সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

আজ থেকে বাজারে মিলবে নতুন ডিজাইনের ৫ টাকার নোট

ছবি সংগৃহীত

নতুন ডিজাইন ও বৈশিষ্ট্যের ৫ টাকার নোট বাজারে এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকেই পাওয়া যাবে অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার স্বাক্ষরিত এই নোট।

 

প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস হতে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকে ইস্যু করা হবে।

‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন নতুন এই নোটের ডিজাইন ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য হলো-

নোটটির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৭ মি.মি × ৬০ মি.মি।

 

নোটের সম্মুখভাগের বামপাশে তারা মসজিদ, ঢাকার ছবি ও মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার ছবি এবং নোটের পিছনভাগে গ্রাফিতি-২০২৪ এর ছবি আছে।

 

নোটে জলছাপ হিসেবে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ’ এর নিচে উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ জলছাপ ‘5’ এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম’ রয়েছে।

নোটটিতে হালকা গোলাপী রঙের আধিক্য রয়েছে। নোটের বামদিকে বিদ্যমান ২ মি.মি. চওড়া নিরাপত্তা সুতাটি নোটের কাগজের ভিতরে প্রবিষ্ট যা আলোর বিপরীতে ধরলে উভয় দিক হতে দেখা যায়।

 

এ ছাড়া, নোটের সামনের দিকে নীচের গ্লিউইশ প্যাটার্নের উপরের অংশে মাইক্রোপ্রিন্ট হিসেবে আনুভূমিকভাবে অসংখ্য ‘BANGLADESH’ লেখা আছে।

 

নতুন ডিজাইন ও বৈশিষ্ট্যের ৫ টাকা মূল্যমান নোটের পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলিত সকল কাগুজে নোট এবং ধাতব মুদ্রাও যথারীতি চালু থাকবে।

 

এ ছাড়া, মুদ্রা সংগ্রাহকদের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা করে নিয়মিত নোটের পাশাপাশি ৫ টাকা মূল্যমান নমুনা নোট (যা বিনিময়যোগ্য নয়) মুদ্রণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক কারেন্সি মিউজিয়াম, মিরপুর থেকে নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।

 

উল্লাপাড়ায় তিন দিনব্যাপী ভূমি মেলার উদ্ধোধন করলেন হুইপ

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ১২:১৩:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় তিন দিনব্যাপী ভূমি মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলা চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি  বের হয়ে ভুমি অফিসে  গিয়ে শেষ হয়।
ভূমি সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা ভূমি অফিসের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়।
মেলায় বিভিন্ন সরকারি সেবা, নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন কর ও অনলাইন সেবা বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তার রিমা এবং ওসি তদন্ত রুপকর,উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক শাহজাহান আলী,উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন সহ অনেকে।

 

সব জল্পনার অবসান, বিশ্বকাপে যাচ্ছেন নেইমার

অনেক দিন ধরেই গুঞ্জন ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপে হয়তো দর্শক হয়ে থাকতে হতে পারে নেইমারকে।
কেননা ফিটনেসের সমস্যায় ভুগছেন ৩৪ বছর বয়সী তারকা। তাতে মৌসুমের বেশিরভাগ সময়ই চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে।
কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে শর্ত জুড়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপে সুযোগ পেতে হলে ফিটনেস পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হতে হবে। সুযোগ পাওয়ায় বলা যায় সেই পরীক্ষায় পাস করেছেন নেইমার। 

সান্তোসের হয়ে এবারের মৌসুমে ১৫ ম্যাচ খেলে ৬ গোল করেছেন। সঙ্গে ৪ গোলে সহায়তাও করেছেন সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজির ফরোয়ার্ড।নিশ্চয়ই ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে আরও দারুণ কিছু করার প্রত্যয় নিয়েই মাঠে নামবেন তিনি। কার্লো আনচেলত্তি নেইমারের নাম ঘোষণা করতেই রিও ডি জেনেইরোর মিউজিয়াম অব টুমরোতে করতালির ঝড় ওঠে।দল ঘোষণার আগে সিবিএফ টিভিকে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘যোগ্যতা, প্যাশন এবং অজ্ঞিতার সমন্বয়ে দলটি সাজানো হয়েছে। দলটি দারুণ হয়েছে। এটি কোনো নিখুঁত তালিকা না, তবে এমন একটি দল দেওয়া হয়েছে যেখানে ভুলের সংখ্যা সামান্য।

আমাদের মূল লক্ষ্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপকে জাঁকজমকপূর্ণ করে তোলা।’

 

এর আগে রিও ডি জেনেইরোর মিউজিয়াম অব টুমরোতে দল ঘোষণায় দেশি-বিদেশি প্রায় ৭০০ সংবাদকর্মীকে আমন্ত্রণ জানায় সিবিএফ। বিশেষ অতিথিরা তো ছিলেনই। উপস্থিত বিশেষ দর্শকদের বিমোহিত করতে গান, নাচ ও অভিনয়ের ব্যবস্থা করা হয় সিবিএফের পক্ষ থেকে। মাঝে মাঝে দেখানো হয় ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ইতিহাস। অন্যদিকে অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় সামনের সারিতে বিশ্বকাপের ফাইল হাতে বসে থাকতে দেখা যায় আনচেলত্তিকে। পারফরমারদের পারফরম্যান্স দেখে কখনো হাসতেছেন আবার কখনো করতালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।

 

বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে পড়েছে ব্রাজিল। আগামী ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপর ২০ জুন প্রতিপক্ষ হাইতি এবং ২৫ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ডের। আগামী ১১ জুন শুরু হবে ২০২৬ বিশ্বকাপ। এবারের আসরের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা।

 

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: অ্যালিসন, এদারসন ও ওয়েভারটন।
ডিফেন্ডার: ব্রেমার, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, ইবানেজ, লিও পেরেইরা, মার্কিনিওস অ্যালেক্স সান্দ্রো, দানিলো, ডগলাস সান্তোস ও ওয়েসলি।
মিডফিল্ডার: ব্রুনো গুইমারেস, কাসেমিরো, দানিলো দস সান্তোস, ফাবিনহো ও লুকাস পাকেতা।
ফরোয়ার্ড: নেইমার জুনিয়র, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি, ম্যাথিউস কুনিয়া, লুইজ হেনরিকে, এন্ড্রিক, ইগর থিয়াগো ও রায়ান।

 

৫০ লাখ টাকার হেরোইনসহ র‌্যাবের হাতে আটক নারী

সিরাজগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ৫০০ গ্রাম হেরোইনসহ মোছা. রেহেনা (৩৫) নামে এক নারীকে আটক করেছে র‌্যাব-১২ সদস্যরা।

 

সোমবার (১৮ মে) ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ সদর কোম্পানির কমান্ডার কাপ্টের তাবরীজ তাজওয়ার শরীফ। আটক রেহেনা রাজশাহী জেলার বাসিন্দা মো. মোস্তফার স্ত্রী।

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব কমান্ডার উল্লেখ করেন, গোপন সংবাদ ও তথ্য প্রযুক্তির ভিত্তিতে হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫০০ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়েছে।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে আটক নারী দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীর সীমান্ত এলাকা থেকে হেরোইন সংগ্রহ করে নিজে পরিবহন করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদক ব্যাবসায়ীদের নিকট সরবরাহ করে আসছে।

 

এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

 

 

ইউনূসের বিত্তবৈভব প্রতারণা ও জালিয়াতি

  • অদিতি করিম
  • আপডেট টাইম : ০৯:১২:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

ড. ইউনূস শান্তিতে নোবেলজয়ী। দেড় বছর অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সবকিছু ছাপিয়ে তিনি একজন আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর এবং লোভাতুর মানুষ হিসেবেই বিবেচিত হবেন। ড. ইউনূস অন্তর্র্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দেশের জন্য কিছু করুন আর না-ই করুন নিজের জন্য দুহাত ভরে বিভিন্ন সুযোগসুবিধা গ্রহণ করেছেন।

 

তবে ইউনূসের জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেড় বছর প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে তিনি যেভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজে নানা ধরনের আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন, তেমনি সারা জীবন সরকারি অর্থ দিয়ে ব্যবসা করে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। দারিদ্র্য বিমোচনের নামে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান গড়ে তিনি রাষ্ট্রের সম্পদ দিয়েই নিজে বিত্তবান হয়েছেন।
মুহাম্মদ ইউনূস। দেশের সমস্যা নিয়ে তিনি নীরব।

 

দেশের কোনো সংকটে, উৎসবে তিনি থাকেন না। ব্যক্তিস্বার্থে বিদেশে তিনি সরব। হামে শিশুমৃত্যু নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই। কিন্তু ট্রেড টার্নারের মৃত্যুতে তিনি মর্মাহত হয়ে শোকবার্তা দেন। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। দারিদ্র্য জাদুঘরে যায়নি বটে, তবে তিনি অর্থ, বিত্তবৈভবের জাদু দেখিয়েছেন। এখন ‘সামাজিক ব্যবসার’ আওয়াজ তুলে বিশ্বে বক্তৃতা দিচ্ছেন। সামাজিক ব্যবসা প্রবর্তন হোক না-হোক তার বিত্তের প্রসার ঘটেছে। শিক্ষক থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন বিলিয়নিয়ার। কিন্তু তার এই বিত্ত বেড়ে ওঠেছে গরিবের সম্পদ লুটে; সরকারকে ঠকিয়ে; রাষ্ট্রীয় সম্পদকে আত্মসাৎ করে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পেশাগত জীবনে অর্থনীতিবিদ হলেও নোবেল পেয়েছেন শান্তিতে।

 

জোবরা গ্রামে গবেষণা শুরু করেছিলেন ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নিয়ে। একসময় এই দরিদ্র, হতদরিদ্র মানুষদের স্বাবলম্বী করে তোলার কথা বলে দারস্থ হয়েছিলেন বাংলাদেশ সরকারের কাছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রস্তাবেই এরশাদ সরকার গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে। ড. ইউনূস সেখানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চাকরি নেন। ১৯৮৩ সালে এটি একটি বৈধ ও স্বতন্ত্র ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করে। সরকার গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে একটি আইনের মাধ্যমে ও সেখানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে।

 

১৯৮৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সরকার গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ নামে একটি অধ্যাদেশ (অধ্যাদেশ নম্বর-৪৬) জারি করে। সে সময়ে গ্রামীণ ব্যাংক শুরু হয় মাত্র ৩ কোটি টাকা মূলধন দিয়ে। এর মধ্যে বেশির ভাগ টাকা অর্থাৎ ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ছিল সরকারের এবং ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ছিল ঋণগ্রহীতাদের। অর্থাৎ গ্রামীণ ব্যাংকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত কোনো টাকা ছিল না। অথচ গ্রামীণ ব্যাংককে ব্যবহার করেই ড. ইউনূস পেয়েছেন সবকিছু। কাগজকলমে গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক সরকার এবং ঋণগ্রহীতা জনগণ। কিন্তু ‘অসাধারণ’ মেধায় রাষ্ট্র এবং জনগণের অর্থ ড. ইউনূস পুরে ফেলেন তার পকেটে। গ্রামীণ ব্যাংকের টাকায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস গড়ে তুলেছেন তার নিয়ন্ত্রণাধীন ২৮টি প্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ ব্যাংক তথা সরকারের টাকা আত্মসাৎ করে তিনি এখন হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

 

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দাতা গোষ্ঠী অনুদান ও ঋণ দেয় গ্রামীণ ব্যাংককে। অনুদানের সব অর্থ যদি রাষ্ট্র এবং জনগণের কাছে যায় তাহলে ড. ইউনূসের লাভ কি? তাই দাতাদের অনুদানের অর্থ দিয়ে গঠন করলেন সোশ্যাল ভেনচার ক্যাপিটাল ফান্ড (এসভিসিএফ)। ১৯৯২ সালের ৭ অক্টোরব ওই ফান্ড দিয়ে আলাদা একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৯৪ সালে ‘গ্রামীণ ফান্ড’ নামের একটি লিমিটেড কোম্পানি গঠন করা হয়। তাতে ওই ফান্ডের ৪৯ দশমিক ১০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়। গ্রামীণ ব্যাংক দেখিয়ে বিদেশ থেকে টাকা এনে তা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা ছিল শুরু থেকেই। গ্রামীণ ব্যাংক সরকারি প্রতিষ্ঠান হলেও ড. ইউনূস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে সব সিদ্ধান্ত একাই নিতেন। পরিচালনা পর্ষদ এমনভাবে গঠন করা হয়েছিল, যাতে কেউ ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে কথা না বলেন। ড. ইউনূস এই সুযোগটি কাজে লাগান। ১৯৯৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর গ্রামীণ ব্যাংকের ৩৪তম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয় দাতা গোষ্ঠীর অনুদানের অর্থ ও ঋণ দিয়ে সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফান্ড (এসএএফ) গঠন করা হয়। কিন্তু দাতারা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে এভাবে অর্থ সরিয়ে ফেলার আপত্তি জানান। তারা সাফ জানিয়ে দেন, এভাবে অর্থ স্থানান্তর জালিয়াতি। এবার ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেন ড. ইউনূস। আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে তিনি জানান এটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত। ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন বলে অঙ্গীকার করেন তিনি। পরে ২৫ এপ্রিল, ১৯৯৬ সালে তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড সভায় ‘গ্রামীণ কল্যাণ’ গঠনের প্রস্তাব আনেন।

 

প্রস্তাবে বলা হয়, গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য এবং কর্মীদের কল্যাণে ‘কোম্পানি আইন ১৯৯৪’-এর আওতায় ‘গ্রামীণ কল্যাণ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করা হলো। গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড সভা এই প্রস্তাব অনুমোদন করে। এটি গ্রামীণ ব্যাংকেরই অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। গ্রামীণ কল্যাণ যে গ্রামীণ ব্যাংকেরই শাখা প্রতিষ্ঠান, তা আরও স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় এর মূলধন গঠন প্রক্রিয়ায়। গ্রামীণ কল্যাণে গ্রামীণ ব্যাংকের সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফান্ড (এসএএফ) থেকে ৬৯ কোটি টাকা প্রদান করা হয়। গ্রামীণ কল্যাণের মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেলেও গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে। মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেল অনুযায়ী গ্রামীণ কল্যাণের ৯ সদস্যের পরিচালনা পরিষদের ২ জন সদস্য হবেন গ্রামীণ ব্যাংকের মনোনীত প্রতিনিধি। এ ছাড়াও গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান হবেন গ্রামীণ ব্যাংকের মনোনীত প্রতিনিধি। গ্রামীণ ব্যাংকের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে ড. ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান হন। এরপরে গ্রামীণ কল্যাণ হয়ে ওঠে ড. ইউনূসের ‘সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁস’।

 

গ্রামীণ কল্যাণের মাধ্যমে তিনি গড়ে তোলেন একাধিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-১. গ্রামীণ টেলিকম লি., ২. গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশন লি., ৩. গ্রামীণ শিক্ষা, ৪. গ্রামীণ নিটওয়্যার লি., ৫. গ্রামীণ ব্যবস্থা বিকাশ, ৬. গ্রামীণ আইটি পার্ক, ৭. গ্রামীণ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, ৮. গ্রামীণ সল্যুশন লি., ৯. গ্রামীণ ডানোন ফুডস লি., ১০. গ্রামীণ হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস লি., ১১. গ্রামীণ স্টার এডুকেশন লি., ১২. গ্রামীণ ফেব্রিক্স অ্যান্ড ফ্যাশন লি., ১৩. গ্রামীণ কৃষি ফাউন্ডেশন।

 

অন্যদিকে গ্রামীণ কল্যাণের আদলে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ফান্ডের মাধ্যমে গঠন করা হয় আরও কিছু প্রতিষ্ঠন। এগুলো হলো-১. গ্রামীণ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লি., ২. গ্রামীণ সল্যুশন লি., ৩. গ্রামীণ উদ্যোগ ৪. গ্রামীণ আইটেক লি., ৫. গ্রামীণ সাইবারনেট লি., ৬. গ্রামীণ নিটওয়্যার লি., ৭. গ্রামীণ আইটি পার্ক ৮. টিউলিপ ডেইরি অ্যান্ড প্রোডাক্ট লি., ৯. গ্লোব কিডস ডিজিটাল লি., ১০. গ্রামীণ বাইটেক লি., ১১. গ্রামীণ সাইবার নেট লি., ১২. গ্রামীণ স্টার এডুকেশন লি., ১২. রফিক অটোভ্যান মানুফ্যাকচারার লি., ১৩. গ্রামীণ ইনফরমেশন হাইওয়ে লি., ১৪. গ্রামীণ ব্যবস্থা সেবা লি., ১৫. গ্রামীণ সামগ্রী।

 

মজার ব্যাপার হলো, গ্রামীণ ব্যাংকের অর্থে ও বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ‘গ্রামীণ কল্যাণ’ ও ‘গ্রামীণ ফান্ড’ গঠিত হয়। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যে প্রতিষ্ঠানগুলো গঠিত হয়েছে- তা সবই আইনত গ্রামীণ ব্যাংকের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু ২০২০ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ ফান্ড এবং গ্রামীণ কল্যাণের পরিচালনা পর্ষদে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিনিধি থাকলেও ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠান দুটিতে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিনিধি নেই। গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই দুইটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হবেন গ্রামীণ ব্যাংকের মনোনীত ব্যক্তি। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখনো গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ ফান্ডের চেয়ারম্যান পদে বহাল আছেন। রাষ্ট্রের অর্থ দিয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার এই এক অদ্ভুত জালিয়াতি।

 

গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ ফান্ডের মাধ্যমে গঠিত ২৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একমাত্র গ্রামীণ টেলিকম ছাড়া আর সব প্রতিষ্ঠানই লোকসানি। গ্রামীণ টেলিকম দেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল নেটওয়ার্ক গ্রামীণফোনের ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ শেয়ারের মালিক। ২০২২ সালে গ্রামীণফোন ট্যাক্স, ভ্যাট দেওয়ার পর নিট মুনাফা করেছে ৩ হাজার ৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ গ্রামীণফোন থেকে গ্রামীণ টেলিকম প্রতিবছর নিট মুনাফা পায় ১ হাজার কোটি টাকার বেশি। গ্রামীণফোনের লভ্যাংশ নয়ছয় করা ছাড়া গ্রামীণ টেলিকমের আর কোনো কাজ নেই। একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে টাকা সরিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের মাধ্যমে যে প্রতিষ্ঠানগুলো গঠন করা হয়েছে; তার সবগুলোর চেয়ারম্যান ড. ইউনূস। আর এই প্রতিষ্ঠানগুলোর এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হয় ড. ইউনূসের একান্ত অনুগত ও বিশ্বস্তদের। এই প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠার এক বড় কার্যক্রম হলো গ্রামীণ টেলিকমের লাভের টাকা আত্মসাৎ করা ও আয়কর ফাঁকি।

গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ২৮ এবং ২৯-এর বিধান লঙ্ঘন করে গ্রামীণফোন লিমিটেড থেকে গ্রামীণ কল্যাণকে তার লভ্যাংশ আয়ের ৪২.৬% বিতরণ করে আসছে। যদিও গ্রামীণ কল্যাণ গ্রামীণফোন লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডার নয়। আইন অনুযায়ী গ্রামীণ টেলিকমের সমগ্র লভ্যাংশ আয়কে এর আয় হিসেবে ভোগ করতে হবে ও সেই অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আর্থিক বছরের জন্য প্রযোজ্য করপোরেট হারে কর দিতে হবে।

 

কিন্তু তাদের নিরীক্ষিত হিসাব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা গ্রামীণ টেলিকম থেকে গ্রামীণ কল্যাণকে তাদের লভ্যাংশ আয়ের প্রায় অর্ধেক প্রদান করেছে শুধু অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ১০-২০% হারে। অথচ আইন অনুযায়ী তাদের জন্য প্রযোজ্য করপোরেট করের হার ছিল ৩৫% থেকে ৩৭.৫% পর্যন্ত। এই করপোরেট রেট ও ডিভিডেন্ট ট্যাক্সের পার্থক্য কর ফাঁকি। কারণ গ্রামীণ কল্যাণ প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনোভাবেই গ্রামীণ টেলিকমের লভ্যাংশ আয়ের অধিকারী নয়। গ্রামীণ টেলিকম শুরু থেকে যেসব কর ফাঁকি দিয়েছে সেগুলো যোগ করলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। এই কর ফাঁকির হিসাব শুধু গ্রামীণ টেলিকমের। ড. ইউনূসের নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য কোম্পানি এবং প্রতিষ্ঠান ও তার ব্যক্তিগত আয়করের ক্ষেত্রেও ব্যাপকভাবে কর ফাাঁকির ঘটনা অনেকটা স্বাভাবিক নিয়মের মতোই বহু বছর ধরে ঘটেছে। ড. ইউনূসনিয়ন্ত্রিত অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কর ফাঁকির ঘটনাগুলো হিসাব করলে এই পরিমাণ দাঁড়াবে বিশাল অঙ্কের। এ নিয়ে মামলা হয়েছিল। হাই কোর্ট ইউনূসকে অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার অনাদায়ি কর পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল। ইউনূস সে সময় বলেছিলেন আদালত বলেছে কর দিতে আমি দেব। তিনি দাবি করেন, তিনি কর ফাঁকি দেননি, আদালতের নির্দেশনা চেয়েছেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই কর ফাঁকির মামলা প্রত্যাহার করান ড. ইউনূস।

 

গ্রামীণ টেলিকমের ২৮ বছরের কার্যক্রম চলাকালীন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি দেওয়া হয়। এই দীর্ঘ সময়ে ড. ইউনূস প্রতি বছর শতকরা ১৫ থেকে ২৫ ভাগ পর্যন্ত কর ফাঁকি দিয়ে আসছেন। ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গ্রামীণ টেলিকমে ড. ইউনূস ২৫% কর ফাঁকি দিয়েছেন। ওই সময়ে কর ছিল ৩৫%, প্রদান করেছিলেন মাত্র ১০%। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানে ড. ইউনূস কর ফাঁকি দিয়েছেন বছরে ২০%। ওই সময়ে কর ছিল ৩৫%, প্রদান করেছিলেন মাত্র ১৫%। ২০০৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ড. ইউনূস নিয়ন্ত্রিত গ্রামীণ টেলিকমে প্রতি বছর ১৫% কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে কর ছিল ৩৫%, আর প্রদান করেছিলেন মাত্র ২০%।

এটি লক্ষণীয় ড. ইউনূস তার কর ফাঁকির বিষয়গুলো ধামাচাপা দিতে দেশের আদালতে বেশ কিছু মামলা এবং রিট পিটিশন দায়ের করেন। এসব মামলা এবং রিটের উদ্দেশ্য হচ্ছে কর ফাঁকিসংক্রান্ত বিষয়ে ড. ইউনূসকে যেন আইনের মুখোমুখি হতে না হয়। ড. ইউনূসের করসংক্রান্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার কর ফাঁকির বিষয়গুলো দালিলিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ড. ইউনূসের কর ফাঁকির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় এবং নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের দ্বারা পরিচালিত তদন্তে এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে ড. ইউনূস নিজে ও তার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলো তার নির্দেশনাতেই কর ফাঁকির অপরাধে জড়িত। ইউনূস তার দেড় বছরের শাসনকালে তার বিরুদ্ধে চলমান এনবিআরের সব মামলা এবং তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে তিনটি। এই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তিনটি হলো যথাক্রমে- ১. সাউথইস্ট ব্যাংক, (অ্যাকাউন্ট নম্বর-০২১২১০০০২০০৬১), ২. স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংক, (অ্যাকাউন্ট নম্বর-১৮১২১২৭৪৭০১) এবং ৩. রূপালী ব্যাংক, (অ্যাকাউন্ট নম্বর-০৪৮৯০১০০০৮০৯৬)। এই তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মধ্যে ২০০০ সালে খোলা সাউথইস্ট ব্যাংকের অ্যাকাউন্টটি (অ্যাকাউন্ট নম্বর-০২১২১০০০২০০৬১) তার মূল ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হিসেবেই প্রতীয়মান হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টে ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১১৮ কোটি ২৭ লাখ ৭৬ হাজার ৩৬৮ টাকা রেমিট্যান্স এসেছে। এই রেমিট্যান্সের বেশির ভাগ ৪৭ কোটি ৮৯ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫২ টাকা এসেছে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে। সেই সময়েই একটি রাজনৈতিক দল গঠনেরও প্রয়াস করেছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি এক-এগারোর বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে ইউনূসের কাছে বিদেশ থেকে টাকা এসেছিল?

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ট্যাক্স ফাইল বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ২০০৩ সালের পরে নোবেল বিজয়ীর তকমাধারী ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার ট্যাক্স ফাইলে ২০০৫-০৬ করবছরে তিনি সর্বমোট ৯৭ কোটি ৪ লাখ ৬১ হাজার ১৯১ টাকা রেমিট্যান্স প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ওই সময়ে তার ব্যক্তিগত সাউথইস্ট ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে রেমিট্যান্স প্রাপ্তির পরিমাণ ১১৫ কোটি ৯৮ লাখ ৯৬ হাজার ২৪ টাকা। অর্থাৎ ওই সময়ে তিনি ১৮ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩৫ টাকার রেমিট্যান্স প্রাপ্তির তথ্য সরকারকে কর ফাঁকি দেওয়ার লক্ষ্যে তার ব্যক্তিগত ট্যাক্স ফাইলে গোপন করেছেন। এটি স্পষ্ট অর্থ পাচারের দোষে দুষ্ট।

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের ডেবিট অ্যানালাইসিসে উঠে এসেছে অপ্রদর্শিত অর্থসমূহের মূল অংশ তিনি সাউথইস্ট ব্যাংকের অন্য দুটি অ্যাকাউন্ট, সাউথইস্ট ব্যাংকের ১৫ নম্বর ব্রাঞ্চের ট্রাভেল ইন্টারন্যাশনাল লি. নামের (অ্যাকাউন্ট নম্বর- ৭৩৩০০০০০৩৩৩৯) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১১ কোটি ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৬৭ টাকা এবং ০০৩৫ নম্বর ব্রাঞ্চের (অ্যাকাউন্ট নম্বর-৯০৩০৩১৬০৯১০) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা স্থানান্তর করেছেন। অর্থ পাচারের জন্যই এভাবে টাকা এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়।

 

সরকারকে কর ফাঁকি দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর বছরে তিনি তার ব্যক্তিগত ট্যাক্স ফাইলে নিজস্ব সাউথইস্ট ব্যাংকে প্রাপ্ত বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্সের তথ্য গোপন করেছেন। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ১৫ কেটি ১১ লাখ ৩১ হাজার ৪৭ টাকা। কিন্তু তিনি তার ট্যাক্স ফাইলে প্রদর্শন করেছেন ৯ কোটি ১৪ লাখ ৫৮ হাজার ৪৮৯ টাকা। ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট এবং ট্যাক্স বা কর ফাইলের সঙ্গে এখানে পার্থক্য রয়েছে ৫ কোটি ৯৬ লাখ ৭২ হাজার ৫৫৯ টাকা। ২০০৮-০৯ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ১১ কোটি ৮৩ লাখ ১৪ হাজার ৪১০ টাকা। অথচ তিনি তার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ১০ কোটি ৪০ লাখ ২৪ হাজার ৮৩২ টাকা। এখানে তিনি ১ কোটি ৪২ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৮ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০০৯-১০ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ২০ কোটি ৯৫ লাখ ৫১ হাজার ১৯৫ টাকা। তিনি তার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ১৮ কোটি ৯৯ লাখ ২৮ হাজার ৭৩১ টাকা। এখানে তিনি ১ কোটি ৯৬ লাখ ২২ হাজার ৪৬৫ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০১০-১১ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ৮ কোটি ১৮ লাখ ৬৫ হাজার ২০৪ টাকা। অথচ তার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ৬ কোটি ৬০ লাখ ৪৪ হাজার ৯২ টাকা। এখানে তিনি ১ কোটি ৫৮ লাখ ২১ হাজার ১১২ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০১১-১২ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ৫ কোটি ৯১ লাখ ৫ হাজার ৫৮৬ টাকা। আর ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২ টাকা। এখানে তিনি ১ কোটি ২৫ লাখ ৬৯ হাজার ১৪ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০১২-১৩ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ৮ কোটি ৩৭ লাখ ২ হাজার ৭৭ টাকা। তিনি তার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ৬ কোটি ৫০ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৫ টাকা। এখানে তিনি ১ কোটি ৮৬ লাখ ৩৫ হাজার ৪১২ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০১৩-১৪ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ১০ কোটি ৫৫ লাখ ৪২ হাজার ৩৩৬ টাকা। তিনি তার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ৭ কোটি ৯৮ লাখ ৫৯ হাজার ৫৪৪ টাকা। এখানে তিনি ২ কোটি ৫৬ লাখ ৮২ হাজার ৭৯৩ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০১৪-১৫ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ৭ কোটি ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ২০৭ টাকা। অথচ ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ৫ কোটি ১৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৯৮ টাকা। এখানেও তিনি ১ কোটি ৯৭ লাখ ৯৫ হাজার ৬০৯ টাকার তথ্য গোপন করেছেন।

 

২০০০ সালের পর থেকে এমন প্রতিটি কর বছরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়ে কোটি কোটি টাকার তথ্য গোপন করে সরকারের কর ফাঁকি দিয়েছেন। ২০০৫-০৬ কর বছর থেকে শুরু করে চলতি কর বছর পর্যন্ত সরকারকে কর ফাঁকি দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি ১৮ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩৫ টাকা রেমিট্যান্সের তথ্য গোপন রেখেছেন। মজার ব্যাপার হলো, ২০২০-২১ অর্থবছরে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় সব টাকা তুলে ‘ইউনূস ট্রাস্ট’ গঠন করেন। ট্রাস্টের টাকা আয়করমুক্ত। সেই হিসাব থেকেই এমন কাণ্ড করেন তিনি। কিন্তু এরকম ফান্ডের জন্য ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়, এটি তিনি দেননি। এই ট্যাক্স ফাঁকির কারণেই তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এই মামলায় তিনি হেরে যান।

 

ড. ইউনূস ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার জন্য যে ট্রাস্ট গঠন করেন তার একটি মাত্র কার্যক্রম দেখা যায়। তা হলো ড. ইউনূস ও তার পরিবারের সব ব্যয় বহন করা হয় এই ট্রাস্টের টাকায়। এটাও এক ধরনের জালিয়াতি। এই ট্রাস্ট যেই ধরনের সমাজসেবামূলক কার্যক্রম করবে বলে আঙ্গীকার করা হয়েছে, তার কিছুই করে না। তাহলে কি কর ফাঁকি দিয়ে বিলাসী জীবন যাপনের জন্যই এই ট্রাস্ট? একজন নোবেলজয়ী ব্যক্তি, কীভাবে রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে এই রকম প্রতারণা করতে পারেন?

 

সারা জীবন ইউনূস যেভাবে নিজের স্বার্থে রাষ্ট্রের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন ক্ষমতায় গিয়েও তিনি একই কাজ করেছেন। তিনি ১৮ মাস দেশের জন্য কিছুই করেননি। সবকিছু করেছেন নিজের জন্য। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গ্রামীণসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরকারি অনুমোদন ও সুবিধা পেতে শুরু করে। অন্তর্র্বর্তী সরকারের আমলে নিবন্ধন, অনুমোদন, করছাড়সহ বেশ কিছু সুবিধা পেয়েছে গ্রামীণসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ঢাকায় গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে গ্রামীণ অ্যামপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স, গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমতি। এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ ও সরকারিভাবে ব্যাংকে শেয়ারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

 

ড. ইউনূস ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থ পাচারের মামলা দ্রুত খারিজ হয়ে যাওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি নামে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গ্রামীণ ট্রাস্টের অধীনে চলবে। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর আবেদন জমা দেওয়ার তিন মাসের মধ্যেই এটি অনুমোদন পায়। অন্তর্র্বর্তী সরকারের আমলে অনুমোদিত প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এটি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ অ্যামপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড (জিইএসএল) বিএমইটি থেকে একটি লাভজনক জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স (জখ ঘড়. ২৮০৬) পায় এবং এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সদস্যপদ লাভ করে। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই গ্রামীণ টেলিকমের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডর (পিএসপি) হিসেবে কাজ করার জন্য অনুমোদন পায়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ‘অনাপত্তি সনদ’ (এনওসি) পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি পিএসপি লাইসেন্স পায়। ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল অন্তর্র্বর্তী সরকার একটি বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য নতুন অধ্যাদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে সরকারের মালিকানা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়।

 

বৈঠকটি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। নতুন অধ্যাদেশে শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা হয় এবং বোর্ডে নির্বাচিত ৯ জন সদস্যের মধ্য থেকে ৩ জন পরিচালক মনোনীত হবেন, যাদের মধ্য থেকে একজনকে বোর্ড চেয়ার হিসেবে নির্বাচন করা হবে। এতে সরকারের চেয়ার নিয়োগের ভূমিকা বাতিল হয়। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার দুই মাস পর ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গ্রামীণ ব্যাংককে ২০২৯ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য কর অব্যাহতি দেয়। অন্যদিকে ড. ইউনূস গত বছরের ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পরই অর্থ পাচার মামলায় ঢাকার একটি আদালত তাকে খালাস দেয়। এ ছাড়া শপথ নেওয়ার আগের দিনই শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ইউনূসসহ গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালকদের যে ছয় মাসের কারাদণ্ড হয়েছিল, সেই মামলাতেও আদালত তাদের খালাস দেন।

 

এভাবেই ইউনূস যখনই সুযোগ পেয়েছেন তখনই জালিয়াতি এবং প্রতারণার মাধ্যমে তার বিত্তবৈভব বাড়িয়ে নিয়েছেন। ২০০৬ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সময় ইউনূস বলেছিলেন দারিদ্র্য জাদুঘরে যাবে। কিন্তু দারিদ্র্যের হার গত ২৬ বছরে আরও বেড়েছে। বিশেষ করে ইউনূসের শাসনকালে বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। কিন্তু তাতে কী? ইউনূস এ সময় হয়েছেন আরও বিত্তবান। আর তার এই বিত্তবৈভব কষ্ট করে অর্জিত নয়, স্রেফ প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত তার সম্পদের পাহাড়।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

 

 

দুপুরের মধ্যে ঝড়-বজ্রবৃষ্টি হতে পারে যে ৫ অঞ্চলে

দেশের পাঁচ অঞ্চলের ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর পুনঃ সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এজন্য এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

 

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

 

অন্যদিকে পটুয়াখালীসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

 

পরবর্তী কয়েক দিনেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্ধিত পাঁচ দিনের শেষদিকে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

এছাড়া আজ রাজধানী ঢাকায় দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। তবে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার সময় এর গতি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

 

মসজিদে ৩ জনকে গুলি করে হত্যার পর দুই কিশোরের আত্মহত্যা

সান ডিয়েগোর একটি মসজিদে দুই কিশোর বন্দুকধারী গুলি চালিয়ে তিনজনকে হত্যা করে এবং এরপর কয়েক ব্লক দূরে আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ এই হামলাটিকে একটি বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে। সোমবার (১৮ মে)  সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

খবর বার্তা সংস্থা এপির

সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারের  বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট হুমকি দেওয়া হয়নি, তবে কর্তৃপক্ষ এমন প্রমাণ পেয়েছে যে সন্দেহভাজনরা “সাধারণ বিদ্বেষমূলক বক্তব্য” দিয়েছে, বলেছেন সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল। তিনি আরও বিস্তারিত জানাতে অস্বীকার করলেও বলেছেন, “যে পরিস্থিতি এই ঘটনার দিকে নিয়ে গেছে” তা আগামী দিনগুলোতে সামনে আসবে।

 

ওয়াল বলেন, হামলার আগে থেকেই কর্মকর্তারা একজন কিশোরের সন্ধান করছিলেন, কারণ তার মা উদ্বিগ্ন হয়ে পুলিশকে ফোন করে জানান যে তার ছেলে আত্মহত্যাপ্রবণ এবং পালিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, বাড়ি থেকে অস্ত্রশস্ত্র এবং মায়ের গাড়িটিও পাওয়া যায়নি।

 

তিনি বলেন, পুলিশ যখন জানতে পারে যে ছেলেটি ছদ্মবেশে ছিল এবং একজন পরিচিতের সাথে ছিল, তখন অনুসন্ধান আরও জরুরি হয়ে ওঠে — এই বিবরণগুলো এমন কারো জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল যে আত্মহত্যা করতে চলেছে।

 

১৭ ও ১৮ বছর বয়সীদের খুঁজে বের করতে পুলিশ স্বয়ংক্রিয় লাইসেন্স প্লেট রিডারসহ সম্ভাব্য সব প্রযুক্তি ব্যবহার করতে শুরু করে। পুলিশ যেখানে গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করেছিল, তার কাছাকাছি একটি শপিং মলে কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয় এবং কর্মকর্তারা এমন একটি স্কুলকে সতর্ক করেন যেখানে সন্দেহভাজনদের মধ্যে অন্তত একজন পড়ত, বলেন ওয়াল।

 

কিশোর-কিশোরীরা কোথায় থাকতে পারে সে বিষয়ে কর্মকর্তারা যখন মা-কে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তারা মসজিদে গোলাগুলির খবর পান।

 

ওয়াহল বলেন, নিহতদের মধ্যে মসজিদের একজন নিরাপত্তাকর্মীও ছিলেন, যিনি হামলাটিকে “আরও ভয়াবহ” হওয়া থেকে বিরত রাখতে “একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন” বলে পুলিশ মনে করে।

 

পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বলেন, “এটা বলাই যায় যে তার কাজ ছিল বীরত্বপূর্ণ। নিঃসন্দেহে তিনি আজ প্রাণ বাঁচিয়েছেন।”

 

এর ওয়েবসাইট অনুসারে, এই কেন্দ্রটি সান ডিয়েগো কাউন্টির বৃহত্তম মসজিদ এবং এর মধ্যে আল রশিদ স্কুলও রয়েছে, যেখানে ৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য আরবি ভাষা, ইসলাম শিক্ষা এবং কোরআনের কোর্স করানো হয়।

 

ওয়াল বলেন, ফোন পাওয়ার চার মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা পৌঁছানোর সাথে সাথেই কয়েক ব্লক দূরে গুলির শব্দ শোনা যায়, যেখানে একজন ল্যান্ডস্কেপারকে গুলি করা হলেও তিনি অক্ষত ছিলেন। তিনি জানান, কাছাকাছি একটি রাস্তার মাঝখানে থেমে থাকা একটি গাড়ির ভেতর থেকে হামলাকারীদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

 

আকাশ থেকে ধারণ করা টিভি ফুটেজে দেখা যায়, কেন্দ্রটির পার্কিং লটটি অসংখ্য পুলিশের গাড়ি দিয়ে ঘেরা ছিল এবং সেখান থেকে এক ডজনেরও বেশি শিশুকে হাত ধরে বের করে আনা হচ্ছিল। মসজিদটি বাড়িঘর, অ্যাপার্টমেন্ট এবং শপিং মলের একটি এলাকায় অবস্থিত, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের রেস্তোরাঁ ও বাজার রয়েছে।

 

অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার জন্য কাছাকাছি একটি এলাকায় যেতে বলা হয়।

 

মসজিদটির পরিচালক ইমাম তাহা হাসানে এটিকে “একটি উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত জঘন্য কাজ” বলে অভিহিত করেছেন।

 

তিনি বলেন, “আমাদের এই সুন্দর শহরের সমস্ত উপাসনালয় সর্বদা সুরক্ষিত থাকা উচিত।”

 

তিনি আরও বলেন যে, কেন্দ্রটি আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক এবং সম্প্রদায় গঠনের উপর গুরুত্ব দিত এবং সোমবার সকালে একদল অমুসলিম ইসলাম সম্পর্কে জানতে মসজিদটি পরিদর্শন করছিলেন।

 

ইসলামিক সেন্টারের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে যে, এর লক্ষ্য শুধু মুসলিম জনগোষ্ঠীর সেবা করাই নয়, বরং “বৃহত্তর সম্প্রদায়ের সাথে মিলে সুবিধাবঞ্চিতদের সেবা করা, শিক্ষা প্রদান করা এবং আমাদের দেশকে আরও উন্নত করা।” সেখানে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং মসজিদটি অন্যান্য সংস্থা ও সকল ধর্মের মানুষের সাথে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অধিকার রক্ষা গোষ্ঠী ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস’ এই গুলির ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।

 

সিএআইআর-সান ডিয়েগোর নির্বাহী পরিচালক তাজিন নিজাম এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রার্থনা বা পড়াশোনা করার সময় কারও নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পাওয়া উচিত নয়। আমরা এই ঘটনা সম্পর্কে আরও জানতে কাজ করছি এবং সবাইকে এই সম্প্রদায়ের জন্য প্রার্থনা করতে উৎসাহিত করছি।”


চিলমারিতে ১২ কেজি গাঁজাসহ যশোরের নারী আটক

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে অভিযান চালিয়ে ১২ কেজি গাঁজাসহ এক নারী মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৮ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চিলমারী থানার মাটিকাটা মোড় এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেফতারকৃত নারী হলেন যশোর জেলার অভয়নগর থানার নোয়াপাড়া এলাকার মোছাঃ নাজমিন আক্তার (২২)। পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের মিডিয়া অফিসার ও উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে চিলমারী থানাধীন মাটিকাটা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় চিলমারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কামারখন্দে বোরো মৌসুমে সরকারি ভাবে ধান চাল সংগ্রহ শুরু

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদাম প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডা. বিপাশা হোসাইন।

 

 

 

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে স্বচ্ছ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যে কৃষি অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষক সরবরাহকৃত তালিকা থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে।

 

 

 

এ বছরে বোরো মৌসুমে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের কৃষক এবং মিলারদের কাছ থেকে থেকে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে ৬৭৯ মেট্রিক টন, প্রতি কেজি চাল ৪৯ টাকা দরে ১ হাজার ৪শত ৯৩ মেট্রিক টন সংগ্রহ করা হবে। সরকারিভাবে এই ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম ১৮ মে শুরু হয়ে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

 

 

 

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা এসএম শফিকুল ইসলাম তালুকদার ছাড়াও ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মিলার হাজী মনোয়ার, কৃষক রুহুল আমিনসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

 

 

 

উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, সংগ্রহ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

 

রাণীনগরে পাইকারি দোকানের চাল কেটে দেড় লাখ টাকার সিগারেট চুরি

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর বাজার চারমাথা এলাকায় ওমর সুপার মার্কেটে একটি পাইকারি দোকান থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার সিগারেট চুরি হয়েছে। চোরেরা দোকানের চালের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে এই চুরির ঘটনা ঘটায়।
চুরি যাওয়া দোকানটি রাণীনগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাহাজুল ইসলামের মালিকানাধীন “মেসার্স সাহাজুল ট্রেডার্স”। রোববার রাত আনুমানিক ১০টায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরেন তিনি। পরদিন সোমবার সকালে দোকান খুলতে এসে দেখেন মালপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। ভেতরে ঢুকে দেখতে পান, চোরেরা চালের টিন কেটে প্রবেশ করে বেনসন, গোল্ড লিফ, স্টার-সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট চুরি করে নিয়ে গেছে।
খবর পেয়ে রাণীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এরপর দুপুরে ভুক্তভোগী সাহাজুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের গ্রেফতার ও চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে।

তাড়াশে খড়ের গাদায় আগুন, ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের কাজিপুর গ্রামে খড়ের গাদায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে একটি বসতবাড়ি।

সোমবার (১৮মে) বিকেলে রুহুল আমিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই বাড়ির পাশে রাখা খড়ের গাদায় আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে স্থানীয়রা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মইনুদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা না গেলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে স্টেশন মাস্টার মইনুদ্দিন বলেন, শুষ্ক মৌসুমে খড়, কুটো ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থের পাশে আগুন ব্যবহার থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সামান্য অসাবধানতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

বাবাকে গুরুতর জখম, ছেলের ১২ বছরের কারাদণ্ড

রাজধানীর বাড্ডায় পারিবারিক বিরোধের জেরে গজালযুক্ত বাঁশ দিয়ে বাবার চোখ অন্ধ করে দেওয়ার মামলায় ছেলে এমদাদুল হক বাদলকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে মামলার অপর আসামি ও বাদলের স্ত্রী মোছা. রতনাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

সোমবার (১৮ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

 

 

 

রায়ের নথি অনুযায়ী, মামলায় এমদাদুল হক বাদলের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৬ ও ৫০৬ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ সাজা দেন। তবে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ৩০৭ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে ওই ধারায় খালাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্ত্রী রতনার বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তাকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উত্তর বাড্ডার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ একই ভবনের দ্বিতীয় তলায় এবং তার ছেলে বাদল তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। ঘটনার দিন বাড়ির কেয়ারটেকার ছামিউল হক বাদলকে জানান, তার বাবা টাকা চাইছেন। পরে বাদল নিচে গিয়ে বাবার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বাগ্‌বিতণ্ডা ও গালিগালাজ শুরু হলে আব্দুল লতিফ প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাদল প্রায় ১০ ফুট লম্বা একটি বাঁশের মাথায় কাপড় প্যাঁচানো লোহার গজাল দিয়ে বাবার বাম চোখে আঘাত করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

আঘাতে আব্দুল লতিফ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর বাদল তার শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত করেন বলে আদালতে সাক্ষীরা জানান। রক্তাক্ত অবস্থায় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত জব্দ তালিকা, মেডিকেল সনদ এবং নয়জন সাক্ষীর জবানবন্দি উপস্থাপন করে।

 

 

 

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহবুবুল আলম আদালতকে জানান, ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা গেঞ্জি, একটি বাঁশ, বাঁশের মাথায় লাগানো লোহার গজাল এবং সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা হয়। পরে ফুটেজ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়।

আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে উঠে আসে, বাদল ও তার বাবার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার সময় চিৎকার শুনে ভবনের বাসিন্দারা বাইরে এসে আব্দুল লতিফকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। কয়েকজন সাক্ষী বাদলের হাতে বাঁশ দেখেছেন বলেও আদালতে সাক্ষ্য দেন।

 

 

তবে আসামিপক্ষ দাবি করে, ঘটনাটি সাজানো এবং ভুক্তভোগী পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। কিন্তু সাক্ষ্য, চিকিৎসা নথি, সিসিটিভি ফুটেজ ও ফরেনসিক আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগের মূল অংশ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন।

 

 

কামারখন্দে বোরো মৌসুমে সরকারি ভাবে ধান চাল সংগ্রহ উদ্ভোধন

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদাম প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডা. বিপাশা হোসাইন।

 

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে স্বচ্ছ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যে কৃষি অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং  উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষক সরবরাহকৃত তালিকা থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে।

 

এ বছরে বোরো মৌসুমে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের কৃষক এবং মিলারদের কাছ থেকে থেকে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে ৬৭৯ মেট্রিক টন, প্রতি কেজি চাল ৪৯ টাকা দরে ১ হাজার ৪শত ৯৩ মেট্রিক টন সংগ্রহ করা হবে। সরকারিভাবে এই ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম ১৮ মে শুরু হয়ে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

 

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা এসএম শফিকুল ইসলাম তালুকদার ছাড়াও ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মিলার হাজী মনোয়ার, কৃষক রুহুল আমিনসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

 

উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, সংগ্রহ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

 

 

সিরাজগঞ্জে ১২৬ কেজি পলিথিন জব্দ, জরিমানা ৫ হাজার টাকা

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কড্ডার মোড় এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন শপিং ব্যাগের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১২৬ কেজি পলিথিন জব্দ করা হয়েছে। এ সময় এক দোকান মালিককে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
রোববার (১৮ মে ২০২৬) বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার জনাব এহসান আহমেদ খান। অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মোঃ শাহিন আলম।
অভিযানকালে কড্ডার মোড় এলাকার একটি দোকানে তল্লাশি চালিয়ে মোট ১২৬ কেজি নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন শপিং ব্যাগ জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে দোকান মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।
অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ দূষণ রোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

সংবাদ প্রকাশের পর বদলানো হলো পচা দুর্গন্ধযুক্ত ভিজিএফের চাল

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ভিজিএফের পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত চাল বদলে নতুন চাল সরবরাহ করা হয়েছে। কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগ নেয়।
সোমবার (১৮ মে) সকালে ধামাইনগর ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় কয়েকটি বস্তার চাল থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার অভিযোগ ওঠে। উপকারভোগীরা জানান, কিছু চাল ছিল পচা ও নিম্নমানের। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরে অনলাইন গণমাধ্যম “জনতার কন্ঠ”-এ ‘রায়গঞ্জে দুঃস্থদের মাঝে পচা-দুর্গন্ধযুক্ত চাল বিতরণের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। সংবাদ প্রকাশের পর চার বস্তা চাল পরিবর্তন করে ভালো মানের চাল সরবরাহ করা হয়।
ধামাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রোজিন পলাশ বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। পরে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত চার বস্তা চাল বদলে ভালো মানের চাল দেওয়া হয়েছে।”
বিষয়টি নিশ্চিত করে রায়গঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “চার বস্তা চাল নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভালো মানের চাল সরবরাহ করা হয়েছে।”
এর আগে চাল বিতরণ কার্যক্রমে সহায়তাকারী স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, কয়েকটি বস্তার চাল থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে উপকারভোগীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেয়। পরে সংশ্লিষ্টরা পচা চাল আলাদা করে রেখে নতুন চাল সরবরাহ করেন।
স্থানীয় উপকারভোগীরা জানান, সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ না করা হয়, সে দাবিও জানান তারা।

 

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ইয়াবাসহ আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ আওয়ামী লীগের এক নেতা ও তার সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ও নগদ ১১ হাজার ২১৫ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন— সলঙ্গা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রৌহাদহ গ্রামের আরহম আলীর ছেলে বাদশা এবং একই গ্রামের মৃত তাহের আলীর ছেলে সাবেদ আলী। সাবেদ আলী স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাতে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রৌহাদহ গ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তাদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নগদ ১১ হাজার ২১৫ টাকা উদ্ধার করা হয়।
ওসি আসলাম হোসেন জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

চৌমুহনীতে ট্রাকচাপায় নিহত মাওলানা বেলাল

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক, প্রাবন্ধিক ও সংগঠক মাওলানা বেলাল হোসাইন ফতেহপুরী (৫০) সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ও দুই কন্যা গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (১৮ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, মাওলানা বেলাল হোসাইন ফতেহপুরী স্ত্রী তামান্না রহমান (৪৫) এবং দুই মেয়ে তালভিয়া রহমান (১২) ও মুসতারি রহমান তাসফিয়া (৫)-কে নিয়ে চৌমুহনীর হলি কেয়ার হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ফেরার পথে ফেনী-নোয়াখালী ফোর-লেন মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মালবাহী ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১২-৩০২৫) তাদের চাপা দেয়।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মাওলানা বেলাল হোসাইন ফতেহপুরী নিহত হন। এসময় তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মাওলানা বেলাল হোসাইন ফতেহপুরী সেনবাগ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের বরকান্দাজ বাড়ি (প্রকাশ বেতাকিয়া বাড়ি) এলাকার মৃত মুগবুল আহমেদের ছেলে। তিনি ফতেহপুর ইসলামিয়া মাদরাসার মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়াও তিনি “যৌতুক প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশ” এবং হুফফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন, নোয়াখালী শাখার মহাসচিব ছিলেন। শিক্ষা, সমাজসেবা ও সাহিত্যচর্চায় তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে নিয়মিত কলাম লিখতেন এবং তার রচিত একাধিক বই ও প্রবন্ধ রয়েছে।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল আকবর দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “এ ঘটনায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। ঘাতক ট্রাকটি আটক করেছে পুলিশ।

 

সিরাজগঞ্জে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জে ব্র্যাক সিড এন্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজ আয়োজিত টেকসই কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বায়োপেস্টিসাইডের ব্যবহার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

সোমবার শহরের পৌর নিউ মার্কেট কমিটি সেন্টারে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এস এম নাসিম হোসেন।

 

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, ব্র্যাক বগুড়া ১ রিজিওনের আর এস এম মো: ফেরদৌস আলম। আরও উপস্থিত ছিলেন, উল্লাপাড়ার টিএসও আল আমিন, টিএসও কৃষিবিদ মধুসূদন কুমার মন্ডল, ডিলার মো: মামনুল ইসলাম পাপ্পুসহ স্থানীয় রিটেইলার ও ৫০ জন প্রকৃত কৃষক।

 

 

উক্ত অনুষ্ঠানে ব্র্যাক সিডের সবজি, হাইব্রিড ধান, উফসি ধান বীজ, বায়োপেস্টিসাইড, জৈব সার এর ব্যবহার, সকল বীজের আধুনিক চাষাবাদ কলা-কৌশল এবং বায়োপেস্টিসাইডের ব্যবহারের উপকারি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

 

অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের মাঝে সবজি বীজ এবং বায়োপেস্টি সাইড বিতরণ করা হয়।

 

নেইমারের বিশ্বকাপ দলে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ব্রাজিলিয়ানরা

বাংলাদেশ সময় মধ্য রাতে বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। সেই দলে নেইমার শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেন কি না, তা জানার আগ্রহ এখন তুঙ্গে।

 

 

নেইমারকে দলে রাখা উচিত কি না—এ প্রশ্নে বিভক্ত ব্রাজিলের ফুটবল সমর্থকরা। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘জি ই’ পরিচালিত এক অনলাইন জরিপে খুব অল্প ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ‘না’ ভোট।

 

 

জরিপে মোট ভোট পড়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৭২৩টি। এর মধ্যে নেইমারকে বিশ্বকাপ দলে না রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৫০ দশমিক ৭৯ শতাংশ সমর্থক, সংখ্যায় যা ৬৭ হাজার ৪০৬। আর তাকে দলে দেখতে চান ৪৯ দশমিক ২১ শতাংশ, অর্থাৎ ৬৫ হাজার ৩১৭ জন।

ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দলে আছেন নেইমার। গত সপ্তাহে এই তালিকা পাঠানো হয়েছে ফিফার কাছে। সোমবার চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করবেন ইতালিয়ান এই কোচ।

 

ধর্ষণের দায়ে তিনজনকে যাবজ্জীবন দিল আদালত

সুনামগঞ্জের ছাতকে ধর্ষণ মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অপর এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

 

 

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এ রায় দেন।

 

 

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ছাতক উপজেলার হাসামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালিকের ছেলে মতিউর রহমান মতিন, খোয়াজ আলীর ছেলে দিলদার হোসেন এবং কামারগাঁও গ্রামের হাবিবুর ইসলামের ছেলে বিল্লাল হোসেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১১ আগস্ট সকালে নানাবাড়িতে যাওয়ার পথে এক তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় মতিউর রহমান মতিন ও দিলদার হোসেন। পরে একটি বাড়িতে নিয়ে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। পরে বিল্লাল হোসেনসহ আরও একজনের সহযোগিতায় ওই তরুণীকে অন্যত্র নিয়ে ফের ধর্ষণ করে।

ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়রা কয়েকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে ছাতক থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় মতিউর রহমান মতিন ও দিলদার হোসেনকে ১৪ বছর কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া একই আইনের ৯(৩) ধারায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

 

 

একই ধারায় অপর আসামি বিল্লাল হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 

 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মো. শামছুর রহমান বলেন, মামলার রায় শুনানির সময় মতিউর রহমান ও দিলদার হোসেন উপস্থিত থাকলেও দণ্ডিত অপর আসামি বিল্লাল পলাতক ছিলেন। আদালতের কাছে আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি।

মুশফিকুর রহিমের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ

প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের সেঞ্চুরি আর বোলারদের কল্যাণে লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমে দারুণ ব্যাটিং করে টাইগার ব্যাটাররা। মুশফিকুর রহিমের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ।

 

 

নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৩৯০ রান করেছে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে স্বাগতিকরা লিড পেয়েছে ৪৩৬ রানের। তাই পাকিস্তানকে জিততে হলে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে হবে। টেস্টে সর্বোচ্চ ৪১৮ রানের লক্ষ্য জয়ের বিশ্বরেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের দখলে।

 

 

সোমবার (১৮ মে) ১৫৬ রানের লিড নিয়ে তৃতীয় দিন ব্যাটে নামে বাংলাদেশ। ১৩ রানে অপরাজিত থাকা নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ক্রিজে নামেন মুশফিকুর রহিম।

দিনের পঞ্চম ওভারে বাংলাদেশ উইকেট হারায়। শান্ত ৪৬ বলে ১৫ রান করে এলবিডব্লিউ হন। ক্রিজে নামেন লিটন দাস। ৪১তম ওভারের তৃতীয় বলে তার সিঙ্গেলে বাংলাদেশ লিড নেয় ২০০ রানের। দুজনে মিলে ৮৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে প্রথম সেশন শেষ করেন। লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ছিল ২৪৯ রানের।

লাঞ্চ থেকে ফিরে লিটন দাস পেয়ে যান ২০তম হাফ সেঞ্চুরি। ৬ বলে ৪৮ রান করে প্রথম সেশন শেষ করেন লিটন। দ্বিতীয় সেশনে নেমে নিজের প্রথম বলেই পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬৯ রানে থামেন লিটন। এরপর মেহেদি মিরাজ উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৩৯ বল খেলে ১৯ রান করেছেন তিনি।

১৭৮ বল খেলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন মুশফিক। টেস্টে এটি তার ১৪তম সেঞ্চুরি। লাল বলের ক্রিকেটে এখন বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ২৩৩ বলে ১৩৭ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে।

 

 

মুশফিককে শেষদিকে ভালো সঙ্গ দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। তিনি ৫১ বলে করেছেন ২২ রান। এ ছাড়া তাসকিন আহমেদ ১৩ বলে ৬ ও শরিফুল ইসলাম ১২ রান করেছেন ১৫ বল খেলে।

 

ঈদ উপলক্ষে ৭ দিনের ব্যাংক বন্ধ ঘোষণা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিন দেশের তফসিলি ব্যাংকসমূহ বন্ধ থাকবে। আগামী সোমবার (২৫ মে) থেকে রোববার (৩১ মে) পর্যন্ত এই ব্যাংকগুলো বন্ধ থাকবে।

 

 

সোমবার (১৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার (২৩ মে) ও রোববার (২৪ মে) তফসিলি ব্যাংকসমূহের সব শাখা ও উপ-শাখা স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকবে। এরপর সোমবার (২৫ মে) থেকে রোববার (৩১ মে) পর্যন্ত ব্যাংকসমূহ বন্ধ থাকবে।

তবে ঈদের আগে তৈরি পোশাক শিল্প খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলো ২৫ ও ২৬ মে সীমিত পরিসরে চালু থাকবে। এসব শাখায় অফিস সময় হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত এবং লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

এছাড়া সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা, উপ-শাখা ও বুথসমূহে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত আকারে চালু রাখতে হবে।

এ ক্ষেত্রে সোমবার (২৫ মে) থেকে রোববার (৩১ মে) পর্যন্ত (ঈদের দিন ছাড়া) সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিধি অনুযায়ী ভাতা পাবেন বলে জানানো হয় নির্দেশনায়।

 

শ্বশুরের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে জেলে গেলেন পুত্রবধূ

ঝালকাঠিতে শ্বশুরের বিরুদ্ধে দায়ের করা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদী পুত্রবধূকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে মামলার আসামি শ্বশুরকে জামিন দেওয়া হয়েছে।

 

 

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে ঝালকাঠির চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম কবির হোসেন এ আদেশ দেন।

 

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, জেলার নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনিয়নের ইশ্বরকাঠি গ্রামের এক গৃহবধূ তার শ্বশুরের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে নলছিটি থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।

পরে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলাটি মিথ্যা বলে প্রতীয়মান হয়। এ অবস্থায় আদালত মামলার বাদী পুত্রবধূকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই আদেশে অভিযুক্ত শ্বশুর জামিন লাভ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আসামিপক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট আক্কাস সিকদার বলেন, অভিযোগের পক্ষে কোনো সত্যতা না পাওয়ায় আদালত বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং আসামিকে জামিন দিয়েছেন।

 

কর আদায় না বাড়লে অর্থনীতিতে ঝুঁকি বাড়বে

কর আদায় বাড়ানো না গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি দেশের অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।

 

 

তিনি বলেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়ালে সরকারের ব্যয় ও ঋণের চাপ আরও বাড়বে।

 

 

সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ : রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, উন্নয়ন ব্যয় বাড়াতে হলে কর আদায়ের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। কর আদায় না বাড়িয়ে পরিচালন ব্যয় বাড়ালে সরকারের আর্থিক চাপ বাড়বে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিও অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ঋণের পরিমাণ ও উন্নয়ন চাহিদা বাড়ছে। আগামী বাজেটে ঋণের চাপ আরও বাড়তে পারে। এমনকি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-ও বাংলাদেশকে ঋণচাপের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে।

 

 

তৌফিকুল ইসলাম খান জানান, আগামী অর্থবছরে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা অর্জনে প্রায় ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে। তবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২০১১ সালে, যা ছিল ২৭ শতাংশের কিছু বেশি। এরপর আর কখনো এত উচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়নি।

 

 

তার মতে, কর আদায়ের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি কিছু খাতে করহার কমানোর বিষয়েও ভাবতে হবে। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গভীর বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।

 

 

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। আলোচনায় অংশ নেন ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, ড. এ কে এনামুল হক, অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, শারমিন্দ নীলোর্মি এবং মো. ফজলুল হক।

 

মদ্যপানের পর বান্ধবীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে আটক তিন জন

বগুড়ায় এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

 

রোববার (১৭ মে) রাতে ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন শ্মশানঘাট এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

 

 

বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ওসি জানান, এ ঘটনায় ওই তরুণীর তিন বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন, সদর উপজেলার ফুলবাড়ী দক্ষিণ হাজীপাড়া এলাকার কাওছার (১৯), ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকার বাঁধন (১৯) এবং উত্তর কাটনারপাড়া এলাকার রকি (১৯)।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্তদের পূর্ব পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল। রোববার রাত ৮টার দিকে তিনি শহরের পুলিশ প্লাজার সপ্তম তলায় ‘লাক জোন’ নামে একটি দোকানে যান। সেখানে কাওছার, বাধন, সাদিক ও আরও একজন উপস্থিত ছিলেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের একটি হোটেল থেকে মদ সংগ্রহ করে। রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন শ্মশানঘাট এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে যায় তারা। সেখানে রকি নামে আরও একজন যোগ দেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মদ্যপানের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাকে পালাক্রমে জোর করে ধর্ষণ করে।

 

 

পরে বাধন তাকে ঘটনাস্থল থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিগ বাজার এলাকায় পৌঁছালে ওই তরুণী চিৎকার করে স্থানীয়দের সহায়তা চান। এসময় বাধন পালিয়ে যান। খবর পেয়ে ফুলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আনাহার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

 

 

ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তারদের সোমবার আদালতে পাঠানো হবে।

‘অবশেষে তুমি এলে’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে কেয়া পায়েল

বর্তমান সময়ে নাটকের দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত নতুন আরও একটি নাটক। ‘অবশেষে তুমি এলে’ শিরোনামের নাটকটি জাগো এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে তাকে দেখা যাবে তৌসিফ মাহবুবের বিপরীতে।

 

 

নাটকটি পরিচালনা করেছেন সেলিম রেজা। নির্মাতা জানান, রোমান্টিক ও পারিবারিক গল্পের ওপর ভিত্তি করে নাটকটি নির্মিত হয়েছে। গল্পে দেখা যাবে, বাবার রেখে যাওয়া ফুলের দোকান ঘিরে এক তরুণের স্বপ্নের গল্প। সে একদিকে ফুল ভালোবাসে, অন্যদিকে বাংলা নাটকের বড় তারকা হওয়ার স্বপ্ন দেখে।

 

 

 

এদিকে অফিস থেকে ফেরার পথে ফুল কিনতে সেই দোকানে আসে কেয়া পায়েল। প্রথম দেখাতেই তার প্রেমে পড়ে যায় তৌসিফ। এভাবেই এগিয়ে যাবে নাটকের গল্প। নাটকটিতে রয়েছে ‘ছুঁয়ে থাকো আমায়’ শিরোনামের একটি গান। গানটির কথা লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন। সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন কাওসার খান। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন শাওন গানওয়ালা ও অবন্তী সিঁথি। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন টুটিয়া ইয়াসমিন পাপিয়া, নিজাম উদ্দিন তামু, ডিকন নূর, আশরাফুল আলম সোহাগ ও ফারুক আহমেদ।

বিশেষ একটি চরিত্রে দেখা যাবে বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াতকে। এদিকে কেয়া পায়েল বর্তমানে ঈদের নাটকের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিবারের মতো এবারও ঈদে একাধিক নাটকে এ অভিনেত্রীকে দেখা যাবে ভিন্ন সব চরিত্রে।

 

ছাত্রের পায়ে গুলি করা মেডিকেল কলেজ প্রভাষকের ২১ বছর কারাদণ্ড

সিরাজগঞ্জে আরাফাত আমিন তমাল নামে এক শিক্ষার্থীর পায়ে গুলি করা শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের সেই প্রভাষক ডা. রায়হান শরীফকে ২১ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 

 

 

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. ইকবাল হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে অবৈধভাবে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিন নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারায় ১৪ বছর এবং ১৯ (এফ) ধারায় আরও ৭ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

 

 

 

সাজার আদেশ প্রাপ্ত রায়হান শরীফ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক পদে কর্মরত ছিলেন।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের স্টেনোগ্রাফার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

 

 

উল্লখ্য, ২০২৪ সালের ৪ মার্চ বিকেলে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে শ্রেণিকক্ষে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার সময় তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আরাফাত আমিন তমালের পায়ে গুলি করেন ওই কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. রায়হান শরীফ। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডা. রায়হান শরীফকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৩টি ম্যাগজিন, ৮১ রাউন্ড গুলি, দুটি বিদেশী ছোরা, ১০টি বার্মিজ চাকুসহ একাধিক অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল্লাহ আল-আমিন বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা ও গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে অপর একটি মামলা দায়ের করেন।

 

 

 

মামলার দীর্ঘ শুনানী শেষে আসামির উপস্থিতিতে বিচারক আজ এই রায় প্রদান করেন।

 

 

বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, ডা. রায়হান শরীফ একজন উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি এবং একটি স্বনামধন্য মেডিকেল কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু তিনি পেশাগত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বিপুল সংখ্যক দেশী-বিদেশী অস্ত্র হেফাজতে রাখতেন এবং নিয়মিত কর্মস্থলে এসব অস্ত্র বহণ করতেন। ওই অস্ত্র দিয়ে তিনি নিরীহ ছাত্র আরাফাত আমিন তমালের পায়ে গুলি করেন। তিনি রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করেছেন। অস্ত্র বহণ করা তার পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে পরে না।

 

 

 

রায়হান শরীফ ছাত্রজীবন থেকেই সশস্ত্র ক্যাডার রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও সেই ধারা অব্যাহত রাখেন। এরই ফলশ্রুতিতে তিনি সমাজ, বাবা-মা কিংবা সহকর্মীদের ওপর চড়াও হতে বা হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করতেন না।

 

 

জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের নিস্ক্রিয়তা নিয়ে আদালতের রুল

দেশের সব নাগরিকের জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১৮ মে) এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে এই রুল জারি করেন আদালত।

 

 

রুলে সব নাগরিকের জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ) নিশ্চিতের মাধ্যমে জীবনাধিকার নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

 

 

সেই সঙ্গে কেন সরকারকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হবে না, সেটিও জানতে চেয়েছেন আদালত।

এ ছাড়াও হাইকোর্টের জারি করা রুলে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়ন তদারকি, পর্যবেক্ষণ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানে কেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এক মাসের মধ্যে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে ৩ মাসের মধ্যে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

‘আনন্দমেলা’য় এক মঞ্চে রুনা লায়লা ও বেবী নাজনীন

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘আনন্দমেলা’য় প্রথমবারের মতো একসঙ্গে হাজির হচ্ছেন দেশের দুই বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা ও বেবী নাজনীন। অনুষ্ঠানে তারা পরিবেশন করবেন তাদের ক্যারিয়ারের জনপ্রিয় দুটি কালজয়ী গান। এ আয়োজনে রুনা লায়লার কণ্ঠে শোনা যাবে শ্রোতাপ্রিয় গান ‘এই বৃষ্টি ভেজা রাতে চলে যেও না’। অন্যদিকে বেবী নাজনীন গাইবেন তার বহুল জনপ্রিয় গান ‘কাল সারারাত’।

 

 

 

আয়োজকদের কথায়, দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে আছে ‘আনন্দমেলা’। সে ধারাবাহিকতায় এবারও অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্ব সাজানো হয়েছে ভিন্নধর্মী আয়োজন দিয়ে। এর আগে দুই শিল্পী আলাদাভাবে এ অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও এবারই প্রথম একই পর্বে দেখা যাবে তাদের।

 

 

 

রুনা লায়লা বলেন, ‘উৎসব ঘিরে নির্মিত প্রতিটি অনুষ্ঠান নিয়ে দর্শকের বাড়তি আগ্রহ থাকে। আর সে কথা মাথায় রেখে অসংখ্য শ্রোতার প্রিয় একটি গান নতুন করে গাওয়া।’ যা অনেকের প্রত্যাশা পূরণ করবে বলে তার বিশ্বাস।

বেবী নাজনীন বলেন, “যে অনুষ্ঠানের জন্য দর্শক প্রতীক্ষার প্রহর গুণতে থাকে, সেখানে নিজের সেরা কাজটি তুলে ধরলেই নয়। তাই ‘আনন্দমেলা’র জন্য ‘কাল সারারাত’ গানটি বেছে নেওয়া। কারণ এ গানের আবেদন, সৃষ্টির এত বছর পরও এতটুকু ম্লান হয়নি। গানটি নতুন করে গাইতে পেরে নিজেও ভীষণ আনন্দিত। আশা করছি, এ গানসহ বিটিভির এই ম্যাগাজিনের প্রতিটি পর্ব দর্শক মনে ছাপ ফেলবে।”

শুধু গান নয়, এবারের ‘আনন্দমেলা’য় থাকছে নৃত্য, নাট্যাংশ, বিশেষ পরিবেশনাসহ নানা আয়োজন। জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ তার নাচের দল নিয়ে অংশ নিয়েছেন একটি বিশেষ পরিবেশনায়। পাশাপাশি আরেকটি নৃত্যে দেখা যাবে মেহজাবীন চৌধুরী ও সাবিলা নূরকে।

এ ছাড়া আশির দশকের জনপ্রিয় পপসংগীত এমন একটা মা দেনা নতুনভাবে পরিবেশন করেছেন ফেরদৌস ওয়াহিদ। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে আরও অংশ নিয়েছেন পরীমনিসহ একাধিক তারকা। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন আফরান নিশো। ঈদুল আজহার প্রথম দিন বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচার হবে বিশেষ এ আয়োজন।

 

চীনে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ১৩টি ভবন ধসে পড়েছে, নিহত দুজন

চীনের দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংসি অঞ্চলে ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এতে ১৩টি ভবন ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

 

 

 

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২১ মিনিটে গুয়াংসির লিউঝৌ শহরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

 

 

 

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, নিহত দুজন স্বামী-স্ত্রী। তাদের বয়স যথাক্রমে ৬৩ ও ৫৩ বছর। এছাড়া এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চলছে।

ভূমিকম্পের পর সাত হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সিসিটিভির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, আতঙ্কিত মানুষ বহুতল ভবন থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসছেন। বিভিন্ন এলাকায় ভবনের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে আছে। উদ্ধারকর্মীদের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অনুসন্ধান চালাতে দেখা গেছে। তাদের সঙ্গে থাকা প্রশিক্ষিত কুকুর জীবিত মানুষ খুঁজতে কাজ করছে।

এছাড়া জরুরি কর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

 

 

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে চীনের তিব্বত অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

 

রায়গঞ্জে দুঃস্থদের মাঝে পচা-দুর্গন্ধযুক্ত চাল বিতরণের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ভিজিএফের চাল বিতরণে পচা ও নিম্নমানের চাল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৮ মে) সাড়ে ১১টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সময় এমন অভিযোগ করেন উপকারভোগী ও স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ভিজিএফের চাল বিতরণ চলছে। এ সময় কয়েকটি বস্তার চাল থেকে দুর্গন্ধ বের হতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে উপকারভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
চাল বিতরণকাজে সহায়তাকারী ও ধামাইনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মাসুদ রানা বলেন, “প্রায় চার বস্তা চাল পচা। চাল থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। সরকার ভালো মানের চাল দিলেও কেন নিম্নমানের চাল বিতরণ করা হচ্ছে, বুঝতে পারছি না।”
ধামাইনগর ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালনকারী ট্যাগ অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “কয়েক বস্তা পচা চালের বিষয়টি জেনেছি। পচা বা দুর্গন্ধযুক্ত চাল বিতরণ না করার জন্য সেগুলো আলাদা করে রাখা হয়েছে।”
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রোজিন পলাশ বলেন, “গুদাম থেকে যে চাল দেওয়া হয়, সেটিই আমরা বিতরণ করি। তবে পচা বা দুর্গন্ধযুক্ত চালের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তন্ময় বিশ্বাসের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “গুদাম থেকে ভালো মানের চালই সরবরাহ করা হয়েছে। পরিবহন বা সংরক্ষণের কারণে কোনো সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। তারপরও খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পচা ও নিম্নমানের চাল আলাদা করে রাখতে বলা হয়েছে। পরে নিজ খরচে চাল সরবরাহ করা হবে।”
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। পচা বা নিম্নমানের চাল বিতরণের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

সরকারি কাজে চাঁদা দাবি, জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন নদীভাঙন প্রতিরোধ ও বাঁধ সুরক্ষা প্রকল্পে বারবার বাধা, চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে নেতা ও য় এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

 

একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠার পর এবার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) প্রকল্প পরিচালক জেলা প্রশাসকের কাছে বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

অভিযুক্ত হাজী মো. নজরুল ইসলাম শ্যামনগর উপজেলার ৯ নম্বর বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্ম পরিষদ ও শূরা সদস্য। তার বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে হস্তক্ষেপ, কাজ বন্ধ, শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখানো, প্রকল্প কার্যালয়ে হামলার হুমকি, চাঁদা দাবি এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

গত ১৩ মে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর পাঠানো একাধিক পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ‘দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণ প্রকল্প (কম্পোনেন্ট-১) বাপাউবো অংশের প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া দাবি করেন, শ্যামনগরের খোলপেটুয়া, মালঞ্চ ও কালিন্দী নদীর তীররক্ষা এবং বাঁধ সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখন কার্যত হুমকির মুখে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন নদীতীর রক্ষায় প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় পোল্ডার-৫ এলাকায় খোলপেটুয়া, মালঞ্চ ও কালিন্দী নদীর তীররক্ষা, স্লোপ প্রোটেকশন, জিওব্যাগ ডাম্পিং ও সিসি ব্লক স্থাপনের কাজ চলছে।

 

প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি), ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন। প্রকল্প এলাকা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি, পশ্চিম দুর্গাবাটি, দাতিনাখালী ও ঝাপালি এলাকা।

 

প্রকল্প পরিচালকের অভিযোগ, শুরু থেকেই স্থানীয় চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম কাজটি বন্ধ করতে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করেন। প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দায়িত্বরত প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া, শ্রমিকদের ভয় দেখানো এবং বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়।

 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সরাসরি প্রকল্প কার্যালয়ে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে প্রকল্প অফিস ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, যন্ত্রপাতি নষ্ট এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার হুমকি দেওয়া হয়।

 

এরপর সেনাবাহিনী ক্যাম্প, জেলা প্রশাসন ও শ্যামনগর থানায় একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করা হলেও দীর্ঘ সময় কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

 

 

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নদীভাঙন ঠেকাতে কাজ বন্ধ রাখা সম্ভব ছিল না। কারণ বর্ষার আগে বাঁধ সুরক্ষা না হলে জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সেই কারণে ঝুঁকি নিয়েই সীমিত পরিসরে জিওব্যাগ ডাম্পিং ও সিসি ব্লক তৈরির কাজ চালু রাখা হয়।

 

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৪ এপ্রিল শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় প্রকল্প সাইটে গিয়ে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, স্থানীয় কয়েকজন জামায়াত নেতাকর্মী এবং বহিরাগত লোকজন মানববন্ধনের নামে বিক্ষোভ করেন। এ সময় প্রকল্প এলাকায় কর্মরত শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের মারধরের হুমকি দেওয়া হয়।

 

 

অভিযোগ রয়েছে, স্কেভেটরের চালক ও সহকারীকে যন্ত্রের ভেতরে আটকে রেখে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। পরে উপস্থিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পুলিশের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

 

প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ঘটনার পর থেকে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তাহীনতায় অধিকাংশ শ্রমিক কাজ বন্ধ করে দেন। এতে প্রকল্পের অগ্রগতি থমকে যায়।

 

 

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সবুজ আলী খান অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্প পরিদর্শনে গেলে চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে তার কাছে ১২ লাখ টাকা কমিশন দাবি করা হয়। টাকা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া, মানববন্ধন করা এবং কোম্পানির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর হুমকি দেওয়া হয়।

 

 

তিনি দাবি করেন, চাঁদা না দেওয়ায় শ্রমিকদের কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। সাব-ঠিকাদারদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে পুরো প্রকল্প এখন ঝুঁকিতে।

 

 

এ নিয়ে এটিই প্রথম অভিযোগ নয়। গত ১৪ এপ্রিলও শ্যামনগর থানায় দায়ের করা এক লিখিত অভিযোগে আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন।

 

 

সেই অভিযোগে বলা হয়েছিল, প্রকল্পের সিসি ব্লক তৈরির স্থান ও যন্ত্রপাতি রাখা সরকারি জমিতে কাজ চলাকালে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম লোকজন নিয়ে এসে কাজ বন্ধ করে দেন। পরদিন আবার ৩০ থেকে ৪০ জন লোক নিয়ে গিয়ে নির্মাণাধীন বাঁধ ভেঙে ফেলা হয়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

 

 

তখন শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছিলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

অভিযোগ অস্বীকার করে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারি সামাজিক বনায়নের জায়গায় অবৈধভাবে ব্লক নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থেই আমি বাধা দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

 

তিনি আরও দাবি করেন, জমি সংক্রান্ত পূর্বের বিরোধের জের ধরেই আমাকে হয়রানির চেষ্টা চলছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, বর্ষা মৌসুমের আগেই কাজ শেষ করা না গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিতে পারে। এতে জনবসতি, কৃষিজমি ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়বে।

 

 

একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্পটি জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত হওয়ায় সময়মতো কাজ শেষ না হলে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

এ অবস্থায় প্রকল্প এলাকায় প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিশ্চিত, কাজের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

 

 

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম. রাজু আহমেদ বলেন, নতুন পুলিশ সুপার যোগদান করেছেন। বিষটি আমরা এখও অবগত নয়। সরকারি কাজ বাস্তবায়নে জন্য জেলা পুলিশ সহযোগিতা করবে।

 

 

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন বলেন, আমরা বিষটি অবগত হয়েছি। তবে এখনো অভিযোগ অফিসিয়াল পাইনি, পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

পরকিয়ার গোপন ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে মাওলানা মাসুদ গ্রেপ্তার

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় পর্নোগ্রাফি মামলায় মাওলানা মিরাজ আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৮ মে) সকালে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তার মিরাজ আহমেদ উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের গাড়াবাড়ি গ্রামের মোস্তাক বিন সুলতানের ছেলে।

 

তার বিরুদ্ধে পরকীয়ায় জড়িয়ে গোপন ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়েছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে সিংড়া থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেছেন।

 

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, মাওলানা মিরাজ আহমেদ ওরফে মাসুদ রানার বিরুদ্ধে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তুলে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ রয়েছে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনায় মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

 

তিনি আরও বলেন, এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ ও পর্নোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে।

 

যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি

ফলো-আপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রোববার (১৮ মে) সকালে তিনি দেশে ফেরেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং।

 

রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং জানায়, রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বাণিজ্যিক ফ্লাইট বিজি-২০২ সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

 

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান, ব্রিটিশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর এ্যালিসন জে ক্রস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান।

 

বর্তমানে রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক রয়েছে।

 

যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণকালেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিয়মিত দাপ্তরিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো গুরুত্বপূর্ণ সামারি ও নথি ডিজিটালি অনুমোদন ও স্বাক্ষর করেন।

 

এছাড়া, সফরকালে লন্ডনের হোটেল হিলটনে সুদানের প্রধানমন্ত্রী ড. কামিল ইদ্রিসের সাথে রাষ্ট্রপতির একটি অনানুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
গত ৯ মে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ফলো-আপ চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন রাষ্ট্রপতি।

 

যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে তার হৃদযন্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক শনাক্ত হয়। পরে ১২ মে জরুরি ভিত্তিতে সফলভাবে এনজিওপ্লাস্টি করা হয় এবং একটি স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়।

 

যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজে অবস্থিত রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতাল-এ ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. স্টিফেন হোলি-এর তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়। পরীক্ষার সময় হৃদযন্ত্রে উল্লেখযোগ্য ব্লক ধরা পড়লে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করেন এবং স্টেন্ট স্থাপন করেন।

 

 

বঙ্গভবন সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি এর আগেও হৃদরোগজনিত সমস্যার চিকিৎসা নিয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে তিনি ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল-এ ওপেন হার্ট সার্জারি করান। এরপর থেকে হৃদযন্ত্র-সংক্রান্ত জটিলতার চিকিৎসার অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে ক্যামব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে ফলো-আপ চিকিৎসা নিচ্ছেন।

 

বিশ্বমানের হৃদরোগ চিকিৎসা ও গবেষণার জন্য পরিচিত রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতাল বিশ্বে প্রথম সফল হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম হিসেবে স্বীকৃত। রাষ্ট্রপতির সর্বশেষ চিকিৎসাও সেখানেই সম্পন্ন হয়।

 

হোসেনপুরে লোডশেডিংয়ের সঙ্গে মোবাইল নেটওয়ার্কিংও ভেঙে পড়েছে

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সঙ্গে মোবাইল নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ার সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা প্রতিকার দাবি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

হোসেনপুর পৌর এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে অনেক সময় নেটওয়ার্ক একেবারেই থাকে না। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে বা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সময় কাটাতে পুরো এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়ে যা অনেক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায়। এতে করে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ফোনে কল করা, ইন্টারনেট ব্যবহার করা কিংবা জরুরি বার্তা পাঠানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের সময় এ সমস্যা বেশি হয়।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও একই চিত্র, সিদলা ইউনিয়নের পিতলগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী সজীব মিয়া বলেন, লোডশেডিং হলে কোন নেটওয়ার্ক থাকে না। মোবাইলে জরুরি কোন কাজ করা যায় না।
ফ্রিল্যান্সার মামুন আহমেদ বলেন কোনো প্রজেক্টের কাজ সঠিক ভাবে করতে পারছি না আইপিএস থাকলেও বিদ্যুৎ এর অভাবে চার্জ হচ্ছে না সাথে ত নেটওয়ার্ক সমস্যা আছেই।
ভুক্তভোগীদের দাবি, লোডশেডিং কমানোর পাশাপাশি মোবাইল টাওয়ারগুলোতে উন্নতমানের ব্যাকআপ পাওয়ার (উচ্চক্ষমতার ব্যাটারি ও জেনারেটর) নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

 

৫ দফা দাবিতে বিড়ি শ্রমিকদের মানববন্ধন

বিড়ি শিল্পে শুল্ক বৃদ্ধি না করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন।

 

সোমবার (১৮ মে) সকাল ১১ টায় এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে তারা।

 

এসময় শ্রমিকরা বিড়ির শুল্ক বৃদ্ধি না করা, বিড়ি শ্রমিকদের কর্ম দিবস বৃদ্ধি করা, নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি করা, বিড়ি ফ্যাক্টরির লাইসেন্স থাকলেই ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করা এবং নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ করার দাবি জানান।

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিড়ি শিল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ি শিল্পে শুল্প বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা থাকলে সারাদেশের ১৮ লাখ বিড়ি শ্রমিক নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলব।

 

হতদরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত, স্বামী পরিত্যক্তা, শারীরিক বিকলাঙ্গ, বিধবা ও অনাহারে পীড়িত মানুষের বেকারত্বের কথা বিবেচনা করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন আমলের মতো বিড়ি শিল্পে শুল্ক বৃদ্ধি না করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের প্রতি অনুরোধ জানান তারা।

 

 

শ্রমিকরা আরো বলেন, নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি এই শিল্পের জন্য বড় হুমকি। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং প্রকৃত রাজস্ব প্রদানকারীরা মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সুতরাং নকল বিড়ি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এছাড়া বর্তমানে দেশের তামাক বাজারের ৮০ শতাংশ নিম্নস্তরের সিগারেট দখল করে আছে। তাই বিড়ি শিল্প রক্ষায় নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি। এছাড়াও বিড়ি ফ্যাক্টরির লাইসেন্স থাকলেই ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

 

বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হারিক হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান, আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর, আবুল হাসনাত লাবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম ইসলাম প্রমূখ।

 

তাড়াশে গরু চুরি রোধে পুলিশের কঠোর অবস্থান, উপজেলাজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় খামারি ও কৃষকদের প্রধান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘গরু চুরি’। গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি গবাদিপশু রক্ষায় এবার কঠোর অবস্থানে নেমেছে তাড়াশ থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় খামারি ও সাধারণ কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চোরের উপদ্রব শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ।
তাড়াশ থানা পুলিশের উদ্যোগে রাতভর টহল, সন্দেহভাজনদের তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও সচেতন করা হচ্ছে যাতে গবাদিপশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)হাবিবুর রহমান বলেন, “খামারিদের গবাদিপশু রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। গরু চুরি রোধে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে রাত্রিকালীন টহল জোরদার করা হয়েছে। কোনো চক্র যদি চুরির চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গরু চুরি প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় খামারি ও বাসিন্দারা। তারা আশা করছেন, পুলিশের এই তৎপরতায় গরু চুরি অনেকটাই কমে আসবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরবে।

পকেটের টাকা খরচ করে ভিজিএফ চাল বিতরণে বিপাকে রায়গঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যানরা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফ এর  ২৮৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ভিজিএফ-এর চাল বিতরণ করা হবে।  একজন দুস্থ ১০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে দুস্থদের নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সোমবার সব ইউনিয়ন ভিজিএফ চাল বিতরণের দিন ধার্য করা হয়েছে। এনিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,সচিব ও সদস্যগণ।
উপজেলায় মোট নয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি পৌরসভা রয়েছে।  তবে সরকারিভাবে চাল বিতরণের বরাদ্দ থাকলেও গুদাম থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত চাল নেওয়ার ট্রাক ভাড়া ও শ্রমিক খরচ বাবদ কোনো অর্থ বরাদ্দ না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগন । পকেটের  টাকা খরচ করে এই কার্যক্রম সচল রাখতে হচ্ছে বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে বরাদ্দকৃত চাল সংগ্রহ করে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় বা নির্ধারিত পয়েন্টে নিয়ে আসার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের। কিন্তু এই চাল পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রাক বা ট্রলি ভাড়া এবং বস্তা ওঠানো-নামানোর জন্য শ্রমিকদের মজুরি সরকারিভাবে প্রদান করা হয় না।
উপজেলার চান্দাইকোনা  ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান খান  বলেন, ঈদুল ফিতরের পূর্বে এই চাল বিতরণের সময় তার অনেক টাকা খরচ হয়েছে। খাদ্য গুদাম থেকে  বস্তা ট্রাকে তুলতে লেবার বিল, ট্রাক ভাড়া, বিতরণের দিন বিভিন্ন প্রকারের খরচ সরকারিভাবে দেওয়া হয় না।
নলকাই ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল করিম জানান, একেকটি ইউনিয়নে কয়েক হাজার কার্ডধারীর জন্য কয়েক টন চাল বরাদ্দ থাকে। এই বিশাল পরিমাণ চাল গুদাম থেকে আনতে বড় ধরনের পরিবহন খরচ হয়। গত ঈদুল ফিতরের সময় তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে। এই টাকা সম্পূর্ণই পকেট থেকে ব্যয় করা হয়েছে। এই ব্যয় চেয়ারম্যানদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তারপরেও চেয়ারম্যানরা এই ব্যয় বহন করে আসছেন।
সোনাখারা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার বলেন,দূরত্বভেদে প্রতিটি ইউনিয়নে চাল পৌঁছাতে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ট্রাক ভাড়া গুনতে হয়। গুদামে ট্রাক লোডিং এবং ইউনিয়নে ট্রাক আনলোডিং করার জন্য কয়েক হাজার টাকা লেবার খরচ দিতে হয়। কোনো বরাদ্দ না থাকায় অনেক চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত তহবিল বা পকেট থেকে এই টাকা পরিশোধ করছেন। তারা একে “অত্যন্ত কষ্টকর ও অবাস্তব” বলে অভিহিত করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বলেন, ভিজিএফ-এর চাল বিতরণে কোনো প্রকার অনিয়ম রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকে, যা প্রশংসনীয়। কিন্তু চাল পৌঁছানোর নূন্যতম খরচটুকু না দেওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।  ভুক্তভোগী জনপ্রতিনিধিরা জানান, ভিজিএফ-এর চাল বিতরণের জন্য কার্ডপ্রতি বা টনপ্রতি নির্দিষ্ট হারে পরিবহন ও লেবার খরচ সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া জরুরি। এতে কাজের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং চেয়ারম্যানদের ওপর বাড়তি আর্থিক বোঝা লাঘব হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুল ইসলাম এর  সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগন খরচ মেটানোর জন্য আবেদন করলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। সরকারি নীতিমালায় পরিবর্তন বা বিশেষ বরাদ্দ না আসা পর্যন্ত বিদ্যমান নিয়মেই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হবে।
উল্লেখ্য মানবিক এই সহায়তা কার্যক্রমকে আরও বেগবান এবং দুর্নীতিমুক্ত করতে মাঠ পর্যায়ের এই বাস্তবিক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল।

পশুর হাটের ডাক নিয়ে ইউএনও কার্যালয়েই ইজারাদারকে মারধর, স্থগিত নিলাম কার্যক্রম

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা ডাককে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক ইজারাদারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। প্রশাসন নির্ধারিত ইজারা কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে।

 

 

 

আহত সোহেল রানা মোল্লা উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং এনায়েতপুর থানা বিএনপির সাবেক সদস্য। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে দৌলতপুর, সমেশপুর, কল্যাণপুর, ধুকুরিয়াবেড়া ও আশপাশের পাঁচটি অস্থায়ী পশুর হাটের হাসিল আদায়ের জন্য গতকাল রোববার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করা হয়েছিল। দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন ইজারাদার ও দরদাতারা সেখানে জড়ো হন।

 

 

 

অভিযোগ রয়েছে, বিকেল ৩টার দিকে হলরুমে অবস্থানকালে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি দল সোহেল রানা মোল্লাকে ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে তাকে মারধর করতে করতে ভবনের নিচতলায় নামিয়ে আনা হয়। এ সময় পুরো কার্যালয়ে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

 

 

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বনী আমিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম আজম সরকার এবং পৌর বিএনপির নেতা আলতাফ হাজির উপস্থিতিতে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী হামলায় অংশ নেন। তারা সোহেল রানাকে টেনে-হিঁচড়ে নিচতলায় নিয়ে মারধর করেন। ঘটনার সময় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। হামলার ভিডিওচিত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

 

 

আহত সোহেল রানা মোল্লা বলেন, ‘ইজারায় অংশ না নিতে আমাকে আগে থেকেই হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। রোববার হলরুমে বসে থাকা অবস্থায় অর্ধশতাধিক লোক আমাকে মারতে মারতে নিচতলায় নিয়ে যায়।’

 

 

 

তবে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম আজম সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সোহেল রানা মোল্লার বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে। তাকে দেখে নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।’ এ বিষয়ে কথা বলতে বিএনপি নেতা বনী আমিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

 

 

বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাফর বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। হামলায় জড়িত কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর। পরিস্থিতি বিবেচনায় ইজারা ডাক স্থগিত করা হয়েছে।’

 

 

 

সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুল ইসলাম খান আলিম বলেন, ‘সোহেল রানা মোল্লার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তবে তাকে পুলিশের হাতে না দিয়ে সরকারি কার্যালয়ের ভেতরে মারধর করার ঘটনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।’

 

সূত্র: সমকাল

 

নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ, প্রশ্ন করায় সাংবাদিককে হুমকি

রাজশাহী মহানগরীর শালবাগান পাওয়ারহাউজ মোড় থেকে বিজিবি স্কুল পর্যন্ত সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও যথাযথ নিয়ম না মেনে কার্পেটিং করায় রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকির শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক।
জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। ফ্যাসিস্ট মেয়র ও কাউন্সিলরদের পলায়নের পর নগরজুড়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা দেখা দেয়। বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ড্রেনের স্ল্যাব ও বৈদ্যুতিক তার চুরি, জলাবদ্ধতা এবং মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পায়। পরে নতুন সরকার গঠনের পর মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করলে নগর উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সিটি কর্পোরেশন জনগণের ভুগান্তি কমানোর জন্য টেন্ডার দেই শালবাগান পাওয়ারহাউজ মোড় থেকে বিজিবি স্কুল পর্যন্ত। এই ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের কাজ পায় “এসকে ট্রেডিং” নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শাকিলুর রহমান শাকিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার কার্পেটিংয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। পিচের সঙ্গে পোড়া মবিল মেশানো হচ্ছে এবং রাস্তার ধুলা পরিষ্কার না করেই কার্পেটিং করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুম শুরু হলে নতুন কার্পেটিং উঠে গিয়ে রাস্তা আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ আবারও বাড়বে।
স্থানীয় আরেক প্রকৌশলী অরিফুজ্জামান সোহেল বলেন, “একজন প্রকৌশলী হয়ে ডাস্ট পরিষ্কার না করে কার্পেটিং শুরু করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এভাবে কাজ করলে রাস্তা টিকবে না। কাজ বন্ধ করে পুনরায় রাস্তা পরিষ্কার করে তারপর কার্পেটিং করতে হবে।”
বিষয়টি নিয়ে মোঃ আসিফুল হাবিব-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছবি ও ভিডিও দেখেও সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, “ওই সাইটের দেখাশোনার দায়িত্বে লিটন সাহেব আছেন, তার সঙ্গে কথা বলেন।” তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত লিটন সাহেব অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে “এসকে ট্রেডিং”-এর পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শাকিলুর রহমান শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে স্বীকার করেন যে, উক্ত রাস্তার কাজ তার প্রতিষ্ঠান করছে। পরে রাস্তার ডাস্ট পরিষ্কার না করে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কার্পেটিং করলে সেটি কতদিন টিকবে—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এর জবাব না দিয়ে উল্টো প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন।
তিনি দাবি করেন, প্রতিবেদক নাকি বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে “সালামি” বা টাকা নিয়েছেন। এর জবাবে প্রতিবেদক তাকে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রমাণসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। কারণ, অভিযুক্তের অফিসের ভেতর ও বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদকের দাবি, অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পেরে একপর্যায়ে ইঞ্জিনিয়ার শাকিলুর রহমান শাকিল হুমকিমূলক আচরণ শুরু করেন। তিনি বলেন, “আপনিও রাজশাহীতে থাকেন, আমিও থাকি”, “যেকোনো সময় যেকোনো কিছু হতে পারে”, “আপনাকে তুলে আনা কোনো বিষয় না”, “রাজশাহী ছাড়া হয়ে যাবেন”—এমন ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে সাংবাদিক বোয়ালিয়া মডেল থানা-এ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।

উন্নয়নের মহাসড়কে ঠাকুরগাঁও, কথা রেখেছেন মির্জা ফখরুল

উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা ঠাকুরগাঁও। একসময় যাকে উন্নয়নের দৌড়ে পিছিয়ে থাকা জেলা বলে আক্ষেপ করতেন মানুষ, সেই ঠাকুরগাঁও এখন নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনা আর পরিবর্তনের আলোচনায় মুখর। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, যোগাযোগ থেকে শিল্পায়ন, প্রশাসনিক সেবা থেকে নাগরিক উন্নয়ন একের পর এক বড় উদ্যোগে জেলায় তৈরি হয়েছে আশার নতুন দিগন্ত।
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে প্রত্যাশা। নির্বাচিত হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কার্যক্রম। ফলে চায়ের দোকান থেকে হাট-বাজার, গ্রাম থেকে শহর মানুষের মুখে এখন একটাই আলোচনা, একটাই বাক্য ‘প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুলে যাননি, কথা রেখেছেন মির্জা ফখরুল।
গত ১৩ মে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এ প্রজ্ঞাপনে ঠাকুরগাঁও জেলায় ‘ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ’ প্রতিষ্ঠার আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সরকারি মঞ্জুরি জ্ঞাপন করেন।
বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের মানচিত্র, শুধু মেডিকেল কলেজই নয়, ঠাকুরগাঁওকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট জেলা হিসেবে গড়তে নানামুখী মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
জেলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের নির্মাণকাজ এখন সমাপ্তির পথে। দক্ষ জনবল তৈরিতে জেলায় একটি নার্সিং কলেজেরও অনুমোদন পাওয়া গেছে।
নাগরিক সেবাকে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সদর উপজেলাকে ভেঙে ‘রুহিয়া’ ও ‘ভূল্লী’ নামে দুটি নতুন উপজেলা গঠন করা হয়েছে। এ ঘোষণায় এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে, হয়েছে আনন্দ মিছিল।
বিসিক শিল্প নগরী-২ এর কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের নতুন আশা জাগছে।ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল বন্ধ হয়ে যাওয়া বিমানবন্দরটি পুনরায় সচল করা। সেই স্বপ্ন এখন বাস্তব হওয়ার পথে। আগামী ২০ মে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পরিদর্শনে আসছেন। মন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় এখন সাজ সাজ রব। বিমানবন্দরটি চালু হলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরব রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার নির্বাচনি এলাকার মানুষের কাছে দেওয়া ওয়াদা অনুযায়ী, তিনি ঠাকুরগাঁওকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভাকে একটি আধুনিক মডেল শহরে রূপান্তরের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। শহরের যানজট নিরসনে বাস টার্মিনালকে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তাঘাটের আধুনিকায়নে নেওয়া হয়েছে বিশেষ মেগা প্ল্যান।
ভূল্লী এলাকার শাহীন ইসলাম বলেন, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য এবং সময়মতো কৃষি উপকরণ নিশ্চিত করা হলে ঠাকুরগাঁও কৃষিতে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
গত বুধবার জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সুফল তুলে ধরেন। তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফ এবং খাসজমি বণ্টনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ব্যাখ্যা করে বলেন, মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ঠাকুরগাঁও জেলা এখন উন্নয়নের অভিযাত্রায় অগ্রণী।
সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ মেরাজুল হোসেন বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও বিমানবন্দর চালুর দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছি। আজ তার প্রতিফলন ঘটছে, এটি আমাদের বড় বিজয়।ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন তাজু বলেন, উন্নয়নের ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়েছে, এখন শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়নের এ মেগা প্রকল্পগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হলে ঠাকুরগাঁও হবে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও শিক্ষা হাব।

সেনবাগে মাদক ও দেশীয় অস্ত্রসহ দুইজন গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট, দেশীয় অস্ত্র ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনবাগ থানা পুলিশ।

রবিবার (১৭ মে ২০২৬) থানার একটি বিশেষ টিম উপজেলার একটি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. জাবেদ (৩৩) ও মো. জাফর ইকবাল সুজন (৩১)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ১২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি চাপাতি, একটি চাইনিজ কুড়াল, মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম, মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের হিসাবসংবলিত একটি খাতা এবং ৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

সেনবাগ থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

১৮ মাসে রাজধানী পিছিয়ে গেছে ১৮ বছর

অন্তর্বর্তী সরকার ঢাকা শহরকে ১৮ মাসে ১৮ বছর পিছিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, “পরিবেশ নিয়ে যারা সবচেয়ে বেশি কথা বলেছেন, তাদের মধ্যেই একজন ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা। কিন্তু বাস্তবে তারা পরিবেশেরই ‘১২টা বাজিয়ে গেছেন’। আমার ঢাকা শহরকে এই ১৮ মাসে ১৮ বছর পিছিয়ে দিয়েছেন।”

 

 

 

রোববার (১৭ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘সমন্বিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা: বন, পরিবেশ, নদী ও নগরায়ণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

আবদুস সালাম বলেন, ‘অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে রাজধানীতে ট্রাফিক জট, হকার সংকট, বায়ুদূষণ ও নাগরিক দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে শুধু বক্তব্য দিলেই হবে না, কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বলাটা সহজ, কিন্তু কার্যকর করাটা অনেক কঠিন। তবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী কঠিনকে সহজভাবে নিয়ে কাজ করেন এবং ইতোমধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।’

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে কাজ না করলে ভবিষ্যতে দেশ আরও বড় সংকটে পড়বে। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’

বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসব সমস্যা শুধু সিটি করপোরেশনের কারণে সৃষ্টি হয়নি। নাগরিকদের অসচেতন আচরণও এর জন্য দায়ী। আমরা যদি নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতাম, তাহলে অনেক সমস্যাই কমিয়ে আনা সম্ভব হতো।’

 

 

 

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে ১৫ দিনব্যাপী জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে। কোথায় কোথায় মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে বা জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে।’

 

 

 

একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি একটি পশু হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারের পাশে ভাঙা টেলিভিশনের কভার ও ভাঙা পাত্রে জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। নিজেদের বাড়িতে মশার ফ্যাক্টরি তৈরি করে পরে সিটি করপোরেশনকে দোষ দিলে হবে না।’

 

 

 

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘জনগণ সচেতন হলে ২ বছরের মধ্যে ঢাকার চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব। তবে জনগণ সচেতন না হলে ২৫ বছরেও পরিবর্তন সম্ভব নয়।’

 

 

 

রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির বিষয়ে মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘সমন্বয়ের অভাবে একই রাস্তা বারবার কাটতে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে ধানমন্ডিতে একটি পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে। যেখানে টেলিফোন, ইন্টারনেট ও কেবল লাইন একসঙ্গে আন্ডারগ্রাউন্ডে নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি পুরো ঢাকা শহরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।’

 

 

 

তিনি বলেন, ‘ঢাকার খাল ও জলপথ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। অন্তত ১৫-২০টি আউটলেটের মাধ্যমে পানি শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গায় যাওয়ার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। ফলে নিউমার্কেটের মতো নিচু এলাকায় পানি জমে যাচ্ছে।’

 

 

 

আবদুস সালাম বলেন, ‘অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এখন বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হয়েছে। যেখানে ১৫-২০ লাখ মানুষের বসবাসের কথা, সেখানে এখন কোটি মানুষ বসবাস করছে। এতে হকার ও যানজট সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে।’

 

 

 

ভূমিদস্যুদের দখলে নদী, খাল ও রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, ‘নদীপথ ও রেলপথ উন্নত করা গেলে সড়কের ওপর চাপ অনেক কমানো সম্ভব হতো এবং পরিবেশও রক্ষা পেত।’

 

 

 

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে কাজ চলছে জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ‘ভবিষ্যতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বাসা থেকেই পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করার ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

 

 

 

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে তিনি বলেন, ‘একদিনে রাজধানীতে লক্ষাধিক পশু কোরবানি হয়, যা বড় ধরনের ব্যবস্থাপনার বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, ৮ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে কাজ করবে সিটি করপোরেশন।’

 

 

তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরকে রক্ষা করতে হলে ৫০ শতাংশ দায়িত্ব জনগণের এবং ৫০ শতাংশ দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। জনগণ সচেতন না হলে শুধু সিটি করপোরেশন একা কিছু করতে পারবে না।’

 

 

 

বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সহসম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপুর সঞ্চালনায় সভায় পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

 

নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিলেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামোটি একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। এ কারণে প্রথম ধাপে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আসন্ন বাজেটে এ খাতে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

সূত্র জানায়, গত ১৩ ও ১৪ মে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বাজেটসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা, খাতভিত্তিক বরাদ্দ এবং রাজস্ব আহরণের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। সব দিক পর্যালোচনার পর প্রধানমন্ত্রী পে-স্কেল কার্যকরের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেন।

 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে ওই সময় থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামোর আওতায় বেতন পাবেন।

 

তিনি আরও বলেন, অর্থমন্ত্রীর আসন্ন বাজেট বক্তৃতার খসড়ায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিস্তারিত পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে বর্ধিত বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে বাকি ৫০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে। তৃতীয় ধাপে মূল বেতনের সঙ্গে ভাতা ও অন্য সুবিধা সমন্বয় করা হবে।

 

 

 

কর্মকর্তাদের মতে, তিন ধাপে বাস্তবায়নের ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সরকারের অর্থ ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।

 

 

 

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে দেশে প্রথম জাতীয় বেতন স্কেল চালু হয়। এরপর ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট আটবার নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতন কাঠামো হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও রাজস্ব চাপে সেই প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায়।

 

 

 

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। দ্বিতীয় গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। তৃতীয় গ্রেডে ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং চতুর্থ গ্রেডে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেতন নির্ধারণের আলোচনা চলছে।

 

 

 

এছাড়া পঞ্চম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্তও উল্লেখযোগ্য হারে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। দশম গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা এবং একাদশ গ্রেডে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নিচের গ্রেডগুলোতেও বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলায় উত্তেজনা আরব আমিরাতে

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-দাফরা অঞ্চলে অবস্থিত বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলায় একটি বৈদ্যুতিক জেনারেটরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

 

 

 

রোববার (১৭ মে) আবুধাবি মিডিয়া অফিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। এছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে আগুন লাগলেও তেজস্ক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়েনি।

 

 

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ঘটনাটি তদন্ত করছে।

এদিকে ইসরায়েলে একটি সামরিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। রোববার ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রবল বিস্ফোরণের শব্দে অধিকৃত এলাকাজুড়ে কম্পন অনুভূত হয়েছে এবং বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার রাতে অধিকৃত আল-কুদসের (জেরুজালেম) পশ্চিমে বেইত শেমেশ এলাকায় একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে পুরো অঞ্চল কেঁপে ওঠে।

যদিও ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা উন্নয়নে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান টোমের কোম্পানি তাৎক্ষণিক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিস্ফোরণটি আসলে পূর্বপরিকল্পিত একটি পরীক্ষা ছিল। এটি পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে।

 

 

ক্ষেতলালে চোরচক্রের উপদ্রব, ১৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বড় চুরি

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে চোরচক্রের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলায় দিনেদুপুরে ঘরের তালা ভেঙে দুর্ধর্ষ চুরির যেমন ঘটনা ঘটছে, তেমনি রাতের আঁধারে পাহারাদারকে বেঁধে রেখে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার লুটের মতো দুঃসাহসিক কাণ্ড ঘটাচ্ছে সংঘবদ্ধ অপরাধীরা। মাত্র ১৫ ঘণ্টার মধ্যে উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে এমন বড় চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

 

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (১৭ মে) উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া এলাকায় ধান ব্যবসায়ী এম এম হিরো সরকারের বাড়িতে দিনেদুপুরে এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী হিরো সরকার ওই এলাকার আব্দুল হামিদ সরকারের ছেলে।

 

​বাড়ির মালিক এস এম হিরো জানান, সকালে পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে গেলে দুর্বৃত্তরা সুযোগ বুঝে ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে দুপুর ২ টার দিকে বাড়িতে ফিরে দেখতে পাই, আলমারি ও বিভিন্ন আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ ৬ লাখ টাকা এবং ৬ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এছাড়াও ঘরে থাকা অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্রসহ মোট প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এই চুরির খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়রা থানায় বিষয়টি অবহিত করেন।

 

​এদিকে পৌর এলাকার বুড়াইল সরদারপাড়া মাঠে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের আরেক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৬ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মোঃ মাহবুব হোসেন সরদার ও মোসাদ্দেক হোসেন সরদারের যৌথ গভীর নলকূপের (ডিপ টিউবওয়েল) ১০ কেভির তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

 

​চোরেরা প্রথমে গভীর নলকূপের পাহারাদারকে অস্ত্রের মুখে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখে। এরপর বৈদ্যুতিক খুঁটির মাথা থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার নিচে নামিয়ে ভেতরের মূল্যবান তামার তার খুলে নিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে ট্রান্সফরমারের খালি খোলস ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরদিন রবিবার (১৭ মে) সকালে স্থানীয় লোকজন পাহারাদারকে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেন।

 

​নলকূপের মালিক মাহবুব হোসেন সরদার বলেন, ইদানীং এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। আমরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও থানা পুলিশের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিব।

​স্থানীয় কৃষকদের দাবি, চলতি সেচ মৌসুমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ক্ষেতলাল উপজেলার বিভিন্ন মাঠ থেকে প্রায় ২০/২২ টি ট্রান্সফরমার এবং অন্তত ১৫টি বিদ্যুৎ মিটার চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা এখন ট্রান্সফরমারের খোল রেখে শুধু দামি তামার তার নিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে ক্ষতির পরিমাণ ও পুনরায় সংযোগ নেওয়ার খরচ আরও বাড়ছে। একের পর এক চুরির ফলে মাঠের সেচ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।

 

​দিন এবং রাতের এই পৃথক দুটি চুরির ঘটনায় ক্ষেতলাল উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মনে এখন চরম নিরাপত্তা হীনতা কাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই সংঘবদ্ধ চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ক্ষেতলাল জোনাল অফিসের এজিএম তৌকির আহমেদ ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বুড়াইল মাঠে একটি গভীর নলকূপের ৩ টি ট্যান্সফরমারের মালামাল চুরি হয়েছে। এ মৌসুমে উপজেলায় আরও ২০/২২ টি ট্যান্সফরমার ও ১৫ টি বিদ্যুৎ মিটার চুরির ঘটনা ঘঠে। আমরা এসব নিয়ে থানায় জিডি করেছি এবং কৃষকদের সচেতনতায় মাইকিং করছি।

 

 

 

 

এবিষয়ে ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোক্তাদুল আলম বলেন, আলমপুরে একটি বাড়িতে চুরির ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। গতরাতে বুড়াইল মাঠে একটি গভীর নলকূপে ট্রান্সফরমারের মালামাল চুরি হয়েছে, পুলিশ চোরদের ধরতে কাজ করছে।

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার দুই বোনের আত্মহত্যা

ভারতের রাজস্থানের যোধপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে দুই বোনের আত্মহত্যার ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের গাফলতি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই প্রাণ হারাতে হয়েছে দুই বোনকে।

 

 

 

রোববার (১৭ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই লোমহর্ষক ঘটনা উঠে এসেছে।

 

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মার্চে বড় বোন আত্মহত্যা করেন। প্রায় দুই মাস পর ছোট বোনও আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। একাধিকবার পুলিশের দ্বারস্থ হলেও বিচার না পাওয়ায় ছোট বোন এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে অভিযোগ পরিবারের।

নিহত দুই বোনের বাবা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ছোট বোনের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় ই-মিত্র সেবা কেন্দ্রের পরিচালনাকারী মহিপাল গোপনে বড় বোনের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তাকে ফাঁদে ফেলেন।

 

 

 

গত ১১ এপ্রিল দায়ের করা অভিযোগে মোট আটজনের নাম উল্লেখ করে। তাদের মধ্যে শিবরাজ, গোপাল, বিজারাম, দিনেশ, মনোজ ও পুখরাজের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হুমকির অভিযোগ আনা হয়।

 

 

 

অভিযোগে বলা হয়, মহিপাল ও তার সহযোগীরা প্রায় চার বছর ধরে বড় বোনকে যৌন নির্যাতন করে আসছিল এবং ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করত। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ২০ মার্চ আত্মহত্যা করেন তিনি।

 

 

 

ছোট বোন অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, বিচার না পেলে তিনিও আত্মহত্যা করবেন বলে পুলিশকে সতর্ক করেছিলেন।

 

 

 

অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হলেও পরবর্তী এক মাসে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

 

 

 

বড় বোনের মৃত্যুর পর অভিযুক্তরা ছোট বোনকেও টার্গেট করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা বড় বোনের ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাকেও যৌন নির্যাতন করে।

 

 

 

মামলা হওয়ার পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিতে থাকে এবং পুলিশ তাদের কিছুই করতে পারবে না বলে দম্ভ দেখায় বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী।

 

 

 

শুক্রবার অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে একটি পানির ট্যাংকের ওপর উঠে প্রতিবাদ জানান তিনি। পরে বিষপান করলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

 

 

 

ঘটনার পর রাজস্থানের রাজপুত সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। যোধপুরের এমডিএম হাসপাতালের মর্গের সামনে বিক্ষোভে জড়ো হন শত শত মানুষ।

 

 

 

প্রথমে ময়নাতদন্তে আপত্তি জানালেও পরে নিহতের পরিবার তাতে সম্মতি দেয়।

 

 

 

মারওয়ার রাজপুত সমাজের সভাপতি হনুমান সিং খাংতা অভিযোগ করেন, তদন্তজুড়ে পুলিশ অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করেছে। তাদের ব্যর্থতার কারণেই দুই বোনকে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

 

সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

 

 

 

যোধপুরের পুলিশ সুপার পি ডি নিত্য জানিয়েছেন, মহিপালসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।

 

দেশের সার্বভৌমত্বকে গুমের মাধ্যমে দুর্বল করা হয়েছিল : এমপি আরমান

গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যকে ব্যবহার করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সার্বভৌমত্বকে অরক্ষিত করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১৪ আসনের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান।

 

 

 

রোববার (১৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিন র‌্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তার জেরা শেষ হয়।

 

 

 

ব্যারিস্টার আরমান বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। যতদিন সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব বজায় থাকবে, ততদিন দেশের সার্বভৌমত্বও সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যকে ব্যবহার করে শেখ হাসিনা সেই পেশাদারিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। এর মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্বও ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। আমরা চাই এ সংস্কৃতি আর ফিরে না আসুক। যত ক্ষমতাধর দলই হোক, বাংলাদেশের মানুষের অধিকার যেন আর কেউই নষ্ট করতে না পারেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে আরমান বলেন, গুমে থাকাকালীন একেকজনের নির্যাতন একেকরকম ছিল। কিন্তু ভিন্ন থাকলেও বিনা দোষে কোনো মানুষকে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। যখন এটি ব্যাপক এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে হচ্ছিল, তখন এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়ে যায়। নির্যাতনের মাত্রার ওপর এই অপরাধ নির্ভর করে না। অপরাধটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে হয়েছিল কিনা, এটাই দেখার বিষয়।

নতুন সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চান জানিয়ে এই সাংসদ বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও গুমের ভুক্তভোগী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রায় প্রত্যেক সংসদ সদস্যই অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। এই মজলুমদের মিলনমেলার ওপর আমরা আস্থা রাখতে চাই। সরকার এই বিচার নিশ্চিত করবে বলেও আমরা আশাবাদী।

শাহ আলী মাজারের হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাজারের মতো ধর্মীয়-গাম্ভীর্য স্থানে হামলার জন্য তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সরকারের দায়িত্ব সকল ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ জায়গায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন ভিডিও এভিডেন্স দেখে যদি কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। তবে ঢালাওভাবে বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিস্টদের ঐতিহ্য। আমরা এসবের পুনরাবৃত্তি চাই না।

 

কমিটিতে পদ পাওয়ার রাতেই গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা

সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের রাতেই পৌর কমিটিতে পদ পাওয়া সহ-সভাপতি আলভীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আলভী শহরের দিয়ার ধানগড়া মহল্লার জুলহাস হোসেনের ছেলে।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিস্ফোরক মামলায় আলভীকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

উল্লেখ্য শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সিরাজগঞ্জ জেলা, সদর থানা, পৌর ও সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। গ্রেপ্তার আলভী পৌর কমিটির সহ সভাপতির দায়িত্ব পান।

 

 

রাশিয়ার ভেতরে বড় ধরনের হামলা চালাল ইউক্রেন

ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন মস্কো অঞ্চলের বাসিন্দা। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত এক বছরের মধ্যে দেশটির রাজধানী মস্কোর ওপর এটিই সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা।

 

 

 

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে এক হাজারের বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইউক্রেন। অন্যদিকে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলেও একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর রয়টার্সের।

 

 

 

এর আগে শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত চার বছরের যুদ্ধে কিয়েভে গত দুই দিনে চালানো রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করা হয়।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিওতে জেলেনস্কি আকাশে উড়ন্ত ড্রোন, ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতার দৃশ্য প্রকাশ করেন।

 

 

তিনি বলেন, ‘রাশিয়া যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে এবং আমাদের শহর ও জনপদে হামলা চালাচ্ছে। এর জবাব দেওয়া সম্পূর্ণ ন্যায্য।’

 

 

জেলেনস্কি দাবি করেন, রাশিয়ায় কঠোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও সীমান্ত থেকে ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে ইউক্রেন।

 

 

মা হাতিকে বিদায় জানাতে গভীর রাতে লোকালয়ে বন্যহাতির পাল

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাগজিখোলা সংলগ্ন চকরিয়া লাম্বা হাকখোলা পূর্ণ গ্রামে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা একটি বন্য মা হাতি অবশেষে মারা গেছে।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হাতিটির মৃত্যু হয়।

 

 

 

মৃত মা হাতির শোকে শোকাহত হয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় অন্তত ১০টি বন্য হাতির একটি দল।

জানা যায়, জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কাগজিখোলা সংলগ্ন চকরিয়া লাম্বা হাকখোলা পূর্ণ গ্রামে দীর্ঘ অসুস্থতার পর অবশেষে মারা গেছে একটি বন্য মা হাতি। মায়ের মৃত্যুর পর গভীর রাতে তাকে শেষবারের মতো দেখতে ও ‘শোক জানাতে’ ঘটনাস্থলে হাজির হয় অন্তত ১০টি বন্যহাতির একটি দল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে একদিকে যেমন আতঙ্ক, অন্যদিকে তৈরি হয়েছে এক আবেগঘন পরিবেশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল থেকেই নূর মোহাম্মদের বাড়ির পশ্চিম পাশে মা হাতিটিকে অসুস্থ ও নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। সে সময় তার পাশে ছটফট করছিল একটি ছোট হাতি শাবক। কোনো মানুষ কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলেই শাবকটি আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার জুড়ে দিচ্ছিল এবং কোনোভাবেই মায়ের পাশ ছেড়ে যাচ্ছিল না। স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ বলেন, সকাল থেকে হাতিটাকে পড়ে থাকতে দেখি। পাশে ছোট বাচ্চাটাও ছিল। মানুষ কাছে গেলেই শাবকটি চিৎকার করছিল। দৃশ্যটি খুবই হৃদয়বিদারক ছিল।

খবর পেয়ে ঈদগাঁও বন বিভাগের কর্মকর্তা উজ্জ্বল স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ এনে হাতিটির চিকিৎসা শুরু করেন। তবে ততক্ষণে হাতিটি চরম অপুষ্টিতে আক্রান্ত হয়ে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

 

 

 

বন কর্মকর্তা উজ্জ্বল জানান, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ এনে হাতিটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তবে হাতিটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ছিল। রাত ১২টার দিকে হাতিটি মারা যায়।

 

 

 

মা হাতিটির মৃত্যুর কিছুক্ষণ পরেই ঘটে সেই বিস্ময়কর ঘটনা। গভীর রাতে হঠাৎ প্রায় ১০টি বন্যহাতির একটি দল জঙ্গল থেকে এসে মৃত হাতিটির আশপাশে অবস্থান নেয়।

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাতির দলটি সেখানে বেশকিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে। সে সময় অবুজ শাবকটিকেও মৃত মায়ের লাশের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর হাতির দলটি আবার পাহাড়ের গভীর বনাঞ্চলে ফিরে যায়।

 

 

 

স্থানীয়দের ধারণা, বন্যহাতির দলটি মূলত তাদের সঙ্গী ও মা হাতিটিকে শেষ বিদায় জানাতেই লোকালয়ে ছুটে এসেছিল। এ সময় শাবকটিকে মৃত মা হাতির কাছেই অবস্থান করতে দেখা যায়। হাতির দলটি কিছুসময় সেখানে অবস্থান করে আবার পাহাড়ের দিকে চলে যায়।

 

 

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পাহাড়ি বনাঞ্চলে ক্রমাগত খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় প্রায়ই বন্য হাতির দল লোকালয়ে চলে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও খাদ্যাভাবের কারণেই মা হাতিটি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বলে তাদের ধারণা। বন বিভাগ জানিয়েছে, মৃত হাতিটির শরীর থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ল্যাব টেস্টের পর হাতিটির মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রঘু ডাকাতের রক্তমাখা চিঠি, পুলিশ পাহারায় রাত কাটাল গ্রামবাসী

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গরুর খামারিদের বাড়ি বাড়ি রক্তমাখা চিঠি দিয়ে হত্যা ও ডাকাতির হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। চিঠিতে খামারিদের ঘরের দরজা খোলা রাখতে বলা হয়েছে।

 

 

 

গত শুক্রবার (১৫ মে) রাতে এ বিষয়ে স্থানীয় খামারি মো. আমজাদ হোসেন বাদি হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে গত ৫ দিনে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামের প্রায় ১৫টি বাড়িতে চিঠি দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

 

 

 

জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামে চেতনানাশক স্প্রে করে ধারাবাহিকভাবে ডাকাতির পর রঘু ডাকাতের নামে অন্তত ১৫টি বাড়িতে দেওয়া হয় রক্তমাখা চিঠি। চিঠিগুলোতে নির্বিঘ্নে ডাকাতি করার জন্য দরজা খোলা রাখতে বলা হয়। দরজা না খোলা রাখলে হত্যার হুমকি দেয়।

এরপর থেকেই আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে উপজেলাজুড়ে। ঘুমহীন হয়ে পড়ে বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। বিষয়টি নিয়ে কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। এরপর পুলিশ পাহারায় গ্রামবাসী ঘুমায়।

 

স্থানীয়রা জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে করে ডাকাতি করা হয়েছে। ফলে কোরবানির ঈদকে ঘিরে বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গরুর খামারিরা। একদিকে ডাকাতি অন্যদিকে হুমকি দেওয়া রক্তমাখা চিঠিতে নির্ঘুম হয়ে যায় পুরো গ্রাম।

 

 

তারা আরও জানান, গত ৪/৫দিনে টেকুয়াপাড়া গ্রামের অন্তত ১৫ জনের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা নিজেদের রঘু ডাকাত পরিচয় দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে লিখেছে ‘কালকে আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসব, তাই দরজা খোলা রাখবেন, না খুলে রাখলে জিন্দা খালাস………? ইতি রঘু ডাকাত।

 

 

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গ্রামবাসীকে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কোনোভাবেই কোনো ডাকাতকে বা কোন দুস্কৃতিকারীকে অপতৎপরতা করতে দেওয়া হবে না।

 

 

আমির হামজাকে গ্রেপ্তারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিল আদালত

জ্বালানি মন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

 

 

রোববার (১৭ মে) সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার এ আদেশ দেন।

 

 

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী ও সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল।

 

মামলার তথ্যে জানা গেছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করার অভিযোগে গত ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর কর্নেল। একই দিন আদালত আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করে ২১ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত তারিখে তিনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

 

পরবর্তীতে রোববার আদালতে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও সেদিনও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। এ কারণে আদালত তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।

 

 

এ বিষয়ে মামলার বাদী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর কর্নেল জানান, রোববার আমির হামজার আদালতে হাজির হওয়ার নির্ধারিত দিন ছিল। কিন্তু তিনি উপস্থিত হননি। এর আগে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। সর্বশেষ আদালত তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দিয়েছেন।

 

মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় উঠে এলো নতুন তথ্য

ফরিদপুরের মাধবদিয়া এলাকায় মা ও শিশু কন্যাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বকারটিলা এলাকা থেকে মো. উজ্জ্বল খান (৩৮) নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

রোববার (১৭ মে) দুপুরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, নিহত জাহানারা বেগম (৩০) রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার বাসিন্দা। তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে সামিয়াসহ তাদের মরদেহ গত ১৪ মে চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড় সংলগ্ন স্থান থেকে মাটি চাপা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর নিহতের স্বজন মো. লালন মোল্লা কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার আমিনবাজার এলাকায় একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারা বেগমের সঙ্গে উজ্জ্বল খানের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে উজ্জ্বল খান জাহানারাকে ফরিদপুরে নিয়ে আসেন।

 

 

 

গত ৪ মে রাতে চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উজ্জ্বল প্রথমে জাহানারাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা শিশু সামিয়াকেও গলা টিপে হত্যা করা হয়।

 

 

 

হত্যার পর আসামি নিজ বাড়ি থেকে কোদাল এনে ছাপড়া ঘরের পাশে পৃথক দুটি গর্ত খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ মাটি চাপা দেয়।

 

 

 

ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের ব্যবহৃত বোরকা, ওড়না, নেকাব, শিশু সামিয়ার পোশাক, একটি মালা, আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারাল অস্ত্র ও কোদাল উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

 

মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

 

 

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিআইও-১ ইন্সপেক্টর মো. মোশারফ হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস। ফরিদপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ভূমি মালিকদের জন্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

সারাদেশের ভূমি মালিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বকেয়াসহ চলতি অর্থবছরের ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া জমির সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা আরও সহজ করতে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

 

 

 

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাগরিকরা এখন ঘরে বসেই land.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারবেন। সরকারের লক্ষ্য হলো ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ স্মার্ট ও স্বচ্ছ ব্যবস্থায় রূপান্তর করা, যাতে সেবা গ্রহণ আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত হয়।

 

 

 

ভূমি মন্ত্রণালয় জানায়, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য নাগরিককে প্রথমে নির্ধারিত পোর্টালে (land.gov.bd) গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধিত হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে খতিয়ান ও জোত সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে করের পরিমাণ জানা যাবে এবং মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডের মাধ্যমে তা পরিশোধ করা যাবে।

 

 

মন্ত্রণালয়ের বার্তায় বলা হয়েছে, ৩০ জুনের মধ্যে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করুন এবং নিজের জমি সুরক্ষিত রাখুন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর পরিশোধ না করলে পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী বকেয়ার ওপর সুদ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

সাধারণত সরকারি হিসাবে অর্থবছর শেষ হয় ৩০ জুন। তাই বছরের হিসাব চুকিয়ে দিতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে এ সময়ের মধ্যেই খাজনা পরিশোধ করা বাঞ্ছনীয়। অনলাইন পদ্ধতি চালুর ফলে এখন আর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সশরীরে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই, যা সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় করছে।

 

 

ভূমি মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে ভূমি কর আদায়ে স্বচ্ছতা আসবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।

 

 

বিসিবি নির্বাচনে আদালতের হস্তক্ষেপ নয়

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা কমিটির নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা বিচারাধীন এক রিটের সম্পূরক আবেদন নথিভুক্ত করার আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, বিসিবি নির্বাচন নিয়ে আমরা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবো না। ফলে আগামী ৭ জুন বিসিবির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন বিসিবির আইনজীবী মাহিন এম রহমান। রবিবার (১৭ মে) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায়ের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

 

 

 

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশিদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। বিসিবির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহিম এম রহমান।

পরে বিসিবি আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিম এম রহমান বলেন, আদালত বিসিবির নির্বাচন স্থগিত চেয়ে জনৈক মোশাররফ হোসেন নামে এক ব্যক্তির রিটের সঙ্গে করা সম্পূরক আবেদনটি নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিসিবির নির্বাচন নিয়ে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করবো না।

তিনি আরও বলেন, মোহাম্মদ মোশারফ নামে একজন ব্যক্তি গত মার্চ মাসে বিসিবি গঠনতন্ত্রের একটি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট দায়ের করলে আদালত রুল জারি করেন।

বিচারাধীন সেই রিটে আজকে একটি সম্পূরক আবেদন দায়ের করে আসন্ন ৭ জুন অনুষ্ঠিতব্য বিসিবির নির্বাচন স্থগিত চাওয়া হয়। সেই আবেদনের শুনানি অন্তে আদালত বিসিবির নির্বাচন বিষয়ে এই অ্যাপ্লিকেশন দ্বারা কোন হস্তক্ষেপ করবে না বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

 

কালাইয়ে ভুয়া প্রাণিচিকিৎসককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় খামারিদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও নিরাপদ প্রাণিচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর। অভিযানে অপচিকিৎসার অভিযোগে এক ভুয়া প্রাণিচিকিৎসককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন উপজেলার ভূগোইল (মোসলেমগঞ্জ) গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে মো. খায়রুল ইসলাম আতিক। তিনি নিজেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম প্রজনন কর্মী পরিচয় দিয়ে এলাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া পরিচয়ে গবাদিপশুর চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন ওই ব্যক্তি। সম্প্রতি তার ভুল চিকিৎসার কারণে স্থানীয় এক খামারি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি প্রেসক্রিপশন পরিবর্তন করে নিজের মতো করে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন, যা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। খামারির ক্ষতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কালাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল-মাহাবুব। প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান।

প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, প্রাণিসম্পদ খাতে অপচিকিৎসা, প্রতারণা ও জালিয়াতি বন্ধে এবং খামারিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিজিবির সহায়তায় ভারত থেকে ফিরলেন নিখোঁজ যুবক

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছ থেকে মো. বকুল মন্ডল (২৫) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ১০টা দিকে সীমান্তের মেইন পিলার ১৫৭/২-এস এর কাছে এই পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

ফেরত আসা বকুল দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী চিলমারী ইউনিয়নের মরারপাড়া গ্রামের মো. লুৎফর মণ্ডলের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন।

বিজিবি সূত্র জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে বকুল বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে গত ১৫ মে মাইকিংয়ের মাধ্যমে নিখোঁজের সংবাদ প্রচার করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভারতীয় আইডিতে দেখা যায়, বকুল ভারতের কলকাতায় মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত চিলমারী বিওপিকে অবহিত করেন। এরপর বিজিবি দ্রুত বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিএসএফ সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির মালিকের সহায়তায় বকুলকে ১৬ মে আটক করে এবং পরদিন ভোরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।

পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন চরচিলমারী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. মোশারফ হোসেন। এসময় তার সঙ্গে আরও ৭ জন বিজিবি সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

অপরদিকে ভারতের ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চরভদ্রা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসআই নিতিন কুমারের নেতৃত্বে ৭ জন বিএসএফ সদস্য অংশ নেন। বৈঠকটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় বলে জানান বিজিবি।

 

 

 

কুষ্টিয়া ৪৭ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় এক বাংলাদেশি নাগরিক ভারতের কলকাতায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ও তথ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা বিজিবিকে অবহিত করেন। বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পতাকা বৈঠক করে তাকে দেশে ফেরানো হয়। পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তায় বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত বিজিবিকে জানাতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

বিশ্বকাপের শেষ লড়াইয়ে ব্রাজিল-স্পেন দেখার স্বপ্ন: নেইমার

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিল ও স্পেনের মধ্যে ফাইনাল হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। একই সঙ্গে তিনি স্বপ্ন দেখেছেন সেই ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করার।

 

 

তবে ৩৪ বছর বয়সী এই তারকার বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চোটের সঙ্গে লড়াই করছেন নেইমার। বিশেষ করে সৌদি ক্লাব আল হিলালে থাকার সময় তিনি বেশিরভাগ সময়ই মাঠের বাইরে ছিলেন।

 

 

এদিকে ব্রাজিল জাতীয় দলে এখন একাধিক তরুণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড় নিয়মিত জায়গা করে নেয়ায় নেইমারের জন্য দলে ফেরা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

তবুও স্বপ্ন দেখছেন এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। সাংবাদিক ব্রুনো ফর্মিগার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক কথোপকথনে নেইমার ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্রাজিল ও স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার কথা বলেন এবং ব্রাজিলের ৩-১ ব্যবধানে জয় কল্পনা করেন। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে নেইমার সংক্ষেপে বলেন, ‘স্বপ্ন তো দেখতেই হয়, তাই না?’

এদিকে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগেই জানিয়েছেন, শুধুমাত্র খ্যাতির ভিত্তিতে কাউকে দলে নেয়া হবে না। তিনি বলেন, নেইমার সম্প্রতি উন্নতি করেছেন এবং সান্তোসে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়ায় তাকে প্রশংসাও করেছেন। তবে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে হলে খেলোয়াড়কে অবশ্যই পুরোপুরি ফিট থাকতে হবে এবং ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করতে হবে।

সান্তোসে ফিরে কিছু ঝলক দেখালেও নেইমারের ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে। গত দুই মৌসুমে বারবার চোটে পড়ায় তার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে।

 

ভালোবাসার টানে চীনের যুবক বিয়ে করেছেন কুড়িগ্রামের মেয়েকে

কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ি উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে মোরশেদা বেগম। তিনি ঢাকায় থাকাকালীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে যান চীনের যুবক আন হুং ওয়েই সাথে। একটু একটু কথা এরপর ভালো লাগা থেকে শুরু হয় প্রেম ভালোবাসা। মোরশেদা বেগম এবং আন হুং ওয়েই’র ভালোবাসার কাছে চীনের দুরত্ব যেন কোন বাঁধা হতে পারলো না। প্রেম ভালোবাসার এক পর্যায় চীন থেকে চলে আসেন সেই যুবক আন হুং ওয়ে। পরে দুইজনের সম্মতিতে দেশের রীতি অনুযায়ী বিবাহ করেন।
তারা দুইজনে বর্তমান অবস্থান করছেন মোরশেদা বেগমের বাড়ি কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ীতে। চীন থেকে আসা যুবকে এক নজর দেখতে গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায়। অনেকে ছবি তুলছেন আবার অনেকে হাত মেলাচ্ছেন কেউবা কথা বলার চেষ্টা করছে। চায়নার সেই যুবককে নিয়ে গ্রামে শুরু হয়েছে কৌতূহল। আলোচনা থেকে এড়ায়নি নেট দুনিয়াও। নেট দুনিয়াও আলোচনার কেন্দ্রবৃন্দ হয়ে পড়েছে চায়নার সেই যুবক।
এ বিষয় স্থানীয়রা জানান, ভাষাগত এবং পরিবেশগত অমিল থাকলেও তার ব্যবহার এবং আচার-আচরণ অত্যান্ত সাবলিল। এ কারণে এলাকাবাসীদের মন মুগ্ধ করেছে চীনা যুবক। যদিও তার ভাষা বুঝতে পারেন না। তবুও তার ইশারা ইঙ্গিত অনেক সহজে বোঝা যায় তার ভিতরের কথা।
স্থানীয়দের পর মোরশেদা বেগম বলেন, তারা ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোন দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথমে কথা বলেন। এক পর্যায় দুইজনে প্রেমের জড়িয়ে পড়েন। যদিও বাংলাদেশ এবং চীনের দুরত্ব অনেক তারপরেও আন হুং ওয়েই এর কাছে তা বেশি দুরুত্ব মনে হয়নি। সে ঢাকায় আসে এবং আমরা দুইজনে দেশের রীতিমতো বিয়ে করি। সে আমাকে তার দেশে নিয়ে যাবে বলে কথা দেন। এ জন্য বাবার বাড়িতে আসছি।
চীনের যুবক আন হুং ওয়েই বলেন, মোরশেদার এলাকায় এসে সে অনেক খুশি। এখানকার সব কিছুই তার অনেক ভালো লেগেছে। সবাই খুব ভালো। আমি মোরশেদা কে বিয়ে করে অনেক সুখী।

One thought on “আজ থেকে বাজারে মিলবে নতুন ডিজাইনের ৫ টাকার নোট

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ থেকে বাজারে মিলবে নতুন ডিজাইনের ৫ টাকার নোট

আপডেট টাইম : ১২:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

নতুন ডিজাইন ও বৈশিষ্ট্যের ৫ টাকার নোট বাজারে এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকেই পাওয়া যাবে অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার স্বাক্ষরিত এই নোট।

 

প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস হতে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকে ইস্যু করা হবে।

‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন নতুন এই নোটের ডিজাইন ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য হলো-

নোটটির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৭ মি.মি × ৬০ মি.মি।

 

নোটের সম্মুখভাগের বামপাশে তারা মসজিদ, ঢাকার ছবি ও মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার ছবি এবং নোটের পিছনভাগে গ্রাফিতি-২০২৪ এর ছবি আছে।

 

নোটে জলছাপ হিসেবে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ’ এর নিচে উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ জলছাপ ‘5’ এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম’ রয়েছে।

নোটটিতে হালকা গোলাপী রঙের আধিক্য রয়েছে। নোটের বামদিকে বিদ্যমান ২ মি.মি. চওড়া নিরাপত্তা সুতাটি নোটের কাগজের ভিতরে প্রবিষ্ট যা আলোর বিপরীতে ধরলে উভয় দিক হতে দেখা যায়।

 

এ ছাড়া, নোটের সামনের দিকে নীচের গ্লিউইশ প্যাটার্নের উপরের অংশে মাইক্রোপ্রিন্ট হিসেবে আনুভূমিকভাবে অসংখ্য ‘BANGLADESH’ লেখা আছে।

 

নতুন ডিজাইন ও বৈশিষ্ট্যের ৫ টাকা মূল্যমান নোটের পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলিত সকল কাগুজে নোট এবং ধাতব মুদ্রাও যথারীতি চালু থাকবে।

 

এ ছাড়া, মুদ্রা সংগ্রাহকদের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা করে নিয়মিত নোটের পাশাপাশি ৫ টাকা মূল্যমান নমুনা নোট (যা বিনিময়যোগ্য নয়) মুদ্রণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক কারেন্সি মিউজিয়াম, মিরপুর থেকে নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।

 

উল্লাপাড়ায় তিন দিনব্যাপী ভূমি মেলার উদ্ধোধন করলেন হুইপ

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ১২:১৩:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় তিন দিনব্যাপী ভূমি মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলা চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি  বের হয়ে ভুমি অফিসে  গিয়ে শেষ হয়।
ভূমি সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা ভূমি অফিসের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়।
মেলায় বিভিন্ন সরকারি সেবা, নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন কর ও অনলাইন সেবা বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তার রিমা এবং ওসি তদন্ত রুপকর,উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক শাহজাহান আলী,উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন সহ অনেকে।

 

সব জল্পনার অবসান, বিশ্বকাপে যাচ্ছেন নেইমার

অনেক দিন ধরেই গুঞ্জন ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপে হয়তো দর্শক হয়ে থাকতে হতে পারে নেইমারকে।
কেননা ফিটনেসের সমস্যায় ভুগছেন ৩৪ বছর বয়সী তারকা। তাতে মৌসুমের বেশিরভাগ সময়ই চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে।
কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে শর্ত জুড়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপে সুযোগ পেতে হলে ফিটনেস পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হতে হবে। সুযোগ পাওয়ায় বলা যায় সেই পরীক্ষায় পাস করেছেন নেইমার। 

সান্তোসের হয়ে এবারের মৌসুমে ১৫ ম্যাচ খেলে ৬ গোল করেছেন। সঙ্গে ৪ গোলে সহায়তাও করেছেন সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজির ফরোয়ার্ড।নিশ্চয়ই ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে আরও দারুণ কিছু করার প্রত্যয় নিয়েই মাঠে নামবেন তিনি। কার্লো আনচেলত্তি নেইমারের নাম ঘোষণা করতেই রিও ডি জেনেইরোর মিউজিয়াম অব টুমরোতে করতালির ঝড় ওঠে।দল ঘোষণার আগে সিবিএফ টিভিকে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘যোগ্যতা, প্যাশন এবং অজ্ঞিতার সমন্বয়ে দলটি সাজানো হয়েছে। দলটি দারুণ হয়েছে। এটি কোনো নিখুঁত তালিকা না, তবে এমন একটি দল দেওয়া হয়েছে যেখানে ভুলের সংখ্যা সামান্য।

আমাদের মূল লক্ষ্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপকে জাঁকজমকপূর্ণ করে তোলা।’

 

এর আগে রিও ডি জেনেইরোর মিউজিয়াম অব টুমরোতে দল ঘোষণায় দেশি-বিদেশি প্রায় ৭০০ সংবাদকর্মীকে আমন্ত্রণ জানায় সিবিএফ। বিশেষ অতিথিরা তো ছিলেনই। উপস্থিত বিশেষ দর্শকদের বিমোহিত করতে গান, নাচ ও অভিনয়ের ব্যবস্থা করা হয় সিবিএফের পক্ষ থেকে। মাঝে মাঝে দেখানো হয় ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ইতিহাস। অন্যদিকে অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় সামনের সারিতে বিশ্বকাপের ফাইল হাতে বসে থাকতে দেখা যায় আনচেলত্তিকে। পারফরমারদের পারফরম্যান্স দেখে কখনো হাসতেছেন আবার কখনো করতালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।

 

বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে পড়েছে ব্রাজিল। আগামী ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপর ২০ জুন প্রতিপক্ষ হাইতি এবং ২৫ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ডের। আগামী ১১ জুন শুরু হবে ২০২৬ বিশ্বকাপ। এবারের আসরের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা।

 

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: অ্যালিসন, এদারসন ও ওয়েভারটন।
ডিফেন্ডার: ব্রেমার, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, ইবানেজ, লিও পেরেইরা, মার্কিনিওস অ্যালেক্স সান্দ্রো, দানিলো, ডগলাস সান্তোস ও ওয়েসলি।
মিডফিল্ডার: ব্রুনো গুইমারেস, কাসেমিরো, দানিলো দস সান্তোস, ফাবিনহো ও লুকাস পাকেতা।
ফরোয়ার্ড: নেইমার জুনিয়র, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি, ম্যাথিউস কুনিয়া, লুইজ হেনরিকে, এন্ড্রিক, ইগর থিয়াগো ও রায়ান।

 

৫০ লাখ টাকার হেরোইনসহ র‌্যাবের হাতে আটক নারী

সিরাজগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ৫০০ গ্রাম হেরোইনসহ মোছা. রেহেনা (৩৫) নামে এক নারীকে আটক করেছে র‌্যাব-১২ সদস্যরা।

 

সোমবার (১৮ মে) ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ সদর কোম্পানির কমান্ডার কাপ্টের তাবরীজ তাজওয়ার শরীফ। আটক রেহেনা রাজশাহী জেলার বাসিন্দা মো. মোস্তফার স্ত্রী।

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব কমান্ডার উল্লেখ করেন, গোপন সংবাদ ও তথ্য প্রযুক্তির ভিত্তিতে হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫০০ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়েছে।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে আটক নারী দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীর সীমান্ত এলাকা থেকে হেরোইন সংগ্রহ করে নিজে পরিবহন করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদক ব্যাবসায়ীদের নিকট সরবরাহ করে আসছে।

 

এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

 

 

ইউনূসের বিত্তবৈভব প্রতারণা ও জালিয়াতি

  • অদিতি করিম
  • আপডেট টাইম : ০৯:১২:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

ড. ইউনূস শান্তিতে নোবেলজয়ী। দেড় বছর অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সবকিছু ছাপিয়ে তিনি একজন আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর এবং লোভাতুর মানুষ হিসেবেই বিবেচিত হবেন। ড. ইউনূস অন্তর্র্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দেশের জন্য কিছু করুন আর না-ই করুন নিজের জন্য দুহাত ভরে বিভিন্ন সুযোগসুবিধা গ্রহণ করেছেন।

 

তবে ইউনূসের জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেড় বছর প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে তিনি যেভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজে নানা ধরনের আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন, তেমনি সারা জীবন সরকারি অর্থ দিয়ে ব্যবসা করে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। দারিদ্র্য বিমোচনের নামে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান গড়ে তিনি রাষ্ট্রের সম্পদ দিয়েই নিজে বিত্তবান হয়েছেন।
মুহাম্মদ ইউনূস। দেশের সমস্যা নিয়ে তিনি নীরব।

 

দেশের কোনো সংকটে, উৎসবে তিনি থাকেন না। ব্যক্তিস্বার্থে বিদেশে তিনি সরব। হামে শিশুমৃত্যু নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই। কিন্তু ট্রেড টার্নারের মৃত্যুতে তিনি মর্মাহত হয়ে শোকবার্তা দেন। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। দারিদ্র্য জাদুঘরে যায়নি বটে, তবে তিনি অর্থ, বিত্তবৈভবের জাদু দেখিয়েছেন। এখন ‘সামাজিক ব্যবসার’ আওয়াজ তুলে বিশ্বে বক্তৃতা দিচ্ছেন। সামাজিক ব্যবসা প্রবর্তন হোক না-হোক তার বিত্তের প্রসার ঘটেছে। শিক্ষক থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন বিলিয়নিয়ার। কিন্তু তার এই বিত্ত বেড়ে ওঠেছে গরিবের সম্পদ লুটে; সরকারকে ঠকিয়ে; রাষ্ট্রীয় সম্পদকে আত্মসাৎ করে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পেশাগত জীবনে অর্থনীতিবিদ হলেও নোবেল পেয়েছেন শান্তিতে।

 

জোবরা গ্রামে গবেষণা শুরু করেছিলেন ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নিয়ে। একসময় এই দরিদ্র, হতদরিদ্র মানুষদের স্বাবলম্বী করে তোলার কথা বলে দারস্থ হয়েছিলেন বাংলাদেশ সরকারের কাছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রস্তাবেই এরশাদ সরকার গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে। ড. ইউনূস সেখানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চাকরি নেন। ১৯৮৩ সালে এটি একটি বৈধ ও স্বতন্ত্র ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করে। সরকার গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে একটি আইনের মাধ্যমে ও সেখানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে।

 

১৯৮৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সরকার গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ নামে একটি অধ্যাদেশ (অধ্যাদেশ নম্বর-৪৬) জারি করে। সে সময়ে গ্রামীণ ব্যাংক শুরু হয় মাত্র ৩ কোটি টাকা মূলধন দিয়ে। এর মধ্যে বেশির ভাগ টাকা অর্থাৎ ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ছিল সরকারের এবং ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ছিল ঋণগ্রহীতাদের। অর্থাৎ গ্রামীণ ব্যাংকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত কোনো টাকা ছিল না। অথচ গ্রামীণ ব্যাংককে ব্যবহার করেই ড. ইউনূস পেয়েছেন সবকিছু। কাগজকলমে গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক সরকার এবং ঋণগ্রহীতা জনগণ। কিন্তু ‘অসাধারণ’ মেধায় রাষ্ট্র এবং জনগণের অর্থ ড. ইউনূস পুরে ফেলেন তার পকেটে। গ্রামীণ ব্যাংকের টাকায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস গড়ে তুলেছেন তার নিয়ন্ত্রণাধীন ২৮টি প্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ ব্যাংক তথা সরকারের টাকা আত্মসাৎ করে তিনি এখন হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

 

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দাতা গোষ্ঠী অনুদান ও ঋণ দেয় গ্রামীণ ব্যাংককে। অনুদানের সব অর্থ যদি রাষ্ট্র এবং জনগণের কাছে যায় তাহলে ড. ইউনূসের লাভ কি? তাই দাতাদের অনুদানের অর্থ দিয়ে গঠন করলেন সোশ্যাল ভেনচার ক্যাপিটাল ফান্ড (এসভিসিএফ)। ১৯৯২ সালের ৭ অক্টোরব ওই ফান্ড দিয়ে আলাদা একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৯৪ সালে ‘গ্রামীণ ফান্ড’ নামের একটি লিমিটেড কোম্পানি গঠন করা হয়। তাতে ওই ফান্ডের ৪৯ দশমিক ১০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়। গ্রামীণ ব্যাংক দেখিয়ে বিদেশ থেকে টাকা এনে তা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা ছিল শুরু থেকেই। গ্রামীণ ব্যাংক সরকারি প্রতিষ্ঠান হলেও ড. ইউনূস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে সব সিদ্ধান্ত একাই নিতেন। পরিচালনা পর্ষদ এমনভাবে গঠন করা হয়েছিল, যাতে কেউ ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে কথা না বলেন। ড. ইউনূস এই সুযোগটি কাজে লাগান। ১৯৯৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর গ্রামীণ ব্যাংকের ৩৪তম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয় দাতা গোষ্ঠীর অনুদানের অর্থ ও ঋণ দিয়ে সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফান্ড (এসএএফ) গঠন করা হয়। কিন্তু দাতারা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে এভাবে অর্থ সরিয়ে ফেলার আপত্তি জানান। তারা সাফ জানিয়ে দেন, এভাবে অর্থ স্থানান্তর জালিয়াতি। এবার ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেন ড. ইউনূস। আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে তিনি জানান এটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত। ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন বলে অঙ্গীকার করেন তিনি। পরে ২৫ এপ্রিল, ১৯৯৬ সালে তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড সভায় ‘গ্রামীণ কল্যাণ’ গঠনের প্রস্তাব আনেন।

 

প্রস্তাবে বলা হয়, গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য এবং কর্মীদের কল্যাণে ‘কোম্পানি আইন ১৯৯৪’-এর আওতায় ‘গ্রামীণ কল্যাণ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করা হলো। গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড সভা এই প্রস্তাব অনুমোদন করে। এটি গ্রামীণ ব্যাংকেরই অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। গ্রামীণ কল্যাণ যে গ্রামীণ ব্যাংকেরই শাখা প্রতিষ্ঠান, তা আরও স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় এর মূলধন গঠন প্রক্রিয়ায়। গ্রামীণ কল্যাণে গ্রামীণ ব্যাংকের সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফান্ড (এসএএফ) থেকে ৬৯ কোটি টাকা প্রদান করা হয়। গ্রামীণ কল্যাণের মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেলেও গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে। মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেল অনুযায়ী গ্রামীণ কল্যাণের ৯ সদস্যের পরিচালনা পরিষদের ২ জন সদস্য হবেন গ্রামীণ ব্যাংকের মনোনীত প্রতিনিধি। এ ছাড়াও গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান হবেন গ্রামীণ ব্যাংকের মনোনীত প্রতিনিধি। গ্রামীণ ব্যাংকের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে ড. ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান হন। এরপরে গ্রামীণ কল্যাণ হয়ে ওঠে ড. ইউনূসের ‘সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁস’।

 

গ্রামীণ কল্যাণের মাধ্যমে তিনি গড়ে তোলেন একাধিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-১. গ্রামীণ টেলিকম লি., ২. গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশন লি., ৩. গ্রামীণ শিক্ষা, ৪. গ্রামীণ নিটওয়্যার লি., ৫. গ্রামীণ ব্যবস্থা বিকাশ, ৬. গ্রামীণ আইটি পার্ক, ৭. গ্রামীণ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, ৮. গ্রামীণ সল্যুশন লি., ৯. গ্রামীণ ডানোন ফুডস লি., ১০. গ্রামীণ হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস লি., ১১. গ্রামীণ স্টার এডুকেশন লি., ১২. গ্রামীণ ফেব্রিক্স অ্যান্ড ফ্যাশন লি., ১৩. গ্রামীণ কৃষি ফাউন্ডেশন।

 

অন্যদিকে গ্রামীণ কল্যাণের আদলে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ফান্ডের মাধ্যমে গঠন করা হয় আরও কিছু প্রতিষ্ঠন। এগুলো হলো-১. গ্রামীণ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লি., ২. গ্রামীণ সল্যুশন লি., ৩. গ্রামীণ উদ্যোগ ৪. গ্রামীণ আইটেক লি., ৫. গ্রামীণ সাইবারনেট লি., ৬. গ্রামীণ নিটওয়্যার লি., ৭. গ্রামীণ আইটি পার্ক ৮. টিউলিপ ডেইরি অ্যান্ড প্রোডাক্ট লি., ৯. গ্লোব কিডস ডিজিটাল লি., ১০. গ্রামীণ বাইটেক লি., ১১. গ্রামীণ সাইবার নেট লি., ১২. গ্রামীণ স্টার এডুকেশন লি., ১২. রফিক অটোভ্যান মানুফ্যাকচারার লি., ১৩. গ্রামীণ ইনফরমেশন হাইওয়ে লি., ১৪. গ্রামীণ ব্যবস্থা সেবা লি., ১৫. গ্রামীণ সামগ্রী।

 

মজার ব্যাপার হলো, গ্রামীণ ব্যাংকের অর্থে ও বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ‘গ্রামীণ কল্যাণ’ ও ‘গ্রামীণ ফান্ড’ গঠিত হয়। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যে প্রতিষ্ঠানগুলো গঠিত হয়েছে- তা সবই আইনত গ্রামীণ ব্যাংকের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু ২০২০ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ ফান্ড এবং গ্রামীণ কল্যাণের পরিচালনা পর্ষদে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিনিধি থাকলেও ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠান দুটিতে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিনিধি নেই। গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই দুইটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হবেন গ্রামীণ ব্যাংকের মনোনীত ব্যক্তি। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখনো গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ ফান্ডের চেয়ারম্যান পদে বহাল আছেন। রাষ্ট্রের অর্থ দিয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার এই এক অদ্ভুত জালিয়াতি।

 

গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ ফান্ডের মাধ্যমে গঠিত ২৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একমাত্র গ্রামীণ টেলিকম ছাড়া আর সব প্রতিষ্ঠানই লোকসানি। গ্রামীণ টেলিকম দেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল নেটওয়ার্ক গ্রামীণফোনের ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ শেয়ারের মালিক। ২০২২ সালে গ্রামীণফোন ট্যাক্স, ভ্যাট দেওয়ার পর নিট মুনাফা করেছে ৩ হাজার ৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ গ্রামীণফোন থেকে গ্রামীণ টেলিকম প্রতিবছর নিট মুনাফা পায় ১ হাজার কোটি টাকার বেশি। গ্রামীণফোনের লভ্যাংশ নয়ছয় করা ছাড়া গ্রামীণ টেলিকমের আর কোনো কাজ নেই। একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে টাকা সরিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের মাধ্যমে যে প্রতিষ্ঠানগুলো গঠন করা হয়েছে; তার সবগুলোর চেয়ারম্যান ড. ইউনূস। আর এই প্রতিষ্ঠানগুলোর এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হয় ড. ইউনূসের একান্ত অনুগত ও বিশ্বস্তদের। এই প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠার এক বড় কার্যক্রম হলো গ্রামীণ টেলিকমের লাভের টাকা আত্মসাৎ করা ও আয়কর ফাঁকি।

গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ২৮ এবং ২৯-এর বিধান লঙ্ঘন করে গ্রামীণফোন লিমিটেড থেকে গ্রামীণ কল্যাণকে তার লভ্যাংশ আয়ের ৪২.৬% বিতরণ করে আসছে। যদিও গ্রামীণ কল্যাণ গ্রামীণফোন লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডার নয়। আইন অনুযায়ী গ্রামীণ টেলিকমের সমগ্র লভ্যাংশ আয়কে এর আয় হিসেবে ভোগ করতে হবে ও সেই অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আর্থিক বছরের জন্য প্রযোজ্য করপোরেট হারে কর দিতে হবে।

 

কিন্তু তাদের নিরীক্ষিত হিসাব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা গ্রামীণ টেলিকম থেকে গ্রামীণ কল্যাণকে তাদের লভ্যাংশ আয়ের প্রায় অর্ধেক প্রদান করেছে শুধু অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ১০-২০% হারে। অথচ আইন অনুযায়ী তাদের জন্য প্রযোজ্য করপোরেট করের হার ছিল ৩৫% থেকে ৩৭.৫% পর্যন্ত। এই করপোরেট রেট ও ডিভিডেন্ট ট্যাক্সের পার্থক্য কর ফাঁকি। কারণ গ্রামীণ কল্যাণ প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনোভাবেই গ্রামীণ টেলিকমের লভ্যাংশ আয়ের অধিকারী নয়। গ্রামীণ টেলিকম শুরু থেকে যেসব কর ফাঁকি দিয়েছে সেগুলো যোগ করলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। এই কর ফাঁকির হিসাব শুধু গ্রামীণ টেলিকমের। ড. ইউনূসের নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য কোম্পানি এবং প্রতিষ্ঠান ও তার ব্যক্তিগত আয়করের ক্ষেত্রেও ব্যাপকভাবে কর ফাাঁকির ঘটনা অনেকটা স্বাভাবিক নিয়মের মতোই বহু বছর ধরে ঘটেছে। ড. ইউনূসনিয়ন্ত্রিত অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কর ফাঁকির ঘটনাগুলো হিসাব করলে এই পরিমাণ দাঁড়াবে বিশাল অঙ্কের। এ নিয়ে মামলা হয়েছিল। হাই কোর্ট ইউনূসকে অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার অনাদায়ি কর পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল। ইউনূস সে সময় বলেছিলেন আদালত বলেছে কর দিতে আমি দেব। তিনি দাবি করেন, তিনি কর ফাঁকি দেননি, আদালতের নির্দেশনা চেয়েছেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই কর ফাঁকির মামলা প্রত্যাহার করান ড. ইউনূস।

 

গ্রামীণ টেলিকমের ২৮ বছরের কার্যক্রম চলাকালীন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি দেওয়া হয়। এই দীর্ঘ সময়ে ড. ইউনূস প্রতি বছর শতকরা ১৫ থেকে ২৫ ভাগ পর্যন্ত কর ফাঁকি দিয়ে আসছেন। ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গ্রামীণ টেলিকমে ড. ইউনূস ২৫% কর ফাঁকি দিয়েছেন। ওই সময়ে কর ছিল ৩৫%, প্রদান করেছিলেন মাত্র ১০%। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানে ড. ইউনূস কর ফাঁকি দিয়েছেন বছরে ২০%। ওই সময়ে কর ছিল ৩৫%, প্রদান করেছিলেন মাত্র ১৫%। ২০০৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ড. ইউনূস নিয়ন্ত্রিত গ্রামীণ টেলিকমে প্রতি বছর ১৫% কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে কর ছিল ৩৫%, আর প্রদান করেছিলেন মাত্র ২০%।

এটি লক্ষণীয় ড. ইউনূস তার কর ফাঁকির বিষয়গুলো ধামাচাপা দিতে দেশের আদালতে বেশ কিছু মামলা এবং রিট পিটিশন দায়ের করেন। এসব মামলা এবং রিটের উদ্দেশ্য হচ্ছে কর ফাঁকিসংক্রান্ত বিষয়ে ড. ইউনূসকে যেন আইনের মুখোমুখি হতে না হয়। ড. ইউনূসের করসংক্রান্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার কর ফাঁকির বিষয়গুলো দালিলিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ড. ইউনূসের কর ফাঁকির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় এবং নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের দ্বারা পরিচালিত তদন্তে এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে ড. ইউনূস নিজে ও তার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলো তার নির্দেশনাতেই কর ফাঁকির অপরাধে জড়িত। ইউনূস তার দেড় বছরের শাসনকালে তার বিরুদ্ধে চলমান এনবিআরের সব মামলা এবং তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে তিনটি। এই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তিনটি হলো যথাক্রমে- ১. সাউথইস্ট ব্যাংক, (অ্যাকাউন্ট নম্বর-০২১২১০০০২০০৬১), ২. স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংক, (অ্যাকাউন্ট নম্বর-১৮১২১২৭৪৭০১) এবং ৩. রূপালী ব্যাংক, (অ্যাকাউন্ট নম্বর-০৪৮৯০১০০০৮০৯৬)। এই তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মধ্যে ২০০০ সালে খোলা সাউথইস্ট ব্যাংকের অ্যাকাউন্টটি (অ্যাকাউন্ট নম্বর-০২১২১০০০২০০৬১) তার মূল ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হিসেবেই প্রতীয়মান হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টে ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১১৮ কোটি ২৭ লাখ ৭৬ হাজার ৩৬৮ টাকা রেমিট্যান্স এসেছে। এই রেমিট্যান্সের বেশির ভাগ ৪৭ কোটি ৮৯ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫২ টাকা এসেছে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে। সেই সময়েই একটি রাজনৈতিক দল গঠনেরও প্রয়াস করেছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি এক-এগারোর বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে ইউনূসের কাছে বিদেশ থেকে টাকা এসেছিল?

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ট্যাক্স ফাইল বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ২০০৩ সালের পরে নোবেল বিজয়ীর তকমাধারী ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার ট্যাক্স ফাইলে ২০০৫-০৬ করবছরে তিনি সর্বমোট ৯৭ কোটি ৪ লাখ ৬১ হাজার ১৯১ টাকা রেমিট্যান্স প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ওই সময়ে তার ব্যক্তিগত সাউথইস্ট ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে রেমিট্যান্স প্রাপ্তির পরিমাণ ১১৫ কোটি ৯৮ লাখ ৯৬ হাজার ২৪ টাকা। অর্থাৎ ওই সময়ে তিনি ১৮ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩৫ টাকার রেমিট্যান্স প্রাপ্তির তথ্য সরকারকে কর ফাঁকি দেওয়ার লক্ষ্যে তার ব্যক্তিগত ট্যাক্স ফাইলে গোপন করেছেন। এটি স্পষ্ট অর্থ পাচারের দোষে দুষ্ট।

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের ডেবিট অ্যানালাইসিসে উঠে এসেছে অপ্রদর্শিত অর্থসমূহের মূল অংশ তিনি সাউথইস্ট ব্যাংকের অন্য দুটি অ্যাকাউন্ট, সাউথইস্ট ব্যাংকের ১৫ নম্বর ব্রাঞ্চের ট্রাভেল ইন্টারন্যাশনাল লি. নামের (অ্যাকাউন্ট নম্বর- ৭৩৩০০০০০৩৩৩৯) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১১ কোটি ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৬৭ টাকা এবং ০০৩৫ নম্বর ব্রাঞ্চের (অ্যাকাউন্ট নম্বর-৯০৩০৩১৬০৯১০) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা স্থানান্তর করেছেন। অর্থ পাচারের জন্যই এভাবে টাকা এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়।

 

সরকারকে কর ফাঁকি দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর বছরে তিনি তার ব্যক্তিগত ট্যাক্স ফাইলে নিজস্ব সাউথইস্ট ব্যাংকে প্রাপ্ত বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্সের তথ্য গোপন করেছেন। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ১৫ কেটি ১১ লাখ ৩১ হাজার ৪৭ টাকা। কিন্তু তিনি তার ট্যাক্স ফাইলে প্রদর্শন করেছেন ৯ কোটি ১৪ লাখ ৫৮ হাজার ৪৮৯ টাকা। ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট এবং ট্যাক্স বা কর ফাইলের সঙ্গে এখানে পার্থক্য রয়েছে ৫ কোটি ৯৬ লাখ ৭২ হাজার ৫৫৯ টাকা। ২০০৮-০৯ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ১১ কোটি ৮৩ লাখ ১৪ হাজার ৪১০ টাকা। অথচ তিনি তার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ১০ কোটি ৪০ লাখ ২৪ হাজার ৮৩২ টাকা। এখানে তিনি ১ কোটি ৪২ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৮ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০০৯-১০ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ২০ কোটি ৯৫ লাখ ৫১ হাজার ১৯৫ টাকা। তিনি তার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ১৮ কোটি ৯৯ লাখ ২৮ হাজার ৭৩১ টাকা। এখানে তিনি ১ কোটি ৯৬ লাখ ২২ হাজার ৪৬৫ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০১০-১১ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ৮ কোটি ১৮ লাখ ৬৫ হাজার ২০৪ টাকা। অথচ তার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ৬ কোটি ৬০ লাখ ৪৪ হাজার ৯২ টাকা। এখানে তিনি ১ কোটি ৫৮ লাখ ২১ হাজার ১১২ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০১১-১২ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ৫ কোটি ৯১ লাখ ৫ হাজার ৫৮৬ টাকা। আর ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২ টাকা। এখানে তিনি ১ কোটি ২৫ লাখ ৬৯ হাজার ১৪ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০১২-১৩ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ৮ কোটি ৩৭ লাখ ২ হাজার ৭৭ টাকা। তিনি তার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ৬ কোটি ৫০ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৫ টাকা। এখানে তিনি ১ কোটি ৮৬ লাখ ৩৫ হাজার ৪১২ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০১৩-১৪ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ১০ কোটি ৫৫ লাখ ৪২ হাজার ৩৩৬ টাকা। তিনি তার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ৭ কোটি ৯৮ লাখ ৫৯ হাজার ৫৪৪ টাকা। এখানে তিনি ২ কোটি ৫৬ লাখ ৮২ হাজার ৭৯৩ টাকার তথ্য গোপন করেছেন। ২০১৪-১৫ কর বছরে তিনি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়েছেন ৭ কোটি ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ২০৭ টাকা। অথচ ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ করেছেন ৫ কোটি ১৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৯৮ টাকা। এখানেও তিনি ১ কোটি ৯৭ লাখ ৯৫ হাজার ৬০৯ টাকার তথ্য গোপন করেছেন।

 

২০০০ সালের পর থেকে এমন প্রতিটি কর বছরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রাপ্ত হয়ে কোটি কোটি টাকার তথ্য গোপন করে সরকারের কর ফাঁকি দিয়েছেন। ২০০৫-০৬ কর বছর থেকে শুরু করে চলতি কর বছর পর্যন্ত সরকারকে কর ফাঁকি দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি ১৮ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩৫ টাকা রেমিট্যান্সের তথ্য গোপন রেখেছেন। মজার ব্যাপার হলো, ২০২০-২১ অর্থবছরে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় সব টাকা তুলে ‘ইউনূস ট্রাস্ট’ গঠন করেন। ট্রাস্টের টাকা আয়করমুক্ত। সেই হিসাব থেকেই এমন কাণ্ড করেন তিনি। কিন্তু এরকম ফান্ডের জন্য ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়, এটি তিনি দেননি। এই ট্যাক্স ফাঁকির কারণেই তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এই মামলায় তিনি হেরে যান।

 

ড. ইউনূস ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার জন্য যে ট্রাস্ট গঠন করেন তার একটি মাত্র কার্যক্রম দেখা যায়। তা হলো ড. ইউনূস ও তার পরিবারের সব ব্যয় বহন করা হয় এই ট্রাস্টের টাকায়। এটাও এক ধরনের জালিয়াতি। এই ট্রাস্ট যেই ধরনের সমাজসেবামূলক কার্যক্রম করবে বলে আঙ্গীকার করা হয়েছে, তার কিছুই করে না। তাহলে কি কর ফাঁকি দিয়ে বিলাসী জীবন যাপনের জন্যই এই ট্রাস্ট? একজন নোবেলজয়ী ব্যক্তি, কীভাবে রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে এই রকম প্রতারণা করতে পারেন?

 

সারা জীবন ইউনূস যেভাবে নিজের স্বার্থে রাষ্ট্রের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন ক্ষমতায় গিয়েও তিনি একই কাজ করেছেন। তিনি ১৮ মাস দেশের জন্য কিছুই করেননি। সবকিছু করেছেন নিজের জন্য। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গ্রামীণসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরকারি অনুমোদন ও সুবিধা পেতে শুরু করে। অন্তর্র্বর্তী সরকারের আমলে নিবন্ধন, অনুমোদন, করছাড়সহ বেশ কিছু সুবিধা পেয়েছে গ্রামীণসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ঢাকায় গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে গ্রামীণ অ্যামপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স, গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমতি। এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ ও সরকারিভাবে ব্যাংকে শেয়ারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

 

ড. ইউনূস ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থ পাচারের মামলা দ্রুত খারিজ হয়ে যাওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি নামে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গ্রামীণ ট্রাস্টের অধীনে চলবে। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর আবেদন জমা দেওয়ার তিন মাসের মধ্যেই এটি অনুমোদন পায়। অন্তর্র্বর্তী সরকারের আমলে অনুমোদিত প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এটি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ অ্যামপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড (জিইএসএল) বিএমইটি থেকে একটি লাভজনক জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স (জখ ঘড়. ২৮০৬) পায় এবং এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সদস্যপদ লাভ করে। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই গ্রামীণ টেলিকমের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডর (পিএসপি) হিসেবে কাজ করার জন্য অনুমোদন পায়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ‘অনাপত্তি সনদ’ (এনওসি) পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি পিএসপি লাইসেন্স পায়। ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল অন্তর্র্বর্তী সরকার একটি বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য নতুন অধ্যাদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে সরকারের মালিকানা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়।

 

বৈঠকটি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। নতুন অধ্যাদেশে শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা হয় এবং বোর্ডে নির্বাচিত ৯ জন সদস্যের মধ্য থেকে ৩ জন পরিচালক মনোনীত হবেন, যাদের মধ্য থেকে একজনকে বোর্ড চেয়ার হিসেবে নির্বাচন করা হবে। এতে সরকারের চেয়ার নিয়োগের ভূমিকা বাতিল হয়। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার দুই মাস পর ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গ্রামীণ ব্যাংককে ২০২৯ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য কর অব্যাহতি দেয়। অন্যদিকে ড. ইউনূস গত বছরের ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পরই অর্থ পাচার মামলায় ঢাকার একটি আদালত তাকে খালাস দেয়। এ ছাড়া শপথ নেওয়ার আগের দিনই শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ইউনূসসহ গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালকদের যে ছয় মাসের কারাদণ্ড হয়েছিল, সেই মামলাতেও আদালত তাদের খালাস দেন।

 

এভাবেই ইউনূস যখনই সুযোগ পেয়েছেন তখনই জালিয়াতি এবং প্রতারণার মাধ্যমে তার বিত্তবৈভব বাড়িয়ে নিয়েছেন। ২০০৬ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সময় ইউনূস বলেছিলেন দারিদ্র্য জাদুঘরে যাবে। কিন্তু দারিদ্র্যের হার গত ২৬ বছরে আরও বেড়েছে। বিশেষ করে ইউনূসের শাসনকালে বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। কিন্তু তাতে কী? ইউনূস এ সময় হয়েছেন আরও বিত্তবান। আর তার এই বিত্তবৈভব কষ্ট করে অর্জিত নয়, স্রেফ প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত তার সম্পদের পাহাড়।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

 

 

দুপুরের মধ্যে ঝড়-বজ্রবৃষ্টি হতে পারে যে ৫ অঞ্চলে

দেশের পাঁচ অঞ্চলের ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর পুনঃ সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এজন্য এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

 

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

 

অন্যদিকে পটুয়াখালীসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

 

পরবর্তী কয়েক দিনেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্ধিত পাঁচ দিনের শেষদিকে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

এছাড়া আজ রাজধানী ঢাকায় দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। তবে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার সময় এর গতি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

 

মসজিদে ৩ জনকে গুলি করে হত্যার পর দুই কিশোরের আত্মহত্যা

সান ডিয়েগোর একটি মসজিদে দুই কিশোর বন্দুকধারী গুলি চালিয়ে তিনজনকে হত্যা করে এবং এরপর কয়েক ব্লক দূরে আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ এই হামলাটিকে একটি বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে। সোমবার (১৮ মে)  সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

খবর বার্তা সংস্থা এপির

সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারের  বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট হুমকি দেওয়া হয়নি, তবে কর্তৃপক্ষ এমন প্রমাণ পেয়েছে যে সন্দেহভাজনরা “সাধারণ বিদ্বেষমূলক বক্তব্য” দিয়েছে, বলেছেন সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল। তিনি আরও বিস্তারিত জানাতে অস্বীকার করলেও বলেছেন, “যে পরিস্থিতি এই ঘটনার দিকে নিয়ে গেছে” তা আগামী দিনগুলোতে সামনে আসবে।

 

ওয়াল বলেন, হামলার আগে থেকেই কর্মকর্তারা একজন কিশোরের সন্ধান করছিলেন, কারণ তার মা উদ্বিগ্ন হয়ে পুলিশকে ফোন করে জানান যে তার ছেলে আত্মহত্যাপ্রবণ এবং পালিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, বাড়ি থেকে অস্ত্রশস্ত্র এবং মায়ের গাড়িটিও পাওয়া যায়নি।

 

তিনি বলেন, পুলিশ যখন জানতে পারে যে ছেলেটি ছদ্মবেশে ছিল এবং একজন পরিচিতের সাথে ছিল, তখন অনুসন্ধান আরও জরুরি হয়ে ওঠে — এই বিবরণগুলো এমন কারো জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল যে আত্মহত্যা করতে চলেছে।

 

১৭ ও ১৮ বছর বয়সীদের খুঁজে বের করতে পুলিশ স্বয়ংক্রিয় লাইসেন্স প্লেট রিডারসহ সম্ভাব্য সব প্রযুক্তি ব্যবহার করতে শুরু করে। পুলিশ যেখানে গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করেছিল, তার কাছাকাছি একটি শপিং মলে কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয় এবং কর্মকর্তারা এমন একটি স্কুলকে সতর্ক করেন যেখানে সন্দেহভাজনদের মধ্যে অন্তত একজন পড়ত, বলেন ওয়াল।

 

কিশোর-কিশোরীরা কোথায় থাকতে পারে সে বিষয়ে কর্মকর্তারা যখন মা-কে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তারা মসজিদে গোলাগুলির খবর পান।

 

ওয়াহল বলেন, নিহতদের মধ্যে মসজিদের একজন নিরাপত্তাকর্মীও ছিলেন, যিনি হামলাটিকে “আরও ভয়াবহ” হওয়া থেকে বিরত রাখতে “একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন” বলে পুলিশ মনে করে।

 

পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বলেন, “এটা বলাই যায় যে তার কাজ ছিল বীরত্বপূর্ণ। নিঃসন্দেহে তিনি আজ প্রাণ বাঁচিয়েছেন।”

 

এর ওয়েবসাইট অনুসারে, এই কেন্দ্রটি সান ডিয়েগো কাউন্টির বৃহত্তম মসজিদ এবং এর মধ্যে আল রশিদ স্কুলও রয়েছে, যেখানে ৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য আরবি ভাষা, ইসলাম শিক্ষা এবং কোরআনের কোর্স করানো হয়।

 

ওয়াল বলেন, ফোন পাওয়ার চার মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা পৌঁছানোর সাথে সাথেই কয়েক ব্লক দূরে গুলির শব্দ শোনা যায়, যেখানে একজন ল্যান্ডস্কেপারকে গুলি করা হলেও তিনি অক্ষত ছিলেন। তিনি জানান, কাছাকাছি একটি রাস্তার মাঝখানে থেমে থাকা একটি গাড়ির ভেতর থেকে হামলাকারীদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

 

আকাশ থেকে ধারণ করা টিভি ফুটেজে দেখা যায়, কেন্দ্রটির পার্কিং লটটি অসংখ্য পুলিশের গাড়ি দিয়ে ঘেরা ছিল এবং সেখান থেকে এক ডজনেরও বেশি শিশুকে হাত ধরে বের করে আনা হচ্ছিল। মসজিদটি বাড়িঘর, অ্যাপার্টমেন্ট এবং শপিং মলের একটি এলাকায় অবস্থিত, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের রেস্তোরাঁ ও বাজার রয়েছে।

 

অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার জন্য কাছাকাছি একটি এলাকায় যেতে বলা হয়।

 

মসজিদটির পরিচালক ইমাম তাহা হাসানে এটিকে “একটি উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত জঘন্য কাজ” বলে অভিহিত করেছেন।

 

তিনি বলেন, “আমাদের এই সুন্দর শহরের সমস্ত উপাসনালয় সর্বদা সুরক্ষিত থাকা উচিত।”

 

তিনি আরও বলেন যে, কেন্দ্রটি আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক এবং সম্প্রদায় গঠনের উপর গুরুত্ব দিত এবং সোমবার সকালে একদল অমুসলিম ইসলাম সম্পর্কে জানতে মসজিদটি পরিদর্শন করছিলেন।

 

ইসলামিক সেন্টারের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে যে, এর লক্ষ্য শুধু মুসলিম জনগোষ্ঠীর সেবা করাই নয়, বরং “বৃহত্তর সম্প্রদায়ের সাথে মিলে সুবিধাবঞ্চিতদের সেবা করা, শিক্ষা প্রদান করা এবং আমাদের দেশকে আরও উন্নত করা।” সেখানে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং মসজিদটি অন্যান্য সংস্থা ও সকল ধর্মের মানুষের সাথে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অধিকার রক্ষা গোষ্ঠী ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস’ এই গুলির ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।

 

সিএআইআর-সান ডিয়েগোর নির্বাহী পরিচালক তাজিন নিজাম এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রার্থনা বা পড়াশোনা করার সময় কারও নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পাওয়া উচিত নয়। আমরা এই ঘটনা সম্পর্কে আরও জানতে কাজ করছি এবং সবাইকে এই সম্প্রদায়ের জন্য প্রার্থনা করতে উৎসাহিত করছি।”


চিলমারিতে ১২ কেজি গাঁজাসহ যশোরের নারী আটক

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে অভিযান চালিয়ে ১২ কেজি গাঁজাসহ এক নারী মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৮ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চিলমারী থানার মাটিকাটা মোড় এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেফতারকৃত নারী হলেন যশোর জেলার অভয়নগর থানার নোয়াপাড়া এলাকার মোছাঃ নাজমিন আক্তার (২২)। পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের মিডিয়া অফিসার ও উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে চিলমারী থানাধীন মাটিকাটা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় চিলমারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কামারখন্দে বোরো মৌসুমে সরকারি ভাবে ধান চাল সংগ্রহ শুরু

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদাম প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডা. বিপাশা হোসাইন।

 

 

 

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে স্বচ্ছ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যে কৃষি অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষক সরবরাহকৃত তালিকা থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে।

 

 

 

এ বছরে বোরো মৌসুমে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের কৃষক এবং মিলারদের কাছ থেকে থেকে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে ৬৭৯ মেট্রিক টন, প্রতি কেজি চাল ৪৯ টাকা দরে ১ হাজার ৪শত ৯৩ মেট্রিক টন সংগ্রহ করা হবে। সরকারিভাবে এই ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম ১৮ মে শুরু হয়ে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

 

 

 

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা এসএম শফিকুল ইসলাম তালুকদার ছাড়াও ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মিলার হাজী মনোয়ার, কৃষক রুহুল আমিনসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

 

 

 

উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, সংগ্রহ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

 

রাণীনগরে পাইকারি দোকানের চাল কেটে দেড় লাখ টাকার সিগারেট চুরি

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর বাজার চারমাথা এলাকায় ওমর সুপার মার্কেটে একটি পাইকারি দোকান থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার সিগারেট চুরি হয়েছে। চোরেরা দোকানের চালের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে এই চুরির ঘটনা ঘটায়।
চুরি যাওয়া দোকানটি রাণীনগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাহাজুল ইসলামের মালিকানাধীন “মেসার্স সাহাজুল ট্রেডার্স”। রোববার রাত আনুমানিক ১০টায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরেন তিনি। পরদিন সোমবার সকালে দোকান খুলতে এসে দেখেন মালপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। ভেতরে ঢুকে দেখতে পান, চোরেরা চালের টিন কেটে প্রবেশ করে বেনসন, গোল্ড লিফ, স্টার-সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট চুরি করে নিয়ে গেছে।
খবর পেয়ে রাণীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এরপর দুপুরে ভুক্তভোগী সাহাজুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের গ্রেফতার ও চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে।

তাড়াশে খড়ের গাদায় আগুন, ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের কাজিপুর গ্রামে খড়ের গাদায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে একটি বসতবাড়ি।

সোমবার (১৮মে) বিকেলে রুহুল আমিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই বাড়ির পাশে রাখা খড়ের গাদায় আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে স্থানীয়রা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মইনুদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা না গেলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে স্টেশন মাস্টার মইনুদ্দিন বলেন, শুষ্ক মৌসুমে খড়, কুটো ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থের পাশে আগুন ব্যবহার থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সামান্য অসাবধানতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

বাবাকে গুরুতর জখম, ছেলের ১২ বছরের কারাদণ্ড

রাজধানীর বাড্ডায় পারিবারিক বিরোধের জেরে গজালযুক্ত বাঁশ দিয়ে বাবার চোখ অন্ধ করে দেওয়ার মামলায় ছেলে এমদাদুল হক বাদলকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে মামলার অপর আসামি ও বাদলের স্ত্রী মোছা. রতনাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

সোমবার (১৮ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

 

 

 

রায়ের নথি অনুযায়ী, মামলায় এমদাদুল হক বাদলের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৬ ও ৫০৬ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ সাজা দেন। তবে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ৩০৭ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে ওই ধারায় খালাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্ত্রী রতনার বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তাকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উত্তর বাড্ডার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ একই ভবনের দ্বিতীয় তলায় এবং তার ছেলে বাদল তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। ঘটনার দিন বাড়ির কেয়ারটেকার ছামিউল হক বাদলকে জানান, তার বাবা টাকা চাইছেন। পরে বাদল নিচে গিয়ে বাবার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বাগ্‌বিতণ্ডা ও গালিগালাজ শুরু হলে আব্দুল লতিফ প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাদল প্রায় ১০ ফুট লম্বা একটি বাঁশের মাথায় কাপড় প্যাঁচানো লোহার গজাল দিয়ে বাবার বাম চোখে আঘাত করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

আঘাতে আব্দুল লতিফ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর বাদল তার শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত করেন বলে আদালতে সাক্ষীরা জানান। রক্তাক্ত অবস্থায় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত জব্দ তালিকা, মেডিকেল সনদ এবং নয়জন সাক্ষীর জবানবন্দি উপস্থাপন করে।

 

 

 

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহবুবুল আলম আদালতকে জানান, ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা গেঞ্জি, একটি বাঁশ, বাঁশের মাথায় লাগানো লোহার গজাল এবং সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা হয়। পরে ফুটেজ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়।

আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে উঠে আসে, বাদল ও তার বাবার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার সময় চিৎকার শুনে ভবনের বাসিন্দারা বাইরে এসে আব্দুল লতিফকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। কয়েকজন সাক্ষী বাদলের হাতে বাঁশ দেখেছেন বলেও আদালতে সাক্ষ্য দেন।

 

 

তবে আসামিপক্ষ দাবি করে, ঘটনাটি সাজানো এবং ভুক্তভোগী পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। কিন্তু সাক্ষ্য, চিকিৎসা নথি, সিসিটিভি ফুটেজ ও ফরেনসিক আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগের মূল অংশ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন।

 

 

কামারখন্দে বোরো মৌসুমে সরকারি ভাবে ধান চাল সংগ্রহ উদ্ভোধন

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদাম প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডা. বিপাশা হোসাইন।

 

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে স্বচ্ছ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যে কৃষি অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং  উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষক সরবরাহকৃত তালিকা থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে।

 

এ বছরে বোরো মৌসুমে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের কৃষক এবং মিলারদের কাছ থেকে থেকে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে ৬৭৯ মেট্রিক টন, প্রতি কেজি চাল ৪৯ টাকা দরে ১ হাজার ৪শত ৯৩ মেট্রিক টন সংগ্রহ করা হবে। সরকারিভাবে এই ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম ১৮ মে শুরু হয়ে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

 

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা এসএম শফিকুল ইসলাম তালুকদার ছাড়াও ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মিলার হাজী মনোয়ার, কৃষক রুহুল আমিনসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

 

উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, সংগ্রহ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

 

 

সিরাজগঞ্জে ১২৬ কেজি পলিথিন জব্দ, জরিমানা ৫ হাজার টাকা

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কড্ডার মোড় এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন শপিং ব্যাগের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১২৬ কেজি পলিথিন জব্দ করা হয়েছে। এ সময় এক দোকান মালিককে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
রোববার (১৮ মে ২০২৬) বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার জনাব এহসান আহমেদ খান। অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মোঃ শাহিন আলম।
অভিযানকালে কড্ডার মোড় এলাকার একটি দোকানে তল্লাশি চালিয়ে মোট ১২৬ কেজি নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন শপিং ব্যাগ জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে দোকান মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।
অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ দূষণ রোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

সংবাদ প্রকাশের পর বদলানো হলো পচা দুর্গন্ধযুক্ত ভিজিএফের চাল

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ভিজিএফের পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত চাল বদলে নতুন চাল সরবরাহ করা হয়েছে। কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগ নেয়।
সোমবার (১৮ মে) সকালে ধামাইনগর ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় কয়েকটি বস্তার চাল থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার অভিযোগ ওঠে। উপকারভোগীরা জানান, কিছু চাল ছিল পচা ও নিম্নমানের। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরে অনলাইন গণমাধ্যম “জনতার কন্ঠ”-এ ‘রায়গঞ্জে দুঃস্থদের মাঝে পচা-দুর্গন্ধযুক্ত চাল বিতরণের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। সংবাদ প্রকাশের পর চার বস্তা চাল পরিবর্তন করে ভালো মানের চাল সরবরাহ করা হয়।
ধামাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রোজিন পলাশ বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। পরে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত চার বস্তা চাল বদলে ভালো মানের চাল দেওয়া হয়েছে।”
বিষয়টি নিশ্চিত করে রায়গঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “চার বস্তা চাল নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভালো মানের চাল সরবরাহ করা হয়েছে।”
এর আগে চাল বিতরণ কার্যক্রমে সহায়তাকারী স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, কয়েকটি বস্তার চাল থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে উপকারভোগীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেয়। পরে সংশ্লিষ্টরা পচা চাল আলাদা করে রেখে নতুন চাল সরবরাহ করেন।
স্থানীয় উপকারভোগীরা জানান, সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ না করা হয়, সে দাবিও জানান তারা।

 

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ইয়াবাসহ আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ আওয়ামী লীগের এক নেতা ও তার সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ও নগদ ১১ হাজার ২১৫ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন— সলঙ্গা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রৌহাদহ গ্রামের আরহম আলীর ছেলে বাদশা এবং একই গ্রামের মৃত তাহের আলীর ছেলে সাবেদ আলী। সাবেদ আলী স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাতে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রৌহাদহ গ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তাদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নগদ ১১ হাজার ২১৫ টাকা উদ্ধার করা হয়।
ওসি আসলাম হোসেন জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

চৌমুহনীতে ট্রাকচাপায় নিহত মাওলানা বেলাল

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক, প্রাবন্ধিক ও সংগঠক মাওলানা বেলাল হোসাইন ফতেহপুরী (৫০) সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ও দুই কন্যা গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (১৮ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, মাওলানা বেলাল হোসাইন ফতেহপুরী স্ত্রী তামান্না রহমান (৪৫) এবং দুই মেয়ে তালভিয়া রহমান (১২) ও মুসতারি রহমান তাসফিয়া (৫)-কে নিয়ে চৌমুহনীর হলি কেয়ার হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ফেরার পথে ফেনী-নোয়াখালী ফোর-লেন মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মালবাহী ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১২-৩০২৫) তাদের চাপা দেয়।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মাওলানা বেলাল হোসাইন ফতেহপুরী নিহত হন। এসময় তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মাওলানা বেলাল হোসাইন ফতেহপুরী সেনবাগ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের বরকান্দাজ বাড়ি (প্রকাশ বেতাকিয়া বাড়ি) এলাকার মৃত মুগবুল আহমেদের ছেলে। তিনি ফতেহপুর ইসলামিয়া মাদরাসার মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়াও তিনি “যৌতুক প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশ” এবং হুফফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন, নোয়াখালী শাখার মহাসচিব ছিলেন। শিক্ষা, সমাজসেবা ও সাহিত্যচর্চায় তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে নিয়মিত কলাম লিখতেন এবং তার রচিত একাধিক বই ও প্রবন্ধ রয়েছে।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল আকবর দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “এ ঘটনায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। ঘাতক ট্রাকটি আটক করেছে পুলিশ।

 

সিরাজগঞ্জে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জে ব্র্যাক সিড এন্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজ আয়োজিত টেকসই কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বায়োপেস্টিসাইডের ব্যবহার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

সোমবার শহরের পৌর নিউ মার্কেট কমিটি সেন্টারে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এস এম নাসিম হোসেন।

 

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, ব্র্যাক বগুড়া ১ রিজিওনের আর এস এম মো: ফেরদৌস আলম। আরও উপস্থিত ছিলেন, উল্লাপাড়ার টিএসও আল আমিন, টিএসও কৃষিবিদ মধুসূদন কুমার মন্ডল, ডিলার মো: মামনুল ইসলাম পাপ্পুসহ স্থানীয় রিটেইলার ও ৫০ জন প্রকৃত কৃষক।

 

 

উক্ত অনুষ্ঠানে ব্র্যাক সিডের সবজি, হাইব্রিড ধান, উফসি ধান বীজ, বায়োপেস্টিসাইড, জৈব সার এর ব্যবহার, সকল বীজের আধুনিক চাষাবাদ কলা-কৌশল এবং বায়োপেস্টিসাইডের ব্যবহারের উপকারি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

 

অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের মাঝে সবজি বীজ এবং বায়োপেস্টি সাইড বিতরণ করা হয়।

 

নেইমারের বিশ্বকাপ দলে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ব্রাজিলিয়ানরা

বাংলাদেশ সময় মধ্য রাতে বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। সেই দলে নেইমার শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেন কি না, তা জানার আগ্রহ এখন তুঙ্গে।

 

 

নেইমারকে দলে রাখা উচিত কি না—এ প্রশ্নে বিভক্ত ব্রাজিলের ফুটবল সমর্থকরা। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘জি ই’ পরিচালিত এক অনলাইন জরিপে খুব অল্প ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ‘না’ ভোট।

 

 

জরিপে মোট ভোট পড়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৭২৩টি। এর মধ্যে নেইমারকে বিশ্বকাপ দলে না রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৫০ দশমিক ৭৯ শতাংশ সমর্থক, সংখ্যায় যা ৬৭ হাজার ৪০৬। আর তাকে দলে দেখতে চান ৪৯ দশমিক ২১ শতাংশ, অর্থাৎ ৬৫ হাজার ৩১৭ জন।

ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দলে আছেন নেইমার। গত সপ্তাহে এই তালিকা পাঠানো হয়েছে ফিফার কাছে। সোমবার চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করবেন ইতালিয়ান এই কোচ।

 

ধর্ষণের দায়ে তিনজনকে যাবজ্জীবন দিল আদালত

সুনামগঞ্জের ছাতকে ধর্ষণ মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অপর এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

 

 

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এ রায় দেন।

 

 

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ছাতক উপজেলার হাসামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালিকের ছেলে মতিউর রহমান মতিন, খোয়াজ আলীর ছেলে দিলদার হোসেন এবং কামারগাঁও গ্রামের হাবিবুর ইসলামের ছেলে বিল্লাল হোসেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১১ আগস্ট সকালে নানাবাড়িতে যাওয়ার পথে এক তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় মতিউর রহমান মতিন ও দিলদার হোসেন। পরে একটি বাড়িতে নিয়ে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। পরে বিল্লাল হোসেনসহ আরও একজনের সহযোগিতায় ওই তরুণীকে অন্যত্র নিয়ে ফের ধর্ষণ করে।

ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়রা কয়েকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে ছাতক থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় মতিউর রহমান মতিন ও দিলদার হোসেনকে ১৪ বছর কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া একই আইনের ৯(৩) ধারায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

 

 

একই ধারায় অপর আসামি বিল্লাল হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 

 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মো. শামছুর রহমান বলেন, মামলার রায় শুনানির সময় মতিউর রহমান ও দিলদার হোসেন উপস্থিত থাকলেও দণ্ডিত অপর আসামি বিল্লাল পলাতক ছিলেন। আদালতের কাছে আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি।

মুশফিকুর রহিমের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ

প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের সেঞ্চুরি আর বোলারদের কল্যাণে লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমে দারুণ ব্যাটিং করে টাইগার ব্যাটাররা। মুশফিকুর রহিমের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ।

 

 

নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৩৯০ রান করেছে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে স্বাগতিকরা লিড পেয়েছে ৪৩৬ রানের। তাই পাকিস্তানকে জিততে হলে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে হবে। টেস্টে সর্বোচ্চ ৪১৮ রানের লক্ষ্য জয়ের বিশ্বরেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের দখলে।

 

 

সোমবার (১৮ মে) ১৫৬ রানের লিড নিয়ে তৃতীয় দিন ব্যাটে নামে বাংলাদেশ। ১৩ রানে অপরাজিত থাকা নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ক্রিজে নামেন মুশফিকুর রহিম।

দিনের পঞ্চম ওভারে বাংলাদেশ উইকেট হারায়। শান্ত ৪৬ বলে ১৫ রান করে এলবিডব্লিউ হন। ক্রিজে নামেন লিটন দাস। ৪১তম ওভারের তৃতীয় বলে তার সিঙ্গেলে বাংলাদেশ লিড নেয় ২০০ রানের। দুজনে মিলে ৮৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে প্রথম সেশন শেষ করেন। লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ছিল ২৪৯ রানের।

লাঞ্চ থেকে ফিরে লিটন দাস পেয়ে যান ২০তম হাফ সেঞ্চুরি। ৬ বলে ৪৮ রান করে প্রথম সেশন শেষ করেন লিটন। দ্বিতীয় সেশনে নেমে নিজের প্রথম বলেই পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬৯ রানে থামেন লিটন। এরপর মেহেদি মিরাজ উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৩৯ বল খেলে ১৯ রান করেছেন তিনি।

১৭৮ বল খেলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন মুশফিক। টেস্টে এটি তার ১৪তম সেঞ্চুরি। লাল বলের ক্রিকেটে এখন বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ২৩৩ বলে ১৩৭ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে।

 

 

মুশফিককে শেষদিকে ভালো সঙ্গ দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। তিনি ৫১ বলে করেছেন ২২ রান। এ ছাড়া তাসকিন আহমেদ ১৩ বলে ৬ ও শরিফুল ইসলাম ১২ রান করেছেন ১৫ বল খেলে।

 

ঈদ উপলক্ষে ৭ দিনের ব্যাংক বন্ধ ঘোষণা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিন দেশের তফসিলি ব্যাংকসমূহ বন্ধ থাকবে। আগামী সোমবার (২৫ মে) থেকে রোববার (৩১ মে) পর্যন্ত এই ব্যাংকগুলো বন্ধ থাকবে।

 

 

সোমবার (১৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার (২৩ মে) ও রোববার (২৪ মে) তফসিলি ব্যাংকসমূহের সব শাখা ও উপ-শাখা স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকবে। এরপর সোমবার (২৫ মে) থেকে রোববার (৩১ মে) পর্যন্ত ব্যাংকসমূহ বন্ধ থাকবে।

তবে ঈদের আগে তৈরি পোশাক শিল্প খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলো ২৫ ও ২৬ মে সীমিত পরিসরে চালু থাকবে। এসব শাখায় অফিস সময় হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত এবং লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

এছাড়া সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা, উপ-শাখা ও বুথসমূহে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত আকারে চালু রাখতে হবে।

এ ক্ষেত্রে সোমবার (২৫ মে) থেকে রোববার (৩১ মে) পর্যন্ত (ঈদের দিন ছাড়া) সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিধি অনুযায়ী ভাতা পাবেন বলে জানানো হয় নির্দেশনায়।

 

শ্বশুরের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে জেলে গেলেন পুত্রবধূ

ঝালকাঠিতে শ্বশুরের বিরুদ্ধে দায়ের করা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদী পুত্রবধূকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে মামলার আসামি শ্বশুরকে জামিন দেওয়া হয়েছে।

 

 

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে ঝালকাঠির চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম কবির হোসেন এ আদেশ দেন।

 

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, জেলার নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনিয়নের ইশ্বরকাঠি গ্রামের এক গৃহবধূ তার শ্বশুরের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে নলছিটি থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।

পরে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলাটি মিথ্যা বলে প্রতীয়মান হয়। এ অবস্থায় আদালত মামলার বাদী পুত্রবধূকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই আদেশে অভিযুক্ত শ্বশুর জামিন লাভ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আসামিপক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট আক্কাস সিকদার বলেন, অভিযোগের পক্ষে কোনো সত্যতা না পাওয়ায় আদালত বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং আসামিকে জামিন দিয়েছেন।

 

কর আদায় না বাড়লে অর্থনীতিতে ঝুঁকি বাড়বে

কর আদায় বাড়ানো না গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি দেশের অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।

 

 

তিনি বলেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়ালে সরকারের ব্যয় ও ঋণের চাপ আরও বাড়বে।

 

 

সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ : রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, উন্নয়ন ব্যয় বাড়াতে হলে কর আদায়ের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। কর আদায় না বাড়িয়ে পরিচালন ব্যয় বাড়ালে সরকারের আর্থিক চাপ বাড়বে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিও অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ঋণের পরিমাণ ও উন্নয়ন চাহিদা বাড়ছে। আগামী বাজেটে ঋণের চাপ আরও বাড়তে পারে। এমনকি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-ও বাংলাদেশকে ঋণচাপের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে।

 

 

তৌফিকুল ইসলাম খান জানান, আগামী অর্থবছরে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা অর্জনে প্রায় ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে। তবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২০১১ সালে, যা ছিল ২৭ শতাংশের কিছু বেশি। এরপর আর কখনো এত উচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়নি।

 

 

তার মতে, কর আদায়ের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি কিছু খাতে করহার কমানোর বিষয়েও ভাবতে হবে। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গভীর বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।

 

 

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। আলোচনায় অংশ নেন ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, ড. এ কে এনামুল হক, অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, শারমিন্দ নীলোর্মি এবং মো. ফজলুল হক।

 

মদ্যপানের পর বান্ধবীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে আটক তিন জন

বগুড়ায় এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

 

রোববার (১৭ মে) রাতে ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন শ্মশানঘাট এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

 

 

বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ওসি জানান, এ ঘটনায় ওই তরুণীর তিন বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন, সদর উপজেলার ফুলবাড়ী দক্ষিণ হাজীপাড়া এলাকার কাওছার (১৯), ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকার বাঁধন (১৯) এবং উত্তর কাটনারপাড়া এলাকার রকি (১৯)।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্তদের পূর্ব পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল। রোববার রাত ৮টার দিকে তিনি শহরের পুলিশ প্লাজার সপ্তম তলায় ‘লাক জোন’ নামে একটি দোকানে যান। সেখানে কাওছার, বাধন, সাদিক ও আরও একজন উপস্থিত ছিলেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের একটি হোটেল থেকে মদ সংগ্রহ করে। রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন শ্মশানঘাট এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে যায় তারা। সেখানে রকি নামে আরও একজন যোগ দেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মদ্যপানের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাকে পালাক্রমে জোর করে ধর্ষণ করে।

 

 

পরে বাধন তাকে ঘটনাস্থল থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিগ বাজার এলাকায় পৌঁছালে ওই তরুণী চিৎকার করে স্থানীয়দের সহায়তা চান। এসময় বাধন পালিয়ে যান। খবর পেয়ে ফুলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আনাহার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

 

 

ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তারদের সোমবার আদালতে পাঠানো হবে।

‘অবশেষে তুমি এলে’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে কেয়া পায়েল

বর্তমান সময়ে নাটকের দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত নতুন আরও একটি নাটক। ‘অবশেষে তুমি এলে’ শিরোনামের নাটকটি জাগো এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে তাকে দেখা যাবে তৌসিফ মাহবুবের বিপরীতে।

 

 

নাটকটি পরিচালনা করেছেন সেলিম রেজা। নির্মাতা জানান, রোমান্টিক ও পারিবারিক গল্পের ওপর ভিত্তি করে নাটকটি নির্মিত হয়েছে। গল্পে দেখা যাবে, বাবার রেখে যাওয়া ফুলের দোকান ঘিরে এক তরুণের স্বপ্নের গল্প। সে একদিকে ফুল ভালোবাসে, অন্যদিকে বাংলা নাটকের বড় তারকা হওয়ার স্বপ্ন দেখে।

 

 

 

এদিকে অফিস থেকে ফেরার পথে ফুল কিনতে সেই দোকানে আসে কেয়া পায়েল। প্রথম দেখাতেই তার প্রেমে পড়ে যায় তৌসিফ। এভাবেই এগিয়ে যাবে নাটকের গল্প। নাটকটিতে রয়েছে ‘ছুঁয়ে থাকো আমায়’ শিরোনামের একটি গান। গানটির কথা লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন। সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন কাওসার খান। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন শাওন গানওয়ালা ও অবন্তী সিঁথি। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন টুটিয়া ইয়াসমিন পাপিয়া, নিজাম উদ্দিন তামু, ডিকন নূর, আশরাফুল আলম সোহাগ ও ফারুক আহমেদ।

বিশেষ একটি চরিত্রে দেখা যাবে বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াতকে। এদিকে কেয়া পায়েল বর্তমানে ঈদের নাটকের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিবারের মতো এবারও ঈদে একাধিক নাটকে এ অভিনেত্রীকে দেখা যাবে ভিন্ন সব চরিত্রে।

 

ছাত্রের পায়ে গুলি করা মেডিকেল কলেজ প্রভাষকের ২১ বছর কারাদণ্ড

সিরাজগঞ্জে আরাফাত আমিন তমাল নামে এক শিক্ষার্থীর পায়ে গুলি করা শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের সেই প্রভাষক ডা. রায়হান শরীফকে ২১ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 

 

 

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. ইকবাল হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে অবৈধভাবে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিন নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারায় ১৪ বছর এবং ১৯ (এফ) ধারায় আরও ৭ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

 

 

 

সাজার আদেশ প্রাপ্ত রায়হান শরীফ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক পদে কর্মরত ছিলেন।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের স্টেনোগ্রাফার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

 

 

উল্লখ্য, ২০২৪ সালের ৪ মার্চ বিকেলে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে শ্রেণিকক্ষে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার সময় তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আরাফাত আমিন তমালের পায়ে গুলি করেন ওই কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. রায়হান শরীফ। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডা. রায়হান শরীফকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৩টি ম্যাগজিন, ৮১ রাউন্ড গুলি, দুটি বিদেশী ছোরা, ১০টি বার্মিজ চাকুসহ একাধিক অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল্লাহ আল-আমিন বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা ও গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে অপর একটি মামলা দায়ের করেন।

 

 

 

মামলার দীর্ঘ শুনানী শেষে আসামির উপস্থিতিতে বিচারক আজ এই রায় প্রদান করেন।

 

 

বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, ডা. রায়হান শরীফ একজন উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি এবং একটি স্বনামধন্য মেডিকেল কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু তিনি পেশাগত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বিপুল সংখ্যক দেশী-বিদেশী অস্ত্র হেফাজতে রাখতেন এবং নিয়মিত কর্মস্থলে এসব অস্ত্র বহণ করতেন। ওই অস্ত্র দিয়ে তিনি নিরীহ ছাত্র আরাফাত আমিন তমালের পায়ে গুলি করেন। তিনি রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করেছেন। অস্ত্র বহণ করা তার পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে পরে না।

 

 

 

রায়হান শরীফ ছাত্রজীবন থেকেই সশস্ত্র ক্যাডার রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও সেই ধারা অব্যাহত রাখেন। এরই ফলশ্রুতিতে তিনি সমাজ, বাবা-মা কিংবা সহকর্মীদের ওপর চড়াও হতে বা হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করতেন না।

 

 

জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের নিস্ক্রিয়তা নিয়ে আদালতের রুল

দেশের সব নাগরিকের জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১৮ মে) এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে এই রুল জারি করেন আদালত।

 

 

রুলে সব নাগরিকের জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ) নিশ্চিতের মাধ্যমে জীবনাধিকার নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

 

 

সেই সঙ্গে কেন সরকারকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হবে না, সেটিও জানতে চেয়েছেন আদালত।

এ ছাড়াও হাইকোর্টের জারি করা রুলে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়ন তদারকি, পর্যবেক্ষণ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানে কেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এক মাসের মধ্যে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে ৩ মাসের মধ্যে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

‘আনন্দমেলা’য় এক মঞ্চে রুনা লায়লা ও বেবী নাজনীন

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘আনন্দমেলা’য় প্রথমবারের মতো একসঙ্গে হাজির হচ্ছেন দেশের দুই বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা ও বেবী নাজনীন। অনুষ্ঠানে তারা পরিবেশন করবেন তাদের ক্যারিয়ারের জনপ্রিয় দুটি কালজয়ী গান। এ আয়োজনে রুনা লায়লার কণ্ঠে শোনা যাবে শ্রোতাপ্রিয় গান ‘এই বৃষ্টি ভেজা রাতে চলে যেও না’। অন্যদিকে বেবী নাজনীন গাইবেন তার বহুল জনপ্রিয় গান ‘কাল সারারাত’।

 

 

 

আয়োজকদের কথায়, দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে আছে ‘আনন্দমেলা’। সে ধারাবাহিকতায় এবারও অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্ব সাজানো হয়েছে ভিন্নধর্মী আয়োজন দিয়ে। এর আগে দুই শিল্পী আলাদাভাবে এ অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও এবারই প্রথম একই পর্বে দেখা যাবে তাদের।

 

 

 

রুনা লায়লা বলেন, ‘উৎসব ঘিরে নির্মিত প্রতিটি অনুষ্ঠান নিয়ে দর্শকের বাড়তি আগ্রহ থাকে। আর সে কথা মাথায় রেখে অসংখ্য শ্রোতার প্রিয় একটি গান নতুন করে গাওয়া।’ যা অনেকের প্রত্যাশা পূরণ করবে বলে তার বিশ্বাস।

বেবী নাজনীন বলেন, “যে অনুষ্ঠানের জন্য দর্শক প্রতীক্ষার প্রহর গুণতে থাকে, সেখানে নিজের সেরা কাজটি তুলে ধরলেই নয়। তাই ‘আনন্দমেলা’র জন্য ‘কাল সারারাত’ গানটি বেছে নেওয়া। কারণ এ গানের আবেদন, সৃষ্টির এত বছর পরও এতটুকু ম্লান হয়নি। গানটি নতুন করে গাইতে পেরে নিজেও ভীষণ আনন্দিত। আশা করছি, এ গানসহ বিটিভির এই ম্যাগাজিনের প্রতিটি পর্ব দর্শক মনে ছাপ ফেলবে।”

শুধু গান নয়, এবারের ‘আনন্দমেলা’য় থাকছে নৃত্য, নাট্যাংশ, বিশেষ পরিবেশনাসহ নানা আয়োজন। জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ তার নাচের দল নিয়ে অংশ নিয়েছেন একটি বিশেষ পরিবেশনায়। পাশাপাশি আরেকটি নৃত্যে দেখা যাবে মেহজাবীন চৌধুরী ও সাবিলা নূরকে।

এ ছাড়া আশির দশকের জনপ্রিয় পপসংগীত এমন একটা মা দেনা নতুনভাবে পরিবেশন করেছেন ফেরদৌস ওয়াহিদ। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে আরও অংশ নিয়েছেন পরীমনিসহ একাধিক তারকা। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন আফরান নিশো। ঈদুল আজহার প্রথম দিন বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচার হবে বিশেষ এ আয়োজন।

 

চীনে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ১৩টি ভবন ধসে পড়েছে, নিহত দুজন

চীনের দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংসি অঞ্চলে ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এতে ১৩টি ভবন ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

 

 

 

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২১ মিনিটে গুয়াংসির লিউঝৌ শহরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

 

 

 

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, নিহত দুজন স্বামী-স্ত্রী। তাদের বয়স যথাক্রমে ৬৩ ও ৫৩ বছর। এছাড়া এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চলছে।

ভূমিকম্পের পর সাত হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সিসিটিভির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, আতঙ্কিত মানুষ বহুতল ভবন থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসছেন। বিভিন্ন এলাকায় ভবনের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে আছে। উদ্ধারকর্মীদের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অনুসন্ধান চালাতে দেখা গেছে। তাদের সঙ্গে থাকা প্রশিক্ষিত কুকুর জীবিত মানুষ খুঁজতে কাজ করছে।

এছাড়া জরুরি কর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

 

 

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে চীনের তিব্বত অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

 

রায়গঞ্জে দুঃস্থদের মাঝে পচা-দুর্গন্ধযুক্ত চাল বিতরণের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ভিজিএফের চাল বিতরণে পচা ও নিম্নমানের চাল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৮ মে) সাড়ে ১১টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সময় এমন অভিযোগ করেন উপকারভোগী ও স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ভিজিএফের চাল বিতরণ চলছে। এ সময় কয়েকটি বস্তার চাল থেকে দুর্গন্ধ বের হতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে উপকারভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
চাল বিতরণকাজে সহায়তাকারী ও ধামাইনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মাসুদ রানা বলেন, “প্রায় চার বস্তা চাল পচা। চাল থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। সরকার ভালো মানের চাল দিলেও কেন নিম্নমানের চাল বিতরণ করা হচ্ছে, বুঝতে পারছি না।”
ধামাইনগর ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালনকারী ট্যাগ অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “কয়েক বস্তা পচা চালের বিষয়টি জেনেছি। পচা বা দুর্গন্ধযুক্ত চাল বিতরণ না করার জন্য সেগুলো আলাদা করে রাখা হয়েছে।”
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রোজিন পলাশ বলেন, “গুদাম থেকে যে চাল দেওয়া হয়, সেটিই আমরা বিতরণ করি। তবে পচা বা দুর্গন্ধযুক্ত চালের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তন্ময় বিশ্বাসের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “গুদাম থেকে ভালো মানের চালই সরবরাহ করা হয়েছে। পরিবহন বা সংরক্ষণের কারণে কোনো সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। তারপরও খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পচা ও নিম্নমানের চাল আলাদা করে রাখতে বলা হয়েছে। পরে নিজ খরচে চাল সরবরাহ করা হবে।”
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। পচা বা নিম্নমানের চাল বিতরণের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

সরকারি কাজে চাঁদা দাবি, জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন নদীভাঙন প্রতিরোধ ও বাঁধ সুরক্ষা প্রকল্পে বারবার বাধা, চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে নেতা ও য় এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

 

একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠার পর এবার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) প্রকল্প পরিচালক জেলা প্রশাসকের কাছে বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

অভিযুক্ত হাজী মো. নজরুল ইসলাম শ্যামনগর উপজেলার ৯ নম্বর বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্ম পরিষদ ও শূরা সদস্য। তার বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে হস্তক্ষেপ, কাজ বন্ধ, শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখানো, প্রকল্প কার্যালয়ে হামলার হুমকি, চাঁদা দাবি এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

গত ১৩ মে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর পাঠানো একাধিক পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ‘দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণ প্রকল্প (কম্পোনেন্ট-১) বাপাউবো অংশের প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া দাবি করেন, শ্যামনগরের খোলপেটুয়া, মালঞ্চ ও কালিন্দী নদীর তীররক্ষা এবং বাঁধ সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখন কার্যত হুমকির মুখে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন নদীতীর রক্ষায় প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় পোল্ডার-৫ এলাকায় খোলপেটুয়া, মালঞ্চ ও কালিন্দী নদীর তীররক্ষা, স্লোপ প্রোটেকশন, জিওব্যাগ ডাম্পিং ও সিসি ব্লক স্থাপনের কাজ চলছে।

 

প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি), ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন। প্রকল্প এলাকা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি, পশ্চিম দুর্গাবাটি, দাতিনাখালী ও ঝাপালি এলাকা।

 

প্রকল্প পরিচালকের অভিযোগ, শুরু থেকেই স্থানীয় চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম কাজটি বন্ধ করতে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করেন। প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দায়িত্বরত প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া, শ্রমিকদের ভয় দেখানো এবং বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়।

 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সরাসরি প্রকল্প কার্যালয়ে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে প্রকল্প অফিস ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, যন্ত্রপাতি নষ্ট এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার হুমকি দেওয়া হয়।

 

এরপর সেনাবাহিনী ক্যাম্প, জেলা প্রশাসন ও শ্যামনগর থানায় একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করা হলেও দীর্ঘ সময় কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

 

 

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নদীভাঙন ঠেকাতে কাজ বন্ধ রাখা সম্ভব ছিল না। কারণ বর্ষার আগে বাঁধ সুরক্ষা না হলে জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সেই কারণে ঝুঁকি নিয়েই সীমিত পরিসরে জিওব্যাগ ডাম্পিং ও সিসি ব্লক তৈরির কাজ চালু রাখা হয়।

 

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৪ এপ্রিল শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় প্রকল্প সাইটে গিয়ে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, স্থানীয় কয়েকজন জামায়াত নেতাকর্মী এবং বহিরাগত লোকজন মানববন্ধনের নামে বিক্ষোভ করেন। এ সময় প্রকল্প এলাকায় কর্মরত শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের মারধরের হুমকি দেওয়া হয়।

 

 

অভিযোগ রয়েছে, স্কেভেটরের চালক ও সহকারীকে যন্ত্রের ভেতরে আটকে রেখে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। পরে উপস্থিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পুলিশের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

 

প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ঘটনার পর থেকে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তাহীনতায় অধিকাংশ শ্রমিক কাজ বন্ধ করে দেন। এতে প্রকল্পের অগ্রগতি থমকে যায়।

 

 

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সবুজ আলী খান অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্প পরিদর্শনে গেলে চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে তার কাছে ১২ লাখ টাকা কমিশন দাবি করা হয়। টাকা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া, মানববন্ধন করা এবং কোম্পানির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর হুমকি দেওয়া হয়।

 

 

তিনি দাবি করেন, চাঁদা না দেওয়ায় শ্রমিকদের কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। সাব-ঠিকাদারদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে পুরো প্রকল্প এখন ঝুঁকিতে।

 

 

এ নিয়ে এটিই প্রথম অভিযোগ নয়। গত ১৪ এপ্রিলও শ্যামনগর থানায় দায়ের করা এক লিখিত অভিযোগে আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন।

 

 

সেই অভিযোগে বলা হয়েছিল, প্রকল্পের সিসি ব্লক তৈরির স্থান ও যন্ত্রপাতি রাখা সরকারি জমিতে কাজ চলাকালে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম লোকজন নিয়ে এসে কাজ বন্ধ করে দেন। পরদিন আবার ৩০ থেকে ৪০ জন লোক নিয়ে গিয়ে নির্মাণাধীন বাঁধ ভেঙে ফেলা হয়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

 

 

তখন শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছিলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

অভিযোগ অস্বীকার করে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারি সামাজিক বনায়নের জায়গায় অবৈধভাবে ব্লক নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থেই আমি বাধা দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

 

তিনি আরও দাবি করেন, জমি সংক্রান্ত পূর্বের বিরোধের জের ধরেই আমাকে হয়রানির চেষ্টা চলছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, বর্ষা মৌসুমের আগেই কাজ শেষ করা না গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিতে পারে। এতে জনবসতি, কৃষিজমি ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়বে।

 

 

একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্পটি জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত হওয়ায় সময়মতো কাজ শেষ না হলে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

এ অবস্থায় প্রকল্প এলাকায় প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিশ্চিত, কাজের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

 

 

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম. রাজু আহমেদ বলেন, নতুন পুলিশ সুপার যোগদান করেছেন। বিষটি আমরা এখও অবগত নয়। সরকারি কাজ বাস্তবায়নে জন্য জেলা পুলিশ সহযোগিতা করবে।

 

 

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন বলেন, আমরা বিষটি অবগত হয়েছি। তবে এখনো অভিযোগ অফিসিয়াল পাইনি, পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

পরকিয়ার গোপন ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে মাওলানা মাসুদ গ্রেপ্তার

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় পর্নোগ্রাফি মামলায় মাওলানা মিরাজ আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৮ মে) সকালে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তার মিরাজ আহমেদ উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের গাড়াবাড়ি গ্রামের মোস্তাক বিন সুলতানের ছেলে।

 

তার বিরুদ্ধে পরকীয়ায় জড়িয়ে গোপন ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়েছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে সিংড়া থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেছেন।

 

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, মাওলানা মিরাজ আহমেদ ওরফে মাসুদ রানার বিরুদ্ধে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তুলে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ রয়েছে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনায় মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

 

তিনি আরও বলেন, এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ ও পর্নোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে।

 

যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি

ফলো-আপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রোববার (১৮ মে) সকালে তিনি দেশে ফেরেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং।

 

রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং জানায়, রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বাণিজ্যিক ফ্লাইট বিজি-২০২ সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

 

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান, ব্রিটিশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর এ্যালিসন জে ক্রস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান।

 

বর্তমানে রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক রয়েছে।

 

যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণকালেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিয়মিত দাপ্তরিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো গুরুত্বপূর্ণ সামারি ও নথি ডিজিটালি অনুমোদন ও স্বাক্ষর করেন।

 

এছাড়া, সফরকালে লন্ডনের হোটেল হিলটনে সুদানের প্রধানমন্ত্রী ড. কামিল ইদ্রিসের সাথে রাষ্ট্রপতির একটি অনানুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
গত ৯ মে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ফলো-আপ চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন রাষ্ট্রপতি।

 

যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে তার হৃদযন্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক শনাক্ত হয়। পরে ১২ মে জরুরি ভিত্তিতে সফলভাবে এনজিওপ্লাস্টি করা হয় এবং একটি স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়।

 

যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজে অবস্থিত রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতাল-এ ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. স্টিফেন হোলি-এর তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়। পরীক্ষার সময় হৃদযন্ত্রে উল্লেখযোগ্য ব্লক ধরা পড়লে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করেন এবং স্টেন্ট স্থাপন করেন।

 

 

বঙ্গভবন সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি এর আগেও হৃদরোগজনিত সমস্যার চিকিৎসা নিয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে তিনি ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল-এ ওপেন হার্ট সার্জারি করান। এরপর থেকে হৃদযন্ত্র-সংক্রান্ত জটিলতার চিকিৎসার অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে ক্যামব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে ফলো-আপ চিকিৎসা নিচ্ছেন।

 

বিশ্বমানের হৃদরোগ চিকিৎসা ও গবেষণার জন্য পরিচিত রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতাল বিশ্বে প্রথম সফল হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম হিসেবে স্বীকৃত। রাষ্ট্রপতির সর্বশেষ চিকিৎসাও সেখানেই সম্পন্ন হয়।

 

হোসেনপুরে লোডশেডিংয়ের সঙ্গে মোবাইল নেটওয়ার্কিংও ভেঙে পড়েছে

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সঙ্গে মোবাইল নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ার সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা প্রতিকার দাবি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

হোসেনপুর পৌর এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে অনেক সময় নেটওয়ার্ক একেবারেই থাকে না। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে বা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সময় কাটাতে পুরো এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়ে যা অনেক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায়। এতে করে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ফোনে কল করা, ইন্টারনেট ব্যবহার করা কিংবা জরুরি বার্তা পাঠানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের সময় এ সমস্যা বেশি হয়।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও একই চিত্র, সিদলা ইউনিয়নের পিতলগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী সজীব মিয়া বলেন, লোডশেডিং হলে কোন নেটওয়ার্ক থাকে না। মোবাইলে জরুরি কোন কাজ করা যায় না।
ফ্রিল্যান্সার মামুন আহমেদ বলেন কোনো প্রজেক্টের কাজ সঠিক ভাবে করতে পারছি না আইপিএস থাকলেও বিদ্যুৎ এর অভাবে চার্জ হচ্ছে না সাথে ত নেটওয়ার্ক সমস্যা আছেই।
ভুক্তভোগীদের দাবি, লোডশেডিং কমানোর পাশাপাশি মোবাইল টাওয়ারগুলোতে উন্নতমানের ব্যাকআপ পাওয়ার (উচ্চক্ষমতার ব্যাটারি ও জেনারেটর) নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

 

৫ দফা দাবিতে বিড়ি শ্রমিকদের মানববন্ধন

বিড়ি শিল্পে শুল্ক বৃদ্ধি না করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন।

 

সোমবার (১৮ মে) সকাল ১১ টায় এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে তারা।

 

এসময় শ্রমিকরা বিড়ির শুল্ক বৃদ্ধি না করা, বিড়ি শ্রমিকদের কর্ম দিবস বৃদ্ধি করা, নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি করা, বিড়ি ফ্যাক্টরির লাইসেন্স থাকলেই ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করা এবং নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ করার দাবি জানান।

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিড়ি শিল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ি শিল্পে শুল্প বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা থাকলে সারাদেশের ১৮ লাখ বিড়ি শ্রমিক নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলব।

 

হতদরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত, স্বামী পরিত্যক্তা, শারীরিক বিকলাঙ্গ, বিধবা ও অনাহারে পীড়িত মানুষের বেকারত্বের কথা বিবেচনা করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন আমলের মতো বিড়ি শিল্পে শুল্ক বৃদ্ধি না করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের প্রতি অনুরোধ জানান তারা।

 

 

শ্রমিকরা আরো বলেন, নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি এই শিল্পের জন্য বড় হুমকি। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং প্রকৃত রাজস্ব প্রদানকারীরা মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সুতরাং নকল বিড়ি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এছাড়া বর্তমানে দেশের তামাক বাজারের ৮০ শতাংশ নিম্নস্তরের সিগারেট দখল করে আছে। তাই বিড়ি শিল্প রক্ষায় নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি। এছাড়াও বিড়ি ফ্যাক্টরির লাইসেন্স থাকলেই ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

 

বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হারিক হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান, আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর, আবুল হাসনাত লাবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম ইসলাম প্রমূখ।

 

তাড়াশে গরু চুরি রোধে পুলিশের কঠোর অবস্থান, উপজেলাজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় খামারি ও কৃষকদের প্রধান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘গরু চুরি’। গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি গবাদিপশু রক্ষায় এবার কঠোর অবস্থানে নেমেছে তাড়াশ থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় খামারি ও সাধারণ কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চোরের উপদ্রব শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ।
তাড়াশ থানা পুলিশের উদ্যোগে রাতভর টহল, সন্দেহভাজনদের তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও সচেতন করা হচ্ছে যাতে গবাদিপশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)হাবিবুর রহমান বলেন, “খামারিদের গবাদিপশু রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। গরু চুরি রোধে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে রাত্রিকালীন টহল জোরদার করা হয়েছে। কোনো চক্র যদি চুরির চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গরু চুরি প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় খামারি ও বাসিন্দারা। তারা আশা করছেন, পুলিশের এই তৎপরতায় গরু চুরি অনেকটাই কমে আসবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরবে।

পকেটের টাকা খরচ করে ভিজিএফ চাল বিতরণে বিপাকে রায়গঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যানরা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফ এর  ২৮৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ভিজিএফ-এর চাল বিতরণ করা হবে।  একজন দুস্থ ১০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে দুস্থদের নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সোমবার সব ইউনিয়ন ভিজিএফ চাল বিতরণের দিন ধার্য করা হয়েছে। এনিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,সচিব ও সদস্যগণ।
উপজেলায় মোট নয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি পৌরসভা রয়েছে।  তবে সরকারিভাবে চাল বিতরণের বরাদ্দ থাকলেও গুদাম থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত চাল নেওয়ার ট্রাক ভাড়া ও শ্রমিক খরচ বাবদ কোনো অর্থ বরাদ্দ না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগন । পকেটের  টাকা খরচ করে এই কার্যক্রম সচল রাখতে হচ্ছে বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে বরাদ্দকৃত চাল সংগ্রহ করে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় বা নির্ধারিত পয়েন্টে নিয়ে আসার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের। কিন্তু এই চাল পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রাক বা ট্রলি ভাড়া এবং বস্তা ওঠানো-নামানোর জন্য শ্রমিকদের মজুরি সরকারিভাবে প্রদান করা হয় না।
উপজেলার চান্দাইকোনা  ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান খান  বলেন, ঈদুল ফিতরের পূর্বে এই চাল বিতরণের সময় তার অনেক টাকা খরচ হয়েছে। খাদ্য গুদাম থেকে  বস্তা ট্রাকে তুলতে লেবার বিল, ট্রাক ভাড়া, বিতরণের দিন বিভিন্ন প্রকারের খরচ সরকারিভাবে দেওয়া হয় না।
নলকাই ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল করিম জানান, একেকটি ইউনিয়নে কয়েক হাজার কার্ডধারীর জন্য কয়েক টন চাল বরাদ্দ থাকে। এই বিশাল পরিমাণ চাল গুদাম থেকে আনতে বড় ধরনের পরিবহন খরচ হয়। গত ঈদুল ফিতরের সময় তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে। এই টাকা সম্পূর্ণই পকেট থেকে ব্যয় করা হয়েছে। এই ব্যয় চেয়ারম্যানদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তারপরেও চেয়ারম্যানরা এই ব্যয় বহন করে আসছেন।
সোনাখারা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার বলেন,দূরত্বভেদে প্রতিটি ইউনিয়নে চাল পৌঁছাতে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ট্রাক ভাড়া গুনতে হয়। গুদামে ট্রাক লোডিং এবং ইউনিয়নে ট্রাক আনলোডিং করার জন্য কয়েক হাজার টাকা লেবার খরচ দিতে হয়। কোনো বরাদ্দ না থাকায় অনেক চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত তহবিল বা পকেট থেকে এই টাকা পরিশোধ করছেন। তারা একে “অত্যন্ত কষ্টকর ও অবাস্তব” বলে অভিহিত করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বলেন, ভিজিএফ-এর চাল বিতরণে কোনো প্রকার অনিয়ম রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকে, যা প্রশংসনীয়। কিন্তু চাল পৌঁছানোর নূন্যতম খরচটুকু না দেওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।  ভুক্তভোগী জনপ্রতিনিধিরা জানান, ভিজিএফ-এর চাল বিতরণের জন্য কার্ডপ্রতি বা টনপ্রতি নির্দিষ্ট হারে পরিবহন ও লেবার খরচ সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া জরুরি। এতে কাজের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং চেয়ারম্যানদের ওপর বাড়তি আর্থিক বোঝা লাঘব হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুল ইসলাম এর  সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগন খরচ মেটানোর জন্য আবেদন করলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। সরকারি নীতিমালায় পরিবর্তন বা বিশেষ বরাদ্দ না আসা পর্যন্ত বিদ্যমান নিয়মেই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হবে।
উল্লেখ্য মানবিক এই সহায়তা কার্যক্রমকে আরও বেগবান এবং দুর্নীতিমুক্ত করতে মাঠ পর্যায়ের এই বাস্তবিক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল।

পশুর হাটের ডাক নিয়ে ইউএনও কার্যালয়েই ইজারাদারকে মারধর, স্থগিত নিলাম কার্যক্রম

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা ডাককে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক ইজারাদারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। প্রশাসন নির্ধারিত ইজারা কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে।

 

 

 

আহত সোহেল রানা মোল্লা উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং এনায়েতপুর থানা বিএনপির সাবেক সদস্য। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে দৌলতপুর, সমেশপুর, কল্যাণপুর, ধুকুরিয়াবেড়া ও আশপাশের পাঁচটি অস্থায়ী পশুর হাটের হাসিল আদায়ের জন্য গতকাল রোববার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করা হয়েছিল। দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন ইজারাদার ও দরদাতারা সেখানে জড়ো হন।

 

 

 

অভিযোগ রয়েছে, বিকেল ৩টার দিকে হলরুমে অবস্থানকালে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি দল সোহেল রানা মোল্লাকে ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে তাকে মারধর করতে করতে ভবনের নিচতলায় নামিয়ে আনা হয়। এ সময় পুরো কার্যালয়ে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

 

 

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বনী আমিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম আজম সরকার এবং পৌর বিএনপির নেতা আলতাফ হাজির উপস্থিতিতে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী হামলায় অংশ নেন। তারা সোহেল রানাকে টেনে-হিঁচড়ে নিচতলায় নিয়ে মারধর করেন। ঘটনার সময় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। হামলার ভিডিওচিত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

 

 

আহত সোহেল রানা মোল্লা বলেন, ‘ইজারায় অংশ না নিতে আমাকে আগে থেকেই হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। রোববার হলরুমে বসে থাকা অবস্থায় অর্ধশতাধিক লোক আমাকে মারতে মারতে নিচতলায় নিয়ে যায়।’

 

 

 

তবে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম আজম সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সোহেল রানা মোল্লার বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে। তাকে দেখে নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।’ এ বিষয়ে কথা বলতে বিএনপি নেতা বনী আমিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

 

 

বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাফর বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। হামলায় জড়িত কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর। পরিস্থিতি বিবেচনায় ইজারা ডাক স্থগিত করা হয়েছে।’

 

 

 

সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুল ইসলাম খান আলিম বলেন, ‘সোহেল রানা মোল্লার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তবে তাকে পুলিশের হাতে না দিয়ে সরকারি কার্যালয়ের ভেতরে মারধর করার ঘটনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।’

 

সূত্র: সমকাল

 

নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ, প্রশ্ন করায় সাংবাদিককে হুমকি

রাজশাহী মহানগরীর শালবাগান পাওয়ারহাউজ মোড় থেকে বিজিবি স্কুল পর্যন্ত সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও যথাযথ নিয়ম না মেনে কার্পেটিং করায় রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকির শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক।
জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। ফ্যাসিস্ট মেয়র ও কাউন্সিলরদের পলায়নের পর নগরজুড়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা দেখা দেয়। বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ড্রেনের স্ল্যাব ও বৈদ্যুতিক তার চুরি, জলাবদ্ধতা এবং মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পায়। পরে নতুন সরকার গঠনের পর মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করলে নগর উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সিটি কর্পোরেশন জনগণের ভুগান্তি কমানোর জন্য টেন্ডার দেই শালবাগান পাওয়ারহাউজ মোড় থেকে বিজিবি স্কুল পর্যন্ত। এই ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের কাজ পায় “এসকে ট্রেডিং” নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শাকিলুর রহমান শাকিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার কার্পেটিংয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। পিচের সঙ্গে পোড়া মবিল মেশানো হচ্ছে এবং রাস্তার ধুলা পরিষ্কার না করেই কার্পেটিং করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুম শুরু হলে নতুন কার্পেটিং উঠে গিয়ে রাস্তা আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ আবারও বাড়বে।
স্থানীয় আরেক প্রকৌশলী অরিফুজ্জামান সোহেল বলেন, “একজন প্রকৌশলী হয়ে ডাস্ট পরিষ্কার না করে কার্পেটিং শুরু করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এভাবে কাজ করলে রাস্তা টিকবে না। কাজ বন্ধ করে পুনরায় রাস্তা পরিষ্কার করে তারপর কার্পেটিং করতে হবে।”
বিষয়টি নিয়ে মোঃ আসিফুল হাবিব-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছবি ও ভিডিও দেখেও সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, “ওই সাইটের দেখাশোনার দায়িত্বে লিটন সাহেব আছেন, তার সঙ্গে কথা বলেন।” তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত লিটন সাহেব অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে “এসকে ট্রেডিং”-এর পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শাকিলুর রহমান শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে স্বীকার করেন যে, উক্ত রাস্তার কাজ তার প্রতিষ্ঠান করছে। পরে রাস্তার ডাস্ট পরিষ্কার না করে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কার্পেটিং করলে সেটি কতদিন টিকবে—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এর জবাব না দিয়ে উল্টো প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন।
তিনি দাবি করেন, প্রতিবেদক নাকি বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে “সালামি” বা টাকা নিয়েছেন। এর জবাবে প্রতিবেদক তাকে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রমাণসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। কারণ, অভিযুক্তের অফিসের ভেতর ও বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদকের দাবি, অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পেরে একপর্যায়ে ইঞ্জিনিয়ার শাকিলুর রহমান শাকিল হুমকিমূলক আচরণ শুরু করেন। তিনি বলেন, “আপনিও রাজশাহীতে থাকেন, আমিও থাকি”, “যেকোনো সময় যেকোনো কিছু হতে পারে”, “আপনাকে তুলে আনা কোনো বিষয় না”, “রাজশাহী ছাড়া হয়ে যাবেন”—এমন ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে সাংবাদিক বোয়ালিয়া মডেল থানা-এ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।

উন্নয়নের মহাসড়কে ঠাকুরগাঁও, কথা রেখেছেন মির্জা ফখরুল

উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা ঠাকুরগাঁও। একসময় যাকে উন্নয়নের দৌড়ে পিছিয়ে থাকা জেলা বলে আক্ষেপ করতেন মানুষ, সেই ঠাকুরগাঁও এখন নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনা আর পরিবর্তনের আলোচনায় মুখর। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, যোগাযোগ থেকে শিল্পায়ন, প্রশাসনিক সেবা থেকে নাগরিক উন্নয়ন একের পর এক বড় উদ্যোগে জেলায় তৈরি হয়েছে আশার নতুন দিগন্ত।
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে প্রত্যাশা। নির্বাচিত হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কার্যক্রম। ফলে চায়ের দোকান থেকে হাট-বাজার, গ্রাম থেকে শহর মানুষের মুখে এখন একটাই আলোচনা, একটাই বাক্য ‘প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুলে যাননি, কথা রেখেছেন মির্জা ফখরুল।
গত ১৩ মে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এ প্রজ্ঞাপনে ঠাকুরগাঁও জেলায় ‘ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ’ প্রতিষ্ঠার আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সরকারি মঞ্জুরি জ্ঞাপন করেন।
বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের মানচিত্র, শুধু মেডিকেল কলেজই নয়, ঠাকুরগাঁওকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট জেলা হিসেবে গড়তে নানামুখী মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
জেলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের নির্মাণকাজ এখন সমাপ্তির পথে। দক্ষ জনবল তৈরিতে জেলায় একটি নার্সিং কলেজেরও অনুমোদন পাওয়া গেছে।
নাগরিক সেবাকে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সদর উপজেলাকে ভেঙে ‘রুহিয়া’ ও ‘ভূল্লী’ নামে দুটি নতুন উপজেলা গঠন করা হয়েছে। এ ঘোষণায় এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে, হয়েছে আনন্দ মিছিল।
বিসিক শিল্প নগরী-২ এর কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের নতুন আশা জাগছে।ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল বন্ধ হয়ে যাওয়া বিমানবন্দরটি পুনরায় সচল করা। সেই স্বপ্ন এখন বাস্তব হওয়ার পথে। আগামী ২০ মে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পরিদর্শনে আসছেন। মন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় এখন সাজ সাজ রব। বিমানবন্দরটি চালু হলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরব রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার নির্বাচনি এলাকার মানুষের কাছে দেওয়া ওয়াদা অনুযায়ী, তিনি ঠাকুরগাঁওকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভাকে একটি আধুনিক মডেল শহরে রূপান্তরের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। শহরের যানজট নিরসনে বাস টার্মিনালকে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তাঘাটের আধুনিকায়নে নেওয়া হয়েছে বিশেষ মেগা প্ল্যান।
ভূল্লী এলাকার শাহীন ইসলাম বলেন, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য এবং সময়মতো কৃষি উপকরণ নিশ্চিত করা হলে ঠাকুরগাঁও কৃষিতে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
গত বুধবার জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সুফল তুলে ধরেন। তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফ এবং খাসজমি বণ্টনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ব্যাখ্যা করে বলেন, মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ঠাকুরগাঁও জেলা এখন উন্নয়নের অভিযাত্রায় অগ্রণী।
সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ মেরাজুল হোসেন বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও বিমানবন্দর চালুর দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছি। আজ তার প্রতিফলন ঘটছে, এটি আমাদের বড় বিজয়।ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন তাজু বলেন, উন্নয়নের ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়েছে, এখন শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়নের এ মেগা প্রকল্পগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হলে ঠাকুরগাঁও হবে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও শিক্ষা হাব।

সেনবাগে মাদক ও দেশীয় অস্ত্রসহ দুইজন গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট, দেশীয় অস্ত্র ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনবাগ থানা পুলিশ।

রবিবার (১৭ মে ২০২৬) থানার একটি বিশেষ টিম উপজেলার একটি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. জাবেদ (৩৩) ও মো. জাফর ইকবাল সুজন (৩১)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ১২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি চাপাতি, একটি চাইনিজ কুড়াল, মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম, মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের হিসাবসংবলিত একটি খাতা এবং ৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

সেনবাগ থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

১৮ মাসে রাজধানী পিছিয়ে গেছে ১৮ বছর

অন্তর্বর্তী সরকার ঢাকা শহরকে ১৮ মাসে ১৮ বছর পিছিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, “পরিবেশ নিয়ে যারা সবচেয়ে বেশি কথা বলেছেন, তাদের মধ্যেই একজন ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা। কিন্তু বাস্তবে তারা পরিবেশেরই ‘১২টা বাজিয়ে গেছেন’। আমার ঢাকা শহরকে এই ১৮ মাসে ১৮ বছর পিছিয়ে দিয়েছেন।”

 

 

 

রোববার (১৭ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘সমন্বিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা: বন, পরিবেশ, নদী ও নগরায়ণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

আবদুস সালাম বলেন, ‘অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে রাজধানীতে ট্রাফিক জট, হকার সংকট, বায়ুদূষণ ও নাগরিক দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে শুধু বক্তব্য দিলেই হবে না, কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বলাটা সহজ, কিন্তু কার্যকর করাটা অনেক কঠিন। তবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী কঠিনকে সহজভাবে নিয়ে কাজ করেন এবং ইতোমধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।’

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে কাজ না করলে ভবিষ্যতে দেশ আরও বড় সংকটে পড়বে। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’

বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসব সমস্যা শুধু সিটি করপোরেশনের কারণে সৃষ্টি হয়নি। নাগরিকদের অসচেতন আচরণও এর জন্য দায়ী। আমরা যদি নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতাম, তাহলে অনেক সমস্যাই কমিয়ে আনা সম্ভব হতো।’

 

 

 

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে ১৫ দিনব্যাপী জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে। কোথায় কোথায় মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে বা জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে।’

 

 

 

একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি একটি পশু হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারের পাশে ভাঙা টেলিভিশনের কভার ও ভাঙা পাত্রে জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। নিজেদের বাড়িতে মশার ফ্যাক্টরি তৈরি করে পরে সিটি করপোরেশনকে দোষ দিলে হবে না।’

 

 

 

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘জনগণ সচেতন হলে ২ বছরের মধ্যে ঢাকার চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব। তবে জনগণ সচেতন না হলে ২৫ বছরেও পরিবর্তন সম্ভব নয়।’

 

 

 

রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির বিষয়ে মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘সমন্বয়ের অভাবে একই রাস্তা বারবার কাটতে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে ধানমন্ডিতে একটি পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে। যেখানে টেলিফোন, ইন্টারনেট ও কেবল লাইন একসঙ্গে আন্ডারগ্রাউন্ডে নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি পুরো ঢাকা শহরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।’

 

 

 

তিনি বলেন, ‘ঢাকার খাল ও জলপথ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। অন্তত ১৫-২০টি আউটলেটের মাধ্যমে পানি শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গায় যাওয়ার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। ফলে নিউমার্কেটের মতো নিচু এলাকায় পানি জমে যাচ্ছে।’

 

 

 

আবদুস সালাম বলেন, ‘অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এখন বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হয়েছে। যেখানে ১৫-২০ লাখ মানুষের বসবাসের কথা, সেখানে এখন কোটি মানুষ বসবাস করছে। এতে হকার ও যানজট সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে।’

 

 

 

ভূমিদস্যুদের দখলে নদী, খাল ও রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, ‘নদীপথ ও রেলপথ উন্নত করা গেলে সড়কের ওপর চাপ অনেক কমানো সম্ভব হতো এবং পরিবেশও রক্ষা পেত।’

 

 

 

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে কাজ চলছে জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ‘ভবিষ্যতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বাসা থেকেই পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করার ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

 

 

 

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে তিনি বলেন, ‘একদিনে রাজধানীতে লক্ষাধিক পশু কোরবানি হয়, যা বড় ধরনের ব্যবস্থাপনার বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, ৮ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে কাজ করবে সিটি করপোরেশন।’

 

 

তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরকে রক্ষা করতে হলে ৫০ শতাংশ দায়িত্ব জনগণের এবং ৫০ শতাংশ দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। জনগণ সচেতন না হলে শুধু সিটি করপোরেশন একা কিছু করতে পারবে না।’

 

 

 

বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সহসম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপুর সঞ্চালনায় সভায় পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

 

নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিলেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামোটি একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। এ কারণে প্রথম ধাপে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আসন্ন বাজেটে এ খাতে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

সূত্র জানায়, গত ১৩ ও ১৪ মে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বাজেটসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা, খাতভিত্তিক বরাদ্দ এবং রাজস্ব আহরণের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। সব দিক পর্যালোচনার পর প্রধানমন্ত্রী পে-স্কেল কার্যকরের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেন।

 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে ওই সময় থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামোর আওতায় বেতন পাবেন।

 

তিনি আরও বলেন, অর্থমন্ত্রীর আসন্ন বাজেট বক্তৃতার খসড়ায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিস্তারিত পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে বর্ধিত বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে বাকি ৫০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে। তৃতীয় ধাপে মূল বেতনের সঙ্গে ভাতা ও অন্য সুবিধা সমন্বয় করা হবে।

 

 

 

কর্মকর্তাদের মতে, তিন ধাপে বাস্তবায়নের ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সরকারের অর্থ ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।

 

 

 

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে দেশে প্রথম জাতীয় বেতন স্কেল চালু হয়। এরপর ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট আটবার নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতন কাঠামো হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও রাজস্ব চাপে সেই প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায়।

 

 

 

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। দ্বিতীয় গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। তৃতীয় গ্রেডে ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং চতুর্থ গ্রেডে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেতন নির্ধারণের আলোচনা চলছে।

 

 

 

এছাড়া পঞ্চম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্তও উল্লেখযোগ্য হারে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। দশম গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা এবং একাদশ গ্রেডে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নিচের গ্রেডগুলোতেও বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলায় উত্তেজনা আরব আমিরাতে

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-দাফরা অঞ্চলে অবস্থিত বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলায় একটি বৈদ্যুতিক জেনারেটরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

 

 

 

রোববার (১৭ মে) আবুধাবি মিডিয়া অফিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। এছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে আগুন লাগলেও তেজস্ক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়েনি।

 

 

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ঘটনাটি তদন্ত করছে।

এদিকে ইসরায়েলে একটি সামরিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। রোববার ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রবল বিস্ফোরণের শব্দে অধিকৃত এলাকাজুড়ে কম্পন অনুভূত হয়েছে এবং বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার রাতে অধিকৃত আল-কুদসের (জেরুজালেম) পশ্চিমে বেইত শেমেশ এলাকায় একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে পুরো অঞ্চল কেঁপে ওঠে।

যদিও ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা উন্নয়নে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান টোমের কোম্পানি তাৎক্ষণিক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিস্ফোরণটি আসলে পূর্বপরিকল্পিত একটি পরীক্ষা ছিল। এটি পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে।

 

 

ক্ষেতলালে চোরচক্রের উপদ্রব, ১৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বড় চুরি

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে চোরচক্রের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলায় দিনেদুপুরে ঘরের তালা ভেঙে দুর্ধর্ষ চুরির যেমন ঘটনা ঘটছে, তেমনি রাতের আঁধারে পাহারাদারকে বেঁধে রেখে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার লুটের মতো দুঃসাহসিক কাণ্ড ঘটাচ্ছে সংঘবদ্ধ অপরাধীরা। মাত্র ১৫ ঘণ্টার মধ্যে উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে এমন বড় চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

 

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (১৭ মে) উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া এলাকায় ধান ব্যবসায়ী এম এম হিরো সরকারের বাড়িতে দিনেদুপুরে এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী হিরো সরকার ওই এলাকার আব্দুল হামিদ সরকারের ছেলে।

 

​বাড়ির মালিক এস এম হিরো জানান, সকালে পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে গেলে দুর্বৃত্তরা সুযোগ বুঝে ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে দুপুর ২ টার দিকে বাড়িতে ফিরে দেখতে পাই, আলমারি ও বিভিন্ন আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ ৬ লাখ টাকা এবং ৬ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এছাড়াও ঘরে থাকা অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্রসহ মোট প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এই চুরির খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়রা থানায় বিষয়টি অবহিত করেন।

 

​এদিকে পৌর এলাকার বুড়াইল সরদারপাড়া মাঠে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের আরেক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৬ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মোঃ মাহবুব হোসেন সরদার ও মোসাদ্দেক হোসেন সরদারের যৌথ গভীর নলকূপের (ডিপ টিউবওয়েল) ১০ কেভির তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

 

​চোরেরা প্রথমে গভীর নলকূপের পাহারাদারকে অস্ত্রের মুখে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখে। এরপর বৈদ্যুতিক খুঁটির মাথা থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার নিচে নামিয়ে ভেতরের মূল্যবান তামার তার খুলে নিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে ট্রান্সফরমারের খালি খোলস ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরদিন রবিবার (১৭ মে) সকালে স্থানীয় লোকজন পাহারাদারকে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেন।

 

​নলকূপের মালিক মাহবুব হোসেন সরদার বলেন, ইদানীং এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। আমরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও থানা পুলিশের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিব।

​স্থানীয় কৃষকদের দাবি, চলতি সেচ মৌসুমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ক্ষেতলাল উপজেলার বিভিন্ন মাঠ থেকে প্রায় ২০/২২ টি ট্রান্সফরমার এবং অন্তত ১৫টি বিদ্যুৎ মিটার চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা এখন ট্রান্সফরমারের খোল রেখে শুধু দামি তামার তার নিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে ক্ষতির পরিমাণ ও পুনরায় সংযোগ নেওয়ার খরচ আরও বাড়ছে। একের পর এক চুরির ফলে মাঠের সেচ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।

 

​দিন এবং রাতের এই পৃথক দুটি চুরির ঘটনায় ক্ষেতলাল উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মনে এখন চরম নিরাপত্তা হীনতা কাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই সংঘবদ্ধ চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ক্ষেতলাল জোনাল অফিসের এজিএম তৌকির আহমেদ ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বুড়াইল মাঠে একটি গভীর নলকূপের ৩ টি ট্যান্সফরমারের মালামাল চুরি হয়েছে। এ মৌসুমে উপজেলায় আরও ২০/২২ টি ট্যান্সফরমার ও ১৫ টি বিদ্যুৎ মিটার চুরির ঘটনা ঘঠে। আমরা এসব নিয়ে থানায় জিডি করেছি এবং কৃষকদের সচেতনতায় মাইকিং করছি।

 

 

 

 

এবিষয়ে ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোক্তাদুল আলম বলেন, আলমপুরে একটি বাড়িতে চুরির ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। গতরাতে বুড়াইল মাঠে একটি গভীর নলকূপে ট্রান্সফরমারের মালামাল চুরি হয়েছে, পুলিশ চোরদের ধরতে কাজ করছে।

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার দুই বোনের আত্মহত্যা

ভারতের রাজস্থানের যোধপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে দুই বোনের আত্মহত্যার ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের গাফলতি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই প্রাণ হারাতে হয়েছে দুই বোনকে।

 

 

 

রোববার (১৭ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই লোমহর্ষক ঘটনা উঠে এসেছে।

 

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মার্চে বড় বোন আত্মহত্যা করেন। প্রায় দুই মাস পর ছোট বোনও আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। একাধিকবার পুলিশের দ্বারস্থ হলেও বিচার না পাওয়ায় ছোট বোন এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে অভিযোগ পরিবারের।

নিহত দুই বোনের বাবা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ছোট বোনের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় ই-মিত্র সেবা কেন্দ্রের পরিচালনাকারী মহিপাল গোপনে বড় বোনের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তাকে ফাঁদে ফেলেন।

 

 

 

গত ১১ এপ্রিল দায়ের করা অভিযোগে মোট আটজনের নাম উল্লেখ করে। তাদের মধ্যে শিবরাজ, গোপাল, বিজারাম, দিনেশ, মনোজ ও পুখরাজের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হুমকির অভিযোগ আনা হয়।

 

 

 

অভিযোগে বলা হয়, মহিপাল ও তার সহযোগীরা প্রায় চার বছর ধরে বড় বোনকে যৌন নির্যাতন করে আসছিল এবং ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করত। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ২০ মার্চ আত্মহত্যা করেন তিনি।

 

 

 

ছোট বোন অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, বিচার না পেলে তিনিও আত্মহত্যা করবেন বলে পুলিশকে সতর্ক করেছিলেন।

 

 

 

অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হলেও পরবর্তী এক মাসে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

 

 

 

বড় বোনের মৃত্যুর পর অভিযুক্তরা ছোট বোনকেও টার্গেট করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা বড় বোনের ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাকেও যৌন নির্যাতন করে।

 

 

 

মামলা হওয়ার পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিতে থাকে এবং পুলিশ তাদের কিছুই করতে পারবে না বলে দম্ভ দেখায় বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী।

 

 

 

শুক্রবার অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে একটি পানির ট্যাংকের ওপর উঠে প্রতিবাদ জানান তিনি। পরে বিষপান করলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

 

 

 

ঘটনার পর রাজস্থানের রাজপুত সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। যোধপুরের এমডিএম হাসপাতালের মর্গের সামনে বিক্ষোভে জড়ো হন শত শত মানুষ।

 

 

 

প্রথমে ময়নাতদন্তে আপত্তি জানালেও পরে নিহতের পরিবার তাতে সম্মতি দেয়।

 

 

 

মারওয়ার রাজপুত সমাজের সভাপতি হনুমান সিং খাংতা অভিযোগ করেন, তদন্তজুড়ে পুলিশ অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করেছে। তাদের ব্যর্থতার কারণেই দুই বোনকে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

 

সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

 

 

 

যোধপুরের পুলিশ সুপার পি ডি নিত্য জানিয়েছেন, মহিপালসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।

 

দেশের সার্বভৌমত্বকে গুমের মাধ্যমে দুর্বল করা হয়েছিল : এমপি আরমান

গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যকে ব্যবহার করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সার্বভৌমত্বকে অরক্ষিত করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১৪ আসনের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান।

 

 

 

রোববার (১৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিন র‌্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তার জেরা শেষ হয়।

 

 

 

ব্যারিস্টার আরমান বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। যতদিন সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব বজায় থাকবে, ততদিন দেশের সার্বভৌমত্বও সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যকে ব্যবহার করে শেখ হাসিনা সেই পেশাদারিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। এর মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্বও ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। আমরা চাই এ সংস্কৃতি আর ফিরে না আসুক। যত ক্ষমতাধর দলই হোক, বাংলাদেশের মানুষের অধিকার যেন আর কেউই নষ্ট করতে না পারেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে আরমান বলেন, গুমে থাকাকালীন একেকজনের নির্যাতন একেকরকম ছিল। কিন্তু ভিন্ন থাকলেও বিনা দোষে কোনো মানুষকে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। যখন এটি ব্যাপক এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে হচ্ছিল, তখন এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়ে যায়। নির্যাতনের মাত্রার ওপর এই অপরাধ নির্ভর করে না। অপরাধটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে হয়েছিল কিনা, এটাই দেখার বিষয়।

নতুন সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চান জানিয়ে এই সাংসদ বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও গুমের ভুক্তভোগী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রায় প্রত্যেক সংসদ সদস্যই অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। এই মজলুমদের মিলনমেলার ওপর আমরা আস্থা রাখতে চাই। সরকার এই বিচার নিশ্চিত করবে বলেও আমরা আশাবাদী।

শাহ আলী মাজারের হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাজারের মতো ধর্মীয়-গাম্ভীর্য স্থানে হামলার জন্য তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সরকারের দায়িত্ব সকল ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ জায়গায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন ভিডিও এভিডেন্স দেখে যদি কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। তবে ঢালাওভাবে বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিস্টদের ঐতিহ্য। আমরা এসবের পুনরাবৃত্তি চাই না।

 

কমিটিতে পদ পাওয়ার রাতেই গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা

সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের রাতেই পৌর কমিটিতে পদ পাওয়া সহ-সভাপতি আলভীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আলভী শহরের দিয়ার ধানগড়া মহল্লার জুলহাস হোসেনের ছেলে।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিস্ফোরক মামলায় আলভীকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

উল্লেখ্য শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সিরাজগঞ্জ জেলা, সদর থানা, পৌর ও সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। গ্রেপ্তার আলভী পৌর কমিটির সহ সভাপতির দায়িত্ব পান।

 

 

রাশিয়ার ভেতরে বড় ধরনের হামলা চালাল ইউক্রেন

ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন মস্কো অঞ্চলের বাসিন্দা। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত এক বছরের মধ্যে দেশটির রাজধানী মস্কোর ওপর এটিই সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা।

 

 

 

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে এক হাজারের বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইউক্রেন। অন্যদিকে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলেও একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর রয়টার্সের।

 

 

 

এর আগে শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত চার বছরের যুদ্ধে কিয়েভে গত দুই দিনে চালানো রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করা হয়।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিওতে জেলেনস্কি আকাশে উড়ন্ত ড্রোন, ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতার দৃশ্য প্রকাশ করেন।

 

 

তিনি বলেন, ‘রাশিয়া যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে এবং আমাদের শহর ও জনপদে হামলা চালাচ্ছে। এর জবাব দেওয়া সম্পূর্ণ ন্যায্য।’

 

 

জেলেনস্কি দাবি করেন, রাশিয়ায় কঠোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও সীমান্ত থেকে ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে ইউক্রেন।

 

 

মা হাতিকে বিদায় জানাতে গভীর রাতে লোকালয়ে বন্যহাতির পাল

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাগজিখোলা সংলগ্ন চকরিয়া লাম্বা হাকখোলা পূর্ণ গ্রামে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা একটি বন্য মা হাতি অবশেষে মারা গেছে।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হাতিটির মৃত্যু হয়।

 

 

 

মৃত মা হাতির শোকে শোকাহত হয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় অন্তত ১০টি বন্য হাতির একটি দল।

জানা যায়, জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কাগজিখোলা সংলগ্ন চকরিয়া লাম্বা হাকখোলা পূর্ণ গ্রামে দীর্ঘ অসুস্থতার পর অবশেষে মারা গেছে একটি বন্য মা হাতি। মায়ের মৃত্যুর পর গভীর রাতে তাকে শেষবারের মতো দেখতে ও ‘শোক জানাতে’ ঘটনাস্থলে হাজির হয় অন্তত ১০টি বন্যহাতির একটি দল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে একদিকে যেমন আতঙ্ক, অন্যদিকে তৈরি হয়েছে এক আবেগঘন পরিবেশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল থেকেই নূর মোহাম্মদের বাড়ির পশ্চিম পাশে মা হাতিটিকে অসুস্থ ও নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। সে সময় তার পাশে ছটফট করছিল একটি ছোট হাতি শাবক। কোনো মানুষ কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলেই শাবকটি আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার জুড়ে দিচ্ছিল এবং কোনোভাবেই মায়ের পাশ ছেড়ে যাচ্ছিল না। স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ বলেন, সকাল থেকে হাতিটাকে পড়ে থাকতে দেখি। পাশে ছোট বাচ্চাটাও ছিল। মানুষ কাছে গেলেই শাবকটি চিৎকার করছিল। দৃশ্যটি খুবই হৃদয়বিদারক ছিল।

খবর পেয়ে ঈদগাঁও বন বিভাগের কর্মকর্তা উজ্জ্বল স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ এনে হাতিটির চিকিৎসা শুরু করেন। তবে ততক্ষণে হাতিটি চরম অপুষ্টিতে আক্রান্ত হয়ে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

 

 

 

বন কর্মকর্তা উজ্জ্বল জানান, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ এনে হাতিটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তবে হাতিটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ছিল। রাত ১২টার দিকে হাতিটি মারা যায়।

 

 

 

মা হাতিটির মৃত্যুর কিছুক্ষণ পরেই ঘটে সেই বিস্ময়কর ঘটনা। গভীর রাতে হঠাৎ প্রায় ১০টি বন্যহাতির একটি দল জঙ্গল থেকে এসে মৃত হাতিটির আশপাশে অবস্থান নেয়।

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাতির দলটি সেখানে বেশকিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে। সে সময় অবুজ শাবকটিকেও মৃত মায়ের লাশের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর হাতির দলটি আবার পাহাড়ের গভীর বনাঞ্চলে ফিরে যায়।

 

 

 

স্থানীয়দের ধারণা, বন্যহাতির দলটি মূলত তাদের সঙ্গী ও মা হাতিটিকে শেষ বিদায় জানাতেই লোকালয়ে ছুটে এসেছিল। এ সময় শাবকটিকে মৃত মা হাতির কাছেই অবস্থান করতে দেখা যায়। হাতির দলটি কিছুসময় সেখানে অবস্থান করে আবার পাহাড়ের দিকে চলে যায়।

 

 

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পাহাড়ি বনাঞ্চলে ক্রমাগত খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় প্রায়ই বন্য হাতির দল লোকালয়ে চলে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও খাদ্যাভাবের কারণেই মা হাতিটি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বলে তাদের ধারণা। বন বিভাগ জানিয়েছে, মৃত হাতিটির শরীর থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ল্যাব টেস্টের পর হাতিটির মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রঘু ডাকাতের রক্তমাখা চিঠি, পুলিশ পাহারায় রাত কাটাল গ্রামবাসী

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গরুর খামারিদের বাড়ি বাড়ি রক্তমাখা চিঠি দিয়ে হত্যা ও ডাকাতির হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। চিঠিতে খামারিদের ঘরের দরজা খোলা রাখতে বলা হয়েছে।

 

 

 

গত শুক্রবার (১৫ মে) রাতে এ বিষয়ে স্থানীয় খামারি মো. আমজাদ হোসেন বাদি হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে গত ৫ দিনে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামের প্রায় ১৫টি বাড়িতে চিঠি দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

 

 

 

জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামে চেতনানাশক স্প্রে করে ধারাবাহিকভাবে ডাকাতির পর রঘু ডাকাতের নামে অন্তত ১৫টি বাড়িতে দেওয়া হয় রক্তমাখা চিঠি। চিঠিগুলোতে নির্বিঘ্নে ডাকাতি করার জন্য দরজা খোলা রাখতে বলা হয়। দরজা না খোলা রাখলে হত্যার হুমকি দেয়।

এরপর থেকেই আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে উপজেলাজুড়ে। ঘুমহীন হয়ে পড়ে বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। বিষয়টি নিয়ে কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। এরপর পুলিশ পাহারায় গ্রামবাসী ঘুমায়।

 

স্থানীয়রা জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে করে ডাকাতি করা হয়েছে। ফলে কোরবানির ঈদকে ঘিরে বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গরুর খামারিরা। একদিকে ডাকাতি অন্যদিকে হুমকি দেওয়া রক্তমাখা চিঠিতে নির্ঘুম হয়ে যায় পুরো গ্রাম।

 

 

তারা আরও জানান, গত ৪/৫দিনে টেকুয়াপাড়া গ্রামের অন্তত ১৫ জনের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা নিজেদের রঘু ডাকাত পরিচয় দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে লিখেছে ‘কালকে আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসব, তাই দরজা খোলা রাখবেন, না খুলে রাখলে জিন্দা খালাস………? ইতি রঘু ডাকাত।

 

 

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গ্রামবাসীকে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কোনোভাবেই কোনো ডাকাতকে বা কোন দুস্কৃতিকারীকে অপতৎপরতা করতে দেওয়া হবে না।

 

 

আমির হামজাকে গ্রেপ্তারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিল আদালত

জ্বালানি মন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

 

 

রোববার (১৭ মে) সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার এ আদেশ দেন।

 

 

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী ও সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল।

 

মামলার তথ্যে জানা গেছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করার অভিযোগে গত ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর কর্নেল। একই দিন আদালত আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করে ২১ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত তারিখে তিনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

 

পরবর্তীতে রোববার আদালতে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও সেদিনও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। এ কারণে আদালত তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।

 

 

এ বিষয়ে মামলার বাদী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর কর্নেল জানান, রোববার আমির হামজার আদালতে হাজির হওয়ার নির্ধারিত দিন ছিল। কিন্তু তিনি উপস্থিত হননি। এর আগে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। সর্বশেষ আদালত তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দিয়েছেন।

 

মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় উঠে এলো নতুন তথ্য

ফরিদপুরের মাধবদিয়া এলাকায় মা ও শিশু কন্যাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বকারটিলা এলাকা থেকে মো. উজ্জ্বল খান (৩৮) নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

রোববার (১৭ মে) দুপুরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, নিহত জাহানারা বেগম (৩০) রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার বাসিন্দা। তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে সামিয়াসহ তাদের মরদেহ গত ১৪ মে চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড় সংলগ্ন স্থান থেকে মাটি চাপা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর নিহতের স্বজন মো. লালন মোল্লা কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার আমিনবাজার এলাকায় একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারা বেগমের সঙ্গে উজ্জ্বল খানের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে উজ্জ্বল খান জাহানারাকে ফরিদপুরে নিয়ে আসেন।

 

 

 

গত ৪ মে রাতে চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উজ্জ্বল প্রথমে জাহানারাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা শিশু সামিয়াকেও গলা টিপে হত্যা করা হয়।

 

 

 

হত্যার পর আসামি নিজ বাড়ি থেকে কোদাল এনে ছাপড়া ঘরের পাশে পৃথক দুটি গর্ত খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ মাটি চাপা দেয়।

 

 

 

ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের ব্যবহৃত বোরকা, ওড়না, নেকাব, শিশু সামিয়ার পোশাক, একটি মালা, আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারাল অস্ত্র ও কোদাল উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

 

মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

 

 

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিআইও-১ ইন্সপেক্টর মো. মোশারফ হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস। ফরিদপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ভূমি মালিকদের জন্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

সারাদেশের ভূমি মালিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বকেয়াসহ চলতি অর্থবছরের ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া জমির সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা আরও সহজ করতে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

 

 

 

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাগরিকরা এখন ঘরে বসেই land.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারবেন। সরকারের লক্ষ্য হলো ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ স্মার্ট ও স্বচ্ছ ব্যবস্থায় রূপান্তর করা, যাতে সেবা গ্রহণ আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত হয়।

 

 

 

ভূমি মন্ত্রণালয় জানায়, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য নাগরিককে প্রথমে নির্ধারিত পোর্টালে (land.gov.bd) গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধিত হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে খতিয়ান ও জোত সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে করের পরিমাণ জানা যাবে এবং মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডের মাধ্যমে তা পরিশোধ করা যাবে।

 

 

মন্ত্রণালয়ের বার্তায় বলা হয়েছে, ৩০ জুনের মধ্যে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করুন এবং নিজের জমি সুরক্ষিত রাখুন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর পরিশোধ না করলে পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী বকেয়ার ওপর সুদ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

সাধারণত সরকারি হিসাবে অর্থবছর শেষ হয় ৩০ জুন। তাই বছরের হিসাব চুকিয়ে দিতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে এ সময়ের মধ্যেই খাজনা পরিশোধ করা বাঞ্ছনীয়। অনলাইন পদ্ধতি চালুর ফলে এখন আর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সশরীরে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই, যা সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় করছে।

 

 

ভূমি মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে ভূমি কর আদায়ে স্বচ্ছতা আসবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।

 

 

বিসিবি নির্বাচনে আদালতের হস্তক্ষেপ নয়

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা কমিটির নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা বিচারাধীন এক রিটের সম্পূরক আবেদন নথিভুক্ত করার আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, বিসিবি নির্বাচন নিয়ে আমরা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবো না। ফলে আগামী ৭ জুন বিসিবির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন বিসিবির আইনজীবী মাহিন এম রহমান। রবিবার (১৭ মে) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায়ের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

 

 

 

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশিদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। বিসিবির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহিম এম রহমান।

পরে বিসিবি আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিম এম রহমান বলেন, আদালত বিসিবির নির্বাচন স্থগিত চেয়ে জনৈক মোশাররফ হোসেন নামে এক ব্যক্তির রিটের সঙ্গে করা সম্পূরক আবেদনটি নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিসিবির নির্বাচন নিয়ে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করবো না।

তিনি আরও বলেন, মোহাম্মদ মোশারফ নামে একজন ব্যক্তি গত মার্চ মাসে বিসিবি গঠনতন্ত্রের একটি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট দায়ের করলে আদালত রুল জারি করেন।

বিচারাধীন সেই রিটে আজকে একটি সম্পূরক আবেদন দায়ের করে আসন্ন ৭ জুন অনুষ্ঠিতব্য বিসিবির নির্বাচন স্থগিত চাওয়া হয়। সেই আবেদনের শুনানি অন্তে আদালত বিসিবির নির্বাচন বিষয়ে এই অ্যাপ্লিকেশন দ্বারা কোন হস্তক্ষেপ করবে না বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

 

কালাইয়ে ভুয়া প্রাণিচিকিৎসককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় খামারিদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও নিরাপদ প্রাণিচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর। অভিযানে অপচিকিৎসার অভিযোগে এক ভুয়া প্রাণিচিকিৎসককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন উপজেলার ভূগোইল (মোসলেমগঞ্জ) গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে মো. খায়রুল ইসলাম আতিক। তিনি নিজেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম প্রজনন কর্মী পরিচয় দিয়ে এলাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া পরিচয়ে গবাদিপশুর চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন ওই ব্যক্তি। সম্প্রতি তার ভুল চিকিৎসার কারণে স্থানীয় এক খামারি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি প্রেসক্রিপশন পরিবর্তন করে নিজের মতো করে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন, যা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। খামারির ক্ষতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কালাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল-মাহাবুব। প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান।

প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, প্রাণিসম্পদ খাতে অপচিকিৎসা, প্রতারণা ও জালিয়াতি বন্ধে এবং খামারিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিজিবির সহায়তায় ভারত থেকে ফিরলেন নিখোঁজ যুবক

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছ থেকে মো. বকুল মন্ডল (২৫) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

 

 

 

শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ১০টা দিকে সীমান্তের মেইন পিলার ১৫৭/২-এস এর কাছে এই পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

ফেরত আসা বকুল দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী চিলমারী ইউনিয়নের মরারপাড়া গ্রামের মো. লুৎফর মণ্ডলের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন।

বিজিবি সূত্র জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে বকুল বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে গত ১৫ মে মাইকিংয়ের মাধ্যমে নিখোঁজের সংবাদ প্রচার করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভারতীয় আইডিতে দেখা যায়, বকুল ভারতের কলকাতায় মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত চিলমারী বিওপিকে অবহিত করেন। এরপর বিজিবি দ্রুত বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিএসএফ সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির মালিকের সহায়তায় বকুলকে ১৬ মে আটক করে এবং পরদিন ভোরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।

পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন চরচিলমারী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. মোশারফ হোসেন। এসময় তার সঙ্গে আরও ৭ জন বিজিবি সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

অপরদিকে ভারতের ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চরভদ্রা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসআই নিতিন কুমারের নেতৃত্বে ৭ জন বিএসএফ সদস্য অংশ নেন। বৈঠকটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় বলে জানান বিজিবি।

 

 

 

কুষ্টিয়া ৪৭ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় এক বাংলাদেশি নাগরিক ভারতের কলকাতায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ও তথ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা বিজিবিকে অবহিত করেন। বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পতাকা বৈঠক করে তাকে দেশে ফেরানো হয়। পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তায় বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত বিজিবিকে জানাতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

বিশ্বকাপের শেষ লড়াইয়ে ব্রাজিল-স্পেন দেখার স্বপ্ন: নেইমার

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিল ও স্পেনের মধ্যে ফাইনাল হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। একই সঙ্গে তিনি স্বপ্ন দেখেছেন সেই ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করার।

 

 

তবে ৩৪ বছর বয়সী এই তারকার বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চোটের সঙ্গে লড়াই করছেন নেইমার। বিশেষ করে সৌদি ক্লাব আল হিলালে থাকার সময় তিনি বেশিরভাগ সময়ই মাঠের বাইরে ছিলেন।

 

 

এদিকে ব্রাজিল জাতীয় দলে এখন একাধিক তরুণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড় নিয়মিত জায়গা করে নেয়ায় নেইমারের জন্য দলে ফেরা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

তবুও স্বপ্ন দেখছেন এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। সাংবাদিক ব্রুনো ফর্মিগার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক কথোপকথনে নেইমার ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্রাজিল ও স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার কথা বলেন এবং ব্রাজিলের ৩-১ ব্যবধানে জয় কল্পনা করেন। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে নেইমার সংক্ষেপে বলেন, ‘স্বপ্ন তো দেখতেই হয়, তাই না?’

এদিকে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগেই জানিয়েছেন, শুধুমাত্র খ্যাতির ভিত্তিতে কাউকে দলে নেয়া হবে না। তিনি বলেন, নেইমার সম্প্রতি উন্নতি করেছেন এবং সান্তোসে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়ায় তাকে প্রশংসাও করেছেন। তবে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে হলে খেলোয়াড়কে অবশ্যই পুরোপুরি ফিট থাকতে হবে এবং ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করতে হবে।

সান্তোসে ফিরে কিছু ঝলক দেখালেও নেইমারের ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে। গত দুই মৌসুমে বারবার চোটে পড়ায় তার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে।

 

ভালোবাসার টানে চীনের যুবক বিয়ে করেছেন কুড়িগ্রামের মেয়েকে

কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ি উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে মোরশেদা বেগম। তিনি ঢাকায় থাকাকালীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে যান চীনের যুবক আন হুং ওয়েই সাথে। একটু একটু কথা এরপর ভালো লাগা থেকে শুরু হয় প্রেম ভালোবাসা। মোরশেদা বেগম এবং আন হুং ওয়েই’র ভালোবাসার কাছে চীনের দুরত্ব যেন কোন বাঁধা হতে পারলো না। প্রেম ভালোবাসার এক পর্যায় চীন থেকে চলে আসেন সেই যুবক আন হুং ওয়ে। পরে দুইজনের সম্মতিতে দেশের রীতি অনুযায়ী বিবাহ করেন।
তারা দুইজনে বর্তমান অবস্থান করছেন মোরশেদা বেগমের বাড়ি কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ীতে। চীন থেকে আসা যুবকে এক নজর দেখতে গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায়। অনেকে ছবি তুলছেন আবার অনেকে হাত মেলাচ্ছেন কেউবা কথা বলার চেষ্টা করছে। চায়নার সেই যুবককে নিয়ে গ্রামে শুরু হয়েছে কৌতূহল। আলোচনা থেকে এড়ায়নি নেট দুনিয়াও। নেট দুনিয়াও আলোচনার কেন্দ্রবৃন্দ হয়ে পড়েছে চায়নার সেই যুবক।
এ বিষয় স্থানীয়রা জানান, ভাষাগত এবং পরিবেশগত অমিল থাকলেও তার ব্যবহার এবং আচার-আচরণ অত্যান্ত সাবলিল। এ কারণে এলাকাবাসীদের মন মুগ্ধ করেছে চীনা যুবক। যদিও তার ভাষা বুঝতে পারেন না। তবুও তার ইশারা ইঙ্গিত অনেক সহজে বোঝা যায় তার ভিতরের কথা।
স্থানীয়দের পর মোরশেদা বেগম বলেন, তারা ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোন দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথমে কথা বলেন। এক পর্যায় দুইজনে প্রেমের জড়িয়ে পড়েন। যদিও বাংলাদেশ এবং চীনের দুরত্ব অনেক তারপরেও আন হুং ওয়েই এর কাছে তা বেশি দুরুত্ব মনে হয়নি। সে ঢাকায় আসে এবং আমরা দুইজনে দেশের রীতিমতো বিয়ে করি। সে আমাকে তার দেশে নিয়ে যাবে বলে কথা দেন। এ জন্য বাবার বাড়িতে আসছি।
চীনের যুবক আন হুং ওয়েই বলেন, মোরশেদার এলাকায় এসে সে অনেক খুশি। এখানকার সব কিছুই তার অনেক ভালো লেগেছে। সবাই খুব ভালো। আমি মোরশেদা কে বিয়ে করে অনেক সুখী।