সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

৭১৭টি সরকারি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ বিজয়ের

থালাপতি বিজয়। ছবি : সংগৃহীত

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজ্যের ৭১৭ সরকারি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন জোসেফ বিজয়।

 

 

 

মঙ্গলবার দেওয়া এক সরকারি আদেশে ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি থাকা এসব দোকান দুই সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া বা বন্ধ করতে বলা হয়েছে।

 

 

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, মন্দির, মসজিদ, গির্জা, স্কুল, কলেজ ও বাসস্ট্যান্ডের ৫০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং করপোরেশন (তাসম্যাক) পরিচালিত মদের দোকানগুলো এ সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছে।

তামিলনাড়ু সরকারের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে বর্তমানে মোট ৪ হাজার ৭৬৫ সরকারি মদের দোকান রয়েছে। বন্ধের তালিকায় থাকা ৭১৭ দোকানের মধ্যে ২৭৬ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে, ১৮৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে এবং ২৫৫ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত।

দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিজয়ের এ সিদ্ধান্তকে সামাজিক সংস্কার ও জনস্বার্থে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে তার সরকার।

তবে তাসম্যাক রাজ্যের অন্যতম বড় রাজস্ব আয়ের উৎস হওয়ায় এই সিদ্ধান্তে সরকারের আয় কতটা প্রভাবিত হবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

 

 

৫১ বছর বয়সী অভিনেতা-রাজনীতিক জোসেফ বিজয় রোববার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তার দল টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পর কংগ্রেস, বাম দল, ভিসিকে ও মুসলিম লিগের সমর্থনে রাজ্যে প্রথমবারের মতো জোট সরকার গঠন হয়েছে।

 

 

 

বর্তমানে বিধানসভায় বিজয়ের দলের ১০৭ আসন রয়েছে। শরিকদের ১৩ বিধায়কের সমর্থন নিয়ে তিনি শিগগিরই আস্থা ভোটের মুখোমুখি হবেন।

 

 

 

মদের দোকান বন্ধের পাশাপাশি নতুন সরকার আরও কয়েকটি জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, নারী নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বাহিনী গঠন এবং প্রতিটি জেলায় মাদকবিরোধী ইউনিট স্থাপন।

 

 

ভাতিজার পরিকল্পনায় চাচির লোনের ৬ লাখ টাকা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২

এনজিও সংস্থা থেকে লোন নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সেলিনা বেগম নামের এক নারীর হাত থেকে টাকাসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েছে ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনায় ভাতিজাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) বিকেলে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মথুরানগর গ্রামের দত্তনগর-জলিলপুর সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

 

জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের একটি ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করে ভাতিজা লিটনের মোটরসাইকেলে বাড়ি (পান্তা পাড়া) ফিরছিলেন সেলিনা বেগম। বিকেলে মহেশপুরের মথুরানগর গ্রামের দত্তনগর-জলিলপুর সড়কে পৌঁছলে দুই ছিনতাইকারী মোটরসাইকেলে এসে তার হাত থেকে টাকাসহ ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে মহেশপুর থানার পুলিশ ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার ও টাকা উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। পুলিশ ঘটনাস্থলের আশেপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একটি ইয়ামাহা ফেজার মোটরসাইকেল শনাক্ত করে। ওই মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে জলিলপুর গ্রামের আয়ুব হোসেনের ছেলে আমিনুর রহমান খানকে (২৪) হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে এবং ছিনতাইকৃত টাকা তার বাড়িতে আছে বলে পুলিশকে জানায়। সে আরও জানায়, সেলিনা বেগমের সঙ্গে থাকা তার ভাতিজা লিটনই এই ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকরী। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার পূর্বে আমিনুর ও শাওন মোটরসাইকেল নিয়ে লিটন ও তার ফুফুকে অনুসরণ করতে থাকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছলে লিটন তার মোটরসাইকেলের গতি কমিয়ে দিলে আমিনুরের মোটরসাইকেলের পিছনে বসে থাকা শাওন সেলিনা বেগমের হাত থেকে টাকার ব্যাগটি টান দিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

 

মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, সোমবার রাত ৮টার দিকে পুলিশ আসামি আমিনুরকে নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে তার দেখানো মতে ছিনতাইয়ের ৬ লাখ টাকা উদ্ধার করে। এরপর আসামি লিটন ও বরকতকে পৃথক স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনার আরেক আসামি মহেশপুরের কাজীপাড়া গ্রামের আইনাল বদ্দির ছেলে শাওন বদ্দি (২৩) এখনো পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

ইউক্রেনের হামলায় আবারও বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

 

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে ড্রোন হামলায় মো. আ. রহিম (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পুটিজানা নামাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। নিহত রহিম স্থানীয় আজিজুল হকের ছেলে।

 

 

 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার সন্ধানে গত বছরের অক্টোবর মাসে রাশিয়ায় যান রহিম। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, তিনি সেখানে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। পরে জানতে পারেন, চলতি বছরের ৭ এপ্রিল তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। বিষয়টি তিনি পরিবারের কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন বলেও দাবি স্বজনদের।

 

 

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২ মে রুশ সীমান্তবর্তী এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় রহিম নিহত হন। ওই হামলায় আরও দুই বাংলাদেশি ও এক নাইজেরীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত চারজন।

নিহতের মৃত্যুর বিষয়টি পরিবার নিশ্চিত হয় গত সোমবার (১২ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে। রহিমের বন্ধু লিমন দত্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের এই দুঃসংবাদ জানান। লিমন নিজেও একই ক্যাম্পে রুশ সেনা সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে একটি পা হারিয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

নিহতের বাবা আজিজুল হক ছেলের মৃত্যুতে শোকাহত কণ্ঠে বলেন, ‘রহিম যে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে, তা আমাদের জানায়নি। জানলে আমি কখনোই তাকে সেখানে যেতে দিতাম না। এখন শুনছি ড্রোন হামলায় সব শেষ হয়ে গেছে। আমার ছেলেকে আর ফিরে পাব না।’

 

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, রহিম শান্ত স্বভাবের ও পরিশ্রমী যুবক ছিলেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু যুদ্ধের ভয়াবহতায় তার জীবনাবসান হওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুটিজানা ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম হিরা বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। আমি নিহতের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতার সুযোগ থাকলে আমরা তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।’

 

 

 

এদিকে বিদেশের মাটিতে যুদ্ধের ঘটনায় একের পর এক বাংলাদেশি নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়া তরুণদের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

 

 

 

এর আগে, গত ১৭ এপ্রিল ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান মৌলভীবাজারের মুহিবুর রহমান নামের অন্য এক যুবক।

 

 

আজ পর্দা উঠছে কান উৎসবের, স্বর্ণ পামের লড়াইয়ে স্বাধীন চলচ্চিত্র

 

যুদ্ধ, শোক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে নির্মিত হরেক রকম গল্প কান চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণ পাম জয়ের লক্ষ্যে দৌড় শুরু করছে।

 

 

 

হলিউডের হেভিওয়েট স্টুডিয়োগুলোর অনুপস্থিতিতে মূল প্রতিযোগিতায় স্বাধীন চলচ্চিত্রের প্রাধান্য চোখে পড়ার মতো। এবার এমন কোনো ছবি নেই, যেগুলোর জন্য সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। আগেভাগে জয়ী বলা দেওয়া যাবে এমন নিরঙ্কুশ কোনো ফেভারিটও নেই। বোদ্ধাদের মতে, স্বর্ণ পাম জিততে পারেন যে কেউ। ফলে জমজমাট লড়াই দেখার অপেক্ষায় চলচ্চিত্রপ্রেমীরা।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়) পর্দা উঠবে ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের। হলিউডের ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স’ ও ‘টপ গান’-এর মতো ফ্র্যাঞ্চাইজির জমকালো উদ্বোধনের জন্য পরিচিত এই মনোমুগ্ধকর উৎসবে এবার নেই বড় বাজেটের কোনো ব্লকবাস্টার। সমালোচনার ভারে বক্স অফিসে লোকসানের ঝুঁকি এড়াতে নামজাদা স্টুডিয়োগুলো উৎসবে ছবি পাঠানোর ব্যাপারে সতর্ক বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও তারকা উপস্থিতির ঘাটতি থাকছে না। আজীবন সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন আমেরিকান অভিনেত্রী-গায়িকা বারব্রা স্ট্রাইস্যান্ড। আর পরিচালনায় অভিষেক ঘটছে হলিউড তারকা জন ট্রাভোল্টার।

 

 

আগামী ২৩ মে সমাপনী আয়োজনে ঘোষণা করা হবে স্বর্ণ পাম জয়ী ছবির নাম। এজন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ২২টি চলচ্চিত্র। মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে এগুলো। এরমধ্যে রয়েছে স্বাধীন ধারার খ্যাতিমান স্প্যানিশ নির্মাতা পেদ্রো আলমোদোভার ও হাঙ্গেরির লাসলো নেমেশ পরিচালিত পৃথক দুটি ছবি। পেদ্রো বানিয়েছেন স্প্যানিশ ভাষার ছবি ‘বিটার ক্রিসমাস’। আর লাসলোর নতুন চলচ্চিত্রের নাম ‘মুলাঁ’।

 

ইরানের আসগর ফারহাদি ও জাপানের ‘ড্রাইভ মাই কার’ খ্যাত রিয়ুসুকে হামাগুচি ফরাসি ভাষার পৃথক ছবি নিয়ে হাজির হয়েছেন কানসৈকতে। ফারহাদির ‘প্যারালাল টেলস’-এ অন্যের বিষয়ে নাক গলানো প্রতিবেশীর ভূমিকায় আছেন ফরাসি অভিনেত্রী ইজাবেল উপের। অন্যদিকে হামাগুচির ‘অল অব অ্যা সাডেন’ নির্মিত হয়েছে বার্ধক্যে বয়স্কদের যত্নকে কেন্দ্র করে।

 

 

যুক্তরাষ্ট্র থেকে মূল প্রতিযোগিতায় রয়েছে জেমস গ্রে পরিচালিত ‘পেপার টাইগার’। এতে আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে হলিউড তারকা স্কারলেট জোহানসন ও অ্যাডাম ড্রাইভারকে। তারা এর আগে ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ম্যারেজ স্টোরি’ ছবিতে জুটি বেঁধেছিলেন।

 

 

 

অস্কারজয়ী রামি মালেক অভিনয় করেছেন আইরা স্যাক্স পরিচালিত ‘দ্য ম্যান আই লাভ’-এ। এতে আশির দশকের নিউইয়র্কে এইচআইভি/এইডস সংকটের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

 

 

 

দুই সাবেক স্বর্ণ পাম জয়ী ফিরেছেন এবারের আসরে। জাপানের হিরোকাজু কোরে-এদা ২০১৮ সালে ‘শপলিফটার্স’-এর জন্য স্বর্ণ পাম জিতেছেন। এবার ‘শিপ ইন দ্য বক্স’ ছবির বিষয়বস্তুতে শোক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে রোমানিয়ার ক্রিস্টিয়ান মুনজিউ পরিচালিত পারিবারিক ড্রামা ‘ফিয়র্ড’-এর পটভূমি নরওয়ের প্রত্যন্ত একটি গ্রাম। এতে অভিনয় করেছেন সেবাস্তিয়ান স্তান ও রেনাটে রাইন্সভে।

 

 

 

এবারের আসরের চলচ্চিত্রগুলোতে রাজনৈতিক আবহ রয়েছে, তবে সেসব মূলত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখা যাবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মূল প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত বেলজিয়ামের লুকাস ডন্ট পরিচালিত ‘কাওয়ার্ড’-এর কথা। এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেয়া সৈনিকদের নিয়ে নির্মিত। এছাড়া লাসলো নেমেশের ‘মুলাঁ’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি অধিকৃত ফ্রান্সের প্রতিরোধ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নির্মিত। মূল প্রতিযোগিতার আরেক ছবি ফরাসি নির্মাতা এমানুয়েল মার পরিচালিত ‘অ্যা ম্যান অব হিজ টাইম’-এর পটভূমি ভিশি ফ্রান্স।

 

 

 

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অবস্থা টালমাটাল হলেও আয়োজকেরা চলচ্চিত্রকেই কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। তাদের এই মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যাবে আসরের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র ‘দ্য ইলেকট্রিক কিস’-এ।

 

 

 

আন্তঃযুদ্ধকালীন প্যারিসে নির্মিত এই রোমান্টিক কমেডিকে বর্ণনা করা যায়, একটি কল্পকাহিনি এবং চলচ্চিত্রের প্রতি এক স্তুতি গান। ফ্রান্সের পিয়ের সালভাদোরি পরিচালিত ছবিটি দেখানো হবে উৎসব উদ্বোধন ঘোষণার পরপরই।

 

 

বেকারত্ব কমাতে শিক্ষায় নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

 

একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বেকারত্ব নিরসন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রাথমিক থেকে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

 

 

‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন খুব সম্ভবত সম্ভব হবে না। 

 

 

 

সময়োপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাও সম্ভব নয়। এ কারণেই বর্তমান সরকার একাডেমিক সিলেবাসকে সময়োপযোগী করার কাজ হাতে নিয়েছে।
 

উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সেতুবন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে।

 

 

 

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী আইডিয়া বাস্তবায়নে সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে তারা ক্যাম্পাস থেকেই উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।

 

 

 

শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। 

 

 

 

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও প্রযুক্তির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বা বিগ ডাটার মতো প্রযুক্তি একদিকে প্রথাগত চাকরির বাজার সংকুচিত করছে, অন্যদিকে নিত্যনতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে। 

 

 

 

এ সময় তিনি উবার, ফেসবুক, আলিবাবা ও এয়ারবিএনবির মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ টেনে বলেন, এদের নিজস্ব কোনো ট্যাক্সি, কন্টেন্ট, পণ্য বা রিয়েল এস্টেট নেই। শুধুমাত্র একটি স্মার্ট ইন্টারফেস ও উদ্ভাবনী আইডিয়া দিয়ে তারা বিশ্ব শাসন করছে। আমাদের প্রচুর মেধাবী মানুষ রয়েছেন, সুযোগ পেলে তাদের পক্ষেও বিশ্বমানের কিছু করা অসম্ভব নয়। 

 

 

 

ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ শুরু করতে চায়। যেখানে মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। 

 

 

 

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতাকে আলিঙ্গন করার পাশাপাশি দেশজ মূল্যবোধ রক্ষার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমরা সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে হাঁটব, তবে আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের আবহমান কালের ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ যেন হারিয়ে না ফেলি সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। 

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসির কর্মশালা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

 

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কর্মশালা উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা রূপান্তর : টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শিরোনামে এ কর্মশালা শুরু হয়।

 

 

 

এদিন সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি হিসাবে তারেক রহমান কর্মশালাটির উদ্বোধন করেন।

 

 

 

অধ্যাপক মামুনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনও উপস্থিত আছেন।

তারেক রহমান এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যান গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর; যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার দুই দিন পর। সেদিন তিনি ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। কর্মশালায় পাঁচটি টেকনিক্যাল অধিবেশন থাকছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।

এছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম বদরুজ্জামান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন খান সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন।

 

 

অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে কর আরোপের পরিকল্পনা সরকারের

 

দেশে প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব রাখা হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে।

 

 

 

সোমবার (১২ মে) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বাজেট-সংশ্লিষ্ট বৈঠকে এ প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

 

 

 

বর্তমানে দেশে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, জিপ, বাস, ট্রাক ও পিকআপের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর আদায় করা হলেও মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এতদিন এই ব্যবস্থার বাইরে ছিল। তবে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে এবার নতুন এই দুই খাতকে করজালের আওতায় আনতে চায় সরকার।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল করমুক্ত রাখা হতে পারে। তবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বছরে ২ হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতার বাইকের জন্য বছরে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণের চিন্তা করছে এনবিআর।

 

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৯ লাখ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই ১১০ সিসির বেশি হওয়ায় নতুন কর কার্যকর হলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা দেখছে সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, গড়ে প্রতিটি মোটরসাইকেল থেকে ৪ হাজার টাকা কর আদায় করা গেলে বছরে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পাওয়া সম্ভব।

 

 

এদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও প্রথমবারের মতো করের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী অটোরিকশার জন্য বছরে ৫ হাজার টাকা, পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণ করা হতে পারে।

 

 

 

সরকার ইতোমধ্যে ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া তৈরি করেছে। সেখানে নিবন্ধন সনদ, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ট্যাক্স টোকেন বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব যানবাহনের ওপর এনবিআর নির্ধারিত শুল্ক ও কর আরোপের বিধানও রাখা হয়েছে।

 

 

 

মোটরসাইকেল খাতসংশ্লিষ্টরা অবশ্য নতুন কর আরোপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দেশে গত এক দশকে মোটরসাইকেল শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ হয়েছে এবং এই খাত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। নতুন কর আরোপ করা হলে সাধারণ ব্যবহারকারী, রাইড শেয়ারিং কর্মী ও ডেলিভারি সেবার সঙ্গে জড়িতদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

 

 

 

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করলেও যানবাহনের মালিকরা পরে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় সেই কর সমন্বয়ের সুযোগ পাবেন। আগামী বাজেট ঘোষণার সময় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে।

 

 

আলোচনায় কোরবানির পশু ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

 

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাট ও খামারগুলোতে এবারও দেখা মিলছে ব্যতিক্রমী নামের গরু-মহিষ। সেই তালিকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে নারায়ণগঞ্জের একটি খামারের একটি বিশাল আকৃতির মহিষ, যার নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।

 

 

 

নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় অবস্থিত রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে থাকা এই মহিষটির ওজন ৭০০ কেজিরও বেশি। খামারের স্বত্বাধিকারী জিয়াউদ্দিন মৃধা জানান, এটি এলভিনো জাতের মহিষ। এর গায়ের গোলাপি আভাযুক্ত সাদা রং এবং সামনের দিকের চুলের বিশেষ আকৃতির কারণে মজার ছলে এই নামটি রাখা হয়েছে।

 

 

 

খামার কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নামটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মহিষটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। অনেক ক্রেতা এটি কেনার আগ্রহ দেখালেও ইতোমধ্যে একজন ক্রেতা মহিষটি বুকিং দিয়ে রেখেছেন।

খামারের কর্মচারীরা জানান, মহিষটি সাধারণ খাবার হিসেবে ঘাস, ভুট্টা ও ভুসি খায়। বিশেষ যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে এটিকে।

 

স্থানীয়দের মতে, ঈদুল আজহায় বড় ও আকর্ষণীয় পশুর পাশাপাশি ব্যতিক্রমী নামের কারণে এসব পশু নিয়ে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়। প্রতিবছরই বিভিন্ন খামারে ‘রাজা’, ‘সুলতান’, ‘বাহুবলী’ কিংবা আলোচিত ব্যক্তিত্বদের নামে পশুর নাম রাখার প্রবণতা দেখা যায়, যা ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করে।

 

 

ডিজিটাল ভূমিসেবায় স্বস্তি, কমছে ভোগান্তি ও দুর্নীতি

 

জমির খতিয়ান তোলা, নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন করা কিংবা ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করা সাধারণ মানুষের জন্য একসময় সময়সাপেক্ষ, জটিল ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া ছিল।

 

 

 

কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে ইউনিয়ন ভূমি অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দিনের পর দিন ঘুরতে হতো। দীর্ঘসূত্রতা, তথ্যের অস্বচ্ছতা এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য মানুষের ভোগান্তিকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিত। তবে ডিজিটাল প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে সে চিত্র বদলে যাচ্ছে।

 

 

 

বর্তমানে মুঠোফোনে পাওয়া যাচ্ছে অধিকাংশ ভূমিসেবা। ফলে দুর্নীতি কমছে, বাড়ছে স্বচ্ছতা; নাগরিক জীবনে ফিরে এসেছে স্বস্তি।

 

এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, অটোমেশনের ফলে জনগণকে ভূমিসেবা পেতে এখন আর সরাসরি ভূমি অফিসে যেতে হয় না। ঘরে বসে বা অনলাইনে এ সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এতে দুর্নীতি যেমন কমেছে, সেবা প্রাপ্তিও সহজতর হচ্ছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, তবে এক্ষেত্রে মানুষজনকেও আরও সচেতন হতে হবে। নয়তো মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমানো কঠিন হবে।

 

 

সরকারের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয় এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর (ডিএলআরএস) কয়েক বছরে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় নিয়ে এসেছে।

 

 

 

ফলে অনলাইনে নামজারি আবেদন, ই-নামজারি নিষ্পত্তি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ, অভিযোগ দাখিল এবং ভূমি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই, সবকিছুই এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে করা যাচ্ছে।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ডিজিটাল ভূমি সেবা চালুর ফলে শুধু সময় ও খরচই কমেনি, বরং সেবার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে। ফলে দুর্নীতির সুযোগ কমেছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

 

 

 

আগে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে সরাসরি ভূমি অফিসে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। অনেক ক্ষেত্রে একাধিকবার যাতায়াত করতে হতো।

 

 

 

এতে সময় ও অর্থ, উভয়ের অপচয় হতো। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং এবং অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে।

 

 

 

ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ই-পর্চা ও ই-খাজনা কার্যক্রম চালুর পর প্রতি বছর অনলাইনে কর পরিশোধকারীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ নাগরিক অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করছেন।

 

 

 

এসব করদাতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিও রয়েছেন। তারা বিদেশে বসে নিজেদের জমির খাজনা পরিশোধ করছেন। ফলে ভূমি অফিসে সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে গেছে।

 

 

 

জমি কেনাবেচার পর মালিকানার প্রমাণপত্র পুনর্নির্ধারণ করতে যেতে হয় নামজারি বা মিউটেশন প্রক্রিয়ায়। এটি আগে ছিল সবচেয়ে জটিল ধাপগুলোর একটি। আবেদন করতে গিয়ে অনেকে দালালের শরণাপন্ন হতেন এবং বাধ্য হয়ে সরকারি ফির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ করতেন।

 

 

 

বর্তমানে অনলাইনে নামজারি আবেদন চালুর ফলে সে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আবেদনকারী নিজেই অনলাইনে আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড এবং আবেদনের অগ্রগতি মোবাইল ফোনে পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন। প্রতিটি ধাপে এসএমএস নোটিফিকেশন চালু থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

 

 

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটিরও বেশি ই-নামজারি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫ লাখের বেশি আবেদন বিভিন্ন পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন।

 

 

 

এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ) নাসরিন জাহান বলেন, অনলাইনে নামজারির আবেদন ভূমি সেবাগ্রহীতাদের সমস্যা অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি এসব আবেদন যেন দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তি করা হয়, সে বিষয়ে প্রতিটি উপজেলার ভূমি সহকারী কমিশনারদের পর্যাপ্ত নির্দেশনা দেওয়া আছে।

 

 

 

একসময় ভূমি অফিসকেন্দ্রিক দালালচক্র সাধারণ মানুষের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করত। তথ্যের অভাব ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে তাদের সহায়তা নিতেন।

 

 

 

বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক সেবা চালুর ফলে সেই নির্ভরতা অনেকটাই কমেছে। নির্ধারিত ফি ও সময়সীমা অনলাইনে উন্মুক্ত থাকায় অতিরিক্ত অর্থ দাবি বা অযৌক্তিক বিলম্বের সুযোগ কমে গেছে। পাশাপাশি ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থার কারণে কোন কর্মকর্তা কতদিন ধরে একটি আবেদন আটকে রেখেছেন, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে জবাবদিহিতা বেড়েছে।

 

 

 

ভূমি মন্ত্রণালয় দেশের সব ভূমি রেকর্ড, খতিয়ান এবং মৌজা ম্যাপ একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ করছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলার পুরোনো রেকর্ড স্ক্যান করে ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে জিআইএস (জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম) প্রযুক্তির মাধ্যমে মানচিত্রভিত্তিক জমির তথ্য দেখার সুবিধা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ কমবে এবং মামলা-মোকদ্দমাও হ্রাস পাবে।

 

 

 

এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অটোমেশনের ফলে মানুষজন ভূমির যে সেবা পাচ্ছে, তার ডাটাবেজ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে মানচিত্রভিত্তিক জমির তথ্য দেখার সুবিধা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ কমে আসবে, পাশাপাশি জমি নিয়ে মামলাও কম হবে।

সূত্র: বাসস

 

 

ঢাবিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি

 

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও টেকসই রূপান্তর নিয়ে আয়োজিত ইউজিসির জাতীয় কর্মশালায় যোগ দিতে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মশালার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

ইউজিসির জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ।

এদিকে, শপথগ্রহণের ৮৫তম দিনে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আগমনকে স্বাগত জানিয়ে তার যাত্রাপথের বাংলামোটর থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত ৮৫টি ঔষধি বৃক্ষরোপণ করেছেন ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

 

এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি তৌহিদুর রহমান আউয়াল।

 

 

মনোরম আয়োজনে আত্মপ্রকাশ ঘটল “ওঙ্কার আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের”

“কবিতা জাগাবে বোধ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে মনোরম আয়োজনের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ ঘটলো সাহিত্য সংগঠন ওঙ্কার আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের।

 

 

 

সোমবার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে।

 

 

 

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানটির শুভ উদ্বোধন করেন জেলা কালচারাল অফিসার মাহমুদুল হাসান লালন।

 

 

 

সুস্থ্য বিনোদন ও নির্মল আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াসে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

 

 

 

সংগঠনের সভাপতি সুলতানা রাজিয়া মিলনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শামীমা জেসমিন তিথির সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এস এম মনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ নাট্য ফেডারেশনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মমিন বাবু, অরুণিমা সঙ্গীতালয়ের পরিচালক সূর্য বারী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম, রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম হীরা এবং ফরিদুল ইসলাম সোহাগ প্রমূখ।

 

 

 

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভার ফাঁকে ফাঁকে কবিতা আবৃত্তি করেন শিল্পীবৃন্দ।

 

 

সরকার দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে : সেতুমন্ত্রী

 

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সরকার দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনটি প্রস্তাবনার মধ্যে প্রথম প্রস্তাবনায় রয়েছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে আয়োজিত প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

 

 

 

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নিয়ে তিনটি প্রস্তাবনা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর মধ্যে এক নম্বর প্রস্তাবনাটি হলো আপনার উল্লেখ করা ওই রুটে সেতু নির্মাণ। আমরা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে চলেছি—এ কথা এই মুহূর্তে বলতে পারি। ফিজিবিলিটি স্টাডি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন অর্থায়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।’

মন্ত্রী জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অন্যান্য প্রাক-প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

 

 

মসজিদে টিকটক ভিডিও, বিদ্যালয় থেকে ছাত্রী বহিষ্কার

 

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে স্কুলড্রেস পরে মসজিদে টিকটক ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) দেওয়ানগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ভোকেশনাল (জেনারেল ইলেকট্রনিক্স) বিভাগের ওই ছাত্রীকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মশিহুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

 

 

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন, শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে লিপ্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে এবং বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে।’

 

জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থী সম্প্রতি উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নেচে-গেয়ে টিকটক ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে ঘটনাটি।

 

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মশিহুর রহমান বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে যাতে কেউ যুক্ত না হয় সেজন্য ওই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

 

জানতে চাইলে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হক কালবেলাকে বলেন, আমি বিদ্যালয়ের সভাপতি। আমাকে না জানিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুনেছি ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক অফিসে আসবে, তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারপর দেখব কী করা যায়।

 

 

রায়গঞ্জে টোকাই সেজে চুরি ও মাদক কারবার, আটক যুবক থানায় সোপর্দ

 

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা-এর চান্দাইকোনা বুড়াকালীবাড়ী এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার সময় আশরাফুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার (১১ মে) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
আটক আশরাফুল ইসলাম বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর থানা এলাকার মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়দের দাবি, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনটি সিসি ক্যামেরা, এক পিস ইয়াবা এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চান্দাইকোনা ও আশপাশের এলাকায় টোকাই সেজে ঘোরাফেরা করতেন এবং চুরি ও মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
পরে চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসেমসহ স্থানীয় লোকজন তাকে রায়গঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, “আটক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গজারিয়ায় ভূমিদস্যুদের রুখে দেওয়ার ঘোষণা এমপি কামরুজ্জামান রতনের

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় চর বাউশিয়া বড়কান্দিতে শিল্পকারখানা স্থাপনের নামে সাধারণ কৃষকদের তিন ফসলি জমি ও সরকারি খাল জোরপূর্বক বালু ভরাট করে দখলের অভিযোগ উঠেছে সাহারা ট্রেডিং লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ কামরুজ্জামান রতন। যেকোনো মূল্যে কৃষকদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
সোমবার (১১ মে) বিকালে উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চর বাউশিয়া বড়কান্দি গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এক ভয়াবহ চিত্র।
স্থানীয়দের দাবি, কোনো প্রকার ক্রয় বা অনুমতি ছাড়াই কৃষকদের তিন ফসলী জমি রাতের অন্ধকারে বালু ফেলে ভরাট করছে প্রতিষ্ঠানটি। বাধা দিলে জুটছে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি।
ভুক্তভোগী কৃষক হোসেন জানান, জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় প্রথমে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে পাশের জমিতে বালু ভরাটের সময় তার জমিতে কেবল পানি আসবে। কিন্তু পরে তার পুরো জমিই জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করায় ভূমিদস্য চক্রের সদস্য সোলাইমান, আলী আহমদ ও সাত্তারসহ কয়েকজন তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “জমি বিক্রি করলে টাকা পাব কিন্তু পরবর্তীতে কী খেয়ে বাঁচব? এই জমিতে চাষাবাদ করে আমি সংসার চালাই।”
একই গ্রামের কৃষক জীবন সরকার জানান, তাদের তিন ভাইয়ের সাড়ে চার বিঘা সম্পত্তি কোনো প্রকার ক্রয় না করেই বালু ভরাট করা হয়েছে। এখন তারা জমি বিক্রি করতে চাইলেও প্রতিষ্ঠানটি তা কিনছে না বরং জোরপূর্বক দখলে রাখার হুমকি দিচ্ছে।
আরেক ভুক্তভোগী মোস্তফা বলেন, “আমার ৫২ শতক জমি রাতের অন্ধকারে ভরাট করা হয়েছে এবং প্রতিবাদ করায় আমাকে পরিবারসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের কামরুজ্জামান রতন বলেন, “আমি আজ এখানে এসে দেখলাম অন্তত ৪৫ জন বৈধ মালিকের জমি কাগজপত্র ছাড়াই দখল করা হয়েছে। মানুষের এই আহাজারি সহ্য করার মতো নয়। জমির মূল্য পরিশোধ বা রেজিস্ট্রি না করে যারা এই দখলযজ্ঞ চালিয়েছে তাদের এর দায়ভার নিতে হবে। ভূমিদস্যুরা যত শক্তিশালীই হোক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীরা যেন তাদের অধিকার ফিরে পায় সেটি আমি নিশ্চিত করব।”
​এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজন অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

কামারখন্দে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মানববন্ধন

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে পেশার মর্যাদা রক্ষা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে প্রতিবাদী মানববন্ধন এবং উপজেলা প্রশাসনকে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছেন উপজেলা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের সংগঠন (ফারিয়া)।

সোমবার (১১ মে) সকাল ৯টায় উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের সামনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন উপজেলার বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত প্রতিনিধিগণ।

বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশন (ফারিয়া) আহবানে কামারখন্দ উপজেলা ফারিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদী মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা দেশের স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। চিকিৎসকদের কাছে ওষুধের সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে তারা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে তারা নানাভাবে হয়রানি ও দালাল অভিহিত করে পেশাগত অসম্মানের শিকার হচ্ছেন।

এ সময়ে বক্তারা আরো বলেন, আমরা যারা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ আছি তারা সবাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ থেকে অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন করে তারপর এই প্রফেশনে এসে চাকরি করি। আমাদের নিরাপদ কর্ম করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দিতে হবে এটাই বাংলাদেশ সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা ফারিয়ার সভাপতি জসীম উদ্দীনের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান লিখনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ফারিয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল করিম-সহ উপজেলায় কর্মরত সকল ফার্মাসিটিক্যাল রিপ্রেজেন্টটিভগণ উপস্থিত ছিলেন।

ছবির ক্যাপশন: সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় ফার্মাসিটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবাদী মানববন্ধনের ছবি।

 

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ আটক

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে নাজেরা শ্রণীর এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে শামসুল প্রামানিক নামের এক বৃদ্ধকে আটক করেছে শাহজাদপুর থানা পুলিশ। অভিযুক্ত শামসুল প্রামানিক উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের হলদিঘর গ্রামের মৃত ছেকেন প্রামানিকের পুত্র মাদ্রসা সংলগ্ন মোদী দোকানী। সোমবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে অভিযুক্ত শামসুল প্রামানিককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

ভুক্তভোগী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গাড়াদহ ইনিয়নের হলদিঘর তা’লিমুল কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার নাজেরা শ্রেণীর শিক্ষার্থী শিহাবকে গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে নিজের কাছে রেখে দেন মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক মাওলানা মোঃ সোহেল। এদিন রাতেই মাওলানা সোহেলের নানা মারা গেলে মাদ্রাসা থেকে চলে যাওয়ার সময় বৃদ্ধ শামসুল প্রামানিককে শিহাবের কাছে রেখে যান। সারারাত শিহাবের সাথে ঘুমানোর পর শুক্রবার ভোরে মামসুল প্রামানিক জোড়পূর্বক ঐ শিক্ষার্থীর পড়নের কাপড় খুলে ফেলেন এবং গালে কামড়ে দেন। দীর্ঘ সময় যৌন নীপিড়ন চালানোর পর এ কথা কাউকে বলে দিলে মেরে পাশের কবরস্থানে মাটিচাপা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বাড়ি চলে যান। ঐ শিক্ষার্থী বাড়িতে গেলে মুখে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কামড় এবং নখের আচর দেখে শিহাবের বাবা জিজ্ঞাসা করলে সব বলে দেয়। পরে শুক্রবার বিকেলে স্থানীয়রা শালিস বৈঠকে বসলেও কোন সমাধান না হওয়ায় ঐ শিক্ষার্থীর পিতা সূর্য শাহজাদপুর থানায় লিখিত অভিযাগ দেন। সোমবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শাহজাদপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শামসুল প্রামানিককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে হলদিঘর তা’লিমুল কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক মাওলানা মোঃ সোহেল জানান, ‘বৃহস্পতিবার রাতে আত্মীয়ের জানাজার উদ্দেশ্যে মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় মাদ্রসার শিশু শিক্ষার্থীর কাছে শামসুল প্রামানিককে রেখে যাই। পরদিন ফিরে এসে শামসুল প্রামানিক এবং নাজেরা বিভাগের ঐ শিক্ষার্থীকে ঘিরে নেতিবাচক প্রচারণা শুনতে পাই। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভাবে মিমাংসার জন্য শুক্রবার বিকেলে শালিস বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টাও করা হয়। তবে ঐদিন সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় অভিযোগ দেন।’

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত শামসুল প্রামানিককে থানায় আনা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

2 thoughts on “৭১৭টি সরকারি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ বিজয়ের

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৭১৭টি সরকারি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ বিজয়ের

আপডেট টাইম : ০১:০৭:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজ্যের ৭১৭ সরকারি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন জোসেফ বিজয়।

 

 

 

মঙ্গলবার দেওয়া এক সরকারি আদেশে ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি থাকা এসব দোকান দুই সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া বা বন্ধ করতে বলা হয়েছে।

 

 

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, মন্দির, মসজিদ, গির্জা, স্কুল, কলেজ ও বাসস্ট্যান্ডের ৫০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং করপোরেশন (তাসম্যাক) পরিচালিত মদের দোকানগুলো এ সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছে।

তামিলনাড়ু সরকারের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে বর্তমানে মোট ৪ হাজার ৭৬৫ সরকারি মদের দোকান রয়েছে। বন্ধের তালিকায় থাকা ৭১৭ দোকানের মধ্যে ২৭৬ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে, ১৮৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে এবং ২৫৫ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত।

দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিজয়ের এ সিদ্ধান্তকে সামাজিক সংস্কার ও জনস্বার্থে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে তার সরকার।

তবে তাসম্যাক রাজ্যের অন্যতম বড় রাজস্ব আয়ের উৎস হওয়ায় এই সিদ্ধান্তে সরকারের আয় কতটা প্রভাবিত হবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

 

 

৫১ বছর বয়সী অভিনেতা-রাজনীতিক জোসেফ বিজয় রোববার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তার দল টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পর কংগ্রেস, বাম দল, ভিসিকে ও মুসলিম লিগের সমর্থনে রাজ্যে প্রথমবারের মতো জোট সরকার গঠন হয়েছে।

 

 

 

বর্তমানে বিধানসভায় বিজয়ের দলের ১০৭ আসন রয়েছে। শরিকদের ১৩ বিধায়কের সমর্থন নিয়ে তিনি শিগগিরই আস্থা ভোটের মুখোমুখি হবেন।

 

 

 

মদের দোকান বন্ধের পাশাপাশি নতুন সরকার আরও কয়েকটি জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, নারী নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বাহিনী গঠন এবং প্রতিটি জেলায় মাদকবিরোধী ইউনিট স্থাপন।

 

 

ভাতিজার পরিকল্পনায় চাচির লোনের ৬ লাখ টাকা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২

এনজিও সংস্থা থেকে লোন নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সেলিনা বেগম নামের এক নারীর হাত থেকে টাকাসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েছে ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনায় ভাতিজাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) বিকেলে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মথুরানগর গ্রামের দত্তনগর-জলিলপুর সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

 

জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের একটি ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করে ভাতিজা লিটনের মোটরসাইকেলে বাড়ি (পান্তা পাড়া) ফিরছিলেন সেলিনা বেগম। বিকেলে মহেশপুরের মথুরানগর গ্রামের দত্তনগর-জলিলপুর সড়কে পৌঁছলে দুই ছিনতাইকারী মোটরসাইকেলে এসে তার হাত থেকে টাকাসহ ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে মহেশপুর থানার পুলিশ ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার ও টাকা উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। পুলিশ ঘটনাস্থলের আশেপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একটি ইয়ামাহা ফেজার মোটরসাইকেল শনাক্ত করে। ওই মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে জলিলপুর গ্রামের আয়ুব হোসেনের ছেলে আমিনুর রহমান খানকে (২৪) হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে এবং ছিনতাইকৃত টাকা তার বাড়িতে আছে বলে পুলিশকে জানায়। সে আরও জানায়, সেলিনা বেগমের সঙ্গে থাকা তার ভাতিজা লিটনই এই ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকরী। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার পূর্বে আমিনুর ও শাওন মোটরসাইকেল নিয়ে লিটন ও তার ফুফুকে অনুসরণ করতে থাকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছলে লিটন তার মোটরসাইকেলের গতি কমিয়ে দিলে আমিনুরের মোটরসাইকেলের পিছনে বসে থাকা শাওন সেলিনা বেগমের হাত থেকে টাকার ব্যাগটি টান দিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

 

মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, সোমবার রাত ৮টার দিকে পুলিশ আসামি আমিনুরকে নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে তার দেখানো মতে ছিনতাইয়ের ৬ লাখ টাকা উদ্ধার করে। এরপর আসামি লিটন ও বরকতকে পৃথক স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনার আরেক আসামি মহেশপুরের কাজীপাড়া গ্রামের আইনাল বদ্দির ছেলে শাওন বদ্দি (২৩) এখনো পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

ইউক্রেনের হামলায় আবারও বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

 

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে ড্রোন হামলায় মো. আ. রহিম (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পুটিজানা নামাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। নিহত রহিম স্থানীয় আজিজুল হকের ছেলে।

 

 

 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার সন্ধানে গত বছরের অক্টোবর মাসে রাশিয়ায় যান রহিম। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, তিনি সেখানে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। পরে জানতে পারেন, চলতি বছরের ৭ এপ্রিল তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। বিষয়টি তিনি পরিবারের কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন বলেও দাবি স্বজনদের।

 

 

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২ মে রুশ সীমান্তবর্তী এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় রহিম নিহত হন। ওই হামলায় আরও দুই বাংলাদেশি ও এক নাইজেরীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত চারজন।

নিহতের মৃত্যুর বিষয়টি পরিবার নিশ্চিত হয় গত সোমবার (১২ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে। রহিমের বন্ধু লিমন দত্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের এই দুঃসংবাদ জানান। লিমন নিজেও একই ক্যাম্পে রুশ সেনা সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে একটি পা হারিয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

নিহতের বাবা আজিজুল হক ছেলের মৃত্যুতে শোকাহত কণ্ঠে বলেন, ‘রহিম যে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে, তা আমাদের জানায়নি। জানলে আমি কখনোই তাকে সেখানে যেতে দিতাম না। এখন শুনছি ড্রোন হামলায় সব শেষ হয়ে গেছে। আমার ছেলেকে আর ফিরে পাব না।’

 

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, রহিম শান্ত স্বভাবের ও পরিশ্রমী যুবক ছিলেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু যুদ্ধের ভয়াবহতায় তার জীবনাবসান হওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুটিজানা ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম হিরা বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। আমি নিহতের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতার সুযোগ থাকলে আমরা তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।’

 

 

 

এদিকে বিদেশের মাটিতে যুদ্ধের ঘটনায় একের পর এক বাংলাদেশি নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়া তরুণদের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

 

 

 

এর আগে, গত ১৭ এপ্রিল ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান মৌলভীবাজারের মুহিবুর রহমান নামের অন্য এক যুবক।

 

 

আজ পর্দা উঠছে কান উৎসবের, স্বর্ণ পামের লড়াইয়ে স্বাধীন চলচ্চিত্র

 

যুদ্ধ, শোক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে নির্মিত হরেক রকম গল্প কান চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণ পাম জয়ের লক্ষ্যে দৌড় শুরু করছে।

 

 

 

হলিউডের হেভিওয়েট স্টুডিয়োগুলোর অনুপস্থিতিতে মূল প্রতিযোগিতায় স্বাধীন চলচ্চিত্রের প্রাধান্য চোখে পড়ার মতো। এবার এমন কোনো ছবি নেই, যেগুলোর জন্য সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। আগেভাগে জয়ী বলা দেওয়া যাবে এমন নিরঙ্কুশ কোনো ফেভারিটও নেই। বোদ্ধাদের মতে, স্বর্ণ পাম জিততে পারেন যে কেউ। ফলে জমজমাট লড়াই দেখার অপেক্ষায় চলচ্চিত্রপ্রেমীরা।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়) পর্দা উঠবে ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের। হলিউডের ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স’ ও ‘টপ গান’-এর মতো ফ্র্যাঞ্চাইজির জমকালো উদ্বোধনের জন্য পরিচিত এই মনোমুগ্ধকর উৎসবে এবার নেই বড় বাজেটের কোনো ব্লকবাস্টার। সমালোচনার ভারে বক্স অফিসে লোকসানের ঝুঁকি এড়াতে নামজাদা স্টুডিয়োগুলো উৎসবে ছবি পাঠানোর ব্যাপারে সতর্ক বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও তারকা উপস্থিতির ঘাটতি থাকছে না। আজীবন সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন আমেরিকান অভিনেত্রী-গায়িকা বারব্রা স্ট্রাইস্যান্ড। আর পরিচালনায় অভিষেক ঘটছে হলিউড তারকা জন ট্রাভোল্টার।

 

 

আগামী ২৩ মে সমাপনী আয়োজনে ঘোষণা করা হবে স্বর্ণ পাম জয়ী ছবির নাম। এজন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ২২টি চলচ্চিত্র। মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে এগুলো। এরমধ্যে রয়েছে স্বাধীন ধারার খ্যাতিমান স্প্যানিশ নির্মাতা পেদ্রো আলমোদোভার ও হাঙ্গেরির লাসলো নেমেশ পরিচালিত পৃথক দুটি ছবি। পেদ্রো বানিয়েছেন স্প্যানিশ ভাষার ছবি ‘বিটার ক্রিসমাস’। আর লাসলোর নতুন চলচ্চিত্রের নাম ‘মুলাঁ’।

 

ইরানের আসগর ফারহাদি ও জাপানের ‘ড্রাইভ মাই কার’ খ্যাত রিয়ুসুকে হামাগুচি ফরাসি ভাষার পৃথক ছবি নিয়ে হাজির হয়েছেন কানসৈকতে। ফারহাদির ‘প্যারালাল টেলস’-এ অন্যের বিষয়ে নাক গলানো প্রতিবেশীর ভূমিকায় আছেন ফরাসি অভিনেত্রী ইজাবেল উপের। অন্যদিকে হামাগুচির ‘অল অব অ্যা সাডেন’ নির্মিত হয়েছে বার্ধক্যে বয়স্কদের যত্নকে কেন্দ্র করে।

 

 

যুক্তরাষ্ট্র থেকে মূল প্রতিযোগিতায় রয়েছে জেমস গ্রে পরিচালিত ‘পেপার টাইগার’। এতে আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে হলিউড তারকা স্কারলেট জোহানসন ও অ্যাডাম ড্রাইভারকে। তারা এর আগে ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ম্যারেজ স্টোরি’ ছবিতে জুটি বেঁধেছিলেন।

 

 

 

অস্কারজয়ী রামি মালেক অভিনয় করেছেন আইরা স্যাক্স পরিচালিত ‘দ্য ম্যান আই লাভ’-এ। এতে আশির দশকের নিউইয়র্কে এইচআইভি/এইডস সংকটের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

 

 

 

দুই সাবেক স্বর্ণ পাম জয়ী ফিরেছেন এবারের আসরে। জাপানের হিরোকাজু কোরে-এদা ২০১৮ সালে ‘শপলিফটার্স’-এর জন্য স্বর্ণ পাম জিতেছেন। এবার ‘শিপ ইন দ্য বক্স’ ছবির বিষয়বস্তুতে শোক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে রোমানিয়ার ক্রিস্টিয়ান মুনজিউ পরিচালিত পারিবারিক ড্রামা ‘ফিয়র্ড’-এর পটভূমি নরওয়ের প্রত্যন্ত একটি গ্রাম। এতে অভিনয় করেছেন সেবাস্তিয়ান স্তান ও রেনাটে রাইন্সভে।

 

 

 

এবারের আসরের চলচ্চিত্রগুলোতে রাজনৈতিক আবহ রয়েছে, তবে সেসব মূলত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখা যাবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মূল প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত বেলজিয়ামের লুকাস ডন্ট পরিচালিত ‘কাওয়ার্ড’-এর কথা। এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেয়া সৈনিকদের নিয়ে নির্মিত। এছাড়া লাসলো নেমেশের ‘মুলাঁ’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি অধিকৃত ফ্রান্সের প্রতিরোধ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নির্মিত। মূল প্রতিযোগিতার আরেক ছবি ফরাসি নির্মাতা এমানুয়েল মার পরিচালিত ‘অ্যা ম্যান অব হিজ টাইম’-এর পটভূমি ভিশি ফ্রান্স।

 

 

 

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অবস্থা টালমাটাল হলেও আয়োজকেরা চলচ্চিত্রকেই কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। তাদের এই মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যাবে আসরের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র ‘দ্য ইলেকট্রিক কিস’-এ।

 

 

 

আন্তঃযুদ্ধকালীন প্যারিসে নির্মিত এই রোমান্টিক কমেডিকে বর্ণনা করা যায়, একটি কল্পকাহিনি এবং চলচ্চিত্রের প্রতি এক স্তুতি গান। ফ্রান্সের পিয়ের সালভাদোরি পরিচালিত ছবিটি দেখানো হবে উৎসব উদ্বোধন ঘোষণার পরপরই।

 

 

বেকারত্ব কমাতে শিক্ষায় নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

 

একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বেকারত্ব নিরসন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রাথমিক থেকে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

 

 

‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন খুব সম্ভবত সম্ভব হবে না। 

 

 

 

সময়োপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাও সম্ভব নয়। এ কারণেই বর্তমান সরকার একাডেমিক সিলেবাসকে সময়োপযোগী করার কাজ হাতে নিয়েছে।
 

উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সেতুবন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে।

 

 

 

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী আইডিয়া বাস্তবায়নে সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে তারা ক্যাম্পাস থেকেই উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।

 

 

 

শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। 

 

 

 

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও প্রযুক্তির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বা বিগ ডাটার মতো প্রযুক্তি একদিকে প্রথাগত চাকরির বাজার সংকুচিত করছে, অন্যদিকে নিত্যনতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে। 

 

 

 

এ সময় তিনি উবার, ফেসবুক, আলিবাবা ও এয়ারবিএনবির মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ টেনে বলেন, এদের নিজস্ব কোনো ট্যাক্সি, কন্টেন্ট, পণ্য বা রিয়েল এস্টেট নেই। শুধুমাত্র একটি স্মার্ট ইন্টারফেস ও উদ্ভাবনী আইডিয়া দিয়ে তারা বিশ্ব শাসন করছে। আমাদের প্রচুর মেধাবী মানুষ রয়েছেন, সুযোগ পেলে তাদের পক্ষেও বিশ্বমানের কিছু করা অসম্ভব নয়। 

 

 

 

ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ শুরু করতে চায়। যেখানে মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। 

 

 

 

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতাকে আলিঙ্গন করার পাশাপাশি দেশজ মূল্যবোধ রক্ষার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমরা সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে হাঁটব, তবে আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের আবহমান কালের ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ যেন হারিয়ে না ফেলি সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। 

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসির কর্মশালা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

 

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কর্মশালা উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা রূপান্তর : টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শিরোনামে এ কর্মশালা শুরু হয়।

 

 

 

এদিন সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি হিসাবে তারেক রহমান কর্মশালাটির উদ্বোধন করেন।

 

 

 

অধ্যাপক মামুনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনও উপস্থিত আছেন।

তারেক রহমান এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যান গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর; যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার দুই দিন পর। সেদিন তিনি ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। কর্মশালায় পাঁচটি টেকনিক্যাল অধিবেশন থাকছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।

এছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম বদরুজ্জামান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন খান সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন।

 

 

অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে কর আরোপের পরিকল্পনা সরকারের

 

দেশে প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব রাখা হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে।

 

 

 

সোমবার (১২ মে) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বাজেট-সংশ্লিষ্ট বৈঠকে এ প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

 

 

 

বর্তমানে দেশে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, জিপ, বাস, ট্রাক ও পিকআপের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর আদায় করা হলেও মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এতদিন এই ব্যবস্থার বাইরে ছিল। তবে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে এবার নতুন এই দুই খাতকে করজালের আওতায় আনতে চায় সরকার।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল করমুক্ত রাখা হতে পারে। তবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বছরে ২ হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতার বাইকের জন্য বছরে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণের চিন্তা করছে এনবিআর।

 

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৯ লাখ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই ১১০ সিসির বেশি হওয়ায় নতুন কর কার্যকর হলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা দেখছে সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, গড়ে প্রতিটি মোটরসাইকেল থেকে ৪ হাজার টাকা কর আদায় করা গেলে বছরে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পাওয়া সম্ভব।

 

 

এদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও প্রথমবারের মতো করের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী অটোরিকশার জন্য বছরে ৫ হাজার টাকা, পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণ করা হতে পারে।

 

 

 

সরকার ইতোমধ্যে ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া তৈরি করেছে। সেখানে নিবন্ধন সনদ, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ট্যাক্স টোকেন বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব যানবাহনের ওপর এনবিআর নির্ধারিত শুল্ক ও কর আরোপের বিধানও রাখা হয়েছে।

 

 

 

মোটরসাইকেল খাতসংশ্লিষ্টরা অবশ্য নতুন কর আরোপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দেশে গত এক দশকে মোটরসাইকেল শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ হয়েছে এবং এই খাত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। নতুন কর আরোপ করা হলে সাধারণ ব্যবহারকারী, রাইড শেয়ারিং কর্মী ও ডেলিভারি সেবার সঙ্গে জড়িতদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

 

 

 

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করলেও যানবাহনের মালিকরা পরে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় সেই কর সমন্বয়ের সুযোগ পাবেন। আগামী বাজেট ঘোষণার সময় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে।

 

 

আলোচনায় কোরবানির পশু ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

 

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাট ও খামারগুলোতে এবারও দেখা মিলছে ব্যতিক্রমী নামের গরু-মহিষ। সেই তালিকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে নারায়ণগঞ্জের একটি খামারের একটি বিশাল আকৃতির মহিষ, যার নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।

 

 

 

নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় অবস্থিত রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে থাকা এই মহিষটির ওজন ৭০০ কেজিরও বেশি। খামারের স্বত্বাধিকারী জিয়াউদ্দিন মৃধা জানান, এটি এলভিনো জাতের মহিষ। এর গায়ের গোলাপি আভাযুক্ত সাদা রং এবং সামনের দিকের চুলের বিশেষ আকৃতির কারণে মজার ছলে এই নামটি রাখা হয়েছে।

 

 

 

খামার কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নামটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মহিষটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। অনেক ক্রেতা এটি কেনার আগ্রহ দেখালেও ইতোমধ্যে একজন ক্রেতা মহিষটি বুকিং দিয়ে রেখেছেন।

খামারের কর্মচারীরা জানান, মহিষটি সাধারণ খাবার হিসেবে ঘাস, ভুট্টা ও ভুসি খায়। বিশেষ যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে এটিকে।

 

স্থানীয়দের মতে, ঈদুল আজহায় বড় ও আকর্ষণীয় পশুর পাশাপাশি ব্যতিক্রমী নামের কারণে এসব পশু নিয়ে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়। প্রতিবছরই বিভিন্ন খামারে ‘রাজা’, ‘সুলতান’, ‘বাহুবলী’ কিংবা আলোচিত ব্যক্তিত্বদের নামে পশুর নাম রাখার প্রবণতা দেখা যায়, যা ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করে।

 

 

ডিজিটাল ভূমিসেবায় স্বস্তি, কমছে ভোগান্তি ও দুর্নীতি

 

জমির খতিয়ান তোলা, নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন করা কিংবা ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করা সাধারণ মানুষের জন্য একসময় সময়সাপেক্ষ, জটিল ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া ছিল।

 

 

 

কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে ইউনিয়ন ভূমি অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দিনের পর দিন ঘুরতে হতো। দীর্ঘসূত্রতা, তথ্যের অস্বচ্ছতা এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য মানুষের ভোগান্তিকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিত। তবে ডিজিটাল প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে সে চিত্র বদলে যাচ্ছে।

 

 

 

বর্তমানে মুঠোফোনে পাওয়া যাচ্ছে অধিকাংশ ভূমিসেবা। ফলে দুর্নীতি কমছে, বাড়ছে স্বচ্ছতা; নাগরিক জীবনে ফিরে এসেছে স্বস্তি।

 

এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, অটোমেশনের ফলে জনগণকে ভূমিসেবা পেতে এখন আর সরাসরি ভূমি অফিসে যেতে হয় না। ঘরে বসে বা অনলাইনে এ সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এতে দুর্নীতি যেমন কমেছে, সেবা প্রাপ্তিও সহজতর হচ্ছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, তবে এক্ষেত্রে মানুষজনকেও আরও সচেতন হতে হবে। নয়তো মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমানো কঠিন হবে।

 

 

সরকারের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয় এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর (ডিএলআরএস) কয়েক বছরে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় নিয়ে এসেছে।

 

 

 

ফলে অনলাইনে নামজারি আবেদন, ই-নামজারি নিষ্পত্তি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ, অভিযোগ দাখিল এবং ভূমি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই, সবকিছুই এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে করা যাচ্ছে।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ডিজিটাল ভূমি সেবা চালুর ফলে শুধু সময় ও খরচই কমেনি, বরং সেবার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে। ফলে দুর্নীতির সুযোগ কমেছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

 

 

 

আগে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে সরাসরি ভূমি অফিসে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। অনেক ক্ষেত্রে একাধিকবার যাতায়াত করতে হতো।

 

 

 

এতে সময় ও অর্থ, উভয়ের অপচয় হতো। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং এবং অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে।

 

 

 

ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ই-পর্চা ও ই-খাজনা কার্যক্রম চালুর পর প্রতি বছর অনলাইনে কর পরিশোধকারীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ নাগরিক অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করছেন।

 

 

 

এসব করদাতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিও রয়েছেন। তারা বিদেশে বসে নিজেদের জমির খাজনা পরিশোধ করছেন। ফলে ভূমি অফিসে সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে গেছে।

 

 

 

জমি কেনাবেচার পর মালিকানার প্রমাণপত্র পুনর্নির্ধারণ করতে যেতে হয় নামজারি বা মিউটেশন প্রক্রিয়ায়। এটি আগে ছিল সবচেয়ে জটিল ধাপগুলোর একটি। আবেদন করতে গিয়ে অনেকে দালালের শরণাপন্ন হতেন এবং বাধ্য হয়ে সরকারি ফির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ করতেন।

 

 

 

বর্তমানে অনলাইনে নামজারি আবেদন চালুর ফলে সে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আবেদনকারী নিজেই অনলাইনে আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড এবং আবেদনের অগ্রগতি মোবাইল ফোনে পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন। প্রতিটি ধাপে এসএমএস নোটিফিকেশন চালু থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

 

 

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটিরও বেশি ই-নামজারি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫ লাখের বেশি আবেদন বিভিন্ন পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন।

 

 

 

এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ) নাসরিন জাহান বলেন, অনলাইনে নামজারির আবেদন ভূমি সেবাগ্রহীতাদের সমস্যা অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি এসব আবেদন যেন দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তি করা হয়, সে বিষয়ে প্রতিটি উপজেলার ভূমি সহকারী কমিশনারদের পর্যাপ্ত নির্দেশনা দেওয়া আছে।

 

 

 

একসময় ভূমি অফিসকেন্দ্রিক দালালচক্র সাধারণ মানুষের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করত। তথ্যের অভাব ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে তাদের সহায়তা নিতেন।

 

 

 

বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক সেবা চালুর ফলে সেই নির্ভরতা অনেকটাই কমেছে। নির্ধারিত ফি ও সময়সীমা অনলাইনে উন্মুক্ত থাকায় অতিরিক্ত অর্থ দাবি বা অযৌক্তিক বিলম্বের সুযোগ কমে গেছে। পাশাপাশি ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থার কারণে কোন কর্মকর্তা কতদিন ধরে একটি আবেদন আটকে রেখেছেন, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে জবাবদিহিতা বেড়েছে।

 

 

 

ভূমি মন্ত্রণালয় দেশের সব ভূমি রেকর্ড, খতিয়ান এবং মৌজা ম্যাপ একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ করছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলার পুরোনো রেকর্ড স্ক্যান করে ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে জিআইএস (জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম) প্রযুক্তির মাধ্যমে মানচিত্রভিত্তিক জমির তথ্য দেখার সুবিধা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ কমবে এবং মামলা-মোকদ্দমাও হ্রাস পাবে।

 

 

 

এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অটোমেশনের ফলে মানুষজন ভূমির যে সেবা পাচ্ছে, তার ডাটাবেজ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে মানচিত্রভিত্তিক জমির তথ্য দেখার সুবিধা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ কমে আসবে, পাশাপাশি জমি নিয়ে মামলাও কম হবে।

সূত্র: বাসস

 

 

ঢাবিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি

 

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও টেকসই রূপান্তর নিয়ে আয়োজিত ইউজিসির জাতীয় কর্মশালায় যোগ দিতে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি।

 

 

 

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মশালার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

ইউজিসির জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ।

এদিকে, শপথগ্রহণের ৮৫তম দিনে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আগমনকে স্বাগত জানিয়ে তার যাত্রাপথের বাংলামোটর থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত ৮৫টি ঔষধি বৃক্ষরোপণ করেছেন ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

 

এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি তৌহিদুর রহমান আউয়াল।

 

 

মনোরম আয়োজনে আত্মপ্রকাশ ঘটল “ওঙ্কার আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের”

“কবিতা জাগাবে বোধ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে মনোরম আয়োজনের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ ঘটলো সাহিত্য সংগঠন ওঙ্কার আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের।

 

 

 

সোমবার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে।

 

 

 

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানটির শুভ উদ্বোধন করেন জেলা কালচারাল অফিসার মাহমুদুল হাসান লালন।

 

 

 

সুস্থ্য বিনোদন ও নির্মল আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াসে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

 

 

 

সংগঠনের সভাপতি সুলতানা রাজিয়া মিলনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শামীমা জেসমিন তিথির সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এস এম মনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ নাট্য ফেডারেশনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মমিন বাবু, অরুণিমা সঙ্গীতালয়ের পরিচালক সূর্য বারী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম, রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম হীরা এবং ফরিদুল ইসলাম সোহাগ প্রমূখ।

 

 

 

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভার ফাঁকে ফাঁকে কবিতা আবৃত্তি করেন শিল্পীবৃন্দ।

 

 

সরকার দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে : সেতুমন্ত্রী

 

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সরকার দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনটি প্রস্তাবনার মধ্যে প্রথম প্রস্তাবনায় রয়েছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে আয়োজিত প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

 

 

 

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নিয়ে তিনটি প্রস্তাবনা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর মধ্যে এক নম্বর প্রস্তাবনাটি হলো আপনার উল্লেখ করা ওই রুটে সেতু নির্মাণ। আমরা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে চলেছি—এ কথা এই মুহূর্তে বলতে পারি। ফিজিবিলিটি স্টাডি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন অর্থায়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।’

মন্ত্রী জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অন্যান্য প্রাক-প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

 

 

মসজিদে টিকটক ভিডিও, বিদ্যালয় থেকে ছাত্রী বহিষ্কার

 

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে স্কুলড্রেস পরে মসজিদে টিকটক ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

 

 

সোমবার (১১ মে) দেওয়ানগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ভোকেশনাল (জেনারেল ইলেকট্রনিক্স) বিভাগের ওই ছাত্রীকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মশিহুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

 

 

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন, শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে লিপ্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে এবং বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে।’

 

জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থী সম্প্রতি উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নেচে-গেয়ে টিকটক ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে ঘটনাটি।

 

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মশিহুর রহমান বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে যাতে কেউ যুক্ত না হয় সেজন্য ওই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

 

জানতে চাইলে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হক কালবেলাকে বলেন, আমি বিদ্যালয়ের সভাপতি। আমাকে না জানিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুনেছি ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক অফিসে আসবে, তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারপর দেখব কী করা যায়।

 

 

রায়গঞ্জে টোকাই সেজে চুরি ও মাদক কারবার, আটক যুবক থানায় সোপর্দ

 

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা-এর চান্দাইকোনা বুড়াকালীবাড়ী এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার সময় আশরাফুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার (১১ মে) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
আটক আশরাফুল ইসলাম বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর থানা এলাকার মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়দের দাবি, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনটি সিসি ক্যামেরা, এক পিস ইয়াবা এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চান্দাইকোনা ও আশপাশের এলাকায় টোকাই সেজে ঘোরাফেরা করতেন এবং চুরি ও মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
পরে চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসেমসহ স্থানীয় লোকজন তাকে রায়গঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, “আটক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গজারিয়ায় ভূমিদস্যুদের রুখে দেওয়ার ঘোষণা এমপি কামরুজ্জামান রতনের

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় চর বাউশিয়া বড়কান্দিতে শিল্পকারখানা স্থাপনের নামে সাধারণ কৃষকদের তিন ফসলি জমি ও সরকারি খাল জোরপূর্বক বালু ভরাট করে দখলের অভিযোগ উঠেছে সাহারা ট্রেডিং লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ কামরুজ্জামান রতন। যেকোনো মূল্যে কৃষকদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
সোমবার (১১ মে) বিকালে উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চর বাউশিয়া বড়কান্দি গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এক ভয়াবহ চিত্র।
স্থানীয়দের দাবি, কোনো প্রকার ক্রয় বা অনুমতি ছাড়াই কৃষকদের তিন ফসলী জমি রাতের অন্ধকারে বালু ফেলে ভরাট করছে প্রতিষ্ঠানটি। বাধা দিলে জুটছে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি।
ভুক্তভোগী কৃষক হোসেন জানান, জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় প্রথমে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে পাশের জমিতে বালু ভরাটের সময় তার জমিতে কেবল পানি আসবে। কিন্তু পরে তার পুরো জমিই জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করায় ভূমিদস্য চক্রের সদস্য সোলাইমান, আলী আহমদ ও সাত্তারসহ কয়েকজন তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “জমি বিক্রি করলে টাকা পাব কিন্তু পরবর্তীতে কী খেয়ে বাঁচব? এই জমিতে চাষাবাদ করে আমি সংসার চালাই।”
একই গ্রামের কৃষক জীবন সরকার জানান, তাদের তিন ভাইয়ের সাড়ে চার বিঘা সম্পত্তি কোনো প্রকার ক্রয় না করেই বালু ভরাট করা হয়েছে। এখন তারা জমি বিক্রি করতে চাইলেও প্রতিষ্ঠানটি তা কিনছে না বরং জোরপূর্বক দখলে রাখার হুমকি দিচ্ছে।
আরেক ভুক্তভোগী মোস্তফা বলেন, “আমার ৫২ শতক জমি রাতের অন্ধকারে ভরাট করা হয়েছে এবং প্রতিবাদ করায় আমাকে পরিবারসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের কামরুজ্জামান রতন বলেন, “আমি আজ এখানে এসে দেখলাম অন্তত ৪৫ জন বৈধ মালিকের জমি কাগজপত্র ছাড়াই দখল করা হয়েছে। মানুষের এই আহাজারি সহ্য করার মতো নয়। জমির মূল্য পরিশোধ বা রেজিস্ট্রি না করে যারা এই দখলযজ্ঞ চালিয়েছে তাদের এর দায়ভার নিতে হবে। ভূমিদস্যুরা যত শক্তিশালীই হোক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীরা যেন তাদের অধিকার ফিরে পায় সেটি আমি নিশ্চিত করব।”
​এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজন অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

কামারখন্দে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মানববন্ধন

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে পেশার মর্যাদা রক্ষা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে প্রতিবাদী মানববন্ধন এবং উপজেলা প্রশাসনকে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছেন উপজেলা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের সংগঠন (ফারিয়া)।

সোমবার (১১ মে) সকাল ৯টায় উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের সামনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন উপজেলার বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত প্রতিনিধিগণ।

বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশন (ফারিয়া) আহবানে কামারখন্দ উপজেলা ফারিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদী মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা দেশের স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। চিকিৎসকদের কাছে ওষুধের সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে তারা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে তারা নানাভাবে হয়রানি ও দালাল অভিহিত করে পেশাগত অসম্মানের শিকার হচ্ছেন।

এ সময়ে বক্তারা আরো বলেন, আমরা যারা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ আছি তারা সবাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ থেকে অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন করে তারপর এই প্রফেশনে এসে চাকরি করি। আমাদের নিরাপদ কর্ম করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দিতে হবে এটাই বাংলাদেশ সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা ফারিয়ার সভাপতি জসীম উদ্দীনের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান লিখনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ফারিয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল করিম-সহ উপজেলায় কর্মরত সকল ফার্মাসিটিক্যাল রিপ্রেজেন্টটিভগণ উপস্থিত ছিলেন।

ছবির ক্যাপশন: সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় ফার্মাসিটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবাদী মানববন্ধনের ছবি।

 

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ আটক

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে নাজেরা শ্রণীর এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে শামসুল প্রামানিক নামের এক বৃদ্ধকে আটক করেছে শাহজাদপুর থানা পুলিশ। অভিযুক্ত শামসুল প্রামানিক উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের হলদিঘর গ্রামের মৃত ছেকেন প্রামানিকের পুত্র মাদ্রসা সংলগ্ন মোদী দোকানী। সোমবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে অভিযুক্ত শামসুল প্রামানিককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

ভুক্তভোগী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গাড়াদহ ইনিয়নের হলদিঘর তা’লিমুল কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার নাজেরা শ্রেণীর শিক্ষার্থী শিহাবকে গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে নিজের কাছে রেখে দেন মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক মাওলানা মোঃ সোহেল। এদিন রাতেই মাওলানা সোহেলের নানা মারা গেলে মাদ্রাসা থেকে চলে যাওয়ার সময় বৃদ্ধ শামসুল প্রামানিককে শিহাবের কাছে রেখে যান। সারারাত শিহাবের সাথে ঘুমানোর পর শুক্রবার ভোরে মামসুল প্রামানিক জোড়পূর্বক ঐ শিক্ষার্থীর পড়নের কাপড় খুলে ফেলেন এবং গালে কামড়ে দেন। দীর্ঘ সময় যৌন নীপিড়ন চালানোর পর এ কথা কাউকে বলে দিলে মেরে পাশের কবরস্থানে মাটিচাপা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বাড়ি চলে যান। ঐ শিক্ষার্থী বাড়িতে গেলে মুখে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কামড় এবং নখের আচর দেখে শিহাবের বাবা জিজ্ঞাসা করলে সব বলে দেয়। পরে শুক্রবার বিকেলে স্থানীয়রা শালিস বৈঠকে বসলেও কোন সমাধান না হওয়ায় ঐ শিক্ষার্থীর পিতা সূর্য শাহজাদপুর থানায় লিখিত অভিযাগ দেন। সোমবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শাহজাদপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শামসুল প্রামানিককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে হলদিঘর তা’লিমুল কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক মাওলানা মোঃ সোহেল জানান, ‘বৃহস্পতিবার রাতে আত্মীয়ের জানাজার উদ্দেশ্যে মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় মাদ্রসার শিশু শিক্ষার্থীর কাছে শামসুল প্রামানিককে রেখে যাই। পরদিন ফিরে এসে শামসুল প্রামানিক এবং নাজেরা বিভাগের ঐ শিক্ষার্থীকে ঘিরে নেতিবাচক প্রচারণা শুনতে পাই। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভাবে মিমাংসার জন্য শুক্রবার বিকেলে শালিস বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টাও করা হয়। তবে ঐদিন সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় অভিযোগ দেন।’

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত শামসুল প্রামানিককে থানায় আনা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।