যাক্টরির লাইসেন্স থাকলেই ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করা এবং নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ করা।

 

 

 

মানববন্ধন শেষে বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী কমিশনারের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিড়ি একটি দেশীয় শ্রমনির্ভর শিল্প, যার ওপর নির্ভর করে সারাদেশের প্রায় ১৮ লাখ শ্রমিকের জীবন জীবিকা। তবে নীতিগত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কারণে এ শিল্প সংকটে পড়েছে। প্রকৃত রাজস্ব প্রদানকারী বিড়ি মালিকরা অসংখ্য কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। সুতরাং বিড়ি শিল্প ও শ্রমিকদের কর্মরক্ষার্থে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ি শিল্পের উপর শুল্ক বৃদ্ধি না করার অনুরোধ করছি। একইসাথে বিড়ি শ্রমিকদের কর্মদিবস বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।

 

 

 

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে দেশের তামাক বাজারের ৮০ শতাংশ নিম্নস্তরের সিগারেট দখল করে আছে। এতে বিড়ি শিল্প টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই বিড়ি শিল্প রক্ষায় নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি। নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রিকে শিল্পের জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বৈধ উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ অবস্থায় নকল বিড়ির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এছাড়াও বিড়ি ফ্যাক্টরির লাইসেন্স থাকলেই ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান শ্রমিকরা।

 

 

বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হারিক হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন, লুৎফর রহমান, আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত লাভলু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম ইসলাম, শ্রমিক নেতা সোহেল রানা প্রমূখ।

 

এ সময় শ্রমিকদের হাতে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যেখানে দেশীয় শিল্প রক্ষা, বহুজাতিক কোম্পানির প্রভাব প্রতিহত করা এবং বিড়ি শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

 

 

মারা গেছেন সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।

 

 

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। কয়েক দিন ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অক্টোবর মাসে তিনি গ্রেপ্তার হন। ২০২৫ সালের আগস্টে অসুস্থ হয়ে পড়লে পিজি হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরবর্তীকালে জামিনে মুক্ত হন। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

 

তিনি দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

 

 

 

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে সাবেদুর রহমান সুমু বাংলানিউজকে বলেন, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাদ আসর মিরসরাই উপজেলার মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম শহরে কোনো জানাজা অনুষ্ঠিত হবে না। ঢাকায় একটি জানাজা হবে, তবে সেটির স্থান ও সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

 

 

 

 

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি মীরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম এস রহমান তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য। মা পাঞ্জেবুনেছা। পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ১৯৬৬ সালে তিনি লাহোর থেকে খনিজ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সাহসিকতার জন্য লাহোরে বাঙালি ছাত্রদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় মোশাররফ ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। সেখানে পড়াশোনাকালে ১৯৬৬ সালে লাহোরে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রদের নিয়ে মোশাররফ হোসেন ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে মীরসরাই আসন থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন চট্টগ্রামের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তিনি গেরিলাযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বপরূপ বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে বাংলাদেশ সরকার ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।

 

 

সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নিলে ভয়াবহ হতে পারে পরিস্থিতি

হাম পরিস্থিতির মাঝেই চোখ রাঙাচ্ছে ডিপথেরিয়া

দেশে হামের ব্যাপক সংক্রমণের মধ্যেই নতুন উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে আরেক প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ ডিপথেরিয়া। প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এ রোগ এখন আবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় শনাক্ত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং শিশুদের কমে যাওয়া রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে পরিস্থিতি বিপজ্জনক দিকে যাচ্ছে।

 

 

 

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সিলেট, হবিগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। রাজধানীর একাধিক হাসপাতালেও এ রোগে আক্রান্তদের অনেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরই মধ্যে এ রোগে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, চলমান হাম পরিস্থিতির মধ্যে ডিপথেরিয়ার বিস্তার শুরু হলে শিশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। তাই সে ধরনের পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সেই লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

সংক্রমণের শুরু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে: ডিপথেরিয়ার বড় প্রাদুর্ভাব প্রথম দেখা যায় ২০১৭ সালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ওই বছরের ৩ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে ১৫ জনের মৃত্যুসহ ৮০৪ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ১০ নভেম্বর, মেদসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) একটি ক্লিনিকে।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, আক্রান্তদের ৭৩ শতাংশের বয়স ছিল ১৫ বছরের নিচে এবং এর ৬০ শতাংশই নারী। মারা যাওয়া ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জনই ছিল শিশু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তখনই সতর্ক করেছিল, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঘনবসতি,অপুষ্টি ও কম টিকা গ্রহণ পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির কথা বলা হয়েছিল।

 

 

সতর্কতার পরও কার্যকর প্রস্তুতি হয়নি: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আগাম সতর্কতা সত্ত্বেও দেশে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।

 

 

 

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সার্ভিল্যান্স তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সিলেট ও হবিগঞ্জে, ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে (আইডিএইচ) এবং ২৫ মার্চ কামরাঙ্গীরচরে ডিপথেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট ও ২৪ সেপ্টেম্বর আইডিএইচে, ২৬ আগস্ট তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে এবং ৮ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী শনাক্ত হয়। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেওয়া রোগীটি কিশোরগঞ্জ থেকে সংক্রমিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালেও ডিপথেরিয়ার রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।

 

 

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি সংক্রমণের নীরব বিস্তারের ইঙ্গিত। সরকার যদি এ সময়ে নীরব থাকে, তাহলে মারাত্মক সংক্রামক এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

 

 

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন বলেন, মূলত রোহিঙ্গা জনবসতিতে প্রথম ডিপথেরিয়া শনাক্ত হয়। পরে দেশের বিভিন্ন জেলায় রোগী পাওয়া গেছে। কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্যও রয়েছে। হাম-পরবর্তী সময়ে শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ডিপথেরিয়া ছড়িয়ে পড়লে দেশে করুণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

 

 

 

তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ডিপথেরিয়া টিকার বুস্টার ডোজ চালু করতে হবে। ৬ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুদের লক্ষ করে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো গেলে দ্রুত ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

 

 

 

কী এই ডিপথেরিয়া: ডিপথেরিয়া বা করিনেব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরিয়া হলো একটি গ্রাম-পজিটিভ, মুগুর-আকৃতির ব্যাকটেরিয়া. যা জীবনঘাতী সংক্রামক রোগ ডিপথেরিয়ার জন্য দায়ী। এটি অত্যন্ত সংক্রামক ও গুরুতর রোগ, যা গলা, নাক ও শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। এটি টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ তৈরির মাধ্যমে গলায় একটি পুরু ধূসর আস্তরণ সৃষ্টি করে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট, গিলতে সমস্যা এবং হার্ট বা স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে। এটি মূলত হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এর সর্বোত্তম প্রতিরোধ ব্যবস্থা হলো টিকাদান। ঐতিহাসিকভাবে ‘শিশুদের শ্বাসরোধকারী দেবদূত’ নামে পরিচিত এ ব্যাকটেরিয়া প্রধানত ঊর্ধ্ব শ্বাসনালিকে সংক্রমিত করে, তবে এটি ত্বকের ক্ষতও (কিউটেনিয়াস ডিপথেরিয়া) সৃষ্টি করতে পারে।

 

 

 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, ডিপথেরিয়ার প্রধান লক্ষণ হলো গলা ব্যথা, জ্বর, ঘাড়ের গ্রন্থি ফুলে যাওয়া এবং গলায় ঘন ধূসর পর্দা বা আস্তরণ পড়া। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা ব্যবহৃত জিনিসপত্র (তোয়ালে, খেলনা) থেকে এবং সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এ জীবাণু ছড়ায়। শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির অধীনে ডিপিটি ও পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা প্রদান এবং হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখার মাধ্যমে এ রোগের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। টিকা না নেওয়া শিশু, জনাকীর্ণ স্থানে বসবাসকারী এবং অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ডিপথেরিয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।

 

 

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ: ডিপথেরিয়া নিয়ন্ত্রণে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, ডিপথেরিয়া অ্যান্টিটক্সিন, অ্যান্টিবায়োটিক এবং জরুরি টিকাদান কর্মসূচির ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি বিশেষভাবে ছোট শিশু, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

 

 

 

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ডিপথেরিয়ার একটি ভয়াবহ সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিপথেরিয়া অ্যান্টিটক্সিন সেরাম এবং বেনজাইল পেনিসিলিনের মতো ওষুধগুলো এখন বিরল। ফলে হাসপাতালে ডিপথেরিয়া রোগী এলে তাদের সুস্থতা দান করা কঠিন হয়ে পড়বে। তা ছাড়া হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের চাপে হামের রোগীদের জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমন সময় ডিপথেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে হামের পর বাংলাদেশ নতুন আরেকটি সংক্রামক সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

 

 

 

যা বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: সামগ্রিক বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ডিপথেরিয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত, করণীয় নিয়ে আমরা ভাবছি।

 

 

 

সুত্র: “দৈনিক কালবেলা”

 

 

 

স্কুলের সেফটি ট্যাংকের দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেফটি ট্যাংকে মরা মুরগি ফেলার ঘটনায় তীব্র দুর্গন্ধে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।
এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে অবস্থিত টয়লেটের সেফটি ট্যাংকের ঢাকনা ভেঙে সেখানে দুর্বৃত্তরা মরা মুরগি ফেলে রাখে। এরপর থেকেই পুরো স্কুলজুড়ে অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেহেলী খাতুন রায়গঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে চলমান পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী নাকে রুমাল চেপে পরীক্ষা দিচ্ছে। তারপরও দুর্গন্ধে মাথা ঘোরা ও বমির মতো সমস্যায় পড়ছে তারা।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, “দরজা-জানালা বন্ধ করেও দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। ক্লাস করতে খুব কষ্ট হচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের আশপাশে অন্তত ৬ থেকে ৭টি মুরগির খামার রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, খামারের কোনো অসাধু ব্যক্তি মৃত মুরগিগুলো সেফটি ট্যাংকে ফেলে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে অভিভাবক আখি খাতুন ও সিদ্দিক প্রামাণিক বলেন, “দুর্গন্ধের কারণে সন্তানরা স্কুলে যেতে চায় না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেহেলী খাতুন বলেন, “থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মরা মুরগির দুর্গন্ধে বিদ্যালয়ে অবস্থান করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান খান বলেন, “প্রশাসন যদি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করার সাহস পাবে না।”
অভিযোগের বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার এসআই শাহীন আলম মুঠোফোনে জানান, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

রায়গঞ্জে মহাসড়কের পাশে অবৈধ পাথর ডিপো, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা বাজার এলাকায় মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ পাথর বাণিজ্যের একাধিক অস্থায়ী ডিপো। ঘুড়কা পাপিয়া হোটেলসংলগ্ন এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে পাথর মজুত ও বিক্রির কার্যক্রম চলায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের জায়গা দখল করে চন্দন সরকার, তরুণ রায়, নিতীশ কুমার সরকার ও আব্দুল লতিফ হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তি এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। উত্তরাঞ্চল থেকে ট্রাকে করে আনা পাথর রাস্তার পাশেই খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। পরে সেখান থেকেই খুচরা ও পাইকারি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটিকুমরুল মহাসড়কের ঘুড়কা পাপিয়া হোটেল এলাকায় রাস্তার ধারে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে পাথরের স্তূপ। কোথাও কোথাও মহাসড়কের একাংশ দখল করে দাঁড়িয়ে আছে পাথরবাহী ট্রাক। এতে সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং বাড়ছে যানজট।
স্থানীয় মিশুকচালক আতিকুল ইসলাম ও লতিফ জানান, মহাসড়কের পাশে ট্রাক দাঁড় করিয়ে পাথর ওঠানামার কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সামান্য অসাবধানতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া ধুলাবালুর কারণে পরিবেশ দূষণও বাড়ছে।
একাধিক পরিবহন চালক অভিযোগ করে বলেন, রাতে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক ও পাথরের স্তূপের কারণে গাড়ি চালাতে চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। অন্ধকারে অনেক সময় সামনে কী রয়েছে তা বোঝা যায় না।
সচেতন মহলের দাবি, অনুমোদন ছাড়াই মহাসড়কের পাশে এভাবে পাথর মজুত ও বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে সংশ্লিষ্টরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।
এ বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে পাথর মজুত ও বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লাপাড়ায় পুকুর খননের সময় উদ্ধার কষ্টিপাথরের প্রাচীন দুর্গা মূর্তি

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় শত বছরের পুরানো একটি পুকুর খননের সময় কষ্টিপাথরের তৈরি একটি দুর্গা মূর্তি উদ্ধার হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে উপজেলার বাঙালা ইউনিয়নের চেংটিয়া বড় আইন্দা পুকুরে খননকাজ চলাকালে শ্রমিকরা মূর্তিটি দেখতে পেয়ে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে শত শত মানুষের ভিড় জমে।
পুকুরের মালিক রুহুল আমীন জানান, প্রায় ১৬ বিঘা আয়তনের এই প্রাচীন পুকুর থেকে এর আগেও কষ্টিপাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হয়েছিল। এবার একই পুকুর থেকে দুর্গা মূর্তি পাওয়া গেল।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, শত বছরের পুরানো পুকুরে কষ্টিপাথরের একটি দুর্গা মূর্তি পাওয়া গেছে। মূর্তিটির ওজন আনুমানিক ৪০ কেজি হতে পারে। বিষয়টি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মূর্তিটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঈদ উপলক্ষে ২৩ মে’র ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু আজ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বুধবার (১৩ মে) থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। অবৈধ টিকিট বিক্রি রোধে শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।

 

 

 

বুধবার (১৩) সকাল ৮টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। আর দুপুর ২টায় পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে।

 

 

 

রেলওয়ে জানিয়েছে, যাত্রীরা শুধু বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন ওয়েবসাইট এবং ‘রেল সেবা’ অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

 

ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের নেওয়া কর্মপরিকল্পনা থেকে জানা গেছে, ঈদের আগে পাঁচ দিনের ট্রেনের আসনের টিকিট বিশেষ ব্যবস্থায় অগ্রিম বিক্রি করা হবে। আন্তঃনগর ট্রেনের ২৪ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৪ মে, ২৫ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৫ মে, ২৬ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৬ মে এবং ২৭ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৭ মে।

 

রেলওয়ের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, একজন যাত্রী ঈদ অগ্রিম যাত্রার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ একবার টিকিট কিনতে পারবেন এবং প্রতি ক্ষেত্রে সর্বাধিক চারটি টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। ঈদ অগ্রিম যাত্রার টিকিট রিফান্ড করা যাবে না।

 

 

যাত্রীদের অনুরোধে যাত্রার দিন মোট আসনের (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে।

 

 

 

এদিকে, ঈদের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২৮, ২৯ ও ৩০ মে তারিখের টিকিট বিক্রি করা হবে।

 

 

 

সাদিক কায়েমের বিয়ের দাওয়াত পেলেন স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। এসময় তিনি স্পিকারকে তার বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে সাদিক কায়েমের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

 

ওই পোস্টে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।

এসময় তিনি স্পিকারকে তার বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন। স্পিকার জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য শুভকামনা ও দোয়া জানিয়েছেন। পাশাপাশি ডাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। আগামীর বাংলাদেশের রোল মডেলে উন্নীত হোক ডাকসু এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

 

 

 

সোনাইমুড়ীতে ইয়াবাসহ তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি আটক

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ এক তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) নোয়াখালী জেলা কার্যালয়।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সোনাইমুড়ী থানাধীন জয়াগ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের যোগিখিল পাড়া উলুপাড়ায় আব্দুর রহমান ঠিকাদার বাড়ি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে যোগিখিল পাড়ার বাসিন্দা ছালে আহম্মেদ প্রকাশ খোকন (৪২)-এর নিজ বসতঘরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫২ পিস মিথাইল অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির ১ হাজার ৭০০ টাকা নগদ অর্থ এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি সিমযুক্ত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

আটক ছালে আহম্মেদ প্রকাশ খোকন উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের যোগিখিল পাড়া এলাকার মৃত আজিজুল হকের ছেলে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ জানান, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

হাম আক্রান্ত শিশুদের কাতরতার মাঝে হাসপাতালের নিচে নার্সদের নাচ

আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নার্সদের নাচ-গান ও আনন্দ-উল্লাস ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলাকালে উচ্চ শব্দে ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে নাচানাচি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীর স্বজন ও সচেতন নাগরিকরা।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষে হাসপাতালের নার্সরা একটি শোভাযাত্রা বের করেন। শোভাযাত্রার আগে হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে ব্যান্ড পার্টির বাদ্যযন্ত্রের তালে ধামাইল গানের সঙ্গে নাচতে দেখা যায় নার্সদের। এ সময় হাসপাতালের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠিক ওই সময় হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত প্রায় ৮৫ জন শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। শিশুদের কান্না ও যন্ত্রণার মধ্যেই নিচতলায় উচ্চ শব্দে গান-বাজনা চলতে থাকে। পরে নার্সদের নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে সেবার মান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। এক অভিভাবক বলেন, আমার সন্তান হামে আক্রান্ত হয়ে ছটফট করছে। হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না, সব বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। ইনজেকশন দেওয়ার জন্য ডাকলে নার্সরা রোগীর কাছে না এসে উল্টো রোগীকে তাদের কাছে নিয়ে যেতে বলেন।

সুনামগঞ্জ ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপের সদস্য শবনমদোজা জ্যোতি বলেন, নার্স দিবস পালন করার অধিকার তাদের আছে। তবে হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় উচ্চ শব্দে ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে নাচানাচি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে রোগীদের চিকিৎসা ও বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটে।

সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাঈদ বলেন, সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আজকের এই আয়োজন জবাবদিহিতার অভাবেরই একটি উদাহরণ। হাসপাতালের ভেতরে এমন আনন্দ-উল্লাস মানবিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

 

 

 

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, নার্স দিবসে আনন্দ উপভোগ করা দোষের কিছু নয়। তবে সময়, পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে এসব আয়োজন করা উচিত ছিল।

 

 

নিজস্ব সম্পদ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন নেই: জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রী

নিজস্ব সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি পরিদর্শন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই মন্তব্য করেন।

 

 

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এটি জনগণের সরকার। তাই দেশের জনগণের যে সম্পদ রয়েছে, সেই সম্পদ জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। দেশে নিজস্ব সম্পদ থাকা সত্ত্বেও কেন আমরা বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করবো?’

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার’ দেশীয় সম্পদকে অবহেলা করে বিদেশি জ্বালানি আমদানিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। এতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এবং মধ্যপাড়া পাথরখনি জনকল্যাণে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘নিজেদের সম্পদ থাকতে বিদেশি সম্পদ আমদানি নয়।’

 

বর্তমান সরকার দেশীয় জ্বালানি সম্পদ আহরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও সম্মতি নিয়ে সরকার কাজ করছে।

 

 

 

এর আগে মন্ত্রী বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মধ্যপাড়া পাথরখনির কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক সভা করেন।

 

 

সভায় উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এবং এ জেড এম রেজওয়ানুল হক।

 

 

সভা শেষে মন্ত্রী বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মধ্যপাড়া পাথরখনি ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

 

 

আক্কেলপুরে ফসলি মাঠ থেকে হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় ফসলি মাঠ থেকে হাত-পা বাঁধা ও মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের নওজর গ্রামের নিশ্চিন্তা মাঠ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে মাঠের ভেতরে মাটিচাপা অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে খবর দেওয়া হলে আক্কেলপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের পরনে লুঙ্গি এবং নীল ও ঘিয়া রঙের গেঞ্জি ছিল। তার হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, ২ থেকে ৩ দিন আগে তাকে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে গুম করার চেষ্টা করা হয়েছে। নিহতের বয়স আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর।

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, “মাঠের মধ্যে মরদেহ পাওয়ার খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। লোকটিকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।”

তিলকপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সেলিম রেজা বাদশা জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। তবে এখন পর্যন্ত নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীন রেজা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

রাজশাহীকে সবুজ ও আধুনিক নগরী গড়তে কাজ চলছে: রাসিক প্রশাসক রিটন

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন বলেছেন, নগরবাসীর আশা-আকাঙ্খা বাস্তবায়নে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবেন। সকলের সহযোগিতায় রাজশাহীকে আরও সবুজ, সুন্দর, স্বাস্থ্যকর ও শান্তির নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে নগর ভবনের সরিৎ দত্তগুপ্ত সভাকক্ষে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ নগরীর উন্নয়ন, নাগরিক সেবা, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এসময় রাসিক প্রশাসক বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান আমাকে নগরবাসীর সেবার সুযোগ দিয়েছেন। নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নগরীর গাছের পরিচর্যা ও নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে তিন লক্ষাধিক বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নগরবাসীর মাঝে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
রাসিক প্রশাসক আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম, মশক নিধনে ফগার স্প্রে, সড়কের খানাখন্দ মেরামত ও নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উন্নয়ন স্কিম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
হাম-রুবেলা প্রতিরোধ কার্যক্রম নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। বলেন, “সিটি কর্পোরেশনগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম আমরা জনসচেতনতামূলক লিফলেট তৈরি করে বাড়ি বাড়ি বিতরণ করেছি। হাম-রুবেলা টিকাদানে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে।”
সভায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামসুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু কাউসার মাখনসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালাইয়ে ইনডোর স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন জেলা প্রশাসক

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে আধুনিক ইনডোর স্টেডিয়াম। আজ মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে উপজেলা চত্বরে এই স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজের ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব মোঃ মাসুদ রানা প্রধান।

 

​ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনায় জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, “স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনকে চাঙ্গা করতে এবং যুবসমাজকে মাঠমুখী করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই ইনডোর স্টেডিয়ামটি কালাইয়ের খেলোয়াড়দের জন্য একটি আধুনিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।” তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছতার সাথে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

 

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হান এবং কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা।

 

​অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার শ্রী তন্ময় কুন্ডুসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। জয়পুরহাট জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে ও বাস্তবায়নে এই প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

One thought on “হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিচার দাবি

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিচার দাবি

আপডেট টাইম : ০৬:৩২:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

‎হামে শিশু মৃত্যুর জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমসহ দোষীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আইনজীবীরা।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) বিকেলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ আইনজীবী ব্যানারে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

বিক্ষোভ সমাবেশে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের একাংশ এতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় আওয়ামীপন্থী আইনজীবী মো. কায়েস আহমেদ অর্নব, সিফাত আমিনুল করিম, গোলাম রাব্বানি, রাসেল আহমেদ, ফারজানা ইয়াসমিন রাখিসহ শতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

 

এসময় আইনজীবীরা সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিচার দাবি করেন।

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইউনিসেফের পক্ষ থেকে সতর্ক করা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার টিকার প্রচলিত সংগ্রহ পদ্ধতি পরিবর্তন করে ‘উন্মুক্ত দরপত্র’ (ওপেন টেন্ডার) পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। ইউনিসেফের অনুরোধ উপেক্ষা করার ফলে দেশে হামের টিকার তীব্র সংকট দেখা দেয়।

বক্তাদের দাবি, সঠিক সময়ে টিকা না পাওয়ায় ৪০০’র বেশি শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

 

 

 

আয়োজকদের পক্ষে কায়েস আহমেদ অর্ণব নামে এক আইনজীবী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও নূরজাহান বেগমকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শুধু হাম নয়, অন্যান্য টিকার ক্ষেত্রেও এই সরকারের চরম গাফিলতি ছিল। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

 

 

 

মানববন্ধনে আইনজীবী সিলফাত আমিনুল করিম অভিযোগ করে বলেন, তৎকালীন সরকার আগের চুক্তিগুলো বাতিল করলেও কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেয়নি। শিশুদের এই অকাল মৃত্যুর দায় সরকারকে নিতে হবে এবং বর্তমান সরকারের কাছে আমরা এর বিচার দাবি করছি।

 

 

 

কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে কয়েকজন আইনজীবী চোখে ও মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। এ সময় আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, ‘চার শতাধিক শিশুর মৃত্যু কেবল গাফিলতি নয়, এটি একটি অপরাধ।’

 

 

শাহজাদপুরে শাশুড়ির পরকীয়া দেখে ফেলায় পুত্রবধূকে হত্যার অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শাশুড়ির পরকীয়া দেখে পরিবারের সদস্যদের কাছে বলে দেওয়ায় ছেলের বউকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের বৃ-আঙ্গারু গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাশুড়ি এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা গা ঢাকা দিয়েছে। নিহত গৃহবধূ তাসলিমা (২২) বৃ-আঙ্গারু গ্রামের মমিনের পুত্র উজ্জ্বল হোসেনের স্ত্রী এবং একই গ্রামের তাহের মণ্ডলের কন্যা।
নিহত তাসলিমার বাবা তাহের মণ্ডল এবং এলাকাবাসী জানান, গত ৮ বছর পূর্বে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে তাসলিমা এবং উজ্জ্বলের বিয়ে হয়। স্বাভাবিক ভাবেই তাদের দাম্পত্য জীবন চলছিল। তাদের সংসারে দুইটি সন্তান রয়েছে। তবে সম্প্রতি তাসলিমা তার শাশুড়ির পরকীয়া সম্পর্ক দেখে ফেলে এবং পরিবারের সদ্যদের কাছে প্রকাশ করলে তার উপর নির্যাতনের খড়গ নেমে আসে। এই নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার রাতের কোন এক সময় তাসলিমাকে হত্যা করে ঘরের ভিতর ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে। ঘটনা জানাজানির পর পরিবারের সকলে আত্মগোপনে চলে যায়।

শাহজাদপুর থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুল কাদের জানান, লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। লাশের গলার দাগ দেখে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটা আত্মহত্যা নয়। তবে ময়না তদন্তের পর প্রকৃত কারন জানা যাবে।

উল্লাপাড়ায় চলতি মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় অভ্যন্তরীণ বোরো মৌসুমে ধান চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে খাদ্য বিভাগের আয়োজনে উপজেলার আর/এস খাদ্য গুদামে ধান- চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৪ উল্লাপাড়া আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রায়হানুল ইসলাম, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আইনিন আফরোজ, ওসি এলএসডি মোঃ মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মোঃ আজাদ হোসেন আজাদ, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শাহজাহান আলী, সাবেক পৌর মেয়র এম বেলাল হোসেন সহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ থেকে জানা গেছে, কৃষকদের কাছ থেকে এ বছরে কৃষি অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন গ্রহন করে স্বচ্ছ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে লটারির মাধ্যমে ধান চাল সংগ্রহ করা হবে।
সরকার এ বছরে উল্লাপাড়া থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে ৩ হাজার ২৮ মেট্রিক টন ধান, ৪৯ টাকা কেজি দরে ৪ হাজার ৩৭৭ মেট্রিক টন চাল, ৩৫ টাকা কেজি দরে ৩০ মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করবে।

শাহজাদপুরে দুই কৃষকের জমির আধা পাকা ধান লুটের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ভাড়াটিয়া মাস্তান দিয়ে সকিম প্রামানিক এবং ফটিক প্রামানিক নামের দুই কৃষকের ৭৮ শতাংশ জমির ধান কেটে লুট করার অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, বৈধ কাগজ না থাকলেও ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে আব্দুল আজিজ ও তার ভাড়াটিয়া গুন্ডা সুলতান, আলামিন, সাগর, জোমের, মমিন, শাহ আলমসহ একদল সন্ত্রাসী জমির ধান কেটে নিয়েছে। তবে, অভিযুক্ত আব্দুল আজিজ জমির প্রকৃত মালিক দাবী করে জানিয়েছেন, তিনি  নিজের জমির ধান নিজেই কেটে ঘরে তুলেছেন।
ভুক্তভোগী দুই কৃষক সকিম প্রামানিক এবং ফটিক প্রামানিক জানান, উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের খারুয়াজংলা মৌজার এসএ ১৪৭৩ দাগ থেকে ৩০ শতাংশ, ১১৭৯ দাগ থেকে ১৬ শতাংশ এবং ১১৭২ দাগ থেকে ৩২ শতাংশ মিলে মোট ৭৮ শতাংশ জমি ১৯৭৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দুই সন্তান সকিম এবং ফটিকের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন মা শুকুরন নেছা। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে সকিম প্রামানিক এবং ফটিক প্রামানিক দুই ভাই ভোগ দখল করে ফসল ফলিয়ে আসছে। কিন্তু হঠাৎই ঐ জমির প্রকৃত মালিক দাবী করে বসেন কায়েমপুর ইউনিয়নের বাড়াবিল গ্রামের আব্দুল আজিজ। সম্প্রতি এ নিয়ে শাহজাদপুর আইনজীবী সমিতিতে উভয় পক্ষকে নিয়ে শালিস বৈঠকও হয়েছে। সেই শালিসে কগজপত্র এবং যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সকিম প্রামানিক এবং ফটিক প্রামানিক প্রকৃত মালিক প্রমাণিত হলেও সেই সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জোরপূর্বক জমির ধান কেটে নেয় আব্দুল আজিজ। মঙ্গলবার (১২ মে) আব্দুল আজিজ তার ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী সুলতান, শাহ আলম, মমিন,সাগর, জোমেরসহ একদল মানুষকে নিয়ে জমির সব ধান কেটে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শাহজাদপুর আমলি আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল আজিজ জানান, ‘আমার জমি আমি ভোগদখল করে আসছি। আমার ধান আমিই কেটে নিয়েছি।’

শাহজাদপুর থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুল নাদের জানান, এ বিষয়ে এখনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে ক্ষোভ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের

গরুর হাটে চুরি, ক্রেতার পকেট থেকে উধাও এক লাখ টাকা

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আবাদপুকুর গরু-ছাগলের হাটে কুরবানির পশু কিনতে এসে এক লাখ টাকা খোয়ালেন এক ক্রেতা।
বুধবার (১৩ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এই চুরির ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নুরুজ্জামান (৪২) পার্শ্ববর্তী বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ঘোড়াঘাট এলাকার মৃত নাজমুলের ছেলে।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুরবানির গরু কেনার উদ্দেশ্যে সকাল ১১টার দিকে বাড়ি থেকে রওনা দেন নুরুজ্জামান। হাটে পৌঁছানোর পর ভিড়ের মধ্যে কৌশলে তাঁর প্যান্টের পকেট থেকে নগদ এক লাখ টাকা সরিয়ে নেয় সংঘবদ্ধ চোরচক্র।
ভুক্তভোগী নুরুজ্জামান জানান, “হাটে অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলার সুযোগে আমার টাকা খোয়া গেছে। হাটে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। সংশ্লিষ্টরা যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করত, তাহলে এমন ঘটনা ঘটত না।”
ঘটনার পর তিনি হাট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের অবহিত করেন। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি জানাজানি হলে হাটে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রতি হাটবারে যেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়, সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল।
স্থানীয় সচেতন মহল সতর্ক করে বলেছেন, কুরবানির পশুর হাটগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার না করলে চুরি ও প্রতারণার ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
রানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল বলেন, “হাটের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে আজ অতিরিক্ত মানুষের চাপে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। চোর ধরতে আমরা কাজ শুরু করেছি এবং আগামীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান জানান, ঈদকে সামনে রেখে আগেই হাট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে নিরাপত্তার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বিশৃঙ্খলা এড়াতে হাটে উন্নয়নমূলক শেড নির্মাণ করা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রানীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন বলেন, “হাটের সাথে জড়িতদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।”

১নং তালম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সম্পদ

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেন তরুণ সমাজসেবক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সম্পদ।
তিনি জানান, ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, সততা প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছেন এবং এখন নির্বাচনের মাধ্যমে সেই সেবাকে আরও বিস্তৃত করতে চান।
মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সম্পদ এলাকাবাসীর কাছে দোয়া, ভালোবাসা ও সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “আপনাদের সমর্থন ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমি বিশ্বাস করি, আমরা সবাই মিলে ১নং তালম ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।”
তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই মিলে একটি সুন্দর, আধুনিক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য। এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার সমানভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রার্থিতা ঘোষণার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই তার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে শুভেচ্ছা ও সমর্থন প্রকাশ করেছেন। তরুণ ভোটারদের মাঝে এ নিয়ে ইতোমধ্যেই ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, ১নং তালম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। নির্বাচন ঘিরে এলাকায় এখন থেকেই প্রচারণার আমেজ শুরু হয়েছে।

রাতভর ভারি বৃষ্টিতে থমকে গেছে জনজীবন, সূর্যের দেখা মিললো দুপুরে

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে কুড়িগ্রাম জেলাসহ বাংলাদেশের বেশ কিছু জায়গায় ১২ মে থেকে ২১ মে পযর্ন্ত হতে পারে ভারি বৃষ্টি। সে তথ্য অনুপাতে কুড়িগ্রাম জেলা জুড়ে ১৩ মে রাত ১ টা থেকে নেমে আসে ভারি বৃষ্টি। যার শেষ হয় বেলা ১২.৩০ টার পর। দীর্ঘক্ষণ টানা বৃষ্টিপাতের ফলে জেলা জুড়ে দেখা দিয়েছে সাধারণ জনগণের দুর্গতি।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষ্যমতে গত ২৪ ঘন্টায় কুড়িগ্রামে ১৮৬ মিমি বৃষ্টিপাত হয়। যা এ বছরের সর্বচ্ছ রেকর্ড হিসাবে তালিকায় আসে।
টানা বৃষ্টিপাতের ফলে জনজীবনের বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে অর্থনীতি এবং কৃষিখাতে। অবিরাম বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে শহর গ্রামের রাস্তা – ঘাট এবং কৃষি জমিতে। এর ফলে চলাফেরায় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে জনগণের। এছাড়াও কৃষি জমি গুলোতে পানি হওয়ার ফলে ব্যাহত হচ্ছে ধান কাটা এবং শোকানোর কাজে।
মুষলধারে বৃষ্টির ফলে দিন মজুরি এবং কৃষিসহ নানান সমস্যার মুখী হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলার জনগণ। কর্ম বন্ধের পাশাপাশি শহরে বা গ্রামে পানির জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার কারণে ঘর থেকে বাহির হতে পাচ্ছে না অনেকে। এ যেন এক বন্যার পূর্বাভাস।
কিন্তু অবাক করার বিষয় রাত ১ টা থেকে বৃষ্টি হলেও তার শেষ মেলে দুপুর ১২.৩০ পর। এবং সেই সাথে সূর্যের দেখা মিলে দুপুর ২ টায়। এতেও জনসাধারণ সন্তুষ্টি নয়।
খেটে খাওয়া মানুষ এবং দিনমজুরি মানুষ গুলো বলছেন, সময় মত বৃষ্টি বন্ধ না হয়ে অসময়ে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে রোদ উঠছে। কিন্তু কর্মে ফেরার সময় এখন নয়। বেলা শেষে কে কাজে নিবে বা কে সঠিক মূল্য দিবে? মালিক পক্ষ যে অর্থ দিবে সেটার জন্য অনেক কষ্ট করতে হবে। তাই অসময়ে বৃষ্টি থেমেও কোন সুফল হয়নি দিনমজুরি মানুষদের।

রাণীনগরে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, কৃষি ও পুষ্টি উদ্যোক্তা উন্নয়নে নতুন অঙ্গীকার

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে “প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ” (পার্টনার) কর্মসূচির আওতায় মঙ্গলবার রাণীনগর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এক পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে কৃষি উন্নয়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার মোসা মোস্তাকিমা আক্তার। তিনি বলেন, পার্টনার কর্মসূচি বাংলাদেশের কৃষিখাতে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্যসেবার সাথে সংযুক্ত করা হচ্ছে এবং গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, রাণীনগর উপজেলায় এই কর্মসূচির সুফল ইতোমধ্যে কৃষকদের মধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই কার্যক্রমে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি, আর সেই কৃষিকে আধুনিক ও টেকসই করতে পার্টনার কর্মসূচির মতো উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি বলেন, গ্রামীণ কৃষক ও উদ্যোক্তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে এই কর্মসূচি রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার সাধারণ মানুষের জীবন বদলে দিতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এমপি রেজাউল ইসলাম আরও বলেন, কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বাজার সংযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি উপস্থিত সকল কৃষক ও উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, সরকার সবসময় তাদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান বলেন, পার্টনার কর্মসূচি শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি একটি সমন্বিত উন্নয়নের দর্পণ। কৃষি, পুষ্টি ও গ্রামীণ উদ্যোক্তা — এই তিনটি মূলস্তম্ভকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই কর্মসূচি রাণীনগর উপজেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন সকল সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার সাথে সমন্বয় করে এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবে। স্থানীয় কৃষকদের আধুনিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করতে এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি। সভাপতি সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন,, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম, থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নয়ন খান লুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল হক লিটনসহ স্থানীয় কৃষক, উদ্যোক্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বগুড়ায় ৫ দফা দাবিতে বিড়ি শ্রমিকদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন আমলকে ‘বিড়ি শিল্পের স্বর্ণযুগ’ মনে করতেন শ্রমিকরা। জিয়াউর রহমান স্পষ্টভাবে বলতেন, “বিড়ি হলো গরিব মানুষের সিগারেট। যারা দিনমজুর বা রিকশাচালক, তাদের বিনোদনের উপায় খুব সীমিত। তাই বিড়ির ওপর ট্যাক্স বাড়িয়ে তাদের ওপর চাপ বাড়ানো যাবে না। সেই সময়ের মতো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমলে আসন্ন বাজেটে বিড়ি শিল্পের উপর শুল্ক বৃদ্ধি না করার দাবি জানিয়েছেন বগুড়া জেলা বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) বেলা ১১টায় বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসের সামনে পাঁচ দফা দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানান তারা।

 

শ্রমিকদের দাবি সমূহ- বিড়ির শুল্ক বৃদ্ধি না করা, বিড়ি শ্রমিকদের কর্ম দিবস বৃদ্ধি করা, নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি করা, বিড়ি ফ্যাক্টরির লাইসেন্স থাকলেই ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করা এবং নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ করা।

 

 

 

মানববন্ধন শেষে বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী কমিশনারের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিড়ি একটি দেশীয় শ্রমনির্ভর শিল্প, যার ওপর নির্ভর করে সারাদেশের প্রায় ১৮ লাখ শ্রমিকের জীবন জীবিকা। তবে নীতিগত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কারণে এ শিল্প সংকটে পড়েছে। প্রকৃত রাজস্ব প্রদানকারী বিড়ি মালিকরা অসংখ্য কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। সুতরাং বিড়ি শিল্প ও শ্রমিকদের কর্মরক্ষার্থে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ি শিল্পের উপর শুল্ক বৃদ্ধি না করার অনুরোধ করছি। একইসাথে বিড়ি শ্রমিকদের কর্মদিবস বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।

 

 

 

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে দেশের তামাক বাজারের ৮০ শতাংশ নিম্নস্তরের সিগারেট দখল করে আছে। এতে বিড়ি শিল্প টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই বিড়ি শিল্প রক্ষায় নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি। নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রিকে শিল্পের জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বৈধ উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ অবস্থায় নকল বিড়ির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এছাড়াও বিড়ি ফ্যাক্টরির লাইসেন্স থাকলেই ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান শ্রমিকরা।

 

 

বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হারিক হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন, লুৎফর রহমান, আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত লাভলু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম ইসলাম, শ্রমিক নেতা সোহেল রানা প্রমূখ।

 

এ সময় শ্রমিকদের হাতে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যেখানে দেশীয় শিল্প রক্ষা, বহুজাতিক কোম্পানির প্রভাব প্রতিহত করা এবং বিড়ি শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

 

 

মারা গেছেন সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

 

 

 

বুধবার (১৩ মে) সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।

 

 

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। কয়েক দিন ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অক্টোবর মাসে তিনি গ্রেপ্তার হন। ২০২৫ সালের আগস্টে অসুস্থ হয়ে পড়লে পিজি হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরবর্তীকালে জামিনে মুক্ত হন। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

 

তিনি দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

 

 

 

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে সাবেদুর রহমান সুমু বাংলানিউজকে বলেন, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাদ আসর মিরসরাই উপজেলার মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম শহরে কোনো জানাজা অনুষ্ঠিত হবে না। ঢাকায় একটি জানাজা হবে, তবে সেটির স্থান ও সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

 

 

 

 

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি মীরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম এস রহমান তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য। মা পাঞ্জেবুনেছা। পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ১৯৬৬ সালে তিনি লাহোর থেকে খনিজ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সাহসিকতার জন্য লাহোরে বাঙালি ছাত্রদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় মোশাররফ ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। সেখানে পড়াশোনাকালে ১৯৬৬ সালে লাহোরে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রদের নিয়ে মোশাররফ হোসেন ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে মীরসরাই আসন থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন চট্টগ্রামের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তিনি গেরিলাযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বপরূপ বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে বাংলাদেশ সরকার ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।

 

 

সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নিলে ভয়াবহ হতে পারে পরিস্থিতি

হাম পরিস্থিতির মাঝেই চোখ রাঙাচ্ছে ডিপথেরিয়া

দেশে হামের ব্যাপক সংক্রমণের মধ্যেই নতুন উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে আরেক প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ ডিপথেরিয়া। প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এ রোগ এখন আবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় শনাক্ত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং শিশুদের কমে যাওয়া রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে পরিস্থিতি বিপজ্জনক দিকে যাচ্ছে।

 

 

 

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সিলেট, হবিগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। রাজধানীর একাধিক হাসপাতালেও এ রোগে আক্রান্তদের অনেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরই মধ্যে এ রোগে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, চলমান হাম পরিস্থিতির মধ্যে ডিপথেরিয়ার বিস্তার শুরু হলে শিশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। তাই সে ধরনের পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সেই লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

সংক্রমণের শুরু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে: ডিপথেরিয়ার বড় প্রাদুর্ভাব প্রথম দেখা যায় ২০১৭ সালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ওই বছরের ৩ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে ১৫ জনের মৃত্যুসহ ৮০৪ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ১০ নভেম্বর, মেদসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) একটি ক্লিনিকে।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, আক্রান্তদের ৭৩ শতাংশের বয়স ছিল ১৫ বছরের নিচে এবং এর ৬০ শতাংশই নারী। মারা যাওয়া ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জনই ছিল শিশু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তখনই সতর্ক করেছিল, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঘনবসতি,অপুষ্টি ও কম টিকা গ্রহণ পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির কথা বলা হয়েছিল।

 

 

সতর্কতার পরও কার্যকর প্রস্তুতি হয়নি: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আগাম সতর্কতা সত্ত্বেও দেশে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।

 

 

 

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সার্ভিল্যান্স তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সিলেট ও হবিগঞ্জে, ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে (আইডিএইচ) এবং ২৫ মার্চ কামরাঙ্গীরচরে ডিপথেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট ও ২৪ সেপ্টেম্বর আইডিএইচে, ২৬ আগস্ট তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে এবং ৮ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী শনাক্ত হয়। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেওয়া রোগীটি কিশোরগঞ্জ থেকে সংক্রমিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালেও ডিপথেরিয়ার রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।

 

 

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি সংক্রমণের নীরব বিস্তারের ইঙ্গিত। সরকার যদি এ সময়ে নীরব থাকে, তাহলে মারাত্মক সংক্রামক এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

 

 

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন বলেন, মূলত রোহিঙ্গা জনবসতিতে প্রথম ডিপথেরিয়া শনাক্ত হয়। পরে দেশের বিভিন্ন জেলায় রোগী পাওয়া গেছে। কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্যও রয়েছে। হাম-পরবর্তী সময়ে শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ডিপথেরিয়া ছড়িয়ে পড়লে দেশে করুণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

 

 

 

তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ডিপথেরিয়া টিকার বুস্টার ডোজ চালু করতে হবে। ৬ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুদের লক্ষ করে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো গেলে দ্রুত ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

 

 

 

কী এই ডিপথেরিয়া: ডিপথেরিয়া বা করিনেব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরিয়া হলো একটি গ্রাম-পজিটিভ, মুগুর-আকৃতির ব্যাকটেরিয়া. যা জীবনঘাতী সংক্রামক রোগ ডিপথেরিয়ার জন্য দায়ী। এটি অত্যন্ত সংক্রামক ও গুরুতর রোগ, যা গলা, নাক ও শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। এটি টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ তৈরির মাধ্যমে গলায় একটি পুরু ধূসর আস্তরণ সৃষ্টি করে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট, গিলতে সমস্যা এবং হার্ট বা স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে। এটি মূলত হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এর সর্বোত্তম প্রতিরোধ ব্যবস্থা হলো টিকাদান। ঐতিহাসিকভাবে ‘শিশুদের শ্বাসরোধকারী দেবদূত’ নামে পরিচিত এ ব্যাকটেরিয়া প্রধানত ঊর্ধ্ব শ্বাসনালিকে সংক্রমিত করে, তবে এটি ত্বকের ক্ষতও (কিউটেনিয়াস ডিপথেরিয়া) সৃষ্টি করতে পারে।

 

 

 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, ডিপথেরিয়ার প্রধান লক্ষণ হলো গলা ব্যথা, জ্বর, ঘাড়ের গ্রন্থি ফুলে যাওয়া এবং গলায় ঘন ধূসর পর্দা বা আস্তরণ পড়া। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা ব্যবহৃত জিনিসপত্র (তোয়ালে, খেলনা) থেকে এবং সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এ জীবাণু ছড়ায়। শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির অধীনে ডিপিটি ও পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা প্রদান এবং হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখার মাধ্যমে এ রোগের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। টিকা না নেওয়া শিশু, জনাকীর্ণ স্থানে বসবাসকারী এবং অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ডিপথেরিয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।

 

 

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ: ডিপথেরিয়া নিয়ন্ত্রণে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, ডিপথেরিয়া অ্যান্টিটক্সিন, অ্যান্টিবায়োটিক এবং জরুরি টিকাদান কর্মসূচির ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি বিশেষভাবে ছোট শিশু, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

 

 

 

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ডিপথেরিয়ার একটি ভয়াবহ সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিপথেরিয়া অ্যান্টিটক্সিন সেরাম এবং বেনজাইল পেনিসিলিনের মতো ওষুধগুলো এখন বিরল। ফলে হাসপাতালে ডিপথেরিয়া রোগী এলে তাদের সুস্থতা দান করা কঠিন হয়ে পড়বে। তা ছাড়া হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের চাপে হামের রোগীদের জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমন সময় ডিপথেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে হামের পর বাংলাদেশ নতুন আরেকটি সংক্রামক সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

 

 

 

যা বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: সামগ্রিক বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ডিপথেরিয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত, করণীয় নিয়ে আমরা ভাবছি।

 

 

 

সুত্র: “দৈনিক কালবেলা”

 

 

 

স্কুলের সেফটি ট্যাংকের দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেফটি ট্যাংকে মরা মুরগি ফেলার ঘটনায় তীব্র দুর্গন্ধে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।
এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে অবস্থিত টয়লেটের সেফটি ট্যাংকের ঢাকনা ভেঙে সেখানে দুর্বৃত্তরা মরা মুরগি ফেলে রাখে। এরপর থেকেই পুরো স্কুলজুড়ে অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেহেলী খাতুন রায়গঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে চলমান পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী নাকে রুমাল চেপে পরীক্ষা দিচ্ছে। তারপরও দুর্গন্ধে মাথা ঘোরা ও বমির মতো সমস্যায় পড়ছে তারা।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, “দরজা-জানালা বন্ধ করেও দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। ক্লাস করতে খুব কষ্ট হচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের আশপাশে অন্তত ৬ থেকে ৭টি মুরগির খামার রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, খামারের কোনো অসাধু ব্যক্তি মৃত মুরগিগুলো সেফটি ট্যাংকে ফেলে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে অভিভাবক আখি খাতুন ও সিদ্দিক প্রামাণিক বলেন, “দুর্গন্ধের কারণে সন্তানরা স্কুলে যেতে চায় না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেহেলী খাতুন বলেন, “থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মরা মুরগির দুর্গন্ধে বিদ্যালয়ে অবস্থান করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান খান বলেন, “প্রশাসন যদি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করার সাহস পাবে না।”
অভিযোগের বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার এসআই শাহীন আলম মুঠোফোনে জানান, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

রায়গঞ্জে মহাসড়কের পাশে অবৈধ পাথর ডিপো, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা বাজার এলাকায় মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ পাথর বাণিজ্যের একাধিক অস্থায়ী ডিপো। ঘুড়কা পাপিয়া হোটেলসংলগ্ন এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে পাথর মজুত ও বিক্রির কার্যক্রম চলায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের জায়গা দখল করে চন্দন সরকার, তরুণ রায়, নিতীশ কুমার সরকার ও আব্দুল লতিফ হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তি এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। উত্তরাঞ্চল থেকে ট্রাকে করে আনা পাথর রাস্তার পাশেই খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। পরে সেখান থেকেই খুচরা ও পাইকারি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটিকুমরুল মহাসড়কের ঘুড়কা পাপিয়া হোটেল এলাকায় রাস্তার ধারে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে পাথরের স্তূপ। কোথাও কোথাও মহাসড়কের একাংশ দখল করে দাঁড়িয়ে আছে পাথরবাহী ট্রাক। এতে সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং বাড়ছে যানজট।
স্থানীয় মিশুকচালক আতিকুল ইসলাম ও লতিফ জানান, মহাসড়কের পাশে ট্রাক দাঁড় করিয়ে পাথর ওঠানামার কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সামান্য অসাবধানতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া ধুলাবালুর কারণে পরিবেশ দূষণও বাড়ছে।
একাধিক পরিবহন চালক অভিযোগ করে বলেন, রাতে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক ও পাথরের স্তূপের কারণে গাড়ি চালাতে চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। অন্ধকারে অনেক সময় সামনে কী রয়েছে তা বোঝা যায় না।
সচেতন মহলের দাবি, অনুমোদন ছাড়াই মহাসড়কের পাশে এভাবে পাথর মজুত ও বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে সংশ্লিষ্টরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।
এ বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে পাথর মজুত ও বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লাপাড়ায় পুকুর খননের সময় উদ্ধার কষ্টিপাথরের প্রাচীন দুর্গা মূর্তি

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় শত বছরের পুরানো একটি পুকুর খননের সময় কষ্টিপাথরের তৈরি একটি দুর্গা মূর্তি উদ্ধার হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে উপজেলার বাঙালা ইউনিয়নের চেংটিয়া বড় আইন্দা পুকুরে খননকাজ চলাকালে শ্রমিকরা মূর্তিটি দেখতে পেয়ে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে শত শত মানুষের ভিড় জমে।
পুকুরের মালিক রুহুল আমীন জানান, প্রায় ১৬ বিঘা আয়তনের এই প্রাচীন পুকুর থেকে এর আগেও কষ্টিপাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হয়েছিল। এবার একই পুকুর থেকে দুর্গা মূর্তি পাওয়া গেল।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, শত বছরের পুরানো পুকুরে কষ্টিপাথরের একটি দুর্গা মূর্তি পাওয়া গেছে। মূর্তিটির ওজন আনুমানিক ৪০ কেজি হতে পারে। বিষয়টি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মূর্তিটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঈদ উপলক্ষে ২৩ মে’র ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু আজ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বুধবার (১৩ মে) থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। অবৈধ টিকিট বিক্রি রোধে শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।

 

 

 

বুধবার (১৩) সকাল ৮টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। আর দুপুর ২টায় পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে।

 

 

 

রেলওয়ে জানিয়েছে, যাত্রীরা শুধু বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন ওয়েবসাইট এবং ‘রেল সেবা’ অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

 

ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের নেওয়া কর্মপরিকল্পনা থেকে জানা গেছে, ঈদের আগে পাঁচ দিনের ট্রেনের আসনের টিকিট বিশেষ ব্যবস্থায় অগ্রিম বিক্রি করা হবে। আন্তঃনগর ট্রেনের ২৪ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৪ মে, ২৫ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৫ মে, ২৬ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৬ মে এবং ২৭ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৭ মে।

 

রেলওয়ের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, একজন যাত্রী ঈদ অগ্রিম যাত্রার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ একবার টিকিট কিনতে পারবেন এবং প্রতি ক্ষেত্রে সর্বাধিক চারটি টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। ঈদ অগ্রিম যাত্রার টিকিট রিফান্ড করা যাবে না।

 

 

যাত্রীদের অনুরোধে যাত্রার দিন মোট আসনের (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে।

 

 

 

এদিকে, ঈদের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২৮, ২৯ ও ৩০ মে তারিখের টিকিট বিক্রি করা হবে।

 

 

 

সাদিক কায়েমের বিয়ের দাওয়াত পেলেন স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। এসময় তিনি স্পিকারকে তার বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে সাদিক কায়েমের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

 

ওই পোস্টে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।

এসময় তিনি স্পিকারকে তার বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন। স্পিকার জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য শুভকামনা ও দোয়া জানিয়েছেন। পাশাপাশি ডাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। আগামীর বাংলাদেশের রোল মডেলে উন্নীত হোক ডাকসু এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

 

 

 

সোনাইমুড়ীতে ইয়াবাসহ তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি আটক

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ এক তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) নোয়াখালী জেলা কার্যালয়।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সোনাইমুড়ী থানাধীন জয়াগ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের যোগিখিল পাড়া উলুপাড়ায় আব্দুর রহমান ঠিকাদার বাড়ি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে যোগিখিল পাড়ার বাসিন্দা ছালে আহম্মেদ প্রকাশ খোকন (৪২)-এর নিজ বসতঘরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫২ পিস মিথাইল অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির ১ হাজার ৭০০ টাকা নগদ অর্থ এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি সিমযুক্ত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

আটক ছালে আহম্মেদ প্রকাশ খোকন উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের যোগিখিল পাড়া এলাকার মৃত আজিজুল হকের ছেলে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ জানান, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

হাম আক্রান্ত শিশুদের কাতরতার মাঝে হাসপাতালের নিচে নার্সদের নাচ

আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নার্সদের নাচ-গান ও আনন্দ-উল্লাস ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলাকালে উচ্চ শব্দে ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে নাচানাচি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীর স্বজন ও সচেতন নাগরিকরা।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষে হাসপাতালের নার্সরা একটি শোভাযাত্রা বের করেন। শোভাযাত্রার আগে হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে ব্যান্ড পার্টির বাদ্যযন্ত্রের তালে ধামাইল গানের সঙ্গে নাচতে দেখা যায় নার্সদের। এ সময় হাসপাতালের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠিক ওই সময় হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত প্রায় ৮৫ জন শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। শিশুদের কান্না ও যন্ত্রণার মধ্যেই নিচতলায় উচ্চ শব্দে গান-বাজনা চলতে থাকে। পরে নার্সদের নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে সেবার মান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। এক অভিভাবক বলেন, আমার সন্তান হামে আক্রান্ত হয়ে ছটফট করছে। হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না, সব বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। ইনজেকশন দেওয়ার জন্য ডাকলে নার্সরা রোগীর কাছে না এসে উল্টো রোগীকে তাদের কাছে নিয়ে যেতে বলেন।

সুনামগঞ্জ ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপের সদস্য শবনমদোজা জ্যোতি বলেন, নার্স দিবস পালন করার অধিকার তাদের আছে। তবে হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় উচ্চ শব্দে ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে নাচানাচি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে রোগীদের চিকিৎসা ও বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটে।

সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাঈদ বলেন, সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আজকের এই আয়োজন জবাবদিহিতার অভাবেরই একটি উদাহরণ। হাসপাতালের ভেতরে এমন আনন্দ-উল্লাস মানবিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

 

 

 

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, নার্স দিবসে আনন্দ উপভোগ করা দোষের কিছু নয়। তবে সময়, পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে এসব আয়োজন করা উচিত ছিল।

 

 

নিজস্ব সম্পদ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন নেই: জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রী

নিজস্ব সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি পরিদর্শন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই মন্তব্য করেন।

 

 

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এটি জনগণের সরকার। তাই দেশের জনগণের যে সম্পদ রয়েছে, সেই সম্পদ জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। দেশে নিজস্ব সম্পদ থাকা সত্ত্বেও কেন আমরা বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করবো?’

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার’ দেশীয় সম্পদকে অবহেলা করে বিদেশি জ্বালানি আমদানিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। এতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এবং মধ্যপাড়া পাথরখনি জনকল্যাণে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘নিজেদের সম্পদ থাকতে বিদেশি সম্পদ আমদানি নয়।’

 

বর্তমান সরকার দেশীয় জ্বালানি সম্পদ আহরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও সম্মতি নিয়ে সরকার কাজ করছে।

 

 

 

এর আগে মন্ত্রী বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মধ্যপাড়া পাথরখনির কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক সভা করেন।

 

 

সভায় উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এবং এ জেড এম রেজওয়ানুল হক।

 

 

সভা শেষে মন্ত্রী বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মধ্যপাড়া পাথরখনি ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

 

 

আক্কেলপুরে ফসলি মাঠ থেকে হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় ফসলি মাঠ থেকে হাত-পা বাঁধা ও মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের নওজর গ্রামের নিশ্চিন্তা মাঠ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে মাঠের ভেতরে মাটিচাপা অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে খবর দেওয়া হলে আক্কেলপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের পরনে লুঙ্গি এবং নীল ও ঘিয়া রঙের গেঞ্জি ছিল। তার হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, ২ থেকে ৩ দিন আগে তাকে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে গুম করার চেষ্টা করা হয়েছে। নিহতের বয়স আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর।

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, “মাঠের মধ্যে মরদেহ পাওয়ার খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। লোকটিকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।”

তিলকপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সেলিম রেজা বাদশা জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। তবে এখন পর্যন্ত নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীন রেজা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

রাজশাহীকে সবুজ ও আধুনিক নগরী গড়তে কাজ চলছে: রাসিক প্রশাসক রিটন

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন বলেছেন, নগরবাসীর আশা-আকাঙ্খা বাস্তবায়নে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবেন। সকলের সহযোগিতায় রাজশাহীকে আরও সবুজ, সুন্দর, স্বাস্থ্যকর ও শান্তির নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে নগর ভবনের সরিৎ দত্তগুপ্ত সভাকক্ষে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ নগরীর উন্নয়ন, নাগরিক সেবা, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এসময় রাসিক প্রশাসক বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান আমাকে নগরবাসীর সেবার সুযোগ দিয়েছেন। নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নগরীর গাছের পরিচর্যা ও নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে তিন লক্ষাধিক বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নগরবাসীর মাঝে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
রাসিক প্রশাসক আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম, মশক নিধনে ফগার স্প্রে, সড়কের খানাখন্দ মেরামত ও নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উন্নয়ন স্কিম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
হাম-রুবেলা প্রতিরোধ কার্যক্রম নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। বলেন, “সিটি কর্পোরেশনগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম আমরা জনসচেতনতামূলক লিফলেট তৈরি করে বাড়ি বাড়ি বিতরণ করেছি। হাম-রুবেলা টিকাদানে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে।”
সভায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামসুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু কাউসার মাখনসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালাইয়ে ইনডোর স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন জেলা প্রশাসক

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে আধুনিক ইনডোর স্টেডিয়াম। আজ মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে উপজেলা চত্বরে এই স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজের ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জনাব মোঃ মাসুদ রানা প্রধান।

 

​ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনায় জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, “স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনকে চাঙ্গা করতে এবং যুবসমাজকে মাঠমুখী করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই ইনডোর স্টেডিয়ামটি কালাইয়ের খেলোয়াড়দের জন্য একটি আধুনিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।” তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছতার সাথে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

 

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হান এবং কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা।

 

​অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার শ্রী তন্ময় কুন্ডুসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। জয়পুরহাট জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে ও বাস্তবায়নে এই প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।