সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

অতিথি পাখি নিধনে সরগরম তাড়াশ; অবৈধ শিকার বন্ধে অভিযানের ঘোষণা

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় শীত মৌসুমের শুরুতেই অবাধে চলছে অতিথি পাখি নিধন। স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা অসাধু পেশাজীবী পাখি শিকারি চক্র ও কয়েকজন শৌখিন শিকারি নির্বিঘ্নে কারেন্ট জালের ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করছে। এতে চলনবিল অঞ্চলে প্রতিবছর আগত অতিথি পাখিদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর শীতে সাইবেরিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন শীতপ্রধান দেশ থেকে বালিহাঁস, চখা, শামখইল, কাজলাদিঘিসহ নানা প্রজাতির পাখি নিরাপদ আশ্রয় ও খাদ্যের সন্ধানে তাড়াশের খাল–বিল ও চরাঞ্চলে আশ্রয় নেয়। এ বছরও শীতের প্রথমেই বিপুল সংখ্যক অতিথি পাখি এ এলাকায় এসেছে। তবে আগমনের পর থেকেই শিকারি চক্র সুযোগ মতো রাত–দিন পাখি নিধনে লিপ্ত রয়েছে।
দিঘী সগুনা গ্রামের বাসিন্দা জুবায়ের হোসেন বলেন, “বিলে পাখি আসার পর থেকেই কারেন্ট জালের ফাঁদ পেতে অনেকেই পাখি শিকার করছে। কেউ বাধা দিলে ঝামেলা তৈরি হয় বলেও অনেকে ভয় পান।”
ভিলেজ ভিশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক মো. শরীফ খন্দকার জানান, পাখি শিকার, ক্রয়-বিক্রয়—সব ক্ষেত্রেই অসচেতনতা ব্যাপক। তিনি বলেন, “কেউ জানে কাজটি অন্যায়, কিন্তু তবুও রাত–দিন শিকার করে গ্রামের হাট-বাজারে বিক্রি করছে। অতিথি পাখির পাশাপাশি দেশীয় পাখিও নির্বিচারে শিকার হচ্ছে।” তিনি শিকার বন্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সরকারিভাবে অতিথি পাখি শিকার ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় শিকারিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
উপজেলা বন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, “বেশিরভাগ শিকারি রাতে পাখি শিকার করে। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।”
তাড়াশ থানার ওসি মো. জিয়াউর রহমান জানান, চলনবিল এলাকার হাটবাজারে দ্রুত অভিযান চালিয়ে পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, “পাখি শিকার একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। শিকারিদের অবস্থান শনাক্ত করে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চলনবিলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

অতিথি পাখি নিধনে সরগরম তাড়াশ; অবৈধ শিকার বন্ধে অভিযানের ঘোষণা

আপডেট টাইম : ০৭:১৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় শীত মৌসুমের শুরুতেই অবাধে চলছে অতিথি পাখি নিধন। স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা অসাধু পেশাজীবী পাখি শিকারি চক্র ও কয়েকজন শৌখিন শিকারি নির্বিঘ্নে কারেন্ট জালের ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করছে। এতে চলনবিল অঞ্চলে প্রতিবছর আগত অতিথি পাখিদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর শীতে সাইবেরিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন শীতপ্রধান দেশ থেকে বালিহাঁস, চখা, শামখইল, কাজলাদিঘিসহ নানা প্রজাতির পাখি নিরাপদ আশ্রয় ও খাদ্যের সন্ধানে তাড়াশের খাল–বিল ও চরাঞ্চলে আশ্রয় নেয়। এ বছরও শীতের প্রথমেই বিপুল সংখ্যক অতিথি পাখি এ এলাকায় এসেছে। তবে আগমনের পর থেকেই শিকারি চক্র সুযোগ মতো রাত–দিন পাখি নিধনে লিপ্ত রয়েছে।
দিঘী সগুনা গ্রামের বাসিন্দা জুবায়ের হোসেন বলেন, “বিলে পাখি আসার পর থেকেই কারেন্ট জালের ফাঁদ পেতে অনেকেই পাখি শিকার করছে। কেউ বাধা দিলে ঝামেলা তৈরি হয় বলেও অনেকে ভয় পান।”
ভিলেজ ভিশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক মো. শরীফ খন্দকার জানান, পাখি শিকার, ক্রয়-বিক্রয়—সব ক্ষেত্রেই অসচেতনতা ব্যাপক। তিনি বলেন, “কেউ জানে কাজটি অন্যায়, কিন্তু তবুও রাত–দিন শিকার করে গ্রামের হাট-বাজারে বিক্রি করছে। অতিথি পাখির পাশাপাশি দেশীয় পাখিও নির্বিচারে শিকার হচ্ছে।” তিনি শিকার বন্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সরকারিভাবে অতিথি পাখি শিকার ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় শিকারিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
উপজেলা বন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, “বেশিরভাগ শিকারি রাতে পাখি শিকার করে। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।”
তাড়াশ থানার ওসি মো. জিয়াউর রহমান জানান, চলনবিল এলাকার হাটবাজারে দ্রুত অভিযান চালিয়ে পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, “পাখি শিকার একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। শিকারিদের অবস্থান শনাক্ত করে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চলনবিলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।