সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

অনলাইন জুয়া ও মাদকের টাকা জোগাতে দাদিকে হত্যা: নাতিসহ গ্রেপ্তার ৩

অনলাইন জুয়া ও মাদকের নেশায় ঋণের বোঝা সইতে না পেরে নিজের আপন দাদিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে নাতি। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী নিহতের নাতি ফজলে রাব্বি (২৯) অনলাইন জুয়া ও মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে বিপুল পরিমাণ টাকা ঋণে জর্জরিত ছিল। সেই ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য সে তার সহযোগীদের নিয়ে দাদির বাড়িতে চুরির পরিকল্পনা করে। ফজলে রাব্বি তার সহযোগীদের আশ্বস্ত করেছিল যে, যেহেতু এটি নিজেদের পারিবারিক বিষয়, তাই ধরা পড়লেও বিষয়টি ঘরোয়াভাবে মিটমাট করে নেওয়া যাবে।
গত ২১ এপ্রিল (মঙ্গলবার) বিকেলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তিন যুবক বৃদ্ধা অলেদা বেওয়ার (৭০) ঘরে প্রবেশ করে। ওই সময় তার মেয়ে (রাব্বির ফুফু) বাড়ির বাইরে কর্মস্থলে ছিলেন। একা পেয়ে তারা বৃদ্ধার মুখ ও হাত-পা স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। এরপর ঘর থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সাইবার শাখা ও ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ঢাকার সাভারের আশুলিয়া থেকে ফজলে রাব্বি ও মসফিকুর রহমান রাজকে গ্রেপ্তার করে। একই দিনে ঘোড়াঘাটের দেওগ্রাম থেকে নাজমুল হুদা শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ফজলে রাব্বি (২৯) নিহত অলেদা বেওয়ার দ্বিতীয় ছেলের ঘরের নাতি মসফিকুর রহমান রাজ (৩৪) দিনাজপুর সদরের বাহাদুর বাজার এলাকার বাসিন্দা। নাজমুল হুদা শান্ত (২৬) ঘোড়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করেন যার মধ্যে রয়েছে, একটি স্বর্ণের হার ও এক জোড়া চেইন। এক জোড়া বালা ও এক জোড়া কানের দুল। ​এক জোড়া ঝুমকা ও এক জোড়া রুপার নুপুর।
​সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিবি ওসি আলমগীর হোসেন ও ঘোড়াঘাট থানার ওসি শহিদুল ইসলাম। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে এবং আদালতে জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

অনলাইন জুয়া ও মাদকের টাকা জোগাতে দাদিকে হত্যা: নাতিসহ গ্রেপ্তার ৩

আপডেট টাইম : ০৭:৩১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
অনলাইন জুয়া ও মাদকের নেশায় ঋণের বোঝা সইতে না পেরে নিজের আপন দাদিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে নাতি। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী নিহতের নাতি ফজলে রাব্বি (২৯) অনলাইন জুয়া ও মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে বিপুল পরিমাণ টাকা ঋণে জর্জরিত ছিল। সেই ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য সে তার সহযোগীদের নিয়ে দাদির বাড়িতে চুরির পরিকল্পনা করে। ফজলে রাব্বি তার সহযোগীদের আশ্বস্ত করেছিল যে, যেহেতু এটি নিজেদের পারিবারিক বিষয়, তাই ধরা পড়লেও বিষয়টি ঘরোয়াভাবে মিটমাট করে নেওয়া যাবে।
গত ২১ এপ্রিল (মঙ্গলবার) বিকেলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তিন যুবক বৃদ্ধা অলেদা বেওয়ার (৭০) ঘরে প্রবেশ করে। ওই সময় তার মেয়ে (রাব্বির ফুফু) বাড়ির বাইরে কর্মস্থলে ছিলেন। একা পেয়ে তারা বৃদ্ধার মুখ ও হাত-পা স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। এরপর ঘর থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সাইবার শাখা ও ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ঢাকার সাভারের আশুলিয়া থেকে ফজলে রাব্বি ও মসফিকুর রহমান রাজকে গ্রেপ্তার করে। একই দিনে ঘোড়াঘাটের দেওগ্রাম থেকে নাজমুল হুদা শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ফজলে রাব্বি (২৯) নিহত অলেদা বেওয়ার দ্বিতীয় ছেলের ঘরের নাতি মসফিকুর রহমান রাজ (৩৪) দিনাজপুর সদরের বাহাদুর বাজার এলাকার বাসিন্দা। নাজমুল হুদা শান্ত (২৬) ঘোড়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করেন যার মধ্যে রয়েছে, একটি স্বর্ণের হার ও এক জোড়া চেইন। এক জোড়া বালা ও এক জোড়া কানের দুল। ​এক জোড়া ঝুমকা ও এক জোড়া রুপার নুপুর।
​সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিবি ওসি আলমগীর হোসেন ও ঘোড়াঘাট থানার ওসি শহিদুল ইসলাম। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে এবং আদালতে জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছে।