বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি বসতঘরের মেঝেতে দুটি কবর আবির্ভূত হওয়ার দাবি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়িটিতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক, তেলপড়া ও আরোগ্য লাভের আশায় সেখানে ছুটে আসছেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ। তবে ঘটনাটিকে অলৌকিক বলে প্রচার করা হলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ এ দাবিকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের ভ্যানচালক ছালাম বেপারীর ছেলে সজীব বেপারী প্রায় ছয় মাস আগে থেকে নিজ বাড়িতে আসন স্থাপন করে ভাড়ে বসে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেওয়ার দাবি করে আসছেন। প্রতিদিন সেখানে ৪০ থেকে ৫০ জন নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে আসতেন। প্রতি সোমবার রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যেত বলে স্থানীয়রা জানান।
সজীব ও তাঁর পরিবারের দাবি, গত ২৬ অক্টোবর সোমবার সকাল ১০টার দিকে তাঁদের বসতঘরের মেঝেতে একটি কবরের মতো স্থাপনা দেখা যায়। একই দিন রাত ১২টার দিকে এর পাশে আরও একটি কবরের মতো স্থাপনা দেখা যায়। তাঁদের দাবি, কবর দুটি বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী ও খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর।
বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার ওই বাড়িতে গিয়ে সজীব বেপারীর বসতঘরের মেঝের উত্তর পাশে দুটি স্থাপনা দেখা যায়। সেগুলো নতুন গামছা ও ফুলের মালা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। পশ্চিম পাশেরটি প্রায় দুই হাত এবং পূর্ব পাশেরটি প্রায় তিন হাত লম্বা। স্থাপনা দুটির পাশে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। তবে সজীবের বাবা ছালাম বেপারীকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
এ সময় সজীবের মা শিউলী বেগম বলেন, তাঁর ছেলে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ হননি। ছয় মাস আগে স্বপ্নে নির্দেশনা পাওয়ার পর নিজ বাড়িতে আসন স্থাপন করে ভাড়ে বসেন। এরপর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং বিভিন্ন মানুষকে রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।
স্থানীয়রা জানান, ছালাম বেপারীর বড় ছেলে সজীব আগে বিভিন্ন হোটেলে বয়ের কাজ করতেন।
সজীব বেপারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভাড়ে বসে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। গত ২৬ অক্টোবর সকালে তাঁর বসতঘরের মেঝেতে একটি কবরের মতো স্থাপনা দেখতে পান। একই দিন রাতে সেখানে আরও একটি স্থাপনা দেখা যায়। তাঁর দাবি, স্থাপনা দুটি বড় পীর আবদুল কাদের জিলানী ও খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর।
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফজলুল হক বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের ঘটনার কোনো ভিত্তি বা নজির নেই। প্রশাসন তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপম মজুমদার বলেন, ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। 


















