সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

আর্জেন্টিনার ‘কলঙ্কিত ও পাতানো’ প্রথম বিশ্বকাপ জয়

সংগৃহীত ছবি

১৯৭৮ সালের ২১ জুন, এক থমথমে রাত। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের কুখ্যাত নেভি মেকানিক্যাল স্কুলের এক অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি রাজনৈতিক বন্দি ম্যানুয়েল কালমেস হঠাৎ শুনতে পেলেন পুরো শহরজুড়ে এক গগনবিদারী গর্জন।

 

 

সেখান থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে, এস্তাদিও জিগান্তে দে আরয়িতো স্টেডিয়ামে তখন চলছে বিশ্বকাপের এক ভাগ্যনির্ধারণী ম্যাচ। পেরুর জালে বল পাঠিয়েছে আর্জেন্টিনা। প্রায় আশি হাজার মানুষের সেই উল্লাস রোজারিওর হিমশীতল বাতাস ভেদ করে আছড়ে পড়ল লাতিন আমেরিকার অন্যতম নৃশংস এক টর্চার সেলের দেয়ালে।

 

 

 

ফুটবলপ্রেমী কালমেস বন্দিদশাতেও স্বভাবসুলভভাবেই সেই গোলের আনন্দ উদযাপন করে উঠলেন।

 

 

 

মুহূর্তেই এক জল্লাদ গার্ড তার দিকে ঘুরে তাকাল। হিমশীতল গলায় ফিসফিস করে বলল, ‘ওটাই তোমার জীবনের শেষ গোল, যা তুমি উদযাপন করলে।’

 

 

 

এই একটি বাক্যই আসলে ফুটিয়ে তোলে ১৯৭৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপের আসল আবহ। বাইরের দুনিয়ার কাছে ওটা ছিল ফুটবলের এক বর্ণিল উৎসব, উগ্র জাতীয়তাবাদ আর নান্দনিক বিজয়ের গল্প।

 

 

 

কিন্তু আর্জেন্টিনার ভেতরের গল্পটা ছিল গুম, টর্চার সেল, সেন্সরশিপ আর জেনারেল হোর্হে রাফায়েল ভিদেলার সামরিক স্বৈরশাসনের এক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের দলিল।

 

 

 

১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ কেবল কোনো ফুটবল টুর্নামেন্ট ছিল না। এটি ছিল আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত এক ক্রীড়া প্রদর্শনী। যে মাসে ফুটবল একই সঙ্গে হয়ে উঠেছিল স্বৈরাচারের প্রচারণামূলক হাতিয়ার এবং নৃশংসতা ঢাকার এক রঙিন মুখোশ।

 

 

 

স্বৈরাচারের বুটের নিচে ফুটবল

১৯৬৬ সালে যখন ফিফা আর্জেন্টিনাকে এই বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেয়, তখনো দেশটি সামরিক শাসনের অধীনে যায়নি।

 

 

 

কিন্তু টুর্নামেন্ট যখন শুরু হলো, ততদিনে আর্জেন্টিনা রূপ নিয়েছে এক ভয়ার্ত একনায়কতন্ত্রে। 

 

 

 

১৯৭৬ সালে ক্ষমতা দখল করে জেনারেল ভিদেলার জান্তা সরকার। এরপরই তারা শুরু করে কুখ্যাত ‘ডার্টি ওয়ার’—যার মূল লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, ছাত্র, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের নির্মমভাবে দমন করা। হাজার হাজার মানুষ রাতারাতি উধাও হয়ে যাচ্ছিল। বন্দিশালায় চলত অমানুষিক নির্যাতন। অনেককে ড্রাগ খাইয়ে অজ্ঞান করে সামরিক বিমান থেকে জীবন্ত ফেলে দেওয়া হতো আটলান্টিক মহাসাগরে।

 

 

 

 

ভয়াবহ এই সন্ত্রাসের মধ্যেও জান্তা সরকার ফুটবলের মধ্যে এক দারুণ সুযোগ দেখতে পেয়েছিল।

 

 

 

স্বৈরশাসকেরা সবসময়ই নিজেদের বৈধতা প্রমাণের জন্য মরিয়া থাকে, আর বিশ্বকাপ ছিল তার মোক্ষম হাতিয়ার। আর্জেন্টিনা যদি সফলভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং জয় করতে পারে, তবে বিশ্বমঞ্চে তারা নিজেদের খুনে শাসক হিসেবে নয়, বরং জাতীয় গৌরব ও স্থিতিশীলতার রক্ষক হিসেবে জাহির করতে পারবে। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ‘স্পোর্টসওয়াশিং’ শব্দটা জনপ্রিয় হওয়ার বহু আগেই এই জেনারেলরা বুঝে গিয়েছিলেন, ফুটবলের জয় মানুষের স্মৃতিতে সাময়িক বিস্মৃতি বা ‘ইমোশনাল অ্যামনেসিয়া’ তৈরি করতে পারে।

 

 

 

এক মিথ্যা ভ্রমের দেয়াল

বিশ্বকাপের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে জান্তা সরকার বিপুল অর্থ ঢেলেছিল। বুয়েনস আইরেসে আসা বিদেশী সাংবাদিকদের দেখানো হতো সুপরিকল্পিত দেশপ্রেমের দৃশ্য। স্টেডিয়ামের আশেপাশের বস্তিগুলোকে লুকিয়ে ফেলা হয়েছিল বড় বড় রঙিন দেয়াল দিয়ে। কুখ্যাত বন্দিশালাগুলো থেকে রাজনৈতিক বন্দিদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল দূরের দুর্গম ক্যাম্পে। আন্তর্জাতিক মহলের যেকোনো সমালোচনাকে উড়িয়ে দেওয়া হতো ‘আর্জেন্টিনা-বিরোধী অপপ্রচার’ বলে।

অথচ, উৎসবমুখর স্টেডিয়ামগুলো থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে টর্চার সেলগুলোতে বন্দিদের ওপর নির্যাতন চলত অবিরাম।

পরিস্থিতিটা ছিল পরাবাস্তব বা সুরিয়ালিস্টিক। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের ভেতরে যখন কনফেত্তি আর গগনবিদারী স্লোগানে জাতীয় দলকে বরণ করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই স্টেডিয়ামের বাইরে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে হন্যে হয়ে কাঁদছিল হাজারো পরিবার।

বিখ্যাত লেখক পাবলো ইয়োন্তো সেই গুমোট পরিস্থিতিকে বর্ণনা করেছিলেন এক নির্মম সত্য দিয়ে। তিনি বলেন, ‘লাখো মানুষ সরকারের তৈরি করা সেই ধারণার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল—যেখানে মাঠের জয়কে দেখানো হচ্ছিল এক শান্তিময় দেশের বিজয় হিসেবে।’

 

 

 

পেরু ম্যাচ এবং ৬-০ গোলের সেই কালো রাত

১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপের ফরম্যাটটাই এমন ছিল যা সন্দেহের সব দুয়ার খুলে দিয়েছিল। আধুনিক নকআউট পর্বের মতো তখন সেমিফাইনাল ছিল না। শেষ আটটি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হতো, আর দুই গ্রুপের দুই চ্যাম্পিয়ন সরাসরি খেলত ফাইনাল। আর্জেন্টিনার গ্রুপে ছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল। শেষ ম্যাচের আগে ব্রাজিল তাদের সব খেলা শেষ করে ফেলায় সমীকরণ দাঁড়িয়েছিল একদম পরিষ্কার।

 

 

ব্রাজিলকে গোল ব্যবধানে পেছনে ফেলে ফাইনালে যেতে হলে পেরুর বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে জিততেই হতো অন্তত ৪-০ গোলের ব্যবধানে।

 

 

সাধারণত ফিক্সচারের এই সুবিধা বন্ধ করতে সমসাময়িক সময়ে একই সঙ্গে ম্যাচ আয়োজন করা হয়। কিন্তু ফিফা কয়েক মাস আগেই সম্প্রচারস্বত্ব আর টিকিট বিক্রির অজুহাতে আর্জেন্টিনার ম্যাচটি পরে আয়োজন করতে রাজি হয়। ফলে মাঠের নামার আগেই মেনোত্তির দল জানত তাদের ঠিক কী করতে হবে।

 

 

এরপর যা ঘটেছিল, তা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ম্যাচ হিসেবে আজো কুখ্যাত। যে পেরু দলকে তখন লাতিন আমেরিকার অন্যতম সেরা রক্ষণভাগের দল ধরা হতো, যারা আগের ৫ ম্যাচে মাত্র ৬টি গোল হজম করেছিল, তারা সেই রাতে মাঠে যেন স্রেফ পুতুল হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। আর্জেন্টিনাকে কোনো বাধাই দিল না তারা। ম্যাচটি আর্জেন্টিনা জিতে একেবারে ৬-০ গোলের ব্যবধানে!

 

 

ম্যাচের এই অবিশ্বাস্য ফল রাতারাতি বিশ্বজুড়ে সন্দেহের ঝড় তোলে।

 

 

ড্রেসিংরুমে স্বৈরশাসক ভিদেলা ও কিসিঞ্জার

ম্যাচের বাঁশি বাজার ঠিক কয়েক মিনিট আগে পেরুর ড্রেসিংরুমে ঘটেছিল এক নজিরবিহীন ঘটনা। হঠাৎ করেই পেরুর ড্রেসিংরুমে হাজির হন স্বয়ং আর্জেন্টিনার একনায়ক জেনারেল ভিদেলা এবং আমেরিকার সাবেক সেক্রেটারি অব স্টেট হেনরি কিসিঞ্জার। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভিদেলা পেরুর খেলোয়াড়দের সামনে দুই দেশের ‘ভ্রাতৃত্বের’ বাণী শোনান, যা ছিল আসলে পেরুর তৎকালীন স্বৈরশাসক ফ্রান্সিসকো মোরালেস বারমুদেজের পক্ষ থেকে এক পরোক্ষ বার্তা।

কাগজে-কলমে এটি কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ বলা হলেও, খেলোয়াড়দের জন্য তা ছিল স্পষ্ট এক রাজনৈতিক হুমকি বা মনস্তাত্ত্বিক চাপ।

পরবর্তী দশকগুলোতে পেরুর অনেক খেলোয়াড় স্বীকার করেছেন যে, সেই ম্যাচের আগে তাদের ঘুষ দেওয়া হয়েছিল, রাজনৈতিক চাপ দেওয়া হয়েছিল, এমনকি পরোক্ষ প্রাণনাশের হুমকিও ছিল। যদিও অনেকে তা অস্বীকার করে দলের ক্লান্তি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করেছেন।

কিন্তু এর পেছনের রহস্য কখনো ঢাকা পড়েনি। বিশ্বকাপের ঠিক পরপরই আর্জেন্টিনা কোনো কারণ ছাড়াই পেরুকে ৩৫ হাজার টন শস্য সাহায্য পাঠায় এবং পেরুর ফ্রিজ হয়ে থাকা মিলিয়ন ডলারের আর্থিক তহবিল অবমুক্ত করে দেয়। আরও ভয়াবহ তথ্য হলো, লাতিন আমেরিকার স্বৈরশাসকদের মধ্যকার কুখ্যাত ‘অপারেশন কনডর’ এর অধীনে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বন্দি বিনিময়ের চুক্তিও হয়েছিল এই ম্যাচের বিনিময়ে।

পেরুর সিনেটর জেনারো লেদেসমা পরবর্তীতে আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছিলেন, দুই সরকারের মধ্যে গোপন চুক্তি হয়েছিল—পেরু আর্জেন্টিনাকে প্রয়োজনীয় গোল ব্যবধানে জিততে দেবে, আর বিনিময়ে ভিদেলা সরকার বারমুদেজের স্বৈরাচারী সরকারকে রাজনৈতিক ও সামরিক সুবিধা দেবে।

 

 

 

খেলোয়াড়েরা বীর নাকি স্রেফ দাবার ঘুঁটি?

১৯৭৮ সালের এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি লুকিয়ে আছে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আত্মগ্লানির মধ্যে। তারা কি এই নোংরা রাজনৈতিক খেলার অংশ ছিলেন? নাকি তারা ছিলেন বিশাল এক দানবীয় মেশিনের ভেতরে আটকে পড়া নিরীহ কিছু ফুটবলার?

পরবর্তীতে আর্জেন্টিনার অনেক খেলোয়াড়ই স্বীকার করেছেন, খেলার সময় তারা কিছু না বুঝলেও, পরে তারা বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছেন যে পেরু ম্যাচটি আগে থেকেই সাজানো ছিল।

দলের অন্যতম স্ট্রাইকার লিওপোল্ডো লুকে বছরের পর বছর পর আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘আজ আমি যা জানি, তারপর বুক ফুলিয়ে বলতে পারি না যে আমি ওই বিজয়ের জন্য গর্বিত। কিন্তু তখন আমরা কিছুই জানতাম না। আমরা স্রেফ ফুটবল খেলেছিলাম।’

মিডফিল্ডার রিকার্ডো ভিলা তো আরও সরাসরি বলেছিলেন, ‘এ নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই যে, আমাদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল।’

এই কথাগুলোই আসলে সেই বিশ্বকাপের নৈতিক জটিলতাকে ফুটিয়ে তোলে। ফুটবলাররা কোনো জেনারেল ছিলেন না, তারা কাউকে টর্চারও করেননি। কিন্তু তাদের পায়ের জাদু আর ঘাম আলটিমেটলি ব্যবহৃত হয়েছিল এক খুনে শাসকের প্রোপাগান্ডা মেশিনের জ্বালানি হিসেবে।

 

 

রক্তের দাগ লাগা এক ট্রফি

ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরে আর্জেন্টিনা।

বুয়েনস আইরেসের রাস্তায় নেমেছিল লাখো মানুষের ঢল। তবে মজার বিষয় হলো, মানুষ স্বৈরশাসককে নয়, উদযাপন করছিল তাদের ফুটবল দলকে। সামরিক জান্তা এই জয়ের আবেগকে নিজেদের পক্ষে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও, ফুটবলের শক্তি স্বৈরাচারের চেয়েও বড় প্রমাণিত হয়েছিল।

সাময়িকভাবে এই বিশ্বকাপ ভিদেলা সরকারকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল এবং দেশের ভেতরে এক ভুয়া একতার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছিল। কিন্তু ফুটবল কখনোই একটা রাষ্ট্রের ভেতরের রক্তপাতকে চিরতরে আড়াল করতে পারে না। মাত্র পাঁচ বছর পর, ফকল্যান্ডস যুদ্ধে লজ্জাজনক পরাজয় এবং জনগণের তীব্র ক্ষোভের মুখে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে সেই সামরিক একনায়কতন্ত্র।

বিশ্বকাপ স্বৈরাচারকে কিছুটা সময় বা প্রচারের আলো হয়তো দিয়েছিল, কিন্তু চিরস্থায়ী করতে পারেনি।

 

 

 

ইতিহাসের সবচেয়ে ‘অভিশপ্ত’ ট্রফি

প্রায় অর্ধশতাব্দী পার হয়ে গেলেও, ১৯৭৮ সালের আর্জেন্টিনার সেই প্রথম বিশ্বকাপ জয় আজও গৌরব আর গ্লানির এক দোলাচলে দুলছে। খাতায়-কলমে এটিই আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা, যে গৌরবের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনা এবং ২০২২ সালে লিওনেল মেসি বিশ্বজয় করেছেন। কিন্তু পরের দুটি জয় আর ১৯৭৮ সালের জয়টি এক নয়। এর গায়ে লেগে আছে এক দীর্ঘ, অন্ধকার ছায়া।

ফিফা বা কোনো অফিসিয়াল তদন্ত কমিটি কখনোই পেরু ম্যাচের ফিক্সিংয়ের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণ করেনি, হয়তো তারা এই প্যান্ডোরার বাক্স আর খুলতে চায়নি। বহু প্রশ্নের উত্তর আজও মেলেনি।

তবে আসল কেলেঙ্কারিটা কিন্তু একটা ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চেয়েও অনেক বড়। আসল কেলেঙ্কারি হলো, যে শাসনব্যবস্থা গুম, খুন আর নির্যাতনের জন্য দায়ী ছিল, তারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসবকে নিজেদের রাজনৈতিক বৈধতার থিয়েটার বানিয়ে ফেলেছিল।

গ্যালারি পূর্ণ ছিল, পতাকা উড়ছিল, গগনবিদারী চিৎকারে কাঁপছিল স্টেডিয়াম। আর পর্দার আড়ালে স্বৈরশাসকেরা কান খাড়া করে সেই চিৎকার শুনছিল এই আশায় যে, ফুটবলের এই উন্মাতাল উল্লাস যেন রাজপথের সব আর্তনাদ আর রক্তের দাগকে চিরতরে ধুয়েমুছে সাফ করে দেয়!

সুত্র: দৈনিক কালের কণ্ঠ

 

জাতীয় সংকট নিরসনে সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত: অর্থ উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে সরকার। এ উপলক্ষ্যে নতুন অর্থবছরের বাজেটে ‘রিকভারি ও রিকনসিলিয়েশন’ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

 

 

শনিবার (৬ জুন) ‘সংকট মুহূর্তের বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

অধ্যাপক তিতুমীর জানান, নতুন অর্থবছরের বাজেটে ৬০ হাজার কোটি টাকার ‘রিকভারি ও রিকনসিলিয়েশন’ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের আধুনিক স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের আরো কাছে পৌঁছে দিতে জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও কার্যক্রম চলমান। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কৃষি খাতে অর্থায়ন বৃদ্ধি, শিল্পভিত্তিক বাজেট প্রণয়ন, তেল ও বিদ্যুৎ খাতের চ্যালেঞ্জ, পরিবেশগত সংকট, রেমিট্যান্সপ্রবাহ এবং আমদানি-রপ্তানি খাতের প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এছাড়া আলোচনায় টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা ও বাস্তবমুখী নীতিমালা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

বিশ্বকাপ সম্প্রচারে বড় বিনিয়োগ, ৩২০ কোটিতে স্বত্ব কিনল চ্যানেল

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবারের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ভারতে সরাসরি সম্প্রচারের অফিশিয়াল ঘোষণা এসেছে। আর এই মহাযজ্ঞের সম্প্রচার স্বত্ব কিনে নিয়েছে ভারতীয় মিডিয়া জায়ান্ট ‘জি এন্টারটেইনমেন্ট এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড।

 

 

টেলিভিশন পর্দায় খেলা দেখানোর জন্য জি গ্রুপ তাদের নতুন চারটি স্পোর্টস চ্যানেল ব্যবহার করবে। অন্যদিকে অনলাইন ও মোবাইলে খেলাগুলো সরাসরি লাইভ-স্ট্রিমিং করা যাবে জি ফাইভ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে।

 

 

আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশ্বকাপ। খেলা শুরু হতে যখন দুই সপ্তাহেরও কম সময় বাকি, ঠিক তখনই এই বড় চুক্তিটি সম্পন্ন হলো। এবারের আসরটি হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট, যেখানে ৪৮টি দল অংশ নেবে এবং মোট ১০৪টি ম্যাচ খেলা হবে।

আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির আর্থিক অঙ্ক প্রকাশ করা না হলেও, বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে যে চুক্তিটি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিলিয়ন ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩২০ কোটি রুপি) মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

ফিফা শুরুতে ভারতের বাজারের জন্য এই স্বত্বের মূল্য নির্ধারণ করেছিল প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। তবে বেশিরভাগ ম্যাচ ভারতের সময় অনুযায়ী মধ্যরাতের পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় দর্শক সংখ্যা কিছুটা কম হওয়ার আশঙ্কায় বড় বড় মিডিয়া গ্রুপগুলো শুরুতে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি।

 

পরবর্তীতে ফিফা তাদের দাম কমিয়ে ৩৫ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনে। উল্লেখ্য, ২০১৪ ও ২০১৮ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ব্রডকাস্টার ‘সনি’ এবার এই দৌড় থেকে আগেই ছিটকে গিয়েছিল। অন্যদিকে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ দেখানো রিলায়েন্সের মালিকানাধীন ‘জিওস্টার’ এই স্বত্বের জন্য মাত্র ২০ মিলিয়ন ডলার বিড করেছিল। সেই সুযোগেই বাজিমাত করলো জি নেটওয়ার্ক।

 

 

দেশে হাম পরিস্থিতির অবনতি, ৩ শিশুর মৃত্যু ও নতুন আক্রান্ত ১,০৩২

দেশে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৩২ শিশু।

 

 

শনিবার (৬ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে ঢাকায় দুই শিশু এবং সিলেটে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে ৫২২ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯১ শিশু। ফলে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১৩ জনে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ৭৭ হাজার ৭৯১ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ৬৩ হাজার ১৩৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৮ হাজার ৯৬৪ শিশু।

এ ছাড়া, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৯ হাজার ৬২০ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

 

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হামের বিস্তার রোধে শিশুদের সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

কুড়িগ্রামে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র‍্যালি।

কুড়িগ্রামে ডেঙ্গু রোগে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা অবলম্বন করার লক্ষ্যে জেলা সিভিল সার্জনের উদ্যোগে র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার ৬ জুন সকাল ১০ টার সময় কুড়িগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে এ র‍্যালি বের হয়। পরে কুড়িগ্রাম জেলা শাপলা চত্বর হয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল থেকে পুনরায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ে গিয়ে র‍্যালি সমাপ্ত করা হয়।
জেলায় ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি এবং রোগ নির্মূলে জেলায় সতর্ক থাকার বিষয়ে র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এবং ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সচেতনতা বৃদ্ধি করার বিষয় উল্লেখ করা হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন, কুড়িগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ স্বপন কুমার বিশ্বাস, কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ নুর নেওয়াজ, কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের বক্ষব্যাধী বিশেষজ্ঞ ডাঃ সাদিকুর রহমান, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের MODC ডাঃ আর রাফি তামজিদসহ সদর হাসপাতাল নার্স এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারিবৃন্দ।
র‍্যালি শেষে সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আতঙ্কিত নয় সচেতনতায় জয় বলে অনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

 

স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে সলঙ্গায় দই-মিষ্টি উৎপাদন, নেই বিএসটিআই অনুমোদন

সরকারি কোনো অনুমোদন ও লাইসেন্স ছাড়াই সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে দই এবং মিষ্টি উৎপাদন করে তা অবাধে বিক্রি করছে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার রামারচর এলাকার ‘রয়েল রূপালী হোটেল’।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর কোনো প্রকার ছাড়পত্র বা মান সনদ না নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামারচর বাজারের রয়েল রূপালী হোটেলের কারখানায় অত্যন্ত নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে দই-মিষ্টি তৈরি করা হচ্ছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্যবিধির ন্যূনতম কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। উন্মুক্ত স্থানে মাছি ও ধুলোবালির মধ্যেই মিষ্টিজাতদ্রব্য তৈরি ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ।
​নিয়ম অনুযায়ী, দই ও মিষ্টির মতো দুগ্ধজাত খাবার তৈরি ও বাজারজাতকরণের জন্য বিএসটিআই-এর বাধ্যতামূলক মান সনদ (সিএম লাইসেন্স) প্রয়োজন হয়।
কিন্তু রয়েল রূপালী হোটেল কর্তৃপক্ষ সমস্ত নিয়মনীতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করছে। মহাসড়ক ও স্থানীয় এলাকার সাধারণ ক্রেতারা না জেনে এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার কিনে প্রতারিত হচ্ছেন এবং ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং-সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন।
​স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির অভাবেই সলঙ্গার রামারচরের এই হোটেলটি দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স ছাড়া ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করে আসছে।
জনস্বার্থ রক্ষায় অনতিবিলম্বে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বিএসটিআই-এর যৌথ উদ্যোগে এই হোটেলের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এবিষয়ে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সোহেল শেখ জানান, বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়া দই-মিষ্টি উৎপাদন করার কোন সুযোগ নেই, অতি দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

জামায়াতের মেয়র প্রার্থীর মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি আ’লীগ নেতা

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের মনোনীত মেয়র প্রার্থী  মাহবুব আলমের সাথে অত্র এলাকাবাসী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় জামায়াতের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী মতবিনিময় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর প্রথম দিনে উপজেলার শেরনগর দারুল মা’হাদ মডেল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতার নাম আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ খাঁন। তিনি বেলকুচি পৌর আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি পদে আছেন।

বিশিষ্ট সমাজ সেবক আলহাজ্ব আশরাফ আলী প্রামাণিকের সভাপতিত্বে সভায় আরোও বক্তব্য রাখেন, শেরনগর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফুদ্দিন আনসারী, মুকুন্দগাঁতী বাজার বণিক সমিতি সহ- সভাপতি মহর আলী প্রামাণিক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মান্নান,রিপন সরকার প্রমুখ।

 

রাজারহাটে পিক-আপচাপায় প্রাণ গেল বাবা-ছেলের

রাজারহাটে একটি মাছবহনকারী পিকআপ ভ্যানের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা-ছেলে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে রাজারহাট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন মোঃ দুলু মিয়া ও বাবা সিদ্দিক শেখ। দুর্ঘটনার পরপরই বাবা-ছেলে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাদের নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও রক্ষা হয়নি বাবা ছেলের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত দুই ব্যক্তি কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট সীমান্তে বোগমারী পঞ্চগ্রাম এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। তারা উভয়ে বাবা-ছেলে। স্থানীয়রা আরও জানান, তারা সকালে মোটরসাইকেল করে যাওয়ার পথে বিপরিত দিক থেকে একটা মাছবহনকারী পিকআপ ভ্যানের সাথে মোটরসাইকেল সংঘর্ষ হয়। এতে করে মোটরসাইকেল দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এবং বাবা ছেলে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে বাবা সিদ্দিক শেখ এবং ছেলে দুলু মিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে ছেলে দুলু মিয়া কে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলে দুলু মিয়া কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
ছেলের মৃত্যুর পর বাবা সিদ্দিক শেখের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। জানা যায়, নিহত সিদ্দিক শেখের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সরাসরি চিকিৎসার জন্য রংপুরের উদ্দেশ্যে নেওয়া হলে পথিমধ্যে তারও মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
এ বিষয় রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থরে যাওয়ার আগেই পিকআপ ভ্যানটি পালিয়ে গেছে। এ বিষয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ঢাকা এখন আর বাসযোগ্য নয় বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল

 

ঢাকার বায়ু, পানি ও পরিবেশদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় রাজধানীকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। ইদানীং তার মনে হচ্ছে তিনি এ শহরে থাকবেন না। ঢাকা ছেড়ে তিনি দেশের অন্য এক শহরে গিয়ে বসবাস করবেন।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘দক্ষিণের জানালা’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি তার মনের এ কথা জানান।

 

 

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঢাকা শহরে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও নগরবাসী কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাসযোগ্য নগর গড়তে কার্যকর পরিকল্পনা, জবাবদিহি ও কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ফখরুল বলেন, প্রকল্প নেওয়ার আগে বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এগোনো দরকার।

মন্ত্রী বলেন, আজকাল আমার নিজেরই মনে হয় যে আমি ঢাকা শহরে থাকব না; আমি আমার দেশের অন্য শহরে গিয়ে থাকব। কারণটা হচ্ছে, এটা আর বাসযোগ্য মনে হয় না।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, আপনি ঘর থেকে বের হলেই যে বাতাস গ্রহণ করেন, সেটাও দূষিত। আপনি যদি একটি সরকারি হাসপাতালে যান, সেখানে ঢোকাই যায় না। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। সেই অবস্থা থেকে যদি আমরা বের হতে না পারি, প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামনে এগিয়ে আনতে না পারি, তাহলে এতক্ষণ যে স্বপ্নের কথা বলা হলো, সেগুলো স্বপ্নই থেকে যাবে। কারণ আমরা কি সত্যিই সেই মুক্ত বাতাস নিতে পারব?

 

 

মানুষ যাতে আরও দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারে, সে জন্য বিশুদ্ধ বাতাস নিশ্চিত করা এবং বাসযোগ্য শহর ও নগর গড়ে তোলার আন্দোলন প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ নগরবাসীকে আলোড়িত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বিএনপির মহাসচিব।

 

 

 

এলজিআরডি মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু নাগরিকদের সচেতন করলেই হবে না। যারা নীতিনির্ধারণ করছেন, ঢাকা শহর পরিচালনা করছেন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

 

 

 

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন স্থানীয় সরকারের একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন নগর নির্বাচিত মেয়র ও স্বশাসিত করপোরেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে আরও গভীর চিন্তা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

 

 

 

ঢাকার পরিবেশ ও নদী দূষণের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, কলেজ জীবনে আমরা প্রায়ই বুড়িগঙ্গায় নৌকায় চড়ে ঘুরতে যেতাম। কিন্তু এখন সেই নদীর কাছেও যাওয়া যায় না। এত দূষিত, এত দুর্গন্ধ। আমার কাছে মনে হয়, ঢাকা শহরের অনেক সমস্যার মূলেই বোধহয় এই বুড়িগঙ্গা। বুড়িগঙ্গার পানি আজ যে অবস্থায় আছে, শীতলক্ষ্যাও প্রায় একই অবস্থার দিকে যাচ্ছে। তাহলে ঢাকা শহরের নাগরিকরা যাবে কোথায়?

 

 

 

তিনি বলেন, চলমান উদ্যোগগুলোর পাশাপাশি কাঠামোগত পরিবর্তনও প্রয়োজন। পরিকল্পনা সঠিকভাবে নিতে হবে এবং ‘প্রকল্প শেষ তো সব শেষ’, এমন পরিস্থিতি যেন না হয়।

 

 

 

ঢাকা শহরের পানির অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ‘ঢাকা শহরের পানির অবস্থা খুবই ভয়াবহ। একটি বড় অংশের পানি পানযোগ্য নয়। আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাচ্ছে। এটি ঢাকার জন্য একটি ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে।

 

 

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, ‘নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এত প্রকল্প হয়, কিন্তু বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করার কোনো কার্যকর প্রকল্প তৈরি হয় না। আমি চেষ্টা করব এ বিষয়ে আলোচনা করে আমরা বুড়িগঙ্গাকে ঠিক করতে পারি কি না, তুরাগকে ঠিক করতে পারি কি না— সেসব বিষয় দেখতে হবে।’

 

 

আ.লীগের দুর্নীতির খেসারত দিচ্ছে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত: তথ্য উপদেষ্টা

 

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চুরি ও অর্থপাচারের কারণেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে চাপে জনগণ বলে অভিযোগ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

 

 

 

শনিবার (০৬ জুন) সকালে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের সময়ে যে চুরি ও অর্থপাচার হয়েছে, তার আর্থিক বোঝা বর্তমান সরকারকেও বহন করতে হচ্ছে। তবে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষকে সুরক্ষা দিতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

 

জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতির চক্র থেকে পুরোপুরি বের হয়ে আসা সহজ নয় এবং এ প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে।

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করলেও সরকারের অনুরোধে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থাৎ এসব গ্রাহককে অতিরিক্ত কোনো মূল্য পরিশোধ করতে হবে না।

 

 

তিনি আরও বলেন, একই বিবেচনায় অকটেন ও পেট্রোলের দাম বাড়ানো হলেও ডিজেলের মূল্য দ্বিতীয় দফায় বাড়ানো হয়নি।

 

 

 

ডা. জাহেদ অভিযোগ করেন, অতীতে কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে দেশের বিদ্যুৎ খাতকে আমদানিনির্ভর করে রাখা হয়েছিল, যার প্রভাব এখনো অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে বিদ্যমান।

 

 

বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই যমুনায় তীব্র ভাঙন

 

একদিনের মধ্যেই মোল্লা সাইফুল ইসলামের বাড়িটি গিলে নিলো প্রমত্তা যমুনা। ভুমিহীন সাইফুলের বাড়িটাই ছিল সম্বল। অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা সাইফুলকে চোখের পলকেই নিঃস্ব করে দিলো যমুনা।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ এলাকায় সাইফুলের বাড়িটি যমুনাগর্ভে বিলিন হয়। শুধু সাইফুল নয়, গত তিন সপ্তাহে চৌহালী উপজেলার ৫-৭টি গ্রামের বেশ কিছু বাড়িঘর, ফসলী জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।

 

 

 

মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বর্ষণে যৌবন ফিরে পেয়েছে যমুনা। যমুনার উত্তাল ঢেউ তীরবর্তী মানুষগুলোর আতংক বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে টানা বর্ষণের কারণে যমুনার পানি দ্রুতগতিতে বাড়তে শুরু করে। মাঝখানে সামান্য কমে আবারও বাড়তে শুরু করে। তবে এখন পর্যন্ত বিপৎসীমার নিচেই রয়েছে। এরই মধ্যে দুদিন ধরে ফের কমতে শুরু করেছে যমুনার পানি।

 

 

 

আর যমুনার পানি হ্রাস-বৃদ্ধির দোলাচলে চরাঞ্চল ও পূর্বতীরে শুরু হয়েছে ভাঙন। ফলে বর্ষাকাল শুরুর আগেই এসব অঞ্চলের মানুষের কাছে আতংক হয়ে দাঁড়িয়েছে যমুনা।

 

 

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভাঙন কবলিতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নদীর পূর্বপার চৌহালী উপজেলার খাস কাউলিয়া ইউনিয়নের ভুতের মোড়, বাগুটিয়া ইউনিয়নের বিনানুই, রেহাই পুখুরিয়া, দেওয়ানগঞ্জ বাজার, চর সলিমাবাদসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এসব অঞ্চলের ঘরবাড়ি, ফসলী জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছে শত শত বসতবাড়ি, ফসলী জমি, হাটবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

 

 

 

বাগুটিয়া ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর বাবুল সরকার বলেন, চর বিনানুই নদীর পশ্চিম পাশে চার জায়গায় একশো ফিট এলাকার জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী চর সলিমাবাদ গ্রামের মোল্লা সাইফুল ইসলামের বাড়িটি চোখের পলকেই যমুনায় চলে গেছে।

 

 

 

একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর মতিউর রহমান বলেন, রেহাই পুখুরিয়া ও দেওয়ানগঞ্জ বাজারের উত্তরপাশে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। অনেক জমি নদীতে চলে গেছে। এখানকার মানুষ খুব আতংকের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।

 

 

 

৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর আব্দুস সালাম বলেন, চর সলিমাবাদ বাজার এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। দুই সপ্তাহে ৩০টিরও বেশি বাড়ীঘর নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। এ এলাকার অসংখ্য মানুষ ভাঙন আতংকে রয়েছে।

 

 

 

এদিকে জেলার চরাঞ্চল কাজিপুর উপজেলার খাস রাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, সদর উপজেলার কাওয়াকোলা, চৌহালীর ঘোড়জান, শাহজাদপুরের গালা, সনাতনী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামেও তীব্র নদী ভাঙন শুরু হয়েছে।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, গত ১৪ মে থেকে যমুনার পানি বাড়া শুরু করে। দ্রুত গতিতেই বাড়ছিল পানি। তবে বুধবার থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, পানি বাড়লেও বিপৎসীমার অনেক নীচে রয়েছে।

 

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, জুন মাসের দিকে যমুনায় পানি বাড়তে শুরু করে। পানি বাড়তে থাকলে তীরবর্তী অঞ্চল ও চরাঞ্চলে ভাঙন দেখা দেয়। আমরা বেশ কিছু জায়গায় ভাঙনের খবর পেয়েছি। চৌহালী উপজেলার ভূতের মোড় এলাকার নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেখানে বালুভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। আর চরাঞ্চলের ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোন নির্দেশনা নেই, এ জন্য সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

 

তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং সীমান্ত পরিস্থিতির প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক

 

তেল-গ্যাস এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও সীমান্তে পুশইনের প্রতিবাদে আগামীকাল রোববার (৭ জুন) বাদ আসর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।

 

 

 

গত শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ঢাকাস্থ নির্বাহী সদস্যদের এক জরুরি পরামর্শ সভায় সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়। শনিবার (৬ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

 

 

 

পরামর্শ সভায় সভাপতিত্ব করেন- দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। এতে উপস্থিত ছিলেন- নায়েবে আমীর মাওলানা কুরবান আলী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতী শরাফত হুসাইন, মাওলানা তাফাজ্জল হুসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশিদ ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হুসাইন রাজী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুরশেদুল আলম সিদ্দিকী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা সানাউল্লাহ আমিনী, সহ-সভাপতি মাওলানা আতিকুল্লাহ, যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান, যুবনেতা আল আবিদ শাকের এবং খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

সভায় মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও দেশে বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। একদিকে বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হলেও, অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বেড়ে যাচ্ছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী এবং জনগণের সঙ্গে প্রকারান্তরে প্রতারণার শামিল।

 

তিনি আরও বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের পুশইন ও হয়রানির ঘটনা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক মর্যাদার জন্য উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

 

তিনি অবিলম্বে বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের মূল্য হ্রাস এবং সীমান্তে পুশইনের ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে আগামীকালের বিক্ষোভ কর্মসূচি সফল করতে সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

 

 

 

সভায় ঈদযাত্রায় সারা দেশে নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জাতীয় উৎসবগুলোতে অব্যবস্থাপনার কারণে কোনো পরিবার যেন দুর্ঘটনা ও ভোগান্তির শিকার না হয়, সে লক্ষ্যে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

 

 

৭৫ ইউনিটের মধ্যে ব্যবহারকারীদের বাড়তি বিল গুনতে হবে না: তথ্য উপদেষ্টা

 

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, মাসে শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না। ফলে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিপুল সংখ্যক গ্রাহক সরাসরি উপকৃত হবেন।

 

 

 

শনিবার (০৬ জুন) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

 

 

 

ডা. জাহেদ বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) শুনানির মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেও সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রায় ৬৫ শতাংশ গ্রাহকের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের বর্তমান দাম অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ এসব গ্রাহককে অতিরিক্ত কোনো মূল্য পরিশোধ করতে হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অতীত সরকারের আমলে সংঘটিত দুর্নীতি, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রভাব বর্তমান সরকারকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, সরকার একদিকে দুর্নীতির চক্র ভাঙতে কাজ করছে, অন্যদিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। আগের সরকারগুলো উৎপাদনমুখী অর্থনীতির পরিবর্তে আমদানিনির্ভর নীতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হয়েছে।

 

 

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ১৮ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কের যমুনা সেতু এলাকা থেকে রসুলপুর পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন) সকালে সেতুর উপর ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়। যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এতে মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যানজটের কারণে অনেক যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে আটকে রয়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

 

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. শরীফ জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ও সেতুর ওপর গাড়ি বিকল হ‌ওয়ায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে তবে যানবাহনগুলো দ্রুত সরিয়ে নিতে কাজ চলছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।

 

 

শান্তিরক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি, জাতিসংঘ পদক পেলেন ৬ বাংলাদেশি

 

আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করা ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের অনুষ্ঠানে তাদের এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

 

 

সাহস, আত্মত্যাগ ও পেশাগত নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে প্রাপ্ত এই পদক বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদানের আরেকটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন) নিউইয়র্কের জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এ তথ্য জানিয়েছে।

 

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিহত শান্তিরক্ষীদের পক্ষ থেকে পদকগুলো জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর হাতে তুলে দেন।

 

আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় তাদের সাহস, আত্মত্যাগ এবং নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

 

সম্মাননাপ্রাপ্ত শান্তিরক্ষীরা হলেন— কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট সান্তো মণ্ডল।

 

 

 

২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘের আবেই অঞ্চলের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে দায়িত্ব পালনকালে এক ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব ১৯৪৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালনের সময় নিহত প্রায় চার হাজার ৫০০ শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এ সময় তিনি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন মিশনে কর্মরত ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষীর অবদানের কথাও তুলে ধরেন।

 

 

 

চলতি বছর ৩৩টি সদস্য রাষ্ট্রের ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়।

 

 

 

অনুষ্ঠান শেষে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক বইতে স্বাক্ষর করেন।

 

 

 

ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক প্রবর্তিত একটি মরণোত্তর সম্মাননা, যা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনের সময় নিহত সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের অবদান ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয়।

 

 

সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আটকে থাকা ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকার শূন্য রেখায় থাকা নারী-পুরুষ এবং শিশুসহ সেই ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিয়েছেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা।

 

 

 

পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ১৯ ঘণ্টা পর শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১টার দিকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যায় তারা।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন) সকালে নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাধার মুখে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় প্রশংসায় ভাসছে বিজিবি।

 

এর আগে শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ধরে এই চেষ্টা অব্যাহত রাখে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ১৭ জনকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানোর সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে কড়া অবস্থান নেন বিজিবি সদস্যরা। বিজিবি সদস্যদের এমন অবস্থানে প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা।

 

 

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলমুডাঙ্গা গ্রামের ট্রাক্টর চালক মাহবুব আলম বলেন, ওই ১৭ জনকে বিজিবি সদস্যরা পাহারা দিয়ে রেখেছিলেন। রাত ১১টার দিকে আমার ট্রাক্টরে ধান লোড দিচ্ছিলাম তখনো বিজিবি সদস্যরা সেখানে ছিল। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে টেনে হিঁচড়ে ভারতে নিয়ে যায়। তারা বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে যেতে চাচ্ছিল না। নিয়ে যাওয়ার সময় তারা অনেক কান্নাকাটি করছিল।

 

 

 

 

নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, খবর পাওয়ার পর ওই স্থানে বিজিবির টহল বৃদ্ধি করা হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে শুরুতে শূন্য লাইনে থাকতে দিলেও সন্ধ্যার পরে তাদেরকে নোম্যান্সল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রাত একটার দিকে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেন। এরপর রাতে তারা পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে। সীমান্তের ওই এলাকাতে বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে।

 

 

প্রাথমিক শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি, বিভাগসেরা জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামান

 

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’-এ রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত হয়েছেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।
এ অর্জনের খবরে নীলফামারী জেলায় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দের সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সম্মান শুধু একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং জেলার প্রাথমিক শিক্ষা খাতে ধারাবাহিক উন্নয়ন ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি।
জানা গেছে, জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিদ্যালয়গুলোর নিয়মিত পরিদর্শন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তার নেওয়া পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক ফল বয়ে আনে।
শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, তার নেতৃত্বে জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে।
রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, তার নেতৃত্বে নীলফামারীর শিক্ষা খাত ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই স্বীকৃতি নীলফামারীর জন্য একটি গৌরবময় অর্জন। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগ ও নেতৃত্ব আগামী দিনেও জেলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঢাকায় গ্রেপ্তার সিরাজগঞ্জের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সহ-সভাপতি এস এম সাদ্দামকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ।

 

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের ফেসবুক পোস্টে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি ভাইরাল হয়েছে।

 

এসব ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, ছাত্রলীগ নেতা এস এম সাদ্দামকে ঢাকার গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, আমিও ফেসবুক পোস্টে সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি দেখেছি। তবে ঢাকা গোয়েন্দা বিভাগ থেকে কোন মেসেজ পাইনি।

বিষাক্ত সাপের কামড়ে প্রাণ গেল শিশুর

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সরাইদহ (উত্তরপাড়া) গ্রামে সাপের কামড়ে মো. নুর-মোহাম্মদ (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে ওই গ্রামের মো. শাহাদাত হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে পাশের বাড়ির একটি ঘরের খামারে খেলতে গিয়ে সেখানে থাকা একটি বিষধর সাপ শিশুটির ডান হাতের কবজিতে কামড় দেয়। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ার এপেক্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শিশুর চাচা আব্দুল মালেক বলেন, “ঘরের খামারে হাত দেওয়ার সময় একটি সাপ নুর-মোহাম্মদের ডান হাতের কবজিতে কামড় দেয়। পরে আমরা দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এপেক্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।”
রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আ. ফ. ম. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “সাপে কামড়ানোর পর শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রেফার করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি।”
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান জানান, “সাপের কামড়ে শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরেছি। এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির অকাল মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা সাপের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।

কৃষিখাতে প্রতারণা রোধে সৈয়দপুরে মোবাইল কোর্ট

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের প্রামাণিকপাড়া এলাকায় ভেজাল কীটনাশক প্রস্তুত ও বাজারজাতের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সৈয়দপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা-র নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে প্রসিকিউশন কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবং সৈয়দপুর থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বালু ও বিভিন্ন রঙের মিশ্রণ ব্যবহার করে ভেজাল কীটনাশক তৈরি করে প্যাকেটজাত করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে অপরাধের প্রমাণ ও অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সময় ভেজাল কীটনাশক তৈরির কাজে ব্যবহৃত ও জব্দকৃত সামগ্রী প্রসিকিউশন কর্মকর্তার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
সৈয়দপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা এবং কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো কোনো কর্মকাণ্ডই সহ্য করা হবে না। ভেজাল কৃষি উপকরণ উৎপাদন ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ভেজাল কীটনাশক ব্যবহারের ফলে একদিকে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, অন্যদিকে ফসলের উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তাই এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষকদের হয়রানি, প্রতারণা ও ফসল উৎপাদনে সম্ভাব্য বিপর্যয় রোধে ভেজাল কৃষি উপকরণ উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ছাত্রলীগের বিশাল মিছিল দেখে সরে দাঁড়ালো পুলিশ

নোয়াখালী সদর উপজেলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিশাল একটি মিছিল দেখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা পুলিশ সদস্যরা যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের ‘সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির’ বিরুদ্ধে এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়। জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই সদর উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের এক হাজারেরও বেশি কর্মী-সমর্থক বাঁধের হাট বাজারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলের শুরুতে পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও নেতাকর্মীদের বিশাল জনস্রোতের মুখে তারা টিকতে পারেননি। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা ও তীব্রতা দেখে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে সরে যান।

 

এই বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে তিনি বলেন, “আমরা এখানে যারা রাজপথে নেমেছি, তারা প্রত্যেকেই অন্যায় ও সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আমাদের এই প্রতিবাদী আন্দোলন ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে। যতদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনা ফিরে না আসবেন, ততদিন আমরা শান্ত হবো না। আমরা রাজপথ ছাড়বো না।” দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্যায় ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে নৈতিক দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারীর মুখে পুলিশ সদস্যদের সরে যাওয়ার বিষয়টি সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম নিজেই স্বীকার করেছেন। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, মিছিলের খবর আগে থেকেই টের পেয়ে পুলিশের ছয় সদস্যের একটি দল সেখানে উপস্থিত ছিল। তবে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা অতিরিক্ত বেশি হওয়ায় তাদের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। ওসির দাবি, তারা শুরুতে মিছিলটি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পরে নেতাকর্মীদের সংখ্যা ও উপস্থিতি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে পড়তে বাধ্য হন।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে নব দম্পতিকে বিরল প্রজাতির গাছের চারা উপহার

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিয়ের অনুষ্ঠানে নব দম্পতি কে বিরল ও  মহাবিপন্ন চাপালিশ, বৈলাম,বুদ্ধ নারিকেল  সহ বকুল, নিম ও পলাশ গাছের চারা উপহার  হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
 শুক্রবার ( ৫ জুন) দুপুরে   পরিবেশ  ও প্রকৃতির পাঠশালার পরিচালক মাহবুব ইসলাম পলাশের পক্ষ থেকে এ উপহার তুলে দেয়া হয়। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন  সাংবাদিক এম,আতিকুল ইসলাম বুলবুল,  মো: সাজেদুল আলম,  লেখক-গবেষক উজ্জল মাহাতো, মো: লুৎফর রহমান,  এম,এ, মাজিদ, শামীউল হক শামীম, মৃণাল সরকার মিলু,  মো: আশরাফুল ইসলাম আসিফ ও সনাতন দাশ ও মুশফিকুর রহিম ফাহিম।
জানা যায়, সিরাজগঞ্জের  তাড়াশ উপজেলা পারিল গ্রামের বাসিন্দা  মো: আব্দুল লতিফের ছেলে ও সাংবাদিক হাদিউল হৃদয়ের সাথে পাশ্ববর্তী দেওড়া গ্রামের বাসিন্দা  মো: জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে মোছা: জান্নাতুল ফেরদৌসের  বিয়ে সম্পন্ন হয়।
উল্লেখিত বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যতিক্রমী এ উপহার নিয়ে হাজির হোন  পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালার পরিচালক মাহবুব ইসলাম পলাশ।
মুহূর্তেই বিয়ের অনুষ্ঠানে  এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়। উৎসুক বরযাত্রী সহ বিয়ে বাড়িতে আগত  লোকজন  উপহার  দেখতে ভিড় জমান।
পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালার পরিচালক মাহবুব ইসলাম পলাশ বলেন,  আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস।   বৃক্ষ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অপরিহার্য অনুসঙ্গ।  পাশাপাশি বিরল ও মহাবিপন্ন প্রজাতির গাছ রক্ষায় সবাই কে সচেতন করতে গাছের চারা উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
লেখক – গবেষক উজ্জল মাহাতো বলেন, এই ব্যতিক্রমী উপহার দেখে আমরা অভিভূত।  পরিবেশ সচেতনতায়  আমাদের প্রত্যকেই এমন ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হওয়া দরকার।
উল্লেখ্য, বিয়ের অনুষ্ঠানের মাহবুব ইসলাম পলাশ তাড়াশ উপজেলার ক্ষিরপোতা আনন্দ বৌদ্ধ বিহার, মাধাইনগর মিশনারী চার্চ, তাড়াশ উপজেলা মডেল মসজিদ ও শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির চত্বরে  ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা রোপণ করেন।

হিলিতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরের হাকিমপুরে শুরু হয়েছে তুমুল উন্মাদনা। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে দিনাজপুরের হিলিতে এক বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে হাকিমপুর উপজেলা আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠী।
আজ শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল ৫টায় হিলি স্থলবন্দরের পানামা পোর্ট গেট থেকে আর্জেন্টিনার জার্সি পরিহিত ও পতাকা হাতে সমর্থকরা এই শোভাযাত্রা বের করেন। র‍্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে হিলি রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে শেষ হয়। এতে সব বয়সী ফুটবলপ্রেমীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
আর্জেন্টিনা সমর্থকদের এই আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন সাবেক হাকিমপুর পৌর মেয়র সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী। তিনি বলেন, বিশ্বকাপ এলে হিলির ফুটবলপ্রেমীরা মেতে ওঠেন। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার সমর্থনে এ অঞ্চলে সবসময়ই ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া সমর্থকরা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিগত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবারও আর্জেন্টিনা সেরা খেলা উপহার দেবে এবং লিওনেল মেসির হাত ধরে আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলবে। র‍্যালিতে ঢাক-ঢোলের শব্দে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ে ডলার প্রতারণা চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁওয়ে ডলার কেনাবেচার নামে প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ভূল্লী থানা পুলিশ।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে ভূল্লী উপজেলার  ৫ নং শুখানপুকুরী ইউনিয়নের বাং রোড সুইসগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মোঃ মানিক হোসেন (৪৩), মোঃ হাবিবুর রহমান ওরফে হবি (৪৫), মোঃ আশরাফুল ইসলাম (৪৭), মোঃ মনোয়ার হোসেন (৪০) এবং মোঃ মোখলেছ (৪৮)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিদেশি ডলার ক্রয়-বিক্রয়ের নামে প্রতারণার উদ্দেশ্যে তারা ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হিসেবে রয়েছেন সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট শাখার অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার মোঃ জুবায়েত জাহিদ (৪৪), একই শাখার পিয়ন মোঃ আজাহার আলী (৫৪) এবং মোঃ গোলাম মোস্তফা (৫৫)। তারা সবাই নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার বাসিন্দা।
ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিদেশি ডলার, সাতটি মোবাইল ফোন, নগদ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ডকুমেন্ট উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এছাড়াও উদ্ধারকৃত আলামত ও নথিপত্র যাচাই করে চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

কাফনের কাপড় পরে ৫৮ সেকেন্ডের মিছিল যুবলীগের

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, চট্টগ্রাম মহানগর’ ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

 

 

মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মিছিলটি বন্দর এলাকা থেকে শুরু হয়ে শেখ মুজিব সড়ক হয়ে আগ্রাবাদ মোড়ের দিকে অগ্রসর হয়। নেতাকর্মীদের হাতে থাকা ব্যানারে— হামে শিশুমৃত্যু, শিশু ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের বিচার এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ সংক্রান্ত স্লোগান লেখা ছিল। মিছিলটি বিদ্যুৎ ভবনের সামনে এসে পৌঁছলে নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে বেশ কিছুক্ষণ স্লোগান দেন।

আগ্রাবাদের মিছিলের বিষয়ে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমীনুর রশিদ জানান, আগ্রাবাদ এলাকার মিছিলের ভিডিও ফুটেজটি দেখে মিছিলে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

 

বেলকুচিতে বাসচাপায় বাবা-মায়ের পর মেয়েরও মৃত্যু, নিহতের সংখ্যা ৪

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বাসচাপায় বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেলেন মেয়ে তামান্না খাতুন (১৬)।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তামান্না। এ নিয়ে এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪ জনে।

 

 

নিহতরা হলেন, বেলকুচি উপজেলার আজুগড়া হিজলতলা এলাকার মৃত বাছের সরকারের ছেলে মো. মোতালেব সরকার (৪০), তার স্ত্রী ফজিলা খাতুন (৩৫) ও তাদের মেয়ে কলেজ ছাত্রী তামান্না খাতুন (১৬) এবং জামতৈল গ্রামের মৃত সোনাউল্লাহ মুদির ছেলে অটোভ্যানের চালক মো. নুরু (৪৫)।

 

এর আগে সকাল ৭টা ৫ মিনিটে সিরাজগঞ্জ-এনায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

বেলকুচি থানার ওসি ইমাম জাফর এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মেঘুল্লা বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় একটি ব্যাটারি চালিত অটোভ্যানের এক্সেল ভেঙে বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় ঢাকা থেকে এনায়েতপুরগামী ঢাকা এক্সপ্রেস পরিবহণের দ্রুতগামী একটি বাস বিকল হওয়া ভ্যানটিকে চাপা দিলে এর চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তিন যাত্রীকে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সকালেই মারা যান বাবা মোতালেব সরকার ও মা ফজিলা খাতুন।

 

এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য মেয়ে তামান্নাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিকেলের দিকে মারা যান।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

“শাকিব খানের ঘরে জন্ম নিল কন্যাসন্তান”।

দুই পুত্রসন্তানের পর এবার কন্যাসন্তানের বাবা হলেন দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খান। চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন, ১১ মে তাদের ঘরে জন্ম নিয়েছে একটি কন্যাসন্তান। নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে শার্লিন খান।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে সুখবরটি প্রকাশ করেন বুবলী।

 

 

তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের পরিবারে একটি কন্যাসন্তানের আগমন হয়েছে। এই আনন্দের মুহূর্তে যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন এবং শুভকামনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের মেয়ের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।’

পোস্টের সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করেন বুবলী। যেখানে নবজাতকের নাম শার্লিন খান উল্লেখ করা হয়। সেখানে শাকিব খান ও বুবলীকে ‘এলেটেড প্যারেন্টস’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বেশ কিছুদিন ধরেই বুবলীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন শোবিজ অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছিল। তবে সে সময় বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি এই অভিনেত্রী। সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও গণমাধ্যম থেকেও অনেকটা দূরে ছিলেন তিনি।

 

উল্লেখ্য, অপু বিশ্বাসের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০১৮ সালের ২০ জুলাই শবনম বুবলীকে বিয়ে করেন শাকিব খান। ২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে জন্ম নেয় তাদের ছেলে শেহজাদ খান বীর। পরে ২০২২ সালে বিয়ে ও সন্তানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আনেন এই দুই তারকা। অপু বিশ্বাসের ঘরে তার আব্রাহাম খান জয় নামের আরেক ছেলে রয়েছে।

 

দুই পক্ষের বিরোধে সংঘর্ষ, নিহত একজন

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জামাল মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার গন্ডা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

নিহত জামাল মিয়া (৪৫) ওই গ্রামের মঈন উদ্দিনের ছেলে।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে জামাল মিয়ার সন্তান ও প্রতিবেশী সুজন মিয়ার সন্তানদের মধ্যে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে ঝগড়া হয়। পরে বিষয়টি বড়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে জামাল মিয়া গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

এদিকে স্থানীয়রা অভিযুক্ত সুজন মিয়ার স্ত্রী অজু আক্তারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

 

 

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ জানান, শিশুদের ঝগড়া থেকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

 

তরুণকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষককে গণপিটুনি

গাইবান্ধার সাঘাটায় একটি মাদ্রাসার অফিস কক্ষে এক তরুণকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষককে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুলতাইড় গ্রামের রেলওয়ে বানমারি মাঠ সংলগ্ন এলাকার একটি মাদ্রাসায় ঘটনাটি ঘটে।

 

 

অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম (২৬) প্রায় এক মাস আগে মাদ্রাসাটিতে যোগ দেন। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। ‎ ‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জামিয়া কারমিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার অফিস কক্ষে রবিউল ইসলাম এক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বলাৎকারের চেষ্টা করেন। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে অভিযুক্তকে হাতে নাতে আটক করেন।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে অভিযুক্তকে পুলিশ ভ্যানে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থনীয় জনগণ তাকে মাকে চারদিকে থেকে পুলিশের সামনেই মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে মাটিতে ফেলে গণপিটুনি শুরু করে স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশ জনগণের বাধা উপেক্ষা করে পুলিশ ভ্যানে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে সাঘাটা থানায় নিয়ে যান। ‎ ‎প্রত্যক্ষদর্শী মাহাবুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাত্রটির সঙ্গে জোর করে ‘খারাপ’ কাজ করতে শুরু করলে ছাত্রটি চিৎকার করে। পরে স্থানীয়রা টের পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করে এবং গণপিটুনি দেয়।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এলাকাবাসী আটকে রেখেছিল। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

“পানির লাইন মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল বাবা-ছেলের”।

হবিগঞ্জের বাহুবলে নির্মাণাধীন বসতঘরের পানির লাইন মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পর্শে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

মৃতরা হলেন— উপজেলার পূর্ব ভাদেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা আইনউদ্দিন (৫০) ও তার ছেলে রাশেদ মিয়া (১৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজেদের নির্মাণাধীন বসতঘরের পেছনে পানির লাইন মেরামতের জন্য গর্ত খনন করছিলেন বাবা-ছেলে। এ সময় পানি তোলারর জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে সেটি পুনরায় সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। একপর্যায়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হন দুজনই।

পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বাবা ও ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

বাহুবল মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইকতার মিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল পরিদর্শন করে। চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেছেন। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

‘রকস্টার’-এর রেশ কাটতে না কাটতেই ‘সোলজার’ নিয়ে হাজির শাকিব

রকস্টার’-এর সাফল্যের জোয়ারে ভাসতে ভাসতেই ভক্তদের ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ করে দিলেন শাকিব খান। সান মোশন পিকচার্সের প্রযোজনায় খুব শিগগিরই বড় পর্দায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বহুল প্রতীক্ষিত এবং হাই-ভোল্টেজ সিনেমা ‘সোলজার’। সিনেমা হলের এই ব্লকবাস্টার উন্মাদনার মাঝে নতুন এই ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে শাকিবিয়ানদের বাঁধভাঙা উল্লাস।

 

 

রকস্টার’-এর বিশেষ প্রদর্শনী শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেই এই নতুন প্রজেক্ট ও দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন শাকিব খান। ‘সোলজার’ মূলত ‘রকস্টার’-এর আগের ছবি। এর সিংহভাগ শুটিং আগেই শেষ হলেও এতদিন তা আটকে ছিল। তবে সুখবর হলো, ছবিটির কাজ এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে মেগাস্টার জানান, ‘সোলজার’ সিনেমার কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। নতুন এই প্রজেক্টের আপডেট দিয়ে শাকিব খান বলেন, ‘এই বছরই আরেকটি সিনেমা রিলিজ হচ্ছে, সেটিও সান মোশন পিকচার্সের ‘সোলজার’।

কিছুদিনের মধ্যে আমরা এর ক্যামেরা ক্লোজ করব। আবার নতুন করে সোলজার হচ্ছি। সিনেমার বাকি শুটিং দেশের বাইরে সম্পন্ন হবে। খুব শিগগিরই, এই বছরেই ‘সোলজার’ নামের একটি চমৎকার ও সুন্দর ছবি মানুষ দেখতে পাবে।’ কথায় কথায় নিজের রূপালি জগতের রঙিন ও দীর্ঘ ২৭ বছরের পথচলা নিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন এই নায়ক। ক্যারিয়ারের শুরুটা মাত্র তিন মাসের জন্য হলেও, কীভাবে যে প্রায় তিন দশক কেটে গেল, তা ভাবিয়ে তোলে এই তারকাকে।

তার কথায়, ‘আমি এর আগেও বলেছি, এখনো বলছি যখন আমার ক্যারিয়ার শুরু করি, তখন আমি ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট ছিলাম। মাত্র তিন মাসের জন্য (ইন্ডাস্ট্রিতে) এসেছিলাম। কিন্তু কাজের মধ্যে দিয়ে সময়গুলো এমনভাবে পার হয়ে গেছে যে, ২৭ বছর কখন পার হলো টেরো পাইনি। জার্নিটা আসলে অনেক ভালো ছিল।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘তবে অনেক চড়াই-উতরাই যে শুধু আমাদের সিনেমার মানুষ পার করেছে তা না; বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন ক্রাইসিস থাকে, বিভিন্ন কারণে আমাদের পুরো দেশ পিছিয়ে যায়। আবার তার মধ্য দিয়েই সিনেমাকে আমরা সবাই একত্রিত হয়ে, যার যার সক্ষমতা দিয়ে চেষ্টা করি এগিয়ে নিতে।’

 

 

শাকিব সবশেষে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব আমাদের সিনেমা যেন সামনে আরও অনেক দূর এগিয়ে যায়। যে লক্ষ্যে আমরা সবাই কাজ করে যাচ্ছি, আপনারাও সবাই কাজ করে যাচ্ছেন; এত পজিটিভলি কাজ করে যাচ্ছেন।

 

 

সমস্ত নেগেটিভিটি যত আছে, সব নেগেটিভিটিকে পাশ কাটিয়ে আমরা সব পজিটিভ মানুষরা সামনে এগিয়ে যাব। ভালো ভালো কাজ করব। ইনশাল্লাহ, আমাদের দেশের জন্য অনেক ভালো কিছু বয়ে নিয়ে আসব।’

 

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেলের দাম বৃদ্ধি অযৌক্তিক: ভাসানী জনশক্তি পার্টি

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ভাসানী জনশক্তি পার্টি। শুক্রবার (৫ মে) দেওয়া বিবৃতিতে দলটির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু এবং মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিম বলেছেন, ‘দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছার উপক্রম হয়েছে।’

 

 

তারা বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেলের দাম বৃদ্ধি যুক্ত হয়ে জনগণের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দেবে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষে সংসার পরিচালনা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।’

 

 

নেতৃদ্বয় বলেন, ‘বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয়, কৃষি উৎপাদন খরচ এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারের সব পণ্য ও সেবার মূল্যের ওপর। ফলে সাধারণ মানুষ ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।’

তারা বলেন, ‘জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা উচিত। অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে এসে জনবান্ধব নীতি গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে জ্বালানি খাতে দুর্নীতি, অপচয় ও অব্যবস্থাপনা দূর করে জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমানোর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

বিবৃতিতে অবিলম্বে গণশুনানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

এসএসসি পাস হলেই আবেদন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১৯০ পদ খালি

এসএসসি পাসেই কাজের সুযোগ দিচ্ছে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। প্রতিষ্ঠাটির অধীনে বিভিন্ন অফিসগুলোয় ৭টি পদে ১৯০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে ৩ জুলাই বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি—

 

পদের বিবরণ

চাকরির ধরন : অস্থায়ী

 

প্রার্থীর ধরন : নারী-পুরুষ

 

কর্মস্থল : দিনাজপুর

 

বয়স : ৪ জুন ২০২৬ তারিখ ১৮-৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

আবেদন শুরু : ৪ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা

 

আবেদনের শেষ তারিখ : ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকেল ৫টা পর্যন্ত

 

আবেদন পদ্ধতি : অনলাইনে

 

আবেদনের নিয়ম : আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

 

আবেদন ফি : টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি বাবদ ১-৬নং পদের জন্য ১১২ টাকা, ৭নং পদের জন্য ৫৬ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে।

 

রায়গঞ্জে চাতালে বিষাক্ত ঝুট পোড়ানো: ধোঁয়ায় বিপন্ন পরিবেশ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা এলাকায় কয়েকটি চাউল কলে নিষিদ্ধ ঝুট (বস্তার উচ্ছিষ্টাংশ) পোড়িয়ে ধান সিদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে। এতে সৃষ্ট বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা লতিফ সরকার গত ৪ জুন সলঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ঘুড়কা এলাকার শিকদার ও শাপলা চাউল কলে ঝুট পোড়িয়ে ধান সিদ্ধ করা হচ্ছে। তার বাড়ি চাতালের নিকটবর্তী হওয়ায় বিষাক্ত ধোঁয়া ও ছাই সরাসরি বসতঘরে প্রবেশ করছে। ফলে ঘরের আসবাবপত্র, খাবার ও দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্র কালো কালিতে ঢেকে যাচ্ছে।

 

লতিফ সরকার অভিযোগে আরও বলেন, “আমার বৃদ্ধ মা ইতোমধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বারবার ঝুট পোড়ানো বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হলেও সংশ্লিষ্টরা তা আমলে নেননি। বরং আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে।”

 

স্থানীয়দের দাবি, চাতালগুলোতে ঝুট পোড়ানোর সময় সৃষ্ট ঘন কালো ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।

 

এ বিষয়ে এক চাতাল ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, “ঝুট পোড়ানো যে নিষিদ্ধ, তা আমরা জানি। তবে আশপাশের অনেকেই এটি ব্যবহার করেন, তাই আমরাও ব্যবহার করছি।”

 

রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আ ফ ম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “ঝুট পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট কালো ধোঁয়া শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে। এতে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ফুসফুসজনিত বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে। শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চাতালের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

উল্লাপাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাত দশটার দিকে উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের আগদিঘলগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থামথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকার ও সরদার গং এবং প্রামানিক গং এর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জেরে প্রামানিক গোষ্ঠীর নাসির মাস্টারকে গ্রামে ঢুকতে দিত না প্রতিপক্ষরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে নাসির মাস্টার বাড়ি গেলে সরদার ও সরকার গোষ্ঠীর লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নাসিরের লোকজনের উপর হামলা চালায়। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়। হামলা চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট করা হয়। এ ঘটনাশ ৩ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

প্রামাণিক গোষ্ঠীর গৃহবধূ আমিনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, বিরোধের জেরে সরদার ও সরকার গোষ্ঠীর লোকজন তাদের মাঠের ধান কাটতে ও শুকিয়ে ঘরে তুলতে দিচ্ছে না। এমন কি তাদের পরিবারের পুরুষদেরকেও গ্রামে আসতে দিচ্ছে না প্রতিপক্ষরা ।

 

 

সরদার গোষ্ঠীর গৃহবধূ বুলু জানান, তাদের লোকজনকে মারপিট করা হয়েছে এবং নাসির মাস্টার গ্রামের অনেক ক্ষতি করেছে। তাই তাকে গ্রামে জায়গা দেওয়া হবে না।

 

 

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোক্তারুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি মোকাবেলায অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সিরাজগঞ্জে আ. লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৪ নেতা কারাগারে

সিরাজগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৪ নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ওবায়দুল হক রুমি তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

 

এরা হলেন, জেলা মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর উপজেলার বাঐতারা গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন, বাগবাটি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও হরিনা গোপাল গ্রামের মৃত জালাল শেখের ছেলে শুকুর মাহমুদ, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ও ধলডোব গ্রামের মৃত ভোলা শেখের ছেলে ময়নুল হক এবং পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য দত্তবাড়ি মহল্লার মো. রফিকের ছেলে মো. রাব্বি।

 

 

এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ।

 

 

সিরাজগঞ্জ সদর কোর্টের জেনারেল রেজিস্ট্রার অফিসার (জিআরও) জুয়েল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ৪ আওয়ামী লীগ নেতার মধ্যে একজনকে হত্যা মামলায় বাকী তিনজনকে বিস্ফোরক মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বিচারক।

 

 

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে জেলা মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাবেক সংসদ সদস্য জান্নাত আরা হেনরীর বাসায় আগুন দিয়ে দুই ছাত্রকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। বাকী তিনজনকে বিস্ফোরক মামলায় আদালতে পাঠানো হয়।

 

যমুনা সেতু পশ্চিমে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে এখনো যানজট-ধীরগতি

সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে ভোররাতে শুরু হওয়া যানজট এখনো রয়েছে। মাঝে মাঝে ধীরগতিতে চলছে গাড়ী। সেতুর গোলচত্বর থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ঢাকামুখী লেনে যানজট থাকলেও উত্তরবঙ্গগামী লেনে স্বাভাবিক রয়েছে।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) ভোররাতে যমুনা সেতুর উপর একাধিক যানবাহনের দুর্ঘটনা ও বিকল হয়ে পড়া এবং ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপে এই যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

 

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যানজটের তীব্রতা বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে মুলিবাড়ি কড্ডার মোড়, ঝাঐল ওভারব্রীজ ও কোনবাড়ী পার হয়ে নলকার কাছাকাছি গিয়ে ঠেকে এই যানজট। সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়ে রয়েছে যানবাহন।

 

 

এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় তার উপরে যানজট ভোগান্তিতে ফেলেছে কর্মস্থলে ফেরা অসংখ্য যাত্রী সাধারণকে।

 

 

বেলা সাড়ে তিনটার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক প্রণয় কুমার জানান, সেতুর পশ্চিম টোলপ্লাজা থেকে কোনাবাড়ি পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে যানজট রয়েছে। মাঝে মাঝে ধীরগতিতে গাড়ী চলছে। সেতুর টোলপ্লাজায় গাড়ী টানতে পারছে না। তবে উত্তরবঙ্গগামী লেনে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

 

 

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম জানান ঈদের ছুটি শেষে গার্মেন্টসকর্মীরা কর্মস্থলে ফিরছেন। যার ফলে মহাসড়কে চাপ বেড়েছে। ভোররাতে যমুনা সেতুর ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে বাস, প্রাইভেটকার ও ট্রাক তিনটি যানবাহনের সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও বিকল হয়ে পুরো লেন ব্লক হয়ে যায়। অপরদিকে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী লেনে গার্মেন্টসকর্মীদের বহনকারী রিজার্ভ নেওয়া লোকাল লক্কর-ঝক্কর একাধিক গাড়ী বিকল হয়ে পড়ে। এসব কারণে উভয় লেনেই যানজটের সূত্রপাত হয়। রেকার দিয়ে বিকল হওয়া পরিবহণ অপসারণ করার ফাঁকেই যানজটের তীব্রতা বেড়ে যায়।

 

 

সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যানজটের তীব্রতা ছিল। ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আমরা যানজট নিরসনে কাজ করছি।

 

আসুন ব্যক্তিগত উদ্যোগে সবাই ৫টি করে গাছ লাগাই: এমপি কামরুজ্জামান রতন

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় র‌্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে নদী, খাল ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি।
“নদী বাঁচলে বাঁচবে দেশ, নদীমাতৃক বাংলাদেশ” স্লোগানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।
শুক্রবার সকাল ১১টায় উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ডের মোহাম্মদ আলী প্লাজা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্তম্ভ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে র‌্যালির নেতৃত্ব দেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন।
নদী, খাল ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সভাপতি সাহাদাত পারভেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর গিয়াসউদ্দিন, এম. ইসহাক আলী, তপন চৌধুরী, হাসান জাহাঙ্গীর, নুরুল আমিন সরকার, আজিজুল হক পার্থ, আক্তারুজ্জামান শিকদার, আলমগীর হোসেন মিয়া, জাহাঙ্গীর শিকদারসহ স্থানীয় দুই শতাধিক পরিবেশকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মাসুম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন বলেন, পরিবেশ সুরক্ষার প্রশ্নে আমরা দল-মতের ঊর্ধ্বে। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আসুন, আমরা প্রত্যেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অন্তত পাঁচটি করে গাছ রোপণ করি—এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশ ও নদী রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়দের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচি গজারিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

 

যাত্রী সেজে ছিনতাই অটোরিকশা রহস্য উদঘাটন, ৪ জন গ্রেফতার

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া আলোচিত একটি ছিনতাই মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ছিনতাই হওয়া একটি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার রায়গঞ্জ থানা পুলিশের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ৩ জুন বিকেল ৫টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার কালিঞ্জা ব্রিজ এলাকায় পাঙ্গাসী গ্রামের বাসিন্দা মো. রাসেল শেখ (৩৫)-এর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা প্রথমে অটোরিকশাটি ভাড়া করে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে। পরে চালককে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মারধর করে জোরপূর্বক অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রাসেল শেখ বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান -এর নির্দেশনায় রায়গঞ্জ থানার একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মামলার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— পাঙ্গাসী গ্রামের মৃত ইসমাইল শেখের ছেলে মো. আবু রায়হান, একই গ্রামের আ. রশিদ ফকিরের ছেলে রিপন ফকির, নওদা শালুয়া গ্রামের মো. বারেকের ছেলে মো. নাজমুল শেখ এবং সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভাঙ্গাবাড়ী এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে আলী শেখ।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় ছিনতাই হওয়া প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অপরাধ দমনে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তদন্ত শেষে মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

আর্জেন্টিনার ‘কলঙ্কিত ও পাতানো’ প্রথম বিশ্বকাপ জয়

আপডেট টাইম : ০৫:৩৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
১৯৭৮ সালের ২১ জুন, এক থমথমে রাত। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের কুখ্যাত নেভি মেকানিক্যাল স্কুলের এক অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি রাজনৈতিক বন্দি ম্যানুয়েল কালমেস হঠাৎ শুনতে পেলেন পুরো শহরজুড়ে এক গগনবিদারী গর্জন।

 

 

সেখান থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে, এস্তাদিও জিগান্তে দে আরয়িতো স্টেডিয়ামে তখন চলছে বিশ্বকাপের এক ভাগ্যনির্ধারণী ম্যাচ। পেরুর জালে বল পাঠিয়েছে আর্জেন্টিনা। প্রায় আশি হাজার মানুষের সেই উল্লাস রোজারিওর হিমশীতল বাতাস ভেদ করে আছড়ে পড়ল লাতিন আমেরিকার অন্যতম নৃশংস এক টর্চার সেলের দেয়ালে।

 

 

 

ফুটবলপ্রেমী কালমেস বন্দিদশাতেও স্বভাবসুলভভাবেই সেই গোলের আনন্দ উদযাপন করে উঠলেন।

 

 

 

মুহূর্তেই এক জল্লাদ গার্ড তার দিকে ঘুরে তাকাল। হিমশীতল গলায় ফিসফিস করে বলল, ‘ওটাই তোমার জীবনের শেষ গোল, যা তুমি উদযাপন করলে।’

 

 

 

এই একটি বাক্যই আসলে ফুটিয়ে তোলে ১৯৭৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপের আসল আবহ। বাইরের দুনিয়ার কাছে ওটা ছিল ফুটবলের এক বর্ণিল উৎসব, উগ্র জাতীয়তাবাদ আর নান্দনিক বিজয়ের গল্প।

 

 

 

কিন্তু আর্জেন্টিনার ভেতরের গল্পটা ছিল গুম, টর্চার সেল, সেন্সরশিপ আর জেনারেল হোর্হে রাফায়েল ভিদেলার সামরিক স্বৈরশাসনের এক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের দলিল।

 

 

 

১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ কেবল কোনো ফুটবল টুর্নামেন্ট ছিল না। এটি ছিল আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত এক ক্রীড়া প্রদর্শনী। যে মাসে ফুটবল একই সঙ্গে হয়ে উঠেছিল স্বৈরাচারের প্রচারণামূলক হাতিয়ার এবং নৃশংসতা ঢাকার এক রঙিন মুখোশ।

 

 

 

স্বৈরাচারের বুটের নিচে ফুটবল

১৯৬৬ সালে যখন ফিফা আর্জেন্টিনাকে এই বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেয়, তখনো দেশটি সামরিক শাসনের অধীনে যায়নি।

 

 

 

কিন্তু টুর্নামেন্ট যখন শুরু হলো, ততদিনে আর্জেন্টিনা রূপ নিয়েছে এক ভয়ার্ত একনায়কতন্ত্রে। 

 

 

 

১৯৭৬ সালে ক্ষমতা দখল করে জেনারেল ভিদেলার জান্তা সরকার। এরপরই তারা শুরু করে কুখ্যাত ‘ডার্টি ওয়ার’—যার মূল লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, ছাত্র, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের নির্মমভাবে দমন করা। হাজার হাজার মানুষ রাতারাতি উধাও হয়ে যাচ্ছিল। বন্দিশালায় চলত অমানুষিক নির্যাতন। অনেককে ড্রাগ খাইয়ে অজ্ঞান করে সামরিক বিমান থেকে জীবন্ত ফেলে দেওয়া হতো আটলান্টিক মহাসাগরে।

 

 

 

 

ভয়াবহ এই সন্ত্রাসের মধ্যেও জান্তা সরকার ফুটবলের মধ্যে এক দারুণ সুযোগ দেখতে পেয়েছিল।

 

 

 

স্বৈরশাসকেরা সবসময়ই নিজেদের বৈধতা প্রমাণের জন্য মরিয়া থাকে, আর বিশ্বকাপ ছিল তার মোক্ষম হাতিয়ার। আর্জেন্টিনা যদি সফলভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং জয় করতে পারে, তবে বিশ্বমঞ্চে তারা নিজেদের খুনে শাসক হিসেবে নয়, বরং জাতীয় গৌরব ও স্থিতিশীলতার রক্ষক হিসেবে জাহির করতে পারবে। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ‘স্পোর্টসওয়াশিং’ শব্দটা জনপ্রিয় হওয়ার বহু আগেই এই জেনারেলরা বুঝে গিয়েছিলেন, ফুটবলের জয় মানুষের স্মৃতিতে সাময়িক বিস্মৃতি বা ‘ইমোশনাল অ্যামনেসিয়া’ তৈরি করতে পারে।

 

 

 

এক মিথ্যা ভ্রমের দেয়াল

বিশ্বকাপের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে জান্তা সরকার বিপুল অর্থ ঢেলেছিল। বুয়েনস আইরেসে আসা বিদেশী সাংবাদিকদের দেখানো হতো সুপরিকল্পিত দেশপ্রেমের দৃশ্য। স্টেডিয়ামের আশেপাশের বস্তিগুলোকে লুকিয়ে ফেলা হয়েছিল বড় বড় রঙিন দেয়াল দিয়ে। কুখ্যাত বন্দিশালাগুলো থেকে রাজনৈতিক বন্দিদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল দূরের দুর্গম ক্যাম্পে। আন্তর্জাতিক মহলের যেকোনো সমালোচনাকে উড়িয়ে দেওয়া হতো ‘আর্জেন্টিনা-বিরোধী অপপ্রচার’ বলে।

অথচ, উৎসবমুখর স্টেডিয়ামগুলো থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে টর্চার সেলগুলোতে বন্দিদের ওপর নির্যাতন চলত অবিরাম।

পরিস্থিতিটা ছিল পরাবাস্তব বা সুরিয়ালিস্টিক। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের ভেতরে যখন কনফেত্তি আর গগনবিদারী স্লোগানে জাতীয় দলকে বরণ করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই স্টেডিয়ামের বাইরে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে হন্যে হয়ে কাঁদছিল হাজারো পরিবার।

বিখ্যাত লেখক পাবলো ইয়োন্তো সেই গুমোট পরিস্থিতিকে বর্ণনা করেছিলেন এক নির্মম সত্য দিয়ে। তিনি বলেন, ‘লাখো মানুষ সরকারের তৈরি করা সেই ধারণার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল—যেখানে মাঠের জয়কে দেখানো হচ্ছিল এক শান্তিময় দেশের বিজয় হিসেবে।’

 

 

 

পেরু ম্যাচ এবং ৬-০ গোলের সেই কালো রাত

১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপের ফরম্যাটটাই এমন ছিল যা সন্দেহের সব দুয়ার খুলে দিয়েছিল। আধুনিক নকআউট পর্বের মতো তখন সেমিফাইনাল ছিল না। শেষ আটটি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হতো, আর দুই গ্রুপের দুই চ্যাম্পিয়ন সরাসরি খেলত ফাইনাল। আর্জেন্টিনার গ্রুপে ছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল। শেষ ম্যাচের আগে ব্রাজিল তাদের সব খেলা শেষ করে ফেলায় সমীকরণ দাঁড়িয়েছিল একদম পরিষ্কার।

 

 

ব্রাজিলকে গোল ব্যবধানে পেছনে ফেলে ফাইনালে যেতে হলে পেরুর বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে জিততেই হতো অন্তত ৪-০ গোলের ব্যবধানে।

 

 

সাধারণত ফিক্সচারের এই সুবিধা বন্ধ করতে সমসাময়িক সময়ে একই সঙ্গে ম্যাচ আয়োজন করা হয়। কিন্তু ফিফা কয়েক মাস আগেই সম্প্রচারস্বত্ব আর টিকিট বিক্রির অজুহাতে আর্জেন্টিনার ম্যাচটি পরে আয়োজন করতে রাজি হয়। ফলে মাঠের নামার আগেই মেনোত্তির দল জানত তাদের ঠিক কী করতে হবে।

 

 

এরপর যা ঘটেছিল, তা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ম্যাচ হিসেবে আজো কুখ্যাত। যে পেরু দলকে তখন লাতিন আমেরিকার অন্যতম সেরা রক্ষণভাগের দল ধরা হতো, যারা আগের ৫ ম্যাচে মাত্র ৬টি গোল হজম করেছিল, তারা সেই রাতে মাঠে যেন স্রেফ পুতুল হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। আর্জেন্টিনাকে কোনো বাধাই দিল না তারা। ম্যাচটি আর্জেন্টিনা জিতে একেবারে ৬-০ গোলের ব্যবধানে!

 

 

ম্যাচের এই অবিশ্বাস্য ফল রাতারাতি বিশ্বজুড়ে সন্দেহের ঝড় তোলে।

 

 

ড্রেসিংরুমে স্বৈরশাসক ভিদেলা ও কিসিঞ্জার

ম্যাচের বাঁশি বাজার ঠিক কয়েক মিনিট আগে পেরুর ড্রেসিংরুমে ঘটেছিল এক নজিরবিহীন ঘটনা। হঠাৎ করেই পেরুর ড্রেসিংরুমে হাজির হন স্বয়ং আর্জেন্টিনার একনায়ক জেনারেল ভিদেলা এবং আমেরিকার সাবেক সেক্রেটারি অব স্টেট হেনরি কিসিঞ্জার। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভিদেলা পেরুর খেলোয়াড়দের সামনে দুই দেশের ‘ভ্রাতৃত্বের’ বাণী শোনান, যা ছিল আসলে পেরুর তৎকালীন স্বৈরশাসক ফ্রান্সিসকো মোরালেস বারমুদেজের পক্ষ থেকে এক পরোক্ষ বার্তা।

কাগজে-কলমে এটি কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ বলা হলেও, খেলোয়াড়দের জন্য তা ছিল স্পষ্ট এক রাজনৈতিক হুমকি বা মনস্তাত্ত্বিক চাপ।

পরবর্তী দশকগুলোতে পেরুর অনেক খেলোয়াড় স্বীকার করেছেন যে, সেই ম্যাচের আগে তাদের ঘুষ দেওয়া হয়েছিল, রাজনৈতিক চাপ দেওয়া হয়েছিল, এমনকি পরোক্ষ প্রাণনাশের হুমকিও ছিল। যদিও অনেকে তা অস্বীকার করে দলের ক্লান্তি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করেছেন।

কিন্তু এর পেছনের রহস্য কখনো ঢাকা পড়েনি। বিশ্বকাপের ঠিক পরপরই আর্জেন্টিনা কোনো কারণ ছাড়াই পেরুকে ৩৫ হাজার টন শস্য সাহায্য পাঠায় এবং পেরুর ফ্রিজ হয়ে থাকা মিলিয়ন ডলারের আর্থিক তহবিল অবমুক্ত করে দেয়। আরও ভয়াবহ তথ্য হলো, লাতিন আমেরিকার স্বৈরশাসকদের মধ্যকার কুখ্যাত ‘অপারেশন কনডর’ এর অধীনে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বন্দি বিনিময়ের চুক্তিও হয়েছিল এই ম্যাচের বিনিময়ে।

পেরুর সিনেটর জেনারো লেদেসমা পরবর্তীতে আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছিলেন, দুই সরকারের মধ্যে গোপন চুক্তি হয়েছিল—পেরু আর্জেন্টিনাকে প্রয়োজনীয় গোল ব্যবধানে জিততে দেবে, আর বিনিময়ে ভিদেলা সরকার বারমুদেজের স্বৈরাচারী সরকারকে রাজনৈতিক ও সামরিক সুবিধা দেবে।

 

 

 

খেলোয়াড়েরা বীর নাকি স্রেফ দাবার ঘুঁটি?

১৯৭৮ সালের এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি লুকিয়ে আছে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আত্মগ্লানির মধ্যে। তারা কি এই নোংরা রাজনৈতিক খেলার অংশ ছিলেন? নাকি তারা ছিলেন বিশাল এক দানবীয় মেশিনের ভেতরে আটকে পড়া নিরীহ কিছু ফুটবলার?

পরবর্তীতে আর্জেন্টিনার অনেক খেলোয়াড়ই স্বীকার করেছেন, খেলার সময় তারা কিছু না বুঝলেও, পরে তারা বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছেন যে পেরু ম্যাচটি আগে থেকেই সাজানো ছিল।

দলের অন্যতম স্ট্রাইকার লিওপোল্ডো লুকে বছরের পর বছর পর আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘আজ আমি যা জানি, তারপর বুক ফুলিয়ে বলতে পারি না যে আমি ওই বিজয়ের জন্য গর্বিত। কিন্তু তখন আমরা কিছুই জানতাম না। আমরা স্রেফ ফুটবল খেলেছিলাম।’

মিডফিল্ডার রিকার্ডো ভিলা তো আরও সরাসরি বলেছিলেন, ‘এ নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই যে, আমাদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল।’

এই কথাগুলোই আসলে সেই বিশ্বকাপের নৈতিক জটিলতাকে ফুটিয়ে তোলে। ফুটবলাররা কোনো জেনারেল ছিলেন না, তারা কাউকে টর্চারও করেননি। কিন্তু তাদের পায়ের জাদু আর ঘাম আলটিমেটলি ব্যবহৃত হয়েছিল এক খুনে শাসকের প্রোপাগান্ডা মেশিনের জ্বালানি হিসেবে।

 

 

রক্তের দাগ লাগা এক ট্রফি

ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরে আর্জেন্টিনা।

বুয়েনস আইরেসের রাস্তায় নেমেছিল লাখো মানুষের ঢল। তবে মজার বিষয় হলো, মানুষ স্বৈরশাসককে নয়, উদযাপন করছিল তাদের ফুটবল দলকে। সামরিক জান্তা এই জয়ের আবেগকে নিজেদের পক্ষে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও, ফুটবলের শক্তি স্বৈরাচারের চেয়েও বড় প্রমাণিত হয়েছিল।

সাময়িকভাবে এই বিশ্বকাপ ভিদেলা সরকারকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল এবং দেশের ভেতরে এক ভুয়া একতার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছিল। কিন্তু ফুটবল কখনোই একটা রাষ্ট্রের ভেতরের রক্তপাতকে চিরতরে আড়াল করতে পারে না। মাত্র পাঁচ বছর পর, ফকল্যান্ডস যুদ্ধে লজ্জাজনক পরাজয় এবং জনগণের তীব্র ক্ষোভের মুখে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে সেই সামরিক একনায়কতন্ত্র।

বিশ্বকাপ স্বৈরাচারকে কিছুটা সময় বা প্রচারের আলো হয়তো দিয়েছিল, কিন্তু চিরস্থায়ী করতে পারেনি।

 

 

 

ইতিহাসের সবচেয়ে ‘অভিশপ্ত’ ট্রফি

প্রায় অর্ধশতাব্দী পার হয়ে গেলেও, ১৯৭৮ সালের আর্জেন্টিনার সেই প্রথম বিশ্বকাপ জয় আজও গৌরব আর গ্লানির এক দোলাচলে দুলছে। খাতায়-কলমে এটিই আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা, যে গৌরবের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনা এবং ২০২২ সালে লিওনেল মেসি বিশ্বজয় করেছেন। কিন্তু পরের দুটি জয় আর ১৯৭৮ সালের জয়টি এক নয়। এর গায়ে লেগে আছে এক দীর্ঘ, অন্ধকার ছায়া।

ফিফা বা কোনো অফিসিয়াল তদন্ত কমিটি কখনোই পেরু ম্যাচের ফিক্সিংয়ের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণ করেনি, হয়তো তারা এই প্যান্ডোরার বাক্স আর খুলতে চায়নি। বহু প্রশ্নের উত্তর আজও মেলেনি।

তবে আসল কেলেঙ্কারিটা কিন্তু একটা ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চেয়েও অনেক বড়। আসল কেলেঙ্কারি হলো, যে শাসনব্যবস্থা গুম, খুন আর নির্যাতনের জন্য দায়ী ছিল, তারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসবকে নিজেদের রাজনৈতিক বৈধতার থিয়েটার বানিয়ে ফেলেছিল।

গ্যালারি পূর্ণ ছিল, পতাকা উড়ছিল, গগনবিদারী চিৎকারে কাঁপছিল স্টেডিয়াম। আর পর্দার আড়ালে স্বৈরশাসকেরা কান খাড়া করে সেই চিৎকার শুনছিল এই আশায় যে, ফুটবলের এই উন্মাতাল উল্লাস যেন রাজপথের সব আর্তনাদ আর রক্তের দাগকে চিরতরে ধুয়েমুছে সাফ করে দেয়!

সুত্র: দৈনিক কালের কণ্ঠ

 

জাতীয় সংকট নিরসনে সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত: অর্থ উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে সরকার। এ উপলক্ষ্যে নতুন অর্থবছরের বাজেটে ‘রিকভারি ও রিকনসিলিয়েশন’ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

 

 

শনিবার (৬ জুন) ‘সংকট মুহূর্তের বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

অধ্যাপক তিতুমীর জানান, নতুন অর্থবছরের বাজেটে ৬০ হাজার কোটি টাকার ‘রিকভারি ও রিকনসিলিয়েশন’ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের আধুনিক স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের আরো কাছে পৌঁছে দিতে জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও কার্যক্রম চলমান। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কৃষি খাতে অর্থায়ন বৃদ্ধি, শিল্পভিত্তিক বাজেট প্রণয়ন, তেল ও বিদ্যুৎ খাতের চ্যালেঞ্জ, পরিবেশগত সংকট, রেমিট্যান্সপ্রবাহ এবং আমদানি-রপ্তানি খাতের প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এছাড়া আলোচনায় টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা ও বাস্তবমুখী নীতিমালা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

বিশ্বকাপ সম্প্রচারে বড় বিনিয়োগ, ৩২০ কোটিতে স্বত্ব কিনল চ্যানেল

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবারের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ভারতে সরাসরি সম্প্রচারের অফিশিয়াল ঘোষণা এসেছে। আর এই মহাযজ্ঞের সম্প্রচার স্বত্ব কিনে নিয়েছে ভারতীয় মিডিয়া জায়ান্ট ‘জি এন্টারটেইনমেন্ট এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড।

 

 

টেলিভিশন পর্দায় খেলা দেখানোর জন্য জি গ্রুপ তাদের নতুন চারটি স্পোর্টস চ্যানেল ব্যবহার করবে। অন্যদিকে অনলাইন ও মোবাইলে খেলাগুলো সরাসরি লাইভ-স্ট্রিমিং করা যাবে জি ফাইভ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে।

 

 

আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশ্বকাপ। খেলা শুরু হতে যখন দুই সপ্তাহেরও কম সময় বাকি, ঠিক তখনই এই বড় চুক্তিটি সম্পন্ন হলো। এবারের আসরটি হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট, যেখানে ৪৮টি দল অংশ নেবে এবং মোট ১০৪টি ম্যাচ খেলা হবে।

আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির আর্থিক অঙ্ক প্রকাশ করা না হলেও, বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে যে চুক্তিটি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিলিয়ন ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩২০ কোটি রুপি) মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

ফিফা শুরুতে ভারতের বাজারের জন্য এই স্বত্বের মূল্য নির্ধারণ করেছিল প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। তবে বেশিরভাগ ম্যাচ ভারতের সময় অনুযায়ী মধ্যরাতের পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় দর্শক সংখ্যা কিছুটা কম হওয়ার আশঙ্কায় বড় বড় মিডিয়া গ্রুপগুলো শুরুতে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি।

 

পরবর্তীতে ফিফা তাদের দাম কমিয়ে ৩৫ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনে। উল্লেখ্য, ২০১৪ ও ২০১৮ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ব্রডকাস্টার ‘সনি’ এবার এই দৌড় থেকে আগেই ছিটকে গিয়েছিল। অন্যদিকে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ দেখানো রিলায়েন্সের মালিকানাধীন ‘জিওস্টার’ এই স্বত্বের জন্য মাত্র ২০ মিলিয়ন ডলার বিড করেছিল। সেই সুযোগেই বাজিমাত করলো জি নেটওয়ার্ক।

 

 

দেশে হাম পরিস্থিতির অবনতি, ৩ শিশুর মৃত্যু ও নতুন আক্রান্ত ১,০৩২

দেশে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৩২ শিশু।

 

 

শনিবার (৬ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে ঢাকায় দুই শিশু এবং সিলেটে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে ৫২২ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯১ শিশু। ফলে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১৩ জনে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ৭৭ হাজার ৭৯১ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ৬৩ হাজার ১৩৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৮ হাজার ৯৬৪ শিশু।

এ ছাড়া, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৯ হাজার ৬২০ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

 

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হামের বিস্তার রোধে শিশুদের সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

কুড়িগ্রামে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র‍্যালি।

কুড়িগ্রামে ডেঙ্গু রোগে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা অবলম্বন করার লক্ষ্যে জেলা সিভিল সার্জনের উদ্যোগে র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার ৬ জুন সকাল ১০ টার সময় কুড়িগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে এ র‍্যালি বের হয়। পরে কুড়িগ্রাম জেলা শাপলা চত্বর হয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল থেকে পুনরায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ে গিয়ে র‍্যালি সমাপ্ত করা হয়।
জেলায় ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি এবং রোগ নির্মূলে জেলায় সতর্ক থাকার বিষয়ে র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এবং ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সচেতনতা বৃদ্ধি করার বিষয় উল্লেখ করা হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন, কুড়িগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ স্বপন কুমার বিশ্বাস, কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ নুর নেওয়াজ, কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের বক্ষব্যাধী বিশেষজ্ঞ ডাঃ সাদিকুর রহমান, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের MODC ডাঃ আর রাফি তামজিদসহ সদর হাসপাতাল নার্স এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারিবৃন্দ।
র‍্যালি শেষে সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আতঙ্কিত নয় সচেতনতায় জয় বলে অনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

 

স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে সলঙ্গায় দই-মিষ্টি উৎপাদন, নেই বিএসটিআই অনুমোদন

সরকারি কোনো অনুমোদন ও লাইসেন্স ছাড়াই সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে দই এবং মিষ্টি উৎপাদন করে তা অবাধে বিক্রি করছে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার রামারচর এলাকার ‘রয়েল রূপালী হোটেল’।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর কোনো প্রকার ছাড়পত্র বা মান সনদ না নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামারচর বাজারের রয়েল রূপালী হোটেলের কারখানায় অত্যন্ত নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে দই-মিষ্টি তৈরি করা হচ্ছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্যবিধির ন্যূনতম কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। উন্মুক্ত স্থানে মাছি ও ধুলোবালির মধ্যেই মিষ্টিজাতদ্রব্য তৈরি ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ।
​নিয়ম অনুযায়ী, দই ও মিষ্টির মতো দুগ্ধজাত খাবার তৈরি ও বাজারজাতকরণের জন্য বিএসটিআই-এর বাধ্যতামূলক মান সনদ (সিএম লাইসেন্স) প্রয়োজন হয়।
কিন্তু রয়েল রূপালী হোটেল কর্তৃপক্ষ সমস্ত নিয়মনীতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করছে। মহাসড়ক ও স্থানীয় এলাকার সাধারণ ক্রেতারা না জেনে এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার কিনে প্রতারিত হচ্ছেন এবং ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং-সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন।
​স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির অভাবেই সলঙ্গার রামারচরের এই হোটেলটি দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স ছাড়া ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করে আসছে।
জনস্বার্থ রক্ষায় অনতিবিলম্বে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বিএসটিআই-এর যৌথ উদ্যোগে এই হোটেলের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এবিষয়ে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সোহেল শেখ জানান, বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়া দই-মিষ্টি উৎপাদন করার কোন সুযোগ নেই, অতি দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

জামায়াতের মেয়র প্রার্থীর মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি আ’লীগ নেতা

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের মনোনীত মেয়র প্রার্থী  মাহবুব আলমের সাথে অত্র এলাকাবাসী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় জামায়াতের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী মতবিনিময় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর প্রথম দিনে উপজেলার শেরনগর দারুল মা’হাদ মডেল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতার নাম আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ খাঁন। তিনি বেলকুচি পৌর আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি পদে আছেন।

বিশিষ্ট সমাজ সেবক আলহাজ্ব আশরাফ আলী প্রামাণিকের সভাপতিত্বে সভায় আরোও বক্তব্য রাখেন, শেরনগর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফুদ্দিন আনসারী, মুকুন্দগাঁতী বাজার বণিক সমিতি সহ- সভাপতি মহর আলী প্রামাণিক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মান্নান,রিপন সরকার প্রমুখ।

 

রাজারহাটে পিক-আপচাপায় প্রাণ গেল বাবা-ছেলের

রাজারহাটে একটি মাছবহনকারী পিকআপ ভ্যানের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা-ছেলে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে রাজারহাট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন মোঃ দুলু মিয়া ও বাবা সিদ্দিক শেখ। দুর্ঘটনার পরপরই বাবা-ছেলে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাদের নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও রক্ষা হয়নি বাবা ছেলের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত দুই ব্যক্তি কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট সীমান্তে বোগমারী পঞ্চগ্রাম এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। তারা উভয়ে বাবা-ছেলে। স্থানীয়রা আরও জানান, তারা সকালে মোটরসাইকেল করে যাওয়ার পথে বিপরিত দিক থেকে একটা মাছবহনকারী পিকআপ ভ্যানের সাথে মোটরসাইকেল সংঘর্ষ হয়। এতে করে মোটরসাইকেল দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এবং বাবা ছেলে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে বাবা সিদ্দিক শেখ এবং ছেলে দুলু মিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে ছেলে দুলু মিয়া কে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলে দুলু মিয়া কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
ছেলের মৃত্যুর পর বাবা সিদ্দিক শেখের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। জানা যায়, নিহত সিদ্দিক শেখের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সরাসরি চিকিৎসার জন্য রংপুরের উদ্দেশ্যে নেওয়া হলে পথিমধ্যে তারও মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
এ বিষয় রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থরে যাওয়ার আগেই পিকআপ ভ্যানটি পালিয়ে গেছে। এ বিষয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ঢাকা এখন আর বাসযোগ্য নয় বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল

 

ঢাকার বায়ু, পানি ও পরিবেশদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় রাজধানীকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। ইদানীং তার মনে হচ্ছে তিনি এ শহরে থাকবেন না। ঢাকা ছেড়ে তিনি দেশের অন্য এক শহরে গিয়ে বসবাস করবেন।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘দক্ষিণের জানালা’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি তার মনের এ কথা জানান।

 

 

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঢাকা শহরে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও নগরবাসী কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাসযোগ্য নগর গড়তে কার্যকর পরিকল্পনা, জবাবদিহি ও কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ফখরুল বলেন, প্রকল্প নেওয়ার আগে বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এগোনো দরকার।

মন্ত্রী বলেন, আজকাল আমার নিজেরই মনে হয় যে আমি ঢাকা শহরে থাকব না; আমি আমার দেশের অন্য শহরে গিয়ে থাকব। কারণটা হচ্ছে, এটা আর বাসযোগ্য মনে হয় না।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, আপনি ঘর থেকে বের হলেই যে বাতাস গ্রহণ করেন, সেটাও দূষিত। আপনি যদি একটি সরকারি হাসপাতালে যান, সেখানে ঢোকাই যায় না। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। সেই অবস্থা থেকে যদি আমরা বের হতে না পারি, প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামনে এগিয়ে আনতে না পারি, তাহলে এতক্ষণ যে স্বপ্নের কথা বলা হলো, সেগুলো স্বপ্নই থেকে যাবে। কারণ আমরা কি সত্যিই সেই মুক্ত বাতাস নিতে পারব?

 

 

মানুষ যাতে আরও দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারে, সে জন্য বিশুদ্ধ বাতাস নিশ্চিত করা এবং বাসযোগ্য শহর ও নগর গড়ে তোলার আন্দোলন প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ নগরবাসীকে আলোড়িত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বিএনপির মহাসচিব।

 

 

 

এলজিআরডি মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু নাগরিকদের সচেতন করলেই হবে না। যারা নীতিনির্ধারণ করছেন, ঢাকা শহর পরিচালনা করছেন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

 

 

 

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন স্থানীয় সরকারের একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন নগর নির্বাচিত মেয়র ও স্বশাসিত করপোরেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে আরও গভীর চিন্তা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

 

 

 

ঢাকার পরিবেশ ও নদী দূষণের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, কলেজ জীবনে আমরা প্রায়ই বুড়িগঙ্গায় নৌকায় চড়ে ঘুরতে যেতাম। কিন্তু এখন সেই নদীর কাছেও যাওয়া যায় না। এত দূষিত, এত দুর্গন্ধ। আমার কাছে মনে হয়, ঢাকা শহরের অনেক সমস্যার মূলেই বোধহয় এই বুড়িগঙ্গা। বুড়িগঙ্গার পানি আজ যে অবস্থায় আছে, শীতলক্ষ্যাও প্রায় একই অবস্থার দিকে যাচ্ছে। তাহলে ঢাকা শহরের নাগরিকরা যাবে কোথায়?

 

 

 

তিনি বলেন, চলমান উদ্যোগগুলোর পাশাপাশি কাঠামোগত পরিবর্তনও প্রয়োজন। পরিকল্পনা সঠিকভাবে নিতে হবে এবং ‘প্রকল্প শেষ তো সব শেষ’, এমন পরিস্থিতি যেন না হয়।

 

 

 

ঢাকা শহরের পানির অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ‘ঢাকা শহরের পানির অবস্থা খুবই ভয়াবহ। একটি বড় অংশের পানি পানযোগ্য নয়। আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাচ্ছে। এটি ঢাকার জন্য একটি ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে।

 

 

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, ‘নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এত প্রকল্প হয়, কিন্তু বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করার কোনো কার্যকর প্রকল্প তৈরি হয় না। আমি চেষ্টা করব এ বিষয়ে আলোচনা করে আমরা বুড়িগঙ্গাকে ঠিক করতে পারি কি না, তুরাগকে ঠিক করতে পারি কি না— সেসব বিষয় দেখতে হবে।’

 

 

আ.লীগের দুর্নীতির খেসারত দিচ্ছে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত: তথ্য উপদেষ্টা

 

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চুরি ও অর্থপাচারের কারণেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে চাপে জনগণ বলে অভিযোগ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

 

 

 

শনিবার (০৬ জুন) সকালে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের সময়ে যে চুরি ও অর্থপাচার হয়েছে, তার আর্থিক বোঝা বর্তমান সরকারকেও বহন করতে হচ্ছে। তবে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষকে সুরক্ষা দিতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

 

জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতির চক্র থেকে পুরোপুরি বের হয়ে আসা সহজ নয় এবং এ প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে।

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করলেও সরকারের অনুরোধে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থাৎ এসব গ্রাহককে অতিরিক্ত কোনো মূল্য পরিশোধ করতে হবে না।

 

 

তিনি আরও বলেন, একই বিবেচনায় অকটেন ও পেট্রোলের দাম বাড়ানো হলেও ডিজেলের মূল্য দ্বিতীয় দফায় বাড়ানো হয়নি।

 

 

 

ডা. জাহেদ অভিযোগ করেন, অতীতে কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে দেশের বিদ্যুৎ খাতকে আমদানিনির্ভর করে রাখা হয়েছিল, যার প্রভাব এখনো অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে বিদ্যমান।

 

 

বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই যমুনায় তীব্র ভাঙন

 

একদিনের মধ্যেই মোল্লা সাইফুল ইসলামের বাড়িটি গিলে নিলো প্রমত্তা যমুনা। ভুমিহীন সাইফুলের বাড়িটাই ছিল সম্বল। অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা সাইফুলকে চোখের পলকেই নিঃস্ব করে দিলো যমুনা।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ এলাকায় সাইফুলের বাড়িটি যমুনাগর্ভে বিলিন হয়। শুধু সাইফুল নয়, গত তিন সপ্তাহে চৌহালী উপজেলার ৫-৭টি গ্রামের বেশ কিছু বাড়িঘর, ফসলী জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।

 

 

 

মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বর্ষণে যৌবন ফিরে পেয়েছে যমুনা। যমুনার উত্তাল ঢেউ তীরবর্তী মানুষগুলোর আতংক বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে টানা বর্ষণের কারণে যমুনার পানি দ্রুতগতিতে বাড়তে শুরু করে। মাঝখানে সামান্য কমে আবারও বাড়তে শুরু করে। তবে এখন পর্যন্ত বিপৎসীমার নিচেই রয়েছে। এরই মধ্যে দুদিন ধরে ফের কমতে শুরু করেছে যমুনার পানি।

 

 

 

আর যমুনার পানি হ্রাস-বৃদ্ধির দোলাচলে চরাঞ্চল ও পূর্বতীরে শুরু হয়েছে ভাঙন। ফলে বর্ষাকাল শুরুর আগেই এসব অঞ্চলের মানুষের কাছে আতংক হয়ে দাঁড়িয়েছে যমুনা।

 

 

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভাঙন কবলিতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নদীর পূর্বপার চৌহালী উপজেলার খাস কাউলিয়া ইউনিয়নের ভুতের মোড়, বাগুটিয়া ইউনিয়নের বিনানুই, রেহাই পুখুরিয়া, দেওয়ানগঞ্জ বাজার, চর সলিমাবাদসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এসব অঞ্চলের ঘরবাড়ি, ফসলী জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছে শত শত বসতবাড়ি, ফসলী জমি, হাটবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

 

 

 

বাগুটিয়া ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর বাবুল সরকার বলেন, চর বিনানুই নদীর পশ্চিম পাশে চার জায়গায় একশো ফিট এলাকার জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী চর সলিমাবাদ গ্রামের মোল্লা সাইফুল ইসলামের বাড়িটি চোখের পলকেই যমুনায় চলে গেছে।

 

 

 

একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর মতিউর রহমান বলেন, রেহাই পুখুরিয়া ও দেওয়ানগঞ্জ বাজারের উত্তরপাশে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। অনেক জমি নদীতে চলে গেছে। এখানকার মানুষ খুব আতংকের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।

 

 

 

৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর আব্দুস সালাম বলেন, চর সলিমাবাদ বাজার এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। দুই সপ্তাহে ৩০টিরও বেশি বাড়ীঘর নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। এ এলাকার অসংখ্য মানুষ ভাঙন আতংকে রয়েছে।

 

 

 

এদিকে জেলার চরাঞ্চল কাজিপুর উপজেলার খাস রাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, সদর উপজেলার কাওয়াকোলা, চৌহালীর ঘোড়জান, শাহজাদপুরের গালা, সনাতনী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামেও তীব্র নদী ভাঙন শুরু হয়েছে।

 

 

 

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, গত ১৪ মে থেকে যমুনার পানি বাড়া শুরু করে। দ্রুত গতিতেই বাড়ছিল পানি। তবে বুধবার থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, পানি বাড়লেও বিপৎসীমার অনেক নীচে রয়েছে।

 

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, জুন মাসের দিকে যমুনায় পানি বাড়তে শুরু করে। পানি বাড়তে থাকলে তীরবর্তী অঞ্চল ও চরাঞ্চলে ভাঙন দেখা দেয়। আমরা বেশ কিছু জায়গায় ভাঙনের খবর পেয়েছি। চৌহালী উপজেলার ভূতের মোড় এলাকার নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেখানে বালুভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। আর চরাঞ্চলের ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোন নির্দেশনা নেই, এ জন্য সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

 

তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং সীমান্ত পরিস্থিতির প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক

 

তেল-গ্যাস এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও সীমান্তে পুশইনের প্রতিবাদে আগামীকাল রোববার (৭ জুন) বাদ আসর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।

 

 

 

গত শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ঢাকাস্থ নির্বাহী সদস্যদের এক জরুরি পরামর্শ সভায় সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়। শনিবার (৬ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

 

 

 

পরামর্শ সভায় সভাপতিত্ব করেন- দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। এতে উপস্থিত ছিলেন- নায়েবে আমীর মাওলানা কুরবান আলী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতী শরাফত হুসাইন, মাওলানা তাফাজ্জল হুসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশিদ ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হুসাইন রাজী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুরশেদুল আলম সিদ্দিকী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা সানাউল্লাহ আমিনী, সহ-সভাপতি মাওলানা আতিকুল্লাহ, যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান, যুবনেতা আল আবিদ শাকের এবং খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

সভায় মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও দেশে বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। একদিকে বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হলেও, অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বেড়ে যাচ্ছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী এবং জনগণের সঙ্গে প্রকারান্তরে প্রতারণার শামিল।

 

তিনি আরও বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের পুশইন ও হয়রানির ঘটনা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক মর্যাদার জন্য উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

 

তিনি অবিলম্বে বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের মূল্য হ্রাস এবং সীমান্তে পুশইনের ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে আগামীকালের বিক্ষোভ কর্মসূচি সফল করতে সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

 

 

 

সভায় ঈদযাত্রায় সারা দেশে নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জাতীয় উৎসবগুলোতে অব্যবস্থাপনার কারণে কোনো পরিবার যেন দুর্ঘটনা ও ভোগান্তির শিকার না হয়, সে লক্ষ্যে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

 

 

৭৫ ইউনিটের মধ্যে ব্যবহারকারীদের বাড়তি বিল গুনতে হবে না: তথ্য উপদেষ্টা

 

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, মাসে শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না। ফলে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিপুল সংখ্যক গ্রাহক সরাসরি উপকৃত হবেন।

 

 

 

শনিবার (০৬ জুন) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

 

 

 

ডা. জাহেদ বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) শুনানির মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেও সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রায় ৬৫ শতাংশ গ্রাহকের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের বর্তমান দাম অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ এসব গ্রাহককে অতিরিক্ত কোনো মূল্য পরিশোধ করতে হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অতীত সরকারের আমলে সংঘটিত দুর্নীতি, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রভাব বর্তমান সরকারকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, সরকার একদিকে দুর্নীতির চক্র ভাঙতে কাজ করছে, অন্যদিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। আগের সরকারগুলো উৎপাদনমুখী অর্থনীতির পরিবর্তে আমদানিনির্ভর নীতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হয়েছে।

 

 

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ১৮ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কের যমুনা সেতু এলাকা থেকে রসুলপুর পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন) সকালে সেতুর উপর ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়। যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এতে মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যানজটের কারণে অনেক যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে আটকে রয়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

 

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. শরীফ জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ও সেতুর ওপর গাড়ি বিকল হ‌ওয়ায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে তবে যানবাহনগুলো দ্রুত সরিয়ে নিতে কাজ চলছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।

 

 

শান্তিরক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি, জাতিসংঘ পদক পেলেন ৬ বাংলাদেশি

 

আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করা ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের অনুষ্ঠানে তাদের এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

 

 

সাহস, আত্মত্যাগ ও পেশাগত নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে প্রাপ্ত এই পদক বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদানের আরেকটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন) নিউইয়র্কের জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এ তথ্য জানিয়েছে।

 

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিহত শান্তিরক্ষীদের পক্ষ থেকে পদকগুলো জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর হাতে তুলে দেন।

 

আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় তাদের সাহস, আত্মত্যাগ এবং নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

 

সম্মাননাপ্রাপ্ত শান্তিরক্ষীরা হলেন— কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট সান্তো মণ্ডল।

 

 

 

২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘের আবেই অঞ্চলের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে দায়িত্ব পালনকালে এক ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব ১৯৪৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালনের সময় নিহত প্রায় চার হাজার ৫০০ শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এ সময় তিনি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন মিশনে কর্মরত ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষীর অবদানের কথাও তুলে ধরেন।

 

 

 

চলতি বছর ৩৩টি সদস্য রাষ্ট্রের ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়।

 

 

 

অনুষ্ঠান শেষে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক বইতে স্বাক্ষর করেন।

 

 

 

ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক প্রবর্তিত একটি মরণোত্তর সম্মাননা, যা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনের সময় নিহত সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের অবদান ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয়।

 

 

সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আটকে থাকা ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকার শূন্য রেখায় থাকা নারী-পুরুষ এবং শিশুসহ সেই ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিয়েছেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা।

 

 

 

পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ১৯ ঘণ্টা পর শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১টার দিকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যায় তারা।

 

 

 

শনিবার (৬ জুন) সকালে নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাধার মুখে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় প্রশংসায় ভাসছে বিজিবি।

 

এর আগে শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ধরে এই চেষ্টা অব্যাহত রাখে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ১৭ জনকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানোর সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে কড়া অবস্থান নেন বিজিবি সদস্যরা। বিজিবি সদস্যদের এমন অবস্থানে প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা।

 

 

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলমুডাঙ্গা গ্রামের ট্রাক্টর চালক মাহবুব আলম বলেন, ওই ১৭ জনকে বিজিবি সদস্যরা পাহারা দিয়ে রেখেছিলেন। রাত ১১টার দিকে আমার ট্রাক্টরে ধান লোড দিচ্ছিলাম তখনো বিজিবি সদস্যরা সেখানে ছিল। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে টেনে হিঁচড়ে ভারতে নিয়ে যায়। তারা বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে যেতে চাচ্ছিল না। নিয়ে যাওয়ার সময় তারা অনেক কান্নাকাটি করছিল।

 

 

 

 

নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, খবর পাওয়ার পর ওই স্থানে বিজিবির টহল বৃদ্ধি করা হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে শুরুতে শূন্য লাইনে থাকতে দিলেও সন্ধ্যার পরে তাদেরকে নোম্যান্সল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রাত একটার দিকে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেন। এরপর রাতে তারা পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে। সীমান্তের ওই এলাকাতে বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে।

 

 

প্রাথমিক শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি, বিভাগসেরা জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামান

 

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’-এ রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত হয়েছেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।
এ অর্জনের খবরে নীলফামারী জেলায় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দের সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সম্মান শুধু একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং জেলার প্রাথমিক শিক্ষা খাতে ধারাবাহিক উন্নয়ন ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি।
জানা গেছে, জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিদ্যালয়গুলোর নিয়মিত পরিদর্শন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তার নেওয়া পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক ফল বয়ে আনে।
শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, তার নেতৃত্বে জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে।
রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, তার নেতৃত্বে নীলফামারীর শিক্ষা খাত ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই স্বীকৃতি নীলফামারীর জন্য একটি গৌরবময় অর্জন। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগ ও নেতৃত্ব আগামী দিনেও জেলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঢাকায় গ্রেপ্তার সিরাজগঞ্জের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সহ-সভাপতি এস এম সাদ্দামকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ।

 

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের ফেসবুক পোস্টে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি ভাইরাল হয়েছে।

 

এসব ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, ছাত্রলীগ নেতা এস এম সাদ্দামকে ঢাকার গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, আমিও ফেসবুক পোস্টে সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি দেখেছি। তবে ঢাকা গোয়েন্দা বিভাগ থেকে কোন মেসেজ পাইনি।

বিষাক্ত সাপের কামড়ে প্রাণ গেল শিশুর

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সরাইদহ (উত্তরপাড়া) গ্রামে সাপের কামড়ে মো. নুর-মোহাম্মদ (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে ওই গ্রামের মো. শাহাদাত হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে পাশের বাড়ির একটি ঘরের খামারে খেলতে গিয়ে সেখানে থাকা একটি বিষধর সাপ শিশুটির ডান হাতের কবজিতে কামড় দেয়। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ার এপেক্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শিশুর চাচা আব্দুল মালেক বলেন, “ঘরের খামারে হাত দেওয়ার সময় একটি সাপ নুর-মোহাম্মদের ডান হাতের কবজিতে কামড় দেয়। পরে আমরা দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এপেক্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।”
রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আ. ফ. ম. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “সাপে কামড়ানোর পর শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রেফার করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি।”
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান জানান, “সাপের কামড়ে শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরেছি। এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির অকাল মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা সাপের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।

কৃষিখাতে প্রতারণা রোধে সৈয়দপুরে মোবাইল কোর্ট

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের প্রামাণিকপাড়া এলাকায় ভেজাল কীটনাশক প্রস্তুত ও বাজারজাতের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সৈয়দপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা-র নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে প্রসিকিউশন কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবং সৈয়দপুর থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বালু ও বিভিন্ন রঙের মিশ্রণ ব্যবহার করে ভেজাল কীটনাশক তৈরি করে প্যাকেটজাত করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে অপরাধের প্রমাণ ও অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সময় ভেজাল কীটনাশক তৈরির কাজে ব্যবহৃত ও জব্দকৃত সামগ্রী প্রসিকিউশন কর্মকর্তার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
সৈয়দপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা এবং কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো কোনো কর্মকাণ্ডই সহ্য করা হবে না। ভেজাল কৃষি উপকরণ উৎপাদন ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ভেজাল কীটনাশক ব্যবহারের ফলে একদিকে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, অন্যদিকে ফসলের উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তাই এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষকদের হয়রানি, প্রতারণা ও ফসল উৎপাদনে সম্ভাব্য বিপর্যয় রোধে ভেজাল কৃষি উপকরণ উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ছাত্রলীগের বিশাল মিছিল দেখে সরে দাঁড়ালো পুলিশ

নোয়াখালী সদর উপজেলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিশাল একটি মিছিল দেখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা পুলিশ সদস্যরা যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের ‘সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির’ বিরুদ্ধে এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়। জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই সদর উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের এক হাজারেরও বেশি কর্মী-সমর্থক বাঁধের হাট বাজারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলের শুরুতে পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও নেতাকর্মীদের বিশাল জনস্রোতের মুখে তারা টিকতে পারেননি। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা ও তীব্রতা দেখে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে সরে যান।

 

এই বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে তিনি বলেন, “আমরা এখানে যারা রাজপথে নেমেছি, তারা প্রত্যেকেই অন্যায় ও সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আমাদের এই প্রতিবাদী আন্দোলন ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে। যতদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনা ফিরে না আসবেন, ততদিন আমরা শান্ত হবো না। আমরা রাজপথ ছাড়বো না।” দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্যায় ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে নৈতিক দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারীর মুখে পুলিশ সদস্যদের সরে যাওয়ার বিষয়টি সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম নিজেই স্বীকার করেছেন। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, মিছিলের খবর আগে থেকেই টের পেয়ে পুলিশের ছয় সদস্যের একটি দল সেখানে উপস্থিত ছিল। তবে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা অতিরিক্ত বেশি হওয়ায় তাদের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। ওসির দাবি, তারা শুরুতে মিছিলটি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পরে নেতাকর্মীদের সংখ্যা ও উপস্থিতি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে পড়তে বাধ্য হন।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে নব দম্পতিকে বিরল প্রজাতির গাছের চারা উপহার

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিয়ের অনুষ্ঠানে নব দম্পতি কে বিরল ও  মহাবিপন্ন চাপালিশ, বৈলাম,বুদ্ধ নারিকেল  সহ বকুল, নিম ও পলাশ গাছের চারা উপহার  হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
 শুক্রবার ( ৫ জুন) দুপুরে   পরিবেশ  ও প্রকৃতির পাঠশালার পরিচালক মাহবুব ইসলাম পলাশের পক্ষ থেকে এ উপহার তুলে দেয়া হয়। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন  সাংবাদিক এম,আতিকুল ইসলাম বুলবুল,  মো: সাজেদুল আলম,  লেখক-গবেষক উজ্জল মাহাতো, মো: লুৎফর রহমান,  এম,এ, মাজিদ, শামীউল হক শামীম, মৃণাল সরকার মিলু,  মো: আশরাফুল ইসলাম আসিফ ও সনাতন দাশ ও মুশফিকুর রহিম ফাহিম।
জানা যায়, সিরাজগঞ্জের  তাড়াশ উপজেলা পারিল গ্রামের বাসিন্দা  মো: আব্দুল লতিফের ছেলে ও সাংবাদিক হাদিউল হৃদয়ের সাথে পাশ্ববর্তী দেওড়া গ্রামের বাসিন্দা  মো: জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে মোছা: জান্নাতুল ফেরদৌসের  বিয়ে সম্পন্ন হয়।
উল্লেখিত বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যতিক্রমী এ উপহার নিয়ে হাজির হোন  পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালার পরিচালক মাহবুব ইসলাম পলাশ।
মুহূর্তেই বিয়ের অনুষ্ঠানে  এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়। উৎসুক বরযাত্রী সহ বিয়ে বাড়িতে আগত  লোকজন  উপহার  দেখতে ভিড় জমান।
পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালার পরিচালক মাহবুব ইসলাম পলাশ বলেন,  আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস।   বৃক্ষ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অপরিহার্য অনুসঙ্গ।  পাশাপাশি বিরল ও মহাবিপন্ন প্রজাতির গাছ রক্ষায় সবাই কে সচেতন করতে গাছের চারা উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
লেখক – গবেষক উজ্জল মাহাতো বলেন, এই ব্যতিক্রমী উপহার দেখে আমরা অভিভূত।  পরিবেশ সচেতনতায়  আমাদের প্রত্যকেই এমন ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হওয়া দরকার।
উল্লেখ্য, বিয়ের অনুষ্ঠানের মাহবুব ইসলাম পলাশ তাড়াশ উপজেলার ক্ষিরপোতা আনন্দ বৌদ্ধ বিহার, মাধাইনগর মিশনারী চার্চ, তাড়াশ উপজেলা মডেল মসজিদ ও শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির চত্বরে  ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা রোপণ করেন।

হিলিতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরের হাকিমপুরে শুরু হয়েছে তুমুল উন্মাদনা। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে দিনাজপুরের হিলিতে এক বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে হাকিমপুর উপজেলা আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠী।
আজ শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল ৫টায় হিলি স্থলবন্দরের পানামা পোর্ট গেট থেকে আর্জেন্টিনার জার্সি পরিহিত ও পতাকা হাতে সমর্থকরা এই শোভাযাত্রা বের করেন। র‍্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে হিলি রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে শেষ হয়। এতে সব বয়সী ফুটবলপ্রেমীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
আর্জেন্টিনা সমর্থকদের এই আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন সাবেক হাকিমপুর পৌর মেয়র সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী। তিনি বলেন, বিশ্বকাপ এলে হিলির ফুটবলপ্রেমীরা মেতে ওঠেন। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার সমর্থনে এ অঞ্চলে সবসময়ই ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া সমর্থকরা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিগত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবারও আর্জেন্টিনা সেরা খেলা উপহার দেবে এবং লিওনেল মেসির হাত ধরে আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলবে। র‍্যালিতে ঢাক-ঢোলের শব্দে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ে ডলার প্রতারণা চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁওয়ে ডলার কেনাবেচার নামে প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ভূল্লী থানা পুলিশ।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে ভূল্লী উপজেলার  ৫ নং শুখানপুকুরী ইউনিয়নের বাং রোড সুইসগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মোঃ মানিক হোসেন (৪৩), মোঃ হাবিবুর রহমান ওরফে হবি (৪৫), মোঃ আশরাফুল ইসলাম (৪৭), মোঃ মনোয়ার হোসেন (৪০) এবং মোঃ মোখলেছ (৪৮)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিদেশি ডলার ক্রয়-বিক্রয়ের নামে প্রতারণার উদ্দেশ্যে তারা ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হিসেবে রয়েছেন সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট শাখার অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার মোঃ জুবায়েত জাহিদ (৪৪), একই শাখার পিয়ন মোঃ আজাহার আলী (৫৪) এবং মোঃ গোলাম মোস্তফা (৫৫)। তারা সবাই নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার বাসিন্দা।
ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিদেশি ডলার, সাতটি মোবাইল ফোন, নগদ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ডকুমেন্ট উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এছাড়াও উদ্ধারকৃত আলামত ও নথিপত্র যাচাই করে চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

কাফনের কাপড় পরে ৫৮ সেকেন্ডের মিছিল যুবলীগের

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, চট্টগ্রাম মহানগর’ ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

 

 

মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মিছিলটি বন্দর এলাকা থেকে শুরু হয়ে শেখ মুজিব সড়ক হয়ে আগ্রাবাদ মোড়ের দিকে অগ্রসর হয়। নেতাকর্মীদের হাতে থাকা ব্যানারে— হামে শিশুমৃত্যু, শিশু ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের বিচার এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ সংক্রান্ত স্লোগান লেখা ছিল। মিছিলটি বিদ্যুৎ ভবনের সামনে এসে পৌঁছলে নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে বেশ কিছুক্ষণ স্লোগান দেন।

আগ্রাবাদের মিছিলের বিষয়ে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমীনুর রশিদ জানান, আগ্রাবাদ এলাকার মিছিলের ভিডিও ফুটেজটি দেখে মিছিলে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

 

বেলকুচিতে বাসচাপায় বাবা-মায়ের পর মেয়েরও মৃত্যু, নিহতের সংখ্যা ৪

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বাসচাপায় বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেলেন মেয়ে তামান্না খাতুন (১৬)।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তামান্না। এ নিয়ে এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪ জনে।

 

 

নিহতরা হলেন, বেলকুচি উপজেলার আজুগড়া হিজলতলা এলাকার মৃত বাছের সরকারের ছেলে মো. মোতালেব সরকার (৪০), তার স্ত্রী ফজিলা খাতুন (৩৫) ও তাদের মেয়ে কলেজ ছাত্রী তামান্না খাতুন (১৬) এবং জামতৈল গ্রামের মৃত সোনাউল্লাহ মুদির ছেলে অটোভ্যানের চালক মো. নুরু (৪৫)।

 

এর আগে সকাল ৭টা ৫ মিনিটে সিরাজগঞ্জ-এনায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

বেলকুচি থানার ওসি ইমাম জাফর এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মেঘুল্লা বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় একটি ব্যাটারি চালিত অটোভ্যানের এক্সেল ভেঙে বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় ঢাকা থেকে এনায়েতপুরগামী ঢাকা এক্সপ্রেস পরিবহণের দ্রুতগামী একটি বাস বিকল হওয়া ভ্যানটিকে চাপা দিলে এর চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তিন যাত্রীকে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সকালেই মারা যান বাবা মোতালেব সরকার ও মা ফজিলা খাতুন।

 

এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য মেয়ে তামান্নাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিকেলের দিকে মারা যান।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

“শাকিব খানের ঘরে জন্ম নিল কন্যাসন্তান”।

দুই পুত্রসন্তানের পর এবার কন্যাসন্তানের বাবা হলেন দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খান। চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন, ১১ মে তাদের ঘরে জন্ম নিয়েছে একটি কন্যাসন্তান। নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে শার্লিন খান।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে সুখবরটি প্রকাশ করেন বুবলী।

 

 

তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের পরিবারে একটি কন্যাসন্তানের আগমন হয়েছে। এই আনন্দের মুহূর্তে যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন এবং শুভকামনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের মেয়ের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।’

পোস্টের সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করেন বুবলী। যেখানে নবজাতকের নাম শার্লিন খান উল্লেখ করা হয়। সেখানে শাকিব খান ও বুবলীকে ‘এলেটেড প্যারেন্টস’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বেশ কিছুদিন ধরেই বুবলীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন শোবিজ অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছিল। তবে সে সময় বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি এই অভিনেত্রী। সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও গণমাধ্যম থেকেও অনেকটা দূরে ছিলেন তিনি।

 

উল্লেখ্য, অপু বিশ্বাসের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০১৮ সালের ২০ জুলাই শবনম বুবলীকে বিয়ে করেন শাকিব খান। ২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে জন্ম নেয় তাদের ছেলে শেহজাদ খান বীর। পরে ২০২২ সালে বিয়ে ও সন্তানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আনেন এই দুই তারকা। অপু বিশ্বাসের ঘরে তার আব্রাহাম খান জয় নামের আরেক ছেলে রয়েছে।

 

দুই পক্ষের বিরোধে সংঘর্ষ, নিহত একজন

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জামাল মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার গন্ডা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

নিহত জামাল মিয়া (৪৫) ওই গ্রামের মঈন উদ্দিনের ছেলে।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে জামাল মিয়ার সন্তান ও প্রতিবেশী সুজন মিয়ার সন্তানদের মধ্যে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে ঝগড়া হয়। পরে বিষয়টি বড়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে জামাল মিয়া গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

এদিকে স্থানীয়রা অভিযুক্ত সুজন মিয়ার স্ত্রী অজু আক্তারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

 

 

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ জানান, শিশুদের ঝগড়া থেকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

 

তরুণকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষককে গণপিটুনি

গাইবান্ধার সাঘাটায় একটি মাদ্রাসার অফিস কক্ষে এক তরুণকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষককে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুলতাইড় গ্রামের রেলওয়ে বানমারি মাঠ সংলগ্ন এলাকার একটি মাদ্রাসায় ঘটনাটি ঘটে।

 

 

অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম (২৬) প্রায় এক মাস আগে মাদ্রাসাটিতে যোগ দেন। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। ‎ ‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জামিয়া কারমিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার অফিস কক্ষে রবিউল ইসলাম এক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বলাৎকারের চেষ্টা করেন। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে অভিযুক্তকে হাতে নাতে আটক করেন।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে অভিযুক্তকে পুলিশ ভ্যানে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থনীয় জনগণ তাকে মাকে চারদিকে থেকে পুলিশের সামনেই মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে মাটিতে ফেলে গণপিটুনি শুরু করে স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশ জনগণের বাধা উপেক্ষা করে পুলিশ ভ্যানে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে সাঘাটা থানায় নিয়ে যান। ‎ ‎প্রত্যক্ষদর্শী মাহাবুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাত্রটির সঙ্গে জোর করে ‘খারাপ’ কাজ করতে শুরু করলে ছাত্রটি চিৎকার করে। পরে স্থানীয়রা টের পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করে এবং গণপিটুনি দেয়।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এলাকাবাসী আটকে রেখেছিল। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

“পানির লাইন মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল বাবা-ছেলের”।

হবিগঞ্জের বাহুবলে নির্মাণাধীন বসতঘরের পানির লাইন মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পর্শে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

মৃতরা হলেন— উপজেলার পূর্ব ভাদেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা আইনউদ্দিন (৫০) ও তার ছেলে রাশেদ মিয়া (১৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজেদের নির্মাণাধীন বসতঘরের পেছনে পানির লাইন মেরামতের জন্য গর্ত খনন করছিলেন বাবা-ছেলে। এ সময় পানি তোলারর জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে সেটি পুনরায় সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। একপর্যায়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হন দুজনই।

পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বাবা ও ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

বাহুবল মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইকতার মিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল পরিদর্শন করে। চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেছেন। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

‘রকস্টার’-এর রেশ কাটতে না কাটতেই ‘সোলজার’ নিয়ে হাজির শাকিব

রকস্টার’-এর সাফল্যের জোয়ারে ভাসতে ভাসতেই ভক্তদের ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ করে দিলেন শাকিব খান। সান মোশন পিকচার্সের প্রযোজনায় খুব শিগগিরই বড় পর্দায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বহুল প্রতীক্ষিত এবং হাই-ভোল্টেজ সিনেমা ‘সোলজার’। সিনেমা হলের এই ব্লকবাস্টার উন্মাদনার মাঝে নতুন এই ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে শাকিবিয়ানদের বাঁধভাঙা উল্লাস।

 

 

রকস্টার’-এর বিশেষ প্রদর্শনী শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেই এই নতুন প্রজেক্ট ও দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন শাকিব খান। ‘সোলজার’ মূলত ‘রকস্টার’-এর আগের ছবি। এর সিংহভাগ শুটিং আগেই শেষ হলেও এতদিন তা আটকে ছিল। তবে সুখবর হলো, ছবিটির কাজ এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে মেগাস্টার জানান, ‘সোলজার’ সিনেমার কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। নতুন এই প্রজেক্টের আপডেট দিয়ে শাকিব খান বলেন, ‘এই বছরই আরেকটি সিনেমা রিলিজ হচ্ছে, সেটিও সান মোশন পিকচার্সের ‘সোলজার’।

কিছুদিনের মধ্যে আমরা এর ক্যামেরা ক্লোজ করব। আবার নতুন করে সোলজার হচ্ছি। সিনেমার বাকি শুটিং দেশের বাইরে সম্পন্ন হবে। খুব শিগগিরই, এই বছরেই ‘সোলজার’ নামের একটি চমৎকার ও সুন্দর ছবি মানুষ দেখতে পাবে।’ কথায় কথায় নিজের রূপালি জগতের রঙিন ও দীর্ঘ ২৭ বছরের পথচলা নিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন এই নায়ক। ক্যারিয়ারের শুরুটা মাত্র তিন মাসের জন্য হলেও, কীভাবে যে প্রায় তিন দশক কেটে গেল, তা ভাবিয়ে তোলে এই তারকাকে।

তার কথায়, ‘আমি এর আগেও বলেছি, এখনো বলছি যখন আমার ক্যারিয়ার শুরু করি, তখন আমি ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট ছিলাম। মাত্র তিন মাসের জন্য (ইন্ডাস্ট্রিতে) এসেছিলাম। কিন্তু কাজের মধ্যে দিয়ে সময়গুলো এমনভাবে পার হয়ে গেছে যে, ২৭ বছর কখন পার হলো টেরো পাইনি। জার্নিটা আসলে অনেক ভালো ছিল।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘তবে অনেক চড়াই-উতরাই যে শুধু আমাদের সিনেমার মানুষ পার করেছে তা না; বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন ক্রাইসিস থাকে, বিভিন্ন কারণে আমাদের পুরো দেশ পিছিয়ে যায়। আবার তার মধ্য দিয়েই সিনেমাকে আমরা সবাই একত্রিত হয়ে, যার যার সক্ষমতা দিয়ে চেষ্টা করি এগিয়ে নিতে।’

 

 

শাকিব সবশেষে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব আমাদের সিনেমা যেন সামনে আরও অনেক দূর এগিয়ে যায়। যে লক্ষ্যে আমরা সবাই কাজ করে যাচ্ছি, আপনারাও সবাই কাজ করে যাচ্ছেন; এত পজিটিভলি কাজ করে যাচ্ছেন।

 

 

সমস্ত নেগেটিভিটি যত আছে, সব নেগেটিভিটিকে পাশ কাটিয়ে আমরা সব পজিটিভ মানুষরা সামনে এগিয়ে যাব। ভালো ভালো কাজ করব। ইনশাল্লাহ, আমাদের দেশের জন্য অনেক ভালো কিছু বয়ে নিয়ে আসব।’

 

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেলের দাম বৃদ্ধি অযৌক্তিক: ভাসানী জনশক্তি পার্টি

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ভাসানী জনশক্তি পার্টি। শুক্রবার (৫ মে) দেওয়া বিবৃতিতে দলটির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু এবং মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিম বলেছেন, ‘দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছার উপক্রম হয়েছে।’

 

 

তারা বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেলের দাম বৃদ্ধি যুক্ত হয়ে জনগণের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দেবে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষে সংসার পরিচালনা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।’

 

 

নেতৃদ্বয় বলেন, ‘বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয়, কৃষি উৎপাদন খরচ এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারের সব পণ্য ও সেবার মূল্যের ওপর। ফলে সাধারণ মানুষ ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।’

তারা বলেন, ‘জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা উচিত। অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে এসে জনবান্ধব নীতি গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে জ্বালানি খাতে দুর্নীতি, অপচয় ও অব্যবস্থাপনা দূর করে জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমানোর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

বিবৃতিতে অবিলম্বে গণশুনানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

এসএসসি পাস হলেই আবেদন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১৯০ পদ খালি

এসএসসি পাসেই কাজের সুযোগ দিচ্ছে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। প্রতিষ্ঠাটির অধীনে বিভিন্ন অফিসগুলোয় ৭টি পদে ১৯০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে ৩ জুলাই বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

 

 

চলুন, একনজরে দেখে নিই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি—

 

পদের বিবরণ

চাকরির ধরন : অস্থায়ী

 

প্রার্থীর ধরন : নারী-পুরুষ

 

কর্মস্থল : দিনাজপুর

 

বয়স : ৪ জুন ২০২৬ তারিখ ১৮-৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

আবেদন শুরু : ৪ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা

 

আবেদনের শেষ তারিখ : ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকেল ৫টা পর্যন্ত

 

আবেদন পদ্ধতি : অনলাইনে

 

আবেদনের নিয়ম : আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

 

আবেদন ফি : টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি বাবদ ১-৬নং পদের জন্য ১১২ টাকা, ৭নং পদের জন্য ৫৬ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে।

 

রায়গঞ্জে চাতালে বিষাক্ত ঝুট পোড়ানো: ধোঁয়ায় বিপন্ন পরিবেশ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা এলাকায় কয়েকটি চাউল কলে নিষিদ্ধ ঝুট (বস্তার উচ্ছিষ্টাংশ) পোড়িয়ে ধান সিদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে। এতে সৃষ্ট বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা লতিফ সরকার গত ৪ জুন সলঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ঘুড়কা এলাকার শিকদার ও শাপলা চাউল কলে ঝুট পোড়িয়ে ধান সিদ্ধ করা হচ্ছে। তার বাড়ি চাতালের নিকটবর্তী হওয়ায় বিষাক্ত ধোঁয়া ও ছাই সরাসরি বসতঘরে প্রবেশ করছে। ফলে ঘরের আসবাবপত্র, খাবার ও দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্র কালো কালিতে ঢেকে যাচ্ছে।

 

লতিফ সরকার অভিযোগে আরও বলেন, “আমার বৃদ্ধ মা ইতোমধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বারবার ঝুট পোড়ানো বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হলেও সংশ্লিষ্টরা তা আমলে নেননি। বরং আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে।”

 

স্থানীয়দের দাবি, চাতালগুলোতে ঝুট পোড়ানোর সময় সৃষ্ট ঘন কালো ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।

 

এ বিষয়ে এক চাতাল ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, “ঝুট পোড়ানো যে নিষিদ্ধ, তা আমরা জানি। তবে আশপাশের অনেকেই এটি ব্যবহার করেন, তাই আমরাও ব্যবহার করছি।”

 

রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আ ফ ম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “ঝুট পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট কালো ধোঁয়া শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে। এতে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ফুসফুসজনিত বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে। শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চাতালের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

উল্লাপাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাত দশটার দিকে উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের আগদিঘলগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থামথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকার ও সরদার গং এবং প্রামানিক গং এর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জেরে প্রামানিক গোষ্ঠীর নাসির মাস্টারকে গ্রামে ঢুকতে দিত না প্রতিপক্ষরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে নাসির মাস্টার বাড়ি গেলে সরদার ও সরকার গোষ্ঠীর লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নাসিরের লোকজনের উপর হামলা চালায়। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়। হামলা চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট করা হয়। এ ঘটনাশ ৩ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

প্রামাণিক গোষ্ঠীর গৃহবধূ আমিনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, বিরোধের জেরে সরদার ও সরকার গোষ্ঠীর লোকজন তাদের মাঠের ধান কাটতে ও শুকিয়ে ঘরে তুলতে দিচ্ছে না। এমন কি তাদের পরিবারের পুরুষদেরকেও গ্রামে আসতে দিচ্ছে না প্রতিপক্ষরা ।

 

 

সরদার গোষ্ঠীর গৃহবধূ বুলু জানান, তাদের লোকজনকে মারপিট করা হয়েছে এবং নাসির মাস্টার গ্রামের অনেক ক্ষতি করেছে। তাই তাকে গ্রামে জায়গা দেওয়া হবে না।

 

 

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোক্তারুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি মোকাবেলায অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সিরাজগঞ্জে আ. লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৪ নেতা কারাগারে

সিরাজগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৪ নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ওবায়দুল হক রুমি তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

 

এরা হলেন, জেলা মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর উপজেলার বাঐতারা গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন, বাগবাটি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও হরিনা গোপাল গ্রামের মৃত জালাল শেখের ছেলে শুকুর মাহমুদ, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ও ধলডোব গ্রামের মৃত ভোলা শেখের ছেলে ময়নুল হক এবং পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য দত্তবাড়ি মহল্লার মো. রফিকের ছেলে মো. রাব্বি।

 

 

এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ।

 

 

সিরাজগঞ্জ সদর কোর্টের জেনারেল রেজিস্ট্রার অফিসার (জিআরও) জুয়েল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ৪ আওয়ামী লীগ নেতার মধ্যে একজনকে হত্যা মামলায় বাকী তিনজনকে বিস্ফোরক মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বিচারক।

 

 

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে জেলা মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাবেক সংসদ সদস্য জান্নাত আরা হেনরীর বাসায় আগুন দিয়ে দুই ছাত্রকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। বাকী তিনজনকে বিস্ফোরক মামলায় আদালতে পাঠানো হয়।

 

যমুনা সেতু পশ্চিমে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে এখনো যানজট-ধীরগতি

সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে ভোররাতে শুরু হওয়া যানজট এখনো রয়েছে। মাঝে মাঝে ধীরগতিতে চলছে গাড়ী। সেতুর গোলচত্বর থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ঢাকামুখী লেনে যানজট থাকলেও উত্তরবঙ্গগামী লেনে স্বাভাবিক রয়েছে।

 

 

শুক্রবার (৫ জুন) ভোররাতে যমুনা সেতুর উপর একাধিক যানবাহনের দুর্ঘটনা ও বিকল হয়ে পড়া এবং ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপে এই যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

 

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যানজটের তীব্রতা বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে মুলিবাড়ি কড্ডার মোড়, ঝাঐল ওভারব্রীজ ও কোনবাড়ী পার হয়ে নলকার কাছাকাছি গিয়ে ঠেকে এই যানজট। সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়ে রয়েছে যানবাহন।

 

 

এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় তার উপরে যানজট ভোগান্তিতে ফেলেছে কর্মস্থলে ফেরা অসংখ্য যাত্রী সাধারণকে।

 

 

বেলা সাড়ে তিনটার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক প্রণয় কুমার জানান, সেতুর পশ্চিম টোলপ্লাজা থেকে কোনাবাড়ি পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে যানজট রয়েছে। মাঝে মাঝে ধীরগতিতে গাড়ী চলছে। সেতুর টোলপ্লাজায় গাড়ী টানতে পারছে না। তবে উত্তরবঙ্গগামী লেনে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

 

 

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম জানান ঈদের ছুটি শেষে গার্মেন্টসকর্মীরা কর্মস্থলে ফিরছেন। যার ফলে মহাসড়কে চাপ বেড়েছে। ভোররাতে যমুনা সেতুর ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে বাস, প্রাইভেটকার ও ট্রাক তিনটি যানবাহনের সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও বিকল হয়ে পুরো লেন ব্লক হয়ে যায়। অপরদিকে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী লেনে গার্মেন্টসকর্মীদের বহনকারী রিজার্ভ নেওয়া লোকাল লক্কর-ঝক্কর একাধিক গাড়ী বিকল হয়ে পড়ে। এসব কারণে উভয় লেনেই যানজটের সূত্রপাত হয়। রেকার দিয়ে বিকল হওয়া পরিবহণ অপসারণ করার ফাঁকেই যানজটের তীব্রতা বেড়ে যায়।

 

 

সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যানজটের তীব্রতা ছিল। ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আমরা যানজট নিরসনে কাজ করছি।

 

আসুন ব্যক্তিগত উদ্যোগে সবাই ৫টি করে গাছ লাগাই: এমপি কামরুজ্জামান রতন

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় র‌্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে নদী, খাল ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি।
“নদী বাঁচলে বাঁচবে দেশ, নদীমাতৃক বাংলাদেশ” স্লোগানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।
শুক্রবার সকাল ১১টায় উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ডের মোহাম্মদ আলী প্লাজা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্তম্ভ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে র‌্যালির নেতৃত্ব দেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন।
নদী, খাল ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সভাপতি সাহাদাত পারভেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর গিয়াসউদ্দিন, এম. ইসহাক আলী, তপন চৌধুরী, হাসান জাহাঙ্গীর, নুরুল আমিন সরকার, আজিজুল হক পার্থ, আক্তারুজ্জামান শিকদার, আলমগীর হোসেন মিয়া, জাহাঙ্গীর শিকদারসহ স্থানীয় দুই শতাধিক পরিবেশকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মাসুম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন বলেন, পরিবেশ সুরক্ষার প্রশ্নে আমরা দল-মতের ঊর্ধ্বে। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আসুন, আমরা প্রত্যেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অন্তত পাঁচটি করে গাছ রোপণ করি—এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশ ও নদী রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়দের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচি গজারিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

 

যাত্রী সেজে ছিনতাই অটোরিকশা রহস্য উদঘাটন, ৪ জন গ্রেফতার

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া আলোচিত একটি ছিনতাই মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ছিনতাই হওয়া একটি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার রায়গঞ্জ থানা পুলিশের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ৩ জুন বিকেল ৫টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার কালিঞ্জা ব্রিজ এলাকায় পাঙ্গাসী গ্রামের বাসিন্দা মো. রাসেল শেখ (৩৫)-এর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা প্রথমে অটোরিকশাটি ভাড়া করে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে। পরে চালককে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মারধর করে জোরপূর্বক অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রাসেল শেখ বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান -এর নির্দেশনায় রায়গঞ্জ থানার একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মামলার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— পাঙ্গাসী গ্রামের মৃত ইসমাইল শেখের ছেলে মো. আবু রায়হান, একই গ্রামের আ. রশিদ ফকিরের ছেলে রিপন ফকির, নওদা শালুয়া গ্রামের মো. বারেকের ছেলে মো. নাজমুল শেখ এবং সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভাঙ্গাবাড়ী এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে আলী শেখ।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় ছিনতাই হওয়া প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অপরাধ দমনে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তদন্ত শেষে মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।