সিরাজগঞ্জ , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্লাস্টিকের চেয়ারই চলাচলের একমাত্র সম্বল: চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছেন বৃদ্ধ হুরমুজ আলী Logo বন্যার অবনতি হতে পারে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে Logo সিরাজগঞ্জে এক সপ্তাহে ৪ শিশু ধর্ষণ-বলাৎকারের শিকার Logo ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫৭ দিন পর ফ্লাইট চালু হলো Logo রায়গঞ্জে ভ্যানচালক জাহের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি Logo ব্রহ্মপুত্র নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু Logo কারণ দর্শানোর নোটিশ পেলেন বেলকুচি পৌরসভার সেই প্রকৌশলী Logo কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ট্রাক–মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৩, আহত ১১ Logo যুদ্ধবিরতি ভেঙে লেবাননে হামলা চালাল ইসরায়েল, ৮ জন নিহত Logo যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ: সারাহ কুক

আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

জ্বালানি তেল। ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ভোরে এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর সময়ও এ দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গিয়েছে।

 

 

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর সময় ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৭৫ ডলারে পৌঁছেছে। এটি আগের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুড তেলের দামও ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতি চললেও, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সমালোচনা করে বলেন, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ‘খুব খারাপ কাজ করছে’। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, জাহাজ থেকে ফি আদায়ের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ করতে হবে।

সাম্প্রতিক হামলায় সৌদি আরবের তেল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, এসব হামলার ফলে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমে গেছে। এছাড়া সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহনও প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল প্রতিদিন কমে গেছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম পরিবর্তন হলেও জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের নাগালে ফিরতে এখনো দীর্ঘসময় লাগবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেও সময় লাগবে। বিশ্বজুড়ে তেলের সংকট সুরাহা হতে যেসব সংকট রয়েছে, সেগুলো নিয়ে প্রতিবেদন করেছে আলজাজিরা।

 

 

হরমুজ প্রণালি ও সরবরাহ জটিলতা: বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ জলপথটি কার্যত বন্ধ ছিল। চুক্তি অনুযায়ী এটি খুলে দেওয়া হলেও তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।

 

 

 

ট্যাংকারের দূরত্ব: যুদ্ধের কারণে বিশাল আকৃতির তেলবাহী ট্যাংকারগুলো বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এই জাহাজগুলো ফের উপসাগরীয় অঞ্চলে ফিরে এসে তেল লোড করতে কয়েক সপ্তাহ সময় নেবে।

 

 

 

নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা: মাত্র দুই সপ্তাহের এই ‘ভঙ্গুর’ যুদ্ধবিরতির মধ্যে বড় বিনিয়োগ বা জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি নিতে এখনো অনেক কোম্পানি দ্বিধাগ্রস্ত।

 

 

তেলকূপ চালুর কারিগরি চ্যালেঞ্জ: দীর্ঘদিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় এবং অনশোর স্টোরেজ (তীরবর্তী মজুতাগার) পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের অনেক তেল উৎপাদনকারী দেশ তাদের কূপগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল।

 

 

 

ধীর প্রক্রিয়া: একটি তেলকূপ বা রিফাইনারি ফের চালু করা বৈদ্যুতিক সুইচ টেপার মতো সহজ কাজ নয়। এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ কারিগরি প্রক্রিয়া।

 

 

 

স্থাপনার ক্ষতি: যুদ্ধের সময় অনেক জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যা মেরামত করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

প্লাস্টিকের চেয়ারই চলাচলের একমাত্র সম্বল: চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছেন বৃদ্ধ হুরমুজ আলী

আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

আপডেট টাইম : ১১:২৭:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ভোরে এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর সময়ও এ দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গিয়েছে।

 

 

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর সময় ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৭৫ ডলারে পৌঁছেছে। এটি আগের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুড তেলের দামও ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতি চললেও, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সমালোচনা করে বলেন, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ‘খুব খারাপ কাজ করছে’। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, জাহাজ থেকে ফি আদায়ের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ করতে হবে।

সাম্প্রতিক হামলায় সৌদি আরবের তেল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, এসব হামলার ফলে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমে গেছে। এছাড়া সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহনও প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল প্রতিদিন কমে গেছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম পরিবর্তন হলেও জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের নাগালে ফিরতে এখনো দীর্ঘসময় লাগবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেও সময় লাগবে। বিশ্বজুড়ে তেলের সংকট সুরাহা হতে যেসব সংকট রয়েছে, সেগুলো নিয়ে প্রতিবেদন করেছে আলজাজিরা।

 

 

হরমুজ প্রণালি ও সরবরাহ জটিলতা: বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ জলপথটি কার্যত বন্ধ ছিল। চুক্তি অনুযায়ী এটি খুলে দেওয়া হলেও তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।

 

 

 

ট্যাংকারের দূরত্ব: যুদ্ধের কারণে বিশাল আকৃতির তেলবাহী ট্যাংকারগুলো বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এই জাহাজগুলো ফের উপসাগরীয় অঞ্চলে ফিরে এসে তেল লোড করতে কয়েক সপ্তাহ সময় নেবে।

 

 

 

নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা: মাত্র দুই সপ্তাহের এই ‘ভঙ্গুর’ যুদ্ধবিরতির মধ্যে বড় বিনিয়োগ বা জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি নিতে এখনো অনেক কোম্পানি দ্বিধাগ্রস্ত।

 

 

তেলকূপ চালুর কারিগরি চ্যালেঞ্জ: দীর্ঘদিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় এবং অনশোর স্টোরেজ (তীরবর্তী মজুতাগার) পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের অনেক তেল উৎপাদনকারী দেশ তাদের কূপগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল।

 

 

 

ধীর প্রক্রিয়া: একটি তেলকূপ বা রিফাইনারি ফের চালু করা বৈদ্যুতিক সুইচ টেপার মতো সহজ কাজ নয়। এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ কারিগরি প্রক্রিয়া।

 

 

 

স্থাপনার ক্ষতি: যুদ্ধের সময় অনেক জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যা মেরামত করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।